মৃদুমন্দ বৃষ্টি নিয়ে আষাঢ় এলো দেশে

মৃদুমন্দ বৃষ্টি নিয়ে আষাঢ় এলো দেশে

আষাঢ়ে প্রকৃতিতে বেড়েছে সজিবতা, ফুটেছে বর্ষার ফুল কদম। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়ের প্রথম দিনে রাজধানীতে বৃষ্টি ঝরেছে মৃদুমন্দ। তবে কালো মেঘের দাপট আকাশজুড়ে। আগের কয়েক দিনের তুলনায় তফাত খুব একটা দেখা না গেলেও, আষাঢ়ের মন ভাসিয়ে দেয়া অনুভূতি দোলা দিয়েছে অনেককে। প্রকৃতিতে বেড়েছে সজীবতা, ফুটেছে বর্ষার ফুল কদম।

গরমের দাপট কমিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি ঝরছে দেশজুড়ে। তবে বাংলা বর্ষপঞ্জির হিসাবে সেটি গ্রীষ্মের অনিয়মিত বর্ষণ, আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষাকালের বৃষ্টি ঝরল মঙ্গলবার। কারণ, এই দিনটিতেই শুরু আষাঢ়ের।

বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়ের প্রথম দিনে রাজধানীতে বৃষ্টি ঝরেছে মৃদুমন্দ। তবে কালো মেঘের দাপট আকাশজুড়ে। কখনও কখনও সেই মেঘ সরিয়ে উঁকি দেয়া সূর্যে ঝলমলিয়ে উঠেছে নগরী। আগের কয়েক দিনের তুলনায় তফাত খুব একটা দেখা না গেলেও, আষাঢ়ের মন ভাসিয়ে দেয়া অনুভূতি দোলা দিয়েছে অনেককে। প্রকৃতিতে বেড়েছে সজীবতা, ফুটেছে বর্ষার ফুল কদম।

বর্ষার প্রথম দিনে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে ঢাকায়। তবে এর দাপট ছিল কম। ফলে গুমোট ভাব দূর হয়নি নগরে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কাগজে-কলমে আর বাংলার দিনপঞ্জিতে আষাঢ়-শ্রাবণ অর্থাৎ জুনের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত বর্ষাকাল বলা হয়। তবে আমাদের কাছে তা ভিন্ন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জুনের শুরুকেই বর্ষাকাল ধরে থাকি। এ সময় দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বিরাজ করে। আমাদের কাছে বর্ষাকাল মানে জুন থেকে সেই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দেশে তিন মাস শীতকাল থাকে, বাকি ৯ মাস বৃষ্টি আর গরম।’

আষাঢ়ের প্রথম দিনের সকালে কতটুকু বৃষ্টি হয়েছে জানতে চাইলে শাহীনুল বলেন, ‘ঢাকায় ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তারপর আরও কিছু সময় বৃষ্টি হয়েছে। সেই বৃষ্টির পরিমাণ এখনও রেকর্ড হয়নি।’

মৃদুমন্দ বৃষ্টি নিয়ে আষাঢ় এলো দেশে
বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়ের প্রথম দিনের সকালে রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে।

এবার কেমন যাবে নগরের বর্ষা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোথাও কখনও নিরবচ্ছিন্ন বৃষ্টি হবে না। মেঘে ঢাকা থাকবে আকাশ। তবে মাঝে মাঝে একটু সোনালি রোদের দেখা পাওয়া যাবে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থেকে মাঝে মাঝে হালকা বা মাঝারি বর্ষণ হতে পারে।’

‘মৌসুমি বায়ু আসার আগে দেশে মে মাসে গড়ে ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও এবার হয়েছে ২০৩ মিলিমিটার। জুন মাসে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রায় ৪৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হবে।’

করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের মতো এবারও কোথাও বর্ষাবরণ উৎসব ছিল না। ফলে অনেকটা নীরবেই ঋতু পরিবর্তন ঘটেছে বাংলা দিনপঞ্জিতে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম ঝাড়খন্ড ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।

ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

আরও পড়ুন:
ভারী বৃষ্টি,ঝোড়ো বাতাসে উপকূলে কাঁচাঘর বিধ্বস্ত
বৃষ্টিতে থইথই চট্টগ্রাম
রাজধানীতে ক্ষণিকের বৃষ্টিতে ভোগান্তি অফিসগামীদের
বর্ষার বৃষ্টি নামতে আর সাত দিন
গ্যারেজে পানি: রিকশা সরাতে গিয়ে মালিকসহ দুজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ

সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ

সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, চট্টগ্রাম শহরে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণে সিডিএর অনুমোদন প্রয়োজন। রেল বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেউই সিডিএর কোনো অনুমোদন নেয়নি। কেউ অনুমোদনবিহীন স্থাপনা নির্মাণ করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

হেরিটেজ জোন ঘোষিত সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ তিনি বলেন, সিআরবিতে কেউ অনুমোদনবিহীন স্থাপনা নির্মাণ করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে সিআরবি রক্ষায় আন্দোলনকারী সংগঠন নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বন্ধ করতে সিডিএ চেয়ারম্যানকে লিখিত দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রাম।

সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য প্রফেসর ড. অনুপম সেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল দুপুরে সিডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, কো-চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুচ, সাংবাদিক নেতা মহসীন কাজী, আবৃত্তি শিল্পী রাশেদ হাসান, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, স্বপন মজুমদার, সাংবাদিক শুকলাল দাশ ও আমিনুল ইসলাম মুন্না।

সিডিএর পক্ষ থেকে প্রধান পরিকল্পনাবিদ শাহীন উল ইসলাম খান, জসিম উদ্দিন শাহ্, কেবিএম শাজাহান ও এমআর আজিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, যথাযথ উদ্যোগের অভাবে পৃথিবীর অন্যতম নান্দনিক শহর চট্টগ্রামের সবুজ এলাকা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সিআরবিকে চট্টগ্রামবাসী হৃদয়ে ধারণ করেন। যেকোনো উপায়ে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধ করতে হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, চট্টগ্রাম শহরে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণে সিডিএর অনুমোদন প্রয়োজন। রেল বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেউই সিডিএর কোনো অনুমোদন নেয়নি। সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কেউ অনুমোদনবিহীন স্থাপনা নির্মাণ করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি আমরা অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করব।’

আরও পড়ুন:
ভারী বৃষ্টি,ঝোড়ো বাতাসে উপকূলে কাঁচাঘর বিধ্বস্ত
বৃষ্টিতে থইথই চট্টগ্রাম
রাজধানীতে ক্ষণিকের বৃষ্টিতে ভোগান্তি অফিসগামীদের
বর্ষার বৃষ্টি নামতে আর সাত দিন
গ্যারেজে পানি: রিকশা সরাতে গিয়ে মালিকসহ দুজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

সুন্দরবন বাঁচাতে প্রকল্প, দুর্নীতি ছাড়া বাস্তবায়নের আশা

সুন্দরবন বাঁচাতে প্রকল্প, দুর্নীতি ছাড়া বাস্তবায়নের আশা

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। ছবি: নিউজবাংলা

সুন্দরবন সুরক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১৫৭ কোটি ৮৭ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেয়। ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বন বিভাগ।

সুন্দরবন সুরক্ষায় ১৫৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বন বিভাগ। এতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ সমন্বিত বন ব্যবস্থাপনা কার্যকর হবে। তবে বিপন্ন সুন্দরবন বাঁচাতে পরিকল্পিত ও দুর্নীতিমুক্তভাবে পুরো প্রকল্পের বাস্তবায়ন চায় বৃহত্তর খুলনা সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি।

বন বিভাগ জানায়, প্রকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানুষের আগ্রfসনে সংকটে পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। বিষ দিয়ে মাছ শিকার, নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটন, বন্য প্রাণী নিধন, অবাধে গাছ কাটা ও বনের মধ্য দিয়ে ভারী নৌযান চলাচল করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সুন্দরবন।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক কারণে সুন্দরবনে বেড়েছে পানি ও মাটির লবণাক্ততা। বাড়ছে পলি পড়ার হার ও নদীভাঙন। এতে কমছে বনের প্রধান সম্পদ সুন্দরী গাছ ও ঘন বনের পরিমাণ।

এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সুন্দরবন সুরক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১৫৭ কোটি ৮৭ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেয়। ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বন বিভাগ।

প্রকল্প সূত্র জানায়, অতি গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবেশ সুরক্ষা, পুনরুদ্ধার, স্থায়িত্ব প্রদান, বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বাঘ-মানুষের বিরোধ হ্রাস এবং বন ও বন্য প্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে।

বিদ্যমান অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ সৃষ্টি ও টহল জোরদার করা হবে।

সম্পাদের পরিমাণ নিরূপণ, সব বন্য প্রাণীর সংখ্যা, তাদের আবাস্থল, রোগবালাই ও রক্ষিত এলাকার বৈশিষ্ট্য ও জরিপ, জলজ সম্পদের পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মাটি ও পানির লবণাক্ততা পরীক্ষাসংক্রান্ত জরিপ কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে পরিবীক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সম্পদের টেকসই সরবারহ নিশ্চিতকরণ ও পারমিট সিস্টেম ও পরিচয়পত্র অটোমেশনের মাধ্যমে সেবা সহজ করা হবে।

এ ছাড়া ৩৬১ দশমিক ৪৫ হেক্টর চর বনায়ন, ২২২ দশমিক ২২ হেক্টর প্ল্যান্টিনেশন, ৫০ হেক্টর ব্লক বাগান সৃজনসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ রোপণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কাঠের চাহিদা পূরণ ও সবুজ বেষ্টনী তৈরির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা হবে।

খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে জানান, প্রকল্পটি যুগোপযোগী হয়েছে। যা আসলেই প্রয়োজন ছিল। প্রকল্পটির কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সমন্বিত বন ব্যবস্থাপনা কার্যকর হবে।

তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক ও কমিউনিটি নেতাদের সম্পৃক্ত করা হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক, (সুজন) খুলনার সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘সুন্দরবন সুরক্ষায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ৫০ বছরের মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে। এ ছাড়া সুন্দরবনের আশপাশে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা বন্ধ করতে হবে। ইকো-ট্যুরিজমের উন্নয়ন প্রয়োজন। তাহলেই প্রকৃতপক্ষে সুন্দরবন সুরক্ষা পাবে।’

বৃহত্তর খুলনা সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উজ্জামান বলেন, ‘আগে সুন্দরবন রক্ষায় বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। সেসব প্রকল্প প্রত্যাশিত সুফল বয়ে আনেনি। বর্তমান প্রকল্প গ্রহণ অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। প্রকল্পটি পরিকল্পিত, বিজ্ঞানভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রকল্প তদারকিতে মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে। তাহলে সুন্দরবন সুরক্ষায় সুফল আনা সম্ভব।’

আরও পড়ুন:
ভারী বৃষ্টি,ঝোড়ো বাতাসে উপকূলে কাঁচাঘর বিধ্বস্ত
বৃষ্টিতে থইথই চট্টগ্রাম
রাজধানীতে ক্ষণিকের বৃষ্টিতে ভোগান্তি অফিসগামীদের
বর্ষার বৃষ্টি নামতে আর সাত দিন
গ্যারেজে পানি: রিকশা সরাতে গিয়ে মালিকসহ দুজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

ইইউর জলবায়ু অভিযোজন ক্যাম্পেইন শুরু

ইইউর জলবায়ু অভিযোজন ক্যাম্পেইন শুরু

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউরোপীয় কমিশন গত ফেব্রুয়ারি মাসে জলবায়ু অভিযোজন সম্পর্কিত একটি কৌশলপত্র প্রকাশ করেছে। ওই কৌশলপত্রের আলোকে অভিযোজন বিষয়ে প্রচারাভিযান শুরু করেছে ইইউ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাংলাদেশ ডেলিগেশন জলবায়ু অভিযোজনবিষয়ক ক্যাম্পেইন রোববার শুরু হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ প্রচারাভিযান চালানো হবে। আগস্ট মাসজুড়ে চলবে এটি।

জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে সচেতন করতে উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে।

ইইউ বাংলাদেশ ডেলিগেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউরোপীয় কমিশন গত ফেব্রুয়ারি মাসে জলবায়ু অভিযোজন সম্পর্কিত একটি কৌশলপত্র প্রকাশ করেছে। যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে- বিচক্ষণতা, পদ্ধতিগত ও দ্রুততার সঙ্গে জলবায়ু অভিযোজনের বিষয়ে কাজ করা। একই সঙ্গে এ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে আরও বেগবান করা।

ওই কৌশলপত্রের আলোকে অভিযোজন বিষয়ে প্রচারাভিযান শুরু করেছে ইইউ।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বেশ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে কাজ শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

২০১৬ সাল থেকে 'লোকাল গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ' নামে একটি প্রকল্পে দেড় কোটি ইউরো অর্থায়ন করে আসছে ইইউ।

প্রকল্পটির আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকায় পরিবারগুলোকে অভিযোজন বিষয়ে সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ভারী বৃষ্টি,ঝোড়ো বাতাসে উপকূলে কাঁচাঘর বিধ্বস্ত
বৃষ্টিতে থইথই চট্টগ্রাম
রাজধানীতে ক্ষণিকের বৃষ্টিতে ভোগান্তি অফিসগামীদের
বর্ষার বৃষ্টি নামতে আর সাত দিন
গ্যারেজে পানি: রিকশা সরাতে গিয়ে মালিকসহ দুজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

কর্ণফুলীতে জালে আটকে মরল ডলফিন

কর্ণফুলীতে জালে আটকে মরল ডলফিন

‘হামিদচরে কয়েকজন ছেলে একটা ডলফিন নিয়ে বালির মাঠে খেলছিল। তারা জানিয়েছে, এটি কর্ণফুলীতে জেলের ভাসা জালে আটকা পড়েছিল। তবে যখন তীরে আনা হয় তা মৃত ছিল।’

কর্ণফুলী নদীতে জেলেদের জালে আটকে একটি ডলফিন মারা গেছে।

চান্দগাঁও থানার হামিদচর এলাকা থেকে রোববার দুপুর ২টার দিকে মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, ‘হামিদচরে কয়েকজন ছেলে একটা ডলফিন নিয়ে বালির মাঠে খেলছিল। তারা জানিয়েছে, এটি কর্ণফুলীতে জেলের ভাসা জালে আটকা পড়েছিল। তবে যখন তীরে আনা হয় তা মৃত ছিল।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও ডলফিন বিশেষজ্ঞ ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘হামিদচর এলাকার কর্ণফুলী নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে গাঙ্গেয় ডলফিনের একটি বাচ্চা। এটির বয়স আনুমানিক এক বছর। দৈর্ঘ্য তিন ফুট পাঁচ ইঞ্চি।

‘ডলফিনের বাচ্চাটি উদ্ধার করেন চট্টগ্রাম বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জার মো. ইসমাইল হোসেন ও বন বিভাগের কর্মী অজয় দেব। এরপর আমি এটির প্রাথমিক পোস্টমর্টেম করি। এটির দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, জেলেদের জালে আটকে ডলফিনটি মারা গেছে। এটি সংরক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে নেয়া হয়েছে।’

কর্ণফুলী নদীর অন্যতম আকর্ষণ গেঞ্জেস ডলফিন বা গাঙ্গেয় ডলফিন। চট্টগ্রামের স্থানীয় ভাষায় এরা 'উতোম' কিংবা 'শুশুক' নামে পরিচিত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কর্ণফুলী, সাঙ্গু ও হালদা নদীতে গেঞ্জেস ডলফিনের সংখ্যা প্রায় ১২৫ টি।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় আছে এ প্রজাতির ডলফিন।

আরও পড়ুন:
ভারী বৃষ্টি,ঝোড়ো বাতাসে উপকূলে কাঁচাঘর বিধ্বস্ত
বৃষ্টিতে থইথই চট্টগ্রাম
রাজধানীতে ক্ষণিকের বৃষ্টিতে ভোগান্তি অফিসগামীদের
বর্ষার বৃষ্টি নামতে আর সাত দিন
গ্যারেজে পানি: রিকশা সরাতে গিয়ে মালিকসহ দুজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

হাতির বাচ্চা প্রসবের মুহূর্ত ভাইরাল

হাতির বাচ্চা প্রসবের মুহূর্ত ভাইরাল

ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে তা জানা যায়নি। তবে ফেসবুক পেজটির ঠিকানা বলছে ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের তালাহাসি শহরে।

এক মা হাতির সন্তান প্রসবের মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে ধরা পড়েছে জন্মের পর হস্তিশাবককে তার মায়ের প্রথম স্পর্শ করার দৃশ্য।

ইন্টারনেটে ইতোমধ্যে ভিডিওটি দেখা হয়েছে ১৬ লাখের বেশি। শেয়ার হয়েছে অসংখ্যবার।

৫৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করেছে ‘এলিফ্যান্ট লাভার্স’ নামের একটি পেজ।

ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে তা জানা যায়নি। তবে ফেসবুক পেজটির ঠিকানা বলছে ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের তালাহাসি শহরে।

তালাহাসি যুক্তরাষ্ট্রের পাহাড়ি এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম। ভিডিওতে আশপাশের যে দৃশ্য দেখা গেছে তাতে এলাকাটি তালাহাসি শহরে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ভিডিওতে দেখা যায়, প্রসব বেদনায় বেঁকে গেছে মা হাতির শরীর। চূড়ান্ত মুহূর্তে শুঁড় মাথায় ঠেকিয়ে ফেলে সে। তারপরই জন্ম নেয় শাবকটি। নরম ঘাসে গড়িয়ে পড়ার পর মা হাতিটি সামনের পা দিয়ে তাকে নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়।

পরের দৃশ্যটি আরও মনোমুগ্ধকর। হাতির একটি বিশাল পাল ঘিরে ফেলে মা ও শাবককে। এ সময় ভিডিওর ধারাভাষ্যে বলতে শোনা যায়, ‘দে আর সেলিব্রেটিং’। অর্থাৎ সদ্যোজাত শিশুর আগমন উদ্‌যাপন করছে হাতির পাল।

আরও পড়ুন:
ভারী বৃষ্টি,ঝোড়ো বাতাসে উপকূলে কাঁচাঘর বিধ্বস্ত
বৃষ্টিতে থইথই চট্টগ্রাম
রাজধানীতে ক্ষণিকের বৃষ্টিতে ভোগান্তি অফিসগামীদের
বর্ষার বৃষ্টি নামতে আর সাত দিন
গ্যারেজে পানি: রিকশা সরাতে গিয়ে মালিকসহ দুজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

তুরস্কে দাবানলে ৬ মৃত্যু, জরুরি অবস্থা

তুরস্কে দাবানলে ৬ মৃত্যু, জরুরি অবস্থা

পর্যটন শহর মানাভগাতে দাবানলে পুড়ে ছাই হওয়া এলাকা। ছবি: এএফপি

মানাভগাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, ‘দাবানলের এ ঘটনাকে রাজনৈতিক দৃষ্টি থেকে আঙ্কারা দেখছে না। কিন্তু তাও ইচ্ছে করে আগুন লাগানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে দাবানলে প্রাণ গেছে দুই বনকর্মীসহ কমপক্ষে ছয়জনের।

দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে ৯৮টি এলাকায়। এর মধ্যে শনিবার পর্যন্ত চার দিনে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে ৮৮টি এলাকার আগুন।

দুর্গত অঞ্চলগুলোতে জারি করা হয়েছে জরুরি দুর্যোগ অবস্থা।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দুই পর্যটন শহর মানাভগাতে পাঁচজন ও মারমারিসে একজনের মৃত্যু হয়েছে আগুনে। অগ্নিকাণ্ডের সময় মানাভগাতে দগ্ধ ও আহত ৪০০ মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনও ১০ জন চিকিৎসাধীন। মারমারিসে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৬০ জন।

এ দাবানল শুরু হয় বুধবার থেকে। তীব্র বাতাস ও সূর্যের প্রখর তাপে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। পুড়ে ছাই হয় বেশ কয়েকটি গ্রাম ও পর্যটনকেন্দ্র। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয় গ্রামের কয়েক শ বাসিন্দা ও অতিথিকে।

আজিয়ান সাগর তীরবর্তী বডরামে হোটেলে ওঠা অতিথিদের নৌকা ও প্রমোদতরীতে করে সাগরপথে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়।

দক্ষিণের হাতায় প্রদেশ থেকে নতুন করে শুরু হওয়া দাবানল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এসব এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান হেলিকপ্টারে চড়ে শনিবার দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন।

সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে তিনি এলাকাগুলোকে ‘দুর্যোগগ্রস্ত’ আখ্যা দেন। ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

পরে মানাভগাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, ‘দাবানলের এ ঘটনাকে রাজনৈতিক দৃষ্টি থেকে আঙ্কারা দেখছে না। কিন্তু তাও ইচ্ছে করে আগুন লাগানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

এর আগে বেশ কিছু দাবানল তুরস্কে নিষিদ্ধঘোষিত কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর লাগানো আগুন থেকে শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিল তুরস্কের সরকার।

আগুন নেভাতে কাজ করছে ১৩টি বিমান। ইউক্রেন, রাশিয়া, আজারবাইজান আর ইরানও এতে সহযোগিতা করছে। এ ছাড়া অর্ধশত হেলিকপ্টার, ড্রোন নিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দিয়েছেন কয়েক হাজার তুর্কি কর্মকর্তা।

তুরস্কের বন সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এক দশকে দেশটিতে প্রতিবছর গড়ে দুই হাজার ৬০০ করে দাবানলের ঘটনা ঘটত। কিন্তু গত বছর এ সংখ্যা তিন হাজার ৪০০তে পৌঁছায়।

আফ্রিকা থেকে বয়ে আসা গরম বাতাসে ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। এর ফলে ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে বৃদ্ধি পাচ্ছে দাবানল।

চলতি সপ্তাহের সোমবার গ্রিসসহ ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়ে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে লেগে যেতে পারে এক সপ্তাহ।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও দাবানলসহ নানা দুর্যোগের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন:
ভারী বৃষ্টি,ঝোড়ো বাতাসে উপকূলে কাঁচাঘর বিধ্বস্ত
বৃষ্টিতে থইথই চট্টগ্রাম
রাজধানীতে ক্ষণিকের বৃষ্টিতে ভোগান্তি অফিসগামীদের
বর্ষার বৃষ্টি নামতে আর সাত দিন
গ্যারেজে পানি: রিকশা সরাতে গিয়ে মালিকসহ দুজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ চীনের পারমাণবিক চুল্লি

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ চীনের পারমাণবিক চুল্লি

চীনের গুয়াংদং প্রদেশে অবস্থিত তাইশান পরমাণু ক্ষেত্রের একাংশ। ফাইল ছবি

এক মাস আগেই চুল্লিতে সমস্যার বিষয়টি জানিয়েছিল চীন সরকার। তবে সে সময় ‘সামান্য ত্রুটি’ দাবি করে এ নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানিয়েছিল বেইজিং।

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে চীনে পরমাণু শক্তিনির্ভর কারখানার একটি রিঅ্যাক্টর বা পারমাণবিক চুল্লি।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক চুল্লি এটি।

কারখানা থেকে অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তা নির্গত হতে থাকায় গত মাসে ধরা পড়ে ত্রুটিটি।

গুয়াংদং প্রদেশে অবস্থিত তাইশান পরমাণু ক্ষেত্রের ইউনিট-১ বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, চুল্লিতে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত পাইপলাইনে ত্রুটি নিয়ে প্রকৌশলীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর এটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

চীনের আদলে ‘এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি’ বা সংক্ষেপে ইপিআরধর্মী চুল্লি তৈরির কাজ চলছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ডসহ বেশ কিছু দেশে।

এক মাস আগেই চুল্লিতে এ সমস্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল চীনা সরকার। তবে সে সময় ‘সামান্য ত্রুটি’ দাবি করে এটি নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানিয়েছিল বেইজিং।

চীনের জেনারেল নিউক্লিয়ার পাওয়ার গ্রুপ (সিজিএন) শুক্রবার এক বিবৃতিতে ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে’ বলে জানায়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। একই সঙ্গে প্রকৌশলীরা জ্বালানি সরবরাহের পাইপলাইনও নতুন করে স্থাপন করবেন।

চলতি বছরের জুনে তাইশানের পাইপলাইনে ছিদ্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছিল সিএনএন।

তাইশান পরমাণু ক্ষেত্র পরিচালনায় সহযোগিতা করে ফরাসি জ্বালানি সংস্থা ইডিএফ। সংস্থাটি সে সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানিয়েছিল, চুল্লি বন্ধের পরিস্থিতি এড়াতে কারখানা থেকে তেজস্ক্রিয়তা নিঃসরণ অনুমোদিত মাত্রার চেয়েও বাড়িয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

‘ফুয়েল রড’ নামে পরিচিত জ্বালানি সরবরাহের পাইপলাইনগুলো ধাতব টিউব দিয়ে আটকানো থাকে। পারমাণবিক চুল্লি পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত পারমাণবিক উপাদান ধারণ করে এসব ফুয়েল রড।

আশপাশের পরিবেশের অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তার কারণে কারখানা বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন ইডিএফের এক মুখপাত্র। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চীনের কারখানা কর্তৃপক্ষই নেবে বলেও জানান তিনি।

ইডিএফের মতে, তাইশানের ‘বর্তমান পরিস্থিতি গুরুতর নয়’। কিন্তু ‘ভবিষ্যৎ গুরুতর পরিস্থিতি’র শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভারী বৃষ্টি,ঝোড়ো বাতাসে উপকূলে কাঁচাঘর বিধ্বস্ত
বৃষ্টিতে থইথই চট্টগ্রাম
রাজধানীতে ক্ষণিকের বৃষ্টিতে ভোগান্তি অফিসগামীদের
বর্ষার বৃষ্টি নামতে আর সাত দিন
গ্যারেজে পানি: রিকশা সরাতে গিয়ে মালিকসহ দুজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন