স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, "দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হবে। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে।"
সোমবার সকালে রংপুরের বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর বিভাগীয় দপ্তরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
সমসাময়িক রাজনীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, "যারা বিএনপিকে ফ্যাসিবাদী দল বলে, তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। আর জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক দল কি না, সে বিষয়ে তাদের দলের নেতারাই বিবেচনা করবেন।"
উক্ত অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর তিনি রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে আয়োজিত পল্লী মেলার সূচনা করেন এবং বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। পরবর্তী সময়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিআরডিবি’র উপকারভোগীদের মাঝে গাছের চারা ও ঋণের চেক বিতরণ করেন তিনি।
ছবি: সংগৃহীত
দেশে বর্তমানে উগ্রবাদী তৎপরতা নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার মতো কোনো আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক। সোমবার (২৭ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান যে, কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী যাতে সক্রিয় হতে না পারে, সেজন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সার্বক্ষণিক কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কেরানীগঞ্জ ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ও বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে সিটিটিসি প্রধান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাদের বিশেষায়িত ইউনিটের কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উগ্রবাদ দমনে সিটিটিসির সক্ষমতা ও তৎপরতা সম্পর্কে বলেন, "সবসময়ই আমরা অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, আমাদের ডাটাবেজের মাধ্যমে উগ্রবাদ মনিটরিং অব্যাহত রেখেছি এবং যখনই কোনো সংবাদ পাই, আমরা সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করি। আমরা এগুলো আয়ত্তে রাখছি আলাদা। এদের সর্বোচ্চ আমরা চেষ্টা করছি।" বর্তমান পরিস্থিতিতে উগ্রবাদীরা শক্তিশালী হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, "না, এ বিষয়ে আমরা এখনই বলার কোনো সুযোগ নেই। তবে আমরা বলব যে, দেশের মধ্যে আশঙ্কাজনক এরকম কোনো আমরা লক্ষণ দেখছি না।"
মতিঝিলে একটি ছাতার ভেতর থেকে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাটি নিয়ে এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান যে, খবর পাওয়ামাত্রই বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এর পেছনের কুশীলব বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। এ সময় তিনি ‘পাতা কমব্যাট’ মামলার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে জানান, এই মামলায় ইতিমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ নজরদারি ও মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে সিটিটিসি যেকোনো সম্ভাব্য উগ্রবাদী হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ছবি: নিউজ বাংলা
দেশের বীর সন্তান, শহীদ পরিবার এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতার পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীদের জন্য মাসিক সম্মানি, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা এবং মহান বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষের বিশেষ অনুদান পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই নতুন সুযোগ-সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে গৃহীত এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা সুসংহত করা।
প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত অনুযায়ী, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ‘বীর উত্তম’ খেতাবধারীরা এখন থেকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা হারে সম্মানি ভাতা পাবেন। এর পাশাপাশি তাঁরা ১০ হাজার টাকা উৎসব ভাতা, ৫ হাজার টাকা বিজয় দিবস ভাতা এবং ২ হাজার টাকা নববর্ষ ভাতা লাভের অধিকারী হবেন। অন্যদিকে, ‘বীর বিক্রম’ ও ‘বীর প্রতীক’ খেতাবপ্রাপ্ত যোদ্ধাদের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। তাঁদের ক্ষেত্রেও উৎসব ভাতা ১০ হাজার টাকা, বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার টাকা এবং নববর্ষ ভাতা ২ হাজার টাকা বহাল রাখা হয়েছে। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাঁদের মাসিক মূল সম্মানি বাড়িয়ে ২৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। এর সাথে তাঁরা ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, ৫ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা, ২৩ হাজার টাকা উৎসব ভাতা এবং ২ হাজার টাকা বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন।
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তাঁদের শারীরিক অক্ষমতার গুরুত্ব বিবেচনা করে চারটি ভিন্ন শ্রেণিতে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী, ৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ অক্ষম ‘ক’ শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা, ৬১ থেকে ৯৫ শতাংশ অক্ষম ‘খ’ শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধারা ২৮ হাজার টাকা, ২০ থেকে ৬০ শতাংশ অক্ষম ‘গ’ শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধারা ২৩ হাজার টাকা এবং ১ থেকে ১৯ শতাংশ অক্ষম ‘ঘ’ শ্রেণির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতির বীর সন্তানদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও জীবনমান নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং বর্তমান এই বৃদ্ধি সেই কল্যাণমুখী প্রচেষ্টারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের দপ্তরে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ও মার্জিনা রায়হান এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আজ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে এই মামলায় ৯ জন অভিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।
প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের চারটি অঞ্চলে মোট ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাণহানির এই পরিসংখ্যানে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত ফিতা কেটে ঢাকা-নারিতা ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় স্থগিত থাকার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-নারিতা সরাসরি আকাশপথ পুনরায় সচল হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই রুটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "ভবিষ্যতে এই রুট আর বন্ধ করার প্রশ্নই আসে না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, "আশা করি এবার রুটটি লাভজনক হবে এবং ইতোমধ্যে উদ্বোধনী ফ্লাইটের পাশাপাশি ফিরতি ও পরবর্তী ফ্লাইটগুলোর বুকিংও সম্পন্ন হয়েছে।" সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিশ্বাস যে, সরাসরি এই বিমান যোগাযোগ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিক্ষার পাশাপাশি জনসম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, "আজকের ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।"
একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি জানান যে, জাপানে বসবাসরত প্রায় ৪৫ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই ফ্লাইটটি চালু করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "জাপান প্রবাসী প্রায় ৪৫ হাজার বাংলাদেশি ছাত্র, শ্রমিক ও অভিবাসীদের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা ফ্লাইটটি চালু করেছি।" ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "১৯৮০ সালে উড়োজাহাজ স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক সুদৃঢ় করার জন্য ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট চালু করেছিলেন।"
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ফিতা কেটে যাত্রার শুভ সূচনা করেন এবং জাপানগামী যাত্রীদের বিদায় জানান। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই রুটটি পুনরায় সচল হওয়ার পর গত ২৭ জুলাই রাত ২টা ২৫ মিনিটে বিজি-৩৭৬ ফ্লাইটটি নারিতার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনালে দেশের অন্যতম অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে যাত্রী ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কোনো ধরনের নেটওয়ার্ক দুর্বলতা ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন ভয়েস ও উচ্চগতির ডেটা সেবা নিশ্চিত হবে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, এ প্রকল্পের আওতায় একটি অত্যাধুনিক ‘অ্যাক্টিভ ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যান্টেনা সিস্টেম’ (অ্যাক্টিভ ডাস) বসানো হবে। এর সাথে যুক্ত থাকবে শত শত স্মল সেল ও ওয়াই-ফাই অ্যাক্সেস পয়েন্ট।
পুরো টার্মিনাল কমপ্লেক্সজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৪জি এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী ৫জি সংযোগ দিতে এই ব্যবস্থা ডিজাইন করা হয়েছে।
টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী বলেন, এই নেটওয়ার্ক স্থাপন কাজের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যাদেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু হবে।’
প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক মূলত আউটডোর টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল হলেও, এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে জটিল ইনডোর পরিবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে রি-ইনফোর্সড কংক্রিট, স্টিল কাঠামো ও বিশাল কাঁচের দেয়াল রেডিও সংকেতকে দুর্বল করে দেয়।
৭০০টি স্মল সেল এবং ৬৩৫টি ওয়াই-ফাই ইউনিটের সাহায্যে অ্যাক্টিভ ডাস কাঠামোর মাধ্যমে সংকেত ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এটি কোনো সিগন্যাল ড্রপ ছাড়াই যাত্রী ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ভয়েস ও উচ্চগতির ডেটা সেবা দেবে।
ভবিষ্যতের বিমান চলাচল প্রযুক্তির কথা বিবেচনা করেই এই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। যাত্রী, এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই ৪জি ও ৫জি উপযোগী নেটওয়ার্ক আগামী দিনে বিমানবন্দরের আধুনিক পরিচালনায় সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ কেন্দ্রের জন্য একটি সম্প্রসারণযোগ্য যোগাযোগ কাঠামো তৈরি হবে।
৪৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, যার সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার।
প্রকল্পটির মাধ্যমে পুরো তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইমিগ্রেশন এলাকা, চেক-ইন কাউন্টার, ভিআইপি লাউঞ্জ, এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (ইসিটি), ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (আইসিটি) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইনডোর সুবিধা।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে মূলধনী ব্যয় হিসেবে ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই টাকা মূলত মূল নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, ট্রান্সমিশন সিস্টেম, অ্যাক্টিভ ডাস উপকরণ, স্মল সেল ও ওয়াই-ফাই ডিভাইসসহ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো খাতে খরচ হবে।
রাজস্ব ব্যয় হিসেবে নির্ধারিত ২ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ, পরিবহন, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হবে। অন্যদিকে দৈব ও মূল্যবৃদ্ধিজনিত সম্ভাব্য খরচের জন্য ২৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির বিষয়টিকে সামনে রেখেই এই বিনিয়োগ করা হচ্ছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ৯১ লাখ যাত্রী চলাচল করেন। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১ কোটি ৮৫ লাখে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন এখান থেকে প্রায় ১৯০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয় এবং বছরে প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়, নবনির্মিত এই টার্মিনালে এখনো ব্যাপক ইনডোর মোবাইল কভারেজের ঘাটতি রয়েছে। ফলে, বিভিন্ন ইনডোর এলাকায় দুর্বল সিগন্যাল, কল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং ধীরগতির ইন্টারনেট সেবার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
পুরো টার্মিনালজুড়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ নেটওয়ার্ক কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করাই নতুন এই টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর লক্ষ্য।
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি প্রতি বছর লাখ লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর প্রথম প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। তাই এই প্রকল্প বাংলাদেশের ডিজিটাল প্রবেশদ্বারকে আরো শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিখুঁত ও উচ্চগতির মোবাইল সংযোগ যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে, বিমানবন্দর পরিচালনায় গতি আনতে এবং পর্যটন ও বৈদেশিক বিনিয়োগে সহায়তা করতে অপরিহার্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই উদ্যোগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেখানে বিমানবন্দর ও অন্যান্য প্রধান জনবান্ধব স্থানে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ফাইল ছবি
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সাগরে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অনাকাঙ্ক্ষিত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই সংকট নিরসনে এবং জনভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা এবং বিতরণকারী সংস্থাগুলো তৎপরতার সঙ্গে সমন্বিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কারিগরি দল নিয়োগের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিকল্প ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খুব দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সিলারেট এনার্জি’ পরিচালিত এফএসআরইউ ‘এক্সিলেন্স’-এ গ্যাস খালাসের সময় বয়লারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তবে আন্তর্জাতিক মানের অটোমেটেড সেফটি প্রটোকল এবং দায়িত্বরত কর্মীদের দ্রুততার কারণে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে এলএনজিবাহী জাহাজটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে শত কোটি ডলার মূল্যের অবকাঠামো ও জাতীয় সম্পদ একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে টার্মিনালের দুটি বয়লারের একটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কিছুটা কমে যায়। দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে গড়ে প্রতিদিন ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও এক্সিলারেটের ৬০ কোটি ঘনফুট সক্ষমতার টার্মিনালটি বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে দাঁড়ায়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহ ৫০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫৭ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করে জাতীয় গ্রিড সচল রাখা হয়েছে।
সংকট নিরসনে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, গ্যাস সংকটের মূল কারণ কোনো জ্বালানি ঘাটতি নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ যান্ত্রিক ও কারিগরি বিষয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার যেসকল কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল গঠন: ইংল্যান্ড (যুক্তরাজ্য) থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের একটি দল ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছেন। মার্কিন কারিগরি দলসহ তারা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য মহেশখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
ধাপে ধাপে সরবরাহ বৃদ্ধি: টার্মিনালের দ্বিতীয় বয়লারটি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মেরামত হলে দ্রুতই দৈনিক আরও ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
পর্যাপ্ত মজুত ও জাহাজ প্রস্তুত: পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এলএনজি আমদানিতে কোনো ঘাটতি নেই। নতুন এলএনজিবাহী জাহাজ সাগরে প্রস্তুত রয়েছে, যা টার্মিনাল মেরামতের পরপরই খালাস প্রক্রিয়া শুরু করবে।
বিতরণ ব্যবস্থা ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনা: জাতীয় চাহিদার বিপরীতে সাময়িক ঘাটতি সামাল দিতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সীমিত সরবরাহের মাধ্যমে সর্বাত্মক সমন্বয় বজায় রাখছে।
তিতাসের ব্যবস্থাপনা: তিতাসের প্রতিদিনের ১৯০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে ১২০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে, যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতি প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে গ্যাস পৌঁছানো সম্ভব হয়।
সিএনজি পাম্প ও আবাসিক খাত: গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে যে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতে পেট্রোবাংলা নিয়মিত পাম্প মালিক অ্যাসোসিয়েশন এবং পরিবহন নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখছে। একই সাথে অসাধু চক্র যাতে কৃত্রিম সংকট বা গুজব ছড়িয়ে গ্যাসের বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ: সাময়িক এই সংকট সরকারের ভবিষ্যৎ জ্বালানি রূপরেখাকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার পথ উন্মোচন করেছে। বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে সরকার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে। শুধু ভাসমান টার্মিনালের ওপর নির্ভরতা কমাতে দ্রুত স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। আমদানি করা এলএনজির পাশাপাশি সাগরে ও স্থলে দেশীয় গ্যাস কূপ খনন ও অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জোরদার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সৌর ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির বাস্তবমুখী নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
যান্ত্রিক ত্রুটি সম্পূর্ণ দূর করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের রান্নাঘর, সড়ক ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি সংস্থা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
গ্যাস সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে যে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অচিরেই গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে এবং পাওয়ার প্ল্যান্ট, শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের চাপ আগের মতো ফিরে আসবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের দুটি এফএসআরইউ বা ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। এই গ্যাসের ওপর ভিত্তি করেই বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানা সচল থাকে এবং রাজধানীতে গৃহস্থালির রান্নার কাজ চলে। বর্তমানে একটি এফএসআরইউতে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি মেরামতের জন্য একটি বেসরকারি কম্পানি ও পেট্রোবাংলা একযোগে কাজ করছে এবং সরকারের জ্বালানি বিভাগ সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।
মন্তব্য