তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব কল্যাণে কেনাকাটা এখন হাতের মুঠোয়। ঘরে বসেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পোশাক বা আধুনিক গ্যাজেট—সবই মিলছে এক ক্লিকে। কিন্তু এই অপরিসীম সুবিধার আড়ালেই গড়ে উঠেছে প্রতারণা ও ভেজালের এক বিশাল ও অন্ধকার নেটওয়ার্ক। একদিকে ফেসবুকের লাইসেন্সবিহীন ভুঁইফোড় পেজের ডিজিটাল সন্ত্রাস ও তথ্য চুরি, অন্যদিকে শহরের নামী এয়ারকন্ডিশনড শপিং মলের কাচের শোকেসে সাজানো ক্ষতিকর ও অনুমোদনহীন পণ্য—সব মিলিয়ে আজকের সাধারণ ভোক্তা যেন এক অদৃশ্য গোলকধাঁধায় বন্দি।
রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক দোকান এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব নকল পণ্য সহজেই বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সাম্প্রতিক অভিযানে দেশের প্রসাধনী বাজারে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির পরীক্ষায় বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৩৪টি আমদানি কসমেটিকস ও স্কিন কেয়ার পণ্যের মধ্যে ১৭টিকেই ভেজাল, অনুমোদনহীন অথবা মানহীন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষাধীন আমদানি করা প্রসাধনীর প্রায় অর্ধেকই অনিরাপদ। ফলে প্রযুক্তি যেমন দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি তা স্ক্যামারদের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এভাবে বিশ্বে প্রতি বছর গড়ে ৬০ কোটিরও বেশি মানুষ ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের স্ক্যামের ফাঁদে পড়ছে। আর প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রায় ১৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম এক্সপ্লোডিং টপিকসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বজুড়ে ঠিক কতজন মানুষ সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে বিভিন্ন গবেষণা এ সমস্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, সিঙ্গাপুর, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, পর্তুগাল ও স্পেনসহ ১৬টি দেশে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, গত তিন বছরে দেশগুলোর প্রায় ২২ কোটি মানুষ ডিজিটাল স্ক্যামের শিকার হয়েছে। এসব দেশের বাসিন্দারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-অষ্টমাংশ হওয়ায় অনুমান করা হয়, বৈশ্বিক পরিসরে প্রতি তিন বছরে প্রায় ১৮২ কোটি মানুষ অনলাইনে প্রতারিত হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে মোবাইলভিত্তিক স্ক্যাম এখনো প্রতারণার সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যমগুলোর একটি। এর মধ্যে আছে ফোনকল ও এসএমএস বার্তা।
এক জরিপ অনুযায়ী, গত ১২ মাসে ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ ফোন বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টা লক্ষ্য করেছে। ফোন ও টেক্সটের পর সবচেয়ে বেশি প্রতারণা হয় ই-মেইলে। এছাড়া অনলাইনভিত্তিক স্ক্যামের ছয়টি মাধ্যমের মধ্যে শীর্ষে আছে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপন।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ বলছে, গত এক বছরে ব্যক্তিগতভাবে (সরাসরি সাক্ষাতে) প্রতারণার শিকার হয়েছেন ১০ শতাংশের কম মানুষ। অর্থাৎ এখন স্ক্যামের বড় অংশই ঘটছে ডিজিটাল মাধ্যমে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শপিং স্ক্যাম বা অনলাইন কেনাকাটার নামে প্রতারণা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ভুয়া পার্সেল ডেলিভারির নামে এসএমএস বা ই-মেইলে লিংক পাঠিয়ে কুরিয়ার কোম্পানি বা অনলাইন বিক্রেতা সেজে প্রতারকরা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মার্কেটপ্লেসে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্থ নেয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকাউন্ট মুছে দেয়ার ঘটনাও বাড়ছে।
এদিকে আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অগ্রগতির ফলে ভয়েস ক্লোনিংয়ের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘ভিশিং’ প্রতারণা আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অপরাধীরা পরিচিত কণ্ঠ নকল করে ফোন করে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য বের করে নিচ্ছে।
সাইবার সুরক্ষা কোম্পানি জেনের সাইবার সেফটি সিটিও সিগি স্টেফনিসন বলছেন, ‘অনলাইনে প্রতারণার ধরন এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। ফাঁস হওয়া ব্যক্তিগত তথ্য ও উন্নত ডিজাইন টুলস বা এআই ব্যবহার করে প্রতারকরা খুব সহজেই কাউকে ধোঁকা দিতে পারছে।’
অন্যদিকে, বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক ই-কমার্সে নকল পণ্যের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেক পেজে বিদেশি নামি ব্র্যান্ডের ছবি ব্যবহার করে অর্ডার নেওয়া হলেও বাস্তবে সরবরাহ করা হয় অত্যন্ত নিম্নমানের পণ্য।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সাম্প্রতিক এক অভিযানে ভীতিকর চিত্র সামনে এসেছে। খোলা বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৩৪টি আমদানি করা স্কিন কেয়ার ও প্রসাধনী পণ্যের মধ্যে ১৭টিই (৫০শতাংশ) ভেজাল, অনুমোদনহীন ও মানহীন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষতি: বাংলাদেশে ৬,০০০ কোটি টাকার প্রসাধনী বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশই এখন নকল পণ্যের দখলে।
রাজস্ব ক্ষতি: অসাধু বাণিজ্যের কারণে সরকার প্রতি বছর অন্তত ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
ব্যবসায়িক ক্ষতি: বৈধ উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকরা বছরে ১৩,০০০ থেকে ১৫,০০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থ হাতিয়ে নিতে প্রতারকরা সবচেয়ে বেশি যে পদ্ধতি ব্যবহার করে তা হলো ব্যাংক ট্রান্সফার। যেহেতু বর্তমান যুগে মোবাইল ওয়ালেট বা ডিজিটাল মানিব্যাগের মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদানের ঘটনা বেশি ঘটে, স্ক্যামাররা এ সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে। অনেকের মধ্যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান কম থাকায় সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
প্রতিবেদন আরো বলছে, গত বছর স্ক্যামাররা বিশ্বজুড়ে মোট ১ দশমিক শূন্য ৩ ট্রিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। এ বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রায় পুরোটাই আর ফিরে পাওয়া যায়নি। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলো যেমন পাকিস্তান, কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের মোট জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশের বেশি অর্থ হারিয়েছে ডিজিটাল স্ক্যামের কারণে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক ব্যবসায় এখন নকল পণ্যের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেক পেজে বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। ছবি একরকম হলেও হাতে পাওয়ার পর পণ্যের মান সম্পূর্ণ ভিন্ন পাওয়া যাচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে ভোক্তারা অগ্রিম টাকা পরিশোধ করার পর প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। আবার রিটার্ন সুবিধা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অভিযোগ জানানোর সুযোগ সীমিত থাকে।
চিকিৎসকরা বলছেন, নকল প্রসাধনী, ভেজাল খাদ্য ও নিম্নমানের ওষুধ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। নকল স্কিন কেয়ার পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে ত্বকে অ্যালার্জি, সংক্রমণ এমনকি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
একইভাবে নকল ওষুধ রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে জটিলতা বাড়াতে পারে। শিশুখাদ্যে ভেজাল থাকলে শিশুদের পুষ্টিহীনতা ও নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশের ওষুধ খাতে। যে ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষার কথা, সেই ওষুধই এখন অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাজারে নকল অ্যান্টিবায়োটিক, মেয়াদোত্তীর্ণ ও দূষিত স্যালাইন, ভেজাল সিরাপ এবং নিম্নমানের উপাদানে তৈরি ওষুধ ছড়িয়ে পড়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র ময়দা, চকপাউডারসহ নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের ট্যাবলেট তৈরি করছে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসারের মতো স্পর্শকাতর রোগের নকল ওষুধও বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। ফলে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে অনেক রোগীর শারীরিক জটিলতা আরও বাড়ছে এবং ঝুঁকিতে পড়ছে মানুষের জীবন।
বৈধ ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত: নকল পণ্যের কারণে বৈধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আসল পণ্যের মান ধরে রাখতে তাদের উৎপাদন ব্যয় বেশি হলেও নকল পণ্য কম দামে বাজার দখল করছে। এতে সৎ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন রপ্তানিকারকরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নকল ও ভেজাল প্রসাধনী শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিই তৈরি করছে না, একই সঙ্গে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলছে দেশের অর্থনীতিকেও।
বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার প্রসাধনী বাজারের ৪০ শতাংশই এখন নকল পণ্যের দখলে। এর ফলে প্রতি বছর সরকার অন্তত তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীরা ১৩ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
ব্যবসায়ী সংগঠন, ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নকল পণ্যের কারণে একদিকে যেমন ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের বৈধ শিল্প ও ব্র্যান্ডগুলোর সুনাম।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অধিকাংশ ভোক্তা কম দামে কিনতে গিয়ে না বুঝেই নকল পণ্য কিনছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে আসল ও নকলের পার্থক্য এতটাই সূক্ষ্ম যে সাধারণ ক্রেতার পক্ষে তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, নকল পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নজরদারি, অনলাইন বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নকল পণ্যের বিস্তার ঠেকাতে সরকার, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—তিন পক্ষকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাজার তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে।
সামান্য অসতর্কতা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াতে পারে। তাই কম দামের প্রলোভনে না পড়ে যাচাই-বাছাই করে পণ্য কেনাই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, দেশে এমন কোনো পণ্য নেই, যার নকল বাজারে পাওয়া যায় না। কোনো পণ্য কিনতে গেলেই ক্রেতাদের ভাবতে হয় সেটি আসল নাকি নকল। অথচ বিদেশে এ ধরনের শঙ্কা থাকে না।
তিনি আরও বলেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকলেও নকল পণ্যের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহারের কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
সফিকুজ্জামান উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। কিন্তু সেখানে নিম্নমানের বা নকল বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাপ সহ্য করতে না পেরে আগুন লাগার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এতে শুধু প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিই নয়, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়ে।
ভোক্তা-অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: অনলাইন ও অফলাইন প্রতারণা রুখতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানীসহ দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করেছে।
ডিজিটাল কমার্স সেল গঠন: বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা-অধিকার অধিদপ্তর যৌথভাবে ই-কমার্স জালিয়াতি রোধে বিশেষ সেল গঠন করেছে। ফেসবুক পেজে লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা এবং অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্য না দেওয়া পেজগুলোর ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/রকেট) অ্যাকাউন্ট ট্র্যাক করে ফ্রিজ (স্থগিত) করা হচ্ছে।
অনুমোদনহীন গোডাউনে হানা: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও ভোক্তা-অধিকার দপ্তর বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ডের লোগো নকল করে তৈরি করা জুতা, কসমেটিকস ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের অবৈধ গুদামে অভিযান চালিয়ে কোটি কোটি টাকার পণ্য জব্দ ও সিলগালা করছে। অভিযানে দোষী সাব্যস্তদের বিরুদ্ধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ (ধারা ৪৫ ও ৫৩) এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের ও দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে প্রশাসনিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে একযোগে ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ শাখা-১ থেকে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামোগত রদবদলে একযোগে এতজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর এই ঘটনাটি বেশ উল্লেখযোগ্য একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন। সরকারি ওই প্রজ্ঞাপনে প্রশাসনিক নিয়মাবলি অনুসরণ করে এই কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের আগেই অবসরে পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাধ্যতামূলক অবসরে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য অবসরজনিত সব ধরনের আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়মিতভাবেই পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের এই দীর্ঘ তালিকায় পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহীল বাকী, সিআইডির ডিআইজি সানা শামীনুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ) সারদার ডিআইজি মো. ওয়ালিদ হোসেন এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) ফরিদা ইয়াসমিন। পাশাপাশি সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন ও রেবেকা সুলতানা, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি বিধান ত্রিপুরা ও সুলতানা নাজমা হোসেন এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি ড. এ কে এম ইকবাল হোসেনকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
এই প্রজ্ঞাপনের আওতায় অবসরে যাওয়া অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি সহেলী ফেরদৌস, পুলিশ একাডেমি সারদার অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান। একই সঙ্গে পুলিশ টেলিকমের অতিরিক্ত ডিআইজি হাসিনা রহমান, পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি ফয়সল মাহমুদ ও কানিজ ফাতেমা, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগম এবং টিডিএস ঢাকার পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীকেও সরকারি নির্দেশে একযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) নির্ধারিত সময়ের সাত দিন আগেই আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে। এবারের লিখিত পরীক্ষায় সর্বমোট ৬ হাজার ১৬৫ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। দেশের এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং টেলিটক মোবাইলের এসএমএস পরিষেবার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা তাদের বিস্তারিত ফলাফল জানতে পারবেন। পিএসসির পূর্বঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই ফলাফল আগামী ৩০ জুলাই প্রকাশের কথা থাকলেও, এক সপ্তাহ আগেই তা প্রকাশ করে পরীক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে কমিশন।
কমিশনের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) ১০ আগস্ট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা আগামী ১১ আগস্ট থেকে শুরু হবে। উল্লেখ্য, এই ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে সর্বমোট ২ হাজার ১৫০ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে শুধু ক্যাডার পদের সংখ্যাই রয়েছে ১ হাজার ৭৫৫টি। এই ক্যাডার পদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে, যেখানে ৬৫০ জন চিকিৎসক নেওয়া হবে; এছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন এবং পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন কর্মকর্তা নিয়োগ পাবেন।
তবে পিএসসি তাদের পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল প্রকাশের গতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ালেও এর প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর পিএসসির পক্ষ থেকে নিয়োগের সুপারিশ পাঠানো হলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ধীরগতির কারণে চূড়ান্ত নিয়োগ মাসের পর মাস আটকে থাকছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪৫, ৪৬ ও ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশের পর প্রায় আট মাস পার হয়ে গেলেও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এখনো চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি।
এরই মধ্যে ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এবং সর্বশেষ ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফলও দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা হলো। ফলে পিএসসির দিক থেকে ফলাফল প্রকাশের গতি বাড়লেও অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ধীরগতির কারণে ভেরিফিকেশনের বিশাল জটে আটকে থাকছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে একদিকে যেমন শূন্য পদগুলো পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের চূড়ান্ত নিয়োগের অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে তারা বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব এবং সরকারের সহায়ক নীতিমালার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "ব্যবসায় সফলতার জন্য সরকারের ব্যবসায়ী নীতিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, একই সঙ্গে সামর্থ্যও আছে। বাংলাদেশে নিরাপদ বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। ট্যাক্স, ভ্যাট প্রক্রিয়া সহজ করে বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার দিকে জোর দিয়েছি। বাংলাদেশ টেকসই ও স্থায়ী বিদেশী বিনিয়োগ চায়, আমরা এক হয়ে কাজ করতে চাই।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের একটি অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি সকল সেবাকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা এবং বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টিতেও সরকার বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সরকার সকলের সাথে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী।
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু ও পুনঃইস্যুর (রি-ইস্যু) কার্যক্রমের সময়সীমা আরও ছয় মাস বৃদ্ধি করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, এই বিশেষ সুবিধা এখন ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। জনস্বার্থ বিবেচনা এবং প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যেই সরকার পূর্বের আদেশের মেয়াদ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে জারি করা একটি আদেশের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সময়সীমা ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশে থাকা যেসব বাংলাদেশির পাসপোর্টে নাম, জন্মতারিখ কিংবা পিতা-মাতার নামসহ বিভিন্ন তথ্যে ভুল রয়েছে, তারা এখন নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর ফলে বৈধভাবে ভ্রমণ ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে পারেননি, তারা সরকারের এই পদক্ষেপে নতুন করে সুযোগ পাবেন। প্রজ্ঞাপনটি বাস্তবায়নের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সকল বাংলাদেশ মিশনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই বিষয়ে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পরই আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ইসি মাছউদ জানান, সংসদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও চিঠি পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি আইনগতভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর আসন শূন্য হওয়ার অর্থাৎ এমপি পদ বাতিলের বিধান রয়েছে। তবে "কোনো রাজনৈতিক দল তাদের সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করলে সেই কারণে সংবিধান অনুযায়ী উক্ত সদস্যের এমপি পদ বাতিলের কোনো আইনি সুযোগ নেই।" তিনি আরও বলেন, "এই বিষয়ে কেবল স্পিকারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ রেফারেন্স বা চিঠি পাঠালে নির্বাচন কমিশন আইনি প্রক্রিয়ায় পদ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।" সংসদ থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা সংবলিত চিঠি এলেই কমিশন পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবে।
একই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, নির্বাচন কমিশন সরকারের সঙ্গে কোনো প্রকার দূরত্ব ছাড়াই সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চলতি বছরের অক্টোবর মাসকে লক্ষ্য রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে কমিশন। নতুন করে গঠিত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের মধ্য দিয়েই এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় ইসি। আবহাওয়া পরিস্থিতি, সরকারি বিভিন্ন পরীক্ষা এবং আনুষঙ্গিক জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণ দর্শিয়ে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব মো. তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া (তারিক চয়ন) নিজ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইলে দেওয়া এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ওই পোস্টে তারিক চয়ন উল্লেখ করেন, ‘কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন থেকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণে পদত্যাগ করলাম।’ কলকাতায় কাটানো সময় ও দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেড় বছর শহরটিতে সুন্দর সময় কাটিয়েছি। অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছি।’
কলকাতা জীবনের নানা স্মৃতি, কর্মস্থলের অভিজ্ঞতা ও বন্ধুদের নিয়ে ভবিষ্যতে একটি গ্রন্থ রচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘পেশাগত জীবন, অফিস, সহকর্মী এবং কলকাতার বন্ধুদের নিয়ে ভবিষ্যতে বই লেখার ইচ্ছে আছে। সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ্ আমাদের সকলের সহায় হোন।’
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে কলকাতার উপ-হাইকমিশনে প্রথম সচিব (প্রেস) পদে নিযুক্ত করেছিল। পরবর্তীকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়, যা ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল।
কূটনৈতিক দায়িত্বে আসার আগে তারিক চয়ন দীর্ঘ সময় সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী দেশি ও বিদেশি সংবাদপত্রে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে কলাম লেখক হিসেবেও বেশ পরিচিত। জনসেবা ও কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মালয়েশিয়ায় ‘ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের ‘মৈত্রী সম্মাননা’ ও ‘সেরা বাঙালি সম্মাননা’ অর্জন করেন।
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের এক ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিক্রিয়ায় খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় "সিঙ্গাপুরসহ ছোট রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগ ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।"
উভয় দেশের বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ ও কার্যকর করতে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দক্ষ জনশক্তি অভিবাসনের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পায়। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশি প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করে জানান যে, সিঙ্গাপুর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাস্তবায়নে চলমান প্রচেষ্টা ও আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। একইসাথে রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়েও দেশটির সমর্থন প্রত্যাশা করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে সিঙ্গাপুরের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান খলিলুর রহমান। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য