সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চাকরিজীবীদের (১২ থেকে ২০তম গ্রেড) জন্য রেশন সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমাতে এবং কাজে মনোযোগ বাড়াতে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ বিভাগ এই প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংবাদ সংস্থা বাসস জানিয়েছে, মে মাসে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক প্রথম এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীরা চরম অর্থ-সংকটে ভুগছেন। অনেকে ধার-দেনা ও ঋণের জালে জড়িয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কর্মচারীদের এই মানসিক চাপ কমাতে এবং জীবনযাত্রা সহজ করতে রেশন সুবিধা চালু করা জরুরি।
ডিসিদের এই প্রস্তাবের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে এবং অর্থ বিভাগের কাছে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে। গত জুন মাসে অর্থ সচিবকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী, অর্থ বিভাগকে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে হবে। এ ছাড়া তিন মাস পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপ-সচিব মো. মামুন বাসসকে জানান, ডিসি সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের করণীয় জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কারা পাবেন এই সুবিধা এবং বর্তমানে কারা পাচ্ছেন: ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের আওতায় মূলত সরকারি চাকরির নিম্ন ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা রয়েছেন।
১২তম গ্রেড: এই স্তরে রয়েছেন অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক এবং ডাটা এন্ট্রি সুপারভাইজারের মতো কর্মীরা।
২০তম গ্রেড: এটি সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন স্তর, যা সাধারণত চতুর্থ শ্রেণি হিসেবে পরিচিত। সাধারণত এসএসসি বা সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতায় এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পদে রয়েছেন অফিস সহায়ক (পিয়ন), নিরাপত্তা প্রহরী, মালি এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।
বর্তমানে বাংলাদেশে ১০টি বিশেষায়িত সরকারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্ধারিত মূল্যে রেশন সুবিধা পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে-সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী), বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
উদাহরণস্বরূপ, পুলিশ বাহিনীতে চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য বর্তমানে মাসে ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, সাড়ে ৪ লিটার সয়াবিন তেল এবং ২ কেজি চিনি সাশ্রয়ী মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়। নতুন উদ্যোগ সফল হলে ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের সাধারণ কর্মচারীরাও একই ধরনের সুবিধা পেতে পারেন।
এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও সরকারি কর্মচারীরা রেশন সুবিধাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। তৎকালীন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমামও কর্মচারীদের রেশন দেওয়ার পক্ষে মত দিয়ে অর্থ বিভাগে ডিও লেটার পাঠিয়েছিলেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনাধীন ছিল।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও সুশাসন নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাবটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী। অনেক সময় সরকারি কর্মচারীরা তাদের আর্থিক অসচ্ছলতা বা সুযোগ-সুবিধার অভাবকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অজুহাত হিসেবে দাঁড় করান। এই রেশন-সুবিধা চালু হলে তাদের জীবনযাত্রার মান কিছুটা উন্নত হবে এবং অনৈতিক চর্চা নিয়ন্ত্রণে এটি সাহায্য করবে।’
তবে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘রেশন বিতরণ ব্যবস্থা সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হলে কিংবা প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যদি এই সহায়তা না পান, তবে এই ভালো উদ্যোগটিই হিতে বিপরীত হতে পারে।’
বিশ্লেষকদের মতে, নিম্ন আয়ের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এই রেশন ব্যবস্থা চালু করা গেলে তা বেসরকারি খাতের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্যও ইতিবাচক সুফল বয়ে আনার একটি রাষ্ট্রীয় তাগিদ তৈরি করবে। তবে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য রেশন নিশ্চিত করতে সরকারের সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিতরণ কাঠামো গড়ে তোলাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
ছবি: সংগৃহীত
১৯৭১ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে প্রতিরোধ যুদ্ধ না করলে বাংলাদেশ এখনো পাকিস্তান থাকতো বলে মন্তব্য করেছেন করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ নয়, ‘বাঙালির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঁচটি ব্যাটালিয়ন আলাদাভাবে ‘বিদ্রোহ করে জনগণকে সংগঠিত করেছিল’। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকার মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে ‘মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
স্বাধীনতার এবং সার্বভৌম্যত্যর ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আপস মেনে নেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার কথা শুধু রাজনৈতিক নেতারা চিন্তা ও করে নাই। এ যুদ্ধ ছিলো জনতার যুদ্ধ। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। তবে এ কথা ইতিহাসে নেই।’
তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক দুর্যোগ, সকল প্রকার দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।’
মেজর জিয়াউর রহমানই সর্বপ্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘ক্র্যাকডাউনের আগে অনুরোধ করা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে রাজি হননি শেখ মুজিবুর রহমান। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন মেজর জিয়াউর রহমান। এটি হল প্রকৃত সত্য। যে ঘোষণায় জাতি উদ্দীপ্ত হয়েছে, অনুপ্রাণিত হয়েছে। হাজার হাজার ছাত্র-যুবক ঘরবাড়ি ছেড়ে দৌড়ে এসেছে যে যুদ্ধ করবে।’
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে ১২-১৩ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য নারীবিষয়ক ৯ম ওআইসি মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শনিবার (১১ জুলাই) ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।
এ সময় পাকিস্তান সরকারের আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার আকিল মালিক এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিনিধিদলকে অভ্যর্থনা জানান। প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন এবং মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুল হক রয়েছেন।
মন্ত্রী ইসলামাবাদে ডিপ্লোমেটিক এনক্লেভে বাংলাদেশের নবনির্মিত চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এসময় বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে স্বাগত জানান। তিনি উপস্থিত সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং হাইকমিশন চত্বরে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (ঢামেক) গৌরবময় ৮০ বছর পূর্তি এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে তিনি এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের উদ্বোধন করেন।
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢামেক চত্বরে পৌঁছালে সেখানে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তিনি উপস্থিত ছাত্র-শিক্ষক ও সুধীজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং এই মিলনমেলার মুহূর্তে তাঁকে অনেকের সঙ্গে সেলফিতেও অংশ নিতে দেখা যায়। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।
উদ্বোধনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি সেখানে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় নির্মিতব্য দুটি অত্যাধুনিক ছাত্রী হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি শহীদ ডা. মিলন অডিটোরিয়াম সংলগ্ন লনে আয়োজিত বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেন।
ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ এই বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজিত একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান সমস্যা ও সমসাময়িক চ্যালেঞ্জসমূহ প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন আধুনিক পরিকল্পনার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি রাজধানী কেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ মানুষকে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে হবে।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কলেজ প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তাঁর এই বিশেষ সফরে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে সকাল থেকেই এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী কলেজ ক্যাম্পাসে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর অধীনে দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং পরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।
শনিবার সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও আশপাশের এলাকায় ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঢল নামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। ভিড়ের কারণে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের গতি কিছুটা কমে গেলে তিনি হাত নেড়ে উপস্থিত সবার শুভেচ্ছার জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কলেজ ও হাসপাতাল সংলগ্ন ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা ও অস্থায়ী দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ায় দীর্ঘদিনের যানজট থেকে মুক্তি মিলেছে, যা সাধারণ পথচারী ও রোগীদের স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি এনেছে।
সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা এই সফরকে একটি ঐতিহাসিক মিলনমেলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি উপস্থিতির মাধ্যমে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, “ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অবিস্মরণীয়।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই পদচারণা অত্যন্ত আবেগঘন একটি মুহূর্ত।
১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ৮ দশক ধরে দেশের চিকিৎসা শিক্ষায় পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকলে আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা আবেদন এখন থেকে পুরোপুরি অনলাইনে করা যাবে। সরকারের এই নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়েছে মালয় চেম্বার অব কমার্স মালয়েশিয়া (ডিপিএমএম)।
সংগঠনটির সভাপতি নরসিয়ারিন হামিদন বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করবে। এতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমবে এবং সব নিয়োগকর্তা সমান সুযোগ পাবেন।
গত ৬ জুলাই দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান জানান, বিদেশি কর্মী কোটা সংক্রান্ত সব আবেদন এখন থেকে ফরেন ওয়ার্কার সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিসিএমএস)-এর ই-কোটা মডিউলের মাধ্যমে করা হবে। এর ফলে আগের মতো আলাদা বা কেসভিত্তিক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।
ডিপিএমএম বলেছে, নতুন ব্যবস্থা চালুর পরও এর কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত। আবেদন নিষ্পত্তির সময়, সিস্টেমের কার্যকারিতা এবং নিয়োগকর্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, যেসব খাতে শ্রমিকের সংকট রয়েছে সেখানে বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে স্থানীয় নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থান, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত রাখতে হবে।
মালয়েশিয়ায় বর্তমানে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা শুধু উৎপাদন, নির্মাণ, কৃষি, প্ল্যান্টেশন এবং সেবা—এই পাঁচটি খাতের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।
ছবি: সংগৃহীত
মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘অতীতের মেধাহীন বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে দেশের নিরাপত্তা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চলমান বন্যা পরিস্থিতি ও সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘সারাদেশে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলমান দুর্যোগে বিভিন্ন জায়গায় প্রাণহানির ঘটনা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। জনগণের নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তদারকি করছেন। দুর্গত মানুষের পাশে থাকতে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্দেশ দিয়েছেন।’
তিনি চলমান ত্রাণ কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে জানান, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এই পাঁচ জেলায় ১ হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া দুর্গতদের মাঝে ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দুর্গত এলাকায় খাদ্য, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে সেনাবাহিনী একযোগে নিরলসভাবে কাজ করছে।’
শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তরুণদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের বাংলাদেশের কান্ডারি হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সারাদেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণসহ স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জাতীয়তাবাদী আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেম ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে নির্বাচিত সরকারের হাতকে শক্তিশালী করি এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে এই বাংলাদেশকে একসাথে গড়ে তুলি।’
মন্তব্য