রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত শুনানি শেষে পরবর্তী আইনি ধাপ হিসেবে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেছেন।
এদিন সকালে কড়া নিরাপত্তায় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক মাসরুর সালেকীন রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর দেওয়া জবানবন্দি আসামিদের পড়ে শোনান এবং তাদের বক্তব্য জানতে চান।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা বিচারকের কাছে অনুতপ্ত সুরে বলেন, “আমি নির্দোষ স্যার। আমার সঙ্গে যে ছিল-ডলার, তাকে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা-না, আমিও দোষ করেছি। আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ।” অন্যদিকে তার স্ত্রী ও মামলার অপর আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।” তাদের বক্তব্য রেকর্ড করার পর রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্কের জন্য সময় প্রার্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। গত ১৯ মে পল্লবীতে রামিসাকে পাশবিক নির্যাতনের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২ জুন নিহতের বাবা-মাসহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। আজ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য পর্যালোচনা ও আসামিদের পরীক্ষা শেষে মামলাটি রায়ের পূর্ববর্তী ধাপে পৌঁছালো। পুরো বিচারিক কার্যক্রমে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশীয় ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় কোনো শত্রু তৈরি না করে সর্বত্র মিত্র তৈরি করেছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারের কাছে শহীদ জিয়ার সার্কের নীতি এবং বহুপক্ষীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে চলার নির্জোট রাজনীতিই প্রধান পররাষ্ট্রনীতি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে পিআইবি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্লেষণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র ও অর্থনীতি পরিচালনা করতে কিছু অনিবার্য উপাদানের ওপর দাঁড়াতে হচ্ছে। আমাদের আমদানির প্রধান উৎস চীন ও ভারত। তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রধান গন্তব্য আমেরিকা ও ইউরোপ, রেমিট্যান্সের মূল উৎস মধ্যপ্রাচ্য এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তার জন্য আমরা কাতার এবং রাশিয়ার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রজেক্টের ওপর নির্ভরশীল। এই বাস্তবতায় আমাদের এমন একটি স্বাধীন নীতি অবলম্বন করতে হবে, যা এই বিপরীতমুখী সবকটি উপাদানকে একসাথে অ্যাসেম্বল বা সমন্বয় করতে পারে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের আগের একদলীয় শাসন ও কূটনৈতিক স্থবিরতা থেকে বেরিয়ে বহুদলীয় ব্যবস্থা, পশ্চিমামুখী অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও মুসলিম বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছিলেন। এমনকি বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতকে সাথে নিয়ে সার্ক গঠনের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলোকে একটি আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক কাঠামোতে রূপান্তর করেছিলেন।
স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার জন্য জাতীয় স্বকীয়তা চেনার ওপর গুরুত্বারোপ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের স্বকীয়তা সম্পূর্ণ নিজস্ব। বাঙালি হিসেবে আমাদের কোনো সার্টিফিকেটের জন্য কলকাতার বুদ্ধিজীবীদের কাছে যেতে হয় না, কিংবা আমাদের মুসলমানিত্বের সনদের জন্য পিন্ডি বা করাচির মসজিদের ইমামের শরণাপন্ন হতে হয় না। এই যে স্বকীয়তার চেতনা, তা শহীদ জিয়াই আমাদের চিন্তার মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত করে গেছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সঞ্জীব রেড্ডি শহীদ জিয়াকে দেওয়া সংবর্ধনায় লিখিতভাবে তাকে বাংলাদেশের ‘মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। শহীদ জিয়া নিজেকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এমন এক মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন যে, ভারতের রাষ্ট্রপতিও তাকে এই সম্মান দিতে বাধ্য হয়েছিলেন; অথচ আওয়ামী লীগ ও তাদের বলয়ের বুদ্ধিজীবীরা এখনো তা স্বীকার করতে চায় না। কারণ আওয়ামী লীগ নিজেদের ভারতের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করতেই বেশি পছন্দ করে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের দেশের রেমিট্যান্স বাড়াতে হবে, মাটির নিচের নিজস্ব জ্বালানি উত্তোলন করতে হবে এবং প্রয়োজনে আমাদের নিজস্ব শর্ত ও স্বার্থ বজায় রেখে ভারত, নেপাল বা ভুটান থেকে হাইড্রো পাওয়ার আনতে হবে। বৈচিত্র্যময় ও বিপরীতমুখী বৈশ্বিক শক্তিগুলোকে ধরে রাখার জন্য যে নীতিগত শক্তির প্রয়োজন, তা সর্বশেষ আমরা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান থেকে গ্রহণ করেছি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান। আলোচনা করেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ ও ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান।
মূল প্রবন্ধে মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান বলেন, কোনো দেশের নেতৃত্ব শুধু অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশ ও দেশের স্বার্থকে কোথায় নিয়ে যেতে পেরেছেন, সেটিই নেতৃত্বের আসল মাপকাঠি। সেই মাপকাঠিতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ছিল অত্যন্ত সফল এবং তার সময়কাল ছিল বাংলাদেশের কূটনীতির এক স্বর্ণযুগ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে আবু রুশদ বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রথম সম্মুখ বিদ্রোহটি করেছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ-এর প্রবক্তা হিসেবে দেশের সকল জাতিসত্তাকে এক সুতোয় বেঁধেছিলেন। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে তার অবদান অনস্বীকার্য।
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, ডেইলি ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বিআইপিএসএসে’র সিনিয়র ফেলো শাফাকাত মনির, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেস করিমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সব ধরনের গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পর এবার লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের মূল্য কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে ০-৫০ ও ০-৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকরা আগের দামে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ মূল্যহার ঘোষণা করেছে বিইআরসি।
এতে বলা হয়, সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানির আবাসিক গ্রাহকশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট) এনার্জি রেট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা এবং আবাসিক প্রথম ধাপ (০-৭৫ ইউনিট) এনার্জি রেট ৫ টাকা ২৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ মূল্যহার জুন মাস থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে বুধবার (৩ জুন) বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে বিইআরসি। ওই ঘোষণায় আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
একই সঙ্গে আবাসিক প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী) গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টার পর বিচারক এজলাসে উঠলে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। এর মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম।
এদিন সকাল ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের ঢাকা দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলাটিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
গত বুধবার (৩ জুন) মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। শুনানিতে বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ এবং বিভিন্ন আলামত আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও আদালতে উল্লেখ করা হয়।
আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে সোহেল রানা বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। স্যার, আমাকে মাফ করে দিন।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ডলারকে ধরেন। আমি অপরাধ করেছি। তাকেও ধরেন।’ অন্য আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতকে বলেন, ‘আমি কিছু করিনি।’
শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, শুরুতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরে সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নথিভুক্ত করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন জানিয়েছে।
‘ডলার’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোহেলের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ নামের কোনো উল্লেখ ছিল না। তদন্ত ও মামলার নথিতেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যায়ে এসে এ ধরনের নাম উল্লেখ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কিংবা বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা হতে পারে।
ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া হবে। যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ, যুক্তিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তার ভিত্তিতে যে বিচার আসবে, তাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস পাবে না বলে আমরা আশা করি।
রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, বুধবারের কার্যক্রম ছিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামি পরীক্ষা। এটি ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেই ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত যুক্তিতর্ক শুনানির দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নিহত শিশুর বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা আদালতে সাক্ষ্য দেন। শিশু সাক্ষী হওয়ায় রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। তদন্তকালে জব্দ করা কাটা গ্রিলসহ বিভিন্ন আলামতও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী জয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করে পুলিশ।
মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং এ দেশের মানুষের স্বকীয়তার প্রতীক। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যে এই ভূখণ্ডের মানুষকে একটি অনন্য জাতীয় পরিচিতি (আইডেন্টিটি) তৈরি করে দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেছেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে পিআইবি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান। আলোচকের বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ ও ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন দেশের মানুষ একটি চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, গোটা দেশের মানুষ তাদের নেতার কাছ থেকে যুদ্ধের ঘোষণার প্রত্যাশা করছিল- সেটা যখন আসলো না, তখন এক সাধারণ মেজর চট্টগ্রাম থেকে হঠাৎ করেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালে যেভাবে এ দেশের গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে, নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে; সে কারণে পাকিস্তানি বর্বরতাকে কখনোই ক্ষমা করতে পারি না।’
এলজিআরডি মন্ত্রী তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া একজন মানুষ হিসেবে আমি পাকিস্তানের অংশ ও তাদের শোষণ-বঞ্চনা প্রচুর দেখেছি। একাত্তরের সেই ভয়ংকর যুদ্ধ ও পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতাকে আমি খুব কাছ থেকে একজন সংগঠক হিসেবে দেখেছি। আর সেই কারণেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমার কাছে একজন অনন্য ও ক্ষণজন্মা পুরুষ, যিনি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন।’
বিএনপি উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি সবসময়ই একটি উদার ও বহুমাত্রিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি (লিবারেল ডেমোক্র্যাসি) লালন করে। জিয়াউর রহমানের রাজনীতি ছিল সবাইকে নিয়ে পথ চলার, কোনো বিভাজন সৃষ্টি নয়। একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকাঠামো ও অর্থনীতির মধ্যে এসে তিনি নতুন কোনো বিভক্তি না করে, সমস্ত রাজনৈতিক চিন্তার দলগুলোকে নিয়ে প্রথমে ফ্রন্ট ও পরে বিএনপি গঠন করেন। রাজনীতির মূল বিষয়টাই ছিল ‘রিকন্সিলিয়েশন’ বা সবাইকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই প্রথা তিনিই চালুর করে গেছেন।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে কারো শত্রু বানাতে চাননি; এটাই ছিল তার রাজনীতি। বরং সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছিলেন, এজন্য তিনি সফল হয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে দেশকে আধিপত্যবাদের বাইরে একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন।’
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, ডেইলি ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বিআইপিএসএস-এর সিনিয়র ফেলো শাফাকাত মনির, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেস করিম উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে আর্থিক, সামাজিক ও উৎপাদনশীল খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক চাপে রয়েছে। তবে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশের অর্থনীতির কিছু সূচকে কিছুটা স্বস্তি এলেও এই স্বস্তিকর অবস্থা বজায় রাখা বা স্থায়িত্বের উপকরণের বেশ ঘাটতি রয়েছে। কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো রয়ে গেছে। নতুন সরকারকে এখন অর্থনীতির এই স্বস্তি স্থায়ীকরণের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এসব কথা বলেছেন।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, চলতি অর্থবছরের শেষ সময়ে এসে দেখা যাচ্ছে আর্থিক খাত, সামাজিক খাত এবং উৎপাদনশীল খাত নানা ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। এসব চাপ নতুন কোনো ঘটনা নয়; বরং কয়েক বছর ধরেই তা দৃশ্যমান। মূল্যস্ফীতি, সরকারি অর্থায়ন ও ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সংকট ও চাপ বিদ্যমান, তা থেকে এখনো পুরোপুরি উত্তরণ সম্ভব হয়নি।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, রাজস্ব আহরণে সরকার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেকখানি পিছিয়ে আছে, তাই আগামীতে এই খাতে বিশেষ জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। দেশের মানুষকে প্রকৃত স্বস্তি দিতে হলে যেকোনো মূল্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
ব্যাংক খাতের চলমান সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফাহমিদা খাতুন আরো বলেন, দেশের ব্যাংক খাতে এখনো কাঙ্ক্ষিত শৃংখলা ফেরেনি। ফলে ব্যাংকগুলোর ওপর সাধারণ গ্রাহকের আস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। নতুন সরকারকে ব্যাংক খাতে দ্রুত শৃংখলা ও সুশাসন ফেরানোর বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যমান সংকটগুলো আরও ঘনীভূত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ বাস্তবায়নের অভাব এবং জবাবদিহিতার ঘাটতিও সংকটকে আরও গভীর করছে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, অর্থনীতির কিছু সূচকে বর্তমানে সাময়িক স্বস্তি দেখা গেলেও সেটিকে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রবণতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, এসব অর্জনকে টেকসই করতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার ও রূপান্তর এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অর্থনীতির কিছু ক্ষেত্রে যে আপাত স্বস্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে, তার আড়ালে বহু অমীমাংসিত দুর্বলতা রয়ে গেছে। এসব দুর্বলতা দূর করতে কার্যকর নীতি পদক্ষেপ ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সিপিডির এই ব্রিফিংয়ে সংস্থার অন্যান্য গবেষক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা মনে করেন, সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর সংস্কার ছাড়া এই সাময়িক স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব নয়।
সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিতে চায় বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হলেও সরকার এটি দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন।
মন্ত্রী জানান, সভায় তিস্তা অববাহিকার সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার দেওয়া হয়েছিল। সেই লক্ষ্য পূরণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ শুরু করেছে এবং আট সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, জনস্বার্থ এবং তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্পকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, পৃথিবীর অন্যতম নজিরবিহীন সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে একটি দেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অন্যতম নজিরবিহীন সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে একটি দেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান ও তার আদর্শের সৈনিকরা মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলোর সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে জাতির সংকটময় সময়ে তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং বিচার বিভাগের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে কাজ করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার ভূমিকা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের রূপরেখা প্রণয়নে জিয়াউর রহমানের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নের স্বার্থে জিয়ার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলতুতমিশ সওদাগর অ্যানির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী এবং ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানসহ ঢাকা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য