বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানরত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার পর তাঁর কাছেই সই করা পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করবেন রাষ্ট্রপতি। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই শুক্রবার দুপুরে স্পিকারের ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রয়টার্সের বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলমও রয়টার্সকে নিশ্চিত করে বলেন, “স্পিকার থাইল্যান্ড থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র দেবেন।” দেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর করার জন্য স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দেওয়া আবশ্যক। এ কারণেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দ্রুত প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
১৯ জুলাই ব্যাংকক যাওয়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২৬ জুলাই ফেরার কথা থাকলেও তিনি শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে রাজধানী পৌঁছাবেন। রাষ্ট্রপতির দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মো. সাহাবুদ্দিন ইতোমধ্যে পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এমনকি বৃহস্পতিবার তিনি বঙ্গভবনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠককালে নিজের বিদায়ের প্রস্তুতির কথাও আভাস দিয়েছেন বলে একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রপতির ওপর সরকারের পক্ষ থেকে পদত্যাগের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। এর কিছুদিন আগেই রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ নিয়ে প্রেস সচিবের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এদিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো পদক্ষেপ নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তার রয়েছে, তবে এ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে কিছু বলা হয়নি।”
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন এবং পদ শূন্য হলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই অস্থায়ীভাবে সেই দায়িত্ব পালন করবেন। ১২৩ অনুচ্ছেদের বিধানমতে, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রেক্ষিতে এখন সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতির নাম নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। যেহেতু সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলটির মনোনীত প্রার্থীরই বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আব্দুল মঈন খানের নাম বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ সচিব বা সাবেক আমলার নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকেই তাঁর সাংবিধানিক অবস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও আলোচনা চলছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণ-অভ্যুত্থান দমন অভিযানে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই পটভূমিতে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বড় ধরণের এই পরিবর্তনকে রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে প্রশাসনিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে একযোগে ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ শাখা-১ থেকে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামোগত রদবদলে একযোগে এতজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর এই ঘটনাটি বেশ উল্লেখযোগ্য একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন। সরকারি ওই প্রজ্ঞাপনে প্রশাসনিক নিয়মাবলি অনুসরণ করে এই কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের আগেই অবসরে পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাধ্যতামূলক অবসরে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য অবসরজনিত সব ধরনের আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়মিতভাবেই পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের এই দীর্ঘ তালিকায় পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহীল বাকী, সিআইডির ডিআইজি সানা শামীনুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ) সারদার ডিআইজি মো. ওয়ালিদ হোসেন এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) ফরিদা ইয়াসমিন। পাশাপাশি সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন ও রেবেকা সুলতানা, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি বিধান ত্রিপুরা ও সুলতানা নাজমা হোসেন এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি ড. এ কে এম ইকবাল হোসেনকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
এই প্রজ্ঞাপনের আওতায় অবসরে যাওয়া অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি সহেলী ফেরদৌস, পুলিশ একাডেমি সারদার অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান। একই সঙ্গে পুলিশ টেলিকমের অতিরিক্ত ডিআইজি হাসিনা রহমান, পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি ফয়সল মাহমুদ ও কানিজ ফাতেমা, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগম এবং টিডিএস ঢাকার পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীকেও সরকারি নির্দেশে একযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) নির্ধারিত সময়ের সাত দিন আগেই আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে। এবারের লিখিত পরীক্ষায় সর্বমোট ৬ হাজার ১৬৫ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। দেশের এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং টেলিটক মোবাইলের এসএমএস পরিষেবার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা তাদের বিস্তারিত ফলাফল জানতে পারবেন। পিএসসির পূর্বঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই ফলাফল আগামী ৩০ জুলাই প্রকাশের কথা থাকলেও, এক সপ্তাহ আগেই তা প্রকাশ করে পরীক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে কমিশন।
কমিশনের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) ১০ আগস্ট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা আগামী ১১ আগস্ট থেকে শুরু হবে। উল্লেখ্য, এই ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে সর্বমোট ২ হাজার ১৫০ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে শুধু ক্যাডার পদের সংখ্যাই রয়েছে ১ হাজার ৭৫৫টি। এই ক্যাডার পদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে, যেখানে ৬৫০ জন চিকিৎসক নেওয়া হবে; এছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন এবং পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন কর্মকর্তা নিয়োগ পাবেন।
তবে পিএসসি তাদের পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল প্রকাশের গতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ালেও এর প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর পিএসসির পক্ষ থেকে নিয়োগের সুপারিশ পাঠানো হলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ধীরগতির কারণে চূড়ান্ত নিয়োগ মাসের পর মাস আটকে থাকছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪৫, ৪৬ ও ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশের পর প্রায় আট মাস পার হয়ে গেলেও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এখনো চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি।
এরই মধ্যে ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এবং সর্বশেষ ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফলও দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা হলো। ফলে পিএসসির দিক থেকে ফলাফল প্রকাশের গতি বাড়লেও অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ধীরগতির কারণে ভেরিফিকেশনের বিশাল জটে আটকে থাকছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে একদিকে যেমন শূন্য পদগুলো পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের চূড়ান্ত নিয়োগের অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে তারা বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব এবং সরকারের সহায়ক নীতিমালার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "ব্যবসায় সফলতার জন্য সরকারের ব্যবসায়ী নীতিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, একই সঙ্গে সামর্থ্যও আছে। বাংলাদেশে নিরাপদ বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। ট্যাক্স, ভ্যাট প্রক্রিয়া সহজ করে বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার দিকে জোর দিয়েছি। বাংলাদেশ টেকসই ও স্থায়ী বিদেশী বিনিয়োগ চায়, আমরা এক হয়ে কাজ করতে চাই।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের একটি অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি সকল সেবাকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা এবং বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টিতেও সরকার বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সরকার সকলের সাথে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী।
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু ও পুনঃইস্যুর (রি-ইস্যু) কার্যক্রমের সময়সীমা আরও ছয় মাস বৃদ্ধি করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, এই বিশেষ সুবিধা এখন ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। জনস্বার্থ বিবেচনা এবং প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যেই সরকার পূর্বের আদেশের মেয়াদ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে জারি করা একটি আদেশের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সময়সীমা ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশে থাকা যেসব বাংলাদেশির পাসপোর্টে নাম, জন্মতারিখ কিংবা পিতা-মাতার নামসহ বিভিন্ন তথ্যে ভুল রয়েছে, তারা এখন নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর ফলে বৈধভাবে ভ্রমণ ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে পারেননি, তারা সরকারের এই পদক্ষেপে নতুন করে সুযোগ পাবেন। প্রজ্ঞাপনটি বাস্তবায়নের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সকল বাংলাদেশ মিশনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই বিষয়ে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পরই আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ইসি মাছউদ জানান, সংসদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও চিঠি পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি আইনগতভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর আসন শূন্য হওয়ার অর্থাৎ এমপি পদ বাতিলের বিধান রয়েছে। তবে "কোনো রাজনৈতিক দল তাদের সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করলে সেই কারণে সংবিধান অনুযায়ী উক্ত সদস্যের এমপি পদ বাতিলের কোনো আইনি সুযোগ নেই।" তিনি আরও বলেন, "এই বিষয়ে কেবল স্পিকারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ রেফারেন্স বা চিঠি পাঠালে নির্বাচন কমিশন আইনি প্রক্রিয়ায় পদ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।" সংসদ থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা সংবলিত চিঠি এলেই কমিশন পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবে।
একই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, নির্বাচন কমিশন সরকারের সঙ্গে কোনো প্রকার দূরত্ব ছাড়াই সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চলতি বছরের অক্টোবর মাসকে লক্ষ্য রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে কমিশন। নতুন করে গঠিত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের মধ্য দিয়েই এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় ইসি। আবহাওয়া পরিস্থিতি, সরকারি বিভিন্ন পরীক্ষা এবং আনুষঙ্গিক জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণ দর্শিয়ে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব মো. তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া (তারিক চয়ন) নিজ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইলে দেওয়া এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ওই পোস্টে তারিক চয়ন উল্লেখ করেন, ‘কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন থেকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণে পদত্যাগ করলাম।’ কলকাতায় কাটানো সময় ও দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেড় বছর শহরটিতে সুন্দর সময় কাটিয়েছি। অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছি।’
কলকাতা জীবনের নানা স্মৃতি, কর্মস্থলের অভিজ্ঞতা ও বন্ধুদের নিয়ে ভবিষ্যতে একটি গ্রন্থ রচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘পেশাগত জীবন, অফিস, সহকর্মী এবং কলকাতার বন্ধুদের নিয়ে ভবিষ্যতে বই লেখার ইচ্ছে আছে। সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ্ আমাদের সকলের সহায় হোন।’
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে কলকাতার উপ-হাইকমিশনে প্রথম সচিব (প্রেস) পদে নিযুক্ত করেছিল। পরবর্তীকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়, যা ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল।
কূটনৈতিক দায়িত্বে আসার আগে তারিক চয়ন দীর্ঘ সময় সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী দেশি ও বিদেশি সংবাদপত্রে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে কলাম লেখক হিসেবেও বেশ পরিচিত। জনসেবা ও কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মালয়েশিয়ায় ‘ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের ‘মৈত্রী সম্মাননা’ ও ‘সেরা বাঙালি সম্মাননা’ অর্জন করেন।
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের এক ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিক্রিয়ায় খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় "সিঙ্গাপুরসহ ছোট রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগ ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।"
উভয় দেশের বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ ও কার্যকর করতে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দক্ষ জনশক্তি অভিবাসনের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পায়। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশি প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করে জানান যে, সিঙ্গাপুর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাস্তবায়নে চলমান প্রচেষ্টা ও আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। একইসাথে রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়েও দেশটির সমর্থন প্রত্যাশা করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে সিঙ্গাপুরের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান খলিলুর রহমান। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য