তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ থেকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য আলাদা করা এবং অপতথ্য বা ভিত্তিহীন তথ্য ফিল্টারিং করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার বরিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে ‘বরিশাল বিভাগের সাংবাদিকদের কল্যাণে করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যমকে দুই ধরনের মানুষ ব্যবহার করছেন, যাদের উভয়ের কাছেই সাংবাদিকতার কার্ড রয়েছে। এদের একদল সাংবাদিকতার বৈশ্বিক ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছেন, অন্যদিকে অন্যদল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পেশাটিকে দূষিত করছেন। ফলে অনেকেই মনে করছেন সাংবাদিকতা পেশার একটি সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও যোগ করেন, কোনটা অপসাংবাদিকতা বা ব্ল্যাকমেইলিং এবং কোনটা সমাজের জন্য অনিবার্য- এই বিভাজন নিশ্চিত করতে না পারলে রাষ্ট্র বা সমাজ বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দিতে পারবে না। আর এই কাজ কেবল সরকারের পক্ষে একা করা সম্ভব নয়, এর জন্য সাংবাদিকদের সক্রিয় অংশীদারত্ব প্রয়োজন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে গণমাধ্যমকে আয়নার মতো ভূমিকা পালন করতে হয়। রাষ্ট্রকে প্রতিমুহূর্তে আয়নার সামনে দাঁড় না করালে তা ভুল পথে চালিত হতে পারে, যা জনগণের জন্য ক্ষতিকর। সাংবাদিকতা ছাড়া কোনো সভ্য সমাজ চলতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা পেশায় বিত্তবান হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে নিজের বিবেক ও মেধা চর্চার বিশাল সুযোগ রয়েছে। যারা জেনে-বুঝে এই মহৎ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা।
আধুনিক সাংবাদিকতার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকতা ডেটা, ভিডিও ও অডিও কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এই রূপান্তরের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারলে পেশাগতভাবে পিছিয়ে পড়তে হবে।
অনুষ্ঠানে বিভাগের তিন জেলার ৩৯ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের মাঝে ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। এরমধ্যে বরিশাল জেলায় ২৫ জন, ঝালকাঠির ৬ জন এবং পটুয়াখালীর ৩ জন রয়েছেন।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, কল্যাণ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাওছার হোসেন খন্দকার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দিন।
ছবি: সংগৃহীত
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০১৮ সাল) রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে (ওএসডি) পাঠিয়েছে সরকার। তারা বর্তমানে যুগ্মসচিব পর্যায়ে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়, যেহেতু তাদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং সরকার জনস্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া প্রয়োজন মর্মে বিবেচনা করে। সেহেতু সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারার দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হয়েছে।
বিধি অনুযায়ী এসব কর্মকর্তা অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন বলেও প্রজ্ঞাপনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৫ জুলাই ২০১৮ সালের নির্বাচনে পুলিশ সুপারের (এসপি) দায়িত্বে থাকা ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। বিসিএস ২০তম ব্যাচের এসব কর্মকর্তার চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছিল।
এছাড়া ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ২২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
ছবি: সংগৃহীত
২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সব দাপ্তরিক চিঠিতে নজরুল বর্ষের নির্ধারিত লোগো ব্যবহার করতে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গত রোববার এ নির্দেশনা দিয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সরকার চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী গত ২ জুলাই ‘নজরুল বর্ষ’র নির্ধারিত লোগো উন্মোচন করেন।
এতে আরো বলা হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ, চেতনা ও সৃষ্টিকে জাতির কর্ম ও মননে সমুন্নত রাখার প্রয়াসে এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সব দাপ্তরিক পত্রে নির্ধারিত লোগো ব্যবহারের জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুরোধ জানিয়েছে। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ নির্দেশনা জারি করেছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপ সরকারের বিশেষ অতিথি হিসেবে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে অংশ নেন। এ সময়ে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার জানানো হয়, রোববার মালেতে রিপাবলিক স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এ প্যারেডে পৌঁছালে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম ড. খলিলুর রহমানকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের বিভিন্ন শাখার বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও সামরিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশটির স্বাধীনতার ৬১তম বার্ষিকী উপলক্ষে শৃঙ্খলা, ঐতিহ্য ও জাতীয় গৌরব তুলে ধরা হয়।
প্যারেড শেষে ড. খলিলুর রহমান একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যেখানে দেশটির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। পরে বর্ণাঢ্য আতশবাজি প্রদর্শনীর মাধ্যমে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
এর আগে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু ঘোষিত ‘ফাইভ মিলিয়ন ট্রিজ প্রজেক্ট’-এর অংশ হিসেবে মালের লোনুজিয়ারাই পার্কে একটি ক্রিস্টিনা গাছের চারা রোপণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গাছের চারা রোপণ অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম এবং জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী আলী শরীফ উপস্থিত ছিলেন।
ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপে সবুজায়ন সম্প্রসারণে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের বনায়ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের নেতাদের নেওয়া এসব উদ্যোগ পরিবেশগত স্থায়িত্ব, জলবায়ু কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে সুরক্ষিত রাখার অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি আরও স্মরণ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে বিপুলসংখ্যক নিম গাছ রোপণ করা হয়েছিল, যা ‘জিয়া ট্রিজ’ নামে পরিচিত।
মালদ্বীপ সরকারের আমন্ত্রণে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে বর্তমানে মালদ্বীপ সফর করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
ছবি: সংগৃহীত
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগের তারিখ থেকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য তিনি এ পদে নিয়োগ পেয়েছেন। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন না। তিনি কোনো গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নিজের পছন্দের বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করবেন এবং গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-কে অবহিত করবেন।
এছাড়া তিনি যে প্রতিষ্ঠান বা গবেষণা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, সেখানে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের বার্ষিক অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেবেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও তার গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে ইউজিসির চেয়ারম্যানকে অবহিত করবেন এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে পাঠাবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর গ্রেড-১ অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। তবে এ সময় তিনি অন্য কোনো বেতনভুক্ত চাকরিতে যুক্ত হতে পারবেন না।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, দাপ্তরিক প্যাড, সরকারি লোগো ও স্মারক নম্বর জাল করে একটি ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) পত্র তৈরি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে জমা দিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জাতীয় সংসদ কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রচারিত ও বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করা ওই ডিও পত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি এবং এর সঙ্গে জাতীয় সংসদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।
সংসদ সচিবালয় জানায়, রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদের নাম, সরকারি লোগো, দাপ্তরিক প্যাড বা অন্যান্য সরকারি পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা একটি গুরুতর ও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ ধরনের জালিয়াতির ঘটনা নজরে আসার পর জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের নামে কোনো ডিও বা সরকারি পত্র প্রাপ্ত হলে তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে এবং এটি এখন একটি গভীর জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। গৃহ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—উভয় স্থানই নারী ও কন্যাশিশুর জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, তদন্তে বিলম্ব, সাক্ষ্য-প্রমাণের দুর্বলতা এবং ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করার সামাজিক প্রবণতা অপরাধীদের দায়মুক্তিকে উৎসাহিত করছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৫’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এ সব কথা বলা হয়েছে। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। তিনি জানান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনার ভিত্তিতে এই সমীক্ষা পরিচালিত হয়েছে।
সমীক্ষায় দেখা যায়, কন্যাশিশুরা দলবদ্ধ ধর্ষণ (১৪২), আত্মহত্যা (২০৩) এবং ধর্ষণের চেষ্টা (১১৭) মামলায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্ক নারীরা হত্যা (৭৫৬), ধর্ষণ (৩৭৬) ও যৌন হয়রানির (১২৫) ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ৫৩ শতাংশ এবং সহিংসতার শিকার হয়ে হত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯ শতাংশ। পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গৃহিণীরা হত্যার ৫৮ শতাংশ, আত্মহত্যার ৬৩ শতাংশ এবং যৌতুকসংক্রান্ত সহিংসতার ৯৪ শতাংশের শিকার। এ ছাড়া শিক্ষার্থী কন্যাশিশুরা ধর্ষণের চেষ্টা (৮০ শতাংশ), আত্মহত্যা (৬৭ শতাংশ), দলবদ্ধ ধর্ষণ (৩৯ শতাংশ) এবং বাল্যবিবাহের (১০০ শতাংশ) ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, ‘সমীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব নারী—জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নারীরা সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে ছয় থেকে নয় বছর বয়সি শিশুকন্যাদের ধর্ষণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি হওয়া সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যার ঘটনাও বাড়ছে। ফলে নারী শুধু যৌন সহিংসতার শিকারই হচ্ছেন না, তাদের জীবনও ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এটি কেবল নারীর সংকট নয়, বরং পুরো সমাজের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার সংকট।’
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু ঘটনা প্রকাশ নয়, বরং সহিংসতার সামাজিক ও কাঠামোগত কারণও তুলে ধরা প্রয়োজন।’ একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশে সংবেদনশীল থাকার পাশাপাশি অপরাধীদের পরিচয় ও দায়ও সামনে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধর্ষণ, হত্যা ও এ ধরনের সহিংসতা ফৌজদারি অপরাধ। এসব ঘটনায় স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে আপসের চেষ্টা আইনসম্মত নয় এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এ ধরনের অপরাধের বিচার অবশ্যই আদালতের মাধ্যমে হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, জবাবদিহি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
মন্তব্য