× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
The country should be made greener and livable PM
google_news print-icon

দেশটাকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশটাকে-আরও-সবুজ-ও-বাসযোগ্য-করে-গড়ে-তুলতে-হবে-প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে কোমলমতি শিশুদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রতিটি শিশুকে প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ করেন।

বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানের আগে সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

দেশটাকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

একযোগে ২ লাখ চারা রোপণ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সারা দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রায় ২ লাখ চারা রোপণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে একটি ‘নিম’ গাছের চারা রোপণ করে এই মহতী উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

গাছ নিয়ে গবেষণার পরামর্শ
উপস্থিত শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা চেষ্টা করবে প্রতি বছর একটি করে গাছ রোপণ করতে। সেটি তোমাদের স্কুলে হোক বা বাসার আশপাশে। যেখানে জায়গা পাবে সেখানেই একটি করে গাছ লাগাবে।’

প্রধানমন্ত্রী শিশুদের শুধু গাছ লাগাতেই উৎসাহিত করেননি, বরং গাছ নিয়ে জ্ঞান অর্জনেরও পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘গাছটি কী পরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদন করে এবং মানুষের কী কী উপকারে আসে, এই বিষয়গুলো তোমরা ইন্টারনেট ঘেঁটে রিসার্চ (গবেষণা) করবে। এভাবে প্রতি বছর তোমরা একেকটি গাছ সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য জানতে পারবে।’

পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব
গাছের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘স্কুলে লাগানো গাছ বড় হলে সেটি তোমাদের ছায়া দেবে, ক্লান্তিতে বিশ্রাম নিতে পারবে। আর বাসায় গাছ লাগালে তার নির্মল বাতাস ঘরকে শীতল রাখবে।’ আজকের দিনটিকে পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে একটি ‘স্মরণীয় দিন’ হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি।

বৃক্ষরোপণ শেষে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রাণ-প্রকৃতি বিষয়ক বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং শিশুদের মেধার প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
The Prime Minister called upon the students to plant one tree every year

প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বছরে অন্তত একটি করে ফলজ, বনজ বা ঔষধি গাছ লাগানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান শেষে তিনি দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, কুইজ ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। উপজেলা হতে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রতিযোগিতায় দেশের প্রায় ২ কোটি ১৮ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের হাতে এদিন প্রধানমন্ত্রী ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ তুলে দেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এদিন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়েও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ১৫টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১২ হাজার ৩৮৪ জন ব্যক্তি এবং ৬৫ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্য হতে নির্বাচিত সেরাদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শিশুদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বৃক্ষরোপণ অভিযানের সূচনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, শৈশব হতে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পরিবেশ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

মন্তব্য

জাতীয়
4000 crore investment plan
ইভি  বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ

৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা

৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ছবি: সংগৃহীত

পেট্রোলের ঝাঁঝালো গন্ধ, সীসা-মিশ্রিত কালো ধোঁয়া আর ইঞ্জিনের কানফাটা গর্জন পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ এক নতুন ভোরের মুখোমুখি। ধুলোবালি আর যানজটের চাদরে ঢাকা এই বদ্বীপে নিঃশব্দে এক বিপ্লবের বীজ বোনা হচ্ছে, যার নাম ইলেকট্রিক মোবিলিটি বা ইভি (EV)। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শুল্কের লৌহকপাট ভেঙে সরকার যে অভূতপূর্ব কর ছাড় ও প্রণোদনার ডালি সাজিয়েছে, তা দেশের অটোমোবাইল ইতিহাসে এক স্মরণীয় জোয়ার এনেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলো কেবল আমদানির খোলস ছেড়ে বেরিয়ে নিজস্ব কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের এক মহাপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে।

তবে, স্বপ্নের এই সিল্ক রুটে লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের চেয়েও বড় দুটি স্পিডব্রেকার দাঁড়িয়ে আছে—প্রথমটি হলো গ্রিডের অবিশ্বাস্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দুর্বল কারিগরি মান, আর দ্বিতীয়টি হলো কোটি কোটি টাকার চার্জিং স্টেশনের দীর্ঘমেয়াদি লোকসান ও অনিশ্চিত লাভজনকতা (ROI)।

বাংলাদেশের ইভি সাম্রাজ্যের নতুন সারথী: বাংলাদেশি শিল্পোদ্যোক্তারা এবার আর দর্শক সারিতে নেই। তারা চীনের বিওয়াইডি (BYD) কিংবা মার্কিন টেসলার (Tesla) মতো বিশ্বসেরা মডেলের সমকক্ষ ইকোসিস্টেম দেশেই তৈরি করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন। নিচে পাইপলাইনে থাকা প্রধান বিনিয়োগকারী ও তাদের যুদ্ধকৌশল বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড: চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশের বৃহত্তম সমন্বিত ইভি কারখানা গড়ছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

মূল লক্ষ্য: কেবল গাড়ি সংযোজন নয়, ব্যাটারি থেকে শুরু করে চ্যাসিস ও বডি—সবকিছুই স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা।

প্রযুক্তির চমক: তাদের উৎপাদিত প্রথম সারির গাড়িগুলো একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে ৪৫০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিতে পারবে। আর আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটে শূন্য থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব হবে।

রানার অটোমোবাইলস ও বিওয়াইডি অংশীদারিত্ব: বিশ্বের এক নম্বর ইভি নির্মাতা BYD-এর সাথে হাত মিলিয়ে রানার ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের রাস্তায় ১,০০০-এর বেশি প্রিমিয়াম ইভি নামাতে সক্ষম হয়েছে।

মূল লক্ষ্য: রানার ধাপে ধাপে ২৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে গাড়ি উৎপাদন ও এসেম্বলি লাইন তৈরি করছে।

অবকাঠামো: BYD গ্রাহকদের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বগুড়া ও কক্সবাজারে নিজস্ব ব্র্যান্ডেড চার্জিং হাব তৈরি করেছে এবং দক্ষ মেকানিক গড়ে তুলতে ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করেছে।

নাসির গ্রুপ ও আকিজ মোটরস : শিল্প খাতের দুই জায়ান্ট নাসির ও আকিজ গ্রুপ প্রত্যেকে ৫০০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগের পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে। আকিজ মোটরস মূলত সাশ্রয়ী মূল্যের মিনি ইভি এবং পণ্য পরিবহনের উপযোগী লাইট কমার্শিয়াল ইভি বা ছোট ইলেকট্রিক ট্রাক তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে, যা দেশের ই-কমার্স ডেলিভারি খাতে বিপ্লব ঘটাতে পারে।

ওয়ালটন ও প্রাণ-আরএফএল: দেশের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন এবং ফুড অ্যান্ড প্লাস্টিক জায়ান্ট প্রাণ-আরএফএল মূলত টু-হুইলার তথা ই-বাইক, ইলেকট্রিক স্কুটার ও ই-থ্রি-হুইলারের বাজার ধরতে প্রত্যেকে ২০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করেছে। তাদের লক্ষ্য—মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করা।

অডি বাংলাদেশ ও ‘এখন চার্জ’ (ইকোসিস্টেম পার্টনার): লাক্সারি সেগমেন্টের নেতৃত্ব দেওয়া অডি বাংলাদেশ এবং দেশের বৃহত্তম চার্জিং নেটওয়ার্ক ‘এখন চার্জ’ দেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ ইভি সল্যুশন হিসেবে যৌথভাবে কাজ করছে। তারা ইতোমধ্যে ১৫০টির বেশি হোম চার্জিং ইউনিট স্থাপন করেছে এবং মহাসড়কগুলোতে ৫টি হাই-স্পিড বাণিজ্যিক চার্জিং স্টেশন সচল রেখেছে।

গ্রিডের অগ্নিপরীক্ষা: ইভি খাতের উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন হলো বিদ্যুতের গুণগত মান এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। রানার অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান এই কারিগরি জটটি চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

হোম চার্জিং বনাম আল্ট্রা-ফাস্ট হাইওয়ে চার্জিং: প্রতিটি গাড়ির সাথে দেওয়া হোম চার্জার দিয়ে সাধারণ গৃহস্থালি লাইন (220V) থেকে চার্জ করা যায়। এতে সময় লাগে ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা। এটি সাধারণ গ্রিডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে না।

বাণিজ্যিক চার্জিং (ডিসি আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জার): হাইওয়েতে বা জরুরি প্রয়োজনে একজন চালক সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে চাইবেন। এই ফাস্ট-চার্জিংয়ের জন্য ১০০ কিলোওয়াট থেকে ৩৫০ কিলোওয়াট বা তার চেয়েও বেশি ক্ষমতার সরাসরি বিদ্যুৎ (DC) সংযোগ প্রয়োজন।

গ্রিডের দুর্বলতা ও সাবস্টেশনের রাজকীয় খরচ: বাংলাদেশের বর্তমান গ্রিড লাইনে যে পরিমাণ ভোল্টেজ ফ্ল্যাকচুয়েশন বা লোডশেডিং হয়, তাতে এই আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জারগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন। একটি হাই-স্পিড চার্জিং স্টেশন স্থাপন করতে কেবল চার্জিং মেশিন কিনলেই হয় না, তার জন্য দরকার নিজস্ব ডেডিকেটেড সাবস্টেশন ও বড় ট্রান্সফরমার।

একটি সাধারণ লেভেল-২ স্টেশনের খরচ যেখানে প্রায় ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা, সেখানে সাবস্টেশনসহ একটি হাই-স্পিড আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জিং স্টেশনের পেছনে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়ে যায় ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা!

সৌর-ভিত্তিক চার্জিং: গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে স্রেডা এখন সৌরশক্তি চালিত (Solar-powered) ইভি চার্জিং হাব তৈরির দিকে জোর দিচ্ছে।

ইভি বিপ্লব সফল করার ৩টি চাবিকাঠি: বাংলাদেশের ইভি রূপান্তরের পরবর্তী ধাপ কেবল ‘বিনিয়োগের ঘোষণা’ বা খবরের কাগজের হেডলাইনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (DCCI)-এর সাবেক সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেনের মতে, এই বিপ্লব সফল করতে নিচের তিনটি মহৌষধ প্রয়োজন:

সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বাজারের শুভসূচনা: বাজার যখন প্রাথমিক ধাপে থাকে, তখন কেবল বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কোটি কোটি টাকা লোকসান দিয়ে চার্জিং স্টেশন বসাতে বাধ্য করা অন্যায়। সরকারকে শুরুতে এগিয়ে আসতে হবে। হাইওয়ের সরকারি ফিলিং স্টেশন বা বিআরটিসি ডিপোগুলোতে নিজস্ব খরচে চার্জিং নেটওয়ার্ক বসিয়ে বাজারকে চাঙ্গা করতে হবে।

অপ্রাতিষ্ঠানিক যানকে মূলধারায় আনা ও সঠিক ডেটাবেজ: বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা বা ইজি বাইক) চলছে। এগুলো সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক গ্রিড থেকে বা চোরাই লাইনে চার্জ হচ্ছে। এই ৬০ লাখ যানবাহনকে যদি আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে দক্ষ থ্রি-ফেইজ চার্জিংয়ের আওতায় আনা যায়, তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং সরকারের রাজস্ব কোটি কোটি টাকা বাড়বে।

গ্রিন গ্রিড ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়: বিদ্যুতের ঘাটতি ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বহাল রেখে যদি আমরা হাজার হাজার ইভি রাস্তায় নামাই, তবে তা পরিবেশবান্ধব হবে না। গাড়ি চলবে কয়লার বিদ্যুতে, যা প্রকারান্তরে পরিবেশের ক্ষতিই করবে। তাই ইভি চার্জিংকে অবশ্যই নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ)-এর সাথে ট্যাগ করতে হবে।

প্রতি কিলোমিটারে ৭০শতাংশ সাশ্রয়ই কি তুরুপের তাস: অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইভির কোনো বিকল্প নেই। মহাসড়কে একবার ফুল চার্জ দিতে খরচ হয় মাত্র ৩০৮ থেকে ৭৫৯ টাকা। যেখানে একটি পেট্রোল বা অকটেন চালিত গাড়ির প্রতি কিলোমিটারের ব্যয়ের তুলনায় ইভি চালানো প্রায় ৭০ শতাংশ সাশ্রয়ী।

বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত এই বিপুল সাশ্রয়ের অংকটি বুঝতে শুরু করেছে। কিন্তু এই ৪,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ সফল করতে হলে এবং গ্রাহকের মনের ভয় দূর করতে হলে সরকারকে অতি দ্রুত মহাসড়কগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন, ডেডিকেটেড গ্রিড লাইন এবং কারিগরি স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (যেমন সব গাড়ির জন্য একই চার্জিং পোর্ট বা প্লাগ) নিশ্চিত করতে হবে। তবেই বাংলাদেশের সড়কগুলোতে রচিত হবে দূষণমুক্ত, শব্দহীন এক নতুন গতিময় ইতিহাস।

মন্তব্য

জাতীয়
The government is providing assistance from Tk 5 lakh to Tk 5 crore to startups

স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তা দিচ্ছে সরকার

* এ উদ্যোগ জাতীয় পর্যায়ের লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করবে * চলতি বাজেটে থাকছে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড
স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তা দিচ্ছে সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব হাসান আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

আইসিটি বিভাগ থেকে স্টার্টআপের জন্য ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মেধাবী উদ্যোক্তাদের সহযোগীতা করতে সরকার প্রস্তুত। আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে ৫০০ কোটি টাকার বাজেট রাখা হয়েছে। ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত একজন স্ট্যার্টআপ উদ্যোক্তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব হাসান আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, এখন কাজ করার সময়। যারা নতুন উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চান তাদের জন্য কাজটি অনেক কঠিন। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি থাকলে সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের অনেক কষ্টের মধ্যদিয়ে যেতে হবে। তবে সরকার আপনাদের পাশে আছে সহযোগিতা করার জন্য। আপনাদের পথ দেখানোর জন্য। আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আপনাদের অনেকে বেশ এগিয়ে গেছেন। মানুষ ও সমাজের জন্য, সামগ্রিকভাবে দেশের উপকার করছেন। দেশের লাখো কোটি মানুষের আপনাদের প্রয়োজন। এই দেশেরও প্রয়োজন আপনাদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। উদ্বোধনী পর্ব শেষে বেলা ১টা থেকে অনুষ্ঠানটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উদ্বোধন করা হবে জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা চিন্তা করেছি, এমন উদ্যোক্তা থাকে যাকে ব্যাংকের হ্যাচেলগুলো সিকিউরিটি বা কাগজ দিতে হয়, এটি যাতে ফেস করতে না হয়, সে জন্য কমিটি করা হয়েছে। এতে মন্ত্রী বা উপদেষ্টারা নেই। নিরপেক্ষ কমিটি, তারা বিষয়টি দেখবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করে বলেন, বাবার জমি বা সম্পত্তি দেখে ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হয়। কিছু ভিন্ন উপায়ও আছে। তবে তা যথার্থ নয়। যাদের ভালো স্টার্টআপ ধারণা আছে, কিন্তু জামানত নেই, তাদের ঋণ পাওয়া সহজ করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সংক্রান্ত নিরপেক্ষ কমিটি সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার প্রজেক্ট দেখে তারা ফান্ড করবে।

এ সময় অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে হেল্প করা হবে, সেটি পাবলিক মানি। যদি পটেনসিয়াল থাকে, ফের ফান্ডের বিষয়টি চিন্তা করা হবে। কারণ অনেকের ব্যবসা শুরুতেই ভালো করে না। সে ক্ষেত্রে সম্ভাবনা থাকলে দ্বিতীয়বার সুযোগ পাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। সূচনা বক্তব্য দিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং স্বাগত বক্তব্য দিয়েচেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জানিয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী গঠিত ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে সহায়ক হবে।

প্রসঙ্গত, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি উদ্যোক্তাদের জন্য জাতীয় পর্যায়ের একটি লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সরকারি সহায়তা কর্মসূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বিনিয়োগের সুযোগ, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা এক জায়গা থেকেই জানতে ও গ্রহণ করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়বে এবং দেশে আরও কার্যকর স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে।

মন্তব্য

জাতীয়
The United States wants to help build the infrastructure of the export sector

রপ্তানি খাতের অবকাঠামো গড়তে সহযোগিতা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

রপ্তানি খাতের অবকাঠামো গড়তে সহযোগিতা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ছবি: সংগৃহীত

দেশের কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর মানসম্মতভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন ও রপ্তানির জন্য কার্যকর কোল্ড চেইন এবং রেফ্রিজারেটেড পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তি সহযোগিতা দিতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, কৃষি, বাণিজ্য, শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে নজরুল ইসলাম খান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করতে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও এখানে বিপুল জনগোষ্ঠীর বসবাস। দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষির আধুনিকায়ন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নজরুল ইসলাম খান জানান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কৃষি কার্ড কর্মসূচির এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্ভাবনা অনুযায়ী বিশেষ পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের কার্যক্রমের উল্লেখ করেন।

তিনি চরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসব এলাকায় সৌর বিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে কৃষি উৎপাদন, সেচ, পণ্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে আমসহ বাংলাদেশের কৃষিপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর মানসম্মতভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন ও রপ্তানির জন্য কার্যকর কোল্ড চেইন এবং রেফ্রিজারেটেড পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এসব অবকাঠামো ও প্রযুক্তি উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

তিনি বাংলাদেশে আসা মার্কিন পণ্য বন্দরে খালাসের ক্ষেত্রে বিদ্যমান দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্দরের কার্যক্রমে গতি আনা এবং আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করতে কাজ করছে। শিগগিরই এসব সমস্যার সুরাহা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে শ্রমিকদের অধিকার, কর্মপরিবেশ, ট্রেড ইউনিয়ন এবং শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রশংসা করে বলেন, সংশোধিত শ্রম আইনে শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা জোরদার, আন্তর্জাতিক শ্রমমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা এবং ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ ইতিবাচক।

এ সময় নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সরকার এমন একটি শ্রমব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে, একই সঙ্গে শিল্পের উৎপাদন ও বিনিয়োগের পরিবেশও বজায় থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ শিল্প খাতে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও শ্রমমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তবে এখানেই থেমে থাকার সুযোগ নেই। ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম শক্তিশালী করা, শ্রমিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, মালিক-শ্রমিকের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বৈঠকে নজরুল ইসলাম খান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একটি নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধান জরুরি। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা এবং মিয়ানমারের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ অব্যাহত রাখা দরকার। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি একটি জটিল সংকট এবং এর সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

শিক্ষা খাতের আলোচনায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, যোগ্যতা যাচাই এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের বিষয় উঠে আসে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কয়েকটি অঞ্চলে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু রেখেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। রোগ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, জনসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ সহযোগিতা পরিচালিত হবে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃষি, বাণিজ্য, শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, পলিটিক্যাল অফিসার জেমস এ স্টুয়ার্ট এবং লেবার অ্যাটাশে লিনা খান। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

জাতীয়
A set of guidelines to increase BIWTAs revenue and service quality

বিআইডব্লিটিএ―র রাজস্ব ও সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে একগুচ্ছ দিকনির্দেশনা

বিআইডব্লিটিএ―র রাজস্ব ও সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে একগুচ্ছ দিকনির্দেশনা ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিটিএ) রাজস্ব বৃদ্ধি তথা সেবার মান বৃদ্ধিসংক্রান্ত একগুচ্ছ নির্দেশনা পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেছেন অতিরিক্ত সচিব ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম। এ অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি এবং সচিব জাকারিয়া গত রোববার (১২ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির ৬ষ্ঠ তলার সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত সভায় যে সকল সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয় তা হল- এক. কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংরক্ষণ ড্রেজিংকে ব্যয় সাশ্রয়ী পূর্বক অধিকতর প্রয়োজনীয় স্থানে খননের ব্যবস্থা করা। দুই. নৌসওপ বিভাগের কঞ্জারভেন্সী ও পাইলটেজ খাতে রাজস্ব আয়ে অধিকতর দৃষ্টিপাত। তিন. নৌনিট্রার বিভিন্ন নৌপথে সময়সূচি প্রদানে অধিকতর শর্ত আরোপ হ্রাস করে খাতভিত্তিক রাজস্ব আদায়ে মনোনিবেশ। চার. বন্দর বিভাগের আয় বৃদ্ধিতে বিশেষত ফোরশোর ও তীরভূমি ব্যবহার ফি যুগোপযোগী করা এবং ঘাট/পয়েন্ট সংক্রান্ত দেওয়ানী মোকদ্দমাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা। পাঁচ. নদী বন্দর এলাকায় মালামাল ওঠানামার ক্ষেত্রে সয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যবহারের নির্দেশনা। ছয়. ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথে চলাচলে বিভিন্ন ঘাট পয়েন্টের সংস্পর্শে নৌযান চলাচলে সহায়ক ভূমিকা পালন করা। সাত. কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যে কোন একটি ঘাট/পয়েন্টকে আধুনিকায়ন করা। আট. অননুমোদিত ডক ইয়ার্ডকে লাইসেন্সের আওতায় আনা। নয়. সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী কর্তৃক কর্তৃপক্ষের লিজ/লাইসেন্স প্রদানকৃত জায়গায় কর্তৃপক্ষের পক্ষে দৃশ্যমান স্থানে প্লট নম্বর, মৌজা ও অবস্থান ভিত্তিক সাইনবোর্ড স্থাপন করা। দশ. দেশের বিভিন্ন নৌপথে অপেক্ষাকৃত ছোট কিন্তু দ্রুতগামী নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা করা। এগার. দ্রুত নদীর বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য আধুনিক বর্জ্য পরিস্কার করার মেশিন সংগ্রহ করা।

উক্ত সভায় প্রতিষ্ঠানটির সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সদস্য যুগ্মসচিব মো. সাজেদুর রহমান, সদস্য রকিবুল ইসলাম তালুকদারসহ সকল বিভাগীয় প্রধানগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

জাতীয়
Bangladesh highlighted maritime progress at China Maritime Forum

চায়না মেরিটাইম ফোরামে সামুদ্রিক অগ্রগতি তুলে ধরল বাংলাদেশ

চায়না মেরিটাইম ফোরামে সামুদ্রিক অগ্রগতি তুলে ধরল বাংলাদেশ ছবি: সংগৃহীত

চীনের ইয়াংঝৌ শহরে অনুষ্ঠিত চায়না মেরিটাইম ফোরাম ২০২৬ ও ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন শিপ টেকনোলজি অ্যান্ড সেফটি ২০২৬-এ অংশ নিয়ে বৈশ্বিক মানের সামুদ্রিক মানবসম্পদ গড়ে তোলায় বাংলাদেশের অগ্রগতি ও অঙ্গীকার তুলে ধরেছে চার সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এ. বি. এম. শামীম। তিনি মূল প্রবন্ধে স্মার্ট, গ্রিন ও ইন্টেলিজেন্ট শিপিংয়ের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে বাংলাদেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

এছাড়া নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কন্ট্রোলার অব মেরিটাইম এডুকেশন ক্যাপ্টেন সাঈদ আহমেদ উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দক্ষ নাবিক তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ফোরামে বাংলাদেশ-চীন সামুদ্রিক শিক্ষা, প্রযুক্তি বিনিময় ও কর্মসংস্থান সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অংশগ্রহণ বৈশ্বিক সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

মন্তব্য

p
উপরে