বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৩৫৫ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা) মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এই সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫৫ হাজারের বেশি মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসামগ্রী দেওয়া হবে। বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা স্টার্ট নেটওয়ার্কের ব্যবস্থাপনায় এবং স্থানীয় ও জাতীয় বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ছয়টি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলায়– কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও মৌলভীবাজারে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে সিলেট অঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য যুক্তরাজ্য সরকার ২ লাখ ৪৫ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা) জরুরি সহায়তা দিয়েছিল। নতুন সহায়তা মিলিয়ে ২০২৬ সালে বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ পাউন্ডের বেশি (প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা)।
এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া জরুরি তহবিলের (ডিআরইএফ) মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১০টি জেলার মানুষের জন্য আরও ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪৮ পাউন্ড (প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা) সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ হাইড্রো-মেট পার্টনারশিপের আওতায় যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের জাতীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের তথ্য ব্যবহারে সহায়তা করছে।
এর ফলে বন্যার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও উন্নত হয়েছে এবং সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যার আগে দ্রুত জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের মানুষের পাশে যুক্তরাজ্য রয়েছে। এই মানবিক সহায়তা দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৫৫ হাজারের বেশি মানুষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ফাইল ছবি
বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন খাতে এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণ এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিনিয়োগ সেবায় নিয়োজিত দেশের শীর্ষ তিন জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান—বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি)-কে বিলুপ্ত করে একটি একক ও শক্তিশালী মেগা সংস্থা গঠন করা হচ্ছে। নতুন এই সমন্বিত ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’।
এতদিন ভিন্ন ভিন্ন আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত এই তিন সংস্থাকে এক ছাতার নিচে আনার মূল উদ্দেশ্য হলো—বিনিয়োগকারীদের জন্য সত্যিকারের একটি ‘ওয়ান-স্টপ হাব’ তৈরি করা। এই মহাপরিকল্পনার ফলে ফাইল চালাচালির চিরাচরিত লাল ফিতার দৌরাত্ম্য যেমন কমবে, তেমনই গতি আসবে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে ব্র্যান্ডিং করতে এবং বৈশ্বিক পুঁজি আকর্ষণে এই একীভূতকরণ দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে বহুল আলোচিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ার মাধ্যমে দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে এই নতুন যুগের সূচনা হলো। নতুন এই আইনি কাঠামোর মূল লক্ষ্য—একক জানালার (Single Window) মাধ্যমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসকে শতভাগ কার্যকর করা এবং বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।
একক ছাতার নিচে তিন শক্তির সমন্বয়: নতুন আইনের মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার বিকেন্দ্রীকরণ ও সমন্বয়হীনতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিশেষ শিল্পাঞ্চল (ইকোনমিক জোন) প্রতিষ্ঠা এবং পিপিপি (PPP) প্রকল্পের যাবতীয় কার্যক্রম আলাদা আলাদা সংস্থার পরিবর্তে একক এই কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হবে। এর ফলে পূর্বের ২০১০, ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৮ সালের সংশ্লিষ্ট আইনগুলো রহিত করা হয়েছে।
শক্তিশালী ও উচ্চপর্যায়ের গভর্নিং বোর্ড: ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে, যার দৈনন্দিন চালিকাশক্তি হবেন একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য। তবে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য গঠিত গভর্নিং বোর্ডের কাঠামোতে রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া:
নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী: গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বা তার মনোনীত ব্যক্তি।
মন্ত্রিসভার অংশগ্রহণ: অর্থ, বিদ্যুৎ, পররাষ্ট্র, ভূমি, শিল্প, বাণিজ্য ও আইন মন্ত্রীরা থাকছেন এই বোর্ডে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও বেসরকারি খাত: বেসরকারি খাত থেকে ৪ জন প্রতিনিধি বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হবেন, যার মধ্যে ২ জন নারী প্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
‘সিঙ্গেল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’: বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হলো—সব ধরনের লাইসেন্স, অনুমোদন, ভিসা সুপারিশ, কাজের অনুমতি ও ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য একটি বাধ্যতামূলক ‘সিঙ্গেল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করা হচ্ছে।
বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তি: বর্তমানে চালু থাকা সব ওয়ান স্টপ সার্ভিস বা পৃথক পোর্টাল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই নতুন প্ল্যাটফর্মে একীভূত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো সংস্থা আর নিজস্ব পোর্টাল ব্যবহার করতে পারবে না। কোনো দপ্তর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেরি করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এই কর্তৃপক্ষকে।
শিল্পাঞ্চল ও পরিবেশবান্ধব ‘ব্লু ইকোনমি’: নতুন আইনে শিল্পাঞ্চল স্থাপনের ধারণায় আধুনিক বৈশ্বিক এজেন্ডাকে যুক্ত করা হয়েছে। রপ্তানি ও বাণিজ্যিক এলাকার পাশাপাশি এখন থেকে পৃথক জোন করা যাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ শিল্প, জলবায়ু সহনশীলতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা. ব্লু ইকোনমি (নীল অর্থনীতি) ও উপকূলীয় শিল্প।
প্রকল্পের প্রয়োজনে যেকোনো ভূমি অধিগ্রহণকে ‘জনস্বার্থে’ বিবেচনা করে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত বা অব্যবহৃত জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই সরাসরি বরাদ্দ দেওয়া যাবে।
জাতীয় অগ্রাধিকার ও পিপিপি প্রকল্প: আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বা জরুরি জাতীয় প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে যেকোনো প্রকল্পকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প’ ঘোষণা করা যাবে। পিপিপি প্রকল্পের দরপত্র ও দরকষাকষির নথিগুলোর গোপনীয়তা রক্ষা করার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। যেকোনো চুক্তিভিত্তিক বিরোধের ক্ষেত্রে ঢাকাতেই সালিশের মাধ্যমে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদের যৌক্তিক ব্যবহার ও শ্রমিক অধিকার: সরকারের বন্ধ বা লোকসানি শিল্প প্রতিষ্ঠান, অব্যবহৃত জমি ও শেয়ার এখন থেকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে হস্তান্তর বা কৌশলগত বিক্রয় (Strategic Sale) করা যাবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় আধুনিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা হয়েছে—বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে সর্বাগ্রে শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
সমৃদ্ধির নতুন মহাসড়ক: ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্পষ্ট বার্তা দিল—বিশ্বায়নের এই যুগে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পেছনে ফেলে স্মার্ট ইকোনমি গড়ে তুলতে দেশ প্রস্তুত। বিলুপ্ত তিন সংস্থার সমস্ত সম্পদ ও জনবল নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে স্থানান্তরিত হচ্ছে, ফলে কাজের ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হবে না। একটি সমন্বিত, ডিজিটাল এবং নারীবান্ধব নীতিনির্ধারণী কাঠামোর মাধ্যমে এই নতুন আইনটি ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি গেম-চেঞ্জার হতে যাচ্ছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষকদের প্রতি শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শিশুদের মানুষ করার কারিগর আপনারা। তাই খেয়াল রাখতে হবে কোনো শিশু যেন নির্দয় হয়ে বেড়ে না ওঠে। সেটি প্রাণী হোক বা পশু-পাখির প্রতি হোক। কারও প্রতি যেন তারা নির্দয় না হয়। তাই শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলবেন আপনারা।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, গীতা ও ত্রিপিটক এবং বাইবেল থেকে কিছু অংশ পাঠ করা হয়।
এ সময় প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও শিক্ষার উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে প্রাথমিক শিক্ষা পদক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ এই অনুষ্ঠানে এসে মনে হচ্ছে আমি একটি কারখানায় ঢুকে পড়েছি। যেখানে সবাই মানুষ গড়ার কারিগর।’
সারাদেশ থেকে আসা প্রাথমিক শিক্ষকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়তে আপনাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আপনারাই পারেন শিশুদের মধ্যে পারিবারিক, সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে।’
তিনি বলেন, ‘জানি, আপনাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, কিছু সংকট আছে। সেগুলো আমরা সমাধানের চেষ্ট করব। তবে আপনাদের জন্য ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা করব। যেন আপনারা অর্জিত সেই জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সঠিকভাবে ছড়িয়েছে দিতে পারেন।’
শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার উপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তাদের প্রতি বছর একটি করে গাছ রোপণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোমরা প্রতি বছর বর্ষাকালে একটি করে গাছ লাগাবে। গাছটাও বড় হবে, সঙ্গে তোমরাও বড় হবে। গাছই হবে তোমাদের বন্ধু। গাছের নিচে বসে ক্লান্তি দূর হবে, শান্তি পাবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সূচনা বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন।
সারাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য শিশু শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
এ সময় দেশজুড়ে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে পদক দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের মাঝেই খুদে শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে ‘মোবাইল শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক’ এর পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শুরু হয় শিশুদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একের পর এক চলতে থাকে গান, কবিতা আবৃত্তি, নাচ ও নাটক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিথি সারিতে বসে এসব আয়োজন উপভোগ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক (মেরিটাইম) খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে বড় ধরনের আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি আরব। বিশেষ করে কোল্ড স্টোরেজ থেকে শুরু করে বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং লজিস্টিকস সাপ্লাই চেইনের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোয় ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে অংশীদারত্বের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিনিয়োগ ভবনে সফররত সৌদি আরবের পরিবহন ও লজিস্টিকস উপমন্ত্রী ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগের সার্বিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এছাড়া পিপিপিএ, বিডা ও বেজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনাকালে সৌদি উপমন্ত্রী বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার সরকারি উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের এই নীতিগত অবস্থান সৌদি আরবের নিজস্ব অর্থনৈতিক রূপকল্পের সঙ্গে দারুণভাবে মিলে যায়।
ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহ বলেছেন, ‘সৌদি আরব নিজেকে একটি বৈশ্বিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে এবং আমাদের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক বিনিয়োগে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর ব্যবসার পরিধি আরও বাড়াতে চাই। একই সঙ্গে সৌদি আরবে ব্যবসা করতে আগ্রহী বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাব।’
সৌদি বিনিয়োগের সফল উদাহরণ হিসেবে উপমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ‘রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল’ (আরএসজিটি)-এর কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই টার্মিনালের ৯৮ শতাংশের বেশি কর্মীই বাংলাদেশি। এই সফলতার সূত্র ধরে বাংলাদেশের সামুদ্রিক লজিস্টিকস খাতের আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে আরএসজিটি আরও বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে।
বৈঠক শেষে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, ‘লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্কের মতো কিছু নির্দিষ্ট খাতে সৌদি আরবের গভীর আগ্রহ রয়েছে, যা আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গেও মিলে যায়। এ ছাড়া আমরা আর্থিক সেবা খাতেও সৌদি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।’
আশিক চৌধুরী আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ ও সুযোগগুলো বোঝাতে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি সৌদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু হয়েছে, যাতে আলোচনাগুলোকে দ্রুত বাস্তব রূপ দেওয়া যায়।
দুই দেশের প্রতিনিধিরাই মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক লাভজনক প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব, যা আগামী দিনে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান সরকার কোনোভাবেই চরমপন্থা ও উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণেও সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই কোনো চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। সরকারের এই অবস্থানের পক্ষে বিরোধী দল পুরোপুরি সহযোগিতা করবে বলেও বিশ্বাস করেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাপনী বক্তব্যে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে স্বৈরাচারের সময়ে প্রতিবছর এ দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করে দেওয়া হয়েছে। সব সমস্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে এই দুর্নীতি। হাত বেঁধে হোক, টুঁটি চেপেই হোক, দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পেশাদার বাহিনীতে পরিণত করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
যেকোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার বিষয়ে জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মতভিন্নতা থাকবে, তবে অবশ্যই শত্রুতা নয়। প্রতিহিংসা-প্রতিশোধের পরিবর্তে থাকবে ন্যায়পরায়ণতা। এই বাংলাদেশ যাতে আর কখনোই ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচারের কবলে না পড়ে, এই প্রশ্নে সংসদের বিরোধী দল এবং সরকারি দল...আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে চাই... আমাদের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্য, সেই ঐক্য বজায় থাকবে।’
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে পাঁচটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যম অধিকারবিষয়ক সংস্থা। একই সঙ্গে ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুসহ বিচারপূর্ব আটকাবস্থায় (প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশন) থাকা চার সাংবাদিককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৩ সালের ৫-৬ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে পরিচালিত নিরাপত্তা অভিযানের সংবাদ কভারেজের জেরে রূপা ও বাবুর বিরুদ্ধে আইসিটিতে তদন্ত চলছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তারা নিহতের সংখ্যা নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ ছড়িয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে ভূমিকা রেখেছেন। এই মামলায় গত ১৪ মে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগপত্র বা প্রমাণ হাজির করা হয়নি।
সংস্থাগুলো বলছে, কোনো রাজনৈতিক বা বিতর্কিত ঘটনার সংবাদ প্রচার বা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার করা আইনগতভাবে ভুল। এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তাদের দাবি গণমাধ্যমের ওপর ভীতিকর প্রভাব তৈরি হয়।
সংস্থাগুলোর মতে, রূপা এবং বাবুর বিরুদ্ধে আইসিটিতে নেওয়া এই পদক্ষেপ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির (ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস) ১৫ এবং ১৯ অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতার পরিপন্থি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক ফারজানা রূপা, মোজাম্মেল বাবু, শাকিল আহমেদ ও শ্যামল দত্তকে ২০২৪ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর থেকে বিচারপূর্ব আটকাবস্থায় রাখা হয়েছে। এসব মামলার কোনোটিতেই এখন পর্যন্ত অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি এবং সংবাদ প্রচারের কারণে কীভাবে হত্যার অভিযোগ আনা যায়, তার কোনো ব্যাখ্যাও নেই।
এ বছরের ১১ মে হাইকোর্ট রূপা ও শাকিল আহমেদকে অধিকাংশ মামলায় জামিন দিলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তা স্থগিত করেন। সংস্থাগুলোর মতে, হত্যা মামলাগুলোর জামিনের সিদ্ধান্ত যা-ই হোক না কেন, আইসিটির এই মামলাটি সাংবাদিকদের অব্যাহতভাবে আটকে রাখার একটি পৃথক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সংস্থাগুলো আহ্বান জানিয়েছে, কেবল সাংবাদিকতার কারণে ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুকে যেন আনুষ্ঠানিক আসামি করা না হয়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইসিটির মামলাগুলো পর্যালোচনায় একটি স্বাধীন ব্যবস্থা গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিক ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল বাবু এবং শ্যামল দত্তের বিরুদ্ধে আনা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ অভিযোগ প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তি এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে মামলা ও গণ এফআইআর দায়ের বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংস্থাগুলো উল্লেখ করেছে, সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করার এই পদক্ষেপগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তাই উল্লিখিত মামলাগুলো প্রত্যাহারের মাধ্যমেই সরকার এই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তরিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
তৃণমূলের ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, ‘বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে, যেখানে শিক্ষার্থীরাই হবে আগামী দিনের মূল কারিগর।’
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকায় আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, তার অন্যতম ভিত্তি হলো তৃণমূলের ক্ষমতায়ন।’
দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ও এগিয়ে যাওয়ার অভিযাত্রাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সেই দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন ঘটছে এ আয়োজনে।
এবারের আয়োজনের বিশেষত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, ‘দেশের ৬৪টি জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই উৎসবে অংশ নিয়েছে। যার মধ্যে বন্যাকবলিত ৭টি জেলার প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির খুদে শিক্ষার্থীরাও রয়েছে।’
তারা প্রবল বন্যা ও নানা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে নিজ নিজ জেলার স্বাতন্ত্র্য, সাফল্য ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে আজ এখানে উপস্থিত হয়েছে। প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার এই অদম্য মানসিকতাই প্রমাণ করে, আগামীর বাংলাদেশের কান্ডারি এরাই।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান অনন্য। তার হাত ধরেই দেশজুড়ে ‘‘গণশিক্ষার’’ আলো ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে ‘‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়’’ পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।’
আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বারবার তৃণমূলে ছুটে গিয়ে ভালো শিক্ষক, ভালো শিক্ষার্থী এবং যুগোপযোগী কারিকুলাম নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। বর্তমান সরকার সেই ধারা বজায় রেখে শিক্ষাক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করে মাহদী আমিন জানান, শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবেশ ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আজ দেশের প্রায় ৬৫ হাজার স্কুলে একযোগে ২ লাখ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পরিচর্যা করবে।
এ ছাড়া অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার সফল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। আগামীতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতায় ‘প্রাইম-মিনিস্টার্স ফুটবল গোল্ড কাপ’ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে বছরজুড়ে দেশব্যাপী মেধা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু রাখার নতুন রূপকল্পও ঘোষণা করেন তিনি।
খুদে শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর আবেগ ও উচ্ছ্বাসের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘এটিই প্রমাণ করে একজন জনগণের নেতা রাষ্ট্র পরিচালনায় এলে কীভাবে দেশের ভাগ্য বদলে যায়।’
তিনি দেশের বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য