জুলাই আন্দোলন চলাকালে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলাসহ মোট ১০টি মামলায় সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ এবং তার স্ত্রী ফারজানা রুপাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আজ রবিবার (৭ জুন) রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এই আদেশ দেন।
এর আগে গত ১১ মে সাংবাদিক শাকিল আহমেদকে ৫টি মামলায় এবং তার স্ত্রী ফারজানা রুপাকে ৬টি মামলায় জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ এই ১০ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে।
শাকিল আহমেদ বার্তা পরিচালক এবং ফারজানা রুপা প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে 'একাত্তর টেলিভিশন'-এ কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় 'একাত্তর টেলিভিশন' কর্তৃপক্ষ।
এরপর ২১ আগস্ট ঢাকার 'হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। সেদিন তারা 'টার্কিশ এয়ারলাইনস'-এর একটি ফ্লাইটে প্যারিসে যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন।
চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ বন্দরটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এটি কেবল পণ্য পরিবহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি যুক্ত। কাজেই এই বন্দর কোনোভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া যাবে না।
রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেছেন। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনার চুক্তির প্রতিবাদে ‘দেশ বাঁচাও, বন্দর বাঁচাও আন্দোলন’ এই সভার আয়োজন করে।
সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে অবিলম্বে বিএনপি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর ও মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বর্তমান সরকারের জন্য ‘অগ্নিপরীক্ষা’।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম সভায় বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর যারা পরিচালনা করছেন, এই মুহূর্তে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। তারা প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করেছেন। আমাদের বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে, তবে তার জন্য দেশীয় লাভজনক প্রতিষ্ঠান বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’ বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তি করেছে উল্লেখ করে তিনি দেশ ও জনস্বার্থে ইজারা চুক্তি কার্যকর না করার আহ্বান জানান।
শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। আমরা জনস্বার্থ রক্ষার জন্য জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাব।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর আমাদের অর্থনীতির চালিকা শক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। সামরিক দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এর সন্নিকটে রয়েছে। কোনো অজুহাতেই এই বন্দর বিদেশিদের ইজারা দেওয়া যাবে না। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের স্বার্থে তাদের শক্ত ভূমিকা নিতে হবে।’
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের গণবিরোধী চুক্তিগুলো সংসদে উত্থাপন করে অংশীজনদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তিতে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের ওপর বড় আঘাত আসবে। আগের কর্তৃত্ববাদী সরকার এই চুক্তিগুলোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, পরে অন্তর্বর্তী সরকার তা সম্পন্ন করে। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের এসব চুক্তি কার্যকর করার কোনো দায়বদ্ধতা নেই।’
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড নামের যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বন্দর পরিচালনার চুক্তি হয়েছে, তাদের সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ সহযোগিতার চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির সূত্রে মার্কিন নৌবাহিনী চট্টগ্রাম বন্দর তাদের প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করতে পারবে। কাজেই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।’
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘এই সরকার “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। কাজেই দেশের স্বার্থ, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা তাদের কর্তব্য। দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল করে সকল অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজ করতে হবে।’
গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য সৈয়দ হাসান মারুফ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। এই বন্দর জোয়ার ভাটার ওপর নির্ভরশীল। নির্দিষ্ট মাপের চেয়ে বড় জাহাজ প্রবেশ করতে পারে না। কাজেই উন্নয়নেরও খুব বেশি সুযোগ এখানে নেই। সেই সুযোগ গভীর সমুদ্রবন্দরে রয়েছে। এসব বিভিন্ন বাস্তবসম্মত কারণে এই চুক্তি বাতিল করতে হবে।’
বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার অনেক ষড়যন্ত্রমূলক কাজ করেছে। তারাই এই চুক্তিটি করেছে। এর জন্য বিএনপির কোনো দায়বদ্ধতা নেই। এখনো একটি চক্র দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ‘দেশ বাঁচাও বন্দর বাঁচাও আন্দোলন’–এর সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই এই বন্দরটি পরিচালিত হচ্ছে। পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কোনো অভিযোগ নেই। বন্দরটি দেশের অন্যতম আয়ের উৎস। এসব দিক বিবেচনা করলেও এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। জাতীয় স্বার্থেই এই দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল করতে হবে।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী আবুল হাসান। সভাটি সঞ্চালনা করেন মোমিনুল আমিন।
রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় উন্মুক্ত জনপরিসর ধানমন্ডি লেককে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। একই সঙ্গে লেকের পরিবেশ, সৌন্দর্য ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। রোববার ধানমন্ডি এলাকায় আয়োজিত এক গণশুনানিতে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ধানমন্ডি লেক নগরবাসীর জন্য একটি উন্মুক্ত বিনোদন ও সাংস্কৃতিক পরিসর। এটি কোনোভাবেই পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হতে দেওয়া হবে না।
তিনি জানান, লেক ও আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় হকার এবং রিকশাচালকদের একটি নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে জনশৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক সেবা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সিটি করপোরেশন।
গণশুনানিতে প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই জনগণের অভিযোগ, মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশন উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
আবদুস সালাম বলেন, ধানমন্ডিকে একটি পরিকল্পিত আবাসিক অঞ্চল হিসেবে আরও উন্নত করতে খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান এবং জনসেবামূলক অবকাঠামোর উন্নয়নে কাজ চলছে। পাশাপাশি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নিউমার্কেট এলাকাকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
সড়ক ও ফুটপাত দখলের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, অনেক ক্ষেত্রে হকারদের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম জনভোগান্তি ও পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই নগর ব্যবস্থাপনায় সবাইকে সমান নিয়ম ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তার মতে, ধানমন্ডি লেকের সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা করা গেলে এটি শুধু একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং রাজধানীর টেকসই নগর পরিকল্পনার একটি সফল উদাহরণ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন রিয়াল এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা (এনইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, বিএন)। তিনি বিদায়ী চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল শাহীন রহমানের স্থলাভিষিক্ত হলেন। রোববার মোংলা বন্দরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকারের কাছ থেকে তিনি নতুন এই দায়িত্ব বোঝে নেন। মোংলা বন্দরে যোগদানের আগে আরিফ আহমেদ মোস্তফা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বন্দরের সভাকক্ষে সব বিভাগের প্রধান, ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তা, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সিবিএ’র অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
সভায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বন্দরের চলমান ও অসমাপ্ত বিভিন্ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নতুন চেয়ারম্যানের কাছে তুলে ধরেন। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে আরিফ আহমেদ মোস্তফা বন্দরের উন্নয়নে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘প্রশাসনিক কাজের জটিলতা কমাতে পারলে বন্দরের সামগ্রিক অপারেশনাল কার্যক্রম অনেক সহজ হয়ে যাবে।’ তিনি বন্দরের আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে দলগতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন। বন্দরের সার্বিক স্বার্থে খুব দ্রুতই বন্দর ব্যবহারকারীদের (স্টেকহোল্ডার) সাথে একটি আলোচনা সভা করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
রিয়াল এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শিক্ষা ও কমিশন: আরিফ আহমেদ মোস্তফা ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৯২ সালে নির্বাহী শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক (ডিস্টিংশনসহ) এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মিলিটারি স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (DSCSC) মিরপুর, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ মিরপুর এবং নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী।
পেশাদার জীবন: ৩০ বছরের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, ইনস্ট্রাক্টর (প্রশিক্ষক) এবং স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জাহাজ চালনায় অভিজ্ঞতা: একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ—‘বানৌজা ওমর ফারুক’ এবং ‘বানৌজা সমুদ্র জয়’-এর ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ‘বানৌজা দুর্জয়’-এর কমিশনিং ক্যাপ্টেন এবং ‘বানৌজা ওমর ফারুক’-এর ডিকমিশনিং ক্যাপ্টেন ছিলেন। এ ছাড়া তিনি পেট্রোল ক্রাফট বানৌজা ফরিদ, তিস্তা, মেঘনা, এলপিসি দুর্জয়, ওপিভি এসআর আমিন এবং নৌঘাঁটি বানৌজা হাজী মহসিনের অধিনায়ক হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় দিনদুপুরে এক মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীকে গুলি করে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকাল ৩টার পর একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের করপোরেট শাখার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে লোকমান (৪৫) নামের ওই ব্যবসায়ী আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোকমান একটি ব্যাগে প্রায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং তার সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার। তিনি জানান, আহত ব্যবসায়ী লোকমান শাহজাহানপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
তিনি আরও জানান, হামলায় লোকমানের হাতে কনুইয়ের নিচে একটি এবং হাঁটুর নিচে দুটি গুলি লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা অবস্থা আছেন।
পুলিশ জানায়, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত টার্গেটভিত্তিক ছিনতাইয়ের ঘটনা। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ৩টি মোটরসাইকেলে করে অন্তত ৬ জন দুর্বৃত্ত ঘটনাস্থলে আসে এবং ভিকটিমকে অনুসরণ করে হামলা চালায়।
গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের তথ্য আগে থেকেই ছিনতাইকারীদের কাছে ফাঁস হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টিম কাজ করছে বলে জানা গেছে। পুলিশ বলছে, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশু রামিসাকে হত্যার বিচার নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মাও সেতুংয়ের একটি ঐতিহাসিক উক্তি আছে—কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী। কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা। রামিসা হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে আর যদি এই ফাঁসির আসামিদেরকে আমরা ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে তাদের মৃত্যু ঘটাতে পারি, তাহলে সেটা আমাদের জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা হিসেবে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি।
আজ রোববার (৭ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গত ১৯ মে ঢাকা শহরের পল্লবী এলাকায় একটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা ঘটে। আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এ ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে আমাদের পুলিশ বাহিনী দুজন মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সেখানে সেই টিমে আমিও ছিলাম। আমরা ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করি। ওইদিন ভিকটিমের বাবার একটি আহাজারি ছিল, উনি বিচার চান না। কারণ এদেশে এ ধরনের ঘটনার বিচার হবে না। আমরা আশ্বস্ত করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন—এ ঘটনার বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী পাঁচ দিনের মাথায় সুষ্ঠু তদন্ত করে এ ঘটনার প্রতিবেদন দাখিল করেছিল। ঈদের আগে ২৪ মে দুপুর ১২ টার সময় চার্জশিট দেয় পুলিশ। ওইদিন ৪টার মধ্যে সেই চার্জশিট আমরা সিএমএম কোর্ট থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুনালে নিয়ে যাই। আমাদের সামনে একটা সংখ্যা ছিল, সেটা হলো বাংলাদেশের আদালতগুলো পহেলা জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে যাওয়ার কথা। আমরা প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করে বাংলাদেশের সব নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলো ছুটির আওতা বহির্ভূত রাখতে সক্ষম হই।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ২৪ মে চার্জশিট পাওয়ার পরপরই আমরা যখন দেখেছি, আসামি পক্ষ কোনো আইনজীবী দেয়নি, আমরা আইনের বিধান মেনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের স্টেট ডিফেন্স লয়ার (রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী) দিতে সক্ষম হই। ঈদের ছুটির পরে পহেলা জুন আদালতে এই মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন এই মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ৩ জুন এই মামলায় আসামি পক্ষ কোনো সাক্ষী দিতে চান কি না, সেজন্য দিন ধার্য রাখা হয়। ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করা হয়। ৫ ও ৬ জুন শুক্র-শনিবার থাকাতে ৭ জুন আজ রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল এবং রায় যথারীতি ঘোষিত হয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা রাষ্ট্রের প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সমস্ত সাক্ষ্য উপস্থাপন পূর্বক যে রায় প্রত্যাশা করেছিলাম, যে রায় প্রস্তাব করেছিলাম, যে রায় আদালতের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, আদালত সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদেশের অংশ ঘোষণা করেছেন। আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুজন মূল আসামি সোহেল ও তার সহযোগী এবং স্ত্রীকে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। মাও সেতুংয়ের একটি ঐতিহাসিক উক্তি আছে—কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী। কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা। রামিসা হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে আর যদি এই ফাঁসির আসামিদেরকে আমরা ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে তাদের মৃত্যু ঘটাতে পারি, তাহলে সেটা আমাদের জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা হিসেবে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি।
আইনমন্ত্রী বলেন, এটুকুই ছিল আমাদের পক্ষ থেকে এই মহান জাতীয় সংসদ এবং জাতির কাছে আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি। সেদিন আমরা বলেছিলাম, আমাদেরকে যখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন—রামিসার বাবা বিচার চান না। এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য কি? আমরা বলেছিলাম, এর একমাত্র জবাব হবে তাকে সেই আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া। আজ ভিকটিমের বাবা বলেছেন, এই বিচারে উনি সন্তুষ্ট। আমরা তার আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, রামিসাসহ সম্প্রতি যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে, আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকির মাধ্যমে আমরা তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, আমরা নিয়েছি এবং সেই গতিতে এগোচ্ছি।
সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে জয় পান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এবার সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। অবশ্য সভাপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন পড়েনি। তামিমই একমাত্র সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তাই বিসিবির ১৮তম এবং নির্বাচিত ষষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। সহসভাপতি হয়েছেন ফাহিম সিনহা
রোববার মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সকাল ১০টার দিকে শুরু ভোটগ্রহণ। বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। প্রাপ্ত ভোটে ঢাকার ক্লাব থেকে জিতেছেন তামিম ইকবাল, মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা. মাহবুব শামীম, সাকেফ আহমেদ সালাম।
যেখানে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়েছেন তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২ ভোট পেয়েছেন সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং ইশরাফিল খসরু। এরপর মাসুদুজ্জামান ৭০ এবং ফয়সাল ইয়াসির পেয়েছেন ৬৮ ভোট।
ফাহিম সিনহা এবং শানিয়ান তানিম ৬৬টি করে ভোট পেয়েছেন। আসিফ রাব্বানী ৬৪, মির্জা ইয়াসির আব্বাস ৬৩টি ভোট পেয়েছেন। রফিকুল ইসলাম বাবু ৫৩ এবং ড. শামীম ৪১ ভোট পেয়েছেন । ক্লাব ক্যাটাগরিতে মোট ভোট ছিল ৭৬টি। এর মধ্যে ৭৪টি ভোট কাস্ট হয়েছে।
পনের দিনের ব্যবধানে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম লিটারে আরও ১৫ টাকা করে কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর আগে গত ২৩ মে দাম লিটারে ৩৯ টাকা ৫৭ পয়সা কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা করা হয়েছিল।
আজ রোববার বিইআরসির এক আদেশে জেট ফুয়েলের দাম ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা কমিয়ে ১৫০ টাকা ৪১ পয়সা করা হয়। এটি হচ্ছে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম। এছাড়া আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী এয়ারলাইন্সের জন্য জেট ফুয়েলের দাম কমিয়ে শূন্য দশমিক ৯৮০৮ ডলার করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১ দশমিক ০৮২৩ ডলার।
এর আগে কয়েক দফায় দাম বেড়ে গত ৭ এপ্রিল দেশীয় রুটে জেট ফুয়েলের দাম ২২৭ টাকা হয়েছিল। সেই হিসাবে দুই মাসের ব্যবধানে দাম কমল লিটারে ৫৭ টাকা।
মন্তব্য