বাংলাদেশের শিল্পায়নের অগ্রযাত্রায় যুক্ত হলো নতুন মাইলফলক। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (NSEZ) আরও ৬৫.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপুল বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বেজা কার্যালয়ে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গোল্ডেন অয়েল মিলস লিমিটেড ও ডেল্টা এপিআই লিমিটেডের সাথে এই বিনিয়োগ চুক্তি সম্পন্ন হয়।
এই বিনিয়োগের ফলে একদিকে যেমন বহুমুখী শিল্প পণ্যের উৎপাদন বাড়বে, তেমনি কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হবে হাজারো মানুষের জন্য। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের নিজস্ব শিল্প স্থাপনের লক্ষ্যে মোট ৩২ একর জমি ইজারা নিয়েছে।
গোল্ডেন অয়েল মিলস লিমিটেড: প্রতিষ্ঠানটি ২০ একর জমিতে ৫২.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। তাদের লক্ষ্য হলো খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পে বৈচিত্র্য আনা। এখানে উৎপাদিত পণ্যের তালিকায় রয়েছে—খাদ্য, হিমায়িত খাদ্য, আইসক্রিম, বিশেষায়িত তেল ও ফ্যাট, প্যাকেজিং সামগ্রী এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্য। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে, যা স্থানীয় জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডেল্টা এপিআই লিমিটেড: ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল বা অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (API) উৎপাদনে ১২ একর জমিতে ১২.৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে ডেল্টা এপিআই। এর মাধ্যমে দেশে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনে দীর্ঘদিনের আমদানি নির্ভরতা কমবে। এই কারখানায় প্রত্যক্ষভাবে আরও প্রায় ২০০ জনের কর্মসংস্থান হবে।
বেজার প্রতিশ্রুতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা: চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এই বিনিয়োগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘দেশীয় শিল্পগোষ্ঠীর এই নতুন বিনিয়োগ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের গভীর আস্থার প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে যে, বিশ্বমানের শিল্প স্থাপনে বাংলাদেশ এখন একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্য।’
তিনি আরও জানান, বেজার পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের দ্রুত শিল্প কারখানা স্থাপন ও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে জমি বরাদ্দ থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য সব প্রশাসনিক সুবিধা দ্রুততার সাথে প্রদান করতে কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর।
অর্থনীতির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব: অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনে এই বড় বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতির কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে গোল্ডেন অয়েল মিলসের প্রকল্পে ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, ওষুধের কাঁচামাল (API) উৎপাদনে ডেল্টা এপিআই-এর বিনিয়োগটি অত্যন্ত কৌশলগত। বর্তমানে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানিতে ভালো করলেও কাঁচামালের জন্য আমদানিনির্ভর। এই কারখানাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংকের সাশ্রয় হবে এবং ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে। ইলেকট্রনিক্স ও এপিআই শিল্পে নতুন প্রযুক্তির সমাবেশ ঘটলে স্থানীয় বাজারে পণ্যের মান বাড়বে এবং ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানি বাণিজ্যেও নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই নতুন শিল্পায়ন কেবল স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং দেশের সামগ্রিক শিল্প প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের এই সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশের শিল্পায়নের গতিপথকে আরও সুদৃঢ় করবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং বেজার নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা বজায় থাকলে আগামীতে আরও বড় আকারের বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশকে একটি উন্নত শিল্পসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও জনসেবামূলক বিভিন্ন খাতে জাইকার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও জাইকার মধ্যকার সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
রোববার (০৫ জুলাই) সচিবালয়ে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাইকার চলমান এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে চান। আমরা সবাই তাঁর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে জাইকার অভিজ্ঞতা, কারিগরি সহায়তা ও বিনিয়োগ দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোঃ মাহমুদুল হাসান, এনডিসি এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও জাইকার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করবে এবং স্থানীয় সরকার খাতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র সৃষ্টি করবে।
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে সাংবাদিক আনিস আলমগীর ও মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি আইনি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ‘রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম’ নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। শাহবাগ থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, অভিযোগটি ইতিমধ্যে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই আশরাফ আলীকে। অভিযুক্তদের তালিকায় আরও রয়েছেন উপস্থাপক সোমা ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোমিন মেহেদী, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং মডেল ও অভিনেত্রী তুষ্টি।
অভিযোগকারী মিল্লাত হোসেনের দাখিলকৃত বিবরণী অনুযায়ী, সাংবাদিক আনিস আলমগীর জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যোগসাজশ করে "জুলাই আন্দোলনকে ব্যাহত করতে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন"। একইভাবে উপস্থাপক সোমা ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তিনি বিভিন্ন টকশোতে জুলাই আন্দোলনকে "তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা" চালিয়েছেন। অন্যদিকে, মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনের সহযোগী হিসেবে আন্দোলনকারী ও বিপ্লবে আহতদের "কটাক্ষ করার" দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন।
মডেল ও অভিনেত্রী তুষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই গণঅভ্যুত্থানকে "প্রতারণার মাস" আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছেন। এছাড়া মডেল মারিয়া কিসপট্টা জুলাই আন্দোলনকে "সন্ত্রাসী আন্দোলন" হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে প্রচার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোমিন মেহেদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ঢাকা প্রেস ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভে "জুতা নিক্ষেপ ও আবু সাঈদকে নিয়ে" কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। জিডি দায়ের করার সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ থানায় উপস্থিত ছিলেন এবং তারা এই ঘৃণ্য অপপ্রচারের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ফাইল ছবি
হামের টিকা সংগ্রহে ব্যর্থতা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এই আবেদনটি দাখিল করেন হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারানো ৯ মাস বয়সী শিশু সাউদা নুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম। মামলার আরজিতে তিনি তাঁর শিশুসন্তানের মৃত্যুকে ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে অভিহিত করে যথাযথ আইনি প্রতিকার দাবি করেছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি জানিয়েছেন যে, "আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমান রেখেছেন।" মামলার আবেদনপত্রে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকারি পর্যায়ে হামের টিকা সংগ্রহে চরম ব্যর্থতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে দেশজুড়ে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে সাউদা নুসকানসহ কয়েকশ শিশুর অকাল মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনার জন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি দায়ী করে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় বিচার প্রার্থনা করা হয়েছে।
মামলার আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পাশাপাশি সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমের বিরুদ্ধেও সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ আনা হয়েছে। সিরাজুল ইসলাম তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, সময়মতো টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে তাঁর ৯ মাস বয়সী মেয়েসহ অন্য শিশুদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করলেও এই বিষয়ে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা বা আদেশ এখনও প্রদান করেনি।
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি যেকোনো অনুষ্ঠান উদযাপনের প্রচারকাজে ব্যবহৃত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। রোববার (৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি পরিপত্র জারি করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এই নতুন নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুত করা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি—থ্রিডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকেই—ব্যবহার করা যাবে না।" মূলত সরকারি কর্মসূচির প্রচারণায় ব্যক্তির চেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, "সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচারণামূলক উপকরণ তৈরির ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।"
প্রচার উপকরণের নান্দনিকতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিপত্রে আরও বলা হয়, "ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি নকশা এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।" মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং দেশের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে এই নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের আহ্বান জানিয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতায় ব্যক্তির অতি-প্রচার বন্ধ করে কাজের উদ্দেশ্যকে ফুটিয়ে তুলতেই সরকার এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে
ছবি: সংগৃহীত
‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস- ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিশেষ স্মারক ডাক টিকিট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এই আয়োজনে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাক টিকিটের পাশাপাশি একটি উদ্বোধনী খাম এবং ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ডও অবমুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদুল হাসানও এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ৬ জুলাই ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ ডাক বিভাগ বিশেষ এই স্মারক সামগ্রীগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে।
দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং পল্লী অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে যাঁরা বিশেষ অবদান রাখছেন, তাঁদের কর্মের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এই স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনপদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় এই দিবসের মাধ্যমে নতুন করে ফুটে উঠেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আগারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে’ জুলাই জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের হাতে জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের অর্জন নয়। এই অর্জন দেশের প্রত্যেকটি গণতন্ত্রকামী ও শান্তিপ্রিয় মানুষের। যে কারণে এত মানুষ জীবন দিয়েছে, সেই জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে সরকার। আইন অনুযায়ী, অন্যায়কারী এবং হত্যাকারীদের বিচার করা হবে। বিচারের নামে যেন কারও প্রতি অবিচার না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আগারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে’ জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।
শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের পরিবার ও যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান, স্বীকৃতি ও জীবনমান নিশ্চিতকরণ, পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, সবার উদ্দেশে বলতে চাই, আপনাদের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে শুধু আমার দলেরই নয় অন্যান্য আরো রাজনৈতিক দল এবং একই সাথে যে সকল অরাজনৈতিক ব্যক্তি যারা ৫ আগস্ট (ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন আন্দোলন) সফল করেছিলেন, তাদের সবার কাছে বলতে চাই যে, আসুন আমাদের প্রতি, বাংলাদেশের লক্ষ-কোটি মানুষের প্রতি স্বৈরাচার যেমন অবিচার করেছিল, বিচারের নামে কারো প্রতি যেন অবিচার না হয় সে বিষয়টিতেও সচেতন থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বারবার ভাবছিলাম এই মুহূর্তে যদি আমি আমার মা’কে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, আপনার ওপর যে অবিচার ও অন্যায় হয়েছে আপনি কি চান আমি এসবের প্রতিশোধ নিই? আমার বিশ্বাস মা বলতেন, এই মুহূর্তে তোমার কাজ সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমি জানি, আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করলে তিনিও আমাকে একই উত্তর দিতেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি, এখানে মা উপস্থিত আছেন। উনি দেখেছেন কীভাবে সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এখানে ভাই উপস্থিত আছেন, সে দেখেছে কীভাবে তার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আপনাদের এই কষ্টের বিপরীতে শুধু একটি কথাই আমি বলতে চাই, আপনাদের যে কষ্ট, সেই কষ্টটি আমিও বুঝি, অনুভব করতে পারি।
তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচারের সময় থেকে শুরু করে ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনে অনেকেই, বহু, হাজারো লক্ষ মানুষ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সেই নির্যাতনের যে কষ্ট আপনাদের এখনো ভোগ করে বেড়াতে হচ্ছে। সেরকম শারীরিক কষ্ট, মানসিক কষ্ট প্রত্যেকটি কষ্ট আমাকেও ভোগ করতে, বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এ কারণে আপনাদের সেই কষ্ট- সেটি মানসিক হোক, সেটি শারীরিক হোক, আমি কিছুটা হলেও অনুভব করতে সক্ষম।
তিনি বলেন, আপনাদের ডান দিকে একটি ব্যানারের লেখা আছে জুলাইয়ের শহীদ হওয়া সর্বকনিষ্ঠ ফুলগুলোর নাম। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ৬৫ জন শিশু শহীদ হয়েছিল। তাদের কি কোনো অপরাধ ছিল? তাদের অপরাধ ছিল না। কিন্তু দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করতে গিয়ে যেভাবেই হোক এই শিশুগুলো জীবন দিয়েছে।
সেই উত্তাল দিনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করে গেছেন যে, জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১৪শ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন। সেই উত্তাল দিনগুলোতে যতটুকু সম্ভব হয়েছে আমার পক্ষে, আমি যতটুকু বিভিন্নভাবে শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও খোঁজ করছিলাম আমার নেতাকর্মীদের মাধ্যমে। অনেকে অনেক হিসাব দিয়েছে। কিন্তু আমার হিসাবের মতে শুধু জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে ২ হাজারের মতো মানুষ, ৩০ হাজারের মতো মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সার্বিকভাবে।
ফ্যাসিস্ট শাসনামলে দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, মামলা-হামলার ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আপনাদের সকলের কাছে একটু সহযোগিতা চাই আমি। যে আপনজনকে আপনারা হারিয়েছেন তারও তো লক্ষ্য ছিল এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, তারও তো লক্ষ্য ছিল এই দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন।
জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে উপস্থিত জুলাই পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই মানুষই ত্যাগ করতে পারে যার সাহস আছে। আপনজনকে আপনারা হারিয়েছেন, যে অঙ্গ হারিয়েছেন তা ঠিক হয়ে যাবে? না... ঠিক হয়ে যাবে না। তবে, সবাই মিলে আমরা যদি এ দেশকে এগিয়ে নিতে পারি, তবে একদিন গর্ব করে বলতে পারবেন আপনার আপনজনের ত্যাগের বিনিময়ে দেশের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। এখন একমাত্র কাজ শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই দিনে জুলাই অভ্যুত্থানে, জুলাই শহীদ, জুলাই যোদ্ধা এবং বিগত ১৭ বছরের যতজন শহীদ হয়েছেÑ তাদের প্রতি যদি সম্পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে হয়, তাহলে যার জন্য তারা ত্যাগ করেছেন সেই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা। এটি হোক আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের গৃহীত শপথ, এটি হোক আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের গৃহীত প্রতিজ্ঞা।
জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজনে এই জাতীয় সম্মেলনে আগত শত জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্য সরকার প্রধানের সামনে নিজেদের যন্ত্রণা, মনের ভাব তুলে ধরেন।
সকাল সোয়া ১০টায় পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত এবং জুলাই আন্দোলনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ পরিবারের হাতে জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় শহীদ মিরাজের বাবা রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই আহত আল মিরাজ, জুলাই যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্মারক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত সবার জন্য রাখা স্মৃতি স্মারক তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণ মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমী ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী, আয়োজক সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল বক্তব্য রাখেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ সন্তানদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেইন, শহীদ শাহরিয়ার হোসেন আলভীর বাবা আবুল হোসেন, শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরা, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম এবং যাত্রাবাড়ীতে শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আবদুর রব মিয়া। জুলাই অভ্যুত্থানে আহত শাহিন মালু, সুজন মোল্লা, মিল্লাত হোসেন, আল-আমীন, মেহেদি হাসান মিরাজ তাদের কথা জানান।
জুলাই জাতীয় সম্মেলনে রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊধর্তন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে যে জুলাই এসেছিল তা ছিল রক্তাক্ত জুলাই। সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল ও সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন দ্রুতই সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর রাজপথ থেকে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গড়ে ওঠে অভূতপূর্ব গণআন্দোলন। পরবর্তীতে এই আন্দোলন সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের যে তালিকা সরকার গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে, সেখানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন। তবে অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘ যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ যেভাবে আকৃষ্ট করা হচ্ছে, তাতে ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশ। বিদেশি বিনিয়োগ, সরাসরি বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ— সবই বাংলাদেশে আসছে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলের যে সম্ভাবনা আছে, সেটিকে মাথায় রেখে বাজেট করা হয়েছে এবং সেই সম্ভাবনাগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
চট্টগ্রামকে লজিস্টিক্যাল হাব গড়তে বড় পরিকল্পনা রয়েছে, এজন্য বিদেশি বিনিয়োগও আসছে জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে সম্ভাবনার খাত অনেক বেশি। কারণ, এখানে বন্দর আছে। শুধু সমুদ্রবন্দর নয়, চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানও রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে সরকারের পরিকল্পনায় অনেক কিছু আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, নদীর ওপারে আনোয়ারায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে একসঙ্গে অনেকগুলো বন্দর নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রামকে একটি লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার প্রতিফলন এবারের বাজেটে রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো হাব ও প্যাসেঞ্জার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াতের সময় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও বাজেটে রয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক করিডর একটি লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত হবে। বন্দরগুলো আরও বেশি পরিমাণে কাজ করতে পারবে। অন্যদিকে মাতারবাড়ীকেও ঘিরে বড় ধরনের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক্যাল সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই বাজেটে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে। তবে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন একটি কঠিন কাজ। বর্তমান সরকার বিগত সরকারের কাছ থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। আগে এই ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে। এরপর সম্ভাবনার জায়গাগুলো কাজে লাগানো হবে। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে সমৃদ্ধির ধারা শুরু হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ তার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ আজিজ প্রমুখ।
মন্তব্য