বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) শুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্তের কারণে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্রাহকের ক্ষেত্রে কোনো দাম বাড়েনি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি জানান, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের আগের দামই বহাল থাকবে, যার ফলে দেশের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির গ্রাহকেরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
শনিবার (৬ জুন) সচিবালয়ে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংসহ বিগত সরকারের আমলের নানা অপরাধের বোঝা বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির চক্র থেকে দেশকে বের করে আনার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করছে বর্তমান সরকার।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগের সরকারগুলো উৎপাদনমুখী নীতির চেয়ে আমদানি-নির্ভর নীতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তৎকালীন সময়ে যদি আমদানি-নির্ভরতার চেয়ে উৎপাদনমুখী নীতি গ্রহণ করা হতো, তাহলে আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
তবে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকায় নারী-পুরুষ এবং শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থানে থাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের জন্য আনা সব ব্যক্তিকেই ফিরিয়ে নিয়েছে।
গত শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১টার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
শনিবার (৬ জুন) সকালে বিষয়টি নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে সাতটায় সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা যাবৎ এই চেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ১৭ জনকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্যরা। ফলে দিনভর শূন্যরেখা ও ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি ওই ১৭ জন। তাদের বাংলাদেশি বলা হলেও বিএসএফের সঙ্গে বিজিবির পতাকা বৈঠকে কোনো প্রমাণাদি দেখাতে না পারায় তাদের ফেরত দেয়া হয়েছে। ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং পাঁচজন শিশু রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টর চালক মাহবুব আলম বলেন, ‘ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিল। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনও বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আমরা সামনে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তখন বিএসএফ আমাদেরকে বাধা দিয়ে তাদেরকে নিয়ে চলে যায়।’
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্যরেখায় থাকতে দিলেও সন্ধ্যার পরে তাদেরকে নো-ম্যান্সল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওই এলাকাতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।’
সারা দেশে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সরকারি কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ু বার্তা ও বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচি-সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে জানানো হয়, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে।
আগামী সপ্তাহে চট্টগ্রাম থেকে এই বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতি, চলমান বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির নানামুখী উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় বন ও পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স উৎপাদন সংক্রান্ত আরেকটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় স্থানীয় প্রযুক্তি, মেধা ও উপকরণ ব্যবহার করে কীভাবে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে এবং কম খরচে মানসম্মত অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করা যায়, তার সম্ভাবনা ও এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বিশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান হাকান ফিদান। সফরের প্রথম দিকে শুক্রবার তিনি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। ওই দিনই তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণে কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করেন এবং রাতেই পুনরায় রাজধানীতে ফিরে আসেন। তিন দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষে আজ বিকেলেই তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগের কথা রয়েছে।
সংগৃহীত ছবি
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আগামী দুই থেকে তিন দিন পর পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে জরিমানা করা হবে। শনিবার সকালে ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের একটি বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, চিকিৎসকদের আশঙ্কা অনুযায়ী এবারের ডেঙ্গুর ধরণ হতে পারে অত্যন্ত বিপজ্জনক, যাকে ‘হেমোরেজিক’ বলা হচ্ছে। এই ধরণের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের শরীরে দ্রুত রক্তক্ষরণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে সাধারণ মানুষকে আগেভাগেই সচেতন হওয়ার জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ডেঙ্গু মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস এবং নগরবাসীকে সতর্ক করার কাজ জোরদার করা হবে।
একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী দক্ষিণ সিটি এলাকার ৬৩টি ওয়ার্ড বর্তমানে ডেঙ্গুর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যার মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে যদি জনগণ ও সিটি করপোরেশন প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করে, তবেই এই বিপর্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের এই সমন্বিত উদ্যোগ মূলত আগামী বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদকে ভূষিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আজ শনিবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে জানানো হয়েছে যে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত এই বীর যোদ্ধাদের সাহসিকতা, আত্মত্যাগ এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক প্রদান করেন। নিহত শান্তিরক্ষীদের পক্ষে পদকগুলো গ্রহণ করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী। সম্মাননাপ্রাপ্ত এই শান্তিরক্ষীরা হলেন—কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মণ্ডল। তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দায়িত্ব পালনকালে এক আকস্মিক ড্রোন হামলায় শাহাদাত বরণ করেন।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে নিহত প্রায় চার হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। তিনি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে কর্মরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ বছর ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে এই মরণোত্তর পদকে ভূষিত করা হয়েছে।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী শোক বইতে স্বাক্ষর করে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উল্লেখ্য যে, ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকটি ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি সর্বোচ্চ মরণোত্তর সম্মাননা। এটি মূলত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ বিসর্জনকারী সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের অসামান্য অবদান ও নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়।
কাগজে-কলমে ‘মৈত্রীর সোনালী অধ্যায়’ আর মুখে সৌহার্দ্যের ফুলঝুরি ছড়ানো হলেও, ভারতের বর্তমান সরকারের নানামুখী সিদ্ধান্ত ও আচরণে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে বন্ধুত্বের চেয়ে তিক্ততার ছায়াই আজ বেশি দৃশ্যমান। কারণ, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তজুড়ে হঠাৎ করেই এক নজিরবিহীন উত্তেজনাকর এবং চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং ন্যূনতম মানবিক রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দেশের উত্তর, পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ সীমান্ত পথ দিয়ে জোরপূর্বক নারী, শিশু ও পুরুষদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) এক ব্যাপক ও সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিল সমীকরণ এবং সে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কথিত ‘অবৈধ নাগরিক’ পুশ-ব্যাক করার প্রস্তুতির খবরের পরপরই সীমান্তের এই আকস্মিক রূপবদল জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে বিএসএফের ঠেলে দেওয়া ৮৮ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ কঠোরভাবে ঠেকিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই ৮৮ জনই বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশের শূন্যরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে ঢুকতে পারেননি।
এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির মনে করেন, পুশ-ইন ইস্যুটিকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে দুই দেশেরই যুক্তি ও মানবিকতা দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গবেষক ব্রিগেডিয়ার জে. মো. বায়েজিদ সরোয়ারের (অব.) মতে, পুশইনের মতো সংবেদনশীল পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত এক ধরনের চাপ বজায় রাখছে। এসব কর্মকাণ্ড দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্থিরতা ও আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। সম্পর্কোন্নয়নের বদলে তিক্ততা ও অসন্তুষ্টি বাড়তে পারে।
এদিকে, বাংলাদেশ অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া যত দ্রুত করার কথা জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। শুক্রবার (৫ জুন) দিল্লিতে সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ভারতে অবস্থানরত সকল বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে, তারা বাংলাদেশি হোক বা অন্য যে কোনো দেশের নাগরিক হোক, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাদের আইন রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ীই তাদের সঙ্গে আচরণ করা হবে।
যদিও গত মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন এবং অন্য দেশে অবস্থান করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা পাঠিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও আইনগত নিয়ম মেনে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বর্তমানে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন সরকারের কাছে ঝুলে নেই।
বিজিবি সদর দপ্তরের উপমহাপরিচালক (ডিডিজি) ও বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম বলেন, অবৈধভাবে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কাউকে বিজিবি গ্রহণ করবে না। কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করা হলে আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে নির্ধারিত চেকপোস্টের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। পুশইনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঈদ উপলক্ষে দায়িত্বে থাকা অনেক সদস্যের ছুটিও সীমিত করা হয়েছিল।
পঞ্চগড় : পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন আলোতে বিএসএফের সদস্যরা কাঁটাতারের গেট খুলে ১০ জন নারী, শিশু ও পুরুষকে জোর করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়। তবে বিজিবির কঠোর ও অনমনীয় অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১০ জনকে নিয়ে ভারতীয় সীমানার ভেতরে সরে যেতে বাধ্য হয়।
যদিও বিএসএফ তাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে না নিয়ে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে মাত্র ২০ গজ দূরে ভারতের অংশে অবরুদ্ধ করে রেখে দেয়।
নীলফামারী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ দাবি করে যে এই ১০ জন বাংলাদেশের নাগরিক, কিন্তু এর সপক্ষে তারা কোনো বৈধ প্রমাণ বা নথিপত্র দেখাতে পারেনি।
লমনিরহাট : লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলার চারটি ভিন্ন সীমান্ত দিয়ে একযোগে বড় ধরনের পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কামাতটারী এলাকায় ৫ জন নারী, ৩ জন পুরুষ ও ২ জন শিশুকে মারধর করতে করতে কাঁটাতারের বেড়ার গেট দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় বিএসএফ। ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন এবং বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) পঁয়ছড়াবাড়ি ক্যাম্পকে অবহিত করেন। বিজিবি ও স্থানীয় মানুষ একত্রিত হয়ে পুশ-ইনের শিকার ব্যক্তিদের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠায়।
একই সময়ে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়ন সীমান্তে ১১ জনকে এবং আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ও দিঘলটারী সীমান্তে আরও ১৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। দবে বিজিবির ১৫ ও ৬১ ব্যাটালিয়নের জোয়ানরা স্থানীয়দের সাথে নিয়ে প্রতিটি পয়েন্টে বিএসএফকে রুখে দেয়। ৩৩ জন ভারতীয় শূন্যরেখার ২০ গজের মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন।
বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান জানান, বিএসএফের সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে।
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির পামাপাশি স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে বিজিবি। রাত্রিকালীন টহল দল বাঁশি ও টর্চ লাইটের মাধ্যমে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত জনসাধারণকে সীমান্ত অতিক্রম না করার জন্য সতর্ক করছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাব্য পুশ-ইন এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধ আরও কার্যকর হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির জোয়ানরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
দিনাজপুর: প্রতিবেশী দেশে অবস্থানরত কথিত অবৈধ নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ-ইনের আশঙ্কায় দিনাজপুর সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে। দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান সীমান্তবর্তী এলাকায় ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক সভা, মাইকিং এবং সরাসরি গণসংযোগ করছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট ও নদীপথগুলোতে দিবা-রাত্রিকালীন অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করার পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন নাইট ভিশন গগলস এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বাইনোকুলার। সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘবদ্ধ দালালচক্র ও অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় জনগণকে নিয়ে ছোট ছোট ‘সতর্কতামূলক স্কোয়াড’ গঠন করা হয়েছে, যাতে কোনো দালাল চক্র পুশ-ইনে সহায়তা করতে না পারে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তে বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের বাঙ্গাবাড়ী ক্যাম্প এবং বিপরীতে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্প দায়িত্ব পালন করছে। বুধবার রাত তিনটার দিকে সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে গভীর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ শিশুসহ ২৮ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় বিএসএফের আশরাফপুর ক্যাম্পের জোয়ানরা। তবে বিজিবির টহল দলের তীক্ষ্ণ নজরদারির কারণে বিএসএফের এই অপারেশন ব্যর্থ হয়। এরপর থেকেই দুই দিন ধরে ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ভারতের ৫০ গজ ভেতরে নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।
বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছেন, শূন্যরেখার ১০০ গজ দূর থেকে কথা বলে জানা গেছে যে বিএসএফ তাদের যে সামান্য খাবার দিচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদছে এবং তাদের মধ্যে এক বয়স্ক নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
এই ২৮ জনের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি খুলনার কয়রা এলাকায়। তারা দুই বছর আগে জীবিকার তাগিদে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। কয়রা থেকে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ইতোমধ্যে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাঠিয়েছেন।
বিজিবি ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকে বিএসএফ পুশ-ইনের কথা স্বীকার করেছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা অগ্রগতি জানায়নি। ফলে এই ২৮ জনের ভাগ্য এখনো মহাকাশে ঝুলছে।
নওগাঁ : শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তে (২৩৮/এমপি পিলার) বিএসএফ-এর পান্নাছড়া ক্যাম্পের সদস্যরা আকস্মিকভাবে জোরপূর্বক ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায়। এই অনুপ্রবেশের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে।
তবে বিজিবির নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) হাঁপানিয়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল গোয়েন্দা সূত্রের খবর পেয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিজিবি সদস্যরা কঠোর অবস্থান নিয়ে তাদের বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পা রাখতে বাধা দেয় এবং ভারতীয় শূন্য লাইনের ভেতরেই তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপক বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকতে দেওয়া হবে না এবং শূন্য রেখায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ডে পুরোপুরি ফেরত পাঠানোর (পুশ-ব্যাক) আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মেহেরপুর: জেলার ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত জটিল, কারণ এর তিন দিক জুড়েই রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত। দীর্ঘ ৯৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশ-ইন) ও মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান ঠেকাতে সতর্ক রয়েছে বিজিবি। মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার ১৯টি বিওপি এবং একটি আইসিপির মাধ্যমে মোট ৮১টি বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
এই টহলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সীমান্ত এলাকার কাথুলী গ্রামের বাসিন্দা জামাল ও খাইরুল ইসলামের মতো শত শত যুবক লাঠি, বাঁশি ও টর্চলাইটের মতো দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে দল গঠন করে সারারাত বিজিবির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা বিএসএফের নড়াচড়া দেখামাত্রই তারা বিজিবি ক্যাম্পে তথ্য পৌঁছে দিচ্ছেন।
বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, সীমান্তে পুশ-ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকি এবং প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই যৌথ প্রতিরোধ বিএসএফের পুশ-ইনের পরিকল্পনাকে পুরোপুরি রুখে দিয়েছে।
নেত্রকোনা : জেলার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা সীমান্ত এলাকাটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলের সাথে যুক্ত। পাহাড়, জঙ্গল এবং সোমেশ্বরী নদীর চরাঞ্চল ঘেরা এই সীমান্তটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জটিল ও দুর্গম। চলমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই সীমান্ত দিয়েও পুশ-ইনের চেষ্টা হতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী জানান, বিজিবি এই পাহাড়ি সীমান্তের প্রতিটি তল্লাশি চৌকিতে জনবল দ্বিগুণ করেছে। মেগাফোন, সার্চলাইট এবং স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাহাড়ি দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে বিএসএফ যেন কোনো অন্যায্য সুবিধা না নিতে পারে, সে জন্য বাহিনীটি শতভাগ প্রস্তুত ও জাগ্রত রয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন দৈনিক বাংলার পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, মেহেরপুর ও নেত্রকোনা প্রতিনিধি।
মন্তব্য