ইউএনওর বাসায় হামলা: বিব্রত আ. লীগ

ইউএনওর বাসায় হামলা: বিব্রত আ. লীগ

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকে থমথমে বরিশাল সিটি। ছবি: নিউজবাংলা

দলের মধ্যে তো বিভিন্ন রকমের বিষয়ই থাকেই। সেটা তো নিজেরা আমরা ফয়সালা করতে পারি। সেখানে আবার প্রশাসনের সঙ্গে কেন যে এমন ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলো। আমরা সাংগঠনিক ভাবে কাজ করছি, আশা করছি নরমাল হয়ে যাবে: আওয়ামী লীগের দলের বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন।

বরিশালে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসায় ক্ষমতাসীন দল সমর্থকদের হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় বিব্রত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

নেতাদের দাবি এই ঘটনাটি ঘটেছে ভুল বোঝাবুঝি থেকে। শিগগিরই পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।

বুধবার রাতে ব্যানার অপসারণ নিয়ে ইউএনও মু‌নিবুর রহমানের সঙ্গে সি‌টি করপোরেশনের প্রশাস‌নিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসের কথা-কাটাকা‌টি হয়।

প্রশাস‌নিক কর্মকর্তার সঙ্গে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বিবাদে জ‌ড়িয়ে পড়েন।

আনসার‌ সদস্যদের সঙ্গে হাতাহা‌তি শুরু হলে আওয়ামী লী‌গ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ইউএনওর বাসায় হামলার চেষ্টা চালায়। আনসার সদস্যরা গু‌লি ছুড়লে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসসহ চারজন আহত হন।

সংঘর্ষের পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পু‌লিশ অবস্থান নিলে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা আবার ইউএনওর বাসভবনে হামলার চেষ্টা করে। এ সময় পু‌লিশ ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

এই ঘটনাটি প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। থমথমে পরিস্থিতিতে বরিশালে বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন। বলেছেন, অপকর্ম করলে আওয়ামী লীগ নিজ দলের নেতা-কর্মীদেরকেও ছাড় দেয় না।

আওয়ামী লীগের দলের বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন এ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা মনিটর করছি দলের পক্ষ থেকে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও কথা বলছি। আমাদের এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার, যারা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আহত হয়েছেন তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা।

‘তারপর যাতে আর কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। আমি নিজে কথা বলেছি বরিশাল জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে। সবাই সতর্ক আছেন। খোঁজ খবর রাখছি।’

সংঘর্ষের ওই ঘটনার পর বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত বলেন, ‘ইউএনও মু‌নিবুর রহমান নিজে বন্দুক নিয়ে গু‌লি ছুঁড়েছেন। সি‌টি করপোরেশনের লোকজন ব্যানার খুলতে আসলে এ আচরণ করেন তিনি। এতে করপোরেশনের কর্মকর্তা স্বপনসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। পরে মেয়র মহোদয় এখানে এসে নিজের প‌রিচয় দিলে তার উপরও গু‌লি ছোঁড়েন ইউএনও।’

তবে ইউএনও মু‌নিবুর রহমান বলেন, ‘১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে করে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠ‌নিক সম্পাদক রা‌জিব আমার কম্পাউন্ডে ঢুকে ব্যানার ছিঁড়তে থাকে। তাদেরকে নিষেধ করা হলে তারা আমাকে ঘিরে ধরে। এ সময় আমার সেফ‌টির জন্য আনসার সদস্যরা যেটা প্রয়োজন সেটা করেছে।’

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে দু‌টি মামলা করা হয়। এর একটি করেছেন ইউএনও মু‌নিবুর রহমান। আরেকটি করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

দুই মামলায় ৩০ থেকে ৪০ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকশ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে আটক করা হয়েছে ১৩ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে।

এ অবস্থার মধ্যেই বরিশাল নগরীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন‌্য ১০ প্লাটুন বি‌জি‌বি ও ১০ জন নির্বাহী ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেট মোতায়েন করা হচ্ছে।

সংঘর্ষের ঠিক একদিন আগে বরিশালে আওয়ামী লীগের রাজনীতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন দলের নেতারাই।

নগরীর কালীবাড়ি রোডে মেয়রের বাসভবনে মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি একে এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বরিশালের স্থানীয় রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে কেউ কেউ। তারা কারা তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।’

‘সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের মধ্যে রাগ অভিমানের সুযোগ নিচ্ছে তৃতীয় পক্ষ’- যোগ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি।

দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমস্যা থাকলেও প্রশাসনের সঙ্গে কেন এ পরিস্থিতি তা বুঝতে না পারার কথাও জানান আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে তো বিভিন্ন রকমের বিষয়ই থাকেই। সেটা তো নিজেরা আমরা ফয়সালা করতে পারি। সেখানে আবার প্রশাসনের সঙ্গে কেন যে এমন ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলো। আমরা সাংগঠনিকভাবে কাজ করছি, আশা করছি নরমাল হয়ে যাবে।’

নেতাকর্মীদের মধ্যে বিবাদ মীমাংসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের মনে হয়ত কষ্ট আসে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে তাড়তাড়ি সব ঠিক হয়ে যায়। যেহেতু সরকারে আওয়ামী লীগ দলের পক্ষ থেকে কোনোভাবেই আইন শৃঙ্খলার অবনতির মতো ঘটনা ঘটুক এটা আমরা চাইব না।’

আরও পড়ুন:
ইউএনওর নির্দেশে গু‌লি চালানো হয়: ব‌রিশাল আওয়ামী লীগ
থমথমে ব‌রিশা‌লে নাম‌ছে ১০ প্লাটুন বি‌জি‌বি
বরিশালের ঘটনা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি: কাদের
বরিশালে পুলিশ, ইউএনওর মামলায় আসামি কয়েক শ
৭ ঘণ্টা পর বরিশালে চলছে বাস

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সংগঠনের নামে ব্যাংক হিসাব চাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন

সংগঠনের নামে ব্যাংক হিসাব চাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন

সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার যে কারও ব্যাংক হিসাব তলব করতে পারে। এমপিদের ব্যাংক হিসাব তলব হয়, সরকারি কর্মকর্তাদেরও হিসাব তলব হয়, ব্যবসায়ী নেতাদেরও তলব হয়। সরকার যে কারও ব্যাংক হিসাব চাইতেই পারে, চাওয়াটা অবশ্যই দোষের নয়। কিন্তু এই চাওয়াটা কেন, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাব চেয়েছে সেটি কেন পত্রিকায় আসল সেটি হচ্ছে প্রশ্ন। এটি তো কাগজে আসার কথা না।’

সংগঠনের নামে কেন সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব চাওয়া হলো এবং সে খবর পত্রিকায় কীভাবে গেল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেটি কেন পত্রিকায় আসল সেটি হচ্ছে প্রশ্ন।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যে কারও ব্যাংক হিসাব তলব করতে পারে। এমপিদের ব্যাংক হিসাব তলব হয়, সরকারি কর্মকর্তাদেরও হিসাব তলব হয়, ব্যবসায়ী নেতাদেরও তলব হয়। সরকার যে কারও ব্যাংক হিসাব চাইতেই পারে, চাওয়াটা অবশ্যই দোষের নয়।

‘কিন্তু এই চাওয়াটা কেন, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাব চেয়েছে সেটি কেন পত্রিকায় আসল সেটি হচ্ছে প্রশ্ন। এটি তো কাগজে আসার কথা না।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে যেটি উপস্থাপন করা হয়েছে, সংগঠনের নাম দিয়ে কেন ব্যাংক হিসাব চাওয়া হলো সে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি স্বচ্ছ থাকলে কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার সুযোগ নেই। যখন ব্যাংক হিসাব চাওয়ার পরে এটি প্রকাশ হবে, তাদের স্বচ্ছতা বেরিয়ে আসবে তখন তো বরং তারা যে স্বচ্ছ এটিও প্রকাশ হবে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।’

‘তবে এটি কেন সংগঠনের নাম দিয়ে চাওয়া হলো, আবার কেন কাগজে আসল সেটি নিয়ে প্রশ্ন আছে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট- বিএফআইইউ।

অন্য যাদের হিসাব দিতে বলা হয়েছে তারা হলেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।

আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী উল্লেখ করে এই প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।

একে সাংবাদিকদের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়ানোর কৌশল হতে পারে মন্তব্য করে এই ১১ নেতা সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।

‘সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন’

বিএনপি নেতারা দাবি জানালেও বর্তমান সরকারের অধিনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জোর গলায় দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা প্রায় ১২ বছর ধরেই এই আহ্বান জানিয়ে আসছেন, কিন্তু জনগণতো তাদের এই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। সাড়া দেয়ার কোনো কারণও নেই। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ীই বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন কখনো সরকারের অধীনে হয় না, হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে।

‘যখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় তখন সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদের চাকরি নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত হয়। সরকার তখন একজন পুলিশ কনস্টেবলও বদলি করতে পারে না। কার্যত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে প্রচুর নির্বাচন সফলভাবে অনুষ্ঠান করেছে। আমি এ জন্য বিএনপিকে বলব, ফাঁকা বুলি আউড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

খালেদা জিয়ার সাজার মেয়াদ স্থগিতাদেশ যে কোন সময় বাতিল হতে পারে বলেও বিএনপি নেতাদের স্মরণ করিয়ে দেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সরকারকে বহু আগেই ধন্যবাদ দেয়া উচিত ছিল। কারণ বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কিন্তু জামিনে মুক্তি পাননি। তাকে প্রধানমন্ত্রী আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সাজা স্থগিত করেছেন, এ জন্যই তিনি কারাগারের বাহিরে আছেন। বিএনপির এ জন্য শুকরিয়া করা উচিত। ধন্যবাদ দেয়া উচিত।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার যেকোনো সময় চাইলে ৬ মাসের সাজা স্থগিতের যে আদেশ তা বাতিল করতে পারে। সে আদেশ যদি আগামীকাল বাতিল হয়, তাহলে আগামীকালই তাকে কারাগারে ফেরত যেতে হবে। এটিও বিএনপির মনে রাখা প্রয়োজন।’

‘ডোমেইন বরাদ্দে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকার পরেও আইপি টিভি কীভাবে ডোমেইন বরাদ্দ পায় তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আইপি টিভির নিবন্ধন দেয়ার দায়িত্ব হচ্ছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু ডোমেইন বরাদ্দ দেয় বিটিআরসি। ডোমেইন বরাদ্দ কীভাবে পেল সেটিই হচ্ছে প্রশ্ন। আমি মনে করি, কাউকে ডোমেইন বরাদ্দ দেয়ার আগে এখন থেকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করব আগামী ২২ সেপ্টেম্বর। তথ্য, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় এতে থাকবে। এখানেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব যে ডোমেইন বরাদ্দের দেয়ার ক্ষেত্রে এখন অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। আমরা তদন্ত করছি এবং আদালতেরও নির্দেশনা আছে। আমরা অনলাইন ও আইপি টিভির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছি, এটি অব্যাহত থাকবে।’

আরও পড়ুন:
ইউএনওর নির্দেশে গু‌লি চালানো হয়: ব‌রিশাল আওয়ামী লীগ
থমথমে ব‌রিশা‌লে নাম‌ছে ১০ প্লাটুন বি‌জি‌বি
বরিশালের ঘটনা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি: কাদের
বরিশালে পুলিশ, ইউএনওর মামলায় আসামি কয়েক শ
৭ ঘণ্টা পর বরিশালে চলছে বাস

শেয়ার করুন

সব পৌরসভায় সিইও নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর সায়

সব পৌরসভায় সিইও নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর সায়

ফরিদপুর পৌরসভা। ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভাতে প্রধান নির্বাহী দেয়ার জন্য আমি শক্ত করে… (বলেছিলাম)। অনেকে এটা মানতে চায় না, কিন্তু আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, তিনি রাজি হয়েছেন। প্রধান নির্বাহী দেয়া হলে, হবে কি.. মিনিস্ট্রির (মন্ত্রণালয়) সঙ্গে পৌরসভার সরাসরি একটি কানেকটিভিটি থাকবে।’

দেশের সব পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগের বিষয়ে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

মন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘পৌরসভাতে প্রধান নির্বাহী দেয়ার জন্য আমি শক্ত করে… (বলেছিলাম)। অনেকে এটা মানতে চায় না, কিন্তু আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, তিনি রাজি হয়েছেন। প্রধান নির্বাহী দেয়া হলে, হবে কি.. মিনিস্ট্রির (মন্ত্রণালয়) সঙ্গে পৌরসভার সরাসরি একটি কানেকটিভিটি থাকবে।’

‘এতে তারা কী করছে, মানুষকে সেবাটা দিচ্ছে কি না সেটা আমরা বুঝতে পারব। এতে মানুষ লাভবান হবে। তারা যখন লাভবান হবে তখন তারা ট্যাক্সও দিতে চাইবে। যদি কারও লাভ হয় তাহলে সে কেন দেবে না? অবশ্যই দেবে। এ জায়গায় আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি।’

একই সঙ্গে জেলা পরিষদ ও পৌরসভাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সেখানে নিরীক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে বলেও জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে অডিটর নিয়োগ করছি। এটি নিয়োগ করা মানে কাউকে অসম্মান করা না। এতে কাজে স্বচ্ছতা আসবে।

সব পৌরসভায় সিইও নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর সায়
সোমবার সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সংলাপে অংশ নেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

‘এটা হলে তাহলে জবাবদিহি বাড়বে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রেসটিজিয়াস হবে, আয়বর্ধক হবে, স্বনির্ভর হবে। স্বনির্ভরতা ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেকে প্রেসটিজিয়াস বলতে পারে না।’

‘ইউপি মেম্বার-চেয়ারম্যানরা গালি ডিজার্ভ করে’

কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের যে গালিগালাজ শুনতে হয় তার যৌক্তিকতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইউনিয়নের মেম্বার বলে সারা দিন আমরা গালি দিই। সম্ভবত অনেক কারণও আছে। মেম্বার, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদকে আমরা গালি দিই। আমি মনে করি তারা (গালি) পাওয়ার জন্য ডিজার্বও করে। কী কারণে করে?

‘তারা সঠিকভাবে সেবা দেয় না এবং এ প্রতিষ্ঠানগুলো যে দুর্নীতিমুক্ত এটা বলা যাচ্ছে না। এ প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের যেসব দায়িত্ব পালন করার কথা সেগুলো ঠিকভাবে পালন করে না। এটা মোটামুটি স্টাবলিস্ট।’

অবশ্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবার অপ্রাপ্তির জন্য দায় নিজের কাঁধেই নিচ্ছেন তিনি। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘এই ব্যর্থতা তাদের নয়, ব্যর্থতা আমার। আই হ্যাভ টু ডায়াগনোসিস ফেইলরটা কার। যে মানুষ জবাবদিহির আওতায় থাকবে না সে নষ্ট হবে। এ জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।’

‘আমরা জনপ্রতিনিধিদের ঠিক করতে পারিনি, জনপ্রতিনিধিদের ঠিক করার দায়িত্ব আমাদের। মেম্বারের পজিশন যে মর্যাদাপূর্ণ সেটা বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সবাই মিলেমিশে কাজ না করলে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না। স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে যত বেশি, যত দ্রুত শক্তিশালী করা যাবে, দেশ তত দ্রুত শক্তিশালী হবে। মানুষগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। ঢাকা থেকে সচিব, মন্ত্রী গিয়ে গ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে না।

‘ওখানে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সত্যিকার অর্থে খুব ইফেকটিভ করতে পারলে কেউ আর পেছনে থাকবে না।’

সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে বেশিরভাগ পৌরসভায় কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে পেরেছে বলে জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার সময় ৪৮টি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন হচ্ছিলো না। আমাদের নানা উদ্যোগের ফলে এখন ৮০ শতাংশের বেশি পৌরসভায় বেতন ক্লিয়ার আছে।

‘স্থানীয় সরকারের আইনগুলোতে ছোটখাট ক্রুটি-বিচ্যুতি আছে। সেগুলো পরিবর্তনে কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করতে কোথায় কোথায় ক্রুটিবিচ্যুতি আছে সেগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল বলেন, ‘সঠিকভাবে সেবা দিতে হলে সড়কের আইডি নাম্বার থাকা দরকার। পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের সড়কে আইডি নম্বর নেই। এ বিষয়ে অল্প সময়ের মধ্যে পরিপত্র জারি করব। ’

‘একটা রাস্তা দুইবার দেখিয়ে টাকা নিচ্ছে কী না, সেটাও সহজে ধরা যাবে। আইডি নম্বর করা হচ্ছে কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে দ্রুত যাতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পৌরসভায় অটোমেশন করা নেই, এ জন্য কমিটি করে দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ইউএনওর নির্দেশে গু‌লি চালানো হয়: ব‌রিশাল আওয়ামী লীগ
থমথমে ব‌রিশা‌লে নাম‌ছে ১০ প্লাটুন বি‌জি‌বি
বরিশালের ঘটনা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি: কাদের
বরিশালে পুলিশ, ইউএনওর মামলায় আসামি কয়েক শ
৭ ঘণ্টা পর বরিশালে চলছে বাস

শেয়ার করুন

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিন: দুদককে কাদের

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিন: দুদককে কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘দুদককে আহ্বান জানাচ্ছি, আমার মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে পারেন। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আমি কোনো আপত্তি করব না। কোনো হস্তক্ষেপ করব না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বলেছেন, মন্ত্রী হিসেবে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবেন না তিনি।

ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে সোমবার ভিডিও কনফারেন্সে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘দুদককে আহ্বান জানাচ্ছি, আমার মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আমি কোনো আপত্তি করব না। কোনো হস্তক্ষেপ করব না।’

দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ সামনে এনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মন্ত্রীদেরও এটা অনুসরণ করতে হবে। দুর্নীতি যেন না হয় সে জন্য প্রত্যেকের জায়গা থেকে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে। যারা দুর্নীতি করে, অনিয়ম করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

অনিয়ম বন্ধে বিআরটিসি কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থানে যেতে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির ব্যবহারে দুর্নীতি কমে আসে। আমরা বিআরটিসির ক্ষেত্রে বেশ কিছু সেবা অনলাইনে চালু করেছি।

‘শেখ হাসিনা সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কাজেই বিআরটিসির মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি যেন বাসা বাঁধতে না পারে সে ব্যাপারে চেয়ারম্যানসহ সব কর্মকর্তাকে সতর্ক থাকতে হবে।’

যেকোনো মূল্যে বিআরটিসিকে সুনামের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে বলেও জানান সড়কমন্ত্রী।

লকডাউন শেষে পরিবহনে আবারও যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় যাত্রীদের সুবিধায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিআরটিসি রাজধানীর উত্তরায় চক্রাকার বাস সেবা চালু করেছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার পর ধানমন্ডি এলাকায় চক্রাকার বাস সেবা পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
ইউএনওর নির্দেশে গু‌লি চালানো হয়: ব‌রিশাল আওয়ামী লীগ
থমথমে ব‌রিশা‌লে নাম‌ছে ১০ প্লাটুন বি‌জি‌বি
বরিশালের ঘটনা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি: কাদের
বরিশালে পুলিশ, ইউএনওর মামলায় আসামি কয়েক শ
৭ ঘণ্টা পর বরিশালে চলছে বাস

শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে জাবির প্রস্তুতি

বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে জাবির প্রস্তুতি

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘হলের বাইরে বেসিন, সাবান ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা হাত মুখ ধুয়ে হলে প্রবেশ করতে পারে।’

প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে শেষের দিকে একাডেমিক ভবন ও হল পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সব হলের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওঠার জন্য সব হল প্রস্তুত। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ফুল লেয়ারের তিনটি করে মাস্ক দেয়া হবে, যা অনায়াসে তিন থেকে চার মাস ব্যবহার করতে পারবেন তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘হলের বাইরে বেসিন, সাবান ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা হাত-মুখ ধুয়ে হলের প্রবেশ করতে পারে। পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রতিটি হলে ইলেক্ট্রিক ওয়াটার ফিল্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের কোয়ারেন্টিনের বিষয়ে এই শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেহেতু বাইরে থেকে হলে উঠবে, তাই প্রথম ১৪ দিন তাদের হল থেকেই অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সশরীরে ক্লাস করতে পারবে তারা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলার বিষয়ে জাবির প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল আলম বলেন, ‘আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সিন্ডিকেট সভা হবে। সে সভায় বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ইউএনওর নির্দেশে গু‌লি চালানো হয়: ব‌রিশাল আওয়ামী লীগ
থমথমে ব‌রিশা‌লে নাম‌ছে ১০ প্লাটুন বি‌জি‌বি
বরিশালের ঘটনা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি: কাদের
বরিশালে পুলিশ, ইউএনওর মামলায় আসামি কয়েক শ
৭ ঘণ্টা পর বরিশালে চলছে বাস

শেয়ার করুন

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব অপ্রত্যাশিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব অপ্রত্যাশিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কীভাবে ঘটল, (এ বিষয়ে) আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন একটি উৎসের কথা। আমার মনে হয় এটি পুরোপুরি ভুল বোঝাবুঝি। এটি কোথা থেকে এসেছে, কী হয়েছে সেটি খতিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

১১ সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কীভাবে ঘটল, (এ বিষয়ে) আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন একটি উৎসের কথা। আমার মনে হয় এটি পুরোপুরি ভুল বোঝাবুঝি।

‘এটি কোথা থেকে এসেছে, কী হয়েছে সেটি খতিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদে সারা দেশে ২৩ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে।

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব অপ্রত্যাশিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতেই এটা করা হয়েছে অভিযোগ করে কর্মসূচিতে বলা হয়, এর সন্তোষজনক সমাধান না হলে আন্দোলন চলবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, বিএফআইইউ।

অন্য যাদের হিসাব দিতে বলা হয়েছে, তারা হলেন: বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।

আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী উল্লেখ করে এই প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।

গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে করে এই ১১ নেতা বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়ানোর কৌশল হতে পারে এই আদেশ। সেদিনই রোববার মানববন্ধনের ডাক দেয়া হয়।

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব অপ্রত্যাশিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ফাইল ছবি

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, ‘যেভাবে হিসাব চাওয়া হয়েছে তা নজিরবিহীন। আমরা রাষ্ট্রের কাছে এর ব্যাখা চাই। এর নিরসন চাই। উৎকণ্ঠা দূর করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ইউএনওর নির্দেশে গু‌লি চালানো হয়: ব‌রিশাল আওয়ামী লীগ
থমথমে ব‌রিশা‌লে নাম‌ছে ১০ প্লাটুন বি‌জি‌বি
বরিশালের ঘটনা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি: কাদের
বরিশালে পুলিশ, ইউএনওর মামলায় আসামি কয়েক শ
৭ ঘণ্টা পর বরিশালে চলছে বাস

শেয়ার করুন

লেনদেনের জেরে মিষ্টি ব্যবসায়ীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

লেনদেনের জেরে মিষ্টি ব্যবসায়ীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

মিষ্টি ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রাজুকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ছবি: নিউজবাংলা

বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ মিষ্টি তৈরি করে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করতেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযুক্ত রাজুর কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাজু নারায়ণ চন্দ্রের গলায় খুরের পোঁচ দিয়ে তাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে পাশের একটি পানির পাম্পের কাছে ফেলে রাখেন।

চাঁদপুর শহরে পাওনা টাকার জেরে খুর দিয়ে এক মিষ্টি ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিলেট থেকে রোববার অভিযুক্ত রাজু চন্দ্র শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত ব্যবসায়ীর নাম নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ।

সিআইডি মিডিয়া সেন্টারে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।

তিনি বলেন, নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ মিষ্টি তৈরি করে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করতেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযুক্ত রাজুর কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাজু নারায়ণ চন্দ্রের গলায় খুরের পোঁচ দিয়ে তাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে পাশের একটি পানির পাম্পের কাছে ফেলে রাখেন।

১৬ সেপ্টেম্বর শহরের বিপনীবাগ মার্কেটের পৌর পানির পাম্প স্টাফ রুমের পাশ থেকে নারায়ণ চন্দ্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডি।

তিনি আরও বলেন, হত্যার পর দোকানের রক্ত পরিষ্কারের সময় বাজারের নৈশপ্রহরী ইসমাইল বকাউল অভিযুক্তকে প্রশ্ন করলে রাজু জানায়, ‘ধর্মীয় উৎসবের কারণে দোকান পরিষ্কার করে পুরোনো কাপড়সহ ময়লা জিনিসপত্র বস্তায় করে নিয়ে যাচ্ছি।’

মুক্তা ধর আরও বলেন, ‘ঘটনার রাত থেকে রাজু পলাতক। প্রথমে ঢাকা ও হবিগঞ্জ এবং পরে সিলেট শহরে গিয়ে গা-ঢাকা দেন তিনি।’

কত টাকার লেনদেন ছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদে খুব অল্প টাকার কথা বলেছে। তদন্তের স্বার্থে এখন কিছুই বলা যাচ্ছে না। তাকে রিমান্ডে নিলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।’

আরও পড়ুন:
ইউএনওর নির্দেশে গু‌লি চালানো হয়: ব‌রিশাল আওয়ামী লীগ
থমথমে ব‌রিশা‌লে নাম‌ছে ১০ প্লাটুন বি‌জি‌বি
বরিশালের ঘটনা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি: কাদের
বরিশালে পুলিশ, ইউএনওর মামলায় আসামি কয়েক শ
৭ ঘণ্টা পর বরিশালে চলছে বাস

শেয়ার করুন

দূষিত পানি: হাইকোর্টে পরিকল্পনা জানাবে ওয়াসা

দূষিত পানি: হাইকোর্টে পরিকল্পনা জানাবে ওয়াসা

ওয়াসার দূষিত পানি দিয়ে বানানো শরবত সংস্থাটির এমডিকে পান করাতে চেয়েছিলেন মিজানুর রহমান (ডানে) নামের এক অধিকারকর্মী। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ কিংবা পানি পানের উপযোগী না থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংস্থাটির পানি দিয়ে এমডিকে শরবত পান করাতে গিয়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন মিজানুর রহমান নামের এক অধিকারকর্মী।

দূষিত পানি রোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, তা হাইকোর্টকে জানাবে ওয়াসা।

আগামী ২ নভেম্বর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে ওয়াসা তাদের পরিকল্পনা জানাবে।

ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ কিংবা পানি পানের উপযোগী না থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংস্থাটির পানি দিয়ে এমডি তাকসিম এ খানকে শরবত পান করাতে গিয়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন মিজানুর রহমান নামের এক অধিকারকর্মী।

দূষিত পানি নিয়ে করা রিটের আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে আজ শুনানির জন্য মামলাটি তালিকায় আসে। এরপর আদালতে বলেছি, ২ বছর ধরে তারা কী করেছে, দূষিত পানি রোধে ওয়াসা কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, নিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা কী- এসব বিষয় উপস্থাপনের পর ওয়াসা জানিয়েছে, তারা আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে বিষয়গুলো আদালতকে জানাবে।’

এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে চার সদস্যের কমিটি গঠনের আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

কমিটির সদস্যরা হলেন আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মনিরুল আলম, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সাবিতা রিজওয়ানা রহমান।

পানি পরীক্ষায় গঠিত কমিটির প্রতিবেদন ২০১৯ সালের ৭ জুলাই আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সেই প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসার ১০টি বিতরণ জোনের ৩৪টি নমুনার মধ্যে ৮টিতে ব্যাকটেরিয়াজনিত দূষণ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ওই সময় ওয়াসার আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাসুম বলেছিলেন, সমন্বিত প্রতিবেদন আসার পর জোন-১ ও জোন-৪-এর একটি এবং পাতলা খান লেনে পাওয়া একটি নমুনায় যে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়, তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। সেই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া হলো ফেকেল ও ই-কোলাই।

প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন ব্যারিস্টার মাসুম।

আরও পড়ুন:
ইউএনওর নির্দেশে গু‌লি চালানো হয়: ব‌রিশাল আওয়ামী লীগ
থমথমে ব‌রিশা‌লে নাম‌ছে ১০ প্লাটুন বি‌জি‌বি
বরিশালের ঘটনা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি: কাদের
বরিশালে পুলিশ, ইউএনওর মামলায় আসামি কয়েক শ
৭ ঘণ্টা পর বরিশালে চলছে বাস

শেয়ার করুন