করোনায় মারা গেলেন জাবির সাবেক উপাচার্য মুস্তাহিদুর

করোনায় মারা গেলেন জাবির সাবেক উপাচার্য মুস্তাহিদুর

জাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

৪ আগস্ট করোনা শনাক্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৭৪ বছর বয়সী অধ্যাপক মুস্তাহিদুরকে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিউতে নেয়া হয়। সেখানে শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান মারা গেছেন।

রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিউজবাংলাকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক তাসমিনা রহমান।

তিনি জানান, ৪ আগস্ট করোনা শনাক্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৭৪ বছর বয়সী অধ্যাপক মুস্তাহিদুরকে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিউতে নেয়া হয়। সেখানে শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

অধ্যাপক তাসমিনা বলেন, ‘বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে মারা যান বাবা। পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।’

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মুস্তাহিদুর ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সাবেক উপাচার্যের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগরে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

শোকবার্তায় অধ্যাপক ফারজানা বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমানের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

আরও পড়ুন:
দৃষ্টি নেই, তবু ছড়াচ্ছেন জ্ঞানের আলো
৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: ভেরিফিকেশন তালিকা পায়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
স্থগিত শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা শুরু ২৪ আগস্ট
অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
‘কথার শব্দে ঘুমে ব্যাঘাত’, ১০ মাদ্রাসাছাত্রকে বেদম পিটুনি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সমন্বয় পরিষদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সমন্বয় পরিষদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্যাংকলরি, প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেসব সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধান করা যায়, সেগুলো সমাধানে ব্যবস্থা নিয়েছি। যেগুলোতে সময় লাগবে সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে আলোচনার পর পণ্য পরিবহনে কর্মবিরতির ঘোষণা প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্যাংকলরি, প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় শুক্রবার রাতে বৈঠক শেষে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন পরিষদের সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম। ১০ দফা দাবিতে সোম ও মঙ্গলবার এ কর্মবিরতি পালনের কথা ছিল।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেসব সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধান করা যায়, সেগুলো সমাধানে ব্যবস্থা নিয়েছি। যেগুলোতে সময় লাগবে সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।’

পরিষদের সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছি। শ্রমিকদের গাড়ি চালাতে নির্দেশ দিয়েছি।’

দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সার্ভিস চার্জ উনারাই নির্ধারণ করেছেন। যেটা নির্ধারিত জায়গায় আদায় করা হবে। জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ফাঁকা জায়গায় গাড়িগুলো রাখবে, যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়।’

সড়ক দুর্ঘটনায় চালক-সহকারীদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় মামলা বাতিলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কেউ ইচ্ছে কারও উপরে যদি গাড়ি চালিয়ে দেয়, তাহলে অবশ্যই ৩০২ ধারায় যাবে। তাদের দাবি ছিল, পুলিশ যেন সঠিকভাবে ইনকয়ারি করে কনভার্ট করে।’

এর আগে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ১৫ দফা দাবির পর বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ১০ দফা দাবি তুলে ধরে পণ্য পরিবহনে মালিক শ্রমিকদের সংগঠনটি। দাবি মানতে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দেয় তারা।

বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্যাংকলরি, প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের ১০ দফা দাবি হলো:

০১ (ক). ট্রাকচালক লিটন ও আবু তালেব প্রামাণিকসহ সকল সড়ক পরিবহন শ্রমিক হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

(খ). সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০২ ধারার মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তদন্ত না করে ৩০২ ধারায় মামলা করা যাবে না।

০২. ড্রাইভিং লাইসেন্সের জটিলতা নিরসন করে লাইসেন্স প্রদান করতে হবে।

০৩. পণ্য পরিবহনের সময় মালামাল চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে জরুরি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেই সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

০৪. বর্ধিত আয়কর প্রত্যাহার করে জরিমানা ছাড়া গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করার সুযোগ দিতে হবে।

০৫. সড়ক-মহসড়কে কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে পুলিশি হয়রানি, চাঁদাবাজি বা মাসিক মাসোহারা বন্ধ করতে হবে।

০৬. মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা ব্যয় বা সার্ভিস চার্জ আদায় করার সুযোগ দিতে হবে।

০৭. বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি করার উদ্যোগ বাতিল করতে হবে।

০৮ (ক). সড়ক-মহাসড়কের পাশে এবং প্রত্যেক জেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ট্রাক ও বাস টার্মিনাল নির্মাণ ত্বরান্বিত করতে হবে।

(খ). চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ট্রেইলর শ্রমিক ইউনিয়ন কর্তৃক গত ৩০ মে ও ২৭ জুন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং পণ্যবাহী গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশের সময় ড্রাইভারদের ডাটাবেজ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

০৯. স্থানীয় সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী টার্মিনাল ছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ চাঁদা ও টোল আদায় বন্ধ করতে হবে।

১০. দেশে সড়ক মহাসড়কগুলো শুধুমাত্র হাইওয়ে পুলিশের অধীনে তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে এবং নির্দিষ্ট স্থানে কাগজপত্র চেকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

ওসমান আলী বলেন, ‘তারা আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে আমাদের আগেই ধর্মঘট ডেকে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য পাতানো ধর্মঘট করেছে। এ ব্যাপারে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে সকল মালিক-শ্রমিকদের তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহবান জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক মো. রুস্তম আলী খান, সদস্যসচিব মো. তাজুল ইসলামসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
দৃষ্টি নেই, তবু ছড়াচ্ছেন জ্ঞানের আলো
৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: ভেরিফিকেশন তালিকা পায়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
স্থগিত শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা শুরু ২৪ আগস্ট
অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
‘কথার শব্দে ঘুমে ব্যাঘাত’, ১০ মাদ্রাসাছাত্রকে বেদম পিটুনি

শেয়ার করুন

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাবিনা হত্যাকাণ্ডে আটক আরও ১

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাবিনা হত্যাকাণ্ডে আটক আরও ১

পার্কটির পাশে প‍্যাগলার স্কোয়ারে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লন্ডনের কেডফোর্ডে রোশে গ্রিন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন সাবিনা নেসা। ১৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেলে এক ব্যক্তি পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় লতা-পাতা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় সাবিনার মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি স্কুল শিক্ষক সাবিনা নেসার হত্যার ঘটনায় রোববার আরও এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ।

৩৬ বছর বয়সী ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ইস্ট সাস্যাক্স থেকে বিকেল ৩টার দিকে আটক করে স্কর্টল্যান্ড ইয়ার্ড।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের এক পার্ক থেকে ২৮ বছর বয়সী সাবিনা নেসার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন, রয়টার্স, বিবিসিসহ বিভিন্ন ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেলে এক ব্যক্তি পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় লতা-পাতা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় সাবিনার মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

কে এই সাবিনা নেসা

দক্ষিণ লন্ডনের কেডফোর্ডে রোশে গ্রিন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন সাবিনা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাবিনাকে দেখা যায় কালো গ্রাজুয়েশন গাউন পরে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসি দিতে।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাবিনা হত্যাকাণ্ডে আটক আরও ১
রোশে গ্রিন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন সাবিনা নেসা। ছবি: সংগৃহীত

এই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণী পড়াশোনা করেছেন গ্রিনিচ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিসা উইলিয়ামস জানান সাবিনা ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক।

হত্যার বিষয়ে কী বলছে পুলিশ

লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত বলা হয়েছে, সাবিনা নেসাকে ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে হত্যা করা হয়েছিল। মৃতদেহটি ঝোপঝাড়-ঘাসের আড়ালে লুকিয়ে রাখে হত্যাকারী।

পরদিন বিকেলে পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তির নজরে আসার আগ পর্যন্ত সেটি সেখানেই পড়ে ছিল।

তদন্তে বলা হয়, সাবিনা শুক্রবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে পার্কের ভেতর দিয়ে পায়ে হেঁটে খুব কাছের একটি পাবে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। বাসা থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে সাবিনাকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ করে পুলিশ। এতে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের সময় সেই সন্ধ্যায় পার্কের পাশের ফুটপাত দিয়ে একজন ‘রহস্যময়’ ব্যক্তিকে হেঁটে যেতে। তার মাথায় চুল নেই। হাতে কিছু একটা নিয়ে দ্রুত পার্কের পাশের প্যাগলার স্কোয়ার দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাকে মাথায় হুড টেনে দিতে দেখা যায়।

এর আগে, সন্দেহভাজন আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়।

নিরাপত্তা শঙ্কায় নারীরা

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এই স্কুল শিক্ষকের হত্যাকাণ্ডের পর ফের যুক্তরাজ্যজুড়ে নারীর নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে।

চলতি বছর মার্চে লন্ডনে আরেকটি পার্ক থেকে একইরকমভাবে সারা এভারার্ড নামের এক শ্বেতাঙ্গ নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

কয়েক মাসের ব্যবধানে একই ধরনের দুটি হত্যাকাণ্ডে লন্ডনজুড়ে নারীদের মধ্যে নিরাপত্তাবিষয়ক উৎকণ্ঠা বেড়ে গেছে।

সাবিনা হত্যাকাণ্ড লন্ডনের মতো একটি শহরে নারীর নিরাপত্তার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

সাবিনার প্রতিবেশী ও কিডব্রুকের বাসিন্দা আলিয়া ইসায়েভা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এখানকার বাসিন্দারা ওই পাবে (দ্য ডিপট বার) নিয়মিত যান, কাছের এই পাবটিতে যেতে আমাদের সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে দশ মিনিট সময় লাগে। সাবিনা না হয়ে আমরা যে কেউ এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারতাম। এমন হত্যাকাণ্ড যে কোনো জায়গায়, যে কোন নারীর সঙ্গে ঘটতে পারে।’

আলিয়া আরও জানান, সপ্তাহে অন্তত একবার ওই পার্কটিতে তিনি নিজেও একা একা যান, যেখানে সেদিন সাবিনার মৃতদেহ পাওয়া গেছে।

স্মরণসভা

সাবিনা নেসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কিডব্রুকসহ আশপাশের বাসিন্দাদের শঙ্কিত ও স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে হত্যাকাণ্ডের স্থানটিতে ফুল দিয়ে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এই শিক্ষককে স্মরণ করেছেন হাজারো মানুষ।

পার্কটির পাশে প‍্যাগলার স্কোয়ারে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ।

মোমবাতি জ্বালিয়ে সাবিনার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের বিচার ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তারা।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাবিনা হত্যাকাণ্ডে আটক আরও ১

হত্যাকাণ্ডের স্থানটিতে ফুল দিয়ে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এই শিক্ষককে স্মরণ করেছেন হাজারো মানুষ।

এই সমাবেশে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাবিনার বোন জেবিনা ইয়াসমিন ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ড আমাদের গোটা পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে। কোন শব্দ আর ভাষায় আমরা আমাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারবো না। আর যেন কোনো পরিবারের সদস্যকে এরকম নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে না হয়।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন টেন ডাইনিং স্ট্রিটের বাইরে সাবিনা নেসার স্মরণে জ্বালানো হয় একটি মোমবাতি।

সাবিনার মৃতদেহের ময়নাতদন্তের বিষয়ে এখনও কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি পুলিশ।

১৯৯৩ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন সাবিনা নেসা। তারা তিন বোন যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা।

আরও পড়ুন:
দৃষ্টি নেই, তবু ছড়াচ্ছেন জ্ঞানের আলো
৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: ভেরিফিকেশন তালিকা পায়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
স্থগিত শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা শুরু ২৪ আগস্ট
অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
‘কথার শব্দে ঘুমে ব্যাঘাত’, ১০ মাদ্রাসাছাত্রকে বেদম পিটুনি

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

২০০২ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রিফাত রহমান শামীম জানান, রোববার বিকেলে মিরপুর এক শ ফিট এলাকা থেকে তারিকুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

প্রায় দুই দশক আগে সাতক্ষীরায় সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার বহরে হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ।

পলাতক আসামি তারিকুজ্জামান ওরফে কনককে রোববার বেলা ৩টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রিফাত রহমান শামীম।

তিনি জানান, বিকেলে মিরপুর এক শ ফিট এলাকা থেকে তারিকুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

২০০২ সালের ৩০ আগস্ট শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দেখতে যান।

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
শেখ হাসিনার বহরে হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারিকুজ্জামান ওরফে কনক। ছবি: নিউজবাংলা

সড়কপথে যশোরে ফেরার পথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

সে সময় হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে তিনটি মামলা করা হয়।

ঘটনার ১৯ বছর পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার একটি আদালত ৫০ জনকে নানা মেয়াদে সাজা দেয়।

সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনকে দেয়া হয় ১০ বছরের কারাদণ্ড। একই সাজা পাওয়া বাকি দুজন হলেন মো. আরিফুর রহমান ওরফে রঞ্জু ও রিপন। এরা দুই জনই পলাতক।

পলাতক আসামি যুবদল নেতা আব্দুল কাদের বাচ্চুকে দেয়া হয়েছে ৯ বছরের কারাদণ্ড। বাকি ৪৬ জন আসামিকে চার বছরের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত বিএনপির সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব

সেদিন ৩৪ আসামির উপস্থিতিতে রায় দেয়া হয়। তাদেরকে সেদিনই কারাগারে পাঠানো হয়।

বাকি ১৬ জনের মধ্যে আছেন আব্দুল কাদের বাচ্চু, মফিজুল ইসলাম, মো. আলাউদ্দিন, খালেদ মঞ্জুর রোমেল, ইয়াছিন আলী, রবিউল ইসলাম, মাজাহারুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, আব্দুর রব, সঞ্জু মিয়া, নাজমুল হোসেন, জাবিদ রায়হান লাকী, কনক, মাহাফুজুর রহমান।

মামলার বিচারে চক্কর

হামলার পর এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দীন বাদী হয়ে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আশরাফ হোসেনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৭৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করতে যান। তবে তাতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালতে মামলা করেন তিনি।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর তাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে আওয়ামী লীগ জানিয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মামলাটি আটকে থাকে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর কলারোয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১৫ সালে বিএনপির তৎকালীন সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে তিনটি মামলা হয়। ওই মামলায় তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন হয়।

২০১৫ সালের ১৭ মে হাবিবসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০ জনকে সাক্ষী করে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ সফিকুর ইসলাম।

এই মামলাটির শুনানি থামাতে হাইকোর্টে একের পর এক আবেদন করেছেন আসামিরা।

একটি আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সেই রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়। এরপর গত ৬ অক্টোবর সে রুলের শুনানি শেষে রুলটি খারিজ করে হাইকোর্ট।

গত ৮ অক্টোবর মামলাটি তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

সবশেষ আবেদন হয় আসামি রাকিবুর রহমানের পক্ষ থেকে। ঘটনার সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন দাবি করে এই মামলায় বিচার ঠেকানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে গত ২৪ নভেম্বর তার আবেদন খারিজ হলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকেনি।

আরও পড়ুন:
দৃষ্টি নেই, তবু ছড়াচ্ছেন জ্ঞানের আলো
৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: ভেরিফিকেশন তালিকা পায়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
স্থগিত শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা শুরু ২৪ আগস্ট
অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
‘কথার শব্দে ঘুমে ব্যাঘাত’, ১০ মাদ্রাসাছাত্রকে বেদম পিটুনি

শেয়ার করুন

পিবিআই সফল হলো, পুলিশের অন্যরা কেন ব্যর্থ?

পিবিআই সফল হলো, পুলিশের অন্যরা কেন ব্যর্থ?

ঈগল পরিবহনে টিকেট কেটে শম্পা বেগমের মৃতদেহভর্তি ট্রাঙ্কটি তারই কথিত স্বামী রেজাউল করিম স্বপন তুলে দেন বাসের লকারে। ছবি: নিউজবাংলা

এক অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহের পরিচয় উদঘাটনে নেমে পিবিআই যেখানে সফল হয়েছে, থানা পুলিশ ও সিআইডি ব্যর্থ হলো কেন? পুলিশের তদন্তের পদ্ধতি কি তারা সঠিকভাবে প্রয়োগ করেনি? তাদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ছিল?

গাবতলীতে বাসে এক পরিত্যক্ত ট্রাংকে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ। তার পরিচয় বের করাই তদন্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। চার বছর ধরে তদন্ত চালিয়েও থানা পুলিশ ও সিআইডি বের করতে পারেনি তরুণীর পরিচয়।

পুলিশের আরেকটি বিভাগ পিবিআই দায়িত্ব পেয়ে অল্প কিছু দিনের মধ্যে শুধু তরুণীর পরিচয়ই উদঘাটন করেনি, হত্যাকারীকেও গ্রেপ্তার করেছে।

প্রশ্ন হলো, এটি কি পুলিশের সাফল্যের নাকি ব্যর্থতার কাহিনি? পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন) যেখানে সফল হলো, থানা পুলিশ ও সিআইডি ব্যর্থ হলো কেন? পুলিশের তদন্তের পদ্ধতি কি তারা সঠিকভাবে প্রয়োগ করেনি? তাদের দায়িত্ব পালনে কি গাফিলতি ছিল?

সিআইডি বলছে, অজ্ঞাত তরুণীর ট্রাঙ্কবন্দি মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের পরিচয় উদঘাটনে যে যে স্ট্যান্ডার্ড প্রক্রিয়া অনুসরণীয়, তার সবকটি ধাপই তারা অনুসরণ করেছে। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। একই পদ্ধতি অনুসরণ করে সফল হয়েছে পিবিআই।

থানা পুলিশ বলছে, তারাও চেষ্টা করেছে। কিন্তু সময়ের স্বল্পতা ও অন্যান্য কিছু কারণে তারা তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি। পরিচয় না পাওয়ায় আসামিকেও বের করা সম্ভব হয়নি।

ছয় বছর আগে যা ঘটেছিল

২০১৫ সালের ৩ মে বিকেলে ঈগল পরিবহনের গাবতলী কাউন্টারে একটি ট্রাংক থেকে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে দারুসসালাম থানা পুলিশ। বাসটি এসেছে চট্টগ্রাম থেকে। ট্রাংকটিও সেখান থেকে আসা।

ট্রাংকটি ওইদিন সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের এ কে খান মোড়ে এক ব্যক্তি তুলে দিয়েছিলেন ওই বাসে। ওই ব্যক্তি একটি টিকিট কেটে বলেছিলেন, পরবর্তী স্টপজে এক নারী যাত্রী উঠবেন। ওই নারী যাত্রী এই ট্রাংকসহ ঢাকা যাবেন। কিন্তু পরের স্টপেজে কোনো যাত্রী ওঠেনি। মালিকবিহীন অবস্থায় ট্রাংকটি এসে পৌঁছায় গাবতলীতে।

ট্রাংকটি অনেক ভারি হওয়ায় সন্দেহ হয় হেলপার ও অন্যদের। তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ট্রাংকের তালা ভেঙ্গে তরুণীর মরদেহ পায়। তাৎক্ষণিক ওই মরদেহের কোনো পরিচয় না পাওয়ায় অজ্ঞাত লাশ হিসেবে তা সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে সেচ্চাসেবী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করে।

দারুসসালাম থানার এসআই জাহানুর আলী বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা করেন। প্রথমে এই মামলা থানা পুলিশই তদন্ত করে। তদন্তে করতে গিয়ে তারা কী কী করেছিল, কোন কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল, তা এখনকার দারুস সালাম থানা জানাতে পারেনি।

তারা বলছে, অনেক আগের ঘটনা। তখনকার দায়িত্বশীলরা এখন অন্যত্র বদলি হয়েছেন। এ কারণে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারছেন না।

এ মামলার তিন মাস পর তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি ঢাকা মেট্রোর পশ্চিম বিভাগ। তারা চার বছর ধরে তদন্ত করে।

সিআইডি অপরাধ তদন্তে পুলিশ বাহিনীর সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও সরঞ্জাম সমৃদ্ধ বিভাগ। তারা অজ্ঞাত তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে ফরেনসিক টিমের সহায়তায় ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করেছে। সে ফিঙ্গারপ্রিন্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছে। সেখান থেকে কিছু পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে চট্টগ্রামের যে এলাকা থেকে ট্রাংকটি বাসে উঠিয়ে দেয়া হয়, সেই এলাকার বিভিন্ন থানায় ওই সময়ে দায়ের হওয়া নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরিগুলোর খোঁজ করেছে সিআইডি। সেখানেও কিছু পাওয়া যায়নি। নিহত তরুণীর ছবি ওই এলাকার বাসিন্দাদের দেখানো হয়। কেউ ছবি দেখে তরুণীকে চিনতে পারেনি।

তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে সিআইডির নিজস্ব সাময়িকীতে ছবিসহ পোস্টার প্রকাশ করা হয়। ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল পদ্ধতি দুটোই প্রয়োগ করে তরুণীর পরিচয় এবং তার হত্যাকারীকে বের করার চেষ্টা করা হয় বলে সিআইডির পক্ষ থেকে নিউজবাংলাকে জানানো হয়। দীর্ঘ সময়েও কোনো অগ্রগতি করতে না পারায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় তারা।

সিআইডি পারেনি, পিবিআই পেরেছে – এমনটা মানতে নারাজ সিআইডি ঢাকা মেট্রো উত্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন অনেক উদাহরণ আছে, যেটা অন্য সংস্থা পারেনি, কিন্তু সিআইডি উদঘাটন করেছে। পরিচয় শনাক্তে আমরা ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল দুই পদ্ধতিতেই চেষ্টা করেছি, সিআইডি সেটা করে থাকে।’

যেভাবে সফল হলো পিবিআই

আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলাটি তদন্তভার পায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। এটির শীর্ষ কর্মকর্তা ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের নির্দেশনায় মামলাটি তদারকি করেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম। আর মামলাটি তদন্ত করেন পরিদর্শক আশরাফুজ্জামান।

চার বছরের বেশি সময় আগের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তিনি কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন, তা নিয়ে রোববার কথা হয় বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ও আশরাফুজ্জামানের সঙ্গে। তারা তরুণীর পরিচয় শনাক্ত এবং জড়িত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারে তাদের নানা কৌশল অবলম্বনের কথা জানিয়েছেন।

সিআইডি যে পথে হেঁটে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে, সেই একই পথে পিবিআইও হেঁটেছে। তবে ‘সময় ও ধৈর্য্য’ নিয়ে বিস্তৃত পরিসরে অনুসন্ধান চালানোয় সফলতা এসেছে বলে মনে করেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

নিখোঁজ জিডিতেই আটকে ছিল জট

ঢাকায় অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহ উদ্ধার হয় ২০১৫ সালের ৩ মে। সাধারণত কাউকে খুঁজে পাওয়া না গেলে যে এলাকা থেকে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন, সেই এলাকার থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়। আর এই নিখোঁজ ডায়েরিটা নিখোঁজ হওয়ার পর কাছাকাছি সময়েই হয়ে থাকে। কিন্তু এই তরুণী নিখোঁজ হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে ১০ জুলাই পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়।

এই দীর্ঘসূত্রতার কারণেই বাধে বিপত্তি। থানা পুলিশ ও সিআইডি নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি খুঁজেছে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার পরবর্তী এক মাসের বেশি সময়ের ব্যাপ্তিতে। তাতে কিছু পাওয়া যায়নি।

কিন্তু পিবিআই এক মাসের ব্যাপ্তিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তারা আরও বড় সময়ের ব্যাপ্তির সব নিখোঁজ জিডি সংগ্রহ করেছে। বিচক্ষণতার সঙ্গে সময় নিয়ে জিডিগুলো সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে জানান মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আমি চট্টগ্রামে গিয়ে ৭ দিন সেখানে অবস্থান করে আশপাশের ১৪টি থানার জিডি সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ শুরু করি। বাকি থানাগুলো জিডি পরবর্তী সময়ে সংগ্রহের টার্গেট ছিল। ১৪ থানার জিডিগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিখোঁজের ডায়েরি পাওয়া যায়।’

আশরাফুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ওই সময়ে যেগুলো মিসিং ডায়েরি পেয়েছিলাম, সেখান থেকে প্রথম দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি, যাদের নিখোঁজের বিষয়ে ডায়েরি হয়েছিল, তাদের পাওয়া গেছে। তৃতীয় জিডিটির বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারি, তরুণীটি এখনও নিখোঁজই রয়েছে। গাবতলীতে ‍উদ্ধার হওয়া তরুণীর সঙ্গে নিখোঁজ তরুণীর বর্ণনা মিলে যায়।

‘তখনই আমরা জানতে পারি, উদ্ধার হওয়ার তরুণীর নাম শম্পা বেগম। এবং পরবর্তীতে তাকে হত্যায় জড়িত কে বা কারা তা তদন্ত করে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করি।’

মামলাটির তদারকি কর্মকর্তা বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শম্পা নিখোঁজের বিষয়টি তার পরিবার জানতে পারে হত্যাকাণ্ডের একদিন পর। শম্পার পরিবারকে আসামী স্বপন জানান যে, শম্পা খুলনা যাওয়ার জন্য বাসে রওনা হয়েছে। কিন্তু রাত হয়ে গেলেও শম্পা আর পৌঁছায়নি। খুলনায় না যাওয়ায় খোঁজাখুজি শুরু হয়। আত্মীয়-স্বজন ও নানান জায়গায় খোঁজার পর শম্পার ভগ্নিপতি চট্টগ্রামে এসে পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।’

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সাধারণত অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের কয়েক দিনের মধ্যে হওয়া জিডিগুলো খুঁজে দেখা হয়। আমরা কাছাকাছি সময়ের জিডিগুলো বের করার পাশাপাশি এক মাসের বেশি সময় পর কোনো মিসিং জিডি হয়েছে কিনা তাও খুঁজে দেখেছি। আমরা বিস্তৃত সময় ধরে হওয়া জিডিগুলো অনুসন্ধান করতে গিয়ে সফল হয়েছি।’

শম্পার পরিচয় শনাক্তের পর আসামি গ্রেপ্তারেও যথেষ্ঠ বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান পিবিআই-এর এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আসামি স্বপনকে শম্পার পরিবার মেয়ের স্বামী হিসেবে জানত। শম্পা তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন, স্বপনকে তিনি বিয়ে করেছেন। কিন্তু মূলত তারা বিয়ে করেননি। আমরা তদন্ত করতে গিয়ে স্বপনের ঠিকানা চাইলে শম্পার পরিবার তা যথাযথভাবে দিতে পারেনি। কারণ তাদের কাছে তা ছিল না। আমরা বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে আসামির স্থায়ী ঠিকানা পাই। কিন্তু ওই ঠিকানায় আসামি স্বপন থাকতেন না। থাকতেন কুমিল্লা ইপিজেড এলাকায়। সেখান থেকে তাকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই আমরা। স্বপন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।’

কেন শম্পাকে হত্যা

স্বপনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, শম্পাকে চট্টগ্রাম পাহাড়তলীর গ্রিনভিউ এলাকার একটি বাসায় ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ২ মে গভীর রাতে তাকে হত্যা করেন স্বপন।

২০১৩ সালে খুলনা নৌঘাঁটিতে ল্যান্স করপোরাল (মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট) হিসেবে কর্মরত ছিলেন স্বপন। শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখ অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। শম্পার মা চিকিৎসা করাতে গেলে স্বপনের সঙ্গে শম্পার পরিচয় হয়।

পিবিআই জানায়, এই পরিচয়ের সূত্রে দুজনের প্রেমের সম্পর্ক হয়। এক সময় স্বপনে বিয়ের জন্য চাপ দেন শম্পা। স্বপন আগে থেকে বিবাহিত ছিলেন এবং তার সংসারে এক সন্তান ছিল, যা তিনি শম্পার কাছে গোপন করেন। বিয়ের চাপ দেয়ায় স্বপন খুলনা থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রামে চলে আসেন।

এরপর শম্পাও চট্টগ্রামে আসেন। চট্টগ্রামে এক ফুফুর বাসায় কিছু দিন থাকেন শম্পা। এরপর ফয়েজ লেক এলাকায় একটি হোটেলে কিছুদিন অবস্থান করেন তিনি। পরবর্তীতে পাহাড়তলীর উত্তর গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকায় একটি বাসায় সাবলেট নিয়ে এক সঙ্গে থাকা শুরু করেন দুজন। তখন শম্পা তার পরিবারকে জানান স্বপনকে তিনি বিয়ে করেছেন, যদিও তারা বিয়ে করেননি।

এভাবে তারা ২০১৪ সাল থেকে ২০১৫ সালের ২ মে পর্যন্ত একত্রে বসবাস করছিলেন। এক সময় শম্পা বিয়ের জন্য রেজাউল করিম স্বপনকে চাপ দেন। এ নিয়ে দুজনের ঝগড়া হয়।

এরই এক পর্যায়ে ২০১৫ সালের ২ মে গভীর রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শম্পাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন স্বপন। মরদেহ গোপন করার জন্য শম্পার মরদেহ একটি ট্রাংকে ঢুকিয়ে ঈগল পরিবহনের একটি বাসে তুলে দেন তিনি এবং কৌশলে শম্পার বাবাকে জানান, শম্পাকে খুলনার বাসে তুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে শম্পা তার বাবার বাড়িতে না পৌঁছলে বাড়ির লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ১০ জুন পাহাড়তলী থানায় জিডি করা করেন।

এদিকে জিডি করার পাশাপাশি নিখোঁজ মেয়ের সন্ধান চেয়ে স্বপনের কর্মস্থল চট্টগ্রাম নৌ বাহিনীর অফিস এবং সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় অভিযোগ করেন শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই দফা অভিযোগ করেও মেয়ের সন্ধান পাইনি। তবে দ্বিতীয়বার অভিযোগের পর স্বপনের পদের অবনতি করা হয়। কিন্তু আমার মেয়েকে আর পাইনি। ২০১৯ সালে স্বপনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তবে আমার মেয়ের সন্ধান দিতে পারেনি কেউ। পিবিআই ২২ সেপ্টেম্বর আমার বাড়িতে গেলে আমার মেয়ের বিষয়ে প্রথম কোনো খবর পাই।’

আরও পড়ুন:
দৃষ্টি নেই, তবু ছড়াচ্ছেন জ্ঞানের আলো
৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: ভেরিফিকেশন তালিকা পায়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
স্থগিত শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা শুরু ২৪ আগস্ট
অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
‘কথার শব্দে ঘুমে ব্যাঘাত’, ১০ মাদ্রাসাছাত্রকে বেদম পিটুনি

শেয়ার করুন

বাড়ি ভারতে, চাকরি সিলেটে

বাড়ি ভারতে, চাকরি সিলেটে

অভিযুক্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা

পরিচয় গোপন করা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা সিলেটে থাকলেও প্রায়ই অবৈধভাবে ভারতে যাওয়া-আসা করেন। তার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগও আছে।

পরিচয় গোপন রেখে বাংলাদেশে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার উচ্চ পদে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে বিদেশি এক নাগরিকের বিরুদ্ধে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহার বিরুদ্ধেই এই অভিযোগ।

অন্য একটি দেশের নাগরিক হয়েও বাংলাদেশ সরকারের একটি দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয়ের অধীনে কীভাবে তিনি কাজ করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংসদীয় কমিটি।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, পরিচয় গোপন করা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা সিলেটে থাকলেও প্রায়ই অবৈধভাবে ভারতে যাওয়া-আসা করেন। তার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগও আছে।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিল সংসদীয় কমিটি। সচিব আরেকজন যুগ্ম সচিবকে দিয়ে তদন্ত করেছেন। সেই তদন্তে তুষার কান্তি সাহাকে দোষীও করা হয়নি, আবার ছাড়ও দেয়া হয়নি।

দায়সারাভাবে তদন্ত হওয়ায় প্রতিবেদনটি আমলে নেয়নি সংসদীয় কমিটি। এ জন্য সচিবকে দিয়ে নতুন করে তদন্ত করাতে বলা হয়েছে। সচিব না পারলে অন্তত অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার কাউকে দিয়ে তদন্ত করার কথা বলা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে বলা যাবে। আমরা সঠিক তথ্য জানতেই আবারও তদন্তের কথা বলেছি।’

সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ এনামুল হক, মো. আবু জাহির, রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক, মো. ছলিম উদ্দীন তরফদার, শেখ সালাহ উদ্দিন, সৈয়দ আবু হোসেন ও রাবেয়া আলীম অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে ইতোপূর্বে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক রিপোর্ট প্রদানের জন্য কমিটিতে প্রেরিত ‘মহাসড়ক বিল, ২০২১’ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রয়োজনীয় সংযোজন, সংশোধন ও পরিমার্জনের পর বিলটি জাতীয় সংসদে পাসের জন্য সংশোধিত আকারে সংসদে রিপোর্ট প্রদানের জন্য সুপারিশ করে কমিটি।

এদিকে ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কমিটির পক্ষ থেকে তাকে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানানো হয়।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবদ্বয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, বিআরটিএ ও বিআরটিসির চেয়ারম্যানদ্বয়, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
দৃষ্টি নেই, তবু ছড়াচ্ছেন জ্ঞানের আলো
৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: ভেরিফিকেশন তালিকা পায়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
স্থগিত শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা শুরু ২৪ আগস্ট
অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
‘কথার শব্দে ঘুমে ব্যাঘাত’, ১০ মাদ্রাসাছাত্রকে বেদম পিটুনি

শেয়ার করুন

বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল

বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল

সংবাদ সম্মেলনে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও অন্যান্য দেশের সঙ্গে দিবসটি পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন’।

করোনায় দেশের পর্যটনশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য এবার নতুন কৌশল অবলম্বণের কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে বিদেশি পর্যটক টানতে দেশে অন-অ্যারাইলভাল ভিসা চালুসহ ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২১’ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে রোববার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘করোনার পর পর্যটন আকর্ষণে দেশে অন-অ্যারাইলভাল ভিসা চালুসহ ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছা, পর্যটনকে নিয়ে একটা প্ল্যানড ওয়েতে অগ্রসর হওয়া।

‘করোনা শুরুর আগে আমরা পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কার্যাদেশ দিয়েছি। কিন্তু করোনার কারণে তা বন্ধ ছিল। বর্তমানে আবার শুরু হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মাস্টার প্ল্যানের কাজ শেষ হবে। মাস্টার প্ল্যান শেষ হওয়ার পরই আমরা কাজে হাত দেব।’

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও অন্যান্য দেশের সঙ্গে দিবসটি পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন’।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, পর্যটন দিবসে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ট্যুরিজম বোর্ড ও পর্যটন কর্পোরেশন বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে আলোচনা ও পর্যটন কর্পোরেশনের আয়োজনে কুকিং শো অনুষ্ঠিত হবে। একটি ঘোড়ার গাড়ির শোভাযাত্রা পর্যটন ভবনের সামনে থেকে যাত্রা শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন স্পট পরিভ্রমণ করে পর্যটন বিষয়ক প্রচারণা চালাবে। ২০টি সুসজ্জিত রিকশার একটি শোভাযাত্রা হবে রাজধানীর গুলশান-বারিধারার কূটনৈতিক এলাকায়। প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে।

এ ছাড়া ২ অক্টোবর নড়াইল জেলায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোর একটি পর্যটন। বর্তমানে দেশে করোনার সংক্রমণ কমার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন স্পট গুলো খুলে দেয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ পর্যটকেরা বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভ্রমণ কারণে পর্যটন সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এ শিল্পেও গতি ফিরছে।’

প্রস্তুতি সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আ. হান্নান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মোশাররফ হোসেন, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আ. কাইয়ুম ও হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. আমিনুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

করোনায় পর্যটন খাতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঋণের জটিলতার বিষয়ে এক প্রশ্নের পর্যটন সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পর্যটন শিল্পের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। সেই অনুযায়ী আমরা বিভিন্ন খাত, উপখাতে ভাগ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচকভাবে এটা দ্রুত দেয়ার জন্য চেষ্টা করছে। আশা করছি খুব সহসাই এটা প্রদান করা হবে।’

আরও পড়ুন:
দৃষ্টি নেই, তবু ছড়াচ্ছেন জ্ঞানের আলো
৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: ভেরিফিকেশন তালিকা পায়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
স্থগিত শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা শুরু ২৪ আগস্ট
অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
‘কথার শব্দে ঘুমে ব্যাঘাত’, ১০ মাদ্রাসাছাত্রকে বেদম পিটুনি

শেয়ার করুন

ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এ সতর্কতা উপকূলে

ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এ সতর্কতা উপকূলে

স্যাটেলাইট চিত্রে ঘূর্ণিঝড় ‘গোলাব’

অধিকাংশ ইলিশ ধরা ট্রলার এখনও তীরে ফিরতে পারেনি বলে জানিয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। মহিপুরের মৎস্য আড়ত কক্সবাজার ফিসের স্বত্বাধিকারী মনির হাওলাদার জানান, গদির বেশির ভাগ ট্রলার এখনও সাগরে রয়েছে।

উপকূলের দিকে এগিয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এর প্রভাবে উত্তাল বঙ্গোপসাগর। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় ওডিশার গোপালপুর ও অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের মাঝে কলিঙ্গপত্তনমের কাছে আঘাত আনতে পারে এ ঘূর্ণিঝড়।

ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এর প্রভাবে বরিশাল বিভাগের কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। এ ছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

জেলেরা জানিয়েছেন, গুলাবের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল। তবে উপকূলের স্থলভাগে এখনও কোনো প্রভাব পড়েনি। রোববার সকাল থেকে বরগুনাসহ উপকূলীয় এলাকায় মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরি চলছে।

কলাপাড়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বশির আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ পায়রা বন্দর থেকে রোববার সকাল ৬টায় ৫৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। পায়রা বন্দরে দূরবর্তী দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া মাছধরা সব নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধুরি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া সব ট্রলারকে তীরে ফিরতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রে কোনো ট্রলারকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।’

তবে অধিকাংশ ইলিশ ধরা ট্রলার এখনও তীরে ফিরতে পারেনি বলে জানিয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। মহিপুরের মৎস্য আড়ত কক্সবাজার ফিসের স্বত্বাধিকারী মনির হাওলাদার জানান, গদির বেশির ভাগ ট্রলার এখনও সাগরে রয়েছে।
বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, ‘গুলাব’-এর প্রভাব মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। যদিও আমাদের এদিকে এখনও তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তবুও জেলেদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আগাম সতর্ক করে সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে।’

এদিকে, বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এ পরিণত হয়েছে। এটি ক্রমেই শক্তি অর্জন করছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দৃষ্টি নেই, তবু ছড়াচ্ছেন জ্ঞানের আলো
৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: ভেরিফিকেশন তালিকা পায়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
স্থগিত শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা শুরু ২৪ আগস্ট
অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
‘কথার শব্দে ঘুমে ব্যাঘাত’, ১০ মাদ্রাসাছাত্রকে বেদম পিটুনি

শেয়ার করুন