জুলাই আন্দোলন চলাকালে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলাসহ মোট ১০টি মামলায় সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ এবং তার স্ত্রী ফারজানা রুপাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আজ রবিবার (৭ জুন) রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এই আদেশ দেন।
এর আগে গত ১১ মে সাংবাদিক শাকিল আহমেদকে ৫টি মামলায় এবং তার স্ত্রী ফারজানা রুপাকে ৬টি মামলায় জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ এই ১০ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে।
শাকিল আহমেদ বার্তা পরিচালক এবং ফারজানা রুপা প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে 'একাত্তর টেলিভিশন'-এ কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় 'একাত্তর টেলিভিশন' কর্তৃপক্ষ।
এরপর ২১ আগস্ট ঢাকার 'হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। সেদিন তারা 'টার্কিশ এয়ারলাইনস'-এর একটি ফ্লাইটে প্যারিসে যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন।
রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশু রামিসাকে হত্যার বিচার নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মাও সেতুংয়ের একটি ঐতিহাসিক উক্তি আছে—কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী। কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা। রামিসা হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে আর যদি এই ফাঁসির আসামিদেরকে আমরা ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে তাদের মৃত্যু ঘটাতে পারি, তাহলে সেটা আমাদের জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা হিসেবে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি।
আজ রোববার (৭ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গত ১৯ মে ঢাকা শহরের পল্লবী এলাকায় একটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা ঘটে। আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এ ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে আমাদের পুলিশ বাহিনী দুজন মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সেখানে সেই টিমে আমিও ছিলাম। আমরা ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করি। ওইদিন ভিকটিমের বাবার একটি আহাজারি ছিল, উনি বিচার চান না। কারণ এদেশে এ ধরনের ঘটনার বিচার হবে না। আমরা আশ্বস্ত করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন—এ ঘটনার বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী পাঁচ দিনের মাথায় সুষ্ঠু তদন্ত করে এ ঘটনার প্রতিবেদন দাখিল করেছিল। ঈদের আগে ২৪ মে দুপুর ১২ টার সময় চার্জশিট দেয় পুলিশ। ওইদিন ৪টার মধ্যে সেই চার্জশিট আমরা সিএমএম কোর্ট থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুনালে নিয়ে যাই। আমাদের সামনে একটা সংখ্যা ছিল, সেটা হলো বাংলাদেশের আদালতগুলো পহেলা জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে যাওয়ার কথা। আমরা প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করে বাংলাদেশের সব নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলো ছুটির আওতা বহির্ভূত রাখতে সক্ষম হই।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ২৪ মে চার্জশিট পাওয়ার পরপরই আমরা যখন দেখেছি, আসামি পক্ষ কোনো আইনজীবী দেয়নি, আমরা আইনের বিধান মেনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের স্টেট ডিফেন্স লয়ার (রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী) দিতে সক্ষম হই। ঈদের ছুটির পরে পহেলা জুন আদালতে এই মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন এই মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ৩ জুন এই মামলায় আসামি পক্ষ কোনো সাক্ষী দিতে চান কি না, সেজন্য দিন ধার্য রাখা হয়। ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করা হয়। ৫ ও ৬ জুন শুক্র-শনিবার থাকাতে ৭ জুন আজ রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল এবং রায় যথারীতি ঘোষিত হয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা রাষ্ট্রের প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সমস্ত সাক্ষ্য উপস্থাপন পূর্বক যে রায় প্রত্যাশা করেছিলাম, যে রায় প্রস্তাব করেছিলাম, যে রায় আদালতের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, আদালত সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদেশের অংশ ঘোষণা করেছেন। আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুজন মূল আসামি সোহেল ও তার সহযোগী এবং স্ত্রীকে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। মাও সেতুংয়ের একটি ঐতিহাসিক উক্তি আছে—কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী। কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা। রামিসা হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে আর যদি এই ফাঁসির আসামিদেরকে আমরা ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে তাদের মৃত্যু ঘটাতে পারি, তাহলে সেটা আমাদের জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা হিসেবে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি।
আইনমন্ত্রী বলেন, এটুকুই ছিল আমাদের পক্ষ থেকে এই মহান জাতীয় সংসদ এবং জাতির কাছে আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি। সেদিন আমরা বলেছিলাম, আমাদেরকে যখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন—রামিসার বাবা বিচার চান না। এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য কি? আমরা বলেছিলাম, এর একমাত্র জবাব হবে তাকে সেই আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া। আজ ভিকটিমের বাবা বলেছেন, এই বিচারে উনি সন্তুষ্ট। আমরা তার আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, রামিসাসহ সম্প্রতি যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে, আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকির মাধ্যমে আমরা তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, আমরা নিয়েছি এবং সেই গতিতে এগোচ্ছি।
সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে জয় পান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এবার সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। অবশ্য সভাপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন পড়েনি। তামিমই একমাত্র সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তাই বিসিবির ১৮তম এবং নির্বাচিত ষষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। সহসভাপতি হয়েছেন ফাহিম সিনহা
রোববার মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সকাল ১০টার দিকে শুরু ভোটগ্রহণ। বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। প্রাপ্ত ভোটে ঢাকার ক্লাব থেকে জিতেছেন তামিম ইকবাল, মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা. মাহবুব শামীম, সাকেফ আহমেদ সালাম।
যেখানে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়েছেন তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২ ভোট পেয়েছেন সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং ইশরাফিল খসরু। এরপর মাসুদুজ্জামান ৭০ এবং ফয়সাল ইয়াসির পেয়েছেন ৬৮ ভোট।
ফাহিম সিনহা এবং শানিয়ান তানিম ৬৬টি করে ভোট পেয়েছেন। আসিফ রাব্বানী ৬৪, মির্জা ইয়াসির আব্বাস ৬৩টি ভোট পেয়েছেন। রফিকুল ইসলাম বাবু ৫৩ এবং ড. শামীম ৪১ ভোট পেয়েছেন । ক্লাব ক্যাটাগরিতে মোট ভোট ছিল ৭৬টি। এর মধ্যে ৭৪টি ভোট কাস্ট হয়েছে।
পনের দিনের ব্যবধানে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম লিটারে আরও ১৫ টাকা করে কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর আগে গত ২৩ মে দাম লিটারে ৩৯ টাকা ৫৭ পয়সা কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা করা হয়েছিল।
আজ রোববার বিইআরসির এক আদেশে জেট ফুয়েলের দাম ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা কমিয়ে ১৫০ টাকা ৪১ পয়সা করা হয়। এটি হচ্ছে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম। এছাড়া আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী এয়ারলাইন্সের জন্য জেট ফুয়েলের দাম কমিয়ে শূন্য দশমিক ৯৮০৮ ডলার করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১ দশমিক ০৮২৩ ডলার।
এর আগে কয়েক দফায় দাম বেড়ে গত ৭ এপ্রিল দেশীয় রুটে জেট ফুয়েলের দাম ২২৭ টাকা হয়েছিল। সেই হিসাবে দুই মাসের ব্যবধানে দাম কমল লিটারে ৫৭ টাকা।
রাজধানীর মিরপুরে সম্প্রতি দুই মায়ের একাকী মৃত্যু এবং তাঁদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রতিষ্ঠিত ও বিত্তবান পরিবারের সন্তানদের অবহেলায় প্রবীণদের এমন করুণ পরিণতি নিয়ে বর্তমানে তীব্র সমালোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে আবারও সামনে এসেছে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’। যদিও আইনটি এক দশকের বেশি সময় ধরে কার্যকর রয়েছে, তবে এর যথাযথ প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতার অভাবে এখনো অনেক প্রবীণ বাবা-মা নিজ ঘরেই চরম অবজ্ঞার শিকার হচ্ছেন। মিরপুরের ঘটনায় ইতোমধ্যে এক যুগ্ম-সচিবকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা আইন ও নৈতিকতার প্রশ্নে নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও কড়াকড়ির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণপোষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সন্তান একাধিক হলে তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দায়িত্ব বণ্টন করবেন। আইন অনুযায়ী, বাবা-মা সন্তানদের থেকে আলাদা বসবাস করলেও তাঁদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং নিয়মিত সাক্ষাৎ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া বাবা-মার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁদের বৃদ্ধ নিবাসে কিংবা অন্য কোথাও পাঠাতে বাধ্য করা আইনত নিষিদ্ধ। এমনকি সন্তানদের নিজস্ব আয় থেকে বাবা-মার জীবনধারণের জন্য নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করার বাধ্যবাধকতাও এই আইনে রাখা হয়েছে।
আইনের ৪ ও ৫ ধারায় শাস্তির বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট করা হয়েছে। পিতা-মাতা বেঁচে না থাকলে দাদা-দাদি ও নানা-নানির ভরণপোষণের দায়িত্বও সন্তানদের ওপর বর্তাবে। যদি কোনো সন্তান এই আইন লঙ্ঘন করে বা বাবা-মার প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করে, তবে তাকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। কেবল সন্তানই নয়, যদি পুত্রবধূ, জামাতা কিংবা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় ভরণপোষণে বাধা সৃষ্টি করেন বা অসহযোগিতা করেন, তবে তাঁরাও একই শাস্তির আওতায় আসবেন। তবে এই আইনের অধীনে ব্যবস্থা নিতে হলে ভুক্তভোগী পিতা বা মাতাকে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লিখিত অভিযোগ করতে হয়।
আইন ও শাস্তির বিধান থাকলেও মাঠ পর্যায়ে এর প্রয়োগ এখনো অত্যন্ত সীমিত। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এই আইনের অধীনে একটি বিশেষ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে মামলা দায়ের ও অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হয়। তা সত্ত্বেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রবীণরা সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে সংকোচবোধ করেন। সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভয় এবং সন্তানদের প্রতি অন্ধ আবেগের কারণে অনেক মা-বাবাই আমৃত্যু অবহেলা ও কষ্ট সহ্য করে যান। ফলে এই কঠোর আইনটি বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে, যা সন্তানদের দায়িত্বহীন হয়ে ওঠার পেছনে একটি পরোক্ষ কারণ হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিরপুরে নুরজাহান বেগম ও সেলিনা আফরোজের মর্মান্তিক মৃত্যু কেবল আইনি প্রশ্ন নয়, বরং এটি পারিবারিক বন্ধন ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের প্রতিফলন। আধুনিক জীবনযাত্রার ভিড়ে প্রবীণদের একাকীত্ব ও বিচ্ছিন্নতা রুখতে হলে কেবল আইনের শাসনই যথেষ্ট নয়। মা-বাবার প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং তাঁদের সামাজিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অন্যথায় আইনের বিধান থাকলেও সামাজিক এই গভীর সংকট ও নৈতিক অবক্ষয় দূর করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্তকরণ, গ্রেপ্তার এবং তদন্ত কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নৃশংস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত পরিচালনা, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।’
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং দোষী ব্যক্তিরা প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি পাবে।
তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একই ধরনের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত সদস্যবৃন্দও এ ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও অপরাধ দমনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগে ভারতে আটক থাকা ৯১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী দেশে ফিরেছেন। তাঁদের সঙ্গে বাংলাদেশের মালিকানাধীন চারটি মাছ ধরার নৌকাও ফেরত আনা হয়েছে। আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বঙ্গোপসাগরে দুই দেশের আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কাছ থেকে বাংলাদেশের মালিকানাধীন চারটি ফিশিং বোটসহ ৯১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে গ্রহণ করেছে। যথাযথ দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসৃত হলে বাংলাদেশ বরাবরই বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা দিয়ে থাকে।
এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
মন্তব্য