চলতি মৌসুমে দেশে মোট ৩ কোটি ২৭ লাখ ৫ হাজার ৯২৯ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। আজ সোমবার (৮ জুন) জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী এই বিপুল পরিমাণ বোরো উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে হাওর অঞ্চলের বোরো ফসলের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হলেও সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা এবং সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে গৃহীত সময়োপযোগী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গত ৩ মে থেকে হাওর এলাকায় ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা সরাসরি সরকারি গুদামে ধান শুকিয়ে তা সরকারের কাছে বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। সরকারি উদ্যোগে এই ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বেসরকারি মিল মালিকরাও ধান কেনায় সক্রিয় হয়েছেন, যা বাজারে ধানের নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
অভাবী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারের বিশেষ ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, হাওর অঞ্চলের ছয়টি জেলায় ভর্তুকি মূল্যে চাল ও আটা বিক্রির জন্য বিশেষ ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছে। একইসাথে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
দেশের সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ লক্ষ্যে ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) আওতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা কার্যক্রমকে অধিকতর সমন্বিত ও কার্যকর করেছে।
উক্ত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন ও নিরাপত্তাগত চাহিদার প্রেক্ষাপটে আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যারা বিজিবির সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে সীমান্তবর্তী ১১টি জেলায়—চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সিলেট, জামালপুর এবং খাগড়াছড়ি—উপজেলা/থানা আনসার ও ভিডিপি/টিডিপি সদস্য-সদস্যাদের ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া প্রদান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল সরবরাহের লক্ষ্যে আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যদেরও প্রস্তুত ও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমে আনসার-ভিডিপির এই সম্পৃক্ততা জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিজিবির কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি সমন্বিত ও টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে উঠছে।
বাংলাদেশের ওষুধ বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৪০ দেশে আমাদের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদকরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারলে এই পরিসর আরও বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর সরকারগুলো কোনো ভেন্টিলেটর, মেশিন, ভ্যাকসিন দিয়ে যায়নি। এমনকি সিরিঞ্জও ছিল না। প্রাইভেট এন্টারপ্রেনারদের সহায়তায় হামের মতো বিপদগুলো মোকাবিলা করেছে সরকার।
‘হামের এন্টিবডি তৈরি হতে ২০ জুন পর্যন্ত সময় লাগবে’, যোগ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
এছাড়া, ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসার সুবিধার্থে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ অনুদান হিসেবে আজ এক লাখ ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (আইভি স্যালাইন) দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেন্ট্রাল স্টোরে ডেঙ্গুর এক লাখ স্যালাইন আছে, আর ২০ থেকে ২৫ হাজার স্যালাইন বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছে বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে। তবে, হঠাৎ আরও স্যালাইনের প্রয়োজন পড়তে পারে।
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজের জবাব দেওয়ার আরও দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ সময় না দিলে তারা আদালতের সুবিধা নিতে পারে। এ জন্য আদ-দ্বীন হাসপাতালকে আরও দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) তারা উত্তর দেবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, আইনানুগভাবে কী কী ব্যত্যয় ঘটেছে এবং কী ধরনের অপরাধ করেছে, এর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ কাকে কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেবে, সেটি তাদের ব্যাপার। সরকার তার অবস্থানে ঠিক আছে। জনস্বার্থ সংরক্ষণ থেকে এক বিন্দু পিছপা হব না।
এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা আক্রান্ত হবেন, তাদের যথাসময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্যকে পুনর্গঠন করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রধান কর্মপন্থা হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে কাজ চলছে, সেখানে স্টেকহোল্ডারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
‘ওষুধ শিল্পকে আরও বিকশিত করতে পলিসি সাপোর্টের চিন্তা করছে সরকার। দেশের মানুষকে সঠিক ওষুধ, সঠিক মূল্য কিংবা বিনামূল্যে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার’, যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।
হামের প্রাদুর্ভাব এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘দায়িত্বে অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের’ অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এই মামলার আবেদন করেন। এসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনে অপর আসামিরা হলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাফর।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা উচ্চশিক্ষিত ও নোবেল বিজয়ী হলেও তার দায়িত্বে চরম অবহেলা ও উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এ দেশের শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাজার হাজার শিশুর জীবন বিপন্ন হয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা হত্যাকাণ্ডের শামিল। মামলার অন্যান্য আসামিরা তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্বে অবহেলা করে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামের ভ্যাকসিন যথাসময়ে আমদানি না করে শাস্তিযোগ্য ও অমানবিক অপরাধ করেছেন। এতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং তাদের মৌলিক অধিকার হরণের মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই শিশুদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারিভাবে টিকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে হাম-রুবেলা টিকা অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত এই টিকা প্রদানের ফলে বিশ্বব্যাপী হাম ও রুবেলায় মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন টিকা আমদানি করে আসছিল। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলা টিকা আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় টিকা সংকট তৈরি হয়।
ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স ২০ মে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জানান, হাম-রুবেলা টিকার সম্ভাব্য সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। এছাড়া টিকা আমদানির বিদ্যমান ব্যবস্থা বন্ধ না করার অনুরোধও জানানো হয়েছিল। এ তথ্য উল্লেখ করে আবেদনে দাবি করা হয়, বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠকেও সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টরা তা আমলে নেননি বলে অভিযোগ করা হয়। এর ফলে দেশে বিপুলসংখ্যক শিশু নির্ধারিত সময়ে হাম-রুবেলা টিকা থেকে বঞ্চিত হয়। হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। সরকারি হিসাবে এ সময় প্রায় ৬১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও বহু শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এতে আক্রান্ত শিশুদের পরিবারকে চিকিৎসার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে এবং রাষ্ট্রকেও বিপুল ব্যয় বহন করতে হয়েছে।
আবেদনে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, টিকা সংকট ও হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে এসব মৃত্যু ঘটেছে। অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং কু-উদ্দেশ্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাষ্ট্র যদি সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যদি তা না পারে, তবে শুধু গণমাধ্যমের উপস্থিতির কারণে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বিরাজ করবে, এটা আশা করা যায় না। ব্যাংকিং খাতের সুশাসন মূলত জাতীয় ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সুশাসনের ঘাটতিরই প্রতিফলন। তবে ব্যাংকিং খাতের সুশাসনের জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা ও ক্ষমতার কোনো বিকল্প নেই।
রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলায় আমরা আয়না দিয়ে খেলতাম। ভালো কোয়ালিটির আয়নায় আসল চেহারা দেখা যায়, আর যেটার কোয়ালিটি ভালো না, সেখানে নিজের চেহারাই বাঁকা দেখা যায়। গণমাধ্যম হচ্ছে সেই আয়না। কোনো রাষ্ট্র বা সমাজ নিজেদের চেহারা জনগণের সামনে কতটা স্বচ্ছভাবে প্রতিফলিত করতে চায়, তা নির্ভর করে তারা এই আয়নাকে কতটা গ্রহণ করছে তার ওপর।
মন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি। যারা ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা টার্গেট করে, তারাই আবার শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের টার্গেট করে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হলে ব্যাংকের ওপর চাপ কমিয়ে শেয়ারবাজারকে পুঁজির শক্তিশালী উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ব্যাংকিং কমিশন গঠন এবং উদ্যোক্তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর থেকে এখন অনেক বিস্তৃত হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের মতো অর্থনীতিতে রক্তপ্রবাহের উৎসকে সংস্কার করতেই হবে। ব্যাংক থেকে মূলধন নিয়ে উদ্যোক্তারা কাজে লাগান। কিন্তু তাদের মধ্যে কারা সত্যিকারের পারফর্মার আর কারা চোর, বাটপার, গুন্ডা, বদমাশ- তা পরিসংখ্যানই বলে দেয়।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা ও ক্ষমতার একমাত্র মানদণ্ড হলো বস্তুনিষ্ঠতা। বস্তুনিষ্ঠতা ছাড়া গণমাধ্যম কর্তৃত্ব পরায়ন হতে পারে না। সাংবাদিকদের বসার জায়গা ফার্স্ট ফ্লোরে নাকি থার্ড ফ্লোরে সেটা বড় কথা নয়, সবচেয়ে বড় কথা হলো অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন বা তথ্যের কাছে তাদের যাওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না। ব্যাংক যেখানে তথ্য রাখে, সেখানে সাংবাদিকদের পৌঁছানোর সুযোগ বা গ্রাউন্ড ফ্লোর পর্যন্ত তাদের যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
ছয় দফা দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ‘ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি’ নামের একটি সংগঠন এক বিবৃতিতে রোববার থেকে এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বেতন বৃদ্ধিসহ কয়েকটি দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ চিকিৎসাসেবা থেকে বিরত থেকে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা জানান, ছয় দফা দাবি আদায়ে ‘সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদ’ ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য তারা এভাবে আন্দোলনে নামতে চাননি। বিদ্যমান কিছু নীতিমালা ও বিধিবিধান চিকিৎসকদের অবমূল্যায়ন ও অপমানিত করছে বলে অভিযোগ তাদের।
গতকাল সকালে ঢামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক নোটিশে বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক প্রস্তাব করা হয়েছে। এফসিপিএস কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের বেতনকাঠামোতে বৈষম্য, ভর্তি পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি, ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের অপ্রতুল বেতন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতনকাঠামোর অসংগতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
পরিষদ দাবি করেছে, বারবার দাবি উপস্থাপন, প্রতিবাদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাস সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান, কার্যকর ও সন্তোষজনক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মানসম্মত চিকিৎসাশিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত না করে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করে সংগঠনটি। পরিষদের বিবৃতিতে পূর্বঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ঢামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি মোস্তফা আমির ফয়সাল, সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মারুফ, সাধারণ সম্পাদক নাবিল বিন কাসেম ও সহসাধারণ সম্পাদক আশরাফ সিদ্দিকী।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফসিপিএস (পর্ব-১) উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা-সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল; বিসিপিএসের ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ; নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন আবাসিক ভাতাসহ নবম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ ও প্রতি মাসের বেতন নিয়মিত পরিশোধ; ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন; বিসিএস (স্বাস্থ্য) চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পূর্বের ন্যায় ৩৪ বছর করা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতনকাঠামো প্রণয়ন (শ্রম আইন, ২০০৬-এর যথাযথ প্রয়োগ ও পে-স্কেলের আদর্শ অনুসরণ)।
চলতি বছরে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আকাশপ্রেমীরা। আগামী ১২ আগস্ট বিরল মহাজাগতিক এই ঘটনা ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) বিজ্ঞান পরিচালক ক্যারোল মুন্ডেল বলেছেন, পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এমন এক বিরল মুহূর্ত; যখন কোটি কোটি মানুষ একসঙ্গে আকাশের দিকে তাকিয়ে বিস্ময় ও কৌতূহল অনুভব করতে পারেন।
কখন এবং কোথায় দেখা যাবে?
আগামী ১২ আগস্ট চাঁদ সরাসরি সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান নেবে। এর ফলে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর ও ইউরোপের কিছু অঞ্চলের ওপর দিয়ে একটি সরু রেখার মতো তৈরি হবে। পূর্ব গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চল, স্পেনের উত্তরাঞ্চল এবং পর্তুগালের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের কিছু এলাকা থেকে সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে যেতে দেখা যাবে।
নাসা বলেছে, ইউরোপের অধিকাংশ অঞ্চল, উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশ এবং আফ্রিকার উত্তর-উত্তর পশ্চিমাঞ্চল থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এসব এলাকায় সূর্য আংশিক দৃশ্যমান থাকবে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বলেছে, বাংলাদেশ, ভারত বা এ অঞ্চল থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। স্থানভেদে এর স্থায়িত্ব কালও ভিন্ন হবে। পূর্ণ গ্রহণপথে থাকা অধিকাংশ এলাকার জন্য সূর্য দুই মিনিটেরও কম সময় সম্পূর্ণরূপে আচ্ছাদিত থাকবে।
তবে গ্রিনল্যান্ড, রাশিয়া কিংবা উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের গ্রহণপথের একেবারে কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থানকারীরা কিছুটা বেশি সময় ধরে দেখতে পারবেন। যদিও এ সময় আড়াই মিনিটের কম হবে।
পূর্ণ গ্রহণের সময় সূর্য খালি চোখে দেখা যাবে। এটি চাঁদের কালো ছায়ার চারপাশে মৃদু আলোর বলয়ের মতো দেখাবে। এ সময় তাপমাত্রার সামান্য পরিবর্তন, আকাশ অস্বাভাবিকভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং কিছু উজ্জ্বল গ্রহ ও নক্ষত্রও দৃশ্যমান হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আংশিক গ্রহণ চলাকালীন কখনোই খালি চোখে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত হবে না। এতে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। এজন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ সৌর ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে।
নাসা বলছে, পূর্ণ গ্রহণের আগে ও পরে পর্যবেক্ষণের জন্য অবশ্যই চোখের সুরক্ষা ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য বিশেষ সৌর পর্যবেক্ষণ চশমা (ইক্লিপস গ্লাস), হাতে ধরা সৌর ভিউয়ার অথবা অন্যান্য নিরাপদ সৌর ফিল্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব যন্ত্র সূর্যের অধিকাংশ আলোকে আটকে দেয়। এতে চোখের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না।
সংস্থাটি বলেছে, পূর্ণগ্রহণকালীন সাময়িকভাবে সুরক্ষা চশমা খুলে করোনা দেখা যেতে পারে। কেননা এ সময় যখন সূর্য সম্পূর্ণরূপে ঢাকা থাকবে। এরপর সঙ্গে সঙ্গে আবার চোখের সুরক্ষা ব্যবহার করতে হবে।
চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে দেয় এবং তার ছায়া পৃথিবীর একটি সরু অংশের ওপর পড়ে, তখন এটিতে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততা কৃষিসহ পরিবেশগত সংকটের সঙ্গে স্থানীয় নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৮৬ শতাংশ নারীই ‘পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (পিআইডি) নামের প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণে ভুগছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানির সংস্পর্শ, সুপেয় পানির অভাব এবং পুষ্টিহীনতাকে উপকূলীয় নারীদের এই স্বাস্থ্য সমস্যার প্রধান কারণ হিসেবে গবেষণায় চিহ্নিত করা হয়েছে।
গত শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিআরডি আয়োজিত এক নীতি সংলাপে দুটি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৪০০ নারীর ওপর পরিচালিত গবেষণাটি উপস্থাপন করেন সিপিআরডির গবেষণা কর্মকর্তা সোহানুর রহমান ও শাহাদাত হোসেন। এর বিষয়বস্তু বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মূল্যায়ন।
গবেষকেরা জানান, গত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে খানা জরিপ, নৃমানবিক পরিমাপ এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
এতে দেখা যায়, উপকূলীয় নারীরা বছরের বিভিন্ন সময় একাধিক জলবায়ুঘটিত দুর্যোগের সম্মুখীন হন। এগুলোর মধ্যে ৯২ শতাংশ নারী ঘূর্ণিঝড় এবং ৬৩ শতাংশ নারী লবণাক্ততার প্রত্যক্ষ প্রভাবের শিকার। ৮৩ শতাংশ নারী নিরাপদ পানির তীব্র অভাবে রয়েছে। তারা বৃষ্টির পানি (৫৬ শতাংশ) ও নলকূপের লবণাক্ত পানির (৪০ শতাংশ) ওপর নির্ভর করে। ৩৯ শতাংশ নারী বেশি দামে পানি কিনতে বাধ্য হয়। ১৬ শতাংশ পুকুরের দূষিত পানিই ব্যবহার করে।
গবেষণায় বলা হয়, লবণাক্ত ও দূষিত পানির দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার নারীদের স্বাস্থ্য ও প্রজনন ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। অংশগ্রহণকারী নারীদের ৫০ শতাংশ অনিয়মিত ঋতুস্রাবজনিত সমস্যায় ভুগছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪০০ নারীর মধ্যে ৩৪৪ জনই (৮৬ শতাংশ) প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণের অন্তত একটি উপসর্গে ভুগছে।
নারীরা গৃহস্থালি কাজ, পানি সংগ্রহ, চিংড়িঘের বা লবণাক্ত কৃষিজমির কাজে দীর্ঘ সময় নোনাপানির সংস্পর্শে থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ৬৯ শতাংশ নারীই সপ্তাহে তিন দিন বা তার কম সময় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করে, যা গর্ভকালীন জটিলতা বাড়াচ্ছে। উপকূলীয় প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারের মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকার কম হওয়ায় এই সংকট আরও গভীর হয়েছে।
সংলাপে দেশের স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়নের নীতিগত লক্ষ্য ও আর্থিক বাস্তবতা বিষয়ের দ্বিতীয় গবেষণাটি উপস্থাপন করেন সিপিআরডির প্রকল্প ব্যবস্থাপক সুমাইয়া বিনতে আনোয়ার। এতে বলা হয়, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়লেও জাতীয় বাজেটে জলবায়ু-স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ক্রমাগত কমছে।
পাঁচ বছরের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জলবায়ু-সম্পর্কিত বরাদ্দ ছিল ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশে (৬১০ কোটি টাকা) নেমে এসেছে। সরকার বিভিন্ন জাতীয় নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও বাস্তবায়নে অর্থায়নের ঘাটতি রয়েছে। শুধু স্বাস্থ্য খাতের জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০২৬-২০৩০ সময়ে ১৪০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, যা বর্তমান বরাদ্দের তুলনায় কম।
এই গবেষণায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের (বিসিসিটিএফ) বরাদ্দের ৫৮ শতাংশই অবকাঠামো খাতে ব্যয় হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো জরুরি খাতে বরাদ্দ মাত্র ৯ শতাংশ।
নীতি সংলাপে বিশেষজ্ঞরা আসন্ন বাজেটের জন্য কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় বাজেটের সঙ্গে স্বাস্থ্য অভিযোজন পরিকল্পনার সরাসরি সমন্বয়, উপকূলীয় নারীদের জন্য বিশেষ প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নিরাপদ পানির শতভাগ নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু তহবিল থেকে মানব উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো।
সংলাপের সঞ্চালক এবং অনুষ্ঠানের আয়োজক সিপিআরডির নির্বাহী পরিচালক মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ‘জলবায়ু অর্থায়ন এখনো একটি অস্পষ্ট ক্ষেত্র। বৈশ্বিক পর্যায়ে অধিক মনোযোগ ও অর্থায়ন আকর্ষণ করতে হলে আমাদের শক্তিশালী পরিমাণগত প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।’
সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) উপসচিব ড. শাহ আবদুল সাদী বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের জন্য সুস্পষ্ট ক্লাইমেট রেশনাল (জলবায়ু যুক্তি) প্রতিষ্ঠা জরুরি। তিনি জলবায়ু বাজেট ট্যাগিং আরও স্পষ্ট করা, ঝুঁকি সূচক উন্নয়ন এবং তৃতীয় পক্ষীয় যাচাই ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ প্রমোশন ইউনিটের (সিসিএইচপিইউ) পরিচালক ও কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবির বলেন, ‘বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে যায়, যা এই খাতের বৈশ্বিক অবহেলার প্রমাণ।’
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখনো উন্নয়ন পরিকল্পনায় পুরোপুরি মূলধারায় আসেনি, ফলে উদ্যোগগুলো বিচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সংলাপে সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
মন্তব্য