× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
Legal Aid has collected compensation of Tk 363 crore 89 lakh for indigent litigants
google_news print-icon

অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের জন্য ৩৬৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে লিগ্যাল এইড

অসচ্ছল-বিচারপ্রার্থীদের-জন্য-৩৬৩-কোটি-৮৯-লাখ-টাকা-ক্ষতিপূরণ-আদায়-করেছে-লিগ্যাল-এইড
ফাইল ছবি

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) মাধ্যমে অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের অনুকূলে ৩৬৩ কোটি ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ১৫৩ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তার বিস্তারিত তথ্য এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুরুতে জেলা পর্যায়ে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য এ আইনি সেবা প্রদান করা হয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা ও চট্টগ্রামে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল এবং দেশের কারাগারগুলোতে এ সেবা চালু করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের অনুকূলে প্রি ও পোস্ট-কেইসে ৩৬৩ কোটি ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ১৫৩ টাকা টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের ৬৪ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৩৫৬ কোটি ৮৬ লাখ ১৫ হাজার ২৩৭ টাকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে ৭ কোটি ৩ লাখ ১১ হাজার ৯১৬ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার অধীনে (লিগ্যাল এইড) সরকারি খরচে আইনি সহায়তাপ্রাপ্ত উপকারভোগী ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬৩ জন।

দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল, সরকারি আইনি সহায়তায় জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারে (টোল ফ্রি-১৬৬৯৯) এই আইনি সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

দেশে আর্থিকভাবে অসচ্ছল, অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে সরকারি খরচায় এ সেবা দেওয়া হয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
Commerce Minister calls for extension of preparation period for LDC transition by 3 years

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ৩ বছর বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ৩ বছর বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর ছবি : সংগৃহীত

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সহযোগিতা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে তিনি এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি পর্ব তিন বছর বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ (শনিবার) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকে ইকোসকের সভাপতি ও নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লোক বাহাদুর থাপা এবং ইকোসকের সহ-সভাপতি ও আলজেরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আমর বেনজামার কাছে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর পক্ষে সরকারের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন, জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক প্রভাব এবং অন্যান্য বাহ্যিক প্রতিকূলতার কারণে বাংলাদেশ নির্ধারিত প্রস্তুতি পর্বের পুরো সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ উত্তরণ বিলম্বিত করার জন্য নয়। বরং উত্তরণকে আরও মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল করাই এর উদ্দেশ্য।

মন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত এই সময় কাঠামোগত সংস্কার সুসংহত করা, সুশাসন জোরদার করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং একটি শক্তিশালী ও টেকসই মসৃণ উত্তরণ কৌশল কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ -এর সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।

ইকোসকের সভাপতি ও সহ-সভাপতি এলডিসি থেকে উত্তরণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে আলোকপাত করে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সূত্র: বাসস

মন্তব্য

জাতীয়
Bangladeshis are also trapped in human trafficking market in Cambodia as a lure for lucrative jobs

লোভনীয় চাকরির টোপ, কম্বোডিয়ায় ‘মানুষ বিক্রির’ হাটে বন্দি বাংলাদেশিরাও

* স্বপ্নের আড়ালে ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদ * বাংলাদেশিদের পাশাপাশি পাকিস্তানি, নেপালি, ভারতীয় ও ভুটানি যুবকদেরও দাস হিসেবে ব্যবহার করা হয় * প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা টানা কাজ করতে বাধ্য করা হয় * টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলেই চলে মধ্যযুগীয় বর্বরতা * ফিরে আসাদের মুখে মৃত্যুর আতঙ্ক
লোভনীয় চাকরির টোপ, কম্বোডিয়ায় ‘মানুষ বিক্রির’ হাটে বন্দি বাংলাদেশিরাও ছবি: সংগৃহীত

যে তরুণের চোখে ছিল পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচানোর স্বপ্ন, যার হাতে থাকার কথা ছিল একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশার ল্যাপটপ কিংবা মাউস; আজ তার শরীরে শোভা পাচ্ছে বৈদ্যুতিক শকের কালচে দাগ। কম্বোডিয়ার গহীন জঙ্গল, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা কিংবা সিহানুকভিলের কড়া পাহারায় থাকা বহুতল ভবনগুলো এখন পরিণত হয়েছে আধুনিক যুগের দাসত্বখানায়। সেখানে ‘কম্পিউটার অপারেটর’ কিংবা ‘ডেটা এন্ট্রি কর্মীর’ লোভনীয় চাকরির আড়ালে বন্দি রয়েছেন শত শত বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী। এটি কেবল সাধারণ কোনো মানবপাচার নয়; বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা এক ভয়ংকর ‘সাইবার দাসত্ব’ যেখানে নিজের দেশের মানুষকে জিম্মি করে বাধ্য করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক স্তরের ডিজিটাল জালিয়াতি বা স্ক্যামিং করতে।

সম্প্রতি কম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্ক্যাম সেন্টার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি। তাদের চোখে-মুখে এখনো লেপ্টে আছে মৃত্যুর আতঙ্ক। তাদের দেওয়া লোমহর্ষক জবানবন্দি এবং পুলিশ ও অভিবাসন খাতের বিশেষজ্ঞদের তথ্য বিশ্লেষণ করে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চক্রের হাড়ির খবর।

স্বপ্নের আড়ালে পাতা মরণফাঁদ: এই চক্রের শিকার সিংহভাগই দেশের শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকার তরুণ। সিরাজগঞ্জের ২৬ বছর বয়সি তোফায়েল আহমেদের গল্পটি দিয়েই শুরু করা যাক। স্নাতক শেষ করে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি ও পাশাপাশি ইন্স্যুরেন্সের কাজ করেও যখন পরিবারের হাল ধরতে পারছিলেন না, তখন তিনি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের অতি ঘনিষ্ঠ, রক্ত সম্পর্কের এক বন্ধু—যিনি নিজে চীন থেকে পড়াশোনা শেষ করে এসেছেন—তাকে কম্বোডিয়ায় দ্রুত ও ভালো বেতনের চাকরির লোভ দেখায়।

দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ হয় ঢাকার এক চায়ের দোকানে। কম্পিউটার অপারেটর পদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দাবি করা হয় ৭ লাখ টাকা। তোফায়েল ফকিরাপুলের একটি এজেন্সির মাধ্যমে এই টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু হাতে যে ভিসা আসে, তা ছিল মূলত ‘কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার’ বা নির্মাণ শ্রমিকের। দালালরা সান্ত্বনা দেয়, ‘সেখানে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

২০২৫ সালের ৩০ জুন ঢাকা থেকে রওনা হন তোফায়েল। ব্যাংককে ট্রানজিট নেওয়ার সময় ট্রানজিট ভিসার জটিলতা দেখা দিলে দালালের চক্র বিমানবন্দরের ভেতরেই বিশেষ প্রভাব খাটিয়ে তাকে বোর্ডিং পাস করিয়ে দেয়। বিমানে ওঠার ঠিক আগে দালালের এক লোক তার হাতে ধরিয়ে দেয় নগদ ২ হাজার ডলার। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে এটি হয়তো কোনো দয়ালু এজেন্সির কাজ; কিন্তু মূলত এটিই ছিল তাকে কিনে নেওয়ার প্রথম কিস্তি।

রিসিভ থেকে বন্দিশালা: কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন বিমানবন্দরে নামার পর প্রথম দুই দিন বাংলাদেশিদের রাখা হয় বেশ ভালো মানের হোটেলে। চমৎকার খাওয়া-দাওয়া আর ভালো ব্যবহার দেখে বোঝার উপায় থাকে না যে সামনে কী ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে।

তৃতীয় দিন ইন্টারভিউ বা কাজের কথা বলে যখন তাদের নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সেই গন্তব্য হয় শহর থেকে প্রায় ১২০ থেকে দেড়শ কিলোমিটার দূরের কোনো নির্জন পাহাড়ি এলাকা কিংবা থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তের কাছাকাছি কোনো কড়া পাহারাবেষ্টিত ভবন। তোফায়েল ও মানিকগঞ্জের তালাত মাহমুদের মতো ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা হুবহু এক।

স্ক্যাম সেন্টারের প্রবেশদ্বারে পৌঁছানো মাত্রই ছবি তুলে ভেতরে পাঠানো হয়। সবুজ সংকেত মিললেই বিশাল গেট পার করে তাদের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। আর ভেতরে ঢোকা মাত্রই কেড়ে নেওয়া হয় তাদের মূল পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন এবং বিমানবন্দর থেকে দেওয়া সেই ২ হাজার ডলার।

সেখানেই প্রথম প্রকাশ পায় নির্মম সত্য: তোমাকে এখানে কোনো চাকরির জন্য আনা হয়নি। তোমাকে ৩ হাজার বা ২ হাজার ডলারের বিনিময়ে আমরা কিনে নিয়েছি। এখন আমরা যা বলব, তোমাকে তাই করতে হবে।

আধুনিক সাইবার দাসত্বের ভেতরের গল্প: ‘লাভ স্ক্যাম’ ও ডিজিটাল প্রতারণা

স্ক্যাম সেন্টারের বহুতল ভবনগুলো একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দুর্গের মতো। চারদিকে কাঁটাতার, সশস্ত্র প্রহরী এবং সিসিটিভি ক্যামেরা। ভবনের এক তলায় হয়তো স্পা, সুপারমার্কেট বা খাবারের দোকান রয়েছে; কিন্তু কর্মীদের বাইরে যাওয়ার কোনো অধিকার নেই। জানালাগুলো লোহার গ্রিল দিয়ে শক্তভাবে আটকানো।

সেখানে বাধ্য করা হয় মূলত ‘লাভ স্ক্যাম’ বা রোমান্টিক প্রতারণার কাজে যুক্ত হতে। ফরিদপুরের আল আমিনের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায় এই প্রতারণার ভেতরের সুসংগঠিত রূপ।

পরিচয় চুরি ও প্রোফাইল তৈরি: প্রতিটি কর্মীকে সুন্দরী মেয়েদের নাম ও ভুয়া ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলতে দেওয়া হয়।

টার্গেট নির্ধারণ: মূলত আমেরিকা, ইউরোপ বা উন্নত দেশের বয়স্ক ও একাকী অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের টার্গেট করা হয়।

সম্পর্ক স্থাপন: দিনের পর দিন চ্যাটিং করে তাদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। আস্থা অর্জনের জন্য মাঝেমধ্যে কিছু নারীকে দিয়ে ভিডিও কলও দেওয়ানো হয়।

বিনিয়োগের ফাঁদ ও হ্যাকিং: সম্পর্ক যখন গভীর হয়, তখন তাদের কোনো ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ইনভেস্টমেন্ট স্কিমে টাকা লাগাতে প্রলুব্ধ করা হয়। সবশেষে হ্যাকারদের সহায়তায় ভুক্তভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দেওয়া হয়।

এখানে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি পাকিস্তানি, নেপালি, দক্ষিণ ভারতীয়, তামিল ও ভুটানি যুবকদেরও দাস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা টানা কাজ করতে বাধ্য করা হয় তাদের।

টার্গেট পূরণে ব্যর্থতা ও মধ্যযুগীয় বর্বরতা: স্ক্যাম সেন্টারে প্রতিদিনের কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা ‘টার্গেট’ দেওয়া থাকে। এই টার্গেট পূরণ করতে না পারলে কিংবা কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন।

তোফায়েল ও তালাত জানান, তাদের একটি নির্জন অন্ধকার ঘরে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে হাত-পা বেঁধে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো, হকিস্টিক দিয়ে অনবরত পেটানো হতো। দিনের পর দিন কেবল শুকনো নুডলস খেয়ে বেঁচে থাকতে হয়েছে তাদের, মাঝেমধ্যে তাও মিলত না। এমনকি পানি পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হতো। তালাত এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে নিজের মুখে কথা বলার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছিলেন। নারীদের অবস্থাও এর চেয়ে ভিন্ন নয়। মাইমুনা আক্তার মিলির মতো অনেক নারীও উচ্চ বেতনের লোভে গিয়ে সেখানে বছরের পর বছর বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন।

মুক্তি ও দেশে ফেরার চড়া মূল্য: এই নরককুণ্ড থেকে বাঁচার একমাত্র পথ হলো মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ। তোফায়েল নিজের বুদ্ধিমত্তায় ও যেকোনো উপায়ে বাংলাদেশ থেকে টাকা আনিয়ে সেই স্ক্যাম সেন্টার থেকে মুক্তি পান। কিন্তু মুক্তি পেলেও মেলেনি পাসপোর্ট বা বৈধ ভিসা।

কম্বোডিয়ায় ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে প্রতিদিন ১০ ডলার করে জরিমানা দিতে হয়। আড়াই মাসের বেশি অবৈধভাবে থাকায় বিশাল জরিমানা জমে তোফায়েলের। পরবর্তীতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ সহযোগিতায় জরিমানা মওকুফ করিয়ে এবং দেশ থেকে আরও ৮২ হাজার টাকা দিয়ে বিমানের টিকিট কেটে চলতি বছরের ১৪ জুন তিনি দেশে ফেরেন।

একইভাবে ১ জুলাই সরকারি ও বেসরকারি সহায়তায় ১০ জন নারীসহ ১০৯ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্যমতে, সম্প্রতি সর্বমোট ৫৮৩ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়া থেকে ফেরত এসেছেন। তবে ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের তথ্যানুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কাজের উদ্দেশে কম্বোডিয়ায় গেছেন। এই বিশাল সংখ্যার কতজন এখন স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি, তার সঠিক পরিসংখ্যান মেলা ভার।

প্রশাসনের ভূমিকা এবং আইনি সীমাবদ্ধতা: কম্বোডিয়া থেকে শত শত তরুণ সর্বস্ব হারিয়ে ফিরলেও সেই অনুপাতে মামলার সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।

সিআইডির মানবপাচার ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মানুষ নিঃস্ব হয়ে ফিরলেও আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে দ্বিধাবোধ করেন। অনেকেই ভাবেন মামলা করলে হয়রানি বাড়বে, তার চেয়ে দালালের পা ধরে যদি কিছু টাকা উদ্ধার করা যায়।

পাচারকারী চক্রও প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পাল্টাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার কম্বোডিয়া, লাউস ও ভিয়েতনামে যাতায়াতে কড়াকড়ি আরোপ করার পর পাচারকারীরা এখন জাল BMET কার্ড ব্যবহার করছে অথবা কর্মীদের ট্যুরিস্ট হিসেবে প্রথমে থাইল্যান্ডে পাঠাচ্ছে এবং সেখান থেকে সড়কপথে কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টারে চালান করে দিচ্ছে।

সচেতনতা ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার দাবি: কম্বোডিয়ার এই ‘সাইবার দাসত্ব’ কেবল একটি অভিবাসন সমস্যা নয়, এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের এক সংঘবদ্ধ নীলনকশা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও লাওসে যাওয়ার ভিসা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর করেছে।

তবে কেবল নীতিমালাই যথেষ্ট নয়। দালালরা যখন খোদ বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট পিলারের পাশে দাঁড় করিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় বোর্ডিং পাস পাইয়ে দেয়, তখন ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গলদগুলোকেও চিহ্নিত করা জরুরি। আমাদের মনে রাখতে হবে, সরকারি স্মার্ট কার্ড বা BMET ক্লিয়ারেন্স থাকলেই চাকরিটি বৈধ—এমন অন্ধবিশ্বাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে তথাকথিত ‘আইটি সেক্টর’ বা ‘কম্পিউটার অপারেটর’ পদের লোভনীয় প্রস্তাবের ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষকে শতভাগ সচেতন হতে হবে। তা না হলে, জীবিকার তাগিদে দেশ ছাড়া তরুণদের জীবনের গল্পগুলো এভাবেই ট্র্যাজেডি হয়েই থেকে যাবে।

মন্তব্য

জাতীয়
EU and G 77 will stand by Bangladesh in LDC transition

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ইইউ ও জি-৭৭

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ইইউ ও জি-৭৭ ছবি: সংগৃহীত

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকার ব্যাপারে আবারও আশ্বাস দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব ৭৭ অ্যান্ড চায়না (জি-৭৭)।

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস এবং জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং চলমান কাঠামোগত সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের স্বার্থে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাত শক্তিশালীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।’

মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত প্রস্তুতিকাল সংস্কার কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করতে, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এবং বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে মসৃণ, টেকসই ও অপরিবর্তনীয় করতে সহায়ক হবে।

সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস। তিনি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের মসৃণ এলডিসি উত্তরণে ইইউর অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তিকে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে। সরকারের বাস্তবমুখী সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করে বাংলাদেশের প্রতি জি-৭৭ এর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ কৌশল বিষয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানায়।

বৈঠক শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।’ তিনি জানান, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

জাতীয়
EU and G 77 support Bangladesh in LDC transition

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশেকে ইইউ ও জি-৭৭ এর সমর্থন

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশেকে ইইউ ও জি-৭৭ এর সমর্থন

ছবি: সংগৃহীত

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা হতে বাংলাদেশের টেকসই, স্থিতিশীল ও মসৃণ উত্তরণের পথে পাশে থাকার বিষয়ে পুনরায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব ৭৭ অ্যান্ড চায়না (জি-৭৭)। গত শুক্রবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হতে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ইতিবাচক খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিউ ইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস এবং জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের পৃথক বৈঠকে এই বৈশ্বিক সমর্থনের বিষয়টি উঠে আসে।

আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের নির্ধারিত প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বৃদ্ধি করার পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি প্রতিনিধিদের জানান যে, “চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং চলমান কাঠামোগত সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের স্বার্থে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।” মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত এই অতিরিক্ত সময় এলডিসি পরবর্তী সময়ে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং উত্তরণ প্রক্রিয়াকে অপরিবর্তনীয় করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশের সুশাসন ও উন্নয়নের অঙ্গীকারের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের এই ক্রান্তিকালে তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তিনি বাংলাদেশ ও ইইউ-এর মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে চলমান আলোচনাকে স্বাগত জানান এবং এই উত্তরণ প্রক্রিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর স্বপক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি জোটের পক্ষ হতে বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করার পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য বাংলাদেশের উত্তরণ কৌশল বিষয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন, যা বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সানন্দে গ্রহণ করেছে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকগুলোতে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বিজিএমইএ ও লেদারগুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে ইআরডি সচিব এই সংলাপকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও আশাব্যঞ্জক বলে অভিহিত করেন। এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক এই সংহতি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক।

মন্তব্য

জাতীয়
Under the guise of student movement some quarters want to fish in murky waters Home Minister

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে কিছু মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে কিছু মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের আড়ালে কিছু মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। তিনি বলেন, ‘সরকার এসব কর্মকাণ্ডকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা ঢাকা ও দু-একটি জেলায় কিছু স্পটে দেখেছি, আন্দোলনকারীদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। কিন্তু মিডিয়াতে আসায় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এগুলোতে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি না।

সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে নিজেদের পরিচয় গোপন করে কিছু মহল সবসময়ই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। সেটিই দৃশ্যমান হয়েছে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, যারা আন্দোলন করছে তাদের মধ্যে অনেকেই আসলে ছাত্র নয়, এমনকি পরীক্ষার্থীও নয়।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি ইতোমধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী ও সরকারকে জানিয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারে, তবে তাদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে সরকার নিশ্চিত করেছে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও ভারত সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আমরাও তাগাদা দিয়েছি। আমরা চাই তিনি দেশে ফিরে আসুক এবং বিচারের মুখোমুখি হোন।’

তিনি আরও যোগ করেন, যেহেতু তিনি (শেখ হাসিনা) ইতোমধ্যেই সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাই তার আদালতে আত্মসমর্পণের সুযোগ আছে কি না সেটি আইনজ্ঞরা বলবেন। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তিনি দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী রায় কার্যকরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া বিদেশের মাটিতে পলাতক বাংলাদেশের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাদের ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য

জাতীয়
Everyone must work unitedly to build a discrimination free Bangladesh Prime Minister

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জনপ্রশাসন সভা কক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুখী-সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যে যার অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জনপ্রশাসন সভা কক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছেন। তিনি অধীর আগ্রহে তাদের বক্তব্য শুনেছেন।

উপপ্রেস সচিব জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে, আগামীতে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সুজন মাহমুদ জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ অংশ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি এবং তার সরকার এমন একটা দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠীর বৈষম্য থাকবে না। সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি। কাউকে আলাদা মনে করেন না।

বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সমতলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দের পরিবর্তে গোত্র ভিত্তিক পরিচয় প্রদান, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বা রিজার্ভ বনাঞ্চল থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসতি উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ঋণ সুবিধা প্রদানের দাবি উপস্থাপন করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদেরকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান, দেশের অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধবংস করে গেছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এভাবে যদি অর্থ পাচার না হতো তাহলে আপনাদের (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যেত।

তিনি বলেন, আমাদের সরকার পর্যায়ক্রমে যেগুলো সমাধানযোগ্য সেগুলো আগে সমাধান করার চেষ্টা করছে।

দেশের বিরাজমান সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশে এত এত সমস্যা এখনো বিরাজমান দেখে এখনো বিস্মিত হই। কেননা ১৭ বছর তো এগুলো এড্রেস হওয়ার কথা ছিল। সে সময় এগুলো যদি এড্রেস করা হতো, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।

তিনি বলেছেন, আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম সেগুলো আসলে কোথায়? এখন সব চাপ টা এসেছে আমাদের সরকারের ওপরে। এই সরকারের ওপরে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চেষ্টা করছি সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।

দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ফ্যাসিস্ট সরকার ধবংস করে দিয়েছে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরেছেন বলে জানান উপপ্রেস সচিব।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওরা একটা জেনারেশকে ধবংস করে দিয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার সময়ে ৩১ বেডের হাসপাতাল স্থাপিত হয়েছে। তারপর আমাদের সরকার যখন ক্ষমতায় এসেছে ততবারই সেটার উন্নয়ন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটা ৫০ বেডে উন্নীত করা হয়েছে। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১০১ বেডে উন্নীত করার। অথচ আগের সরকার ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু সেগুলোর কোন কার্যক্রম নেই।

২০২৬-২৭ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্ধ বৃদ্ধিসহ কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিং প্রভৃতি জরুরি মেডিকেল যন্ত্রাংশের ওপরে আরোপিত কর হ্রাস করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতি কর্মী সঞ্জিব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

p
উপরে