ধানি জমিতে ছিল ১২ ফুট লম্বা অজগরটি

ধানি জমিতে ছিল ১২ ফুট লম্বা অজগরটি

চা-শ্রমিকদের হাতে আটক অজগরটি। ছবি: নিউজবাংলা

লাউয়াছড়া রেঞ্জ কমর্কতা শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে অজগর সাপটি উদ্ধারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘কুরমা চা-বাগানের কুরঞ্জী গ্রামে চা-শ্রমিকদের হাতে আটক ১২ ফুট লম্বা অজগর সাপটিকে রাতেই উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় লাউয়াছড়ার রেসকিউ সেন্টারে। আমাদের ধারণা সাপটি ১০-১২ কেজি ওজনের একটি ছাগল খেয়েছে। সেটা হজমের জন্য কিছুদিন সময় দিতে হবে।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুরে প্রায় ১২ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ আটক করেছেন স্থানীয় লোকজন, পরে বনভিাগ তা উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

গত সোমবার রাত ৮টায় উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা-বাগানের কুরঞ্জী এলাকার ধানি জমি থেকে এই অজগর সাপ আটক করেন স্থানীয় চা-শ্রমিকরা। পরে লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লোকজন রাত ১০ টায় অজগরটি উদ্ধার করে নিয়ে আসে লাউয়াছড়ার রেসকিউ সেন্টারে।

এলাকাবাসী কালাম মিয়া নিউজবাংলাকে জানান, উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের আওতাধীন কুরমা বিটের কুরমা চা-বাগানের কুরঞ্জী এলাকার ধানি জমিতে সাপ দেখতে পান স্থানীয় চা শ্রমিকরা। তখন তারা অজগরটির পেটের ভিতরে বড় কিছু একটার অস্তিত্ব লক্ষ্য করেন । তাদের ধারণা বড় কোনো প্রাণী খেয়ে ফেলায় অজগরটি পালাতে পারেনি। ফলে চা-শ্রমিকরা অজগরটিকে খুব সহজেই আটক করতে সক্ষম হন।

অজগর আটকের খবর স্থানীয় কুরমা বিট অফিস জানতে পেরে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে খবর দেয়। সেখানকার কর্মকর্তারা সোমবার রাত ১০টায় অজগরটিকে উদ্ধার করে লাউয়াছড়ার রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যান।

লাউয়াছড়া রেঞ্জ কমর্কতা শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে অজগর সাপটি উদ্ধারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘কুরমা চা-বাগানের কুরঞ্জী গ্রামে চা-শ্রমিকদের হাতে আটক ১২ ফুট লম্বা অজগর সাপটিকে রাতেই উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় লাউয়াছড়ার রেসকিউ সেন্টারে।

‘আমাদের ধারণা সাপটি ১০-১২ কেজি ওজনের একটি ছাগল খেয়েছে। সেটা হজমের জন্য কিছুদিন সময় দিতে হবে। তা ছাড়া সাপটির লেজে কিছুটা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সাপটি বর্তমানে কিছুটা অসুস্থ। তাই কিছুদিন সাপটিকে লাউয়াছড়ার রেসকিউ সেন্টারে রেখে সুস্থ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করব।’

আরও পড়ুন:
কলম্বিয়া থেকে আনা অজগরটি বাঁচল না
কাঁচামালের কন্টেইনারে অজগর!
হাঁস খেতে গিয়ে ধরা অজগর
ধরা পড়ল ৭ ফুট লম্বা অজগর
উদ্ধার অজগর সীতাকুণ্ডে অবমুক্ত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘টাঙ্গুয়ার হাওরে বন্ধ হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা’

‘টাঙ্গুয়ার হাওরে বন্ধ হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা’

সুনামগঞ্জে হাওর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘একসময় মিঠাপানির টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো। তবে এখন মাছ পাওয়া যায় না, কারণ হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলে। তাই আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ করা হবে।’

আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

তাহিরপুর উপজেলার শহীদ সিরাজ লেকে (নীলাদ্রি লেক) শনিবার দুপুরে হাওর পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান ডিসি জাহাঙ্গীর হোসেন।

ডিসি বলেন, ‘একসময় মিঠাপানির টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো। তবে এখন মাছ পাওয়া যায় না, কারণ হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলে। তাই আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ করা হবে।

‘আমরা পর্যটকদের একটি নির্দিষ্ট জায়গা দেখিয়ে দেব। তারা লগি-বৈঠার নৌকা নিয়ে হাওরে ঘুরতে যাবেন। এটি কার্যকর হলে হাওরবাসীদের জীবনমান উন্নত হবে। তাদের কর্মসংস্থানও বাড়বে।’

উদ্বোধন শেষে ডিসি হাওর এলাকার প্লাস্টিক ও ময়লা আবর্জনা পরিচ্ছন্ন করেন এবং বিভিন্ন নৌকায় সচেতনতামূলক বিলবোর্ড টানান।

ডিসি জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সুনামগঞ্জ হাওর বেষ্টিত একটি জেলা। টাঙ্গুয়ার হাওরকে কেন্দ্র করে বিগত সময়ে অনেক পর্যটক এসেছেন।

‘তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাওরে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্লেট, ময়লা-আবর্জনা ফেলে যান, যার কারণে এখানে পরিবেশদূষণ হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে হাওরের জীববৈচিত্র্য। আমরা এগুলো আর মেনে নেব না। নৌকার মাঝি থেকে শুরু করে সব পর্যটকদের সর্তক করে দিতে চাই আমরা।’

জেলা প্রশাসক জানান, তাদের এ অভিযান চলতে থাকবে। এছাড়া হাওরের মাঝিদের তালিকা করে নিবন্ধনের আওতায় এনে মাঝিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

এছাড়া এখন থেকে সব নৌকায় একটি করে ডাস্টবিন থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে। যারা এ নির্দেশনা মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ডিসি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান কবির, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক অমল কর, হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা, ইউপি চেয়ারম্যান খসরুল আলমসহ অনেকে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর ও তার আশপাশের হাওর এলাকার পরিবেশদূষণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
কলম্বিয়া থেকে আনা অজগরটি বাঁচল না
কাঁচামালের কন্টেইনারে অজগর!
হাঁস খেতে গিয়ে ধরা অজগর
ধরা পড়ল ৭ ফুট লম্বা অজগর
উদ্ধার অজগর সীতাকুণ্ডে অবমুক্ত

শেয়ার করুন

বাইডেন পেল দুই বোন

বাইডেন পেল দুই বোন

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দুটি মেয়ে শাবকের জন্ম দিয়েছে বাঘিনী জয়া। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটের শাহাদাত হোসেন জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর মেয়ে শাবক দুইটির জন্ম হয়। শাবক দুটি সুস্থ আছে। সবকিছুই এখন স্বাভাবিক।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জয়া নামের বাঘিনী দুই মেয়ে শাবকের জন্ম দিয়েছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর শাবক দুটির জন্ম হলেও বিষয়টি শনিবার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন চিড়িয়াখানার কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ।

শাহাদাত জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর মেয়ে শাবক দুইটির জন্ম হয়। শাবক দুটি সুস্থ আছে। সবকিছুই এখন স্বাভাবিক।

তিনি আরও জানান, গত বছরের ১৪ নভেম্বর প্রথম ছেলে শাবকের জন্ম দেয় জয়া। ওই শাবকের নাম রাখা হয় জো বাইডেন। তবে ওই শাবকের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করায় সেটিকে চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধানে ক্যাপটিভ ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে বড় করা হয়।

ক্যাপটিভ ব্রিডিং বলতে কৃত্রিম অবরুদ্ধ পরিবেশে যে কোনো ছানাকে তা (উত্তাপ) দেয়াকে বোঝায়।

শাহাদাত বলেন, ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ১১ মাস বয়সী রাজ এবং ৯ মাস বয়সী পরী নামের দুটি বাঘকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আনা হয়। ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই রাজ-পরি যুগলের তিনটি ছানার জন্ম হয়, যার মধ্যে দুটি ছিল হোয়াইট টাইগার, অন্যটি কমলা-কালো ডোরাকাটা।

পরদিন একটি হোয়াইট টাইগার মারা যায়। অন্য সাদা বাঘিনীটির নাম রাখা হয় শুভ্রা। কমলা-কালো বাঘিনীটির নাম দেয়া হয় জয়া। সেই জয়ার ঘরেই জন্ম নিলো দুই মেয়ে শাবক।

নগরীর ফয়’স লেক এলাকায় ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ৬৬ প্রজাতির ৬২০টি পশু-পাখি রয়েছে। এর মধ্যে বাঘ, সিংহ, কুমির, জেব্রা, ময়ূর, ভালুক, উটপাখি, ইমু, হরিণ, বানর, গয়াল, অজগর, শিয়াল, সজারু ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এদিকে নতুন দুই বাঘ শাবক নিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাঘের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২টি।

আরও পড়ুন:
কলম্বিয়া থেকে আনা অজগরটি বাঁচল না
কাঁচামালের কন্টেইনারে অজগর!
হাঁস খেতে গিয়ে ধরা অজগর
ধরা পড়ল ৭ ফুট লম্বা অজগর
উদ্ধার অজগর সীতাকুণ্ডে অবমুক্ত

শেয়ার করুন

মুক্ত আকাশ পেল ২০ বক

মুক্ত আকাশ পেল ২০ বক

নাটোরের চলনবিল থেকে উদ্ধার পাখির ফাঁদ। ছবি: নিউজবাংলা

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে চলনবিলের কলিগ্রাম ও শালিখা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২০টি বক। জব্দ করা হয় কলা ও খেজুরপাতার তৈরি ফাঁদঘর।

নাটোরে তিন পাখি শিকারীকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যামাণ আদালত। এ ছাড়া মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে দুইজনকে।

শিকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার ২০টি বক অবমুক্ত করা হয়েছে। নষ্ট করা হয়েছে পাখি ধরার ফাঁদ।

সিংড়া সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রকিবুল হাসানের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয় ওই পাঁচ শিকারীকে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে চলনবিলের কলিগ্রাম ও শালিখা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন সিংড়া উপজেলার কলিগ্রামের মজিবুর রহমান, শালিখা গ্রামের সোলেমান হোসেন, কামরুল ইসলাম, নয়ন হোসেন ও নুর-এ-আলম।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে চলনবিলের কলিগ্রাম ও শালিখা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২০টি বক। জব্দ করা হয় কলা ও খেজুরপাতার তৈরি ফাঁদঘর।

তিনি আরও বলেন, পাখিগুলো মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নষ্ট করা হয়েছে পাখি ধরার ফাঁদ।

এ সময় রাজশাহী বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির, চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামানসহ উপস্থিত ছিলেন আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
কলম্বিয়া থেকে আনা অজগরটি বাঁচল না
কাঁচামালের কন্টেইনারে অজগর!
হাঁস খেতে গিয়ে ধরা অজগর
ধরা পড়ল ৭ ফুট লম্বা অজগর
উদ্ধার অজগর সীতাকুণ্ডে অবমুক্ত

শেয়ার করুন

ক্ষেতের পাশে পড়ে ছিল অর্ধশতাধিক মৃত বানর

ক্ষেতের পাশে পড়ে ছিল অর্ধশতাধিক মৃত বানর

স্থানীয়দের অভিযোগ, বানরগুলো প্রায় সময় লাউ ক্ষেতে নেমে গাছ নষ্ট করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষেতের মালিক দিনের কোনো এক সময় বিষ মেশানো কলা রেখে যায়। সেগুলো খেয়েই বানরগুলোর মৃত্যু হয়।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি লাউ ক্ষেতের পাশে অর্ধশতাধিক মৃত বানর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লাউ গাছের ক্ষতি করায় ক্ষেতের মালিক কলার সঙ্গে বিষ মিশিয়ে বানরগুলো হত্যা করেছে।

উপজেলার বড় মহেশখালী মৌজার ভারিতিল্যা ঘোনা পাহাড়ে মঙ্গলবার মৃত বানরগুলো পাওয়া যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড়ি জমিতে কাজ করতে যাওয়ার সময় লাউ ক্ষেতের পাশে বানরগুলোকে মৃত অবস্থায় দেখেন তারা। কিছু বানরের মৃতদেহ ছিল গাছে।

তাদের অভিযোগ, বানরগুলো প্রায় সময় লাউ ক্ষেতে নেমে গাছ নষ্ট করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষেতের মালিক দিনের কোনো এক সময় বিষ মেশানো কলা রেখে যায়। সেগুলো খেয়েই বানরগুলোর মৃত্যু হয়।

তবে ওই ক্ষেতের মালিকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা দুটি পরিচয় পেয়েছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করে মামলা করা হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্টের মহেশখালী উপজেলার সভাপতি দিনুর আলম বলেন, ‘বন্যপ্রাণী হত্যা আইনগত অপরাধ। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলায় পাহাড়ে বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল হুমকিতে পড়ছে। সবার অগোচরে পাহাড়ি এলাকায় নির্বিচারে চলছে বন্যপ্রাণী হত্যা।

এ বিষয়ে জানতে মহেশখালী রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় তদন্ত করে মামলা করা হবে।

আরও পড়ুন:
কলম্বিয়া থেকে আনা অজগরটি বাঁচল না
কাঁচামালের কন্টেইনারে অজগর!
হাঁস খেতে গিয়ে ধরা অজগর
ধরা পড়ল ৭ ফুট লম্বা অজগর
উদ্ধার অজগর সীতাকুণ্ডে অবমুক্ত

শেয়ার করুন

দখল-দূষণে মৃত উত্তাল খিরু নদী

দখল-দূষণে মৃত উত্তাল খিরু নদী

দখল-দূষণে মৃত উত্তাল খিরু নদী। ছবি: নিউজবাংলা

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘ভালুকা উপজেলায় তিন শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সবটাতেই বর্জ্য শোধনাগার রয়েছে। তবে বেশির ভাগের মান ভালো না। ভালোভাবে বর্জ্য শোধন করা হচ্ছে না। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান খিরু নদীর পানিতে বর্জ্য ফেলে দূষিত করছে।’

দেড় দশক আগেও খিরু নদীর বুকচিরে চলত লঞ্চ ও পালতোলা নৌকা। স্বচ্ছ টলমলে পানিতে পাওয়া যেত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এলাকার কৃষিকাজে ব্যবহৃত হতো ওই পানি। নদীর জলেই গোসল সারতেন দুই পারের বাসিন্দারা।

শিল্প-কারখানার দূষণে সেসব শুধুই স্মৃতি। স্বচ্ছ পানি আলকাতরার রং ধারণ করে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। দখল আর দূষণে ময়মনসিংহের ভালুকায় খিরু নদী পরিণত হয়েছে সংকীর্ণ খালে।

দখল-দূষণে মৃত উত্তাল খিরু নদী

সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত নদীটি খননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের কৃষক জমির উদ্দিন বলেন, ‘আগে এই নদীর পানি দিয়ে জমি চাষ করেছি। সাঁতার কেটে গোসল করেছি। সময়ের ব্যবধানে নদীর দৃশ্য পাল্টে পানি কালো কুচকুচে রং ধারণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন এই পানি কোনো ফসলেই ব্যবহার করা যায় না। স্পর্শ করলে চুলকানি হয়।’

দখল-দূষণে মৃত উত্তাল খিরু নদী

একই গ্রামের বাসিন্দা আফাজ উদ্দিন বলেন, ‘প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য অবাধে নদীর পানিতে ফেলা হচ্ছে। ফলে কোনো ধরনের মাছ নদীতে নেই।’

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন আন্দোলনের ময়মনসিংহ শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন বলেন, ‘প্রশাসনের নাকের ডগায় বছরের পর বছর ধরে ভালুকায় গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানাগুলোর বর্জ্যে দূষিত হয়েছে খিরু নদী। নদীটিকে দখল ও দূষণের কবল থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনকে বারবার বলেছি। অথচ অজানা কারণে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।’

দখল-দূষণে মৃত উত্তাল খিরু নদী

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন জাহান বলেন, ‘কারখানার বর্জ্যমিশ্রিত পানিতে অ্যালুমিনিয়াম বেশি থাকে। এ ছাড়া কেমিক্যাল ও ধাতব পদার্থ থাকে। ফলে এ পানি কৃষিজমিতে ব্যবহার করা যাবে না। যদি ব্যবহার করা হয় তাহলে পাতা মরে ফলন নষ্ট হবে।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, ‘খিরু নদীর দৈর্ঘ্য ৪৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর সীমান্ত থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটারজুড়ে ভালুকার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে এ নদী। অনেক বছর ধরে দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে নদীটি।’

তিনি বলেন, ‘দখল হওয়া জায়গাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুত দখলকারীদের তালিকা করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দখল-দূষণে মৃত উত্তাল খিরু নদী

ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালমা আক্তার বলেন, ‘এ বছরের ১২ জুন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম খিরু নদী পরিদর্শন করেছেন। নদীটি খনন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত খননকাজ শুরু হবে।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘ভালুকা উপজেলায় তিন শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সবটাতেই বর্জ্য শোধনাগার রয়েছে। তবে বেশির ভাগের মান ভালো না। ভালোভাবে বর্জ্য শোধন করা হচ্ছে না। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান খিরু নদীর পানিতে বর্জ্য ফেলে দূষিত করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই এসব প্রতিষ্ঠানকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করছি। সম্প্রতি টাইটেল বাংলা, মাহদী ও আকিজ গ্রুপসহ সাতটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এক কোটি টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে। নদীটিকে রক্ষার স্বার্থে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। কোথাও বর্জ্য শোধনাগার না থাকলে কিংবা সঠিকভাবে বর্জ্য শোধন না করলে জরিমানার পাশাপাশি অধিদপ্তরে লিখিতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
কলম্বিয়া থেকে আনা অজগরটি বাঁচল না
কাঁচামালের কন্টেইনারে অজগর!
হাঁস খেতে গিয়ে ধরা অজগর
ধরা পড়ল ৭ ফুট লম্বা অজগর
উদ্ধার অজগর সীতাকুণ্ডে অবমুক্ত

শেয়ার করুন

তীব্র ভূমিকম্পে কাঁপল গ্রিসের পর্যটন দ্বীপ

তীব্র ভূমিকম্পে কাঁপল গ্রিসের পর্যটন দ্বীপ

ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে ক্রিট দ্বীপে। ছবি: স্কাই নিউজ

এথেন্সের জিওডায়নামিক ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ৪ দশমিক ১ ও ৪ দশমিক ৬ মাত্রার দুটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে অঞ্চলটিতে।

গ্রিসের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ক্রিট দ্বীপে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। কম্পনের তীব্রতায় সুনামি সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।

স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনে ভবনে গিয়ে হতাহত ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখছেন। তবে এখন পর্যন্ত গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দ্বীপের পূর্ব উপকূলে পালেকাস্ত্রো গ্রামে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হেনেছে কম্পনটি।

ব্রিটিশ পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল আগিওস নিকোলাওস থেকে ৮৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পালেকাস্ত্রো।

তিন সপ্তাহ আগে একই দ্বীপে ভূমিকম্পে প্রাণ গেছে কমপক্ষে একজনের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক শ ভবন।

এথেন্সের জিওডায়নামিক ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ৪ দশমিক ১ ও ৪ দশমিক ৬ মাত্রার দুটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে অঞ্চলটিতে।

ক্রিটের পূর্বে কারপাথোস, কাসোস আর রোডস দ্বীপেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কলম্বিয়া থেকে আনা অজগরটি বাঁচল না
কাঁচামালের কন্টেইনারে অজগর!
হাঁস খেতে গিয়ে ধরা অজগর
ধরা পড়ল ৭ ফুট লম্বা অজগর
উদ্ধার অজগর সীতাকুণ্ডে অবমুক্ত

শেয়ার করুন

পুকুর থেকে উদ্ধার অজগর ইকোপার্কে অবমুক্ত

পুকুর থেকে উদ্ধার অজগর ইকোপার্কে অবমুক্ত

স্থানীয় যুবক মো. নাসির বলেন, ‘বিকেলের দিকে ধানের জমিতে হাঁসের ডানা ঝাপটানো ও গোঙানো শুনে এগিয়ে যাই। গিয়ে দেখি অজগর একটি হাঁস গিলছে। আমাদের দেখে অজগরটা পুকুরে নেমে যায়। পরে সবাই মিলে কৌশলে একে ধরে থানায় নিয়ে আসি।’

কুমিল্লায় পুকুর থেকে একটি অজগর উদ্ধার করে রাজেশপুর ইকোপার্কে অবমুক্ত করা হয়েছে।

৬ ফুট লম্বা সাপটিকে সোমবার রাত ১১টার দিকে অবমুক্ত করা হয়।

এর আগে বুড়িচং উপজেলার ভবেরমূড়া এলাকা থেকে সোমবার বিকেলে স্থানীয় যুবকরা সাপটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় যুবক মো. নাসির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিকেলের দিকে ধানের জমিতে হাঁসের ডানা ঝাপটানো ও গোঙানো শুনে এগিয়ে যাই। গিয়ে দেখি অজগর একটি হাঁস গিলছে। আমাদের দেখে অজগরটি পুকুরে নেমে যায়। পরে সবাই মিলে কৌশলে একে ধরে থানায় নিয়ে আসি।’

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, স্থানীয় লোকজন সাপ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এলে তারা বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।

উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. লুৎফুল্লাহ বলেন, ‘অজগরটি যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেটি বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা। ওই এলাকায় বন ও ছোট ছোট টিলা আছে। আমরা ধারণা করছি, খাবারের খোঁজে সাপটি টিলা থেকে লোকালয়ে চলে এসেছে। একে রাজেশপুর ইকোপার্কে অবমুক্ত করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কলম্বিয়া থেকে আনা অজগরটি বাঁচল না
কাঁচামালের কন্টেইনারে অজগর!
হাঁস খেতে গিয়ে ধরা অজগর
ধরা পড়ল ৭ ফুট লম্বা অজগর
উদ্ধার অজগর সীতাকুণ্ডে অবমুক্ত

শেয়ার করুন