পেট্রোলের ঝাঁঝালো গন্ধ, সীসা-মিশ্রিত কালো ধোঁয়া আর ইঞ্জিনের কানফাটা গর্জন পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ এক নতুন ভোরের মুখোমুখি। ধুলোবালি আর যানজটের চাদরে ঢাকা এই বদ্বীপে নিঃশব্দে এক বিপ্লবের বীজ বোনা হচ্ছে, যার নাম ইলেকট্রিক মোবিলিটি বা ইভি (EV)। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শুল্কের লৌহকপাট ভেঙে সরকার যে অভূতপূর্ব কর ছাড় ও প্রণোদনার ডালি সাজিয়েছে, তা দেশের অটোমোবাইল ইতিহাসে এক স্মরণীয় জোয়ার এনেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলো কেবল আমদানির খোলস ছেড়ে বেরিয়ে নিজস্ব কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের এক মহাপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে।
তবে, স্বপ্নের এই সিল্ক রুটে লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের চেয়েও বড় দুটি স্পিডব্রেকার দাঁড়িয়ে আছে—প্রথমটি হলো গ্রিডের অবিশ্বাস্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দুর্বল কারিগরি মান, আর দ্বিতীয়টি হলো কোটি কোটি টাকার চার্জিং স্টেশনের দীর্ঘমেয়াদি লোকসান ও অনিশ্চিত লাভজনকতা (ROI)।
বাংলাদেশের ইভি সাম্রাজ্যের নতুন সারথী: বাংলাদেশি শিল্পোদ্যোক্তারা এবার আর দর্শক সারিতে নেই। তারা চীনের বিওয়াইডি (BYD) কিংবা মার্কিন টেসলার (Tesla) মতো বিশ্বসেরা মডেলের সমকক্ষ ইকোসিস্টেম দেশেই তৈরি করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন। নিচে পাইপলাইনে থাকা প্রধান বিনিয়োগকারী ও তাদের যুদ্ধকৌশল বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড: চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশের বৃহত্তম সমন্বিত ইভি কারখানা গড়ছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
মূল লক্ষ্য: কেবল গাড়ি সংযোজন নয়, ব্যাটারি থেকে শুরু করে চ্যাসিস ও বডি—সবকিছুই স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা।
প্রযুক্তির চমক: তাদের উৎপাদিত প্রথম সারির গাড়িগুলো একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে ৪৫০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিতে পারবে। আর আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটে শূন্য থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব হবে।
রানার অটোমোবাইলস ও বিওয়াইডি অংশীদারিত্ব: বিশ্বের এক নম্বর ইভি নির্মাতা BYD-এর সাথে হাত মিলিয়ে রানার ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের রাস্তায় ১,০০০-এর বেশি প্রিমিয়াম ইভি নামাতে সক্ষম হয়েছে।
মূল লক্ষ্য: রানার ধাপে ধাপে ২৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে গাড়ি উৎপাদন ও এসেম্বলি লাইন তৈরি করছে।
অবকাঠামো: BYD গ্রাহকদের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বগুড়া ও কক্সবাজারে নিজস্ব ব্র্যান্ডেড চার্জিং হাব তৈরি করেছে এবং দক্ষ মেকানিক গড়ে তুলতে ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করেছে।
নাসির গ্রুপ ও আকিজ মোটরস : শিল্প খাতের দুই জায়ান্ট নাসির ও আকিজ গ্রুপ প্রত্যেকে ৫০০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগের পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে। আকিজ মোটরস মূলত সাশ্রয়ী মূল্যের মিনি ইভি এবং পণ্য পরিবহনের উপযোগী লাইট কমার্শিয়াল ইভি বা ছোট ইলেকট্রিক ট্রাক তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে, যা দেশের ই-কমার্স ডেলিভারি খাতে বিপ্লব ঘটাতে পারে।
ওয়ালটন ও প্রাণ-আরএফএল: দেশের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন এবং ফুড অ্যান্ড প্লাস্টিক জায়ান্ট প্রাণ-আরএফএল মূলত টু-হুইলার তথা ই-বাইক, ইলেকট্রিক স্কুটার ও ই-থ্রি-হুইলারের বাজার ধরতে প্রত্যেকে ২০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করেছে। তাদের লক্ষ্য—মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করা।
অডি বাংলাদেশ ও ‘এখন চার্জ’ (ইকোসিস্টেম পার্টনার): লাক্সারি সেগমেন্টের নেতৃত্ব দেওয়া অডি বাংলাদেশ এবং দেশের বৃহত্তম চার্জিং নেটওয়ার্ক ‘এখন চার্জ’ দেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ ইভি সল্যুশন হিসেবে যৌথভাবে কাজ করছে। তারা ইতোমধ্যে ১৫০টির বেশি হোম চার্জিং ইউনিট স্থাপন করেছে এবং মহাসড়কগুলোতে ৫টি হাই-স্পিড বাণিজ্যিক চার্জিং স্টেশন সচল রেখেছে।
গ্রিডের অগ্নিপরীক্ষা: ইভি খাতের উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন হলো বিদ্যুতের গুণগত মান এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। রানার অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান এই কারিগরি জটটি চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
হোম চার্জিং বনাম আল্ট্রা-ফাস্ট হাইওয়ে চার্জিং: প্রতিটি গাড়ির সাথে দেওয়া হোম চার্জার দিয়ে সাধারণ গৃহস্থালি লাইন (220V) থেকে চার্জ করা যায়। এতে সময় লাগে ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা। এটি সাধারণ গ্রিডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে না।
বাণিজ্যিক চার্জিং (ডিসি আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জার): হাইওয়েতে বা জরুরি প্রয়োজনে একজন চালক সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে চাইবেন। এই ফাস্ট-চার্জিংয়ের জন্য ১০০ কিলোওয়াট থেকে ৩৫০ কিলোওয়াট বা তার চেয়েও বেশি ক্ষমতার সরাসরি বিদ্যুৎ (DC) সংযোগ প্রয়োজন।
গ্রিডের দুর্বলতা ও সাবস্টেশনের রাজকীয় খরচ: বাংলাদেশের বর্তমান গ্রিড লাইনে যে পরিমাণ ভোল্টেজ ফ্ল্যাকচুয়েশন বা লোডশেডিং হয়, তাতে এই আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জারগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন। একটি হাই-স্পিড চার্জিং স্টেশন স্থাপন করতে কেবল চার্জিং মেশিন কিনলেই হয় না, তার জন্য দরকার নিজস্ব ডেডিকেটেড সাবস্টেশন ও বড় ট্রান্সফরমার।
একটি সাধারণ লেভেল-২ স্টেশনের খরচ যেখানে প্রায় ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা, সেখানে সাবস্টেশনসহ একটি হাই-স্পিড আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জিং স্টেশনের পেছনে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়ে যায় ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা!
সৌর-ভিত্তিক চার্জিং: গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে স্রেডা এখন সৌরশক্তি চালিত (Solar-powered) ইভি চার্জিং হাব তৈরির দিকে জোর দিচ্ছে।
ইভি বিপ্লব সফল করার ৩টি চাবিকাঠি: বাংলাদেশের ইভি রূপান্তরের পরবর্তী ধাপ কেবল ‘বিনিয়োগের ঘোষণা’ বা খবরের কাগজের হেডলাইনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (DCCI)-এর সাবেক সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেনের মতে, এই বিপ্লব সফল করতে নিচের তিনটি মহৌষধ প্রয়োজন:
সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বাজারের শুভসূচনা: বাজার যখন প্রাথমিক ধাপে থাকে, তখন কেবল বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কোটি কোটি টাকা লোকসান দিয়ে চার্জিং স্টেশন বসাতে বাধ্য করা অন্যায়। সরকারকে শুরুতে এগিয়ে আসতে হবে। হাইওয়ের সরকারি ফিলিং স্টেশন বা বিআরটিসি ডিপোগুলোতে নিজস্ব খরচে চার্জিং নেটওয়ার্ক বসিয়ে বাজারকে চাঙ্গা করতে হবে।
অপ্রাতিষ্ঠানিক যানকে মূলধারায় আনা ও সঠিক ডেটাবেজ: বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা বা ইজি বাইক) চলছে। এগুলো সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক গ্রিড থেকে বা চোরাই লাইনে চার্জ হচ্ছে। এই ৬০ লাখ যানবাহনকে যদি আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে দক্ষ থ্রি-ফেইজ চার্জিংয়ের আওতায় আনা যায়, তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং সরকারের রাজস্ব কোটি কোটি টাকা বাড়বে।
গ্রিন গ্রিড ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়: বিদ্যুতের ঘাটতি ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বহাল রেখে যদি আমরা হাজার হাজার ইভি রাস্তায় নামাই, তবে তা পরিবেশবান্ধব হবে না। গাড়ি চলবে কয়লার বিদ্যুতে, যা প্রকারান্তরে পরিবেশের ক্ষতিই করবে। তাই ইভি চার্জিংকে অবশ্যই নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ)-এর সাথে ট্যাগ করতে হবে।
প্রতি কিলোমিটারে ৭০শতাংশ সাশ্রয়ই কি তুরুপের তাস: অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইভির কোনো বিকল্প নেই। মহাসড়কে একবার ফুল চার্জ দিতে খরচ হয় মাত্র ৩০৮ থেকে ৭৫৯ টাকা। যেখানে একটি পেট্রোল বা অকটেন চালিত গাড়ির প্রতি কিলোমিটারের ব্যয়ের তুলনায় ইভি চালানো প্রায় ৭০ শতাংশ সাশ্রয়ী।
বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত এই বিপুল সাশ্রয়ের অংকটি বুঝতে শুরু করেছে। কিন্তু এই ৪,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ সফল করতে হলে এবং গ্রাহকের মনের ভয় দূর করতে হলে সরকারকে অতি দ্রুত মহাসড়কগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন, ডেডিকেটেড গ্রিড লাইন এবং কারিগরি স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (যেমন সব গাড়ির জন্য একই চার্জিং পোর্ট বা প্লাগ) নিশ্চিত করতে হবে। তবেই বাংলাদেশের সড়কগুলোতে রচিত হবে দূষণমুক্ত, শব্দহীন এক নতুন গতিময় ইতিহাস।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিটিএ) রাজস্ব বৃদ্ধি তথা সেবার মান বৃদ্ধিসংক্রান্ত একগুচ্ছ নির্দেশনা পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেছেন অতিরিক্ত সচিব ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম। এ অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি এবং সচিব জাকারিয়া গত রোববার (১২ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির ৬ষ্ঠ তলার সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত সভায় যে সকল সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয় তা হল- এক. কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংরক্ষণ ড্রেজিংকে ব্যয় সাশ্রয়ী পূর্বক অধিকতর প্রয়োজনীয় স্থানে খননের ব্যবস্থা করা। দুই. নৌসওপ বিভাগের কঞ্জারভেন্সী ও পাইলটেজ খাতে রাজস্ব আয়ে অধিকতর দৃষ্টিপাত। তিন. নৌনিট্রার বিভিন্ন নৌপথে সময়সূচি প্রদানে অধিকতর শর্ত আরোপ হ্রাস করে খাতভিত্তিক রাজস্ব আদায়ে মনোনিবেশ। চার. বন্দর বিভাগের আয় বৃদ্ধিতে বিশেষত ফোরশোর ও তীরভূমি ব্যবহার ফি যুগোপযোগী করা এবং ঘাট/পয়েন্ট সংক্রান্ত দেওয়ানী মোকদ্দমাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা। পাঁচ. নদী বন্দর এলাকায় মালামাল ওঠানামার ক্ষেত্রে সয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যবহারের নির্দেশনা। ছয়. ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথে চলাচলে বিভিন্ন ঘাট পয়েন্টের সংস্পর্শে নৌযান চলাচলে সহায়ক ভূমিকা পালন করা। সাত. কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যে কোন একটি ঘাট/পয়েন্টকে আধুনিকায়ন করা। আট. অননুমোদিত ডক ইয়ার্ডকে লাইসেন্সের আওতায় আনা। নয়. সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী কর্তৃক কর্তৃপক্ষের লিজ/লাইসেন্স প্রদানকৃত জায়গায় কর্তৃপক্ষের পক্ষে দৃশ্যমান স্থানে প্লট নম্বর, মৌজা ও অবস্থান ভিত্তিক সাইনবোর্ড স্থাপন করা। দশ. দেশের বিভিন্ন নৌপথে অপেক্ষাকৃত ছোট কিন্তু দ্রুতগামী নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা করা। এগার. দ্রুত নদীর বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য আধুনিক বর্জ্য পরিস্কার করার মেশিন সংগ্রহ করা।
উক্ত সভায় প্রতিষ্ঠানটির সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সদস্য যুগ্মসচিব মো. সাজেদুর রহমান, সদস্য রকিবুল ইসলাম তালুকদারসহ সকল বিভাগীয় প্রধানগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
চীনের ইয়াংঝৌ শহরে অনুষ্ঠিত চায়না মেরিটাইম ফোরাম ২০২৬ ও ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন শিপ টেকনোলজি অ্যান্ড সেফটি ২০২৬-এ অংশ নিয়ে বৈশ্বিক মানের সামুদ্রিক মানবসম্পদ গড়ে তোলায় বাংলাদেশের অগ্রগতি ও অঙ্গীকার তুলে ধরেছে চার সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এ. বি. এম. শামীম। তিনি মূল প্রবন্ধে স্মার্ট, গ্রিন ও ইন্টেলিজেন্ট শিপিংয়ের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে বাংলাদেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
এছাড়া নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কন্ট্রোলার অব মেরিটাইম এডুকেশন ক্যাপ্টেন সাঈদ আহমেদ উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দক্ষ নাবিক তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ফোরামে বাংলাদেশ-চীন সামুদ্রিক শিক্ষা, প্রযুক্তি বিনিময় ও কর্মসংস্থান সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অংশগ্রহণ বৈশ্বিক সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
মেধাবী উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন পূরণে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্টার্টআপগুলোর জন্য বড় অঙ্কের অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব হাসান আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আইসিটি বিভাগের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা ৫ লাখ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে ৫০০ কোটি টাকার বাজেট রাখা হয়েছে। ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত একজন স্ট্যার্টআপ উদ্যোক্তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি মূলত উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে, যেখান থেকে প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং এবং সরকারি সহায়তার সব তথ্য পাওয়া যাবে। ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে জামানত ও কাগজপত্রের দীর্ঘসূত্রতা দূর করার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা চিন্তা করেছি, এমন উদ্যোক্তা থাকে যাকে ব্যাংকের হ্যাচেলগুলো সিকিউরিটি বা কাগজ দিতে হয়, এটি যাতে ফেস করতে না হয়, সে জন্য কমিটি করা হয়েছে। এতে মন্ত্রী বা উপদেষ্টারা নেই। নিরপেক্ষ কমিটি, তারা বিষয়টি দেখবে।"
অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তরের পর্বে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জামানত ছাড়াই প্রকল্পের গুণমান বিচার করে এই তহবিল দেওয়া হবে। তিনি বলেন, "এ সংক্রান্ত নিরপেক্ষ কমিটি সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার প্রজেক্ট দেখে তারা ফান্ড করবে।" সরকার এই অর্থকে জনগণের সম্পদ হিসেবে দেখছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান যে, সম্ভাবনা থাকলে কোনো উদ্যোক্তাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যে হেল্প করা হবে, সেটি পাবলিক মানি। যদি পটেনসিয়াল থাকে, ফের ফান্ডের বিষয়টি চিন্তা করা হবে। কারণ অনেকের ব্যবসা শুরুতেই ভালো করে না। সে ক্ষেত্রে সম্ভাবনা থাকলে দ্বিতীয়বার সুযোগ পাবে।"
নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর আলোকে গঠিত এই ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড দেশের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। এছাড়া আইসিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে একটি কার্যকর স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে।
ছবি: সংগৃহীত
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে এলডিসি গ্রুপ। সোমবার (১৩ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে সাধারণ বিতর্কে অংশ নিয়ে এই দাবি জানানো হয়। এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে বক্তব্য পেশ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
বক্তব্যের শুরুতে ড. তিতুমীর স্বল্পোন্নত দেশগুলোর টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এজেন্ডা এবং দোহা কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই দুটি বৈশ্বিক কাঠামো এলডিসি দেশগুলোর উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করছে। তবে বর্তমানে এসডিজি অর্জনের গতি নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ড. তিতুমীর বলেন, "এসব সংকট শুধু ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং দোহা কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য-২০৩১ সালের মধ্যে আরও বেশি এলডিসিকে টেকসই ও অপরিবর্তনীয়ভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণ-সেটিকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।"
বর্তমানে ১৪টি স্বল্পোন্নত দেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। নজিরবিহীন সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সংকটের কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের উত্তরণকালীন সময় ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি কৌশলগত প্রয়োজন।"
এলডিসিগুলোর সংকট উত্তরণে এবং দোহা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নে উপদেষ্টা পাঁচটি বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সাথে এলডিসিগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা বিবেচনায় নিয়ে বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় 'লস অ্যান্ড ড্যামেজ' তহবিল থেকে দ্রুত অর্থ প্রাপ্তি এবং অভিযোজন প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর সুরক্ষাবাদী অবস্থান থেকে সরে এসে এলডিসিগুলোর জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করতে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ডিজিটাল রূপান্তরে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী বছর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দোহা কর্মসূচির মধ্য মেয়াদি পর্যালোচনা বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, এলডিসিগুলোর বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা বিশ্ববাসীর সংহতি এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। দোহা কর্মসূচির এই পর্যালোচনা যাতে বাস্তবমুখী ও কার্যকর ফলাফল নিয়ে আসে, সেজন্য তিনি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন। এলডিসি গ্রুপ এই লক্ষ্য অর্জনে সব অংশীদারের সাথে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
ফাইল ছবি
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রয়াত এই নেতার রুহের মাগফিরাত কামনায় জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মীরা বিভিন্ন ধর্মীয় ও স্মরণ সভার আয়োজন করেছেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির কর্মসূচির বিষয়ে জানান, মঙ্গলবার সকালে রংপুরের সেন্ট্রাল রোডে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে দিবসের সূচনা হবে। দিনব্যাপী নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে মাইকের মাধ্যমে কোরআন তেলাওয়াত এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিভিন্ন সময়ের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার করা হবে।
বেলা ১১টায় রংপুরের দর্শনা এলাকায় অবস্থিত ‘পল্লী নিবাস’ প্রাঙ্গণে এরশাদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জিয়ারত, দোয়া মাহফিল ও এক স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। এছাড়াও দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সিনিয়র নেতারা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নেও দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ নয় বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার শাসনামলে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং তৃণমূল পর্যায়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রেণর লক্ষ্যে উপজেলা পদ্ধতির প্রবর্তন ছিল অত্যন্ত যুগান্তকারী। এছাড়া রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা, শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে নির্ধারণ, ধর্মীয় উপাসনালয়ের বিদ্যুৎ বিল মওকুফ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান ছিল তার উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। ওষুধ নীতি প্রণয়ন, ঢাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ এবং যমুনা সেতুর পরিকল্পনা গ্রহণের মতো বড় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কৃতিত্বও তাকে দেওয়া হয়।
১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কোচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করা এই রাজনীতিক ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯০ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলেও উত্তরবঙ্গে তার জনপ্রিয়তা ছিল অটুট। ভক্ত ও অনুসারীদের আবেগ ও ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মৃত্যুর পর তাকে রংপুরের পল্লী নিবাসে সমাহিত করা হয়। ৯০ বছর বয়সে ২০১৯ সালের এই দিনে তার প্রয়াণ ঘটে।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সোমবারের (১৩ জুলাই) সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সাতটি জেলার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে এবং সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন মানুষ।
সরকারি প্রতিবেদন অনুসারে, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৯টি উপজেলা বর্তমানে প্লাবিত। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩৪টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা। জেলাভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩, বান্দরবানে ছয়, রাঙ্গামাটিতে তিন ও মৌলভীবাজারে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন এবং চট্টগ্রামে ১২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিপন্ন মানুষদের তাৎক্ষণিক আশ্রয়ের জন্য সরকারিভাবে ১ হাজার ৪২টি কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন মানুষ ঠাঁই নিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্যাকবলিত ১১টি জেলায় স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করার পাশাপাশি পরিস্থিতি তদারকির জন্য জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, “বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।”
আঞ্চলিক পরিস্থিতির বিবরণে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িতে ফিরছেন। তবে ঘরে ফিরে কাদা এবং আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ায় তারা নতুন সংকটে পড়েছেন। অন্যদিকে বাঁশখালীতে পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। সেখানে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি এবং নতুন করে বৃষ্টির ফলে পানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কক্সবাজারে টানা বৃষ্টির পর পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও ৬৬টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন বলে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন।
সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এদিকে প্রাণিসম্পদ খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি মারা যাওয়ায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “১৫ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কম থাকবে। এবং মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে ফের বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়তে পারে। যদিও নিম্নচাপের প্রভাব কমেছে, বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু এখনো সক্রিয় থাকায় পুরো মাসজুড়েই বৃষ্টির ধারা বজায় থাকতে পারে।”
এদিকে দেশের বিশাল এলাকা বন্যায় প্লাবিত থাকলেও পূর্বনির্ধারিত এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থীকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কিংবা নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে শুধু চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখা হলেও অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা যথারীতি চলছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পুনরায় আশ্বস্ত করে বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে। কোথাও যেন কোনো রোগী চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সেজন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও অতিরিক্ত মেডিকেল টিম পাঠানো হবে।”
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকারের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে এবং জনগণ যতক্ষণ পাশে থাকবে, বিএনপি কোনো বাধাই মানবে না। আমরা এই দেশটাকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশটাকে একদিন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নারীদের ডেকে জানতে চান, ‘আপনি ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন? এই কার্ড নিয়ে কী কী উপকার পেয়েছেন?’
এ সময় পারুল আখতার নামে এক নারী মঞ্চে গিয়ে বলেন, ‘এই কার্ড পেয়ে অনেক উপকার পেয়েছি। আমার সংসারের অভাব দূর হয়েছে। আমি আশা করি, আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের এরকম সহযোগিতা করে যাবেন। বিপদে-আপদে সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে ৬০০-এর মতো পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। আমি জানি, আরও অনেক পরিবার আছে, যারা এখনো কার্ড পায়নি। তবে আগামীতে তারাও পাবে। সারাদেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে সকল পরিবারের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ মা-বোনদের কাছে শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পরে সংসারের কাজগুলো গুছানোর জন্য একটু হলেও তাদের সুবিধা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারেন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দেশের প্রত্যেক মা ও প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সকলের সাহায্য, সমর্থন ও সহযোগিতা বর্তমান সরকারের প্রয়োজন।’
বিএনপি সরকারকে পাশে থাকতে দেশের নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সকলে যদি সরকারকে সহযোগিতা করে পাশে থাকেন, তাহলে আমরা আস্তে আস্তে সারাদেশেই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা সমাজে বিরাট পরিবর্তন আনতে সক্ষম হব। ধীরে ধীরে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে আমাদের নারীরা। একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও তারা শক্তিশালী হবে।’
দেশের সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে ভালো থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের সকল নাগরিক এবং সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চাই। আমরা ধৈর্যশীল হলে এই বাংলাদেশকে আমাদের প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান যে ধর্মের অনুসারীই হই, আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য সকল ধর্মের মানুষ মিলে শান্তিতে বসবাস করার। কাজেই বর্তমান ও ভবিষ্যতেও ধর্মীয় ভেদাভেদ না করেই চলতে চাই। সবাইকে মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করে এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই আমরা।’
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি কথা বলে থাকি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এবার আরেকটি কথা বলতে চাই, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’। আগামী দিনে সবাই যাতে একটু ভালো থাকতে পারি, সবাই যাতে একটু ভালোভাবে চলতে পারি সেটিই হচ্ছে বর্তমান সরকারের রাজনীতি এবং আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।’
এদিকে, বরিশালের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে সোমবার (১৩ জুলাই) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কদিন আগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। এবার আসুন সবাই মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি। মুক্তিযুদ্ধ যখন হয়েছিল, দল নির্বিশেষে সকলে মিলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। এইমাত্র ক’দিন আগের কথা, আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। সকল শ্রেণিপেশা, সকল ধর্ম-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসে এই দেশটাকে হটিয়েছে। তার মানে আমরা সকলে মিলে যদি কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য, মানুষের জন্য যদি ভালো কাজগুলো করি, তাহলে সকলে মিলে উপকৃত হবো।
প্রধানমন্ত্রী একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা সরকারের একার দায়িত্ব নয়, সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন, আজকে বৃক্ষরোপণের দিনে আমরা সকলে মিলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই — সকলে মিলে দেশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখব, ঠিক রাখব। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে চেষ্টা করব আমাদের আশেপাশের এলাকা, আমাদের ঘরবাড়ির আশেপাশের এলাকা, আমাদের অফিস আদালতের আশেপাশের এলাকা, আমাদের স্কুল-কলেজের আশেপাশের এলাকা, আমাদের হাসপাতালের আশেপাশের এলাকাগুলো প্রত্যেকে আমরা চেষ্টা করব সেখানের পরিবেশটা যাতে নষ্ট না হয়, পরিবেশটা যাতে সুন্দর থাকে, ভালো থাকে।’
ত্রিশ গোডাউনে সাগরদী খালের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাগরদী খালটি এই এলাকার জন্য নিশ্চয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা খাল। এই খালটার যত্ন করাও কিন্তু শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব না। এই খালটা যত্ন করা খালের দু’পাশে যে সকল মানুষ আছেন, তাদের সকলকে এই খালটার যত্ন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই খালের পানির মধ্যে অনেক সময় অনেক প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনের কাগজ, টিস্যু পেপারসহ আরো বিভিন্ন জিনিস ভাসতে থাকে। অর্থাৎ আমরা যারা এখানে পার্কে আসি, হয়তো পানি খেলাম আর বোতলটা ফেলে দিলাম খালের মধ্যে। আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, এখানে আপনারা যারা উপস্থিত আছেন সকলের কাছে, আপনারা যখনই যার সাথে দেখা হবে— দয়া করে প্রত্যেককে বলবেন যে, খালের মধ্যে আমরা এগুলো ফেলবো না।’
সিটি করপোরেশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে একটা ময়লা ফেলার বিন লাগানো আছে। সবাইকে আপনারা দয়া করে মাইকেও প্রচার করবেন, যারা এই খালের পাশে বসবেন, বিকেল বেলায় অনেকে বেড়াতে আসেন তারা যেন বিনের মধ্যে ময়লা ফেলেন। খাল পরিষ্কার রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেখুন, খালের অপরপাড়ে একটা পাইপ লাগানো হয়েছে, এটা কীসের পাইপ? যা খালের সাথে এসে যুক্ত হয়েছে। বাসা-বাড়ির ব্যবহারের পানি? সিটি করপোরেশনের কাছে আমি অনুরোধ করব, আপনারা বাসা-বাড়ির পানির ড্রেনেজ সিস্টেম করুন। কিন্তু পানি বা সুয়ারেজ লাইনের কানেকশনগুলো খালের মধ্যে না রাখাই ভালো। এগুলো থাকলে পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়, পানি দূষিত হয়ে যায়। কাজেই আমাদের নিজেদের পরিবেশ আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের নিজের ঘর নিজেরা গুছিয়ে না রাখি, তাহলে ঘরটা যেমন ময়লা হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে আমরা যদি আমাদের এলাকা, আমাদের এরিয়া, আমাদের পাড়া, আমাদের দেশ যদি আমরা নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, নিজেরা যদি পরিবেশের খেয়াল না রাখি, তাহলে ভুক্তভোগী আমরাই হবো। অন্য দেশের সুন্দর সুন্দর জায়গা নিয়ে আমরা আফসোস করব, কিন্তু নিজের দেশের জায়গাগুলো সব আমরা নষ্ট করে দেব।’
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ নেতৃবৃন্দরা খালের দুই পাড়ে একটি করে গাছ রোপণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি শেষ করে সার্কিট হাউসে গিয়ে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন। বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর শেষ কর্মসূচি শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় নেতাদের সাথে মতবিনিময়।
মন্তব্য