বিলুপ্ত প্রজাতির প্যাঁচা উদ্ধার

আহত প্যাঁচার সঙ্গে উদ্ধারকারী সম্রাট। ছবি: নিউজবাংলা

বিলুপ্ত প্রজাতির প্যাঁচা উদ্ধার

মঙ্গলবার রাতে ঝড়বৃষ্টির কবলে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে প্যাঁচাটি কাঁটাবাড়ী এলাকার সম্রাটের বাড়ির উঠানে পড়ে থাকে। বুধবার সকালে একঝাঁক কাক আহত প্যাঁচাটিকে আক্রমণ করে। বিষয়টি দেখে বাড়ির মালিক সম্রাট এগিয়ে এলে কাকের দল তাকেও আক্রমণ করে। পরে তিনি কাকগুলোকে তাড়িয়ে আহত প্যাঁচাটিকে উদ্ধার করে একটি খাঁচায় রাখেন।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিলুপ্ত প্রজাতির একটি প্যাঁচা উদ্ধার করা হয়ছে।

ফুলবাড়ী পৌর এলাকার কাঁটাবাড়ী এলাকা থেকে বুধবার সকালে প্যাঁচাটি উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ঝড়বৃষ্টির কবলে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে প্যাঁচাটি কাঁটাবাড়ী এলাকার সম্রাটের বাড়ির উঠানে পড়ে থাকে। বুধবার সকালে একঝাঁক কাক আহত প্যাঁচাটিকে আক্রমণ করে।

বিষয়টি দেখে বাড়ির মালিক সম্রাট এগিয়ে এলে কাকের দল তাকেও আক্রমণ করে। পরে তিনি কাকগুলোকে তাড়িয়ে আহত প্যাঁচাটিকে উদ্ধার করে একটি খাঁচায় রাখেন।

সম্রাট বলেন, রাতে ঝড়বৃষ্টির সময় আহত হয়ে আমার বাড়ির উঠানে পড়ে ছিল প্যাঁচাটি। সকালে কাকের আওয়াজে আমি এগিয়ে দেখি একটি আহত প্যাঁচাকে কাকগুলো ঠোকরাচ্ছে। পরে প্যাঁচাটি উদ্ধার করতে গেলে কাকের দল আমাকে আক্রমণ করে। তারপর কাকগুলোকে তাড়িয়ে আমি প্যাঁচাটিকে উদ্ধার করে আমার চাচার বাড়িতে খাঁচায় রেখেছি।

সামাজিক বন বিভাগ মধ্যপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন, খাবারের অভাবে হয়তো প্যাঁচাটি শহরে এসে ঝড়বৃষ্টির শিকার হয়েছে। তবে যিনি উদ্ধার করেছেন, তিনি এখনো আমাদের কিছুই জানাননি। প্যাঁচাটি উদ্ধার করতে দ্রুত বন বিভাগের লোক পাঠানো হচ্ছে। উদ্ধার করে প্যাঁচাটিকে চিকিৎসা দেয়া হবে। সুস্থ হলে অবমুক্ত করা হবে।’

আব্দুল হাই জানান, এটা বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্যাঁচা। তবে এটা কোন প্রজাতির প্যাঁচা তা তিনি বলতে পারেননি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বনাঞ্চলে সড়ক-সেতু, ঝুঁকিতে টেংরাগিরি

বনাঞ্চলে সড়ক-সেতু, ঝুঁকিতে টেংরাগিরি

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘পরিকল্পনায় গলদ’ থাকায় এ উদ্যোগ বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংরক্ষিত টেংরাগিরি ইকোপার্কের ভেতরে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে এলজিইডি। এ সড়ক নির্মাণ করতে বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক গাছ কাটা পড়বে।

বরগুনা তালতলীর সোনাকাটা ইউনিয়নে সুন্দরবনের একাংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে বিশাল বনভূমি। বন্য প্রাণীর এ অভয়ারণ্য টেংরাগিরি ইকোপার্ক নামে বেশি পরিচিত।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল টেংরাগিরিতে পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হচ্ছে সড়ক ও সেতু।

তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘পরিকল্পনায় গলদ’ থাকায় এ উদ্যোগ বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারা জানান, সংরক্ষিত টেংরাগিরি ইকোপার্কের ভেতরে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে এলজিইডি। এ সড়ক নির্মাণ করতে বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক গাছ কাটা পড়বে। এ ছাড়া বনের ভেতর যানবাহন ও মানুষের চলাচল অবাধ হলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।

তালতলী উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফকিরহাট ও টেংরাগিরির মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি সরু খাল পার হতে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। দর্শনার্থীরা যেন সহজে বনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন সে জন্য সেতু ও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

বনাঞ্চলে সড়ক-সেতু, ঝুঁকিতে টেংরাগিরি

টেংরাগিরি বন বিভাগের কার্যালয়ের পাশ থেকে সেতু নির্মাণ ও সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বনের ভেতর ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পও হাতে নিয়েছে এলজিইডি। ৭৭ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণব্যয় ধরা হয় ৭ কোটি টাকারও বেশি।

২০২০ সালের শেষের দিকে প্রকল্পটি অনুমোদন হলে ২০২১ সালের শুরুতে নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জুন মাস নাগাদ সেতুর ৬০ ভাগ কাজ হয়েছে।

বন বিভাগ তালতলী রেঞ্জের বন কর্মকতা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সেতু নির্মাণের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করেনি এলজিইডি। এমনকি সেতুর ডিজাইন প্ল্যানও আমাদের সমন্বয়ে করা হয়নি। বনকে সুরক্ষিত রেখে চলাচলের জন্য সেতু প্রয়োজন। কিন্তু এলজিইডির ডিজাইন বনের ক্ষেত্রে জুতসই নয়।

বনাঞ্চলে সড়ক-সেতু, ঝুঁকিতে টেংরাগিরি

‘নতুন নির্মাণ করা সেতুর জন্য অ্যাপ্রোচ সড়ক করতে হবে। আর সে সড়ক নির্মাণের জন্য বনের অনেক গাছ কাটা পড়বে। একইভাবে সেতু নির্মাণের ফলে বনের ভেতর যান চলাচল বাড়বে। এতে বনের জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করলে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সহজ হতো, আবার বনের কোনো ক্ষতি হতো না।’

উপকূলীয় পরিবেশ গবেষক এম জসীম উদ্দীন বলেন, ‘টেংরাগিরি বনটি বিচিত্র প্রাণীর অভয়ারণ্য। বনের ভেতর এমন অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ আমাদের অবাক করেছে। সেতুটির দক্ষিণ প্রান্তে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করতে প্রায় শতাধিক গাছ কেটে ফেলতে হবে, ভাঙতে হবে হরিণ ও বানরের বেষ্টনী।’

‘সেতুটি নির্মাণ হলে বনের ভেতর পাচারকারী চক্র অবাধে প্রবেশ করতে পারবে। গাছ কেটে ট্রাকে করে নিয়ে যেতে পারবে। এমনিতেই বনটি নানা কারণে হুমকিতে, এর মধ্যে এরকম অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ করে বনের ক্ষতিই করা হবে।’

স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘জীববৈচিত্র্যের বিশাল ভান্ডারের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার রক্ষাকবচ হিসেবেও ভূমিকা পালন করে টেংরাগিরি জঙ্গল। গত কয়েক বছরে দক্ষিণ উপকূলে যতগুলো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে, তার সবই বুক দিয়ে ঠেকিয়ে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা করেছে এই সংরক্ষিত বনাঞ্চল।

‘এ ধরনের অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ করে টেংরাগিরি বনকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়া ছাড়া আর কিছু হবে না।’

বনাঞ্চলে সড়ক-সেতু, ঝুঁকিতে টেংরাগিরি

তালতলী এলজিইডির উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী আহম্মেদ আলী বলেন, ‘বরগুনা জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় আমরা এখানে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করি। সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ থেকে ডিজাইন তৈরি, এমনকি অর্ধেকের বেশি কাজ সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সবকিছুতেই আমাদের সঙ্গে ছিলেন বন বিভাগের লোকজন। এখন যদি তারা বলেন যে কিছুই জানেন না, তবে সেটি মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়।’

পটুয়াখালী-বরগুনা অঞ্চলের উপ-বন সংরক্ষক ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এলজিইডি আমাদের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা কিংবা সমন্বয় করেনি। এ রকম কোনো দাবি যদি তারা করে থাকে তা সত্য নয়। জঙ্গলের ভেতরে কোনো অ্যাপ্রোচ সড়ক আমরা করতে দেব না।’

তালতলীর উপজেলা চেয়ারম্যান রেজভি উল কবির বলেন, ‘আমরা সেতুর বিপক্ষে নই। তবে সংরক্ষিত বনের বৈশিষ্ট্যও ঠিক রাখতে হবে।’

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সেতুর পরিকল্পনার সময় আমি বরগুনায় কর্মরত ছিলাম না। যেহেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, এখন আসলে তেমন কিছু করার নেই। তবে আমি বিষয়টি নিয়ে এলজিইডি ও বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করব। যাতে বনের ক্ষতি না হয়, আবার সেতুটিও যেন ঠিক থাকে।’

শেয়ার করুন

যার স্পর্শে বালুচর এখন গহিন বন

যার স্পর্শে বালুচর এখন গহিন বন

ভারতের অসমের যাদব পায়েং জীবনের ৩০ বছরই কাটিয়েছেন গাছ লাগিয়ে। ছবি: সংগৃহীত

৩০ বছরে ব্রহ্মপুত্রের একটি অনুর্বর বালুচরের ১ হাজার ৩৬০ একর জমি শুধু গাছ লাগিয়ে বনে রূপান্তর করেছেন যাদব। যা এখন পরিচিত ‘মোলাই কাঠোনি’ হিসেবে।

ভারতের ‘বনমানব’ হিসেবে পরিচিত যাদব পায়েং। ৬২ বছর বয়সী যাদব তার জীবনের ৩০ বছরই কাটিয়েছেন গাছের চারা রোপণ করে। ৪ কোটি গাছ লাগিয়ে তিনি অসম রাজ্যের ব্রহ্মপুত্র-বিধৌত একটি অনুর্বর বালুচরকে পুরো বনে রূপান্তর করেছেন।

সেই বনে এখন বাসা বেঁধেছে বাঘ, হরিণ, হাতি, খরগোশসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী, পাখি।

এবার সেই ‘বনমানব’কে গাছ লাগাতে ডেকেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ মেক্সিকো।

গত ডিসেম্বরে যাদব পায়েং এনজিও ফাউন্ডেশন অ্যাজটেকার সঙ্গে মেক্সিকোতে গাছ লাগানোর চুক্তি করেছেন। যাদব সেই চুক্তি মোতাবেক ৭০ লাখ গাছ লাগাবেন মেক্সিকোতে।

মেক্সিকোর সরকার দেশটিকে সবুজে ভরিয়ে তুলতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে

যাদব পায়েং স্থানীয়ভাবে পরিচিত মোলাই পায়েং নামে। এ ছাড়া পুরো ভারত, এমনকি পুরো বিশ্বে এখন তার পরিচয় ‘ভারতের বনমানব’ হিসেবে।

৩০ বছরে ব্রহ্মপুত্রের একটি অনুর্বর বালুচরের ১ হাজার ৩৬০ একর জমি শুধু গাছ লাগিয়ে বনে রূপান্তর করেছেন যাদব। যা এখন পরিচিত ‘মোলাই কাঠোনি’ হিসেবে।

ভারতের অসম রাজ্যের জোহাট জেলার ককিলামুখের কাছে সেই বন মোলাই কাঠোনি।

যার স্পর্শে বালুচর এখন গহিন বন
ব্রহ্মপুত্রের অনুর্বর বালুচরকে গাছ লাগিয়ে বনে রূপান্তর করেছেন অসমের যাদব পায়েং

যে এলাকাটিতে এখন রয়েছে বাঘ, সিংহ, হাতি, খরগোশসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর বাস। এ ছাড়া হাজার প্রজাতির গাছের বনটিতে এখন পরিযায়ী অসংখ্য প্রাণী এসে বাসা বেঁধেছে।

মেক্সিকোতে আট লাখ হেক্টর জমিতে বনায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে যাদব পায়েং গাছ রোপণ করবেন বলে জানান।

মেক্সিকান সরকার যাদবকে ১০ বছরের জন্য ভিসা দিয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে যাদব উড়াল দেবেন মেক্সিকোতে। এরপর ১০ বছর তিনি সেখানে গাছ লাগানোর কাজ করবেন।

যাদব বলেন, ‘আমি প্রতিবছর তিন মাস করে মেক্সিকোতে থাকব। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর; এই সময়টা মেক্সিকোতে গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। এই সময় আমি প্রতিদিন এক লাখ শিক্ষার্থী সঙ্গে নিয়ে চারা রোপণ করব।’

যার স্পর্শে বালুচর এখন গহিন বন
নিজের রোপণ করা গাছের নিচে বসে যাদব পায়েং

যাদবের বয়স যখন ১৬ বছর, তখন তিনি দেখেন ব্রহ্মপুত্রের সেসব বালুচরে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর প্রচণ্ড গরমে অসংখ্য সাপ মরে পড়ে আছে। সেটা তাকে খুব ব্যথিত করে। এরপর যাদব ব্রহ্মপুত্রতীরের বালুচরে বাঁশের ২০টি চারা রোপণ করেন।

১৯৭৯ সালে সামাজিক বনায়ন বিভাগ অসমের গোলারহাট জেলায় গাছ রোপণের একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে। সেই পরিকল্পনায় ২০০ হেক্টর জমিতে গাছ রোপণ শুরু হয়।

ওই জমিটি অরুণা চাপড়ি এলাকায়, যা যাদবের এলাকা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে। সেই সামাজিক বনায়নের কর্মসূচিতে একজন শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন যাদব। সেখানে বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয় পাঁচ বছর পর।

উন্নয়নশীল দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় ও ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখায় যাদব পায়েংকে ২০১৫ সালে ভারত সরকার পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত করে।

যাদব বলেন, ‘সব দেশেরই উচিত প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানো। আমাদের মনে রাখতে হবে, পরিবেশ রক্ষা করতে না পারলে আমরা টিকে থাকব না। বিশ্বব্যাপী এখন লকডাউন চলছে, এই সময়ে গাছ রোপণের উপযুক্ত সময়।

‘পরিবেশকে নিজের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। আমি বিশ্ববাসীর কাছে আবেদন জানাই, পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি ফাঁকা জায়গায় চারা রোপণ করুন।’

রোপণের জন্য যাদব ভারত থেকে নারকেল ও সুপারির চারা নিয়ে যাবেন মেক্সিকোতে।

অসমের বনমন্ত্রী পরিমল শুক্লাবৈদ্য মেক্সিকোতে নতুন মিশনের জন্য যাদবকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তার প্রশংসা করে করেছেন একটি টুইটও।

শেয়ার করুন

বর্ষার আগেই ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

বর্ষার আগেই ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

দিনমজুর কাওছার আলী বলেন, ‘আছনো গুচ্চ গ্রামত। সেটাও চলি গেছে নদীত। এখন বান্দত আশ্রয় নিছি। সেটিও ভাঙন, এবার বান্দও যাবি নদীত। তাইলে কোটে যায়া দাঁড়ামো?’

পাঁচ বছর আগে নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে গাইবান্ধা সদরের পোড়ার চরের গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় নেন আমিরন বেওয়া। বছর দুয়েক পর সেটিও বিলীন হয় ব্রহ্মপুত্রে। পরে তার আশ্রয় হয় শ্রীপুর ওয়াপদা বাঁধে।

তবে এবার বর্ষার আগেই ভাঙন শুরু হলে আতঙ্কে ঘর ভেঙে ওয়াপদা বাঁধের পশ্চিমে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে জেলার তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদে।

প্রকট ভাঙনে এরই মধ্যে বিলীন হয়েছে গাইবান্ধার তিন উপজেলার পাঁচ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও গাছপালা। হুমকিতে রয়েছে দোকানপাট, স্কুলসহ বহু সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা।

তবে কয়েকটি এলাকায় ভাঙন ঠেকানোর কোনো পদক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

বর্ষার আগেই ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

বিধবা আমিরন বেওয়া বলেন, ‘হামার তো সব শেষ। নদী ভাঙতি ভাঙতি ঘরত আসচি; কখন বেন ঘর নিয়ে যায়। নাই টেকা; নাই পয়সা। এখন পেটে বাঁচি, না জমিন কিনি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর তাদের সব হারিয়ে ঠিকানা বদলাতে হয়। স্থায়ী পদক্ষেপ না নেয়ায় পাউবোর গাফিলতিতেই বাড়ছে নদীভাঙন।

বর্ষার আগেই ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

স্থানীয়রা জানান, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নদীভাঙনে সদরের কামারজানি ইউনিয়নের কামারজানি বন্দর, শ্রীপুর, গোঘাট এলাকাসহ কুন্দেরপাড়া ও খারজানি চরের দেড় শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে।

এ ছাড়া গৃহহীন হয়ে পড়েছে মোল্লার চর ইউনিয়নের মোল্লার চর, সাপের চর, হাতিমারা, বাতুলিয়া, চিতুলিয়ার ও দিগার গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার। ভাঙন-আতঙ্কে রয়েছেন কামারজানির পুঁটিমারি, হরিপুর এবং দত্তের খামার এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন চরের হাজারো মানুষ।

ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছে ফুলছড়ির উড়িয়া ইউনিয়নের মধ্য উড়িয়া, গুণভরি ও কাতলামারি গ্রামের শত শত পরিবার।

বর্ষার আগেই ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

জেলায় সবচেয়ে বেশি নদীভাঙন দেখা দিয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কাশিমবাজার এলাকায়। সেখানে তিন শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, আবাদি জমিসহ গাছপালা নদীতে বিলীন হয়েছে। হুমকিতে পড়েছে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ বাজারের দোকানপাট।

ভিটেমাটি হারিয়ে এসব অসহায় মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ ওয়াপদা বাঁধসহ বিভিন্ন জায়গায়। আয়-রোজগারের পথ হারিয়ে তাদের দিন কাটছে চরম কষ্টে।

দিনমজুর কাওছার আলী বলেন, ‘আছনো গুচ্চ গ্রামত। সেটাও চলি গেছে নদীত। এখন বান্দত আশ্রয় নিছি। সেটিও ভাঙন, এবার বান্দও যাবি নদীত। তাইলে কোটে যায়া দাঁড়ামো?’

বর্ষার আগেই ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

শ্রীপুরের মাদ্রাসা এলাকার হায়দার আলী বলেন, ‘বাঁধ ভাঙতিছি। কতগুলে ঘর চলি গেল। এক দিন বস্তা মারে, সাত দিন নাই। এংকা করি ভাঙন থামবে কও তোমরা। হামরা তো একন নিরূপায়, পেটত ভাত নাই, থাকার জাগাও নাই। ঘরবাড়ি নিয়া দৌড়ঝাপত পড়চি।’

গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘বর্ষার আগে থেকেই নদীর পূর্বদিকের ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। তবে পশ্চিম পাশের ভাঙন রোধে তেমন কোনো কর্মসূচি নেই।’

বর্ষার আগেই ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

কাশিমবাজার এলাকার ভাঙন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গাইবান্ধার মানচিত্রে থাকলেও এলাকাটি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড।’

জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, ‘ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়াসহ তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।’

শেয়ার করুন

পাখির জন্য নলকূপ ছাড়ল কৃষক পরিবার

পাখির জন্য নলকূপ ছাড়ল কৃষক পরিবার

‘এক মাস আগে দেখি একজোড়া দোয়েল পাখি বাসা তৈরির জন্য খড়কুটো নিয়ে এসেছে। নলকূপের ভেতরে ছোট্ট বাসা তৈরি করছে। তখন নলকূপ ব্যবহার বন্ধ করেছি। কিছুদিনের মধ্যে তিনটি ডিম দেয় স্ত্রী দোয়েল। কয়েকদিন আগে ডিম ফুটে ছানা বের হয়েছে। তাদের কিচিরমিচির খুবই ভালো লাগে।’

নলকূপের ভেতরে বাসা বেঁধেছে এক জোড়া দোয়েল। সেই দোয়েল দম্পতির সংসারে এসেছে তিনটি ছানা। মানুষের ভয়ডর উপেক্ষা করে ছানার যত্নআত্তিতে ব্যস্ত সময় পার করছে দোয়েল দম্পতি।

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ভূবনঘর গ্রাম। ওই গ্রামের মানিক মাস্টারের বাড়ির নলকূপে দোয়েল দম্পতির সংসার।

বাড়ির মালিক আবুল হাশেম জানান, মোটর দিয়ে পানি তুলে বাসাবাড়ির প্রয়োজন মেটানো হয়। তবুও জরুরি প্রয়োজনে পানি তোলার জন্য বাড়ির পাশে বসানো হয় নলকূপ।

মাঝেমধ্যে ব্যবহার করা হতো ওই নলকূপ। আর এরই সুযোগ নিয়েছে একজোড়া দোয়েল।

আবুল হাশেম বলেন, ‘এক মাস আগে দেখি একজোড়া দোয়েল পাখি বাসা তৈরির জন্য খড়কুটো নিয়ে এসেছে। নলকূপের ভেতরে ছোট্ট বাসা তৈরি করছে। তখন নলকূপ ব্যবহার বন্ধ করেছি। কিছুদিনের মধ্যে তিনটি ডিম দেয় স্ত্রী দোয়েল। কয়েকদিন আগে ডিম ফুটে ছানা বের হয়েছে। তাদের কিচিরমিচির খুবই ভালো লাগে।’

পাখির জন্য নলকূপ ছাড়ল কৃষক পরিবার


আবুল হাশেম জানান, কেউ যাতে দোয়েল পাখি ও ছানাদের বিরক্ত করতে না পারে সে জন্য পরিবারের সদস্যরা সতর্ক থাকে। ছানাগুলো বড় হয়ে উড়ে যাওয়া পর্যন্ত তারা সতর্ক থাকবেন।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক রইস উদ্দিন জানান, জনবসতির পাশে নিরাপদ জায়গায় গাছের ডালে, গাছের কোটরে বাসা বাঁধে দোয়েল পাখি। নিরাপদ মনে করেই ভুবনঘরের ওই নলকূপে দোয়েল দম্পতি বাসা তৈরি করেছে। এখন ওই বাড়ির সদস্যরা পাখিগুলোর জন্য নিরাপদ পরিবেশ অব্যহত রাখলেই ভালো হবে।

পাখির জন্য নলকূপ ছাড়ল কৃষক পরিবার

শেয়ার করুন

মৌবাড়িতে লাখ লাখ মৌমাছি, ২৬টি মৌচাক

মৌবাড়িতে লাখ লাখ মৌমাছি, ২৬টি মৌচাক

মৌমাছির দল মোট ২৬টি মৌচাক বেঁধেছে বাড়িটিতে। সারা দিন মৌমাছির গুঞ্জন শোনা যায় সেখানে। কয়েক লাখ মৌমাছির বাস সেখানে। তারা যেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্য হয়ে গেছে। বাড়ির লোকজন মৌমাছিদের দেখাশোনা করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। 

বাড়িটিকে সবাই ডাকে ‘মৌবাড়ি’ বলে। আর ডাকবেই-বা না কেন। দোতলা বাড়িটির কক্ষে কক্ষে, ব্যালকনিতে, রান্নাঘরের পাশে, চিলেকোঠায়- সবখানেই মৌচাক। এই মৌচাক দেখতে প্রতিদিনই সেখানে ভিড় জমান অনেক মানুষ।

বাড়িটির অবস্থান সাতক্ষীরা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের কোড়া গ্রামে। গ্রামের চিংড়িঘের ব্যবসায়ী শেখ আবু সাঈদ বাড়িটির মালিক।

আবু সাঈদ মৌমাছি পালন করেননি। মৌমাছিরাই তার বাড়ি দখল করে এসব চাক গড়ে তুলেছে।

মৌমাছির দল মোট ২৬টি মৌচাক বেঁধেছে বাড়িটিতে। সারা দিন মৌমাছির গুঞ্জন শোনা যায় সেখানে। কয়েক লাখ মৌমাছির বাস সেখানে। তারা যেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্য হয়ে গেছে। বাড়ির লোকজন মৌমাছিদের দেখাশোনা করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

সাত-আট বছর আগের কথা। একদিন সকালে উঠেই আবু সাঈদ পরিবারের লোকজন দেখতে পান রাতারাতি তাদের বাড়িঘরের এখানে-ওখানে অনেক মৌচাক। এরপর সেখানে পর্যায়ক্রমে মৌমাছি আসতেই থাকে। প্রথমে ভয় পেয়েছিলেন আবু সাঈদ ও তার পরিবারের সদস্যরা। মৌমাছির কামড়ের কথা মাথায় রেখে এই চাক ভাঙতেও পারেননি, আবার রাখতেও ভয় পাচ্ছিলেন।

আবু সাঈদ বলেন, ‘আস্তে আস্তে দেখলাম তারা কারও ক্ষতি করছে না। আসলে মানুষ আঘাত না করলে মৌমাছিরা কামড়ায় না।’

তিনি জানান, বছরের সাত থেকে আট মাস তার বাড়িতে চাকগুলো থাকে। এখন তার বাড়িতে রয়েছে ২৬টি চাক। কার্তিক থেকে জ্যৈষ্ঠ- এই কয়টা মাস তারা তার বাড়িতে বাস করে। এরপর সব মৌমাছি উধাও হয়ে যায়। কোথায় চলে যায় সে খবর জানা যায় না। কয়েক মাস পর ফের সরিষা ফুলের সময় চলে আসে মৌমাছিরা।

তিনি বলেন, এখন ফুলের মৌসুম নয়। ওরা সরিষা, আমের মুকুল, সফেদা ও লিচুর ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। ফুলের মধুর সংস্থান কমে গেলে ওরা উড়াল দেয় ঝাঁকে ঝাঁকে। এদের কোনো খাবার দিতে হয় না। প্রাকৃতিকভাবে তারা ফুলের মধু সংগ্রহ করে চাকে মধুর ভাণ্ডার গড়ে তোলে। চাকের ১০০ ভাগ মধুর মধ্যে তিনি নেন ৭৫ ভাগ। বাকি ২৫ ভাগ মৌমাছিদের খাওয়ার জন্য রেখে দেয়া হয়।

আবু সাঈদ প্রতিবছর ৫০ হাজার টাকার মধু বিক্রি করে থাকেন। আর এই খাঁটি মধুর খবর শুনে তার বাড়িতে যেমন মৌচাক দেখতে মানুষ যেমন ভিড় করেন, তেমনি তারা মধুও কিনে নেন। প্রতি কেজি মধু বিক্রি হয় ৫০০ টাকায়।

আবু সাঈদ জানান, মৌমাছিগুলো তাদের পরিবারের সদস্যের মতো। যখন ঝড়বৃষ্টি হয়, তখন তাদের জন্য চিন্তা হয়। ওদের নিরাপত্তার জন্য জানালা-দরজা বন্ধ করে রাখা হয়। তার স্ত্রী রঞ্জিলা বেগম সব সময় মৌচাকগুলো দেখভাল করে থাকেন। বাড়ির রান্নাঘরের পাশেই রয়েছে মৌচাক। বছরে আট মাস মৌমাছিগুলো বাড়িতে থাকে। নিজে থেকে আসে, আবার নিজে থেকে চলে যায়।

আবু সাঈদের স্ত্রী রঞ্জিলা বেগম বলেন, কোনো দিন কোনো মৌমাছি তার পরিবারের কাউকে কামড়ায়নি। আবার তারাও মৌমাছিকে কোনোভাবে আঘাত করেননি। তবে আমগাছে কীটনাশক স্প্রে করার সময় একবার বেশ কিছু মৌমাছি মারা যায়। তখন মনে হয়েছিল ওরা বুঝি আর আসবে না। তা কিন্তু হয়নি। ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি আবারও প্রাকৃতিক নিয়মেই আসে প্রতিবছর।

মৌবাড়িতে লাখ লাখ মৌমাছি, ২৬টি মৌচাক

আবু সাঈদ দম্পতির মেয়ে সখীপুর আহছানিয়া ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ফতেমা খাতুন বৃষ্টি বলেন, তাল, কুল, পেয়ারা, সরিষা, আমসহ বিভিন্ন ফুলের মধু সংগ্রহ করতে মৌমাছিরা নিরিবিলি পরিবেশে তাদের বাড়িতে আসছে আট বছর ধরে। মানুষ ও মৌমাছির নিবিড় মেলবন্ধনের বিষয়টি তাদের বাড়িতে না এলে কেউ বুঝতে পারবে না। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা ছাড়া এমনটি হওয়া সম্ভব নয়।

আবু সাঈদের শিশুসন্তান শেখ ইসমাইল হোসেন বলে, ওরা আমাদের পরিবারের সদস্য। সহপাঠীরা তাদের বাড়ির মৌচাকের খবর জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে তোলা ছবি দেখিয়ে দেয়।

প্রতিবেশীরা জানান, এই মৌবাড়ির খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ খবর সত্য কি না, তা জানার জন্য বহু মানুষ প্রতিদিন এখানে আসেন। খুব ভালো লাগে।

দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউপির চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন রতন বলেন, ‘আমি যখনই কোড়া গ্রামে আসি, তখনই মৌচাকগুলো দেখে যাই। মানুষ ও মৌমাছি কী সুন্দরভাবে একসঙ্গে বসবাস করছে। দেখে খুব ভালো লাগে।’

সাতক্ষীরা খামার বাড়ির উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম জানান, এপিস ডরসাটা জাতের মৌমাছি এগুলো। এই জাতের মৌমাছি সুন্দরবনে থাকে। বনে অনুকূল পরিবেশ না পেলে তারা হঠাৎ লোকালয়ে চলে আসে। লোকালয়ে কিছুদিন বসবাসের পর আবারও ফিরে যায় সুন্দরবনে। মৌমাছিকে বিরক্ত না করলে তারা কারোর ক্ষতি করে না।

তিনি বলেন, ‘সুস্থ পরিবেশ পাওয়ায় সুন্দরবনের মৌমাছিরা আট মাস ধরে কোড়া গ্রামের আবু সাঈদের বাড়িতে অবস্থান করে। একটি চাকের মৌমাছি অপরটিতে যায় না। প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি হলে তারা নতুন আবাস না খুঁজে পুরোনো আবাসেই ফিরে আসে। এটাই মৌমাছির স্বভাব। আবু সাঈদের বাড়িতে এভাবেই মৌমাছির ২৬টি দল চাক বেঁধেছে। আর তাই বাড়িটির নামও হয়ে উঠেছে মৌবাড়ি।’

শেয়ার করুন

পরিবেশ রক্ষায় বাজেট বরাদ্দ ‘উপেক্ষিত’ দাবি বিশ্লেষকদের

পরিবেশ রক্ষায় বাজেট বরাদ্দ ‘উপেক্ষিত’ দাবি বিশ্লেষকদের

অতিরিক্ত ধুলায় অতিষ্ঠ ঢাকার জনজীবন। ছবি: সাইফুল ইসলাম

পরিবশে-বান্ধব বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর সদিচ্ছা ও আর্থিক বরাদ্দই যথেষ্ট নয়। সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার কঠোর বাস্তবায়নের জন্য দরকার প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর পরিবেশবিরোধী অন্যায় কার্যকলাপ বন্ধ করা। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাকৃতিক পরিবেশের অবনতি রোধ নিয়ে তেমন কিছু বরাদ্দ দেয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সবুজায়নের কথা বললেও পরিবেশ রক্ষায় বাজেট বরাদ্দ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে করছে পরিবেশবাদীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) উদ্যোগে ‘জাতীয় বাজেট: স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ’-শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সভায় এ সব কথা উঠে আসে।

সভায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন আইইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক ড. এ এম জাকির হোসেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সংগঠটির পরিবেশ স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচি কমিটির সদস্য-সচিব গবেষক বিধান চন্দ্র পাল এমন তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পরিবশে-বান্ধব বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর সদিচ্ছা ও আর্থিক বরাদ্দই যথেষ্ট নয়। সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার কঠোর বাস্তবায়নের জন্য দরকার প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর পরিবেশবিরোধী অন্যায় কার্যকলাপ বন্ধ করা। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করতে হবে।

সবার জন্য টিকা নিশ্চিতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটে ৮০ শতাংশ মানুষের টিকা নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে। এটা কত সময় মধ্যে দেয়া হবে, তা উল্লেখ্য নেই। যেহারে টিকা প্রয়োগ করছে, এইভাবে টিকাদান কর্মসূচি চলতে থাকলে আগামী ৫ বছর সময় লাগবে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে। টিকার সংগ্রহ বরাদ্দ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে টিকা নিশ্চিতে সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, ‘করোনাকালে আমরা বঝুতে পেরেছি প্রকৃতিতে বিনিয়োগ হলো সঠিক বিনিয়োগ। এখন দেখার বিষয় আমার সঠিক বিনিয়োগ করছি কি না। এখন প্রকৃতিকে বিনিয়োগ করলে আমার সন্তানরা এর সুফল পাবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বাজেটে যে বরাদ্দ দেয়া সেটা সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে খরচ করতে হবে।’

সীমান্তে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দেশে প্রবেশ করায় সীমান্ত এলাকায় সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। তবে আরও ভয়ের বিষয় সীমান্ত এলাকায় যেভাবে সংক্রমণ বেড়েছে, সেভাবেই স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।’

তিনি আরও বলেন, গ্রিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোবারক হোসেন সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রকাশ করেছেন, সেখানে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় ১০০ শতাংশ মাস্ক ব্যবহার করেছে, সেই সব এলাকায় করোনা সংক্রমণ অনেক কম গেছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই।

অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদ বলেন, পানি, নদী ও সুন্দরবন নিয়ে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে, এ উন্নয়ন প্রকল্পের কারণেই পরিবেশ ও জলুবায়ু ক্ষতি হচ্ছে। যে উন্নয়ন প্রকল্প পরিবেশ ক্ষতি করে, এসব প্রকল্প বন্ধ কারার দাবি তোলেন তিনি।

পানি ও বায়ুদূষণ বন্ধ এবং বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য উদ্যোগ নেয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সরকারকে তেমন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে দেখছি না।’

তিনি বলেন, এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার থাকলেও এই খাতে সরকারের অবহেলার কারণে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের সার্বিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের জন্য ক্ষতিকর এমন প্রকল্পে যদি বাজেটে বরাদ্দ বাড়ে, তাহলে জনগণের এই বরাদ্দ জনগণের কাজে আসে না। দেশে কিছুসংখ্যাক মানুষের সুবিধার্থে বাজেট বরাদ্দ বাড়ছে। দেশে প্রতিবছর বায়ুদূষণের কারণে দুই লাখের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। বায়ুদুষণ প্রতিরোধে সরকারকে কাজ করতে হবে।

শেয়ার করুন

বাঘের আক্রমণে আহত মায়া হরিণ লোকালয়ে

বাঘের আক্রমণে আহত মায়া হরিণ লোকালয়ে

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এনামুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাঘের আক্রমণে আহত ওই হরিণটিকে উদ্ধার করে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ অফিসে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে সুন্দরবনের শ্যালা নদীসংলগ্ন গহিন বনে হরিণটিকে অবমুক্ত করা হয়।’

সুন্দরবন থেকে বাঘের আক্রমণের শিকার একটি মায়া হরিণকে লোকালয় থেকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের বৈদ্যমারি বাজারসংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে হরিণটি উদ্ধার করা হয়।

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এনামুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাঘের আক্রমণে আহত ওই হরিণটিকে উদ্ধার করে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ অফিসে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে সুন্দরবনের শ্যালা নদীসংলগ্ন গহিন বনে হরিণটি অবমুক্ত করা হয়।’

এনামুল হক আরও বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগেই বাঘের আক্রমণে গুরুতর আহত হয় হরিণটি। জীবন বাঁচাতে নদী সাঁতরে লোকালয়ে চলে আসে এটি। সুন্দরবনের ওয়াইল্ডটিমের সহযোগিতায় আমরা হরিণটি উদ্ধার করি। হরিণটির দেহের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের দাগ রয়েছে, অনেক জায়গায় পোকাও ধরেছে। চিকিৎসা ও ওষুধ দিয়ে আমরা হরিণটি আবারও সুন্দরবনে অবমুক্ত করে দিয়েছি।’

শেয়ার করুন