পরিবেশ রক্ষায় বাজেট বরাদ্দ ‘উপেক্ষিত’ দাবি বিশ্লেষকদের

অতিরিক্ত ধুলায় অতিষ্ঠ ঢাকার জনজীবন। ছবি: সাইফুল ইসলাম

পরিবেশ রক্ষায় বাজেট বরাদ্দ ‘উপেক্ষিত’ দাবি বিশ্লেষকদের

পরিবশে-বান্ধব বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর সদিচ্ছা ও আর্থিক বরাদ্দই যথেষ্ট নয়। সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার কঠোর বাস্তবায়নের জন্য দরকার প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর পরিবেশবিরোধী অন্যায় কার্যকলাপ বন্ধ করা। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাকৃতিক পরিবেশের অবনতি রোধ নিয়ে তেমন কিছু বরাদ্দ দেয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সবুজায়নের কথা বললেও পরিবেশ রক্ষায় বাজেট বরাদ্দ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে করছে পরিবেশবাদীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) উদ্যোগে ‘জাতীয় বাজেট: স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ’-শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সভায় এ সব কথা উঠে আসে।

সভায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন আইইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক ড. এ এম জাকির হোসেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সংগঠটির পরিবেশ স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচি কমিটির সদস্য-সচিব গবেষক বিধান চন্দ্র পাল এমন তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পরিবশে-বান্ধব বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর সদিচ্ছা ও আর্থিক বরাদ্দই যথেষ্ট নয়। সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার কঠোর বাস্তবায়নের জন্য দরকার প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর পরিবেশবিরোধী অন্যায় কার্যকলাপ বন্ধ করা। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করতে হবে।

সবার জন্য টিকা নিশ্চিতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটে ৮০ শতাংশ মানুষের টিকা নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে। এটা কত সময় মধ্যে দেয়া হবে, তা উল্লেখ্য নেই। যেহারে টিকা প্রয়োগ করছে, এইভাবে টিকাদান কর্মসূচি চলতে থাকলে আগামী ৫ বছর সময় লাগবে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে। টিকার সংগ্রহ বরাদ্দ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে টিকা নিশ্চিতে সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, ‘করোনাকালে আমরা বঝুতে পেরেছি প্রকৃতিতে বিনিয়োগ হলো সঠিক বিনিয়োগ। এখন দেখার বিষয় আমার সঠিক বিনিয়োগ করছি কি না। এখন প্রকৃতিকে বিনিয়োগ করলে আমার সন্তানরা এর সুফল পাবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বাজেটে যে বরাদ্দ দেয়া সেটা সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে খরচ করতে হবে।’

সীমান্তে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দেশে প্রবেশ করায় সীমান্ত এলাকায় সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। তবে আরও ভয়ের বিষয় সীমান্ত এলাকায় যেভাবে সংক্রমণ বেড়েছে, সেভাবেই স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।’

তিনি আরও বলেন, গ্রিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোবারক হোসেন সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রকাশ করেছেন, সেখানে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় ১০০ শতাংশ মাস্ক ব্যবহার করেছে, সেই সব এলাকায় করোনা সংক্রমণ অনেক কম গেছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই।

অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদ বলেন, পানি, নদী ও সুন্দরবন নিয়ে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে, এ উন্নয়ন প্রকল্পের কারণেই পরিবেশ ও জলুবায়ু ক্ষতি হচ্ছে। যে উন্নয়ন প্রকল্প পরিবেশ ক্ষতি করে, এসব প্রকল্প বন্ধ কারার দাবি তোলেন তিনি।

পানি ও বায়ুদূষণ বন্ধ এবং বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য উদ্যোগ নেয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সরকারকে তেমন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে দেখছি না।’

তিনি বলেন, এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার থাকলেও এই খাতে সরকারের অবহেলার কারণে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের সার্বিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের জন্য ক্ষতিকর এমন প্রকল্পে যদি বাজেটে বরাদ্দ বাড়ে, তাহলে জনগণের এই বরাদ্দ জনগণের কাজে আসে না। দেশে কিছুসংখ্যাক মানুষের সুবিধার্থে বাজেট বরাদ্দ বাড়ছে। দেশে প্রতিবছর বায়ুদূষণের কারণে দুই লাখের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। বায়ুদুষণ প্রতিরোধে সরকারকে কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ধানি জমিতে ছিল ১২ ফুট লম্বা অজগরটি

ধানি জমিতে ছিল ১২ ফুট লম্বা অজগরটি

চা-শ্রমিকদের হাতে আটক অজগরটি। ছবি: নিউজবাংলা

লাউয়াছড়া রেঞ্জ কমর্কতা শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে অজগর সাপটি উদ্ধারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘কুরমা চা-বাগানের কুরঞ্জী গ্রামে চা-শ্রমিকদের হাতে আটক ১২ ফুট লম্বা অজগর সাপটিকে রাতেই উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় লাউয়াছড়ার রেসকিউ সেন্টারে। আমাদের ধারণা সাপটি ১০-১২ কেজি ওজনের একটি ছাগল খেয়েছে। সেটা হজমের জন্য কিছুদিন সময় দিতে হবে।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুরে প্রায় ১২ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ আটক করেছেন স্থানীয় লোকজন, পরে বনভিাগ তা উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

গত সোমবার রাত ৮টায় উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা-বাগানের কুরঞ্জী এলাকার ধানি জমি থেকে এই অজগর সাপ আটক করেন স্থানীয় চা-শ্রমিকরা। পরে লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লোকজন রাত ১০ টায় অজগরটি উদ্ধার করে নিয়ে আসে লাউয়াছড়ার রেসকিউ সেন্টারে।

এলাকাবাসী কালাম মিয়া নিউজবাংলাকে জানান, উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের আওতাধীন কুরমা বিটের কুরমা চা-বাগানের কুরঞ্জী এলাকার ধানি জমিতে সাপ দেখতে পান স্থানীয় চা শ্রমিকরা। তখন তারা অজগরটির পেটের ভিতরে বড় কিছু একটার অস্তিত্ব লক্ষ্য করেন । তাদের ধারণা বড় কোনো প্রাণী খেয়ে ফেলায় অজগরটি পালাতে পারেনি। ফলে চা-শ্রমিকরা অজগরটিকে খুব সহজেই আটক করতে সক্ষম হন।

অজগর আটকের খবর স্থানীয় কুরমা বিট অফিস জানতে পেরে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে খবর দেয়। সেখানকার কর্মকর্তারা সোমবার রাত ১০টায় অজগরটিকে উদ্ধার করে লাউয়াছড়ার রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যান।

লাউয়াছড়া রেঞ্জ কমর্কতা শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে অজগর সাপটি উদ্ধারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘কুরমা চা-বাগানের কুরঞ্জী গ্রামে চা-শ্রমিকদের হাতে আটক ১২ ফুট লম্বা অজগর সাপটিকে রাতেই উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় লাউয়াছড়ার রেসকিউ সেন্টারে।

‘আমাদের ধারণা সাপটি ১০-১২ কেজি ওজনের একটি ছাগল খেয়েছে। সেটা হজমের জন্য কিছুদিন সময় দিতে হবে। তা ছাড়া সাপটির লেজে কিছুটা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সাপটি বর্তমানে কিছুটা অসুস্থ। তাই কিছুদিন সাপটিকে লাউয়াছড়ার রেসকিউ সেন্টারে রেখে সুস্থ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করব।’

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন

দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনুকরণীয়

দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনুকরণীয়

গণভবনে মঙ্গলবার সকালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্মারকগ্রন্থ ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বঙ্গবন্ধু’র মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আমরা কিন্তু এ দেশের মানুষকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করবার মতো আত্মবিশ্বাস আমরা পেয়েছি এবং পরিকল্পনা করার যে উদ্যোগ, সেটাও আমরা করতে পেরেছি। এটা আমাদের জন্য শুধু না, বিশ্বের যেকোনো দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জন্য অনুকরণীয়।’

বিশ্বের যেকোনো দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জন্য বাংলাদেশ অনুকরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গণভবনে মঙ্গলবার সকালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্মারকগ্রন্থ ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বঙ্গবন্ধু’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কীভাবে ঘূর্ণিঝড়ে মানুষের জানমালের ক্ষতি কমানো যায়, কীভাবে মানুষকে বাঁচানো যায়, শুধু মানুষ না, তাদের গৃহপালিত পশুপাখি বা সাধারণ পশুপাখি তারাও কীভাবে বাঁচতে পারে, সে চিন্তাভাবনা থেকে তিনি অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা আমাদের জন্য একটা মাইলফলক।

‘জাতির পিতার সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আমরা কিন্তু এ দেশের মানুষকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করবার মতো আত্মবিশ্বাস আমরা পেয়েছি এবং পরিকল্পনা করার যে উদ্যোগ, সেটাও আমরা করতে পেরেছি। এটা আমাদের জন্য শুধু না, বিশ্বের যেকোনো দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জন্য অনুকরণীয়।’

সুনির্দিষ্ট দিকদর্শন থাকার কারণেই টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট তথা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কিন্তু এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বাস্তবায়নে আমরা যে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিয়েছি এবং এসডিজি বাস্তবায়নে তিনটি অন্যতম দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে।

‘আমাদের সুষ্ঠু পরিকল্পনা, সুনির্দিষ্ট দিকদর্শন আছে। আমরা পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছি বলেই এটা অর্জন সম্ভব হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা

জাফলংয়ের জলে দাপাদাপি করতে করতে পাহাড় আর মেঘের এই মিতালি তো কেবল বর্ষাকালেই দেখা মেলে। ছবি: হাসান মোরশেদ

বর্ষায় এখানকার হাওরগুলো, বিশেষত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর এক আশ্চর্য সুন্দর রূপ নেয়। শুকিয়ে যাওয়া হাওরের চারদিকে থইথই করে পানি। একেবারে আদিগন্ত বিস্তৃত যাকে বলে। পানির মধ্যেই গলা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে সারি সারি হিজল-করচ। দূরে, আরও দূরে পানির সঙ্গে মিশে যায় আকাশ। কখনো বা সূর্য ঝুলে থাকে হিজলের ডালে।

মাত্র শেষ হওয়া বৃষ্টিতে স্নান সেরে নিয়েছে সড়কের পাশের উঁচু পাহাড়টি। গাছগুলো এখন আরও সবুজ; আরও সতেজ।

পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে আছে মেঘ। কার্পাস তুলোর মতো সাদা মেঘের দল পাহাড়ের পুরো গায়ে চুমু খেতে খেতে ঘুরে বেড়াচ্ছে উত্তর থেকে দক্ষিণে।

প্রেমের এই সুখ যেন সহ্য হচ্ছে না পাহাড়টির। তার চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে এদিকসেদিক।

পাহাড়ের চোখের জলকে কী নামে ডাকা হয়, তা অনেক আগেই গানে গানে বলে গেছেন সুবীর নন্দী: ‘পাহাড়ের কান্না দেখে তোমরা তাকে ঝরনা বলো।’

সিলেট-তামাবিল সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়ল মেঘ-পাহাড়ের অভিসারের এমন স্বর্গীয় সৌন্দর্যের। এই সড়ক দিয়েই যেতে হয় সিলেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ে।

এই সড়কের পাশেই খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়। পাহাড়টির অবস্থান অবশ্য সীমান্তের ওপারে, ভারতের মেঘালয়ে। তবে সিলেট থেকেই দেখা যায় এর পূর্ণ অবয়ব।

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা
ছবি: হাসান মোরশেদ

এই সড়ক দিয়ে জৈন্তাপুর পার হলে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে পাহাড়ের বিশাল শরীরের অনেকটা। মনে হয়, এই তো হাতের কাছেই পাহাড়, দুই কদম এগোলেই যা ছুঁয়ে দেখা যাবে। কাঁটাতারের জঞ্জালের কারণে ছোঁয়া যায় না যদিও।

তাতে অবশ্য একদিকে ভালোই হয়েছে। এখানকার পাহাড়-টিলা কেটে যেভাবে সাবাড় করে ফেলা হয়েছে, তাতে ধরতে পারলে এটিরও যে ঘাড় মটকে দেয়া হতো না, সে নিশ্চয়তা কে দিতে পারে!

বর্ষায় এই পাহাড়টি মোহনীয় রূপ নেয়। ছোট-বড় অসংখ্য ঝরনা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। চাইলে দুয়েকটি ঝরনার জলে গা-ও ভিজিয়ে নেয়া যায়। আর বৃষ্টি থামার খানিক পরে গেলে তো কথাই নেই। দেখা মিলবে পাহাড়ের গায়ে মেঘের খেলা করার সুন্দরতম দৃশ্য।

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা

হাদারপাড়ার বাজার থেকে ইঞ্জিন নৌকা করে সিলেটের আরেক পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দিতে যাওয়ার সময়ও দেখা মেলে এমন দৃশ্যের। পাহাড়টা একই আছে। মেঘগুলো বদলে গেছে কেবল। দৃশ্যপটও কিছুটা বদলেছে।

এখানে সড়কের পাশে নয়, পাহাড়ের অবস্থান নদী আর ধানক্ষেতের গা-ঘেঁষে। বিছনাকান্দি অথবা সাদাপাথরের জলের বিছানায় শুয়ে কিংবা জাফলং বা পাংথুমাইয়ে ঝরনার জলে দাপাদাপি করতে করতে পাহাড় আর মেঘের এই মিতালি তো কেবল বর্ষাকালেই দেখা মেলে।

বুদ্ধদেব বসুর অনুবাদে বোঁদলেয়ারের সেই কবিতা তো অনেকেই পড়েছেন, ‘…বলো তবে, অদ্ভুত অচেনা মানুষ, কি ভালোবাসো তুমি?/ আমি ভালোবাসি মেঘ…চলিষ্ণু মেঘ…ওই উঁচুতে…ওই উঁচুতে…/ আমি ভালোবাসি আশ্চর্য মেঘদল!’

এমন বর্ষায়, এই পাহাড়ের পাদদেশে এসে, চলিষ্ণু মেঘদলকে ভালো না বেসে উপায় আছে!

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা
ছবি: হাসান মোরশেদ

শুধু এই পাহাড় আর মেঘদলের কথা বলা কেন, বর্ষায় পুরো সিলেটই তো এমন। পর্যটক আকর্ষণের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে সিলেটকে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে ‘প্রকৃতি কন্যা’ নামে।

সিলেট যেন প্রকৃতির সেই সুন্দরী কন্যা, বৃষ্টির স্পর্শ যাকে আরও মোহনীয়, আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। ফলে বর্ষাকালেই সিলেট ফুটে ওঠে তার পূর্ণ রূপে, পূর্ণ যৌবনে।

সাধারণ শীত মৌসুমকেই দেশে পর্যটন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এই সময়েই পর্যটকরা ঘোরাঘুরি করেন বেশি। তবে সিলেট যেন বর্ষাসুন্দরী। শীত-বসন্তের ধূলি-ধূসর আর রুক্ষতা সরিয়ে বর্ষায় নবপ্রাণে জেগে ওঠে এখানকার প্রকৃতি।

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা
ছবি: হাসান মোরশেদ

গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, শুকিয়ে যাওয়া নদী-হাওর পানিতে টইটম্বুর হয়ে ওঠে। পাহাড়ে দৃশ্যমান হয় ঝরনা। জলে ভাসে রাতারগুল, হাওরে হিজল। আর বৃষ্টির ছোঁয়া পেয়ে চা-বাগানগুলো হয়ে ওঠে আরও ঘ্রাণময়, আরও সবুজ। এই পাহাড়, হাওর, বন, চা-বাগান, এসব নিয়েই তো সিলেট এবং এই বৃষ্টি-বর্ষা নিয়েও।

বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল অঞ্চল মেঘালয়ের মওসিন্রামের পাশে সিলেটের অবস্থান। ফলে সারা বছরই এই অঞ্চলে বৃষ্টি থাকে। আর বর্ষা মৌসুমে তো কথাই নেই। দিন-রাতভর চলতেই থাকে ধারাপাত। এতে নাগরিক জীবনে কিছু বিপত্তিও আসে বটে।

সড়কে জল জমে। ভাঙা সড়কে কাদা হয়। যখন-তখন আসা বৃষ্টিতে ভিজে জবুথবু হতে হয় কর্মব্যস্ত নগরবাসীকে।

বর্ষার নাগরিক এই জঞ্জালের চিত্র দারুণভাবে তুলে ধরেছিলেন সুকুমার রায়, ‘আপিসের বাবুদের মুখে নাই ফুর্তি/ ছাতা কাঁধে জুতা হাতে ভ্যাবাচ্যাকা মূর্তি/ কোনখানে হাঁটু জল, কোথা ঘন কর্দম/ চলিতে পিছল পথে পড়ে লোকে হর্দম।’

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা
ছবি: মোসাইদ রাহাত

তবে নাগরিকদের এসব বিপত্তি নিয়ে ভাবতে প্রকৃতির বয়েই গেছে। প্রকৃতিতে তো তখন নবযৌবনের উচ্ছ্বাস।

বর্ষায় এখানকার হাওরগুলো, বিশেষত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর এক আশ্চর্য সুন্দর রূপ নেয়। শুকিয়ে যাওয়া হাওরের চারদিকে থইথই করে পানি। একেবারে আদিগন্ত বিস্তৃত যাকে বলে।

পানির মধ্যেই গলা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে সারি সারি হিজল-করচ। দূরে, আরও দূরে পানির সঙ্গে মিশে যায় আকাশ। কখনো বা সূর্য ঝুলে থাকে হিজলের ডালে।

হাওরের মধ্যে ছোট ছোট দ্বীপের মতো একেকটা জনবসতি। দেখলে মনে হবে পানির মধ্যে ভেসে বেড়াচ্ছে এগুলো। আর জেলেরা সত্যি সত্যিই ভেসে ভেসে মাছ শিকার করে চলছেন। কেউ জাল দিয়ে, কেউ বড়শি, কেউ বা অন্য কিছু দিয়ে।

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা
ছবি: তানভীর রুহেল

হাওরে ভাসতে ভাসতে লাউড়ের গড়, বারেকের টিলা, শহীদ সিরাজ লেক- এসব দিকে চলে গেলে আবার বিশাল দেহ নিয়ে কাছে এসে দাঁড়াবে সেই পাহাড় আর তার গায়ে খেলা করা মেঘদল।

প্রকৃতির এমন সুবিন্যস্ত সুন্দর রূপ দেখেই হয়তো এই অঞ্চলের এক উদাসী রাজা একদিন গেয়ে উঠেছিলেন, ‘আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপ, আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপ রে/আরে দিলের চক্ষে চাহিয়া দেখ বন্ধুয়ার স্বরূপ রে।’

বর্ষায় বেশ দুর্ভোগও পোহাতে হয় হাওরপারের মানুষদের। শান্ত-স্থির হাওরেও হঠাৎ ঢেউ ওঠে। ভয়ংকর সব ঢেউ, স্থানীয় ভাষায় যাকে ‘আফাল’ বলে। এর ধাক্কায় ভেঙে পড়ে হাওরপারের জনবসতি। তীব্র হয়ে ওঠে ভাঙন।

কখনো বা তীব্র ঝড় উড়িয়ে নিয়ে যায় ঘরের চালের টিন, মাটির বেড়া। আর বন্যা দেখা দিলে তো দুর্ভোগ সীমা ছাড়িয়ে যায়।

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা
ছবি: হাসান মোরশেদ

মানুষের এসব দুর্ভোগ, উপদ্রব সত্ত্বেও বর্ষা আসে প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের আহ্বান নিয়ে। এই সময় মাছেরা উজায়। নতুন পোনা ছাড়ে। বীজ থেকে নতুন গাছ জন্মায়। অঙ্কুরোদগম হয়। প্রকৃতিতে যেন বর্ষার আহ্বান- প্রাণের সঞ্চার করো।

সিলেট ছাড়া আর কোথায় গেলে এমন স্পষ্ট করে বোঝা যাবে বর্ষার এই আহ্বান? পাহাড়, নদী, ঝরনা, অরণ্য, হাওর—প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্য আর কোথায়ই বা আছে?

আচ্ছা, মানুষের জন্যও কি এই আহ্বান নিয়ে আসে বর্ষা? মিলনের, প্রাণসঞ্চারের? হবে হয়তো। না হলে রবীন্দ্রনাথের কেন মনে হবে, ‘এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়।’

কেন বর্ষায়ই ‘তারে’ বলতে হবে, কেন অন্য ঋতুতে নয়?

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন

বনে ফিরল লোকালয়ে পাওয়া অজগর

বনে ফিরল লোকালয়ে পাওয়া অজগর

সেভ দ্য অ্যানিমেলস অফ সুসংয়ের সভাপতি রিফাত আহমেদ জানান, সাপটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৫ ফুট, ছোট আকারের। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাড়ির পাশের সোমেশ্বরী নদীতে গারো পাহাড় থেকে সাপটি ভেসে আসে। পরে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসে।

নেত্রকোণার দুর্গাপুর পৌর শহরে লোকালয়ে ঢুকে পড়া একটি অজগর সাপকে উদ্ধার করে গারো পাহাড়ের একটি বনে অবমুক্ত করেছে সেভ দ্য অ্যানিমেলস অফ সুসং নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা।

দুর্গাপুরের গারো পাহাড়ের গ্রাম নলুয়াপাড়ার বনে শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়। নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের সভাপতি রিফাত আহমেদ রাসেল।

তিনি জানান, পৌর শহররে চরমোক্তারপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল হালিমের বাসা থেকে শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে অজগরটিকে উদ্ধার করেন তারা।

রিফাত আরও জানান, আব্দুল হালিমের বাড়ির টিনের বেড়ার বাঁশের খুঁটিতে অজগরটিকে পেঁচিয়ে থাকতে দেখা যায়। সাপটিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলার চেষ্টা করে কয়েকজন। এলাকাবাসী তাদের (রিফাতদের সংগঠন) জানালে সংগঠনের সদস্যরা অজগরটিকে উদ্ধার করেন।

সাপটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৫ ফুট, ছোট আকারের। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাড়ির পাশের সোমেশ্বরী নদীতে গারো পাহাড় থেকে সাপটি ভেসে আসে। পরে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসে। বিষয়টি দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয় বলে জানান রিফাত।

ইউএনও রাজিব উল আহসান বলেন, ‘স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য অ্যানিমেলস অফ সুসংয়ের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি একটি অজগর ধরা পড়েছে । পরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে সংগঠনের সদস্যদের কাছে পরিচর্যার জন্য রেখে দেয়া হয়। তাদের নির্দেশ দেয়া হয় দুপুরের মধ্যে সাপটিকে অবমুক্ত করতে।’

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন

জানালার পাশে চুপচাপ বৃষ্টি দেখার দিন আজ ঢাকায়

জানালার পাশে চুপচাপ বৃষ্টি দেখার দিন আজ ঢাকায়

রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে আয়েশি সময় কাটছে অনেকের। ছবি: নিউজবাংলা

ছুটির আয়েশি দিনে তাই বেশির ভাগ মানুষের সময় কাটছে ঘরের ভেতরে। উপভোগ করছেন বর্ষার নান্দনিক রূপ। আবহাওয়া অফিস বলছে, এমন বৃষ্টি চলতে পারে আরও একদুই দিন। সেই সঙ্গে ভারী বর্ষণ হতে পারে দেশের চারটি বিভাগে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন, অফিসে ছোটার তাড়া নেই। তার মধ্যে ভোর থেকে ঢাকায় ঝরছে বৃষ্টি। একটানা এই বর্ষণ কখনও খানিকটা ভারী, কখনও মাঝারি, আবার কখনও মৃদুমন্দ। বুধবার আষাঢ় শুরুর পর এই প্রথম দিনভর টানা বৃষ্টিতে ভিজছে রাজধানী।

ছুটির আয়েশি দিনে তাই বেশির ভাগ মানুষের সময় কাটছে ঘরের ভেতরে। উপভোগ করছেন বর্ষার নান্দনিক রূপ।

আবহাওয়া অফিস বলছে, এমন বৃষ্টি চলতে পারে আরও একদুই দিন। সেই সঙ্গে ভারী বর্ষণ হতে পারে দেশের চারটি বিভাগে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, এমন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আরও একদিন স্থায়ী হবে। এরপর কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে সারা দেশেই এখন কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। আরও দুদিন এমন বৃষ্টি হওয়ার পর আবার একটু কমতে থাকবে। তারপর আবার আষাঢ়ের রূপ ফিরতে থাকবে নগরে।’

ঢাকায় সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশেই হচ্ছে বৃষ্টি। সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে ঈশ্বরদীতে ১৬৪ মিলিমিটার।

এ বছর গত ৩০ বছরের গড় বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এবার আমরা যেমন বৃষ্টি আগে থেকে আশা করেছিলাম সেটি পাব। গড় বৃষ্টিপাত ৪৩৫ মিলিমিটারের বেশি বা কাছাকাছি থাকতে পারে। আষাঢ়ে এমন বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।’

জানালার পাশে চুপচাপ বৃষ্টি দেখার দিন আজ ঢাকায়

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন

‘টিউ’র মায়ার জালে বন্দি তারা

‘টিউ’র মায়ার জালে বন্দি তারা

দেলোয়ারা বুলবুলি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের একাকী সময়; আমরা হরিণশাবকটির মায়ায় জড়িয়ে পড়েছি। একসময় টিউকে বনে ফিরিয়ে দিতে হবে, এমন ভাবতেই মন ভার হয়ে যায়। অজানা শঙ্কা কাজ করে, টিউ কি ফিরতে পারবে স্বাভাবিক জীবনে? ফিরে পাবে কি ওর মাকে? নাকি কোনো শিকারির খাদ্যে পরিণত হবে টিউ?’

যেন দিনভর দুষ্টুমি করতেই ভালো লাগে তার। এ জন্য দোতলা বাড়ির বারান্দা, পড়ার টেবিল, রান্নাঘর থেকে শুরু করে সব জায়গায়ই অবাধে ঘুরতে থাকে। ছোটাছুটি করতে করতে একটু ক্লান্তি এলে শুয়ে চোখ বুজে ঘুমের ভান ধরে থাকে।

একটু শব্দ হলেই কান খাড়া করে ফেলে। এদিক-সেদিক তাকিয়ে শব্দের উৎস খুঁজতে চেষ্টা করে। কেবল ক্ষুধা পেলেই গৃহকর্ত্রীর কদর বাড়ে তার কাছে। আঁচল কামড়ে পেছনে পেছনে ঘুরঘুর শুরু করে।

একটা পর্যায়ে খাবার প্রস্তুত করে ‘টিউ’ বলে ডাকতেই লাফাতে লাফাতে চলে যায় গৃহকর্ত্রীর কাছে। এরপর সন্তানের মতো খুনসুটি করতে করতে সাবাড় করে বোতলের দুধ।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয় উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল। ২৭ মে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হরিণঘাটা বনাঞ্চল এলাকায় প্রবল জোয়ারে বলেশ্বর নদে ভেসে যাচ্ছিল চিত্রল প্রজাতির এই হরিণশাবকটি।

স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে বিষয়টি বন বিভাগকে জানান। হরিণঘাটা এলাকার বিট কর্মকর্তা কাওসারসহ বন কর্মীরা হরিণশাবকটি উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। শীত আর ভয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল হরিণশাবকটি।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসক খবর দিয়ে তার পরামর্শে চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর বিট কর্মকর্তা কাওসারের হরিণঘাটা বনসংলগ্ন দোতলা সরকারি বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। এখন সেখানেই আছে হরিণশাবকটি।

‘টিউ’র মায়ার জালে বন্দি তারা


বন কর্মকর্তা গোলাম কাওসারের স্ত্রী দেলোয়ারা বুলবুলি সন্তানের মতোই পরম মমতায় লালন-পালন করছেন টিউকে। নিয়মিত ফিডারের দুধ খাওয়াচ্ছেন। টিউও বাধ্য সন্তানের মতো তার কোলে শুয়ে ফিডারের দুধ পান করে। তবে অপরিচিত মানুষ দেখলেই দিগ্বিদিগ ছোটাছুটি শুরু করে, লুকিয়ে পড়ে খাটের নিচে।

দেলোয়ারা বুলবুলি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দুই মেয়ে। বিয়ের পর ওরা মেহেরপুরে শ্বশুরবাড়িতে থাকে। স্বামীর চাকরি সূত্রে আমি থাকি এখানে। আমাদের একাকী সময়; আমরা হরিণশাবকটির মায়ায় জড়িয়ে পড়েছি।

‘একসময় টিউকে বনে ফিরিয়ে দিতে হবে, এমন ভাবতেই মন ভার হয়ে যায়। অজানা শঙ্কা কাজ করে, টিউ কি ফিরতে পারবে স্বাভাবিক জীবনে? ফিরে পাবে কি ওর মাকে? নাকি কোনো শিকারির খাদ্যে পরিণত হবে টিউ?’

পাথরঘাটার হরিণঘাটা রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা গোলাম কাওসার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইয়াসে প্লাবিত হয়ে সুন্দরবন থেকে হরিণশাবকটি ২৭ মে পাথরঘাটার হরিণঘাটা এলাকার বলেশ্বর নদে চলে আসে।

‘টিউ’র মায়ার জালে বন্দি তারা


‘স্থানীয়রা সেটি উদ্ধার করে আমাদের খবর দেন। আমি চিকিৎসা দিয়ে হরণটি নিজের বাসায় রেখেছি। ও একটু বড় হলে বনে ফিরিয়ে দেয়া হবে।’

প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হরিণ

গত ২৬ মে বুধবার সন্ধ্যার দিকে পাথরঘাটার হরিণঘাটা বনাঞ্চল থেকে সাঁতার কেটে একটি হরিণ পশ্চিম চরলাঠিমারা গ্রামে প্রবেশ করে। তবে কুকুরের কামড়ে মারা যায় সেটি।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, গত ২৬ ও ২৭ মে ইয়াসের প্রভাবে সুন্দরবনের কচিখালী অভয়ারণ্য ও দুবলার চর থেকে দুটি এবং শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের তাফালবাড়ি গ্রাম থেকে একটি ও রায়েন্দা ইউনিয়নের রাজেশ্বর গ্রাম থেকে একটি মৃত হরিণ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে দুটি জীবিত হরিণ উদ্ধার করা হয়।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে ৫-৬ ফুট পানি উঠে যায় সুন্দরবনে। পানিতে ডুবে বন্য প্রাণী মারা যায়। ইয়াসের সময় চারটি মৃত ও তিনটি জীবিত হরিণ আমরা উদ্ধার করি।’

উপকূলীয় ইকোফরেস্ট ও ট্যুরিজম নিয়ে কাজ করেন আরিফ রহমান।

‘টিউ’র মায়ার জালে বন্দি তারা


নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে প্রতিবছর বেশ কিছু হরিণ মারা যায়। এর মধ্যে অধিকাংশই হরিণশাবক। জলোচ্ছ্বাসের সময় আশ্রয় নেয়ার জন্য কোনো উঁচু স্থান পায় না বন্য প্রাণীরা। ফলে বানে ভেসে মারা যায়, আবার ভেসে লোকালয়ে চলে এসে শিকারে পরিণত হয়।

আরিফ রহমান বলেন, বন্য প্রাণীকে অবশ্যই দুর্যোগের সময় সুরক্ষা দিতে হবে। এ জন্য ইকোফরেস্টের ভেতরে একাধিক উঁচু ঢিবি করা উচিত। নয়তো বিরল প্রজাতির হরিণ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন বিভাগ পাথরঘাটার রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুল হক বলেন, ‘দুর্যোগের সময়ে যাতে বন্য প্রাণী নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে, তা ভাবার সময় এসেছে। ষাটের দশকে সৃষ্ট হরিণঘাটা বনের প্রাণীর নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করি, শিগগিরই উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন

চাঁদপুরের অজগর, বানর, শকুন যাচ্ছে গাজীপুরে

চাঁদপুরের অজগর, বানর, শকুন যাচ্ছে গাজীপুরে

চাঁদপুর সদরের ফাইভ স্টার পার্কে ছিল একটি অজগর ও তিনটি বানর এবং কৃতিকুঞ্জ তিয়া পার্ক থেকে একটি অজগর, একটি শকুন ও দুইটি বানর উদ্ধার করা হয়। অজগর দুটির ওজন প্রায় ২০০ কেজি। লাইসেন্স ছাড়া পার্ক মালিকরা এই প্রাণীগুলো প্রদর্শনীর জন্য রেখেছিলেন।

চাঁদপুর সদরের দুটি পার্কে অবৈধভাবে রাখা আটটি বন্য প্রাণী জব্দ করেছে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট (ডব্লিউসিসিইউ)। সেগুলো গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে পাঠানো হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

ডব্লিউসিসিইউর পরিদর্শক অসীম মল্লিক এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়নের ফাইভ স্টার শিশু পার্ক ও শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কৃতিকুঞ্জ তিয়া পার্ক থেকে মঙ্গলবার বিকেলে বন্য প্রাণীগুলো জব্দ করা হয়। ওই পার্কের মালিকরা এই প্রাণীগুলো প্রদর্শনীর জন্য অবৈধভাবে রেখেছিলেন।

এর মধ্যে ফাইভ স্টার পার্কে ছিল একটি অজগর ও তিনটি বানর এবং কৃতিকুঞ্জ তিয়া পার্ক থেকে একটি অজগর, একটি শকুন ও দুইটি বানর উদ্ধার করা হয়। অজগর দুটির ওজন প্রায় ২০০ কেজি।

অসীম বলেন, ‘গত ৩ এপ্রিল ফাইভ স্টার পার্কে অভিযান চালাই। সে সময় একটি অজগর ও তিনটি বানর জব্দ করা হয়। সে সময় লকডাউন থাকায় আমরা প্রাণীগুলো পরিবহন করতে পারিনি। তাই তাদের জিম্মায় রেখে দিই। বন্য প্রাণী সংরক্ষণের কোনো ধরনের লাইসেন্স ওই পার্ক মালিকের ছিল না। তাই পার্ক মালিক মো. লিটনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

চাঁদপুরের অজগর, বানর, শকুন যাচ্ছে গাজীপুরে

অসীম জানান, অভিযানের খবর পেয়ে কৃতিকুঞ্জ তিয়া পার্কের মালিক মো. মিজান নিজেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, লাইসেন্সের বিষয়টি না জেনে তিনিও পার্কে বন্য প্রাণী রেখেছেন। তিনি স্বেচ্ছায় বিষয়টি জানিয়েছেন বলে তাকে জরিমানা করা হয়নি।

সে খবর জেনে মঙ্গলবার দুই পার্ক থেকে বন্য প্রাণীগুলো জব্দ করা হয়। অসীম বলেন, সেগুলো এখন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন বিভাগ কার্যালয়ে রাখা আছে। শিগগিরই গাজীপুরের সাফারি পার্কে সেগুলো অবমুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন:
বৃক্ষরোপণে পালিত হলো পরিবেশ দিবস
গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

শেয়ার করুন