২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হত্যাযজ্ঞের তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন টিমের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে এই প্রতিবেদনটি জমা দেয়। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ছাড়াও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মোজাম্মেল হক বাবু এবং ফারজানা রুপার নাম রয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর এবং তৎকালীন সময়কার পুলিশ ও র্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ডিএমপি কমিশনারকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে তদন্ত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার কাজ চলছে এবং আগামী ২১ জুলাই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা সম্পর্কে তথ্য দিতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, “তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।” তবে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ কাজ এখনও সমাপ্তি পর্যায়ে থাকায় নিহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। মামলার বর্তমান পরিস্থিতি এবং তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে অচিরেই একটি আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করা হবে বলে প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে রবিবার সকালে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান হেফাজতে ইসলামের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমির মধুপুর পীর আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে এই দলে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অন্য শীর্ষ নেতারা। তাঁরা এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের অবস্থানের ওপর গভীর রাতে পরিচালিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে বর্তমানে এই আন্তর্জাতিক তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
স্ক্যাম সেন্টার কম্পাউন্ড এবং আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধবিষয়ক আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। রোববার বিকেলে তিনি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। পুলিশ সদর দপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২০ থেকে ২১ জুলাই থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। রয়্যাল থাই পুলিশের সহযোগিতায় ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনে স্ক্যাম সেন্টার কম্পাউন্ড এবং আন্তঃ দেশীয় অপরাধী চক্রের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর অপারেশনাল সমন্বয়, আঞ্চলিক কৌশল প্রণয়ন এবং সমন্বিত যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
এতে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সম্মেলনে অংশ নেবেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বাংলাদেশের আইজিপি রয়্যাল থাই পুলিশের প্রধানের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন বলে জানায় পুলিশ সদর দপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্মেলন শেষে আগামী ২২ জুলাই আইজিপির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ন্যায়, ইনসাফ ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আজ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের শহিদ সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় এবং প্রতি পরিবারকে এক লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, অতীতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন, অসংখ্য মামলা এবং বিরোধী মত দমনের কারণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ইতিহাসের এই অধ্যায় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, স্বাধীনতার পর জনগণের প্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় দেশে বারবার গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর জনগণের ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছরের লুটপাট, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষয় অল্প সময়ে দূর করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সেই প্রচেষ্টা এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই অগ্রযাত্রা সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তিনি আরো বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম কখনো শেষ হয় না। জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও সমাজের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, কঠিন সময়েও সাংবাদিকরা সত্য তুলে ধরতে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের অবদান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
বক্তব্যে তিনি অতীতের রাজনৈতিক নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনার সত্য উদঘাটন ও বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, যা জনগণের সমর্থন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাস করে। জনগণের কল্যাণ, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ন্যায়, ইনসাফ ও সমৃদ্ধির রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল সবসময় শহিদ সাংবাদিক পরিবারের পাশে থাকবে। তাদের পরিবার ও সন্তানদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে। তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবকে ভুলতে দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে শহিদ সাংবাদিক পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে দেশপ্রেম, সততা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (১৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 'দক্ষ, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন: সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কর্মকৌশল' শীর্ষক চার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সিভিল সার্ভিস হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রধান চালিকাশক্তি। বিগত ১৭ বছরের প্রশাসনিক রাজনীতিকরণের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জনপ্রশাসনকে জনগণের প্রকৃত সেবকে রূপান্তরিত করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের যে সুউচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন। সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, নিজেদের শাসক মনে না করে জনগণের সেবক হিসেবে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক কর্মশালা বা উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, যদি না তা জনগণের প্রকৃত কল্যাণে আসে।
দেশের সঠিক নীতি প্রণয়নের স্বার্থে পরিসংখ্যান ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত রেজিমের সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের সব পরিসংখ্যান ধ্বংস করা হয়েছে। আদমশুমারি, কৃষি উৎপাদন কিংবা পার ক্যাপিটা ইনকাম বা মাথাপিছু আয়—সব ক্ষেত্রেই ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সঠিক উন্নয়নের গতিপথ নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ভরযোগ্য সংস্থায় রূপান্তরিত করা প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে কৃষি ও রেমিট্যান্স খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনও মূলত কৃষি ও কৃষকদের ওপর ভর করে টিকে আছে। তাই কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ওপর ভিত্তি করে 'এগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি' বা কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার জন্য কারিগরি শিক্ষাকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান জন্মহার নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে বলে তিনি জানান।
পরিশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, নিয়মের বাইরে কোনো কার্যক্রম চালানো যাবে না। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সরকারের উচ্চপর্যায়ে রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের আলোকে নীতি প্রণীত হয় এবং ব্যুরোক্রেসির কাজ হলো সেই নীতির ভিত্তিতে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এবং ৩১ দফা অঙ্গীকার, যার ওপর জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা বিধি মোতাবেক বাস্তবায়ন করাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টরসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ময়নাতদন্তকারী হাসপাতালগুলোতে নারী মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে কেন নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন এই রিটটি দায়ের করেন, যেখানে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. মনির উদ্দিন। এর আগে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিটি মর্গে একজন করে মহিলা ডোম নিয়োগের আবেদন জানিয়েছিলেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্য পূর্ণ রাষ্ট্র। ইসলাম ধর্মসহ সব ধর্মের নারীর মৃতদেহ সতর বা পর্দার অন্তরালে রাখা বিধান রয়েছে। ময়না তদন্ত একটা আইনি প্রক্রিয়া হলেও নারীর ক্ষেত্রে পর পুরুষের স্পর্শ বা উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও যুক্তি দেন যে, নারী ডোম থাকলে মরদেহের গোপনীয়তা ও সামাজিক মর্যাদা সুনিশ্চিত হবে। বিশেষ করে কোনো নারী সদস্যের মৃত্যুতে পরিবার যখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে, তখন একজন পুরুষ ডোম কর্তৃক ময়নাতদন্তের বিষয়টি তাঁদের জন্য আরও হৃদয়বিদারক হয়ে ওঠে।
রিট আবেদনে মর্গে নারী মরদেহের সুরক্ষা নিয়ে বেশ কিছু উদ্বেগজনক ও বিকৃত ঘটনার উদাহরণ টানা হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২২ অক্টোবর, ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা এক তরুণীর মৃত দেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার করার অভিযোগে আবু সাঈদ নামের এক ডোমকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া ২০ নভেম্বর ২০২০ সালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে লাশের সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগে মুন্না ভগত নামে একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও উল্লেখ করা হয়। আবেদনে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়, “১০০ জন মহিলার লাশের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা নিজের মুখে স্বীকার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহীওর এক মর্গ রক্ষী কেনেট ডগলাস (৬০)।”
আইনজীবী মনির উদ্দিন তাঁর আবেদনে দাবি করেন যে, আধুনিক যুগে নারীরা যখন সব ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে সমানতালে কাজ করছে, তখন ময়নাতদন্তের মতো জায়গায় নারী ডোম নিয়োগ করা হলে ধর্মীয় অনুশাসন রক্ষার পাশাপাশি বৈষম্যও দূর হবে। মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী মৃত্যুর পরও একজন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই সকল দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশের প্রতিটি ময়নাতদন্ত কেন্দ্রে অন্তত একজন করে নারী ডোম নিয়োগ এবং নারী মরদেহের সম্ভ্রম রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য একটি বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে ঢাকায় অবস্থিত দেশটির দূতাবাস। বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য কোনো রাষ্ট্র হতে ভিসার আবেদন করলে প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দুরূহ হয়ে উঠতে পারে বলে দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) এক দাপ্তরিক বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বার্তায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, “যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের নিজ দেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বা কনস্যুলেটে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করা উচিত।” সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে গিয়ে ভিসার আবেদন করলে তা মঞ্জুর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
একই সাথে দূতাবাস থেকে আবেদনকারীদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির বিষয়েও হুঁশিয়ার করা হয়েছে। জানানো হয়েছে যে, অন্য দেশ হতে আবেদন করার ক্ষেত্রে কোনো কারণে ভিসা না পেলে সংশ্লিষ্ট আবেদন ফি কোনোভাবেই ফেরত দেওয়া হবে না। তাই অহেতুক বিড়ম্বনা ও আর্থিক লোকসান এড়াতে আবেদনকারীদের নিজ দেশ হতেই যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে পাঁচ দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে তুরস্ক গিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রোববার (১৯ জুলাই) তিনি দেশটির উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বার্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সেনাবাহিনী প্রধানের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের মধ্যকার প্রতিরক্ষা বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উন্নয়ন ও শক্তিশালী করা। সফরকালীন কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি তুরস্কের বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার লক্ষ্যে তিনি তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেনাপ্রধানের এই পদচারণা দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত মৈত্রী বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। যাবতীয় নির্ধারিত কার্যসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করে আগামী সপ্তাহের দিকে সেনাপ্রধানের পুনরায় দেশে ফেরার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য