প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার এমন এক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ এবং এমনকি প্রতিটি প্রাণীও নিরাপদে থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কক্ষে আয়োজিত এক সভায় (জুম প্ল্যাটফর্ম) বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর পাশাপাশি কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলেন ‘বাংলাদেশের মন’। তিনি আজীবন সাম্যের গান গেয়েছেন, যেখানে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টানের কোনো ভেদাভেদ নেই। বর্তমান সরকারও এমন এক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ এবং এমনকি প্রতিটি প্রাণীও নিরাপদে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ।
তিনি বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্র এবং সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন, যারা আমাদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন কিংবা আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ, সামাজিক দর্শন ও আমাদের মনোজগতে প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। কবি নজরুল তেমনই একজন ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব। কৈশোর থেকে পরিণত বয়স, আমাদের জীবনের সব পর্যায়েই তার প্রভাব অপরিসীম।
কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করে তারেক রহমান বলেন, বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, বিরহের কবি, তারুণ্যের কবি, বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয়, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো।
তিনি বলেন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার, তথা যা কিছু অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দর, তার বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শাণিত অস্ত্র। বিপ্লব, বিদ্রোহ কিংবা রণ-সংগীত, ইসলামী তাহজিব তমদ্দুন কিংবা ইসলামী মূল্যবোধের গান অথবা ভজন-কীর্তন কিংবা শ্যামা সংগীত, প্রেম, প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ, কৈশোরের আনন্দ কিংবা যৌবনের উন্মাদনা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল প্রকাশ ছিল শুদ্ধ।
মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও কাজী নজরুল ইসলাম অন্যতম প্রধান দিশারি এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তার রচনার মধ্যে মহিমাময় হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে। কবি নজরুলের সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য রয়েছে সব কালের, সব মানুষের।
তিনি বলেন, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। তার প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন ফুরানোর নয়।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনি আমাদের সব আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মূল ভাষা।
তিনি বলেন, শুধু অতীত ইতিহাস নয়, বর্তমান প্রজন্মের জন্য, এমনকি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নজরুল আমাদের জীবনে প্রাসঙ্গিক। এ কারণেই আমাদের জাতীয় কবির জীবন ও কর্মের সঙ্গে, গণমানুষ বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক আরও গভীর ও নিবিড় করার লক্ষ্যে নানা আয়োজনে নজরুল বর্ষ শুরু হয়েছে।
তিনি নজরুল বর্ষ উদযাপনে উপস্থিত সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পী যারা উপস্থিত রয়েছেন, সবাইকে অভিনন্দন।
তিনি অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে নজরুল গবেষক ও নজরুলপ্রেমীদের প্রাধান্য দেওয়ার ইঙ্গিত করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠানে যেমন নজরুল গবেষকদের উপস্থিতি মানায় না, তেমনি নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠানেও আমলাদের চেয়ে নজরুল অনুরাগীদের অংশগ্রহণই বেশি কাম্য।
নতুন প্রজন্মের ওপর তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান জটিল বাস্তবতায় আমাদের উদীয়মান প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাতে নজরুলের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখি’ কিংবা ‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে’র মতো নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কবিতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
তিনি বলেন, নজরুল আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ। নজরুল কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস।
এ সময় সারাদেশে নজরুল বিশেষজ্ঞ ও নজরুলপ্রেমীদের নিয়ে গঠিত নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির মাধ্যমে বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুল সংগীতের আসর, নাট্যোৎসব এবং চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন সফল করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
একইসঙ্গে বর্তমান জটিল বৈশ্বিক বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে কবির নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সাহিত্যকে আলোকবর্তিকা হিসেবে ব্যবহারের তাগিদ দেন তিনি।
পরিশেষে, জাতীয় কবির জীবন, কর্ম, সাহিত্য ও মানবিক চেতনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ এর বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ভার্চ্যুয়ালি আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পী যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র কালেমাখচিত পতাকা বা ইসলামের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীককে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, অবমাননা বা রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয় বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের যে কোনো অপচেষ্টা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের কারণ হতে পারে।’
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে ‘পবিত্র কালেমা খচিত পতাকার সম্মান রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, ‘ধর্মীয় সব বিষয়ে পবিত্র কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আল্লাহ ও তার রাসূল (সা.)-এর আদর্শের বাইরে নতুন কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা দেশের মুসলিম উম্মাহ কখনো মেনে নেবে না। ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে। ইসলামের পবিত্র নিদর্শন ও ধর্মীয় প্রতীকসমূহের মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব।’
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত জীবনাদর্শের বাইরে ইসলামে নতুন কোনো মতবাদ, বিশ্বাস কিংবা অনুশীলনের স্থান নেই।’
তিনি আলেম, শিক্ষাবিদ, তরুণ সমাজ ও সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভীর সভাপতিত্বে সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা, ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ধর্মীয়প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম, শায়খুল হাদিস, খতিব, মুফতি ও বিশিষ্ট আলেমরা অংশ নেন।
সভায় আলেমরা বলেন, ‘ধর্মপ্রাণ যুবসমাজ ধর্মীয় অনুভূতি থেকে কালেমাখচিত পতাকা বহন করলেও পরে একটি বিশেষ মহল এ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং অপব্যাখ্যার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কালেমাখচিত পতাকাকে অনুপযুক্তভাবে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর ঘটনাও লক্ষ করা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে ধর্মপ্রাণ যুবসমাজকে সতর্ক থাকতে হবে। ইসলামের পবিত্র প্রতীকসমূহের যথাযথ মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে কোনো মহল যদি ধর্মীয় প্রতীককে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তবে আলেম সমাজ ও সচেতন মুসলিম জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করবে।’
বক্তারা জাতীয় স্বার্থ, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ইসলামের সুমহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বিজি-১৪৮ নম্বর ফ্লাইটের কার্গো হোল থেকে প্রায় ১৯ কেজি ওজনের ১৬০টি সোনার বার জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগিব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের একটি সমন্বিত দল এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকৃত সোনাগুলো অত্যন্ত কৌশলে কার্গো হোলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে এই চালানের সঙ্গে জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত আটক করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোনা চোরাচালানের উৎস এবং কার্গো হোলে এই মূল্যবান ধাতুর প্রবেশ নিশ্চিত করার পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটে এমন বড় ধরনের সোনার চালান উদ্ধারের ঘটনাটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারির ফসল বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। উদ্ধারকৃত সোনাগুলো কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংস্থাটির মহাপরিচালক পদে রদবদল করেছে সরকার।
বুধবার (১ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুই আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে দুদকের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে ডেপুটেশনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দুদকের বর্তমান মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেনকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে বদলি করা হয়েছে।
জনস্বার্থে জারিকৃত ওই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ জুলাই দেশের শীর্ষতম চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) পরিদর্শনে যাবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢামেকের প্যাথলজি বিভাগে অত্যাধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে আসবেন। তার সঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমানও থাকবেন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে এবং ঢাকা মেডিকেলের সামগ্রিক চিত্র বদলে যাবে।
অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্কবার্তা প্রদান করে বলেন, আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও ভয়াবহতা বাড়তে পারে। তবে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে থানা, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু শনাক্তের এনএসওয়ান পরীক্ষার কিট পর্যাপ্ত পরিমাণে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ঢাকা এবং দেশের বড় শহরগুলোর হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব হাসপাতালের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে এবং চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হবে।”
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে মসজিদের ইমামসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি দেশের চিকিৎসাসেবার সামগ্রিক সক্ষমতা তুলে ধরে বলেন যে, বর্তমানে সব ধরনের ভ্যাকসিন, রি-এজেন্ট এবং স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ‘মোবাইল হাসপাতাল’ চালুর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ক্যানসার নির্ণয় প্রক্রিয়ায় আধুনিকতা আনতে ঢামেকের প্যাথলজি বিভাগে একটি অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপ হস্তান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে রোগীদের ক্যানসার শনাক্তকরণ আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল হবে বলে চিকিৎসকরা আশা প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে ‘নজরুল বর্ষ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বছরব্যাপী এই আয়োজনের ঘোষণা দেন। চলতি বছরের ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ বর্ষের কার্যক্রম আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে। কবির সাহিত্য ও দর্শনের প্রচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকে বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে হবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।"
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে এই আয়োজনের সার্থকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "নানা আয়োজনের মাধ্যমে এটিকে কাজে লাগিয়ে সারাদেশে জেলা-উপজেলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বছরজুড়ে সফলভাবে পালন করা অত্যন্ত জরুরি।" কবির সাম্য ও বিদ্রোহের বাণী যেন প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ে, সরকার সেই লক্ষ্যেই এক বছর মেয়াদী এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
নজরুল বর্ষকে ঘিরে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সেমিনার ও উৎসবের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় কবির অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক দর্শনকে জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপনের জন্য বছরজুড়ে বিশেষ উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহী কবির স্মৃতি স্মরণে জাতীয় পর্যায়ের এক বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা হলো।
ছবি: সংগৃহীত
সন্ত্রাসবাদের বর্তমান ও পরিবর্তিত রূপ মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে আরও কার্যকর ও জোরালো সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভার্চুয়াল অ্যাসেটের মতো আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো যেভাবে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্র। নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় বুধবার (১ জুলাই) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌশল বিষয়ক এক বিতর্কে বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা পুনরুল্লেখ করেছেন। তিনি সংসদকে অবহিত করে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন দমনে বাংলাদেশে অত্যন্ত শক্তিশালী আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বিদ্যমান। বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) সমন্বিত প্রচেষ্টায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরালো করা হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদ দমনে গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপ অবশ্যই আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল সন্ত্রাস দণ্ড নয়, বরং সন্ত্রাসবাদের মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে তা নির্মূল করতে হবে। তিনি ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রতিরোধের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যে কোনো অপচেষ্টা রুখতে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে তেহরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ইরানের উদ্দেশে রওনা হন। স্পিকারের দপ্তর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জানাজায় অংশগ্রহণ ও শোক সন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন শেষে আগামী ৪ জুলাই তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণকারী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। তিনি দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের রাজনীতি ও ধর্মীয় অঙ্গনে তিনি ছিলেন অবিসংবাদিত নেতা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর এক হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা নিহত হন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ তেহরানে সমবেত হচ্ছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের এই সফরকে ইরানের সাথে বাংলাদেশের বিদ্যমান সুসম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেহরানে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খামেনির দাফন ও জানাজার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
মন্তব্য