× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
The newly appointed naval chief paid tribute to the martyrs in Shika Anirban
google_news print-icon

শিখা অনির্বাণে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত নৌপ্রধান

শিখা-অনির্বাণে-শহীদদের-প্রতি-শ্রদ্ধা-জানালেন-নবনিযুক্ত-নৌপ্রধান
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম শুক্রবার ঢাকা সেনানিবাসস্থ শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি শিখা অনির্বাণের পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। মহান স্বাধীনতার লড়াইয়ে শহীদদের প্রতি এই আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর নবনিযুক্ত দায়িত্বের প্রথম দিনের কর্মসূচি শুরু করেন।

পরবর্তীতে নৌবাহিনী প্রধান নৌসদর দপ্তরে পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। তিনি গার্ড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় নৌসদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণসহ ঊর্ধ্বতন নৌ-কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান। উল্লেখ্য যে, রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

নৌবাহিনী প্রধান দেশের বিশাল সমুদ্রসীমা এবং সুনীল অর্থনীতির নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক ‘ব্লু ওয়াটার নেভি’ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যে নৌবাহিনীতে আধুনিক ফ্রিগেট, সাবমেরিন, অত্যাধুনিক সোনার ও রাডার সিস্টেমসহ সর্বশেষ প্রযুক্তির সংযোজন ঘটিয়ে দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা আরও সুসংহত করার বিষয়ে তিনি নিজের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানান।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
President Mo Sahabuddin is resigning

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা জল্পনা ও আলোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে এই পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক চাপের মুখে নয়, বরং একান্ত ব্যক্তিগত কারণেই তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


রাষ্ট্রপতির এই আকস্মিক পদত্যাগের প্রেক্ষিতে বিকাল ৫টার দিকে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে ব্রিফিং করার উদ্দেশ্যেই এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। এর আগে তিনি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার এবং পরবর্তীতে ইসলামী ব্যাংকের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবিতে সোচ্চার ছিল। আন্দোলনকারীরা তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। তবে তৎকালীন পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক জটিলতা এড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার ও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি তাঁকে অপসারণের বিষয়ে একমত হয়নি। ফলে সেই সময় তাঁর পদ বহাল থাকলেও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আচার ও অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। এমনকি জাতীয় ঈদগাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও তাঁর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ‘রয়টার্স’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি চলে যেতে চাই। এখান থেকে বেরিয়ে যেতেই আমি আগ্রহী।’ ছবি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে নিজের জন্য অবমাননাকর উল্লেখ করে তিনি ওই সাক্ষাৎকারে আরও বলেছিলেন, ‘মানুষের কাছে এর মাধ্যমে একটি ভুল বার্তা যায় যে হয়তো রাষ্ট্রপতিকেই সরিয়ে দেওয়া হতে যাচ্ছে। এটি আমাকে গভীরভাবে অপমানিত করেছে।’


চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। এর পরপরই নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। যদিও শুরুতে বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য আসেনি, তবে গত কয়েক মাস ধরে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন নিয়ে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত শপথ গ্রহণের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আজ পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বঙ্গভবন থেকে বিদায় নিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

মন্তব্য

জাতীয়
The government is working to build an exploitation free state Mirza Fakhrul

শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে কাজ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল

শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে কাজ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। শুক্রবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা) আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, ইমার্জিং অর্ডারস, অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রবল আকাঙ্ক্ষা দেশে একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই পর্যায়ে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণতন্ত্র রক্ষা আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নিজেকে মাঠের রাজনীতির একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তজনার মতো বৈশ্বিক সংকটগুলো বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং আর্থিক অনিয়মকে দেশের অর্থনীতির বর্তমান চাপের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, জনগণের সম্মিলিত শক্তি ও নতুন সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে। অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকার বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সরকার সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই সাংবিধানিক কাঠামো ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও কৃষি খাতের আধুনিকায়নের জন্য বাজেটে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

মন্তব্য

জাতীয়
I dont know anything about the resignation of the President Speaker

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানি না : স্পিকার

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানি না : স্পিকার বিমানবন্দরে বক্তব্য রাখছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন ও চলমান পরিস্থিতির মাঝেই থাইল্যান্ডে নিজের ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এক সপ্তাহ দেশের বাইরে থাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছুই জানেন না।

স্পিকার সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি।’ এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তিনি ব্যাংকক গিয়েছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ায় দেশে ফিরেছেন।

বিদেশে অবস্থানের কারণে দেশে এই সময়ে কী ঘটেছে বা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে তাঁর জানা নেই বলে মন্তব্য করেন স্পিকার। তবে দেশে ফেরার পর এখন তিনি সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন স্পিকার। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করতে চান, তবে তাঁকে স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দায়িত্ব পালনের সাংবিধানিক বিধান তুলে ধরে স্পিকার আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি পদত্যাগ করলে স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সংসদীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করতে হয়।

মন্তব্য

জাতীয়
The speaker returned to the country after shortening the visit

সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরলেন স্পিকার

সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরলেন স্পিকার ছবি: সংগৃহীত

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের জোরালো গুঞ্জনের মধ্যে নিজের বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দুপুরে রাজধানী ঢাকায় ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। থাই এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। মূলত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাঁর এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হলে স্পিকারের কাছে নিজের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। গত ১৯ জুলাই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক সফরে গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তাঁর নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে এসেছেন। সংসদ সচিবালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা স্পিকারের প্রত্যাবর্তনের খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন বা তাঁর পদটি শূন্য হয়, তবে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মোতাবেক নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই অস্থায়ী বা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন। সেই হিসেবে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জমা দিলে পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

তবে স্পিকার এই দায়িত্ব পালন করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ এবং স্পিকারের দ্রুত প্রত্যাবর্তনের ঘটনাটি সাংবিধানিক ক্ষমতার ধারাবাহিকতা রক্ষায় একটি বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য

জাতীয়
The President can resign only when the Speaker returns home
রয়টার্সের প্রতিবেদন

স্পিকার দেশে ফিরলেই ইস্তফা দিতে পারেন রাষ্ট্রপতি

স্পিকার দেশে ফিরলেই ইস্তফা দিতে পারেন রাষ্ট্রপতি ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানরত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার পর তাঁর কাছেই সই করা পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করবেন রাষ্ট্রপতি। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই শুক্রবার দুপুরে স্পিকারের ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

রয়টার্সের বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলমও রয়টার্সকে নিশ্চিত করে বলেন, “স্পিকার থাইল্যান্ড থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র দেবেন।” দেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর করার জন্য স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দেওয়া আবশ্যক। এ কারণেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দ্রুত প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১৯ জুলাই ব্যাংকক যাওয়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২৬ জুলাই ফেরার কথা থাকলেও তিনি শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে রাজধানী পৌঁছাবেন। রাষ্ট্রপতির দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মো. সাহাবুদ্দিন ইতোমধ্যে পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এমনকি বৃহস্পতিবার তিনি বঙ্গভবনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠককালে নিজের বিদায়ের প্রস্তুতির কথাও আভাস দিয়েছেন বলে একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

রয়টার্স আরও জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রপতির ওপর সরকারের পক্ষ থেকে পদত্যাগের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। এর কিছুদিন আগেই রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ নিয়ে প্রেস সচিবের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এদিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো পদক্ষেপ নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তার রয়েছে, তবে এ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে কিছু বলা হয়নি।”

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন এবং পদ শূন্য হলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই অস্থায়ীভাবে সেই দায়িত্ব পালন করবেন। ১২৩ অনুচ্ছেদের বিধানমতে, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রেক্ষিতে এখন সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতির নাম নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। যেহেতু সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলটির মনোনীত প্রার্থীরই বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আব্দুল মঈন খানের নাম বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ সচিব বা সাবেক আমলার নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকেই তাঁর সাংবিধানিক অবস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও আলোচনা চলছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণ-অভ্যুত্থান দমন অভিযানে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই পটভূমিতে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বড় ধরণের এই পরিবর্তনকে রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য

জাতীয়
Cheating traps in the digital market

ডিজিটাল হাটে প্রতারণার ফাঁদ

* বিশ্বে বছরে প্রতারণার শিকার ৬০ কোটি মানুষ * দিনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি * অনেক পেজে বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি * বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৩৪ পণ্যের মধ্যে ১৭টিই ভেজাল, মানহীন হিসেবে শনাক্ত * প্রতারণা রুখতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার ও র‌্যাবের অভিযান জোরদার  
ডিজিটাল হাটে প্রতারণার ফাঁদ প্রতীকী ছবি

তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব কল্যাণে কেনাকাটা এখন হাতের মুঠোয়। ঘরে বসেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পোশাক বা আধুনিক গ্যাজেট—সবই মিলছে এক ক্লিকে। কিন্তু এই অপরিসীম সুবিধার আড়ালেই গড়ে উঠেছে প্রতারণা ও ভেজালের এক বিশাল ও অন্ধকার নেটওয়ার্ক। একদিকে ফেসবুকের লাইসেন্সবিহীন ভুঁইফোড় পেজের ডিজিটাল সন্ত্রাস ও তথ্য চুরি, অন্যদিকে শহরের নামী এয়ারকন্ডিশনড শপিং মলের কাচের শোকেসে সাজানো ক্ষতিকর ও অনুমোদনহীন পণ্য—সব মিলিয়ে আজকের সাধারণ ভোক্তা যেন এক অদৃশ্য গোলকধাঁধায় বন্দি।

রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক দোকান এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব নকল পণ্য সহজেই বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সাম্প্রতিক অভিযানে দেশের প্রসাধনী বাজারে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির পরীক্ষায় বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৩৪টি আমদানি কসমেটিকস ও স্কিন কেয়ার পণ্যের মধ্যে ১৭টিকেই ভেজাল, অনুমোদনহীন অথবা মানহীন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষাধীন আমদানি করা প্রসাধনীর প্রায় অর্ধেকই অনিরাপদ। ফলে প্রযুক্তি যেমন দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি তা স্ক্যামারদের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এভাবে বিশ্বে প্রতি বছর গড়ে ৬০ কোটিরও বেশি মানুষ ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের স্ক্যামের ফাঁদে পড়ছে। আর প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রায় ১৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম এক্সপ্লোডিং টপিকসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বজুড়ে ঠিক কতজন মানুষ সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে বিভিন্ন গবেষণা এ সমস্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, সিঙ্গাপুর, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, পর্তুগাল ও স্পেনসহ ১৬টি দেশে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, গত তিন বছরে দেশগুলোর প্রায় ২২ কোটি মানুষ ডিজিটাল স্ক্যামের শিকার হয়েছে। এসব দেশের বাসিন্দারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-অষ্টমাংশ হওয়ায় অনুমান করা হয়, বৈশ্বিক পরিসরে প্রতি তিন বছরে প্রায় ১৮২ কোটি মানুষ অনলাইনে প্রতারিত হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে মোবাইলভিত্তিক স্ক্যাম এখনো প্রতারণার সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যমগুলোর একটি। এর মধ্যে আছে ফোনকল ও এসএমএস বার্তা।

এক জরিপ অনুযায়ী, গত ১২ মাসে ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ ফোন বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টা লক্ষ্য করেছে। ফোন ও টেক্সটের পর সবচেয়ে বেশি প্রতারণা হয় ই-মেইলে। এছাড়া অনলাইনভিত্তিক স্ক্যামের ছয়টি মাধ্যমের মধ্যে শীর্ষে আছে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপন।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ বলছে, গত এক বছরে ব্যক্তিগতভাবে (সরাসরি সাক্ষাতে) প্রতারণার শিকার হয়েছেন ১০ শতাংশের কম মানুষ। অর্থাৎ এখন স্ক্যামের বড় অংশই ঘটছে ডিজিটাল মাধ্যমে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শপিং স্ক্যাম বা অনলাইন কেনাকাটার নামে প্রতারণা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ভুয়া পার্সেল ডেলিভারির নামে এসএমএস বা ই-মেইলে লিংক পাঠিয়ে কুরিয়ার কোম্পানি বা অনলাইন বিক্রেতা সেজে প্রতারকরা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মার্কেটপ্লেসে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্থ নেয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকাউন্ট মুছে দেয়ার ঘটনাও বাড়ছে।

এদিকে আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অগ্রগতির ফলে ভয়েস ক্লোনিংয়ের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘ভিশিং’ প্রতারণা আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অপরাধীরা পরিচিত কণ্ঠ নকল করে ফোন করে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য বের করে নিচ্ছে।

সাইবার সুরক্ষা কোম্পানি জেনের সাইবার সেফটি সিটিও সিগি স্টেফনিসন বলছেন, ‘অনলাইনে প্রতারণার ধরন এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। ফাঁস হওয়া ব্যক্তিগত তথ্য ও উন্নত ডিজাইন টুলস বা এআই ব্যবহার করে প্রতারকরা খুব সহজেই কাউকে ধোঁকা দিতে পারছে।’

অন্যদিকে, বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক ই-কমার্সে নকল পণ্যের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেক পেজে বিদেশি নামি ব্র্যান্ডের ছবি ব্যবহার করে অর্ডার নেওয়া হলেও বাস্তবে সরবরাহ করা হয় অত্যন্ত নিম্নমানের পণ্য।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সাম্প্রতিক এক অভিযানে ভীতিকর চিত্র সামনে এসেছে। খোলা বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৩৪টি আমদানি করা স্কিন কেয়ার ও প্রসাধনী পণ্যের মধ্যে ১৭টিই (৫০শতাংশ) ভেজাল, অনুমোদনহীন ও মানহীন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষতি: বাংলাদেশে ৬,০০০ কোটি টাকার প্রসাধনী বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশই এখন নকল পণ্যের দখলে।

রাজস্ব ক্ষতি: অসাধু বাণিজ্যের কারণে সরকার প্রতি বছর অন্তত ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

ব্যবসায়িক ক্ষতি: বৈধ উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকরা বছরে ১৩,০০০ থেকে ১৫,০০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থ হাতিয়ে নিতে প্রতারকরা সবচেয়ে বেশি যে পদ্ধতি ব্যবহার করে তা হলো ব্যাংক ট্রান্সফার। যেহেতু বর্তমান যুগে মোবাইল ওয়ালেট বা ডিজিটাল মানিব্যাগের মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদানের ঘটনা বেশি ঘটে, স্ক্যামাররা এ সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে। অনেকের মধ্যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান কম থাকায় সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

প্রতিবেদন আরো বলছে, গত বছর স্ক্যামাররা বিশ্বজুড়ে মোট ১ দশমিক শূন্য ৩ ট্রিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। এ বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রায় পুরোটাই আর ফিরে পাওয়া যায়নি। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলো যেমন পাকিস্তান, কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের মোট জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশের বেশি অর্থ হারিয়েছে ডিজিটাল স্ক্যামের কারণে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক ব্যবসায় এখন নকল পণ্যের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেক পেজে বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। ছবি একরকম হলেও হাতে পাওয়ার পর পণ্যের মান সম্পূর্ণ ভিন্ন পাওয়া যাচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে ভোক্তারা অগ্রিম টাকা পরিশোধ করার পর প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। আবার রিটার্ন সুবিধা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অভিযোগ জানানোর সুযোগ সীমিত থাকে।

চিকিৎসকরা বলছেন, নকল প্রসাধনী, ভেজাল খাদ্য ও নিম্নমানের ওষুধ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। নকল স্কিন কেয়ার পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে ত্বকে অ্যালার্জি, সংক্রমণ এমনকি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

একইভাবে নকল ওষুধ রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে জটিলতা বাড়াতে পারে। শিশুখাদ্যে ভেজাল থাকলে শিশুদের পুষ্টিহীনতা ও নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশের ওষুধ খাতে। যে ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষার কথা, সেই ওষুধই এখন অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাজারে নকল অ্যান্টিবায়োটিক, মেয়াদোত্তীর্ণ ও দূষিত স্যালাইন, ভেজাল সিরাপ এবং নিম্নমানের উপাদানে তৈরি ওষুধ ছড়িয়ে পড়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র ময়দা, চকপাউডারসহ নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের ট্যাবলেট তৈরি করছে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসারের মতো স্পর্শকাতর রোগের নকল ওষুধও বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। ফলে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে অনেক রোগীর শারীরিক জটিলতা আরও বাড়ছে এবং ঝুঁকিতে পড়ছে মানুষের জীবন।

বৈধ ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত: নকল পণ্যের কারণে বৈধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আসল পণ্যের মান ধরে রাখতে তাদের উৎপাদন ব্যয় বেশি হলেও নকল পণ্য কম দামে বাজার দখল করছে। এতে সৎ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন রপ্তানিকারকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নকল ও ভেজাল প্রসাধনী শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিই তৈরি করছে না, একই সঙ্গে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলছে দেশের অর্থনীতিকেও।

বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার প্রসাধনী বাজারের ৪০ শতাংশই এখন নকল পণ্যের দখলে। এর ফলে প্রতি বছর সরকার অন্তত তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীরা ১৩ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

ব্যবসায়ী সংগঠন, ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নকল পণ্যের কারণে একদিকে যেমন ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের বৈধ শিল্প ও ব্র্যান্ডগুলোর সুনাম।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অধিকাংশ ভোক্তা কম দামে কিনতে গিয়ে না বুঝেই নকল পণ্য কিনছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে আসল ও নকলের পার্থক্য এতটাই সূক্ষ্ম যে সাধারণ ক্রেতার পক্ষে তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, নকল পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নজরদারি, অনলাইন বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নকল পণ্যের বিস্তার ঠেকাতে সরকার, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—তিন পক্ষকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাজার তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে।

সামান্য অসতর্কতা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াতে পারে। তাই কম দামের প্রলোভনে না পড়ে যাচাই-বাছাই করে পণ্য কেনাই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, দেশে এমন কোনো পণ্য নেই, যার নকল বাজারে পাওয়া যায় না। কোনো পণ্য কিনতে গেলেই ক্রেতাদের ভাবতে হয় সেটি আসল নাকি নকল। অথচ বিদেশে এ ধরনের শঙ্কা থাকে না।

তিনি আরও বলেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকলেও নকল পণ্যের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহারের কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

সফিকুজ্জামান উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। কিন্তু সেখানে নিম্নমানের বা নকল বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাপ সহ্য করতে না পেরে আগুন লাগার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এতে শুধু প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিই নয়, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়ে।

ভোক্তা-অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: অনলাইন ও অফলাইন প্রতারণা রুখতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানীসহ দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করেছে।

ডিজিটাল কমার্স সেল গঠন: বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা-অধিকার অধিদপ্তর যৌথভাবে ই-কমার্স জালিয়াতি রোধে বিশেষ সেল গঠন করেছে। ফেসবুক পেজে লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা এবং অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্য না দেওয়া পেজগুলোর ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/রকেট) অ্যাকাউন্ট ট্র্যাক করে ফ্রিজ (স্থগিত) করা হচ্ছে।

অনুমোদনহীন গোডাউনে হানা: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও ভোক্তা-অধিকার দপ্তর বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ডের লোগো নকল করে তৈরি করা জুতা, কসমেটিকস ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের অবৈধ গুদামে অভিযান চালিয়ে কোটি কোটি টাকার পণ্য জব্দ ও সিলগালা করছে। অভিযানে দোষী সাব্যস্তদের বিরুদ্ধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ (ধারা ৪৫ ও ৫৩) এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের ও দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মন্তব্য

p
উপরে