জাতীয় সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহামুদকে সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো ভালোভাবে স্টাডি বা পর্যালোচনা করে নেওয়ার জন্য মন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৭ জুন) সংসদ অধিবেশনে আশুগঞ্জ সার কারখানায় (ফার্টিলাইজার) গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জেরে স্পিকার এই মন্তব্য করেন।
অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মন্ত্রীর কাছে তার আগের একটি প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে, পহেলা মে-র মধ্যে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হবে। এরপরে আরও এক মাস তিন-চার দিন পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সাপ্লাই আমরা পাইনি।’
আশুগঞ্জ সার কারখানায় কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে— এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন রাখেন এই সংসদ সদস্য।
রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহামুদ দেশে গ্যাসের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। বর্তমানে সার কারখানার চেয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি বিদ্যুৎ চাচ্ছেন আবার ওনার ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতেও গ্যাস চাচ্ছেন। গ্যাসের তো একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এজন্য আমাদের বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলো চালিয়ে রাখতে হচ্ছে এবং সেই কারণে তার ওখানে আমরা সংযোগ দিতে পারছি না।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে কোনোদিন ড্রিলিং (খনন) করা হয়নি। আমরা এই প্রথম এসে ড্রিলিং শুরু করেছি এবং আশা করি ইনশাআল্লাহ আমরা গ্যাস পাবো। গ্যাস পাওয়ার পরে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারের মতো কারখানায় আমরা সংযোগ দিতে পারবো।’
মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রীকে তার দেওয়া আগের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মন্ত্রী, আপনি কিন্তু সংসদে বলেছিলেন এক তারিখ থেকে গ্যাস যাবে। সেটি বোধ হয় পাওয়া যায়নি।’
ভবিষ্যতে সংসদে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘সংসদে যে প্রতিশ্রুতি দেবেন, সেটা ড্রিলিং বা অন্যান্য যাবতীয় আনুষঙ্গিক বিষয় স্টাডি করে তারপরে সংসদে দেবেন।’
নয় বারের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও ভোলা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদসহ ১৬ জন সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ সংসদ-সদস্যদের নাম জাতীয় সংসদের শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনের শুরু সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম মৃত্যুবরণকারী ১৫ জন সাবেক এমপির নাম সংসদে উত্থাপন করেন।
শোকপ্রস্তাবে যাঁদের স্মরণ করলো সংসদ
জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. কায়সার, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক এম এ মান্নান, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জি এম ফজলুল হক, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম আনোয়ারুল হক, সাবেক টেকনোক্রেট মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সামসুদ্দোহা, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আবু নূর মোহাম্মদ বাহাউল হক, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান শামসুল আবেদীন, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ও উপমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন, ময়মনসিংহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. দবিরুল ইসলাম, ভোলা-১ সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ, মৌলভীবাজার-২ সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মতিন ও ঢাকা ১১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম রহমত উল্লাহ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটি হতে যাচ্ছে সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপন করতে পারেন বলে জানা গেছে।
এর আগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ৭ মে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন গত ৩০ এপ্রিল সমাপ্ত হয়।
ওই অধিবেশনে ২৫ কার্যদিবসে মোট ৯৪টি বিল পাস করা হয়।
সংগৃহীত ছবি
মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। আজ রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের মতে, এই রায় দেশের বিদ্যমান বিচারিক ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় আনীত অভিযোগসমূহ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অপরাধীদের সর্বোচ্চ এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালতের নির্দেশনায় মূল আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং সহযোগী হিসেবে তার স্ত্রী স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিচারিক আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জরিমানার এই অর্থ প্রয়াত শিশু রামিসার বৈধ উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া অপরাধীরা এই অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সেই অর্থ নিহতের পরিবারকে প্রদানের সুনির্দিষ্ট আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আলোচিত এই রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদু্স কাজল গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। দ্রুততম সময়ে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার নেপথ্যে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রের সব যন্ত্র অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে ও সমন্বিত উপায়ে কাজ করেছে। আর সে কারণেই এত দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।”
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও উল্লেখ করেন যে, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই বিচারিক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র তার সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “এত কম সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচার সম্পন্ন করার মাধ্যমে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে।” এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে অপরাধের প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং অপরাধীদের কাছে একটি জোরালো সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে। মূলত রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের কারণেই এই নজিরবিহীন দ্রুত বিচার সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ‘নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত ‘বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, “টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) আরও শক্তিশালী করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, “দেশের সব পণ্যের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুণগত মান ও সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করতে বিএসটিআই কাজ করে যাচ্ছে।”
ভোক্তাদের অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, “গুণগত মানসম্পন্ন ও সঠিক ওজনের পণ্য প্রাপ্তি নাগরিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষায় বিএসটিআইকে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।” বিএসটিআইয়ের লোগো বা মানচিহ্ন জনগণের কাছে আস্থার একটি প্রতীক এবং এই মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের তৎপর থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “ভোক্তারা পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নকে আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান প্রতিষ্ঠানের সেবার পরিধি সম্প্রসারণের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে খুলনা ও চট্টগ্রামে আধুনিক ল্যাবরেটরিসহ ১০ তলা ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ১০টি জেলায় আঞ্চলিক কার্যালয় চালু করা হয়েছে। বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় সংস্থাটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দেশীয় পণ্যের রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ১১টি জেলায় নতুন ল্যাব ও ভবন নির্মাণ, ৪২টি জেলায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রধান কার্যালয়ে নতুন ৬৭টি আধুনিক ল্যাবসহ একটি ১৩ তলা ভবন নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে হালাল পণ্যের ব্যাপক চাহিদা মেটাতেও বিএসটিআই বিশেষ নজর দিচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান জানান, বিএসটিআই কেবল খাদ্যপণ্য নয় বরং আবাসনসহ নানা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে সরকারের নীতি প্রণয়নে অবদান রাখছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশীয় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে মেট্রোলজি বা পরিমাপ বিজ্ঞানের আধুনিকায়ন এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংস্থা প্রধান এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ফাইল ছবি
রাজধানীর মিরপুরের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে প্রদান করাকে দেশের বিচারিক ইতিহাসের এক অনন্য ও দ্রুততম দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। এই রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আশা জানিয়েছেন যে, উচ্চ আদালতেও সাজার এই আদেশ বহাল থাকবে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যেই দণ্ডপ্রাপ্তদের শাস্তি কার্যকর করা সম্ভব হবে।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আইনমন্ত্রী এই ঐতিহাসিক বিচার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ১৯ মে হত্যাকাণ্ডের পর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় অর্থাৎ ২৪ মে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে ঈদের ছুটি শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ ৭ জুন রায় ঘোষণা করা হলো। সব মিলিয়ে মাত্র ছয়টি কার্যদিবসে একটি স্পর্শকাতর মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়াকে তিনি বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
অতীতে বিভিন্ন আলোচিত মামলার রায় উচ্চ আদালতে দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকার নজির থাকলেও রামিসা হত্যা মামলার ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান যে, এই মামলার রায় যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি হয় সেজন্য সরকার বিশেষভাবে তদারকি করবে। এক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে যে, বিচার কার্যকরের ক্ষেত্রে আইনের সকল ধাপ অনুসরণের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
দেশে এই ধরণের নৃশংস অপরাধ বেড়ে যাওয়ার পেছনে বিচারিক দীর্ঘসূত্রতাকে একটি অন্যতম কারণ হিসেবে স্বীকার করেছেন আইনমন্ত্রী। তবে তিনি মনে করেন এটিই একমাত্র কারণ নয়। জনমনে থাকা দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিচার কার্যকরের দীর্ঘসূত্রতা এই ধরনের অপরাধ ঘটার একটা কারণ হতে পারে, তবে এটাই সামগ্রিক বিষয় নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন যে, ‘আইনের নির্ধারিত স্তরগুলো অতিক্রম না করে কোনো রায় কার্যকর করতে গেলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গেলে আইনি সব ধাপ অতিক্রম করেই আসতে হয়।’ তবে সকল আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে মেনে চলেও আগামী তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। এর আগে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এই মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন।
ফাইল ছবি
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আজ রোববার এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারিত ছিল।
গত ১৯ মে পল্লবীর স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে কৌশলে নিজেদের ঘরে নিয়ে যান স্বপ্না আক্তার। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। দীর্ঘক্ষণ মেয়ের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খুঁজতে শুরু করলে একপর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
হৃদয়বিদারক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন এবং পরবর্তী কয়েক দিনে মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। মামলার দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া ও জোরালো সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুই আসামিকে এই সর্বোচ্চ সাজার নির্দেশ দেন। দেশের বিচারিক ইতিহাসে এত অল্প সময়ে এমন কোনো স্পর্শকাতর মামলার রায় প্রদান একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
মন্তব্য