জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি মানবাধিকারের একটি সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বুধবার (১৭ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনগুলোতে এই বিষয়টি সবসময় অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি সম্পাদিত না হলেও, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব সময় সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে এবং এর ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহির বিষয়টি নিয়ে পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কার্যকর ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
সংসদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক তথ্য উল্লেখ করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের পুশ ইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, ১১ জনকে বিএসএফের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে।
তিনি জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিএসএফের ৩৬টি পুশ ইন চেষ্টাকে বিজিবি সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে। এছাড়া সীমান্তে পুশ ইন ও চোরাকারবার ঠেকাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে 'বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ' গঠন করা হয়েছে।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধরনের আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে সংরক্ষিত আসনের নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত এক বছরে (জুন ২০২৫ থেকে মে ২০২৬) সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫১৯টি অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালপত্রসহ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেনসিডিল, ক্রিস্টাল মেথ, কোকেন ও মাদক জব্দ করা হয়েছে এবং ২ হাজার ১৮৯ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরে মাদকের বিস্তার রোধে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইস বা ক্রিস্টাল মেথ আসক্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করার কথা বলেন।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মাদক নির্মূলে দেশব্যাপী ৩০ হাজার ৭৪৪টি অভিযানে ৯ হাজার ৬৮৫ জন মাদক চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় ১ মে থেকে দেশব্যাপী চলমান মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ৮ জুন পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৬৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং ১২৫টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা ও কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কিশোর গ্যাং-এর কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় করতে ডিএমপির সাইবার ইউনিট তাদের ফেসবুক পেজ, গোপন গ্রুপ ও টিকটক আইডি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। পাশাপাশি মোহাম্মদপুর এলাকায় ২৫২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি থাকার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দেশের ৭৫টি কারাগারে ৪৫ হাজার১৩৬ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে ৭৭ হাজার ৪০ জন বন্দি আটক আছেন, যা ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ।
তবে সংরক্ষিত আসনের সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি একটি ইতিবাচক তথ্য দিয়ে জানান, কারাবন্দীদের উৎপাদিত বিভিন্ন সামগ্রীর বিক্রয়লব্ধ লাভের ৫০ শতাংশ এখন বন্দীদেরই প্রদান করা হয়।
সর্বশেষ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে অনলাইন জুয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়া ও বেটিং সাইটের বিস্তার রোধে পুলিশ, বিটিআরসি এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, যুবসমাজকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সরকার 'বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭' রহিত করে অত্যন্ত কঠোর ও যুগোপযোগী 'জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬' নামে নতুন একটি আইন প্রণয়নের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রতিটি অসচ্ছল পরিবারের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। বুধবার কেরানীগঞ্জের রুহিতপুর উপজেলা পরিষদ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অন্যতম দূরদর্শী অঙ্গীকার হলো ‘‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক।’’ এই দর্শনকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এর মাধ্যমে সমাজের প্রকৃত দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।’
ফরিদা খানম বলেন, ‘আজকের এই তৃতীয় পর্যায়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলার ২টি ইউনিয়নের মোট ১ হাজার ২৭৫টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। এটি শুধু একটি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম নয়; বরং এটি সামাজিক সুরক্ষা, মানবিক মর্যাদা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের এক নতুন যাত্রা।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ২৩টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড এই বিচ্ছিন্ন সেবাগুলোকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার ভিত্তি তৈরি করছে। এর মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা আর কেবল অনুদান ভিত্তিক ব্যবস্থা নয়; বরং নাগরিকের ন্যায্য অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।’
মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও বর্তমানে দ্রুত বর্জ্য অপসারণই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়ে করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, ‘সিটি করপোরেশনের সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টসাধ্য কাজটি করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। নাগরিকদের সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।’
বুধবার নগর ভবন অডিটোরিয়ামে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঈদ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির ৪ হাজার ৯৫০ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।
তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদেরও জনসচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘ওয়ার্ডভিত্তিক টেন্ডারের মাধ্যমে পরিচালিত বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত সময়ে ময়লা তোলা হচ্ছে না, আবার কোথাও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আগামী বছর বর্তমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।’ জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেলে প্রয়োজনে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানান তিনি।
ঈদুল আজহায় স্বল্প সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রশাসক বলেন, ‘দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ফলে এবার নগরবাসী দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পেয়েছে, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।’
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ইতোমধ্যে এক হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ‘হেলথ কার্ড’ দেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে ছয় হাজারে উন্নীত করা হবে।
আর্থিক সংকটের কারণে কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সন্তান যেন উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
আবদুস সালাম বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে তোলা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়, এটি নাগরিকদেরও দায়িত্ব। সবাই মিলে কাজ করলে রাজধানীকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার প্রমুখ।
সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই সার্বিক প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ, এর বিস্তার এবং টিকাদান কার্যক্রমের ওপর বিভিন্ন নীতিগত ও পরিচালনাগত বিষয়ের প্রভাব নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়। টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো ধরনের পরিবর্তনের ফলে টিকাদান কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নিখুঁত কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় কারও বিন্দুমাত্র অবহেলা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তারেক রহমান আরও জানান, ইপিআই কর্মসূচির আওতায় টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে থাকে এবং বর্তমান সরকার হামের প্রাদুর্ভাব রোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিকা সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং মাঠ পর্যায়ে মজুত ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি সারা দেশে রোগ নজরদারি কার্যক্রম সম্প্রসারণ, দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্তকরণ ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, গণমাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
দেশে হামের টিকাদানের আওতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে দ্রুত সুরক্ষার আওতায় আনতে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম দেশব্যাপী জোরদারে অব্যাহত রয়েছে বলেও সংসদে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ছবি: সংগৃহীত
ব্যক্তিগত কারণ দর্শিয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশিক রুবাইয়াৎ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছে এই পদত্যাগপত্র দাখিল করেন।
পদত্যাগ পত্রে তিনি তার সিদ্ধান্তের সপক্ষে উল্লেখ করেন, 'আমাকে এ পদে কাজ করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে আমার পক্ষে এ পদে কাজ করা আর সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় আমি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ হতে আজ পদত্যাগ করছি।'
এই পদত্যাগের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, 'তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। এ বিষয়ে তার কাছে ব্যাখ্যা চাইলে তিনি তার সদুত্তর দিতে পারেননি। এমন প্রেক্ষাপটে তিনি তার পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।' আইন ও বিচার বিভাগের কাছে পাঠানো এই আবেদনের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রপক্ষের আইনি কর্মকর্তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব পালনে অনিয়মিত থাকা এবং কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়ার পরই তিনি এই পদত্যাগপত্র জমা দেন।
ছবি: সংগৃহীত
উন্নত কর্মসংস্থান ও ভালো বেতনের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়ায় গিয়ে সাইবার প্রতারণা বা ‘স্ক্যাম’ চক্রের হাতে বন্দি হওয়া আরও ৭৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ নিয়ে গত চার দিনে কম্বোডিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালা থেকে উদ্ধার হয়ে সর্বমোট ২২১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ফেরত আসা এই ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা ও বাড়ি ফেরার যাতায়াত খরচ প্রদান করছে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের এটি এক ভয়াবহ নতুন রূপ। বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মূলত আইটি বা কল সেন্টারের কাজের কথা বলে লোকজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে ‘সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড’ নামক বিশেষ সুরক্ষিত এলাকায় বন্দি করা হয়। সেখানে তাদের মাধ্যমে জিম্মি করে বিভিন্ন অনলাইন প্রতারণা করানো হয় এবং টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে চালানো হয় অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ফেরত আসা ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দালালরা তাদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভিজিট ভিসায় কম্বোডিয়ায় পাঠাত। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের চীনা নাগরিকদের পরিচালিত স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হতো। কাজ করতে অস্বীকার করলে টর্চার সেলে নিয়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার মতো নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হতো। অনেক ভুক্তভোগী ইতিমধ্যে এই পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যমতে, গত দেড় বছরে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি কর্মী কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, আরও বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে বিপদে থাকতে পারেন। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব পাওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলো এই পাচার চক্রের দেশি-বিদেশি হোতাদের আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে বলে জানা গেছে।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করতে প্রথমবারের মতো ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ বা ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৭ জুন) সকালে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ড. নাসিমুল গনি জানান, প্রস্তাবিত এই অঞ্চলে প্রচলিত কাস্টমসের কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে না এবং ব্যবসায়ীরা সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করবেন। মূলত মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং চট্টগ্রাম বন্দরের নিকটবর্তী ৬০০ একর জমিতে এই বিশেষ বাণিজ্যিক অঞ্চলটি স্থাপন করা হবে। এছাড়া চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ‘চিনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্পেশাল পারপাস কোম্পানির সাথে ভূমি ইজারা ও উন্নয়ন চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানিতে যে ব্যাঘাত ঘটছে, তা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রচলিত জ্বালানি আমদানি ব্যবস্থা পর্যালোচনার সময় এসেছে এবং বর্তমান সংকট মেটাতে সরকার স্পট মার্কেট থেকে তেল ও গ্যাস সংগ্রহ করছে। তবে জ্বালানি পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া বৈঠকে রাশিয়ার কাছ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপগুলো দেশের শিল্পায়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য