× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
Everyone must work unitedly to build a discrimination free Bangladesh Prime Minister
google_news print-icon

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বৈষম্যহীন-বাংলাদেশ-গড়তে-সবাইকে-ঐক্যবদ্ধভাবে-কাজ-করতে-হবে-প্রধানমন্ত্রী
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জনপ্রশাসন সভা কক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুখী-সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যে যার অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জনপ্রশাসন সভা কক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছেন। তিনি অধীর আগ্রহে তাদের বক্তব্য শুনেছেন।

উপপ্রেস সচিব জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে, আগামীতে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সুজন মাহমুদ জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ অংশ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি এবং তার সরকার এমন একটা দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠীর বৈষম্য থাকবে না। সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি। কাউকে আলাদা মনে করেন না।

বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সমতলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দের পরিবর্তে গোত্র ভিত্তিক পরিচয় প্রদান, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বা রিজার্ভ বনাঞ্চল থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসতি উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ঋণ সুবিধা প্রদানের দাবি উপস্থাপন করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদেরকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান, দেশের অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধবংস করে গেছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এভাবে যদি অর্থ পাচার না হতো তাহলে আপনাদের (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যেত।

তিনি বলেন, আমাদের সরকার পর্যায়ক্রমে যেগুলো সমাধানযোগ্য সেগুলো আগে সমাধান করার চেষ্টা করছে।

দেশের বিরাজমান সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশে এত এত সমস্যা এখনো বিরাজমান দেখে এখনো বিস্মিত হই। কেননা ১৭ বছর তো এগুলো এড্রেস হওয়ার কথা ছিল। সে সময় এগুলো যদি এড্রেস করা হতো, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।

তিনি বলেছেন, আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম সেগুলো আসলে কোথায়? এখন সব চাপ টা এসেছে আমাদের সরকারের ওপরে। এই সরকারের ওপরে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চেষ্টা করছি সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।

দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ফ্যাসিস্ট সরকার ধবংস করে দিয়েছে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরেছেন বলে জানান উপপ্রেস সচিব।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওরা একটা জেনারেশকে ধবংস করে দিয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার সময়ে ৩১ বেডের হাসপাতাল স্থাপিত হয়েছে। তারপর আমাদের সরকার যখন ক্ষমতায় এসেছে ততবারই সেটার উন্নয়ন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটা ৫০ বেডে উন্নীত করা হয়েছে। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১০১ বেডে উন্নীত করার। অথচ আগের সরকার ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু সেগুলোর কোন কার্যক্রম নেই।

২০২৬-২৭ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্ধ বৃদ্ধিসহ কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিং প্রভৃতি জরুরি মেডিকেল যন্ত্রাংশের ওপরে আরোপিত কর হ্রাস করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতি কর্মী সঞ্জিব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
Under the guise of student movement some quarters want to fish in murky waters Home Minister

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে কিছু মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে কিছু মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের আড়ালে কিছু মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। তিনি বলেন, ‘সরকার এসব কর্মকাণ্ডকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা ঢাকা ও দু-একটি জেলায় কিছু স্পটে দেখেছি, আন্দোলনকারীদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। কিন্তু মিডিয়াতে আসায় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এগুলোতে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি না।

সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে নিজেদের পরিচয় গোপন করে কিছু মহল সবসময়ই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। সেটিই দৃশ্যমান হয়েছে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, যারা আন্দোলন করছে তাদের মধ্যে অনেকেই আসলে ছাত্র নয়, এমনকি পরীক্ষার্থীও নয়।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি ইতোমধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী ও সরকারকে জানিয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারে, তবে তাদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে সরকার নিশ্চিত করেছে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও ভারত সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আমরাও তাগাদা দিয়েছি। আমরা চাই তিনি দেশে ফিরে আসুক এবং বিচারের মুখোমুখি হোন।’

তিনি আরও যোগ করেন, যেহেতু তিনি (শেখ হাসিনা) ইতোমধ্যেই সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাই তার আদালতে আত্মসমর্পণের সুযোগ আছে কি না সেটি আইনজ্ঞরা বলবেন। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তিনি দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী রায় কার্যকরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া বিদেশের মাটিতে পলাতক বাংলাদেশের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাদের ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য

জাতীয়
5 crore transactions per day in online gambling

অনলাইন জুয়ায় দিনে লেনদেন ৫ কোটি টাকা

* ৬৬০০ সিমসহ গ্রেপ্তার ৬ * সাইবার নজরদারি জোরদারে চাঞ্চল্যকর তথ্য * কারবারের পেছনে বড় আন্তর্জাতিক চক্র * পেমেন্ট গেটওয়ে ও সার্ভার নিয়ন্ত্রণ করছেন চীনা নাগরিকেরা * ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এড়াতে হিসাব রাখা হয় হাতে লিখে * দেশে মোবাইল অ্যাপে চলে আন্তর্জাতিক জুয়ার ওয়েবসাইট * টাকাকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার * টাকা জমা ও উত্তোলনে বিকাশ, নগদ ও রকেট ব্যবহার
অনলাইন জুয়ায় দিনে লেনদেন ৫ কোটি টাকা ফাইল ছবি

গাজীপুরের টঙ্গীর একটি অভিজাত রিসোর্টের চার তলার একটি বিলাসবহুল কক্ষ। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে কয়েকজন তরুণ হয়তো ছুটি কাটাতে এসেছেন। কিন্তু সেই কক্ষের ভেতরে নিস্তব্ধতার আড়ালে চলছিল এক ভিন্ন কর্মযজ্ঞ। টেবিলজুড়ে সাজানো সত্তরটিরও বেশি স্মার্টফোন, ল্যাপটপ আর থরে থরে সাজানো হাজার হাজার সিম কার্ড। কোনো প্রথাগত জুয়ার আসরের মতো এখানে তাসের বোর্ডে টাকা উড়ছিল না, কিংবা ছিল না কোনো ক্যাসিনো চিপস। অথচ, প্রতি মুহূর্তে এই ঘরের ভেতরে থাকা কয়েকটি ডিভাইসের মাধ্যমে হাতবদল হচ্ছিল কোটি কোটি টাকা। গাজীপুর ও কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছয়জন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এ সময় মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ৬ হাজার ৬০০টি সিম কার্ডও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার লেনদেন করত। পরে সেই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, টঙ্গীর একটি রিসোর্ট এবং কুমিল্লার একটি হোটেলে আলাদা অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তারা হলেন আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আবদুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) ও মশিউর রহমান তারেক (২০)।

যেভাবে শুরু হলো ‘অপারেশন টঙ্গী টু কুমিল্লা’: গত কয়েক মাস ধরেই ডিবির সাইবার ক্রাইম অ্যান্ড নজরদারি ইউনিটের রাডারে আসছিল কিছু সন্দেহজনক আইপি অ্যাড্রেস এবং অস্বাভাবিক মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য। সাধারণ গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে লাখ লাখ টাকা এমন কিছু নম্বরে যাচ্ছিল, যেগুলোর কোনো বৈধ ব্যবসায়িক ভিত্তি নেই।

সাইবার নজরদারি জোরদার করতেই গোয়েন্দারা দেখতে পান, বাংলাদেশে বসে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ পরিচালনা করা হচ্ছে। এই জুয়ার প্ল্যাটফর্মগুলোতে টাকা জমা দেওয়ার (ডিপোজিট) এবং তোলার (উইথড্র) জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল দেশীয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) অ্যাকাউন্ট।

গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ডিবির দল প্রথমে হানা দেয় টঙ্গীর একটি রিসোর্টে। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আরিফুল ইসলাম রিফাতসহ তিনজনকে। তাদের ল্যাপটপ এবং মোবাইল স্ক্রিন তখনো সচল ছিল এবং লাইভ ট্রানজেকশন চলছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে আরেকটি দল রওনা দেয় কুমিল্লার একটি হোটেলের উদ্দেশ্যে। সেখানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিনজনকে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, হোতা রিফাত অত্যন্ত চতুর। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন থানায় চারটি সাইবার ও জালিয়াতির মামলা রয়েছে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে তিনি ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করতেন এবং বিলাসবহুল রিসোর্টে একাধিক রুম ভাড়া নিয়ে সাময়িকভাবে তার ‘কন্ট্রোল রুম’ স্থাপন করতেন।

৬৬০০ সিমের সমান্তরাল ব্যাংকিং সাম্রাজ্য: এই অভিযানের সবচেয়ে চোখ কপালে তোলার মতো আবিষ্কার ছিল বিপুল পরিমাণ সিম কার্ড। একজন সাধারণ নাগরিকের নামে যেখানে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম কার্ড তোলার নিয়ম, সেখানে এই চক্রের কাছে পাওয়া গেছে ৬,৬০০টি সচল সিম কার্ড, যেগুলো সচল এমএফএস অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত ছিল। এছাড়া আরও ৬৭টি অতিরিক্ত সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

এত সিম তারা পেল কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করত: তদন্তে জানা যায়, এই চক্রটি মূলত গ্রাম ও শহরের নিম্নবিত্ত বা অসচেতন মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে কিংবা কিছু অসাধু সিম বিক্রেতার সহায়তায় ভুয়া বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের মাধ্যমে এই সিমগুলো সংগ্রহ করেছিল।

সিম ব্যবহারের কৌশল ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল: ৬৬০০টি সিমকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছিল। কিছু সিম ব্যবহার করা হতো শুধুমাত্র জুয়াড়িদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য (ক্যাশ-ইন), কিছু সিম ব্যবহার করা হতো টাকা এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের জন্য, আর কিছু সিম নির্দিষ্ট রাখা হতো চূড়ান্ত ক্যাশ-আউটের জন্য।

হাতে লেখা খাতার রহস্য: প্রযুক্তির চরম শিখরে থেকেও এই চক্রটি তাদের দৈনিক হিসাবের খাতা রাখত অ্যানালগ পদ্ধতিতে। জব্দ করা নথির মধ্যে পাওয়া গেছে বড় বড় রেজিস্টার খাতা। সেখানে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রতিদিনের হাজার হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্টের নম্বর এবং লেনদেনের পরিমাণ লিখে রাখা হতো। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা ট্রেইল এড়াতেই তারা এই সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করত।

কোটি কোটি টাকা পাচারের রুট: ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, জব্দ ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে—এই চক্রটি দৈনিক প্রায় ৫ কোটি টাকার লেনদেন করত। মাসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা! কিন্তু এই বিশাল অঙ্কের টাকা বাংলাদেশে থাকত না। স্থানীয় মুদ্রা বা টাকাকে তারা অভিনব উপায়ে পাচার করে দিত। জুয়াড়িরা মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টাকা জমা দেয়। এই টাকা ৬৬০০টি এমএফএস সিমের মাধ্যমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে জমা হয়। মাঠ পর্যায়ের এজেন্টরা এই টাকা ক্যাশ-আউট করে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করে। সেই টাকা দিয়ে দেশের অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেট বা পিটুপি (P2P) প্ল্যাটফর্ম থেকে USDT বা অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনা হয়। ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে এই অর্থ চলে যায় আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টে।

ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন ট্র্যাক করা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায়, খুব সহজেই দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছিল এবং দেশের রিজার্ভে বড় ধরনের ধাক্কা লাগছিল।

নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড: এই অভিযানের সবচেয়ে বড় উন্মোচন হলো এর আন্তর্জাতিক সংযোগ। ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি আসলে এ দেশের কেউ নয়।

বাংলাদেশে যে সমস্ত অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপ (যেমন ১এক্সবেট, মেলবেট ইত্যাদি) সক্রিয় রয়েছে, সেগুলোর পেছনে রয়েছে বড় বড় আন্তর্জাতিক চক্র। এই পেমেন্ট গেটওয়ে ও মূল সার্ভারগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন চীনা নাগরিকেরা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের মূল হোতা ‘নাতান’ নামের এক চীনা নাগরিক। সে মূলত নেপথ্যে থেকে পুরো নেটওয়ার্কটি পরিচালনা করত। এই দেশীয় এজেন্টদেরকে সে নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ বা কমিশনের লোভ দেখিয়ে কাজে লাগাত। আমরা নাতানকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন সংস্থার সহযোগিতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছি। চীনা চক্রটি মূলত বাংলাদেশিদের সরলতা এবং সহজ উপায়ে ধনী হওয়ার লোভকে পুঁজি করে এই জাল বিস্তার করেছে। তারা দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে স্থানীয় এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করত, যাতে জুয়াড়িদের মনে কোনো সন্দেহ না জাগে।

তারুণ্যের অবক্ষয় ও সামাজিক ঝুঁকি: এই চক্রের সদস্যদের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—গ্রেপ্তারদের বয়স ২০ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। এই বয়সে যখন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার বা ক্যারিয়ার গড়ার কথা, তখন তারা জড়িয়ে পড়েছেন আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার ও জুয়া সিন্ডিকেটের সাথে।

সহজে বড়লোক হওয়ার নেশা, বিলাসবহুল জীবনযাপনের লোভ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার এই তরুণদের অপরাধের চোরাবালিতে টেনে নামিয়েছে। শুধু এই তরুণরাই নয়, এই অ্যাপগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ নিঃস্ব হচ্ছে। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাই বা পারিবারিক সহিংসতার মতো অপরাধে।

নীতিগত দুর্বলতা ও করণীয়: এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি আমাদের দেশের ব্যাংকিং খাত, টেলিকম সেক্টর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে কয়েকটি বড় প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।

সিম কার্ডের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কি ব্যর্থ? একজন ব্যক্তির নামে যেখানে ১৫টি সিমের সীমা রয়েছে, সেখানে একটি চক্রের কাছে ৬৬০০টি সচল সিম থাকা প্রমাণ করে যে বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় মারাত্মক ফাঁকফোকর রয়েছে। রিটেইলার বা সিম বিক্রেতাদের কঠোর নজরদারির আওতায় না আনলে এই জালিয়াতি বন্ধ করা অসম্ভব।

এমএফএস নজরদারির অভাব: একসাথে এতগুলো সিম থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হওয়া সত্ত্বেও স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদমের মাধ্যমে কেন এগুলো আগে ব্লক করা গেল না? মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্রানজেকশন মনিটরিং সিস্টেমকে আরও আধুনিক ও কঠোর করতে হবে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ন্ত্রণ: বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ হলেও অনলাইনের মাধ্যমে এর বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। পিটুপি (P2P) ট্রেডিং বা ক্রিপ্টো কেনাবেচার প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্লক বা কঠোর নজরদারিতে না রাখলে টাকা পাচার রোধ করা কঠিন হবে।

টঙ্গী ও কুমিল্লার এই অভিযানটি কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র। ডিবির এই সফলতা প্রশংসনীয় হলেও, এটি আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে যে অপরাধের ধরন এখন আর অ্যানালগ নেই। অপরাধীরা এখন প্রযুক্তির ঢাল ব্যবহার করে ঘরে বসেই দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে।

যতক্ষণ না পর্যন্ত অবৈধ সিম বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে, এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে—ততক্ষণ পর্যন্ত এই অদৃশ্য ক্যাসিনোর থাবা থেকে দেশের তরুণ সমাজ ও অর্থনীতিকে পুরোপুরি মুক্ত করা কঠিন হবে। নাতানের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের দেশীয় দোসরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই এখন সময়ের বড় দাবি।

মন্তব্য

জাতীয়
The army chief inaugurated the tree plantation campaign

সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান ছবি: সংগৃহীত

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে নির্ঝর আবাসিক এলাকায় গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন।

একই সাথে দেশের অন্যান্য সেনানিবাস, ডিওএইচএস এবং জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প এলাকাগুলোতেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬ সকল সেনানিবাস, ডিওএইচএস এবং জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প এলাকার উপযুক্ত স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির বৃক্ষসহ সৌন্দর্যবর্ধক গাছের চারা রোপণ করা হবে। এ কর্মসূচি আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চলমান থাকবে।

দেশের বনজ সম্পদ বৃদ্ধি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে সকলকে স্বপ্রণোদিত হয়ে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে সেনাসদর ও ঢাকা অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক ও অসামরিক সদস্য এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

জাতীয়
Government determined to implement election manifesto Mahdi Amin

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর সরকার: মাহদী আমিন

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর সরকার: মাহদী আমিন ছবি: সংগৃহীত

দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও নির্বাচনি ইশতেহারের মূল অঙ্গীকারগুলো ধরে-ধরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঐতিহাসিক ১৬ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি স্মরণ করে অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আত্মদানকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচিত সরকারের বয়স প্রায় পাঁচ মাস হতে চললো। এই স্বল্প সময়েই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে নির্বাচনি ইশতেহারের প্রধান-প্রধান বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য সবাই কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক মত, পথ বা আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের একসাথে কাজ করে যেতে হবে। এই নতুন বাংলাদেশে সরকারের মূলনীতিই হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা এমন এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই, যার ভিত্তি হবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার।’

মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন সবচাইতে বেশি গুম, খুন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছে। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে জনগণের পাশে থাকা এই দলটির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিক।’

সাংবাদিকদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা হচ্ছেন জাতির দর্পণ। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে আপনারা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে আজকের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও সত্য, সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত বিষয়গুলো জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে।’

বাকস্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সময় দেশে সবচেয়ে বেশি গণমাধ্যমের পথচলা শুরু হয় এবং কোনো বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়নি।’

ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যদের প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের স্থায়ী সমাধানে সংগঠনটির নতুন ভবনের জন্য দ্রুত জায়গা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন।

তিনি বলেন, ‘ডিআরইউর পক্ষ থেকে নতুন একটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তবে এখনও চূড়ান্ত জায়গা বরাদ্দ না পাওয়ায় পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।’ এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ‘গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও সংবিধানের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো সাংবাদিকদের কল্যাণে রাষ্ট্র কখনো দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করেনি।’

ঐতিহ্যবাহী ফল উৎসবের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতি বছর ডিআরইউ এই আয়োজন করে, যার মূল লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় ফলগুলোকে পরিচিত করানো।’

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির নেতা এবং সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

জাতীয়
The Invest Bangladesh Authority is liquidating the three companies

তিন সংস্থার বিলুপ্তিতে হচ্ছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’

* মূল লক্ষ্য—ওয়ান-স্টপ সার্ভিসকে শতভাগ কার্যকর করা এবং বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি শূন্যে নামিয়ে আনা
তিন সংস্থার বিলুপ্তিতে হচ্ছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ ফাইল ছবি

বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন খাতে এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণ এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিনিয়োগ সেবায় নিয়োজিত দেশের শীর্ষ তিন জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান—বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি)-কে বিলুপ্ত করে একটি একক ও শক্তিশালী মেগা সংস্থা গঠন করা হচ্ছে। নতুন এই সমন্বিত ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’।

এতদিন ভিন্ন ভিন্ন আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত এই তিন সংস্থাকে এক ছাতার নিচে আনার মূল উদ্দেশ্য হলো—বিনিয়োগকারীদের জন্য সত্যিকারের একটি ‘ওয়ান-স্টপ হাব’ তৈরি করা। এই মহাপরিকল্পনার ফলে ফাইল চালাচালির চিরাচরিত লাল ফিতার দৌরাত্ম্য যেমন কমবে, তেমনই গতি আসবে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে ব্র্যান্ডিং করতে এবং বৈশ্বিক পুঁজি আকর্ষণে এই একীভূতকরণ দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে বহুল আলোচিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ার মাধ্যমে দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে এই নতুন যুগের সূচনা হলো। নতুন এই আইনি কাঠামোর মূল লক্ষ্য—একক জানালার (Single Window) মাধ্যমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসকে শতভাগ কার্যকর করা এবং বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।

একক ছাতার নিচে তিন শক্তির সমন্বয়: নতুন আইনের মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার বিকেন্দ্রীকরণ ও সমন্বয়হীনতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিশেষ শিল্পাঞ্চল (ইকোনমিক জোন) প্রতিষ্ঠা এবং পিপিপি (PPP) প্রকল্পের যাবতীয় কার্যক্রম আলাদা আলাদা সংস্থার পরিবর্তে একক এই কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হবে। এর ফলে পূর্বের ২০১০, ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৮ সালের সংশ্লিষ্ট আইনগুলো রহিত করা হয়েছে।

শক্তিশালী ও উচ্চপর্যায়ের গভর্নিং বোর্ড: ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে, যার দৈনন্দিন চালিকাশক্তি হবেন একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য। তবে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য গঠিত গভর্নিং বোর্ডের কাঠামোতে রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া:

নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী: গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বা তার মনোনীত ব্যক্তি।

মন্ত্রিসভার অংশগ্রহণ: অর্থ, বিদ্যুৎ, পররাষ্ট্র, ভূমি, শিল্প, বাণিজ্য ও আইন মন্ত্রীরা থাকছেন এই বোর্ডে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও বেসরকারি খাত: বেসরকারি খাত থেকে ৪ জন প্রতিনিধি বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হবেন, যার মধ্যে ২ জন নারী প্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

‘সিঙ্গেল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’: বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হলো—সব ধরনের লাইসেন্স, অনুমোদন, ভিসা সুপারিশ, কাজের অনুমতি ও ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য একটি বাধ্যতামূলক ‘সিঙ্গেল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করা হচ্ছে।

বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তি: বর্তমানে চালু থাকা সব ওয়ান স্টপ সার্ভিস বা পৃথক পোর্টাল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই নতুন প্ল্যাটফর্মে একীভূত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো সংস্থা আর নিজস্ব পোর্টাল ব্যবহার করতে পারবে না। কোনো দপ্তর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেরি করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এই কর্তৃপক্ষকে।

শিল্পাঞ্চল ও পরিবেশবান্ধব ‘ব্লু ইকোনমি’: নতুন আইনে শিল্পাঞ্চল স্থাপনের ধারণায় আধুনিক বৈশ্বিক এজেন্ডাকে যুক্ত করা হয়েছে। রপ্তানি ও বাণিজ্যিক এলাকার পাশাপাশি এখন থেকে পৃথক জোন করা যাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ শিল্প, জলবায়ু সহনশীলতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা. ব্লু ইকোনমি (নীল অর্থনীতি) ও উপকূলীয় শিল্প।

প্রকল্পের প্রয়োজনে যেকোনো ভূমি অধিগ্রহণকে ‘জনস্বার্থে’ বিবেচনা করে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত বা অব্যবহৃত জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই সরাসরি বরাদ্দ দেওয়া যাবে।

জাতীয় অগ্রাধিকার ও পিপিপি প্রকল্প: আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বা জরুরি জাতীয় প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে যেকোনো প্রকল্পকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প’ ঘোষণা করা যাবে। পিপিপি প্রকল্পের দরপত্র ও দরকষাকষির নথিগুলোর গোপনীয়তা রক্ষা করার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। যেকোনো চুক্তিভিত্তিক বিরোধের ক্ষেত্রে ঢাকাতেই সালিশের মাধ্যমে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদের যৌক্তিক ব্যবহার ও শ্রমিক অধিকার: সরকারের বন্ধ বা লোকসানি শিল্প প্রতিষ্ঠান, অব্যবহৃত জমি ও শেয়ার এখন থেকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে হস্তান্তর বা কৌশলগত বিক্রয় (Strategic Sale) করা যাবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় আধুনিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা হয়েছে—বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে সর্বাগ্রে শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

সমৃদ্ধির নতুন মহাসড়ক: ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্পষ্ট বার্তা দিল—বিশ্বায়নের এই যুগে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পেছনে ফেলে স্মার্ট ইকোনমি গড়ে তুলতে দেশ প্রস্তুত। বিলুপ্ত তিন সংস্থার সমস্ত সম্পদ ও জনবল নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে স্থানান্তরিত হচ্ছে, ফলে কাজের ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হবে না। একটি সমন্বিত, ডিজিটাল এবং নারীবান্ধব নীতিনির্ধারণী কাঠামোর মাধ্যমে এই নতুন আইনটি ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি গেম-চেঞ্জার হতে যাচ্ছে।

মন্তব্য

জাতীয়
Prime Ministers call to teachers to raise children humanely

শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষকদের প্রতি শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শিশুদের মানুষ করার কারিগর আপনারা। তাই খেয়াল রাখতে হবে কোনো শিশু যেন নির্দয় হয়ে বেড়ে না ওঠে। সেটি প্রাণী হোক বা পশু-পাখির প্রতি হোক। কারও প্রতি যেন তারা নির্দয় না হয়। তাই শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলবেন আপনারা।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, গীতা ও ত্রিপিটক এবং বাইবেল থেকে কিছু অংশ পাঠ করা হয়।

এ সময় প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও শিক্ষার উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে প্রাথমিক শিক্ষা পদক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ এই অনুষ্ঠানে এসে মনে হচ্ছে আমি একটি কারখানায় ঢুকে পড়েছি। যেখানে সবাই মানুষ গড়ার কারিগর।’

সারাদেশ থেকে আসা প্রাথমিক শিক্ষকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়তে আপনাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আপনারাই পারেন শিশুদের মধ্যে পারিবারিক, সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে।’

তিনি বলেন, ‘জানি, আপনাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, কিছু সংকট আছে। সেগুলো আমরা সমাধানের চেষ্ট করব। তবে আপনাদের জন্য ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা করব। যেন আপনারা অর্জিত সেই জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সঠিকভাবে ছড়িয়েছে দিতে পারেন।’

শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার উপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তাদের প্রতি বছর একটি করে গাছ রোপণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোমরা প্রতি বছর বর্ষাকালে একটি করে গাছ লাগাবে। গাছটাও বড় হবে, সঙ্গে তোমরাও বড় হবে। গাছই হবে তোমাদের বন্ধু। গাছের নিচে বসে ক্লান্তি দূর হবে, শান্তি পাবে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

সূচনা বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন।

সারাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য শিশু শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

এ সময় দেশজুড়ে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে পদক দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের মাঝেই খুদে শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে ‘মোবাইল শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক’ এর পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শুরু হয় শিশুদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একের পর এক চলতে থাকে গান, কবিতা আবৃত্তি, নাচ ও নাটক।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিথি সারিতে বসে এসব আয়োজন উপভোগ করেন।

মন্তব্য

p
উপরে