পরিবেশ রক্ষায় বাজেট বরাদ্দ ‘উপেক্ষিত’ দাবি বিশ্লেষকদের

পরিবেশ রক্ষায় বাজেট বরাদ্দ ‘উপেক্ষিত’ দাবি বিশ্লেষকদের

অতিরিক্ত ধুলায় অতিষ্ঠ ঢাকার জনজীবন। ছবি: সাইফুল ইসলাম

পরিবশে-বান্ধব বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর সদিচ্ছা ও আর্থিক বরাদ্দই যথেষ্ট নয়। সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার কঠোর বাস্তবায়নের জন্য দরকার প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর পরিবেশবিরোধী অন্যায় কার্যকলাপ বন্ধ করা। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাকৃতিক পরিবেশের অবনতি রোধ নিয়ে তেমন কিছু বরাদ্দ দেয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সবুজায়নের কথা বললেও পরিবেশ রক্ষায় বাজেট বরাদ্দ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে করছে পরিবেশবাদীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) উদ্যোগে ‘জাতীয় বাজেট: স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ’-শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সভায় এ সব কথা উঠে আসে।

সভায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন আইইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক ড. এ এম জাকির হোসেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সংগঠটির পরিবেশ স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচি কমিটির সদস্য-সচিব গবেষক বিধান চন্দ্র পাল এমন তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পরিবশে-বান্ধব বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর সদিচ্ছা ও আর্থিক বরাদ্দই যথেষ্ট নয়। সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার কঠোর বাস্তবায়নের জন্য দরকার প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর পরিবেশবিরোধী অন্যায় কার্যকলাপ বন্ধ করা। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করতে হবে।

সবার জন্য টিকা নিশ্চিতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটে ৮০ শতাংশ মানুষের টিকা নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে। এটা কত সময় মধ্যে দেয়া হবে, তা উল্লেখ্য নেই। যেহারে টিকা প্রয়োগ করছে, এইভাবে টিকাদান কর্মসূচি চলতে থাকলে আগামী ৫ বছর সময় লাগবে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে। টিকার সংগ্রহ বরাদ্দ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে টিকা নিশ্চিতে সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, ‘করোনাকালে আমরা বঝুতে পেরেছি প্রকৃতিতে বিনিয়োগ হলো সঠিক বিনিয়োগ। এখন দেখার বিষয় আমার সঠিক বিনিয়োগ করছি কি না। এখন প্রকৃতিকে বিনিয়োগ করলে আমার সন্তানরা এর সুফল পাবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বাজেটে যে বরাদ্দ দেয়া সেটা সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে খরচ করতে হবে।’

সীমান্তে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দেশে প্রবেশ করায় সীমান্ত এলাকায় সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। তবে আরও ভয়ের বিষয় সীমান্ত এলাকায় যেভাবে সংক্রমণ বেড়েছে, সেভাবেই স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।’

তিনি আরও বলেন, গ্রিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোবারক হোসেন সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রকাশ করেছেন, সেখানে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় ১০০ শতাংশ মাস্ক ব্যবহার করেছে, সেই সব এলাকায় করোনা সংক্রমণ অনেক কম গেছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই।

অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদ বলেন, পানি, নদী ও সুন্দরবন নিয়ে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে, এ উন্নয়ন প্রকল্পের কারণেই পরিবেশ ও জলুবায়ু ক্ষতি হচ্ছে। যে উন্নয়ন প্রকল্প পরিবেশ ক্ষতি করে, এসব প্রকল্প বন্ধ কারার দাবি তোলেন তিনি।

পানি ও বায়ুদূষণ বন্ধ এবং বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য উদ্যোগ নেয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সরকারকে তেমন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে দেখছি না।’

তিনি বলেন, এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার থাকলেও এই খাতে সরকারের অবহেলার কারণে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের সার্বিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের জন্য ক্ষতিকর এমন প্রকল্পে যদি বাজেটে বরাদ্দ বাড়ে, তাহলে জনগণের এই বরাদ্দ জনগণের কাজে আসে না। দেশে কিছুসংখ্যাক মানুষের সুবিধার্থে বাজেট বরাদ্দ বাড়ছে। দেশে প্রতিবছর বায়ুদূষণের কারণে দুই লাখের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। বায়ুদুষণ প্রতিরোধে সরকারকে কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৯০ বছর আগেই কি ফুটল ‘মারণ ফুল’

৯০ বছর আগেই কি ফুটল ‘মারণ ফুল’

টাঙ্গাইলের সার্কিট হাউজের বিরল প্রজাতির তালিপাম গাছে ফুটেছে ফুল। ছবি: নিউজবাংলা

তালিপাম গাছের ‘অনন্য বৈশিষ্ট্য’, প্রায় শত বছর পর মাত্র একবারই ফুল-ফল দিয়ে মারা যায় অর্থ্যাৎ জীবনচক্র শেষ হয়। তবে টাঙ্গাইলের সার্কিট হাউজে রোপন করা বিরল প্রজাতির গাছটির ‘মারণ ফুল’ ফুটেছে ৯ বছরেই।

বিশ্বের মহাবিপন্ন বৃক্ষের তালিকাভূক্ত তালিপামে ফুল ও ফল হওয়ার সবশেষ নমুনাটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ফুলার রোড সংলগ্ন উপ-উপাচার্যের বাসবভন চত্বরে।

এই গাছের ‘অনন্য বৈশিষ্ট্য’, প্রায় শত বছর পর মাত্র একবারই ফুল-ফল দিয়ে মারা যায় অর্থ্যাৎ জীবনচক্র শেষ হয়। তবে টাঙ্গাইলের সার্কিট হাউজে রোপন করা বিরল প্রজাতির গাছটির ‘মারণ ফুল’ ফুটেছে ৯ বছরেই।

গাছটি ২০১২ সালের ১৮ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক এম বজলুল করিম চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের বাসা থেকে এনে রোপণ করেছিলেন। মাত্র ৯ বছরে ফুল ফোটার খবরে মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে যান একদল উদ্ভিদ গবেষক।

তালিপাম গাছের গবেষক ও সরকারি বাঙলা কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টের মহাপরিচালক অমি ড. মালা খান, হেলথ ইন হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক শারমিন সুলতানা।

এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনিসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্ভিদ গবেষকরা গাছটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ফুল, পাতা, শেকড়, ডালসহ বিভিন্ন উপকরণ গবেষণার জন্য সংগ্রহ করেন।

ড. আখতারুজ্জামান চৌধুরী জানান, তালিপামের ফুল-ফল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ৯টি সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান সংশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। যার কিছু উপাদান অণুজীব ধ্বংসকারী, বার্ধক্য ও ক্যান্সার প্রতিরোধক গুণাগুণ সম্পন্ন। এর মধ্যে বিটুলিনিক এসিড ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।

জানা যায়, ১৭৯৯ সালে সর্ব ভারতের পূর্বাঞ্চলে তালিপাম প্রজাতির সন্ধান পান যুক্তরাজ্যের উদ্ভিদবিজ্ঞানী উইলিয়াম রক্রবার্গ। স্থানীয়ভাবে যা ‘বুনো তাল’ নামে পরিচিত ছিল।

তিনি জানিয়েছিলেন, বুনো তাল পূর্ববাংলার এনডেমিক উদ্ভিদ অর্থ্যাৎ এটি এমন উদ্ভিদ, যা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে জন্মায়।

এরপর পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার শান্তি নিকেতন এলাকায় আরেকটি তালিপাম বৃক্ষের তথ্য পাওয়া যায়। তবে বৃক্ষটিতে ফুল আসার পরপরই স্থানীয় অধিবাসীরা তা কেটে ফেলেন।

কথিত আছে, ১৯৭৯ সালে ওই গাছে যখন ফুল আসে। তখন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ অশুভ মনে করে সেটি কেটে ফেলেন।

৯০ বছর আগেই কি ফুটল ‘মারণ ফুল’
তালিপামের ফুল পরীক্ষা করছেন গবেষকরা। ছবি: নিউজবাংলা

এর আগে অবশ্য ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম সালার খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি তালিপাম গাছ চিহ্নিত করেন। ১৯৭৯ সালের পর পৃথিবীর অন্য কোথাও এ প্রজাতির সন্ধান না পাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদটিকেই বিশ্বের একমাত্র বন্যতাল প্রজাতির নমুনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) তালিপামকে বিশ্বের মহাবিপন্ন উদ্ভিদ হিসেবে ঘোষণা করে।

তালিপাম গাছের গবেষক ড. আখতারুজ্জামান চৌধুরী জানান, তালিপামের ফুল-ফল থেকে সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান সংশ্লেষণ নিয়ে গবেষণা করছেন। এটি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলম সুপারভাইজার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুর রশীদ কো-সুপারভাইজার হিসেবে তত্ত্বাবধান করছেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম থেকে ২০০১ সালে জানতে পারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তালিপাম নামে একটি গাছ আছে। বৃক্ষটি ১০০ বছর পর মাত্র একবারই ফুল-ফল দিয়ে মারা যাবে। এরপর ২০০৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে বৃক্ষটিতে মুঞ্জরী বের হয়।

‘বাংলাদেশসহ বিশ্বের বৃক্ষপ্রেমী মানুষের মধ্যে এটি ভালো আগ্রহের সৃষ্টি করে। পত্র-পত্রিকায় ব্যাপকভাবে লেখালেখি হতে থাকে। এই সময় প্রচলিত চিকিৎসার একটি কথা আমার মনে পড়ে যায়, যে গাছ একবার ফুল-ফল দিয়ে মরে যায়, সে গাছ ঔষধি।

‘তখন মনে হয়, যেহেতু বৃক্ষটি ১০০ বছর পর একবার ফুল-ফল দিয়ে মরে যাবে, নিশ্চয় এর ফুল-ফল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি উপাদান পাওয়া যাবে। এরপরই তালিপাম নিয়েই পিএইচডি কোর্সের গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নিই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলম ও কো-সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. আব্দুর রশীদকে জানালে তারা সানন্দে রাজি হন। কারণ ইতোমধ্যে গাছটি সম্পর্কে তারাও জেনেছেন।

কো-সুপারভাইজার থাকতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টাওয়ার ভবনের একটি ফ্ল্যাটে, গাছটি থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে। এরপর শুরু হয় তালিপামের ফুল, অপরিপক্ক ও পরিণত ফল নিয়ে পিএইচডি কোর্সের গবেষণার কাজ।’

ড. আখতারুজ্জামান জানান, গবেষণার জন্য প্রতি সপ্তাহে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছটি কাছে গিয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। ২০১০ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে একদিন ভোরে গাছের নিচে গিয়ে দেখেন চার-পাঁচটার মতো বীজ পড়েছে মাটিতে। সেগুলো অঙ্কুরোদগমের জন্য বাসার বারান্দায় টবে রোপন করেন।

তিনি আরও জানান, এরপর থেকে প্রায় এক হাজারের মতো বীজ সংগ্রহ করে ৫০০ বীজ রেখে দেন গবেষণার জন্য। এ ছাড়া অঙ্কুরোদগমের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের মেডিসিনাল প্ল্যান্ট গার্ডেনে ৩০০ এবং বাকি ২০০ বীজ দেন আজিমপুর কোয়ার্টারের নিচে। টবে দেয়ার দুই-আড়াই মাসের মধ্যে বীজগুলো থেকে অঙ্কুরোদগম হয়।

৯০ বছর আগেই কি ফুটল ‘মারণ ফুল’

চারাগুলো আট-দশ ইঞ্চি হয়ে গেলে সিদ্ধান্ত নেন সেগুলো দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেবেন, যাতে বৃক্ষটি যথাযথ সংরক্ষিত হয় এবং শত বছর পর ২১১০ সালের দিকে যখন ফুল-ফল আসবে তখন ভবিষ্যৎ গবেষকরা যেন বৃক্ষটি নিয়ে ব্যাপকভাবে গবেষণা করতে পারেন।

বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টের মহাপরিচালক আমি ড. মালা খান বলেন, ‘উদ্ভিদ বিজ্ঞান অনুযায়ী, তালিপাম গাছে ১০০ বছর পরে ফুল আসবে, ফল হবে এবং তারপর গাছটি মরে যাবে। এটাই হল তালিপামের চরিত্র সম্পর্কে এ পর্যন্ত মানুষের কাছে জানা তথ্য। অথচ অত্যন্ত আশ্চর্যের সাথে আমরা লক্ষ্য করছি যে ১০ থেকে ১১ বছরের মাঝামাঝি সময়ে এ গাছে ফুল ফুটেছে। আমরা আশা করব, আগামী এক বছরের মধ্যে এটাতে নিয়ম অনুযায়ী ফলও আসবে।

‘এই আশ্চর্যজনক ঘটনার কারণেই বাংলাদেশ বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান এখানে এসেছে। সাধারণ তালিপামের বৈশিষ্ট্য থেকে বের হয়ে এসে ১০০ বছরের আগে এটিতে ইমম্যাচিউর অবস্থায় কেন ফুল আসল; এর পরিণতি কোন দিকে যাচ্ছে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এবং বায়োটেকনোলজি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের প্রণব চক্রবর্তীসহ বিজ্ঞানীদের যে দল এই মুহূর্তে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম তালিপামের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য। এটি হলে আমরা জানতে পারতাম, সাধারণ তালগাছের সাথে এই তালিপামের পার্থক্যটা কোথায়।

‘কেন এটা ১০০ বছর পরে ফুল দিচ্ছে, কেন ১০০ বছর পরে ফুল-ফল দেয়ার পরে সেটা আবার মরেও যাচ্ছে। এই গবেষণার মাঠ পর্যায়ে এসে আমরা এ রকম একটি তথ্য পেলাম, এখন আমাদের গবেষণার মাত্রাটা আরও গভীর হবে।’

সারা দেশে এখন ১০০টি তালিপাম গাছ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ পামের সাথে তালিপামের পার্থক্য জানতে বাকি ৯৯টা গাছ পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। একটা গাছের মধ্যে পরিবর্তন দেখা গেছে, এখন বাকি ৯৯টা গাছের মধ্যে এ ধরনের পরিবর্তন আসছে কি না।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি বলেন, ‘তালিপাম বৃক্ষ আমাদের পূর্ববর্তী জেলা প্রশাসক মরহুম এম বজলুল করিম চৌধুরী এখানে রোপন করেছিলেন। আমরা এ গাছটি দেখাশোনা করছি। শত বৎসর পরে এই গাছে ফুল ফুটে গাছটি মারা যাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে কয়েক বছরের মধ্যেই ফুল ফুটেছে।’

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন

‘পবিত্রতা রক্ষায়’ পাখিরা নিরাশ্রয়

‘পবিত্রতা রক্ষায়’ পাখিরা নিরাশ্রয়

আখড়ার গাছ থেকে পড়ে মৃত পাখি। ছবি: নিউজবাংলা

আখড়ার পুরোহিত গৌরাঙ্গ বৈষ্ণব গোসাই বলেন, ‘আমি মন্দির ও আখড়ার জন্য এসব করেছি। এর জন্য যদি আমাকে পুলিশে দেয়া হয়, তাও আমি মেনে নেব।’

সুনামগঞ্জের শাল্লায় প্রায় চার একর জমির ওপর আছে বৈরাগীবাড়ির নয়ন গোসাই আখড়া। শাল্লার প্রত্যন্ত অঞ্চল মামুদনগর গ্রামের এই আখড়ার গাছে গাছে বাসা বেঁধেছে বক, পানকৌড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

আখড়ার গাছ কাটা নিয়ে এর গোসাইদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের হয়েছে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি।

গোসাইদের দাবি, পাখির মলমূত্রে তারা আখড়া পরিষ্কার রাখতে পারছেন না। সে কারণে ডালপালা ছেঁটে পাখি তাড়াতে চান। এদিকে স্থানীয় লোকজন চান, পাখিগুলো আশ্রয়হীন হয়ে না পড়ুক।

স্থানীয় লোকজন জানান, প্রতি দুই বছর পরপর আখড়ার গাছের ডালপালা কাটা হয়। এগুলো বিক্রি করা টাকা আখড়ার উন্নয়ন ও মাছ চাষে ব্যয় করা হয়। এবার তিন বছর পর সোমবার গাছের ডালপালা কাটা শুরু হলে পাখির বাসা ভেঙে ছানা ও ডিম মাটিতে পড়ে যায়। ৬০০ পাখি আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।

পাখিদের কিচিরমিচির বেড়ে গেলে স্থানীয়রা এসে বাধা দেন। একপর্যায়ে আখড়ার কর্মীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি শুরু হয়।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে কয়েক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেনকে এটি জানান। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-মুক্তাদির হোসেনকে গাছ কাটা বন্ধ করতে নির্দেশ দেন।

মামুদনগর গ্রামের রাজ্জাক আহমদ নিউজবাংলাকে জানান, সোমবার আখড়ার কাজটি ভালো হয়নি। পাখির বাচ্চা মাটিতে পড়তে থাকলে কেউ কেউ কুড়িয়ে নিয়ে গেছে, কেউ টাকা দিয়ে কিনেও নিয়েছে। তারা বাধা দিলেও শোনা হয়নি।

‘পবিত্রতা রক্ষায়’ পাখিরা নিরাশ্রয়
কেউ কেউ কুড়িয়ে নিয়ে যায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়া পাখি

স্থানীয় আরেক ব্যক্তি জানান, ৫০০ থেকে ৬০০ পাখির বাসা তারা ভেঙেছে। গাছে বক আর পানকৌড়িই বেশি ছিল।

এ বিষয়ে আখড়ার পুরোহিত গৌরাঙ্গ বৈষ্ণব গোসাই বলেন, ‘আমি ধর্মের কাজ করি এখানে। মিথ্যা কিছু বলব না। আমি নিজেই এখানে পাখিদের থাকার ব্যবস্থা করেছি। যেহেতু এটি পবিত্র স্থান, আমাদেরও সব সময় পবিত্র থাকতে হয়। পাখিদের বিষ্ঠা, পালক জায়গাটা অপবিত্র করছে।

‘আখড়ার পূর্ব দিকে বাতাস আসার যে জায়গা, সেখান দিয়ে বিষ্ঠা শুকিয়ে আখড়ার ভেতরে চলে আসে। আমি অনেকবার চেষ্টা করেছিলাম পাখিগুলোকে এখান থেকে সরানোর কিন্তু যায়নি। বাধ্য হয়েই এই কাজ করতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মন্দির ও আখড়ার জন্য এসব করেছি। এর জন্য যদি আমাকে পুলিশে দেয়া হয়, তাও আমি মেনে নেব।

‘আমি মাত্র পাঁচটি গাছ কাটছি। তার মধ্যে দুইটায় পাখির বাসা ছিল, এগুলো ভেঙে গেছে। বিষয়টি অনেক বাড়িয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’

এ ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘পাখিরা ধর্মীয় স্থানে শান্তির খোঁজেই হয়তো বাসা বেঁধেছিল। তাদের সঙ্গে যা হয়েছে এটি অন্যায়। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর এলে আমরা গাছপালা কাটা বন্ধ রাখা নির্দেশ দিই। পাখিদের যেন কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয় সে জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

‘যদিও জায়গাটি ব্যক্তিগত, তবু আমরা নির্দেশনা দিয়েছি যেন আর গাছ না কাটা হয়।’

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন

চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

চীনের ঝেংঝৌতে বন্যার পানির তোড়ে উল্টেপাল্টে পড়ে আছে গাড়ি। ছবি: এএফপি

১৭ জুলাই থেকে মাত্র তিন দিনে ৬১৭ দশমিক ১ মিলিমিটার বা ২৪ দশমিক ৩ ইঞ্চি বৃষ্টি রেকর্ড করে ঝেংঝৌ। শহরটিতে বার্ষিক গড় বৃষ্টি ৬৪০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বা ২৫ দশমিক ২ ইঞ্চি। গত এক হাজার বছরে চীনে এত বৃষ্টি আর হয়নি বলে সে সময় জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হেনান প্রদেশে গত মাসের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০২ জনে, যা গত সপ্তাহে হালনাগাদকৃত তথ্যের প্রায় তিন গুণ বেশি। এখনও নিখোঁজ অর্ধশতাধিক মানুষ।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বন্যায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত প্রাদেশিক রাজধানী ঝেংঝৌ। শহরটিতে বন্যায় মারা গেছে কমপক্ষে ২৯২ জন, নিখোঁজ ৪৭ জন। প্রদেশের অন্যান্য শহরে নিখোঁজ আরও তিনজন।

স্থানীয় সরকার সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, সোয়া এক কোটি বাসিন্দার শহর ঝেংঝৌতে অন্যান্য সময়ে সারা বছরে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, জুলাইয়ে মাত্র তিন দিনেই সে পরিমাণ বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে সেখানে।

১৭ জুলাই থেকে মাত্র তিন দিনে ৬১৭ দশমিক ১ মিলিমিটার বা ২৪ দশমিক ৩ ইঞ্চি বৃষ্টি রেকর্ড করে ঝেংঝৌ। শহরটিতে বার্ষিক গড় বৃষ্টি ৬৪০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বা ২৫ দশমিক ২ ইঞ্চি।

গত এক হাজার বছরে চীনে এত বৃষ্টি আর হয়নি বলে সে সময় জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় পাতাল রেল, মাটির নিচে গাড়ি পার্কিং এলাকা আর সুড়ঙ্গ সড়ক ডুবে যায় পানিতে। আটকা পড়ে কয়েক হাজার মানুষ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে ডুবে যাওয়া রাস্তাঘাট, বন্যার পানির তোড়ে ভেসে আসা ধ্বংসস্তূপ, আর সাবওয়ে স্টেশনে গলা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকার দৃশ্য দেখা গেছে।

মেয়র হৌ হং সাংবাদিকদের জানান, গাড়িং পার্কিংসহ বিভিন্ন বেজমেন্ট থেকে ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাতাল রেলে পানিতে আটকে প্রাণ গেছে ১৪ জনের।

কিছুদিন আগে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লুওইয়াং শহরে একটি বাঁধ বন্যায় ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় সেনা মোতায়েন করা হয় সেখানে। বাঁধটিতে ৬৫ ফুট দীর্ঘ ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।

অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরাসহ সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতাকে দায়ী করেছেন পরিবেশবিদরা।

গত দুই সপ্তাহে বিরূপ আবহাওয়ার সাক্ষী হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল। ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চল, এশিয়ায় চীন, ভারত, আফগানিস্তান, আফ্রিকায় নাইজার বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দাবদাহ ও দাবানলে বিপর্যস্ত উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ।

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন

৫০ বছর পর জোয়ার বৈরাগীতে

৫০ বছর পর জোয়ার বৈরাগীতে

গোপালগঞ্জ শহরের বৈরাগীর খালটি সংস্কারের পর জোয়ারের পানি ঢুকেছে। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় থানাপাড়া এলাকায় খালের ওপর দিয়ে একটি রাস্তা তৈরি করায় মধুমতী নদীর সঙ্গে সংযোগ বন্ধ হয়ে যায় খালটির। এরপর থেকে খালে আর জোয়ারের পানি প্রবেশ করেনি।

দীর্ঘ ৫০ বছর পর জোয়ারের পানির স্রোত বইছে গোপালগঞ্জ জেলা শহরে প্রবহমান বৈরাগীর খালে। একসময় এই খাল স্থানীয় মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হলেও অযত্ন, অবহেলায় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। এ ছাড়া প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অবৈধ দখলের কারণে খালটি সরু হয়ে যায়।

স্থানীয়দের দীর্ঘ বছরের দাবি পূরণে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে ১ আগস্ট বৈরাগীর খালটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এর আগে রাস্তা কেটে তৈরি করা হয় ব্রিজ, উচ্ছেদ করা হয় অবৈধ স্থাপনাও। পুনর্খনন করে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে বৈরাগীর খাল। জোয়ারের পানির স্রোত বইছে। তা দেখে খুশি খালপাড়ের মানুষ।

বর্তমান চিত্র দেখে বোঝার উপায় নেই যে, ছয় মাস আগে পর্যন্ত বৈরাগীর খালটি দুর্গন্ধ ও ময়লার ভাগাড় ছিল।

স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় থানাপাড়া এলাকায় খালের ওপর দিয়ে একটি রাস্তা তৈরি করায় মধুমতী নদীর সঙ্গে সংযোগ বন্ধ হয়ে যায় খালটির। এরপর থেকে খালে আর জোয়ারের পানি প্রবেশ করেনি।

তাছাড়া প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অবৈধভাবে দখল হতে থাকে খালের পাড়। শহরের বিভিন্ন স্থানের ময়লা আবর্জনা ফেলতে থাকায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ছিল খালপাড়ের মানুষের জীবন। তাই স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে খালটির সংস্কার চাইছিলেন।

জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস হক বলেন, ‘এই খালটিকে ঘিরে শহরের মানুষের দীর্ঘদিনের আশার প্রতিফলন হলো। ৫০ বছর আগে খালটি সচল ছিল। প্রায় দুই দশক ধরে এই খালটি ময়লা আর্বজনার স্তূপে পরিণত হয়। শহরের সমস্ত ময়লা পানি এই খালে এসে পড়ে দুর্গন্ধ ছড়াত। এত বছর পরে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ায় খালটি প্রাণ ফিরে পেয়েছে।’

৫০ বছর পর জোয়ার বৈরাগীতে

দীর্ঘ বছর পর উন্মুক্ত হওয়া এই খালটি যেন পুনরায় অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্যের শিকার না হয় সেদিকে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘের খালটি সংস্কার করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কাজে সহযোগিতা করেছেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা ও পৌরসভার মেয়র। ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করলে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।’

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা জানান, ‘দুর্গন্ধে বৈরাগীর খালের পাশ দিয়ে যাতায়াত করা খুব কষ্টকর ছিল। জনগণের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে খালটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কারের পর খালে নতুন পানি ডুকেছে। সকাল-বিকেল জোয়ার-ভাটার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ দূর হয়েছে। এ ছাড়া খালটি পুনরায় দখল করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন

গোমতীতে ধরা পড়ছে ইলিশ

গোমতীতে ধরা পড়ছে ইলিশ

গোমতী নদীতে জেলেদের জালে দুই-একটা করে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

গোমতী নদীতে ইলিশ পাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মহিউদ্দিন মো. শাহজাহান ভূঁইয়া। তিনি জানান, ইলিশ মূলত সামুদ্রিক মাছ। তবে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় প্রজননের জন্য উজানের পদ্মা, মেঘনাসহ অন্যান্য নদীতে আসে।

খুব সকালে নয়তো গোধূলিবেলায় কুমিল্লার গোমতী নদীতে মাছ শিকার করেন জেলেরা। তাদের জালে ধরা পড়ে বাগদা চিংড়ি, বোয়াল, কালবাউশ, বাইনসহ নানা প্রজাতির মাছ।

কয়েক দিন ধরে গোমতী নদীতে জেলেদের জালে দুই-একটা করে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। এগুলো নদীর পাড় থেকেই কিনে নিচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গোমতী নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলের ডুমুর নামক স্থানে উৎপন্ন হয়ে ১৫০ কিলোমিটার অতিক্রম করে কুমিল্লা সদর উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তারপর গোলাবাড়ী, টিক্কারচর, কাপ্তানবাজার হয়ে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, কোম্পানীগঞ্জ, দাউদকান্দি হয়ে জোয়ারভাটাহীন নদীটি মেঘনার সঙ্গে মিলেছে।

গোমতীর আলেখারচর অংশে শনিবার বিকেলে জেলেদের জালে চিংড়ি কালবাউশের সঙ্গে একটি ইলিশ ধরা পড়ে।

জেলে আবদুর রহিম বলেন, ‘মাজে মইধ্যে দুই একডা ইলিশা মাছ পাই। ইলিশাটি ছোডু। মাঝে মইধ্যে আবার বড়ও ধরা পড়ে। কয়দিন আগে এক কেজি ওজনের একটা পাইছিলাম। আশটে শ (৮০০) টেহায় বেচ্চি।’

গোমতীতে ধরা পড়ছে ইলিশ

গোমতী নদীতে ইলিশ মাছ পাওয়া নিয়ে বিস্মিত নন নদীপাড়ের মানুষ।

নদীটির আদর্শ সদর উপজেলার জালুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিল বলেন, ‘মইধ্যে মইধ্যে এক-দুইডা ইলিশ পাওন যায়। জাউল্লাডি (জেলেরা) জাল দিয়া বেড় দেয়। একটা-দুইডা ইলিশ উডে। এডি আবার মাইনষে বেশি দামে কিন্না লইয়া যায়।’

গোমতী নদীতে ইলিশ পাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মহিউদ্দিন মো. শাহজাহান ভূঁইয়া।

তিনি জানান, ইলিশ মূলত সামুদ্রিক মাছ। তবে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় প্রজননের জন্য উজানের পদ্মা, মেঘনাসহ অন্যান্য নদীতে আসে।

তিনি আরও বলেন, ‘গোমতী নদীটি মেঘনার সঙ্গে মিলেছে। প্রজননের সময় পদ্মা ও মেঘনা হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে দু-চারটে ইলিশ গোমতীতে চলে আসতে পারে। এটা অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা না।’

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন

সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ

সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ

সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, চট্টগ্রাম শহরে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণে সিডিএর অনুমোদন প্রয়োজন। রেল বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেউই সিডিএর কোনো অনুমোদন নেয়নি। কেউ অনুমোদনবিহীন স্থাপনা নির্মাণ করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

হেরিটেজ জোন ঘোষিত সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ তিনি বলেন, সিআরবিতে কেউ অনুমোদনবিহীন স্থাপনা নির্মাণ করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে সিআরবি রক্ষায় আন্দোলনকারী সংগঠন নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বন্ধ করতে সিডিএ চেয়ারম্যানকে লিখিত দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রাম।

সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য প্রফেসর ড. অনুপম সেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল দুপুরে সিডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, কো-চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুচ, সাংবাদিক নেতা মহসীন কাজী, আবৃত্তি শিল্পী রাশেদ হাসান, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, স্বপন মজুমদার, সাংবাদিক শুকলাল দাশ ও আমিনুল ইসলাম মুন্না।

সিডিএর পক্ষ থেকে প্রধান পরিকল্পনাবিদ শাহীন উল ইসলাম খান, জসিম উদ্দিন শাহ্, কেবিএম শাজাহান ও এমআর আজিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, যথাযথ উদ্যোগের অভাবে পৃথিবীর অন্যতম নান্দনিক শহর চট্টগ্রামের সবুজ এলাকা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সিআরবিকে চট্টগ্রামবাসী হৃদয়ে ধারণ করেন। যেকোনো উপায়ে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধ করতে হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, চট্টগ্রাম শহরে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণে সিডিএর অনুমোদন প্রয়োজন। রেল বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেউই সিডিএর কোনো অনুমোদন নেয়নি। সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কেউ অনুমোদনবিহীন স্থাপনা নির্মাণ করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি আমরা অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করব।’

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন

সুন্দরবন বাঁচাতে প্রকল্প, দুর্নীতি ছাড়া বাস্তবায়নের আশা

সুন্দরবন বাঁচাতে প্রকল্প, দুর্নীতি ছাড়া বাস্তবায়নের আশা

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। ছবি: নিউজবাংলা

সুন্দরবন সুরক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১৫৭ কোটি ৮৭ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেয়। ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বন বিভাগ।

সুন্দরবন সুরক্ষায় ১৫৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বন বিভাগ। এতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ সমন্বিত বন ব্যবস্থাপনা কার্যকর হবে। তবে বিপন্ন সুন্দরবন বাঁচাতে পরিকল্পিত ও দুর্নীতিমুক্তভাবে পুরো প্রকল্পের বাস্তবায়ন চায় বৃহত্তর খুলনা সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি।

বন বিভাগ জানায়, প্রকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানুষের আগ্রfসনে সংকটে পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। বিষ দিয়ে মাছ শিকার, নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটন, বন্য প্রাণী নিধন, অবাধে গাছ কাটা ও বনের মধ্য দিয়ে ভারী নৌযান চলাচল করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সুন্দরবন।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক কারণে সুন্দরবনে বেড়েছে পানি ও মাটির লবণাক্ততা। বাড়ছে পলি পড়ার হার ও নদীভাঙন। এতে কমছে বনের প্রধান সম্পদ সুন্দরী গাছ ও ঘন বনের পরিমাণ।

এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সুন্দরবন সুরক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১৫৭ কোটি ৮৭ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেয়। ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বন বিভাগ।

প্রকল্প সূত্র জানায়, অতি গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবেশ সুরক্ষা, পুনরুদ্ধার, স্থায়িত্ব প্রদান, বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বাঘ-মানুষের বিরোধ হ্রাস এবং বন ও বন্য প্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে।

বিদ্যমান অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ সৃষ্টি ও টহল জোরদার করা হবে।

সম্পাদের পরিমাণ নিরূপণ, সব বন্য প্রাণীর সংখ্যা, তাদের আবাস্থল, রোগবালাই ও রক্ষিত এলাকার বৈশিষ্ট্য ও জরিপ, জলজ সম্পদের পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মাটি ও পানির লবণাক্ততা পরীক্ষাসংক্রান্ত জরিপ কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে পরিবীক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সম্পদের টেকসই সরবারহ নিশ্চিতকরণ ও পারমিট সিস্টেম ও পরিচয়পত্র অটোমেশনের মাধ্যমে সেবা সহজ করা হবে।

এ ছাড়া ৩৬১ দশমিক ৪৫ হেক্টর চর বনায়ন, ২২২ দশমিক ২২ হেক্টর প্ল্যান্টিনেশন, ৫০ হেক্টর ব্লক বাগান সৃজনসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ রোপণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কাঠের চাহিদা পূরণ ও সবুজ বেষ্টনী তৈরির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা হবে।

খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে জানান, প্রকল্পটি যুগোপযোগী হয়েছে। যা আসলেই প্রয়োজন ছিল। প্রকল্পটির কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সমন্বিত বন ব্যবস্থাপনা কার্যকর হবে।

তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক ও কমিউনিটি নেতাদের সম্পৃক্ত করা হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক, (সুজন) খুলনার সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘সুন্দরবন সুরক্ষায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ৫০ বছরের মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে। এ ছাড়া সুন্দরবনের আশপাশে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা বন্ধ করতে হবে। ইকো-ট্যুরিজমের উন্নয়ন প্রয়োজন। তাহলেই প্রকৃতপক্ষে সুন্দরবন সুরক্ষা পাবে।’

বৃহত্তর খুলনা সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উজ্জামান বলেন, ‘আগে সুন্দরবন রক্ষায় বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। সেসব প্রকল্প প্রত্যাশিত সুফল বয়ে আনেনি। বর্তমান প্রকল্প গ্রহণ অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। প্রকল্পটি পরিকল্পিত, বিজ্ঞানভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রকল্প তদারকিতে মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে। তাহলে সুন্দরবন সুরক্ষায় সুফল আনা সম্ভব।’

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন