বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি সাবেক স্পীকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২ জুলাই, ২০২৬ খ্রি: ভোর ৪:১৯ মিনিট রাজধানী শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ, এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৬১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
তিনি ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেন ।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এক শোক বার্তায় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনা চাইলেই সাধারণ নাগরিকদের মতো স্বাধীনভাবে দেশে ফিরতে পারবেন না।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তবে অবশ্যই বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও কূটনৈতিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে। তিনি যখনই দেশের মাটিতে পা রাখবেন, তখনই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং সরাসরি কারাগারে পাঠানো হবে।
ট্রাইব্যুনালের চলমান মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রধান ১০টি মামলার তদন্ত কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই এই প্রতিবেদনগুলো আদালতে পেশ করা হবে।
অর্থাৎ, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আত্মসমর্পণ—উভয় ক্ষেত্রেই আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা রয়েছে এবং দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের এই শীর্ষ আইন কর্মকর্তা।
ছবি: সংগৃহীত
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। ২০২৫ সালের পরীক্ষায় মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। রোববার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন বা ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ ছাত্রী এবং ৩৫ হাজার ৮৯২ জন বা ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ ছাত্র।
এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২৬ হাজার ৩৭৫ শিক্ষার্থী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। আর বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৬ হাজার ৫৯০ জন।
সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৪২০ জন সরকারি এবং ৯ হাজার ৮৬১ জন বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী, এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। যার মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ৩৩ হাজারটি এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি।
এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে সরকারি বিদ্যালয়ে ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে ২০ শতাংশ বৃত্তি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
শিক্ষা বিভাগের তথ্য মতে, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে হলেও বৃত্তির টাকা দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। কারণ, পঞ্চম শ্রেণি শেষ করা শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। যখন বৃত্তি পায়, তখন তারা মাধ্যমিকে পড়া শুরু করে। নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এই বৃত্তির টাকা পায়। এরপর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে হয় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। ওই বৃত্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বৃত্তির টাকা দেওয়া হয়।
বর্তমানে প্রাথমিকে মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা করে পাবে। আর সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকা করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ এবার যারা বৃত্তি পেয়েছে, তারা এই টাকা পাবে।
তবে ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষা থেকে এই টাকা বাড়ানো হবে। অর্থাৎ এ বছরের শেষে যে বৃত্তি পরীক্ষা হবে, তাতে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা বর্ধিত হারে টাকা পাবে।
এ বিষয়ে বৃত্তি পরীক্ষার ফল উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। তিনি বলেন, বৃত্তির সংখ্যা একই আছে (৮২ হাজার ৫০০টি)। তবে মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার জায়গায় ৪৫০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকার জায়গায় ৬০০ টাকা করা হয়েছে। মানে দ্বিগুণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার পরিবর্তে ৪৫০ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকার পরিবর্তে ৪৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মেধাবৃত্তি দেওয়া হয় উপজেলা বা থানা অনুযায়ী। আর সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হয় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পাঁচটি করে (দুজন বালক ও দুজন বালিকা এবং একটি মেধার ভিত্তিতে)।
একসময় নির্ধারিতসংখ্যক শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে আলাদা বৃত্তি পরীক্ষা হতো। পরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চালু হয়, যেখানে সব শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের মহামারির সময় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালের শেষ দিকে প্রাথমিকে হঠাৎ বৃত্তি পরীক্ষা চালু হলেও ফলাফলে ভুল ও অসংগতি দেখা দেয়। পরে তা আবারও চালুর সিদ্ধান্ত হয়। গত বছরের শেষে এ পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও মামলার কারণে প্রাথমিকের বৃত্তি আটকে যায়। গত এপ্রিলে জটিলতা কাটিয়ে এ পরীক্ষা হয়। তার ফল প্রকাশ করা হলো।
ছবি: সংগৃহীত
টানা কয়েকদিনের ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতা, আশ্রয়ের ব্যবস্থা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তায় ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর। রোববার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ১১ জেলায় মোট ৯০টি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। সেই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বান্দরবানের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ছয় শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ও ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে উপরে পড়া গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে তারা। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়িতে ভূমিক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া স্টিলের সেতু রক্ষায় জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করছে বিজিবি।
ছবি: নিউজ বাংলা
বাকরখানি শুধু একটা রুটি না, এটা মুঘল আমলের একটা প্রেম-কাহিনী আর ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যবাহী ঢাকার বাকরখানি এখন তৈরি হচ্ছে টাঙ্গাইল শহরেই। শহরের পার্ক বাজারের ব্যস্ততম এলাকা শনির আখড়ার সামনে ৩৭ বছরের অভিজ্ঞ কারিগর সোহেল মিয়া তৈরি করছেন বাকরখানি। তার হাত ধরেই মুঘল আমলের স্বাদ এখন টাঙ্গাইলবাসীর ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। সোহেল মিয়ার দোকানে মিষ্টি ও নোনতা দুই ধরনের বাকরখানি পাওয়া যায়। দাম প্রতি কেজি মিষ্টি বাকরখানি ২২০ টাকা, নোনতা ২০০ টাকা। প্রতি পিস ১০ টাকা। কেজিতে গড়ে ২৪টি বাকরখানি ধরে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাকরখানির মিষ্টি সুগন্ধ পুরো এলাকায় এক ধরনের আবেশ তৈরি করছে। দিনে গড়ে ৪ হাজার টাকার বাকরখানি বিক্রি হচ্ছে এখানে। ভাগিনা শাহিন মিয়া মামাকে সাহায্য করেন। পরিবার নিয়ে তারা থাকেন শহরের আদালত পাড়া এলাকায়।
সোহেল মিয়ার আদি বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে। প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জে এসে বাকরখানি তৈরির কাজ শেখেন। দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে এই পেশায় আছেন।
দুই বছর হলো টাঙ্গাইলে এসেছেন। পার্ক বাজারে মির্জা বাহরুলের দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন।
তিনি বলেন, ‘আগে লাকড়ি বা কয়লার চুলায় বাকরখানি তৈরি হতো। এখন মাইক্রোওভেনে বানাই। টাঙ্গাইলের মানুষ এখনও পুরোপুরি বাকরখানি খাওয়া শেখেনি। তবে ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়ছে।’
তিনি আরো বলেন, ঘি, ময়দা, চিনি, দুধ, তিল-এগুলোই বাকরখানির তৈরির মূল উপাদান।
শহরের কোদালিয়া এলাকার নাজমুল আহসান ঢাকার লালবাগে থাকতেন। সেখান থেকেই সকালের চায়ের সাথে বাকরখানি খাওয়ার অভ্যাস। তিনি বলেন, পরিবারের জন্য ২ কেজি নোনতা বাকরখানি নিলাম। সকাল-সন্ধ্যার চায়ের সাথে খাব।
স্কুলপড়ুয়া ছেলে মাহিনকে নিয়ে আসা মিলি বেগম বলেন, ছেলের পছন্দ মিষ্টি বাকরখানি। তাই ১ কেজি ২২০ টাকা দিয়ে কিনলাম। এখানকার স্বাদ ও মান দুইটাই ভালো। বাজার করার ফাঁকে মাঝে মাঝে কিনে নিয়ে যাই।
জানা গেছে, বাকরখানির জন্ম ১৭ শতকে মুঘল আমলের ঢাকায়। মুঘল সুবেদার ও নবাবরা সকালের নাস্তা ও চায়ের সাথে এটা খেতেন কারণ এটি সহজে নষ্ট হয় না।
নামকরণের পেছনে আছে করুণ প্রেম কাহিনী। মুঘল আমলে ঢাকার নায়েবে নাজিম মির্জা বাকর খান প্রেমে পড়েন নর্তকী খানি বেগমের। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে তাদের মিলন হয়নি। শোকে বাকর খানের জন্য রাঁধুনি যে শক্ত রুটি বানিয়েছিলেন তার নাম হয় বাকর + খানি = বাকরখানি।
আদিতে এই সুস্বাদু খাদ্য ২ প্রকার ছিল: গায়ে গায়ে বাকরখানি: পাতলা, খাস্তা। চায়ে ভিজিয়ে খাওয়া হতো।
চাল্লা বাকরখানি: মোটা, নরম। উপরে তিল-পোস্ত দেওয়া থাকতো। পরে যোগ হয় মিষ্টি, নোনতা, চিনি ও মাওয়া বাকরখানি। ব্রিটিশরা একে ‘Bengal Biscuit’ বলতো। পুরান ঢাকার লালবাগ, নাজিরাবাজার, চকবাজার ছিল এর মূল কেন্দ্র। দেশভাগের পর এটি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
মুঘল আমলের সেই প্রেম আর ঐতিহ্যের বাকরখানি এখন টাঙ্গাইলের পার্ক বাজারে নতুন করে প্রাণ পাচ্ছে। সোহেল মিয়ার মতো কারিগরদের হাত ধরে ঐতিহ্য টিকে থাকুক-এমনটাই প্রত্যাশা টাঙ্গাইলবাসীর।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম, এমপি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার, বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও বরেণ্য রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এক শোকবার্তায় চীফ হুইপ বলেন, "ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, খ্যাতিমান আইনজ্ঞ এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিকাশে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জাতীয় সংসদের স্পীকার হিসেবে তিনি দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সংসদীয় গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক ও সংসদীয় অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।"
চীফ হুইপ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করার প্রার্থনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাজ্যের লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
তিনি ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পীকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
সারাদেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত মানুষের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারের এই সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুর্গতরা অচিরেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। আশাবাদের এই কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
গতকাল শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশব্যাপী চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া নানা উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরে তিনি এ কথা জানান।
দেশজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন স্থানে বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান-এই পাঁচটি জেলায় জনমানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক এই পরিস্থিতি নিজে এবং তাঁর টিম মেম্বারদের মাধ্যমে মনিটরিং করছেন।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এই পাঁচ জেলার স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। রবিবারও (আজ) প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। উদ্ধার তৎপরতায় ডিসি, এসপি, ইউএনও থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতিটি পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে দুই কোটি টাকারও বেশি অর্থনৈতিক অনুদান নিশ্চিত করেছেন, যা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে চাল ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার বিরামহীন প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এরই মধ্যে চট্টগ্রামে অবস্থান করে পরিস্থিতি সরাসরি মনিটর করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতারা তৃণমূল পর্যায়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পুরো দল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন এবং তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত গৃহস্থালি, কৃষি, মৎস্য ও গবাদি পশু খামারিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দ্রুতই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হবে। বর্তমানে সচল থাকা এক হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কিছু জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হলেও সংযোগ পুনঃস্থাপনে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা কাজ করছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা ও শাহাদত হোসেন স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান ও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য