২১ আগস্টের আগে নেত্রীকে সাবধান করেছিলাম: খোকন

২১ আগস্টের আগে নেত্রীকে সাবধান করেছিলাম: খোকন

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে জনসভায় গ্রেনেড হামলা করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

‘বাবা আমাকে সুধা সদনে পাঠিয়েছিলেন। নেত্রীকে হামলার পূর্বাভাস দিতে। আমি সুধা সদনে গিয়ে বলি যে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করব। নেত্রী তখন সাংগঠনিক সফর শেষে বিশ্রামে ছিলেন। নেত্রী আমাকে ডেকে নেন দোতলায়। তখন আমি বলি, বাবা আমাকে বলেছে আপনাকে জানাতে। সুধা সদনসহ আপনার কাল সভায় যাওয়ার রাস্তা ও সভাস্থলে হামলা হতে পারে। হামলাকারীরা নিরাপদে ঢাকায় চলে এসেছে। আপনি আমার সঙ্গে আমাদের বাসায় চলেন। এখানে নিরাপদ নন আপনি। বাবা আপনাকে যেতে বলেছেন।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলার আগের রাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে একটি হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করার দাবি করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন।

‘২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা, স্মৃতির পাতা থেকে জানা অজানা দুটি কথা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে শুক্রবার তিনি এ কথা বলেন।

১৭ বছর আগের নারকীয় এই ঘটনাটি আবার স্মৃতিতে তাজা হয়ে উঠেছে হামলার বার্ষিকী সামনে রেখে। শনিবার নানা আয়োজনে নিহতদের স্মরণ করবে আওয়ামী লীগ।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা হয়। মানববর্ম বানিয়ে নেতা-কর্মীরা শেখ হাসিনার প্রাণ রক্ষা করতে পারলেও বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারান। শত শত মানুষ এখনও স্প্লিন্টারের আঘাতে জর্জরিত।

হামলার আগের রাতের স্মৃতিচারণা করে সাঈদ খোকন বলেন, ‘বাবা (অবিভক্ত ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ।

শেখ হাসিনাকে ঘিরে ধরে স্প্লিন্টারে বিদ্ধ হয়ে পরে মারা যান তিনি) আমাকে সুধা সদনে (শেখ হাসিনার প্রয়াত স্বামী ওয়াজেদ মিয়ার ধানমন্ডির বাসভবন) পাঠিয়েছিলেন। নেত্রীকে হামলার পূর্বাভাস দিতে। আমি সুধা সদনে গিয়ে বলি যে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করব। নেত্রী তখন সাংগঠনিক সফর শেষে বিশ্রামে ছিলেন।

‘নেত্রী আমাকে ডেকে নেন দোতলায়। তখন আমি বলি, বাবা আমাকে বলেছে আপনাকে জানাতে। সুধা সদনসহ আপনার কাল সভায় যাওয়ার রাস্তা ও সভাস্থলে হামলা হতে পারে। হামলাকারীরা নিরাপদে ঢাকায় চলে এসেছে। আপনি আমার সঙ্গে আমাদের বাসায় চলেন। এখানে নিরাপদ নন আপনি। বাবা আপনাকে যেতে বলেছেন।’

সাঈদ খোকন জানান, এ কথা শোনার পর কিছু মুহূর্ত চুপ ছিলেন শেখ হাসিনা। পরে বলেন, ‘এরপর নেত্রী আমার দিকে তাকিয়ে হেসে জানালেন যে, রাজনীতি করতে গেলে তো ভয় পাওয়া যাবে না।’

খোকন বলেন, “আমি নেত্রীকে বলেছিলাম যে, আপনার যেসব লিংক আছে, তাদের থেকেও তথ্য নিয়ে নিতে পারেন। তবে নেত্রী তাতে বিচলিত হননি। বরং আমাকে বলেছেন যে, ‘তুমি বাসায় যাও। কাল অনেক কাজ আছে। বাসায় গিয়ে খাওয়াদাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ো’।”

‘আমি এ কথা শুনে নিচে নেমে আসি। আমার মন চাইছিল না যেতে। মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করি। এর মধ্যে নেত্রী আবার আমাকে নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে বাসায় যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে আমি যাইনি। ভোরে বাসায় আসি’- সুধা সদন থেকে বের হওয়ার পর নিজের অনুভূতির কথা জানান তিনি।

২১ আগস্টের দিনের কথা স্মরণ করে খোকন বলেন, ‘ওই দিন আমি সভাস্থলে আসি। এরপর আবার পুরান ঢাকায় গিয়ে একটা বিশাল মিছিল নিয়ে ফিরে আসি। নেত্রী আসার পর বক্তৃতা শুরু করেন। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। প্রায় শেষের দিকে। নেত্রীর শেষ কথাগুলো যেন আবার বলা হয় সেই অনুরোধ করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। নেত্রী বলতে যাবেন, ঠিক সেই সময়ে একটা গ্রেনেড বিস্ফোরণ হয়।’

সাঈদ খোকন জানান, হামলায় তিনি সভাস্থল থেকে ছিটকে পড়েন। তার দুই পায়ের শক্তি হারিয়ে ফেলেন।

২১ আগস্টের আগে নেত্রীকে সাবধান করেছিলাম: খোকন
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা নিয়ে আলোচনা সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। ছবি: নিউজবাংলা

বলেন, ‘আমি সাথে সাথে নিজেকে ঠিক করে ফেলি। আস্তে আস্তে পায়ে হাত দিয়ে দেখি। এর মধ্যে আরও গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ হয়। সাথে গুলিও চলে।

‘কোনোমতে উঠে দাঁড়িয়ে দেখি বাবার সারা শরীর রক্তে ভিজে আছে। আশপাশের অনেকের একই অবস্থা। আমি বাবাকে জড়িয়ে ধরি। এরপর আমাকে ও বাবাকে বারডেম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বাবাকে বাঁচাতে পারিনি।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান এই হামলার ‘মাস্টার মাইন্ড’ বলে দাবি করেন সাঈদ খোকন।

২০১৮ সালের রায়ে তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। তবে খোকন তার মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। বলেন, ‘আমি নিজে আক্রান্ত, আমি আক্রান্তের পরিবারের। আমার বাবা এই হামলায় মারা গেছেন। এমন আরও ২৪ জন মারা গিয়েছেন। আর এই হামলার পরিকল্পনাকারী লন্ডনে বসে আছেন। তাকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

স্মরণসভায় মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ওমর আলীসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব বিশ্বে রোল মডেল: নৌ প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব বিশ্বে রোল মডেল: নৌ প্রতিমন্ত্রী

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক গভীর এবং কালের বিবর্তনে উত্তীর্ণ। ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যেকোনো প্রতিবেশী দেশের জন্য রোল মডেল।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্বের যেকোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের জন্য অনুকরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার দুপুরে বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দরের দ্বিতীয় কার্গো গেটের নির্মাণ কাজ এবং প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন-১-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রী নিত্যানন্দ রাই এ প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ও দ্বিতীয় কার্গো গেট উদ্বোধন করেন। এ দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে দুই দেশে যাতায়াতকারী এবং আমদানি-রপ্তানিতে যুক্ত ব্যবসায়ীরা সুবিধা পাবেন।

অনুষ্ঠানে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক গভীর এবং কালের বিবর্তনে উত্তীর্ণ। ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যেকোনো প্রতিবেশী দেশের জন্য রোল মডেল।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে ২৫ বছর মেয়াদী মৈত্রী চুক্তির মাধ্যমে দুদেশের সম্পর্কের যে গোড়াপত্তন করে গেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর তা আরও সুসংহত ও বহুমুখী করেছেন।

‘তারই হাত ধরে গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি, ছিটমহল বিনিময়, ট্রানজিট সুবিধা ও সমুদ্র সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভ্রমণ, ব্যবসা ও চিকিৎসার জন্য ভারতে যায় জানিয়ে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভারতে যাওয়ার প্রধানতম প্রবেশদ্বার হচ্ছে বেনাপোল আর ওপারে পেট্রাপোল। ভারতের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের উন্নত সেবা দেয়ার জন্য পেট্রাপোলে আরেকটি প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করায় তাদেরকে ধন্যবাদ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই, কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী, ভারতীয় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আদিত্য মিশ্র, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন।

উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার আজিজুর রহমান, শার্শা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা, নাভারণ সার্কেলের এএসপি জুয়েল ইমরান।

শেয়ার করুন

বলার সময় হলে বলবো: ফখরুল

বলার সময় হলে বলবো: ফখরুল

বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি মহাসচিব জানান, শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক আছে। এর আগে তিন দিনব্যাপী বৈঠক হলেও দলের কার্যনিবাহী অনেক সদস্যের বক্তব্য শোনা বাকি আছে। এছাড়া জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরাও আছেন। শনিবারের বৈঠকে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরদেহ নিয়ে সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের জবাবে তাৎক্ষণিক কিছু বলতে রাজি নন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিন দিনব্যাপী বৈঠকশেষে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে নয়টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফখরুল।

গণমাধ্যমকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উল্লেখ করে প্রশ্ন করলে তা এড়িয়ে যান ফখরুল। এরপর বলেন, ‘বলুক, বলার সময় হলে বলবো।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিএনপি এখন নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোনও চিন্তা করছে না। সাংগঠনিক বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

টানা তিনদিনের সাংগঠনিক বৈঠক প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক অবস্থা ও করণীয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করেছেন। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। আজকের (বৃহস্পতিবার) বৈঠকে অন্তত ২৬ জন বক্তব্য দিয়েছেন। উপস্থিত ছিলেন ৯২ জন নেতা।’

তিনি বলেন, ‘ধারাবাহিক বৈঠকের আজ শেষ দিন ছিল। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। আজকের বৈঠকে তিনি কথা বলেছেন, স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও বক্তব্য রেখেছেন।’

বিএনপি মহাসচিব জানান, শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক আছে। এর আগে তিন দিনব্যাপী বৈঠক হলেও দলের কার্যনির্বাহী অনেক সদস্যের বক্তব্য শোনা বাকি আছে। এছাড়া জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরাও আছেন।
শনিবারের বৈঠকে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া দেশের সার্বিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গেও আলোচনার সম্ভাবনার কথা জানান ফখরুল।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের আগস্টের পর এবারই সরাসরি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিএনপির শীর্ষনেতারা। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী কমিটির মিটিং করেছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সাংবাদিকদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে কথা বলার সময় বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদারসহ বেশ কিছু নেতা।

শেয়ার করুন

আদালতের ওপর সরকারের চাপ নেই: কাদের

আদালতের ওপর সরকারের চাপ নেই: কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার দমন-পীড়নে বিশ্বাসী নয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলা কেন দেবে সরকার? দেশের আইন-আদালতের প্রতি সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ বা চাপ নেই।’

আওয়ামী লীগ সরকার দমন-পীড়নে বিশ্বাসী নয়। তাই বিরোধী দল দমনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো মামলা দেয়া হয় না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘দেশের আইন-আদালতের ওপর সরকার কোনো চাপ প্রয়োগ বা হস্তক্ষেপ করে না।’

বৃহস্পতিবার ঢাকার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার দমন-পীড়নে বিশ্বাসী নয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলা কেন দেবে সরকার? দেশের আইন আদালতের প্রতি সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ বা চাপ নেই।’

তিনি বলেন, ‘কোনো মামলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তার করলেই সরকারের দোষ, গুরুতর অপরাধীকেও শাস্তির আওতায় আনা যাবে না, এ কোন ধরনের অভিযোগ? তাহলে কী দেশে বিচার ব্যবস্থা বা আইন-আদালত থাকবে না?’

বিএনপি ঢালাওভাবে অপরাধীদের পক্ষ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অস্ত্র নিয়ে ধরা পড়েছে এমন অপরাধীদের পক্ষে তারা বিবৃতি দিয়ে মুক্তি দাবি করেছে। বিএনপি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সরকারের অবস্থান হচ্ছে স্পষ্ট, তা হলো সরকার রাজনৈতিক নিপীড়নে বিশ্বাস করে না।’

রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের কাছে কঠিন করে দেয়ার প্রত্যয়ে বিএনপির যাত্রা শুরু হয়েছিল জানিয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপিই দেশের রাজনীতিকে দূষিত করার কাজ শুরু করেছিল। রাজনীতিতে স্বার্থের অনুপ্রবেশ এবং সুবিধাবাদ চর্চা শুরু করেছিল বিএনপিই।’

বিএনপির প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘যাদের রাজনীতি জনগণ নির্ভর নয়, যারা নিজেরা নিজেদের সম্মান রক্ষা করতে জানে না, তাদেরকে কে সম্মান করবে?’

জনগণ যাদের ওপর আস্থাশীল নয়, তারাই রাজনীতির নামে ক্ষমতা দখলের জন্য সুবিধাবাদ কায়েম করে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপি এখন সেটাই করছে।’

আওয়ামী লীগ তৃণমূল থেকে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল, তাই নেতাদের সম্মান আওয়ামী লীগই দিতে জানে বলেও মন্তব্য করেনে তিনি।

কাদের বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ কল্পিত এবং বরাবরের মত চর্বিতচর্বণ। নিত্যদিন সরকারের বিরুদ্ধে নতুন নতুন অভিযোগ উত্থাপন বিএনপির রোজনামচায় পরিণত হয়েছে।’

শেয়ার করুন

‘জিয়া মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদের পক্ষে কাজ করেছেন’

‘জিয়া মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদের পক্ষে কাজ করেছেন’

প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘তাহলে প্রশ্ন আসে: সে তাহলে যুদ্ধে কী কাজ করেছে? পাকিস্তানিদের পক্ষে, যাতে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা মৃত্যুবরণ করে, ওই ব্যবস্থা করেছিল কি না সেটাই আমার প্রশ্ন। সে তো একটা সেক্টরের অধিনায়ক, সেক্টর কমান্ডার না।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে কোনো সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি, বরং তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে বৃহস্পতিবার সমাপনী বক্তব্যে সরকার প্রধান এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদ মোশাররফ যখন আহত হয়ে যান, তখন মেজর হায়দার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার হয়নি।’

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের কথার প্রসঙ্গে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য বলেছেন, জিয়া যেখানে দায়িত্বে ছিল, সেখানে নাকি বেশি মানুষ মারা গেছে। ক্যাজুয়ালিটি সব থেকে বেশি। সে একটা সেন্টারে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। আর সেখানে ক্যাজুয়ালিটি বেশি হয়েছে।’

জিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া থেকে মনে প্রশ্ন জেগেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তাহলে প্রশ্ন আসে: সে তাহলে যুদ্ধে কী কাজ করেছে? পাকিস্তানিদের পক্ষে, যাতে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা মৃত্যুবরণ করে, ওই ব্যবস্থা করেছিল কি না সেটাই আমার প্রশ্ন। সে তো একটা সেক্টরের অধিনায়ক, সেক্টর কমান্ডার না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানেই প্রশ্ন, একটা সেক্টরে অধিনায়ক হয়ে সেখানে ক্যাজুয়ালিটি বাড়িয়ে দেওয়ার মানে কী? সে নিজের হাতে পাকিস্তানি সেনাদের গুলি করতেই যায়নি। সে আমাদের নিজেদের লোকদের এগিয়ে দিয়েছে মরতে।’

মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা প্রসঙ্গেও বিশদ আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘সে কী করেছে আমি বলি। কর্নেল আসলাম বেগ, সে তখন ঢাকায় কর্মরত ছিল, পরবর্তীতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হয়েছিল। সেই কর্নেল বেগ জিয়াকে একটা চিঠি দেয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন, ৭১ সালে। সেই চিঠিতে সে লিখেছিল, আপনি খুব ভালো কাজ করছেন। আমরা আপনার কাজে সন্তুষ্ট। আপনার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে কোনো চিন্তা করবেন না। আপনাকে ভবিষ্যতে আরও কাজ দেয়া হবে।’

সেই চিঠিটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে বলেও সংসদকে জানান তিনি। বলেন, ‘কথাটা উঠবে জানলে আমি চিঠিটা নিয়ে আসতাম। এক সময় আমি নিয়ে আসব। এটা আমাদের প্রসিডিংসের পার্ট হয়ে থাকা উচিত।’

শেয়ার করুন

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার: জাপা থেকে দলীয় প্রার্থী বহিষ্কার

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার: জাপা থেকে দলীয় প্রার্থী বহিষ্কার

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়। ফাইল ছবি

কুমিল্লা-৭ আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে লুৎফর রেজা খোকনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এই কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

জাতীয় পার্টির (জাপা) নীতিনির্ধারকদের অনুমতি ছাড়া উপনির্বাচন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় জাপার ভাইস প্রেসিডেন্ট লুৎফর রেজা খোকনকে দলের সব পদবি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জাপার ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা উত্তর জেলা জাপার আহ্বায়ক লুৎফর রেজা খোকনকে দলের সব পদ-পদবি থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী।

কুমিল্লা-৭ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছিল তাকে। তবে তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

খন্দকার দেলোয়ার জালালী জানান, লুৎফর রেজা খোকনকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদবি থেকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি, কুমিল্লা উত্তর জেলা জাতীয় পার্টির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০/১(১) ক ধারা অনুযায়ী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।

জানা গেছে, কুমিল্লা-৭ আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে লুৎফর রেজা খোকনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এই কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

গত ৩০ জুলাই সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফের মৃত্যুতে কুমিল্লা-৭ আসনটি শূন্য হয়। আগামী ৭ অক্টোবর এই আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের তারিখ রয়েছে। আর এই উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত।

শেয়ার করুন

জিয়ার মরদেহ পাওয়া যায়নি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

জিয়ার মরদেহ পাওয়া যায়নি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়ার মৃত্যু সংবাদের পর তার লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। গায়েবানা জানাজা হয়েছিল। কয়েক দিন পর একটা বাক্স আনা হলো।…যদি লাশ পাওয়া যেত লাশের ছবি থাকবে না কেন?’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের মরদেহ চন্দ্রিমা উদ্যানে সমাহিত করা হয়নি এবং মৃত্যুর পর তার মরদেহ পাওয়া যায়নি বলে সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জিয়ার মরদেহ আনার উদ্যোক্তা জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সেনা শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও মরদেহ শনাক্তকারী লে. জেনারেল মীর শওকত আলীর সঙ্গে কথা বলেও জিয়ার মরদেহ চন্দ্রিমা উদ্যানে সমাহিত করার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান সরকারপ্রধান।

জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে বৃহস্পতিবার সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জিয়ার মৃত্যু সংবাদের পর তার লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। গায়েবানা জানাজা হয়েছিল। কয়েক দিন পর একটা বাক্স আনা হলো। এখানে কেউ একটা বুদ্ধি দিয়েছে। জেনারেল এরশাদ সাহেব আবার এ ব্যাপারে বেশ পারদর্শী। সাজিয়ে গুছিয়ে একখানা বাক্স নিয়ে এসে দেখানো হলো। তখন এই পার্লামেন্টে বারবার প্রশ্ন এসেছে। যদি লাশ পাওয়া যেত লাশের ছবি থাকবে না কেন?’

সেদিন জিয়াউর রহমানের মরদেহ মীর শওকত আলী শনাক্ত করেছিলেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি তাকে (মীর শওকত) চিনতাম। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম। “সত্যি কথা বলেন তো”; সে বলে যে লাশ কোথায় পাব? ইভেন জেনারেল এরশাদ সাহেব, তাকে আমি বললাম, আপনি এই যে বাক্স নিয়ে আসলেন, মৃত্যুর কিছুদিন আগেও জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি যে বাক্স আনলেন, লাশটা কই? আমাকে বলেছেন, বোন, লাশ পাব কোথায়? আর কী বলব।’

চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে ১৯৮১ সালের ২৯ মে রাতে সার্কিট হাউসে নিহত হয়েছিলেন ওই সময়ের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। একদল সেনা কর্মকর্তা গজখানেক দূর থেকে মেশিনগানের বুলেটে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করেছিলেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে।

জিয়ার লাশ এতটাই বিধ্বস্ত হয়েছিল যে, তাকে চিনতে পারাটাও কঠিন ছিল।

মর্মান্তিক মৃত্যুর পর রাঙ্গুনিয়ার এক পাহাড়ের পাদদেশে আরও দুই সেনা কমকর্তার সঙ্গে একই কবরে মাটিচাপা দেয়া হয় জিয়াকে। কয়েক দিন পর ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ গর্ত খুঁড়ে মরদেহ তুলে এনে ঢাকা পাঠান। চট্টগ্রাম থেকে পাঠানো সেই মরদেহের কফিনের ঢাকনা খোলা হয়নি। প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ও সন্তানদেরও ডালা খুলে শেষবারের মতো দেখানো হয়নি জিয়ার মুখ।

ওই কফিন চন্দ্রিমা উদ্যানে দাফন করা হয়। ফলে সেটির ভিতরে জিয়ার মরদেহ প্রকৃতই ছিল কি না, তা নিয়ে তখন থেকেই প্রশ্ন দেখা দেয়।

শেয়ার করুন

জিয়ার আমলে ফাঁসির তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জিয়ার আমলে ফাঁসির তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সংসদ সদস্যদের একটা উদ্যোগ নেয়া উচিত। জিয়ার আমলে প্রতিটা কারাগারে কত মানুষকে ফাঁসি দিয়ে মারা হয়েছে, বিশেষ করে ঢাকা, বগুড়া, রাজশাহী, খুলনা, কুমিল্লা- একেকটা ক্যু আর শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আর্মি অফিসার, আর্মি সোলজার, বিমানবাহিনীর ৫৬৩ জন অফিসার, সোলজার- এ রকম কত মারা গেছে?’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কতসংখ্যক মানুষকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তার তালিকা তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্যে নিজের দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান এ নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সংসদ সদস্যদের একটা উদ্যোগ নেয়া উচিত। জিয়ার আমলে প্রতিটা কারাগারে কত মানুষকে ফাঁসি দিয়ে মারা হয়েছে, বিশেষ করে ঢাকা, বগুড়া, রাজশাহী, খুলনা, কুমিল্লা- একেকটা ক্যু আর শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আর্মি অফিসার, আর্মি সোলজার, বিমানবাহিনীর ৫৬৩ জন অফিসার, সোলজার- এ রকম কত মারা গেছে?’

এসব তথ্য খুঁজে পাওয়া যাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো থেকে যায়। এগুলো খুঁজে বের করে দেখেন। একেক রাতে ফাঁসি দিতে দিতে মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেছেন, এখনও এমন লোক আছেন।’

সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার রাখা বক্তব্যের জের ধরেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘একটা কথা ভালো বলেছেন রুমিন ফারহানা। ইতিহাস ফিরে আসে। হ্যাঁ, ঠিক তাই। আমি সম্পূর্ণ একমত। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল। তার ছবিটা দেখানো হতো না।’

এ সময় পঁচাত্তর-পরবর্তী দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন সংসদ নেতা।

তিনি বলেন, ‘আমার অধিকার নাই আমার বাবা-মা হত্যার বিচার চাওয়ার। আমাদের দলে বেইমান খন্দকার মোশতাক তো ছিলই। এটা তো অস্বীকার করি না। আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে। জিয়াউর রহমান তো খালেদা জিয়াকে নিয়ে মাসে একবার করে আমার বাসায় গিয়ে বসে থাকত।’

প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘এদের কাছে মানবাধিকারের কথা শুনতে হয়, জ্ঞানের কথা শুনতে হয়, আইনের শাসনের কথা শুনতে হয়।’

শেয়ার করুন