× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
Appointment of Ahsan Habib as the new chairman of NBR
google_news print-icon

এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে আহসান হাবিবকে নিয়োগ

এনবিআরের-নতুন-চেয়ারম্যান-হিসেবে-আহসান-হাবিবকে-নিয়োগ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আহসান হাবিব। বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। সোমবার (২৯ জুন) এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে এনবিআরের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আহসান হাবিব।

১৫তম বিসিএস (ট্যাক্সেশন) ক্যাডারের কর্মকর্তা আহসান হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এ ছাড়া বিসিএস পরীক্ষায় তিনি তার ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

কর্মজীবনে কর অঞ্চল-১৫-এর কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন আহসান হাবিব। সিআইসির মহাপরিচালক থাকাকালে কর ফাঁকি ও আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি আলোচিত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম ‘উল্কাগেমস’ থেকে বকেয়া কর আদায়ের উদ্যোগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আহসান হাবিব। বর্তমানে বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
Master plan will be implemented at any cost Prime Minister
তিস্তার বুকে নতুন আশার সূর্য

যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন হবে মহাপরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

* গড়ে উঠবে অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট শহর, পাঁচতারকা হোটেল, রিসোর্ট, বিনোদন কেন্দ্র এবং মেরিন ড্রাইভ * থাকবে ১৫০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট ও অসংখ্য কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা।
যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন হবে মহাপরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এই প্রকল্পকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

হিমালয়ের বরফগলা জলধারা থেকে উৎপত্তি হয়ে যে নদীটি সিকিম আর পশ্চিমবঙ্গ ছুঁয়ে বাংলাদেশের উত্তর জনপদে প্রবেশ করেছে, তার নাম তিস্তা। এককালে এই নদীকে বলা হতো ‘উত্তরবঙ্গের জীবনরেখা’। কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে তিস্তা রূপ নিয়েছে দুঃখ, বঞ্চনা আর কান্নার অপর নাম। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে ধূ ধূ মরুভূমি, আর বর্ষায় উজানের ঢলে সর্বগ্রাসী বন্যা—এই দুই চরম সংকটের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা। এই মরণফাঁদ থেকে উত্তরবঙ্গকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ সরকার হাতে নিয়েছে এক যুগান্তকারী ও চোখধাঁধানো রূপরেখা—‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বা ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এই প্রকল্পকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।’

সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিসহ অন্যান্য খাতে তা ব্যবহার করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।’

কী আছে এই মহাপরিকল্পনায় : তিস্তা মহাপরিকল্পনা হলো মূলত প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রজেক্ট, যা চীনের ‘হোয়াংহো’ নদীর সফল ব্যবস্থাপনার আদলে তৈরি করা হয়েছে। ২০১৬ সালের একটি স্মারক চুক্তির মাধ্যমে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। এই মহাপরিকল্পনায় নদী শাসনের প্রথম ধাপ হিসেবে তিস্তা নদীর প্রায় ১০২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ড্রেজিং করা হবে। নদীর গভীরতা ১০ মিটার পর্যন্ত বাড়ানো হবে, যাতে বর্ষার অতিরিক্ত পানি নদী নিজের বুকেই ধরে রাখতে পারে। নদীর দুই তীরে ২০৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও শক্তিশালী গাইড বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এর ফলে প্রতি বছরের চিরচেনা নদীভাঙন চিরতরে বন্ধ হবে। নদীকে একটি নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত সীমানার মধ্যে এনে প্রায় ১৭১ বর্গকিলোমিটার চরভূমি (যা আগে নদীগর্ভে বিলীন ছিল) উদ্ধার করা হবে। উদ্ধার হওয়া এই বিশাল জমিতে গড়ে উঠবে অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট শহর, পাঁচতারকা হোটেল, রিসোর্ট, বিনোদন কেন্দ্র এবং মেরিন ড্রাইভ। এছাড়া থাকবে ১৫০ মেগাওয়াটের একটি বিশাল সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট এবং অসংখ্য কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা।

কেন এই মহাপরিকল্পনা : বাংলাদেশে তিস্তার গতিপথ ১১৫ কিলোমিটার, যার মধ্যে ৪৫ কিলোমিটার তীরভূমি চরম ক্ষয়প্রবণ।ক) শুষ্ক মৌসুমের মরুভূমি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকটশুষ্ক মৌসুমে ভারতের গজলডোবা বাঁধের মাধ্যমে একতরফাভাবে পানি আটকে রাখার ফলে তিস্তা বাংলাদেশ অংশে কঙ্কালসার হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (IFPRI) মতে, পানির অভাবে এই অঞ্চলে বার্ষিক প্রায় ১৫ লাখ টন ধান উৎপাদন ব্যাহত হয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় তীব্র পানির সংকট তৈরি হয়। খ) বর্ষার উন্মত্ততা ও অর্থনৈতিক ক্ষতিআবার বর্ষাকালে যখন ভারতে পানির চাপ বাড়ে, তখন গজলডোবা বাঁধের সবগুলো গেট একসাথে খুলে দেওয়া হয়। আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে যায় লাখো মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষেত। প্রতি বছর এই বন্যার কারণে বাংলাদেশের প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। ১৯৮৩ সালের অন্তর্বর্তী চুক্তি কিংবা ২০১১ সালের সমান ভাগের খসড়া চুক্তি—কোনোটিই পশ্চিমবঙ্গের আপত্তির কারণে আলোর মুখ দেখেনি। এই স্থায়ী অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্ম।

চীনের আগ্রহ ও ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI): চীনের ‘পাওয়ার চায়না’ কোম্পানি প্রায় ৩ বছর ধরে তিস্তা অববাহিকায় ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সমীক্ষা চালিয়েছে। চীন এই প্রকল্পের সিংহভাগ (প্রায় ৬,৭০০ কোটি টাকা) ঋণ দিতে এবং কারিগরি সহায়তা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এর মাধ্যমে চীন মূলত তাদের বৈশ্বিক ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (BCIM) অর্থনৈতিক করিডোরে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চায়।

ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ: ‘চিকেনস নেক’ আতঙ্কচীন যখনই টাকা নিয়ে প্রস্তুত, তখনই তীব্র আপত্তি তোলে নয়াদিল্লি। কারণ, তিস্তা প্রকল্পের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর খুব কাছে। মাত্র ২১ থেকে ২৫ কিলোমিটার চওড়া এই করিডোরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যকে (সেভেন সিস্টার্স) যুক্ত করেছে। ভারত ভয় পাচ্ছে, চীন যদি তিস্তা প্রজেক্টের উসিলায় উত্তরবঙ্গের এই অঞ্চলে এসে বছরের পর বছর অবস্থান করে এবং ভারী অবকাঠামো নির্মাণ করে, তবে যুদ্ধ বা যেকোনো সংকটের সময়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা চরম ঝুঁকিতে পড়বে। তাই চীনকে হঠাতে ২০২৪ সালে ভারত পাল্টা প্রস্তাব দেয়—‘চীনের দরকার নেই, তিস্তা প্রকল্পের টাকা এবং কাজ আমরাই করব।

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সংসদে জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে তিস্তা এবং সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং চীন ফিজিবিলিটি স্টাডি ও কারিগরি সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে। সরকার আগামী অর্থবছরেই ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বা অন্য যেকোনো নামেই হোক, এর দৃশ্যমান কাজ শুরু করতে বদ্ধপরিকর। সরকারের লক্ষ্য—আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন করা, যার একটি বড় অংশজুড়ে থাকবে তিস্তা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প।

বাস্তবায়িত হলে মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন আসবে: যদি এই মহাপরিকল্পনা সফলভাবে আলোর মুখ দেখে, তবে উত্তরবঙ্গের মানচিত্র চিরতরে বদলে যাবে। সেচব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে একাধিক ফসল ফলানো সম্ভব হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সচলতা তৈরি হবে। শিল্প ও কর্মসংস্থান নদীর দুই তীরে ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ অর্থনৈতিক অঞ্চলে লজিস্টিক সেন্টার ও প্রসেসিং জোন গড়ে উঠবে। এতে প্রায় ৭ থেকে ১০ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান হবে, কাজের জন্য আর ঢাকা বা অন্য শহরে ছুটতে হবে না। পর্যটন ও বিনোদনইকো-পার্ক, নদীকেন্দ্রিক রিসোর্ট, পাঁচতারকা হোটেল এবং মেরিন ড্রাইভের কারণে উত্তরবঙ্গ পরিণত হবে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মূল আকর্ষণীয় কেন্দ্রে।

মানবিক ও সামাজিক নিরাপত্তা: প্রায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ পারিবারিক সম্পদ নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। তিস্তাপাড়ের ২ কোটি মানুষ ফিরে পাবে মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠাঁই।

পানিহীন নদীতে মহাপরিকল্পনার ভবিষ্যৎ কী? তিস্তা আজ শুধু একটি নদী উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌম কূটনীতি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার এক এসিড টেস্ট। তবে নদী বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি মৌলিক সত্যকে এড়িয়ে এই মহাপরিকল্পনা সফল করা অসম্ভব—সেটি হলো পানির ন্যায্য হিস্যা। নদীতে যদি শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিই না থাকে, তবে নদীর বুকে চোখধাঁধানো স্যাটেলাইট শহর বা বিশাল ব্যারাজ তৈরি করে লাভ কী? তাই বেইজিং বা নয়াদিল্লির ঋণের অঙ্কের চেয়েও বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী ভারতের কাছ থেকে শুষ্ক মৌসুমের পানির হিস্যা আদায় করা। তবে বিষয়টি এখন শুধু বাংলাদেশের ন্যায্য পানির চাওয়ার মধ্যে আটকে নেই। কারণ, তিস্তার ওপারে ভারত। তিস্তার উজানের অংশ আবার চীনের নিয়ন্ত্রণে। সেখানেও চীনের একটি প্রকল্প পরিকল্পনা আছে। মনে করা হয়, তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহের বড় কারণ ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্প। যার মাধ্যমে চীন এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশকে একীভূত করতে চায়। তাই তিস্তা প্রকল্প ঘিরে ভূরাজনৈতিক নানা হিসাবনিকাশের বিষয় রয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান এ বিষয়ে বলেছেন, তিস্তা নদীর সঙ্গে ভারত, চীনসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের নদীপ্রবাহ জড়িত। আমরা কতটুকু পানি পাব, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলে প্রকল্প জটিল হয়ে যাবে। তাই ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি হতে হবে। নদীর উজানে চীনের নিয়ন্ত্রণ। তাই ভারতও পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া দরকার। সবচেয়ে ভালো হয় যদি এ বিষয়ে বহুপাক্ষিকভাবে আলোচনা করা যায়।

তবে আশার কথা হলো, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে তিস্তা পানি চুক্তি নিয়ে এক নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। ঢাকার দক্ষ কূটনীতি যদি বেইজিংয়ের কারিগরি সক্ষমতা এবং নয়াদিল্লির নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে একটি নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে, তবেই তিস্তার প্রতিটি ঢেউয়ে বয়ে চলবে উত্তরবঙ্গের কোটি মানুষের স্বপ্ন। উত্তরের আকাশে তখন সত্যিই উদিত হবে এক নতুন আশার সূর্য।

মন্তব্য

জাতীয়
TIN is not required to open an increased tax exempt Ayasima bank account
অর্থবিল-২০২৬ পাস

বাড়ল করমুক্ত আয়সীমা, ব্যাংক হিসাব খুলতে লাগছে না টিআইএন

* ঋণনির্ভর থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে যাত্রা * ভ্যাট ব্যবস্থার বাইরে ঐতিহ্যবাহী বাজার ও ছোট মুদি দোকান
বাড়ল করমুক্ত আয়সীমা, ব্যাংক হিসাব খুলতে লাগছে না টিআইএন ছবি: সংগৃহীত

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল এবং ঋণনির্ভর থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে যাত্রার প্রত্যাশা করে একাধিক সংশোধনী এনে জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০২৬ পাস হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের আহ্বানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি চূড়ান্ত পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

পাস হওয়া অর্থবিল-২০২৬ এ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলের পাশাপাশি ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে লাগবে না টিআইএন নম্বর।

এর আগে, বিলটির ওপর সংসদ সদস্যদের আনা জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব এবং বিলের সাধারণ নীতি নিয়ে দীর্ঘ ও প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশনের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারের আর্থিক প্রস্তাবগুলো কার্যকরকরণ এবং কতিপয় আইন সংশোধন করতে ‘অর্থ বিল, ২০২৬’ সংসদে অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণের প্রস্তাব তোলেন।

বিলটি টেবিলে ওঠার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ বেশ কয়েকজন সদস্য বিশাল ঘাটতি বাজেট, কর ও ভ্যাটের বোঝা, ব্যাংকিং খাতের নজিরবিহীন দুর্নীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনা এবং প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর থেকে ঋণের আশ্বাসের বাস্তবতার মতো নানা বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিলটি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন। সংসদ সদস্যদের এসব সমালোচনা ও প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে অর্থ বিলটি একাধিক সংশোধনীসহ চূড়ান্তভাবে পাস হয়।

বিল পাসের পর বাজেটের ওপর দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার একটি চরম দুর্বল অর্থনীতি ও ভঙ্গুর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উত্তরাধিকার হিসেবে পেলেও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ আশাবাদী। চ্যালেঞ্জ যত বড়ই হোক না কেন, কার্যকর নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দক্ষ জনপ্রশাসন এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সব ধরনের বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, সরকার এখন থেকে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে বেসরকারি উদ্যোগ, নতুন উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানই হবে দেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি। সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে এবং মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।

বাজেট নিয়ে দীর্ঘ ও গঠনমূলক আলোচনার জন্য সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের মতামত জনগণের প্রত্যাশারই প্রতিফলন। একই সঙ্গে তিনি অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট কেবল একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি নির্ভরযোগ্য রূপরেখা।

বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের নীতিগত ব্যর্থতা, লাগামহীন দুর্নীতি, অর্থপাচার, বিনিময় হার নিয়ে কারসাজি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বর্তমান সরকার একটি বিপর্যস্ত অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছেন। তবে কৃষি, শিল্প, সেবা ও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবণতা এবং সরকারের শক্ত নীতিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার করের হার বাড়াবে না, বরং করের আওতা সম্প্রসারণ করবে। স্বচ্ছতা বাড়াতে করনীতি ও কর প্রশাসনকে সম্পূর্ণ পৃথক করা হচ্ছে এবং কর ফাঁকি রোধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রস্তাবিত একক হারের ভ্যাট ব্যবস্থার বাইরে ঐতিহ্যবাহী বাজার ও ছোট মুদি দোকানগুলোকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হবে।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে চলতি অর্থবছরে প্রথমবারের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আদায় ৪ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। আগামী অর্থবছরে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট বাজেটের ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা হবে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল মাত্র ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় বর্তমানের ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।

পূর্ববর্তী সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে যত্রতত্র ঋণের কারণে বাংলাদেশের ঋণঝুঁকি নিম্ন পর্যায় থেকে মধ্যম পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৯ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান সরকারকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এই বিশাল ঋণের আসল ও চড়া সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা বর্তমান সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর একটি বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে।

এই ঋণ নির্ভরতা কমাতে আগামী অর্থবছরে ব্যাংকঋণ ৬ হাজার কোটি টাকা কমানো, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা এবং বন্ড ও ইকুইটি ফাইনান্সিং সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে হংকং, লন্ডন ও নিউইয়র্কে বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় দেশ-বিদেশে মোট ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বা স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এমএলএ) অনুরোধ পাঠানো হয়েছে এবং মালয়েশিয়া ও হংকংয়ের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।

এছাড়া ছয়টি বড় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ১৫টির বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০টির বেশি গোপনীয়তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

মন্তব্য

জাতীয়
Load shedding situation has improved in the country Power Minister in Parliament

দেশে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী

দেশে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত রোববারের (২৮ জুন) তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা স্বস্তিদায়ক এবং সরকার ঘাটতি কমিয়ে আনার জন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী সংসদে দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কারিগরি ত্রুটি ও কয়লা সংকটের কারণে গত দুই দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে, যেখানে চাহিদার পরিমাণ ১৪ হাজার ৮৩৯ মেগাওয়াট। ফলে বর্তমানে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৩৩৯ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পরিস্থিতি বেশ খারাপ ছিল, তবে আল্লাহর রহমতে আজ আমরা সেখান থেকে উত্তরণ করতে পেরেছি। আমরা চেষ্টা করছি ৩৩৯ মেগাওয়াটের এই ঘাটতিও কমিয়ে আনার জন্য। পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে সরকার অত্যন্ত সচেষ্ট রয়েছে।

তবে পরিস্থিতির উন্নতি সত্ত্বেও কিছু কিছু জায়গায় লোডশেডিং থাকবে বলে তিনি সতর্ক করেন। এর আগে রোববার সংসদে দেওয়া বিবৃতিতে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের টিউবে ছিদ্র (লিকেজ) হওয়া এবং বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাস ব্যাহত হওয়ায় প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। সেই সংকট কাটিয়ে ওঠার বিষয়টিই সোমবার তিনি সংসদে পুনরায় নিশ্চিত করেন।

এদিকে, লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে রোববার (২৮ জুন) দেশের অন্তত সাতটি জেলায় গ্রাহক বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। মন্ত্রী এ ধরনের জাতীয় সংকট ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার জন্য সংসদ সদস্য ও দেশবাসীর প্রতি ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্তব্য

জাতীয়
Teesta Barrage Masterplan will be implemented at any cost PM

যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যানকে জাতীয় অগ্রাধিকার উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে যে কোনো মূল্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।'

আজ দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তারেক রহমান বলেন, 'বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি। '

সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিসহ অন্যান্য খাতে তা ব্যবহার করা হবে।'

তিনি আরো বলেন, 'পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃনদী সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ভুগছে। এর ফলে অনেক নদীর নাব্যতা হারিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সেচ ও পানির সংকট তৈরি হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'আমি এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি, যেখানে বর্ষায় চারদিকে পানি থাকলেও অল্প দূরের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারেন না।তবে এই সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পানি প্রবাহ, সেচব্যবস্থা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায় এ লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চলছে। গত তিন মাসে প্রায় ৯শ’ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করা হয়েছে।'

কৃষকদের জন্য সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং তার সুদ মওকুফ করা। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।'

তিনি বলেন, 'কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং অন্তত ১০টি অতিরিক্ত সেবা পাবেন। আমরা কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি। '

যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, 'দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সেবার পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে।'

এর অংশ হিসেবে প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য করতে এবং বিদেশে তাঁদের ভোগান্তি কমাতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'

তিনি অভিযোগ করেন, 'দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দুর্বল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে দেশের জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান সরকার এখন জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমানো যায়।'

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।'

তিনি বলেন, 'সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো এমন একটি শক্তিশালী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।'

শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তবে আগের শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট এ অধিবেশনে প্রথমে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন।

সূত্র : বাসস

মন্তব্য

জাতীয়
The garment sector of the country is under pressure of energy crisis and cost
দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন

জ্বালানি সংকট ও ব্যয়ের চাপে দেশের পোশাক খাত

জ্বালানি সংকট ও ব্যয়ের চাপে দেশের পোশাক খাত ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ হয়তো আপাতত শেষ হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ এখনো তীব্র জ্বালানিসংকটে ভুগছে। বিশেষ করে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে।

দেশের স্পিনিং, নিটিং ও ডায়িং কারখানাগুলো বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল ব্যবহার করে। আর বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল ও গ্যাস আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। জ্বালানির বাড়তি দাম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। গত ৬ জুন, বড় পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আল-মুসলিম গ্রুপ ঢাকায় তাদের নিটওয়্যার ও ডেনিম কারখানা থেকে প্রায় এক হাজার ৯০০ শ্রমিক ছাঁটাই করে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ৪০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করেন, যাদের বেশির ভাগই নারী। তারা জারা এবং এইচঅ্যান্ডএমের মতো পশ্চিমা ব্র্যান্ডের জন্য পোশাক তৈরি করেন। প্রায় চার কোটি মানুষ দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। গত বছর বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশই এসেছে পোশাক খাত থেকে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৩ শতাংশ। চীনের পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ।

তবে এই খাত আগে থেকেই সংকটে আছে। ২০২৪ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বিদেশি ক্রেতাদের আস্থায় ধাক্কা লাগে। বলে মন্তব্য করেন শিল্প বিশ্লেষক মেহেদী মাহবুব।

সেই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতায় অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, পাঁচটি কারখানায় আগুন দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের কারাবন্দি বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতারও পোশাক কারখানা ছিল। গত তিন বছরে ৪০০টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়েছে।

গত মে মাসে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকত। চট্টগ্রামের কোথাও কোথাও দিনে আট ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। উৎপাদন চালিয়ে যেতে অনেক কারখানা ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে।

এথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভের আবিল বিন আমিন বলেন, এই শিল্প দক্ষতানির্ভর, সেখানে জেনারেটর চালু করতেই যদি ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে, তা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। ফেব্রুয়ারি থেকে মে—এই সময়ের মধ্যে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ।

উৎপাদনে বিলম্ব, জাহাজীকরণে বিঘ্ন ও পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রেতাদের কম চাহিদার কারণে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছে। এক জ্যাকেট কারখানার মালিক আবদুল্লাহ হিল নকিব বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর তার কারখানার ক্রয়াদেশ প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে টানা দশম মাসের মতো পোশাক রপ্তানি কমেছে; বছরওয়ারি হিসাবে তা কমেছে ৮ শতাংশ।

তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কাঁচামালের খরচও বেড়েছে। পোশাক তৈরির মোট ব্যয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ যায় কৃত্রিম তন্তু, রং, ফিনিশিং কেমিক্যাল, প্লাস্টিক বোতাম ও চেইনে, যেগুলোর বেশির ভাগই পেট্রোকেমিক্যালনির্ভর।

বাংলাদেশে প্রায় ৩০ শতাংশ পোশাক পলিয়েস্টার ফাইবার ও সুতা দিয়ে তৈরি হয়, যার মূল উপাদান ন্যাফথা। যুদ্ধ শুরুর পর ন্যাফথার দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। এ ছাড়া উৎপাদনব্যবস্থাও খণ্ডিত। কিছু সমন্বিত টেক্সটাইল মিল থাকলেও বেশির ভাগ কারখানায় উৎপাদনের একটি অংশ সম্পন্ন হয়। আবদুল্লাহ হিল নকিবের হিসাবে, পরিবহন ব্যয় বেড়েছে ৩০ শতাংশ।

সংকটগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিতে মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এর বড় অংশই বরাদ্দ দেওয়া হয় পোশাক খাতের জন্য। তবে এই ঋণের সুদহার প্রায় ৭ শতাংশ। উদ্যোক্তারা এমনিতে চাপে আছেন, তাদের জন্য এটা কঠিন।

এদিকে কোভিড মহামারির সময় উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বড় ব্র্যান্ডগুলো পোশাকের দাম বাড়াতে রাজি হয়নি। এবারও একই পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০টি কারখানায় অন্তত ৯ হাজার ৫০০ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে যে শ্রম অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, এবার তার চেয়েও বেশি হবে—এমন শঙ্কা আছে।

উৎপাদনে বিলম্ব, পরিবহন বিঘ্ন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ভোক্তাদের কম পোশাক কেনার প্রবণতার কারণে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোও কম অর্ডার দিচ্ছে।

ঢাকার একটি জ্যাকেট কারখানার মালিক আবদুল্লাহ হিল নকিব জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তার কারখানার অর্ডার প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে টানা দশম মাসের মতো পোশাক রপ্তানি কমেছে; আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

মে মাসে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকটে থাকা ব্যবসাগুলোর জন্য ৬০০ বিলিয়ন টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে, যার সবচেয়ে বড় অংশ বরাদ্দ দেওয়া হয় পোশাক শিল্পের জন্য। তবে এসব ঋণের সুদের হার প্রায় ৭ শতাংশ, যা এরই মধ্যে আর্থিক চাপে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বহন করা কঠিন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০টি কারখানায় অন্তত ৯ হাজার ৫০০ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মতো নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য

জাতীয়
Rooppur nuclear power plant is going to be connected to the national grid

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছবি: সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি খাতে যুগান্তকারী এক খবরের কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। উৎপাদনের সবশেষ জটিল ধাপ পেরিয়ে আর মাত্র দুই মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎ। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বর্তমানে কমিশনিং ও স্টার্ট-আপ পর্যায়ে রয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্ববর্তী শেষ এবং অত্যন্ত জটিল ধাপ।

মন্ত্রী এরপর বলেন, চলতি আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রথমবারের মতো পারমাণবিক শক্তি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার এই ঘটনাটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

মন্তব্য

p
উপরে