যার স্পর্শে বালুচর এখন গহিন বন

যার স্পর্শে বালুচর এখন গহিন বন

ভারতের অসমের যাদব পায়েং জীবনের ৩০ বছরই কাটিয়েছেন গাছ লাগিয়ে। ছবি: সংগৃহীত

৩০ বছরে ব্রহ্মপুত্রের একটি অনুর্বর বালুচরের ১ হাজার ৩৬০ একর জমি শুধু গাছ লাগিয়ে বনে রূপান্তর করেছেন যাদব। যা এখন পরিচিত ‘মোলাই কাঠোনি’ হিসেবে।

ভারতের ‘বনমানব’ হিসেবে পরিচিত যাদব পায়েং। ৬২ বছর বয়সী যাদব তার জীবনের ৩০ বছরই কাটিয়েছেন গাছের চারা রোপণ করে। ৪ কোটি গাছ লাগিয়ে তিনি অসম রাজ্যের ব্রহ্মপুত্র-বিধৌত একটি অনুর্বর বালুচরকে পুরো বনে রূপান্তর করেছেন।

সেই বনে এখন বাসা বেঁধেছে বাঘ, হরিণ, হাতি, খরগোশসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী, পাখি।

এবার সেই ‘বনমানব’কে গাছ লাগাতে ডেকেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ মেক্সিকো।

গত ডিসেম্বরে যাদব পায়েং এনজিও ফাউন্ডেশন অ্যাজটেকার সঙ্গে মেক্সিকোতে গাছ লাগানোর চুক্তি করেছেন। যাদব সেই চুক্তি মোতাবেক ৭০ লাখ গাছ লাগাবেন মেক্সিকোতে।

মেক্সিকোর সরকার দেশটিকে সবুজে ভরিয়ে তুলতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে

যাদব পায়েং স্থানীয়ভাবে পরিচিত মোলাই পায়েং নামে। এ ছাড়া পুরো ভারত, এমনকি পুরো বিশ্বে এখন তার পরিচয় ‘ভারতের বনমানব’ হিসেবে।

৩০ বছরে ব্রহ্মপুত্রের একটি অনুর্বর বালুচরের ১ হাজার ৩৬০ একর জমি শুধু গাছ লাগিয়ে বনে রূপান্তর করেছেন যাদব। যা এখন পরিচিত ‘মোলাই কাঠোনি’ হিসেবে।

ভারতের অসম রাজ্যের জোহাট জেলার ককিলামুখের কাছে সেই বন মোলাই কাঠোনি।

যার স্পর্শে বালুচর এখন গহিন বন
ব্রহ্মপুত্রের অনুর্বর বালুচরকে গাছ লাগিয়ে বনে রূপান্তর করেছেন অসমের যাদব পায়েং

যে এলাকাটিতে এখন রয়েছে বাঘ, সিংহ, হাতি, খরগোশসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর বাস। এ ছাড়া হাজার প্রজাতির গাছের বনটিতে এখন পরিযায়ী অসংখ্য প্রাণী এসে বাসা বেঁধেছে।

মেক্সিকোতে আট লাখ হেক্টর জমিতে বনায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে যাদব পায়েং গাছ রোপণ করবেন বলে জানান।

মেক্সিকান সরকার যাদবকে ১০ বছরের জন্য ভিসা দিয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে যাদব উড়াল দেবেন মেক্সিকোতে। এরপর ১০ বছর তিনি সেখানে গাছ লাগানোর কাজ করবেন।

যাদব বলেন, ‘আমি প্রতিবছর তিন মাস করে মেক্সিকোতে থাকব। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর; এই সময়টা মেক্সিকোতে গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। এই সময় আমি প্রতিদিন এক লাখ শিক্ষার্থী সঙ্গে নিয়ে চারা রোপণ করব।’

যার স্পর্শে বালুচর এখন গহিন বন
নিজের রোপণ করা গাছের নিচে বসে যাদব পায়েং

যাদবের বয়স যখন ১৬ বছর, তখন তিনি দেখেন ব্রহ্মপুত্রের সেসব বালুচরে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর প্রচণ্ড গরমে অসংখ্য সাপ মরে পড়ে আছে। সেটা তাকে খুব ব্যথিত করে। এরপর যাদব ব্রহ্মপুত্রতীরের বালুচরে বাঁশের ২০টি চারা রোপণ করেন।

১৯৭৯ সালে সামাজিক বনায়ন বিভাগ অসমের গোলারহাট জেলায় গাছ রোপণের একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে। সেই পরিকল্পনায় ২০০ হেক্টর জমিতে গাছ রোপণ শুরু হয়।

ওই জমিটি অরুণা চাপড়ি এলাকায়, যা যাদবের এলাকা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে। সেই সামাজিক বনায়নের কর্মসূচিতে একজন শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন যাদব। সেখানে বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয় পাঁচ বছর পর।

উন্নয়নশীল দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় ও ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখায় যাদব পায়েংকে ২০১৫ সালে ভারত সরকার পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত করে।

যাদব বলেন, ‘সব দেশেরই উচিত প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানো। আমাদের মনে রাখতে হবে, পরিবেশ রক্ষা করতে না পারলে আমরা টিকে থাকব না। বিশ্বব্যাপী এখন লকডাউন চলছে, এই সময়ে গাছ রোপণের উপযুক্ত সময়।

‘পরিবেশকে নিজের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। আমি বিশ্ববাসীর কাছে আবেদন জানাই, পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি ফাঁকা জায়গায় চারা রোপণ করুন।’

রোপণের জন্য যাদব ভারত থেকে নারকেল ও সুপারির চারা নিয়ে যাবেন মেক্সিকোতে।

অসমের বনমন্ত্রী পরিমল শুক্লাবৈদ্য মেক্সিকোতে নতুন মিশনের জন্য যাদবকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তার প্রশংসা করে করেছেন একটি টুইটও।

শেয়ার করুন

মন্তব্য