বাজি বা পণ (বেটিং), ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়া ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন করতে বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। পাস হওয়া বিলে অনলাইন বেটিংয়ের অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল-২০২৬ পাস হয়। ১৮৬৭ সালের দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট রহিত করে নতুন আইন করা হচ্ছে।
নতুন আইনকে সমর্থন করলেও আইনে দেওয়া কিছু ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা করেছে বিরোধী দল। জুয়া প্রতিরোধের কথা বলে সরকারের সমালোচনাকারী কোনো ওয়েবসাইট, নিউজ পোর্টাল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে তোলেন। বিলের ওপর বিরোধী দলের সদস্যদের আনা জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করেন স্পিকার।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার অপরাধ করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
কেউ অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের সাজা হবে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।
পাস হওয়া বিলে অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ (বেটিং), বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিং, জুয়ার স্থান, সামগ্রীসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয় সংজ্ঞায়ন করে অপরাধের প্রকৃতিভেদে ১৪ ধরনের সাজার (অর্থদণ্ড/কারাদণ্ড/উভয় দণ্ড) বিধান রাখা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি যতদিন নিষিদ্ধ আছে; ততদিন রিফাইন্ড বা তৃণমূল কোনো নামেই দলটি কার্যক্রম চালাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা একেবারেই অনুচিত। তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভারতে অবস্থান করা ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করে এবং সেসব বক্তব্যের অনুবাদ প্রচার করেছে বাংলাদেশের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম। তাই, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বক্তব্য প্রচারে কী ব্যবস্থা নেবে সরকার?
সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষেধ এবং এ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনা দেশের গণমাধ্যমগুলোকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রিফাইন্ড কিংবা তৃণমূল কোনো নামেই দলটি কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের সুদৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জনগণ এবং নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এতে অন্য কোনো দেশের ‘কনসার্ন’ থাকার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের সংকট অত্যন্ত গভীর ও মানবিক। বর্ষায় নদীভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র অভাব উত্তরাঞ্চলের মানুষকে চরম সংকটে ফেলে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণ করা। এই কাজে চীনের বিপুল দক্ষতা (এক্সপার্টিজ) এবং প্রয়োজনীয় ফান্ড রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রকল্পটি নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম দেশ হিসেবে জনগণ ও তার নিজস্ব স্বার্থে পদক্ষেপ নেবে। এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রকাশের অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে। আমাদের এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে অন্য কোনো দেশের কনসার্ন হওয়ার কারণ দেখি না। ভারত বা অন্য যেকোনো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই এনগেজ করবে। যদি কারো কোনো সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা কনসার্ন থাকেও, বাংলাদেশ তা মাথায় রাখবে। এসব সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো আপস না করেই কাজ করবে।
বিগত আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে শুধু একটি নয়, একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে। আমরা যেকোনো দেশের সঙ্গে পারস্পরিক ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা করেই কাজ করব।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, এই প্রকল্প বা ব্যারাজ নির্মাণের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করা ছেড়ে দিচ্ছে। আমরা তিস্তা ও গঙ্গাসহ অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তবে নদী শাসন ও সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ নিজেদের স্বার্থেই দ্রুত করতে হবে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন দেশের বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য শিল্পী এবং তার অবদান শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভি প্রাঙ্গণে জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দেশের বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেছেন, তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবং অন্তর্গতভাবেই একজন খাঁটি শিল্পী। দেশের সকল প্রতিভাবান মানুষের তালিকা করা হলে মুস্তাফা মনোয়ার প্রথম সারির অনন্য মানুষ হিসেবে গণ্য হবেন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে মরহুমের নামাজে জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে তার জান্নাত প্রার্থনা করেন।
মুস্তাফা মনোয়ারের বৈচিত্র্যময় কর্মজীবনের ওপর আলোকপাত করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের কৈশোর থেকেই আমরা তার বহুমুখী প্রতিভা ও কাজের সাথে পরিচিত। তিনি শিল্পকলা ও সাহিত্যের জগতের বহু ক্ষেত্রে বিচরণ করেছেন। নিজে যেমন মেধার অবিরাম চর্চা করেছেন, ঠিক তেমনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ার যখনই যেখানে যে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই তার কর্মের আন্তরিকতা, দক্ষতা, যোগ্যতা এবং সর্বোপরি এক অনন্য মননশীলতার গভীর ছাপ রেখে গেছেন।’
মুস্তাফা মনোয়ারের স্মৃতিবিজড়িত কর্মস্থল বিটিভি প্রাঙ্গণে উপস্থিত হতে পারাকে পরম সৌভাগ্য উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বিটিভি পরিবার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষ থেকে মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন।
বিটিভি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই জানাজার নামাজে বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, বিটিভির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং মরহুমের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা অংশ নেন।
ছবি: সংগৃহীত
দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বা মব জাস্টিস কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। জুন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং ১২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগের মাসে এই ধরনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৩২ এবং আহত হয়েছিলেন ৭১ জন। সেই হিসাবে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মব সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও আহতের হার আশঙ্কাজনকভাবে প্রায় ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং নিজস্ব অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করে এমএসএফ।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার সংখ্যা তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছে, জুন মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতির দিকে গেছে এবং অধিকতর অস্থিতিশীল রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, ব্যাপক গ্রেপ্তার, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার এবং সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি—এসব সূচকে উদ্বেগজনক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে, যা আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩০৩ জন আহত এবং দলীয় সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন। সংগঠনটি বলছে, রাজনৈতিক সহিংসতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দলীয় ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলা, উভয় ক্ষেত্রেই হতাহতের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হওয়া থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই সহিংস ও অনিরাপদ হয়ে উঠছে।
এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুন মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হয়েছে তিনজন। কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।
এ মাসে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে ১৯টি। আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন ৬ জন, গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩ জন অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক।
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে নদী, সড়ক, রেললাইন ও ফসলি জমিতে পড়ে থাকা অবস্থায় ৬৫টি অজ্ঞাত ও নামীয় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ৫৩।
এমএসএফের সংগৃহীত তথ্য বলছে, জুনে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে ৬ জন নিহত এবং ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। জুনে ভারত থেকে ৪২৩ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। যার ফলে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের জীবন যাপন করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে সহিংসতা কিছু ক্ষেত্রে কমলেও ভারত থেকে পুশ ইনের চেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা একটি বড় মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে। এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুন মাসে ৩৪৮ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুনে ৯ জন মৃত ও ২ জন জীবিতসহ মোট ১১ নবজাতককে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এই মাসে মাদক কারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
বার্ষিক সমাপনী মজুত গণনা, পরিসম্পদ মূল্যায়ন ও বাস্তব যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বুধবার সারাদেশের সব তেল ডিপো ও প্রধান স্থাপনা থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিপণন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষ থেকে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিপিসির বণ্টন ও পরিবীক্ষণ অধিশাখার মহাব্যবস্থাপক ফেরদৌসী মাসুম হিমেল স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়েছে যে, বিপিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনা ও ডিপোসমূহে বার্ষিক সমাপনী মজুদ গণনা ও যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামস্থ প্রধান স্থাপনা থেকে শুরু করে দেশের সব ডিপো এবং স্থাপনার বিপণন কার্যক্রম এদিন স্থগিত থাকবে।
তবে বিমান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে জেট-এ১ জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ডিপোর মজুদ ট্যাংকের বার্ষিক যাচাই কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে সরবরাহ সচল রাখতে হবে।
যমুনা অয়েল, পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে এই আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে এবং কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ীতে খোবাইব নামে একজন নিহতের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি কেএম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দিয়েছেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা।
আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, এ মামলায় জামিন হওয়ায় সাবেক এই বিচারপতির মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।
এর আগে এ মামলায় গত ২১ জুন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারিক আদালত। পরে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলন চলাকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গুলিতে খোবাইব (২০) নিহত হন। এ ঘটনায় তার ভাই জোবায়ের আহম্মেদ ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আমলে নিয়ে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায়। দ্বিতীয় অভিযোগ- তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যা। তৃতীয় অভিযোগ- জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত ও পঙ্গু করার দায়।
এই মামলায় অভিযুক্ত ২২ জনের মধ্যে বর্তমানে ৫ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলসহ বাকি ১৭ আসামি পলাতক রয়েছেন। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন—চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
এর আগে, টানা তিন কার্যদিবস শুনানি শেষে সোমবার আসামিপক্ষ তাদের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর বক্তব্য শেষ করে। আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান দাবি করেন, এই মামলায় কারও বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠনের মতো কোনো উপাদান বা তথ্য-প্রমাণ নেই। একই সাথে পলাতক আসামিদেরও মামলা থেকে অব্যাহতি (ডিসচার্জ) দেওয়ার আবেদন জানান রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম।
তবে প্রসিকিউশন পক্ষ গত ২২ জুন আসামিদের প্রাথমিক অপরাধ ও দায় বিবেচনা করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পক্ষে জোরালো আবেদন জানায়। তারও আগে, গত ৫ এপ্রিল প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করলে ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল ২২ জনের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নিয়েছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে আসার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় আছে ২০টি ভারতীয় রেলকোচ। জুলাই মাসেই কোচগুলো বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় রেল বিভাগের কর্মকর্তারা।
২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ শাসনামলে ভারতের রেল বিভাগের অধীন রপ্তানি সংস্থা রাইটসের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল বাংলাদেশের সরকার। সেই চুক্তির শর্ত ছিল— বাংলাদেশে মোট ২০০ রেলকোচ রপ্তানি করবে ভারত। এসব কোচের মধ্যে ১২০টি ব্রডগেজ যাত্রী কোচ, ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এই ২০০ কোচের মূল্য হিসেবে ভারতকে ৯১৫ কোটি রুপি প্রদান করবে বাংলাদেশ। এই প্রকল্পে বাংলাদেশকে অর্থ সহায়তা দিয়েছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)।
ভারতের কেন্দ্রীয় রেল দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইকোনমিক টাইমসকে বলেন, ‘প্রথম চালান হিসেবে জুলাই মাসে ২০টি ব্রডগেজ কোচ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য আমাদের যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ শেষ। জুলাইয়ের যে কোনো দিন এই চালান বাংলাদেশে পাঠানো হবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, পরবর্তী চালানগুলো আগামী ৩৬ মাসে পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে।’
প্রথম চালানের এই ২০টি কোচ তৈরি করা হয়েছে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালা এলাকায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায়। পরবর্তী কোচগুলোও সেখানেই প্রস্তুত করা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় রেল দপ্তরের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি কোচের ওয়ারেন্টির মেয়াদ হবে ১৪ বছর।
মন্তব্য