মৌবাড়িতে লাখ লাখ মৌমাছি, ২৬টি মৌচাক

মৌবাড়িতে লাখ লাখ মৌমাছি, ২৬টি মৌচাক

মৌমাছির দল মোট ২৬টি মৌচাক বেঁধেছে বাড়িটিতে। সারা দিন মৌমাছির গুঞ্জন শোনা যায় সেখানে। কয়েক লাখ মৌমাছির বাস সেখানে। তারা যেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্য হয়ে গেছে। বাড়ির লোকজন মৌমাছিদের দেখাশোনা করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। 

বাড়িটিকে সবাই ডাকে ‘মৌবাড়ি’ বলে। আর ডাকবেই-বা না কেন। দোতলা বাড়িটির কক্ষে কক্ষে, ব্যালকনিতে, রান্নাঘরের পাশে, চিলেকোঠায়- সবখানেই মৌচাক। এই মৌচাক দেখতে প্রতিদিনই সেখানে ভিড় জমান অনেক মানুষ।

বাড়িটির অবস্থান সাতক্ষীরা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের কোড়া গ্রামে। গ্রামের চিংড়িঘের ব্যবসায়ী শেখ আবু সাঈদ বাড়িটির মালিক।

আবু সাঈদ মৌমাছি পালন করেননি। মৌমাছিরাই তার বাড়ি দখল করে এসব চাক গড়ে তুলেছে।

মৌমাছির দল মোট ২৬টি মৌচাক বেঁধেছে বাড়িটিতে। সারা দিন মৌমাছির গুঞ্জন শোনা যায় সেখানে। কয়েক লাখ মৌমাছির বাস সেখানে। তারা যেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্য হয়ে গেছে। বাড়ির লোকজন মৌমাছিদের দেখাশোনা করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

সাত-আট বছর আগের কথা। একদিন সকালে উঠেই আবু সাঈদ পরিবারের লোকজন দেখতে পান রাতারাতি তাদের বাড়িঘরের এখানে-ওখানে অনেক মৌচাক। এরপর সেখানে পর্যায়ক্রমে মৌমাছি আসতেই থাকে। প্রথমে ভয় পেয়েছিলেন আবু সাঈদ ও তার পরিবারের সদস্যরা। মৌমাছির কামড়ের কথা মাথায় রেখে এই চাক ভাঙতেও পারেননি, আবার রাখতেও ভয় পাচ্ছিলেন।

আবু সাঈদ বলেন, ‘আস্তে আস্তে দেখলাম তারা কারও ক্ষতি করছে না। আসলে মানুষ আঘাত না করলে মৌমাছিরা কামড়ায় না।’

তিনি জানান, বছরের সাত থেকে আট মাস তার বাড়িতে চাকগুলো থাকে। এখন তার বাড়িতে রয়েছে ২৬টি চাক। কার্তিক থেকে জ্যৈষ্ঠ- এই কয়টা মাস তারা তার বাড়িতে বাস করে। এরপর সব মৌমাছি উধাও হয়ে যায়। কোথায় চলে যায় সে খবর জানা যায় না। কয়েক মাস পর ফের সরিষা ফুলের সময় চলে আসে মৌমাছিরা।

তিনি বলেন, এখন ফুলের মৌসুম নয়। ওরা সরিষা, আমের মুকুল, সফেদা ও লিচুর ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। ফুলের মধুর সংস্থান কমে গেলে ওরা উড়াল দেয় ঝাঁকে ঝাঁকে। এদের কোনো খাবার দিতে হয় না। প্রাকৃতিকভাবে তারা ফুলের মধু সংগ্রহ করে চাকে মধুর ভাণ্ডার গড়ে তোলে। চাকের ১০০ ভাগ মধুর মধ্যে তিনি নেন ৭৫ ভাগ। বাকি ২৫ ভাগ মৌমাছিদের খাওয়ার জন্য রেখে দেয়া হয়।

আবু সাঈদ প্রতিবছর ৫০ হাজার টাকার মধু বিক্রি করে থাকেন। আর এই খাঁটি মধুর খবর শুনে তার বাড়িতে যেমন মৌচাক দেখতে মানুষ যেমন ভিড় করেন, তেমনি তারা মধুও কিনে নেন। প্রতি কেজি মধু বিক্রি হয় ৫০০ টাকায়।

আবু সাঈদ জানান, মৌমাছিগুলো তাদের পরিবারের সদস্যের মতো। যখন ঝড়বৃষ্টি হয়, তখন তাদের জন্য চিন্তা হয়। ওদের নিরাপত্তার জন্য জানালা-দরজা বন্ধ করে রাখা হয়। তার স্ত্রী রঞ্জিলা বেগম সব সময় মৌচাকগুলো দেখভাল করে থাকেন। বাড়ির রান্নাঘরের পাশেই রয়েছে মৌচাক। বছরে আট মাস মৌমাছিগুলো বাড়িতে থাকে। নিজে থেকে আসে, আবার নিজে থেকে চলে যায়।

আবু সাঈদের স্ত্রী রঞ্জিলা বেগম বলেন, কোনো দিন কোনো মৌমাছি তার পরিবারের কাউকে কামড়ায়নি। আবার তারাও মৌমাছিকে কোনোভাবে আঘাত করেননি। তবে আমগাছে কীটনাশক স্প্রে করার সময় একবার বেশ কিছু মৌমাছি মারা যায়। তখন মনে হয়েছিল ওরা বুঝি আর আসবে না। তা কিন্তু হয়নি। ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি আবারও প্রাকৃতিক নিয়মেই আসে প্রতিবছর।

মৌবাড়িতে লাখ লাখ মৌমাছি, ২৬টি মৌচাক

আবু সাঈদ দম্পতির মেয়ে সখীপুর আহছানিয়া ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ফতেমা খাতুন বৃষ্টি বলেন, তাল, কুল, পেয়ারা, সরিষা, আমসহ বিভিন্ন ফুলের মধু সংগ্রহ করতে মৌমাছিরা নিরিবিলি পরিবেশে তাদের বাড়িতে আসছে আট বছর ধরে। মানুষ ও মৌমাছির নিবিড় মেলবন্ধনের বিষয়টি তাদের বাড়িতে না এলে কেউ বুঝতে পারবে না। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা ছাড়া এমনটি হওয়া সম্ভব নয়।

আবু সাঈদের শিশুসন্তান শেখ ইসমাইল হোসেন বলে, ওরা আমাদের পরিবারের সদস্য। সহপাঠীরা তাদের বাড়ির মৌচাকের খবর জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে তোলা ছবি দেখিয়ে দেয়।

প্রতিবেশীরা জানান, এই মৌবাড়ির খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ খবর সত্য কি না, তা জানার জন্য বহু মানুষ প্রতিদিন এখানে আসেন। খুব ভালো লাগে।

দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউপির চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন রতন বলেন, ‘আমি যখনই কোড়া গ্রামে আসি, তখনই মৌচাকগুলো দেখে যাই। মানুষ ও মৌমাছি কী সুন্দরভাবে একসঙ্গে বসবাস করছে। দেখে খুব ভালো লাগে।’

সাতক্ষীরা খামার বাড়ির উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম জানান, এপিস ডরসাটা জাতের মৌমাছি এগুলো। এই জাতের মৌমাছি সুন্দরবনে থাকে। বনে অনুকূল পরিবেশ না পেলে তারা হঠাৎ লোকালয়ে চলে আসে। লোকালয়ে কিছুদিন বসবাসের পর আবারও ফিরে যায় সুন্দরবনে। মৌমাছিকে বিরক্ত না করলে তারা কারোর ক্ষতি করে না।

তিনি বলেন, ‘সুস্থ পরিবেশ পাওয়ায় সুন্দরবনের মৌমাছিরা আট মাস ধরে কোড়া গ্রামের আবু সাঈদের বাড়িতে অবস্থান করে। একটি চাকের মৌমাছি অপরটিতে যায় না। প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি হলে তারা নতুন আবাস না খুঁজে পুরোনো আবাসেই ফিরে আসে। এটাই মৌমাছির স্বভাব। আবু সাঈদের বাড়িতে এভাবেই মৌমাছির ২৬টি দল চাক বেঁধেছে। আর তাই বাড়িটির নামও হয়ে উঠেছে মৌবাড়ি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বনে ফিরল লোকালয়ে পাওয়া অজগর

বনে ফিরল লোকালয়ে পাওয়া অজগর

সেভ দ্য অ্যানিমেলস অফ সুসংয়ের সভাপতি রিফাত আহমেদ জানান, সাপটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৫ ফুট, ছোট আকারের। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাড়ির পাশের সোমেশ্বরী নদীতে গারো পাহাড় থেকে সাপটি ভেসে আসে। পরে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসে।

নেত্রকোণার দুর্গাপুর পৌর শহরে লোকালয়ে ঢুকে পড়া একটি অজগর সাপকে উদ্ধার করে গারো পাহাড়ের একটি বনে অবমুক্ত করেছে সেভ দ্য অ্যানিমেলস অফ সুসং নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা।

দুর্গাপুরের গারো পাহাড়ের গ্রাম নলুয়াপাড়ার বনে শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়। নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের সভাপতি রিফাত আহমেদ রাসেল।

তিনি জানান, পৌর শহররে চরমোক্তারপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল হালিমের বাসা থেকে শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে অজগরটিকে উদ্ধার করেন তারা।

রিফাত আরও জানান, আব্দুল হালিমের বাড়ির টিনের বেড়ার বাঁশের খুঁটিতে অজগরটিকে পেঁচিয়ে থাকতে দেখা যায়। সাপটিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলার চেষ্টা করে কয়েকজন। এলাকাবাসী তাদের (রিফাতদের সংগঠন) জানালে সংগঠনের সদস্যরা অজগরটিকে উদ্ধার করেন।

সাপটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৫ ফুট, ছোট আকারের। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাড়ির পাশের সোমেশ্বরী নদীতে গারো পাহাড় থেকে সাপটি ভেসে আসে। পরে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসে। বিষয়টি দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয় বলে জানান রিফাত।

ইউএনও রাজিব উল আহসান বলেন, ‘স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য অ্যানিমেলস অফ সুসংয়ের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি একটি অজগর ধরা পড়েছে । পরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে সংগঠনের সদস্যদের কাছে পরিচর্যার জন্য রেখে দেয়া হয়। তাদের নির্দেশ দেয়া হয় দুপুরের মধ্যে সাপটিকে অবমুক্ত করতে।’

শেয়ার করুন

জানালার পাশে চুপচাপ বৃষ্টি দেখার দিন আজ ঢাকায়

জানালার পাশে চুপচাপ বৃষ্টি দেখার দিন আজ ঢাকায়

রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে আয়েশি সময় কাটছে অনেকের। ছবি: নিউজবাংলা

ছুটির আয়েশি দিনে তাই বেশির ভাগ মানুষের সময় কাটছে ঘরের ভেতরে। উপভোগ করছেন বর্ষার নান্দনিক রূপ। আবহাওয়া অফিস বলছে, এমন বৃষ্টি চলতে পারে আরও একদুই দিন। সেই সঙ্গে ভারী বর্ষণ হতে পারে দেশের চারটি বিভাগে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন, অফিসে ছোটার তাড়া নেই। তার মধ্যে ভোর থেকে ঢাকায় ঝরছে বৃষ্টি। একটানা এই বর্ষণ কখনও খানিকটা ভারী, কখনও মাঝারি, আবার কখনও মৃদুমন্দ। বুধবার আষাঢ় শুরুর পর এই প্রথম দিনভর টানা বৃষ্টিতে ভিজছে রাজধানী।

ছুটির আয়েশি দিনে তাই বেশির ভাগ মানুষের সময় কাটছে ঘরের ভেতরে। উপভোগ করছেন বর্ষার নান্দনিক রূপ।

আবহাওয়া অফিস বলছে, এমন বৃষ্টি চলতে পারে আরও একদুই দিন। সেই সঙ্গে ভারী বর্ষণ হতে পারে দেশের চারটি বিভাগে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, এমন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আরও একদিন স্থায়ী হবে। এরপর কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে সারা দেশেই এখন কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। আরও দুদিন এমন বৃষ্টি হওয়ার পর আবার একটু কমতে থাকবে। তারপর আবার আষাঢ়ের রূপ ফিরতে থাকবে নগরে।’

ঢাকায় সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশেই হচ্ছে বৃষ্টি। সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে ঈশ্বরদীতে ১৬৪ মিলিমিটার।

এ বছর গত ৩০ বছরের গড় বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এবার আমরা যেমন বৃষ্টি আগে থেকে আশা করেছিলাম সেটি পাব। গড় বৃষ্টিপাত ৪৩৫ মিলিমিটারের বেশি বা কাছাকাছি থাকতে পারে। আষাঢ়ে এমন বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।’

জানালার পাশে চুপচাপ বৃষ্টি দেখার দিন আজ ঢাকায়

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

শেয়ার করুন

‘টিউ’র মায়ার জালে বন্দি তারা

‘টিউ’র মায়ার জালে বন্দি তারা

দেলোয়ারা বুলবুলি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের একাকী সময়; আমরা হরিণশাবকটির মায়ায় জড়িয়ে পড়েছি। একসময় টিউকে বনে ফিরিয়ে দিতে হবে, এমন ভাবতেই মন ভার হয়ে যায়। অজানা শঙ্কা কাজ করে, টিউ কি ফিরতে পারবে স্বাভাবিক জীবনে? ফিরে পাবে কি ওর মাকে? নাকি কোনো শিকারির খাদ্যে পরিণত হবে টিউ?’

যেন দিনভর দুষ্টুমি করতেই ভালো লাগে তার। এ জন্য দোতলা বাড়ির বারান্দা, পড়ার টেবিল, রান্নাঘর থেকে শুরু করে সব জায়গায়ই অবাধে ঘুরতে থাকে। ছোটাছুটি করতে করতে একটু ক্লান্তি এলে শুয়ে চোখ বুজে ঘুমের ভান ধরে থাকে।

একটু শব্দ হলেই কান খাড়া করে ফেলে। এদিক-সেদিক তাকিয়ে শব্দের উৎস খুঁজতে চেষ্টা করে। কেবল ক্ষুধা পেলেই গৃহকর্ত্রীর কদর বাড়ে তার কাছে। আঁচল কামড়ে পেছনে পেছনে ঘুরঘুর শুরু করে।

একটা পর্যায়ে খাবার প্রস্তুত করে ‘টিউ’ বলে ডাকতেই লাফাতে লাফাতে চলে যায় গৃহকর্ত্রীর কাছে। এরপর সন্তানের মতো খুনসুটি করতে করতে সাবাড় করে বোতলের দুধ।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয় উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল। ২৭ মে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হরিণঘাটা বনাঞ্চল এলাকায় প্রবল জোয়ারে বলেশ্বর নদে ভেসে যাচ্ছিল চিত্রল প্রজাতির এই হরিণশাবকটি।

স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে বিষয়টি বন বিভাগকে জানান। হরিণঘাটা এলাকার বিট কর্মকর্তা কাওসারসহ বন কর্মীরা হরিণশাবকটি উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। শীত আর ভয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল হরিণশাবকটি।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসক খবর দিয়ে তার পরামর্শে চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর বিট কর্মকর্তা কাওসারের হরিণঘাটা বনসংলগ্ন দোতলা সরকারি বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। এখন সেখানেই আছে হরিণশাবকটি।

‘টিউ’র মায়ার জালে বন্দি তারা


বন কর্মকর্তা গোলাম কাওসারের স্ত্রী দেলোয়ারা বুলবুলি সন্তানের মতোই পরম মমতায় লালন-পালন করছেন টিউকে। নিয়মিত ফিডারের দুধ খাওয়াচ্ছেন। টিউও বাধ্য সন্তানের মতো তার কোলে শুয়ে ফিডারের দুধ পান করে। তবে অপরিচিত মানুষ দেখলেই দিগ্বিদিগ ছোটাছুটি শুরু করে, লুকিয়ে পড়ে খাটের নিচে।

দেলোয়ারা বুলবুলি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দুই মেয়ে। বিয়ের পর ওরা মেহেরপুরে শ্বশুরবাড়িতে থাকে। স্বামীর চাকরি সূত্রে আমি থাকি এখানে। আমাদের একাকী সময়; আমরা হরিণশাবকটির মায়ায় জড়িয়ে পড়েছি।

‘একসময় টিউকে বনে ফিরিয়ে দিতে হবে, এমন ভাবতেই মন ভার হয়ে যায়। অজানা শঙ্কা কাজ করে, টিউ কি ফিরতে পারবে স্বাভাবিক জীবনে? ফিরে পাবে কি ওর মাকে? নাকি কোনো শিকারির খাদ্যে পরিণত হবে টিউ?’

পাথরঘাটার হরিণঘাটা রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা গোলাম কাওসার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইয়াসে প্লাবিত হয়ে সুন্দরবন থেকে হরিণশাবকটি ২৭ মে পাথরঘাটার হরিণঘাটা এলাকার বলেশ্বর নদে চলে আসে।

‘টিউ’র মায়ার জালে বন্দি তারা


‘স্থানীয়রা সেটি উদ্ধার করে আমাদের খবর দেন। আমি চিকিৎসা দিয়ে হরণটি নিজের বাসায় রেখেছি। ও একটু বড় হলে বনে ফিরিয়ে দেয়া হবে।’

প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হরিণ

গত ২৬ মে বুধবার সন্ধ্যার দিকে পাথরঘাটার হরিণঘাটা বনাঞ্চল থেকে সাঁতার কেটে একটি হরিণ পশ্চিম চরলাঠিমারা গ্রামে প্রবেশ করে। তবে কুকুরের কামড়ে মারা যায় সেটি।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, গত ২৬ ও ২৭ মে ইয়াসের প্রভাবে সুন্দরবনের কচিখালী অভয়ারণ্য ও দুবলার চর থেকে দুটি এবং শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের তাফালবাড়ি গ্রাম থেকে একটি ও রায়েন্দা ইউনিয়নের রাজেশ্বর গ্রাম থেকে একটি মৃত হরিণ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে দুটি জীবিত হরিণ উদ্ধার করা হয়।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে ৫-৬ ফুট পানি উঠে যায় সুন্দরবনে। পানিতে ডুবে বন্য প্রাণী মারা যায়। ইয়াসের সময় চারটি মৃত ও তিনটি জীবিত হরিণ আমরা উদ্ধার করি।’

উপকূলীয় ইকোফরেস্ট ও ট্যুরিজম নিয়ে কাজ করেন আরিফ রহমান।

‘টিউ’র মায়ার জালে বন্দি তারা


নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে প্রতিবছর বেশ কিছু হরিণ মারা যায়। এর মধ্যে অধিকাংশই হরিণশাবক। জলোচ্ছ্বাসের সময় আশ্রয় নেয়ার জন্য কোনো উঁচু স্থান পায় না বন্য প্রাণীরা। ফলে বানে ভেসে মারা যায়, আবার ভেসে লোকালয়ে চলে এসে শিকারে পরিণত হয়।

আরিফ রহমান বলেন, বন্য প্রাণীকে অবশ্যই দুর্যোগের সময় সুরক্ষা দিতে হবে। এ জন্য ইকোফরেস্টের ভেতরে একাধিক উঁচু ঢিবি করা উচিত। নয়তো বিরল প্রজাতির হরিণ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন বিভাগ পাথরঘাটার রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুল হক বলেন, ‘দুর্যোগের সময়ে যাতে বন্য প্রাণী নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে, তা ভাবার সময় এসেছে। ষাটের দশকে সৃষ্ট হরিণঘাটা বনের প্রাণীর নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করি, শিগগিরই উদ্যোগ নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

চাঁদপুরের অজগর, বানর, শকুন যাচ্ছে গাজীপুরে

চাঁদপুরের অজগর, বানর, শকুন যাচ্ছে গাজীপুরে

চাঁদপুর সদরের ফাইভ স্টার পার্কে ছিল একটি অজগর ও তিনটি বানর এবং কৃতিকুঞ্জ তিয়া পার্ক থেকে একটি অজগর, একটি শকুন ও দুইটি বানর উদ্ধার করা হয়। অজগর দুটির ওজন প্রায় ২০০ কেজি। লাইসেন্স ছাড়া পার্ক মালিকরা এই প্রাণীগুলো প্রদর্শনীর জন্য রেখেছিলেন।

চাঁদপুর সদরের দুটি পার্কে অবৈধভাবে রাখা আটটি বন্য প্রাণী জব্দ করেছে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট (ডব্লিউসিসিইউ)। সেগুলো গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে পাঠানো হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

ডব্লিউসিসিইউর পরিদর্শক অসীম মল্লিক এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়নের ফাইভ স্টার শিশু পার্ক ও শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কৃতিকুঞ্জ তিয়া পার্ক থেকে মঙ্গলবার বিকেলে বন্য প্রাণীগুলো জব্দ করা হয়। ওই পার্কের মালিকরা এই প্রাণীগুলো প্রদর্শনীর জন্য অবৈধভাবে রেখেছিলেন।

এর মধ্যে ফাইভ স্টার পার্কে ছিল একটি অজগর ও তিনটি বানর এবং কৃতিকুঞ্জ তিয়া পার্ক থেকে একটি অজগর, একটি শকুন ও দুইটি বানর উদ্ধার করা হয়। অজগর দুটির ওজন প্রায় ২০০ কেজি।

অসীম বলেন, ‘গত ৩ এপ্রিল ফাইভ স্টার পার্কে অভিযান চালাই। সে সময় একটি অজগর ও তিনটি বানর জব্দ করা হয়। সে সময় লকডাউন থাকায় আমরা প্রাণীগুলো পরিবহন করতে পারিনি। তাই তাদের জিম্মায় রেখে দিই। বন্য প্রাণী সংরক্ষণের কোনো ধরনের লাইসেন্স ওই পার্ক মালিকের ছিল না। তাই পার্ক মালিক মো. লিটনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

চাঁদপুরের অজগর, বানর, শকুন যাচ্ছে গাজীপুরে

অসীম জানান, অভিযানের খবর পেয়ে কৃতিকুঞ্জ তিয়া পার্কের মালিক মো. মিজান নিজেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, লাইসেন্সের বিষয়টি না জেনে তিনিও পার্কে বন্য প্রাণী রেখেছেন। তিনি স্বেচ্ছায় বিষয়টি জানিয়েছেন বলে তাকে জরিমানা করা হয়নি।

সে খবর জেনে মঙ্গলবার দুই পার্ক থেকে বন্য প্রাণীগুলো জব্দ করা হয়। অসীম বলেন, সেগুলো এখন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন বিভাগ কার্যালয়ে রাখা আছে। শিগগিরই গাজীপুরের সাফারি পার্কে সেগুলো অবমুক্ত করা হবে।

শেয়ার করুন

বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণই যার নেশা

বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণই যার নেশা

মোজাম্মেল হক সুযোগ পেলেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে গাছের চারা বিতরণ করেন। ছবি: নিউজবাংলা

মোজাম্মেল আলম নামের এই ঠিকাদার রোপণ করেছেন অন্তত ১০ হাজার বৃক্ষের চারা। বিতরণও করেছেন অন্তত ১০ হাজার চারা। বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কাঠবাদাম, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, খেজুর, মেহগনিসহ যেসব গাছ চোখে পড়ে, তার বেশির ভাগই তার হাতে লাগানো।

মোজাম্মেল আলম একজন ঠিকাদার। পেশাগত ব্যস্ততার মাঝে সুযোগ পেলেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে গাছের চারা বিতরণ করেন তিনি।

যেখানেই খালি জায়গা পান, সেখানেই গাছের চারা রোপণ করেন। এ জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে কুমিল্লা সদরের পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলায় ঘোরেন তিনি। সঙ্গে রাখেন চারা, কোদাল-খন্তা।

এই ঠিকাদার এভাবে রোপণ করেছেন অন্তত ১০ হাজার গাছের চারা। বিতরণও করেছেন অন্তত ১০ হাজার চারা। বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কাঠবাদাম, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, খেজুর, মেহগনিসহ যেসব গাছ চোখে পড়ে তার বেশির ভাগই তার হাতে লাগানো।

ঠিকাদার মোজাম্মেল নিউজবাংলাকে জানান, ২০০৯-১০ সালে বৃক্ষরোপণ আন্দোলন শুরু করেন। প্রথমে তিনি বাসার ছাদে গড়ে তোলেন ছাদবাগান। ছাদে তিনি সবজি, ফুল ও ফলের অনেক গাছ লাগান। পরিবারের জন্য বিষমুক্ত ফল-সবজির জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি।

তিনি বৃক্ষ নিয়ে কাজ করার সুবাদে গার্ডেন লাভার্স অব বাংলাদেশ, ভেজিটেবল জোন ও গ্রিন গার্ডেন সোসাইটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণই যার নেশা

মোজাম্মেল আলম জানান, কুমিল্লা ডায়াবেটিক হাসপাতালের সামনে যে কাঠবাদামগাছগুলো আছে, সেগুলো তার লাগানো। পুলিশ লাইন প্রাইমারি স্কুলের সামনে কাঠবাদাম; নগরীর পার্কে সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া ও খেজুরগাছ এবং ঈদগাহের ভেতরে খোরমাখেজুরগাছ তিনি লাগান। রেলস্টেশনে স্টিলের ব্যারিকেডের মধ্যেও খোরমাখেজুর, সোনালু, লিচু, রাধাচূড়া এবং কৃষ্ণচূড়াগাছ লাগিয়েছেন তিনি।

বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণই যার নেশা

নগরীর টমছম ব্রিজ মাজার রোড ও কলেজ রোডের কাঠবাদামগাছ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেতরের এবং আরবান হেলথের সামনের গাছগুলোও তার রোপণ করা।

মোজাম্মেল আরও জানান, তিনি শুধু জেলা সদরে নয়, বিভিন্ন উপজেলায়ও বৃক্ষের চারা নিয়ে ছুটে যান প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে, যারা গাছ ভালোবাসেন তাদের কাছে। এভাবে জেলার লাকসাম উপজেলার খিলা, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর, দেবিদ্বার উপজেলার ফখরুল ইসলাম মুন্সী কলেজ, দেবিদ্বার সূর্যপুর গ্রামের কবরস্থানে বৃক্ষরোপণ করেছেন। বৃক্ষরোপণ করেছেন সদর উপজেলার বিবির বাজার ইমিগ্রেশনের সামনে, সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী কানন রেস্টহাউসের সামনেসহ সব ইউনিয়নেই।

মোজাম্মেল আলম প্রকৃতি ভালোবাসেন।

বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণই যার নেশা

তিনি মনে করেন, প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর রূপ বৃক্ষ, যা থেকে সব সময় মানুষ উপকৃত হয়। সবাই মিলে গাছ লাগালে প্রাকৃতিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

তার ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাজাদা এমরান বলেন, মোজাম্মেল আলমের বৃক্ষরোপণ আন্দোলন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বসবাস উপযোগী সুন্দর দেশ গড়তে তার মতো সবার এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন

মৃদুমন্দ বৃষ্টি নিয়ে আষাঢ় এলো দেশে

মৃদুমন্দ বৃষ্টি নিয়ে আষাঢ় এলো দেশে

আষাঢ়ে প্রকৃতিতে বেড়েছে সজিবতা, ফুটেছে বর্ষার ফুল কদম। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়ের প্রথম দিনে রাজধানীতে বৃষ্টি ঝরেছে মৃদুমন্দ। তবে কালো মেঘের দাপট আকাশজুড়ে। আগের কয়েক দিনের তুলনায় তফাত খুব একটা দেখা না গেলেও, আষাঢ়ের মন ভাসিয়ে দেয়া অনুভূতি দোলা দিয়েছে অনেককে। প্রকৃতিতে বেড়েছে সজীবতা, ফুটেছে বর্ষার ফুল কদম।

গরমের দাপট কমিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি ঝরছে দেশজুড়ে। তবে বাংলা বর্ষপঞ্জির হিসাবে সেটি গ্রীষ্মের অনিয়মিত বর্ষণ, আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষাকালের বৃষ্টি ঝরল মঙ্গলবার। কারণ, এই দিনটিতেই শুরু আষাঢ়ের।

বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়ের প্রথম দিনে রাজধানীতে বৃষ্টি ঝরেছে মৃদুমন্দ। তবে কালো মেঘের দাপট আকাশজুড়ে। কখনও কখনও সেই মেঘ সরিয়ে উঁকি দেয়া সূর্যে ঝলমলিয়ে উঠেছে নগরী। আগের কয়েক দিনের তুলনায় তফাত খুব একটা দেখা না গেলেও, আষাঢ়ের মন ভাসিয়ে দেয়া অনুভূতি দোলা দিয়েছে অনেককে। প্রকৃতিতে বেড়েছে সজীবতা, ফুটেছে বর্ষার ফুল কদম।

বর্ষার প্রথম দিনে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে ঢাকায়। তবে এর দাপট ছিল কম। ফলে গুমোট ভাব দূর হয়নি নগরে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কাগজে-কলমে আর বাংলার দিনপঞ্জিতে আষাঢ়-শ্রাবণ অর্থাৎ জুনের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত বর্ষাকাল বলা হয়। তবে আমাদের কাছে তা ভিন্ন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জুনের শুরুকেই বর্ষাকাল ধরে থাকি। এ সময় দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বিরাজ করে। আমাদের কাছে বর্ষাকাল মানে জুন থেকে সেই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দেশে তিন মাস শীতকাল থাকে, বাকি ৯ মাস বৃষ্টি আর গরম।’

আষাঢ়ের প্রথম দিনের সকালে কতটুকু বৃষ্টি হয়েছে জানতে চাইলে শাহীনুল বলেন, ‘ঢাকায় ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তারপর আরও কিছু সময় বৃষ্টি হয়েছে। সেই বৃষ্টির পরিমাণ এখনও রেকর্ড হয়নি।’

মৃদুমন্দ বৃষ্টি নিয়ে আষাঢ় এলো দেশে
বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়ের প্রথম দিনের সকালে রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে।

এবার কেমন যাবে নগরের বর্ষা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোথাও কখনও নিরবচ্ছিন্ন বৃষ্টি হবে না। মেঘে ঢাকা থাকবে আকাশ। তবে মাঝে মাঝে একটু সোনালি রোদের দেখা পাওয়া যাবে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থেকে মাঝে মাঝে হালকা বা মাঝারি বর্ষণ হতে পারে।’

‘মৌসুমি বায়ু আসার আগে দেশে মে মাসে গড়ে ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও এবার হয়েছে ২০৩ মিলিমিটার। জুন মাসে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রায় ৪৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হবে।’

করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের মতো এবারও কোথাও বর্ষাবরণ উৎসব ছিল না। ফলে অনেকটা নীরবেই ঋতু পরিবর্তন ঘটেছে বাংলা দিনপঞ্জিতে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম ঝাড়খন্ড ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।

ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

শেয়ার করুন

ঝুঁকি এড়াতে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

ঝুঁকি এড়াতে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

খামারবাড়িতে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি- ২০২১’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়বে এবং দেশে খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। এ অবস্থায় পরিবেশের সুরক্ষায় বাংলাদেশ কৃষক লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। তা থেকে রক্ষা পেতে বেশি করে গাছের চারা লাগানোর ওপর জোর দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে মঙ্গলবার বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২১’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান মন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়বে এবং দেশে খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। এ অবস্থায় পরিবেশের সুরক্ষায় বাংলাদেশ কৃষক লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে একটি আন্দোলনে পরিণত করেছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ আন্দোলনটি পরিবেশ সুরক্ষায় দেশের ও বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী ১৯৮১ সালে জীবন বাজি রেখে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৮৩ সালে নানান প্রতিবন্ধকতার মাঝেও তিনি কৃষক লীগের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেন। এর মাধ্যমে তিনি শুধু দেশের নয়, বৈশ্বিক পরিবেশ সুরক্ষায় অনন্য নজির স্থাপন করেন।

এ সময় মন্ত্রী জানান কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নসহ মাঠপর্যায়ের অফিস ও কর্মকর্তারা এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হবে ও কৃষক লীগকে সহযোগিতা করবে।

বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এফএওর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ পরপর তিনবার বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয় স্থান ধরে রাখতে যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়াকে টপকে এ স্থান অর্জন করে বাংলাদেশ। এটি প্রমাণ করে করোনা ও নানান দুর্যোগ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে ক্রমাগত ভালো করছে ও টেকসই উৎপাদনব্যবস্থায় রয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী এবং বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি।

শেয়ার করুন