১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ছিল প্রতিবিপ্লব: স্বদেশ রায়

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ছিল প্রতিবিপ্লব: স্বদেশ রায়

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু পরবর্তী বাংলাদেশ’ শিরোনামে ওয়েবিনারে বক্তব্য দেন নিউজবাংলার সম্পাদক স্বদেশ রায়। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে নিউজবাংলার সম্পাদক স্বদেশ রায় বলেন, ‘প্রতিবিপ্লবীরা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে আমাদের সংবিধানে যে পরিবর্তনগুলো এনেছিল, সেসব দিয়ে তারা প্রতিবিপ্লবটিকে একেবারে সাংবিধানিকভাবে বাস্তবায়িত করেছিল।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণরূপে প্রতিবিপ্লব ছিল বলে মন্তব্য করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক, লেখক ও নিউজবাংলার সম্পাদক স্বদেশ রায়।

তার মতে, যে ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি জাতির সংবিধান বদলে যায়, সেই ঘটনাকে কখনোই একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীলদলের আয়োজনে ‘বঙ্গবন্ধু পরবর্তী বাংলাদেশ’ শিরোনামে রোববার বিকেলে এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে স্বদেশ রায় এসব মন্তব্য করেন।

নিউজবাংলার সম্পাদক বলেন, ‘প্রতিবিপ্লবীরা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে আমাদের সংবিধানে যে পরিবর্তনগুলো এনেছিল, সেসব দিয়ে তারা প্রতিবিপ্লবটিকে একেবারে সাংবিধানিকভাবে বাস্তবায়িত করেছিল।’

তিনি বলেন, “দেশের সংবিধানের প্রস্তাবনাই সংবিধানের মূল সুর এবং মূল বিষয়। মূল প্রস্তাবনায় বলা ছিল, ‘জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে’ রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা হয়। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ওই জায়গাটা পরিবর্তন করে বলা হয় ‘ঐতিহাসিক যুদ্ধের মাধ্যমে’। সংগ্রাম কথাটি বাদ দিয়ে যুদ্ধ কথাটি আনা হয়েছে শুধুমাত্র নয় মাসের যুদ্ধটাকে রাখার জন্য। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ২২ বছর পাকিস্তানি শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম করেছিল তা বাদ দেয়ার জন্য। এর মধ্য দিয়ে অসহযোগ আন্দোলন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও ভাষা শহীদের এবং ৬ দফাকে অস্বীকার করা হয়েছে বাঙালি, বাংলা ভাষা ও জাতীয়তাবাদকে শেষ করে দেয়ার জন্য।’

জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ এখনও বিনির্মাণ হয়নি বলে মনে করেন স্বদেশ রায়। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর যে বাংলাদেশ ছিল, সেই বাংলাদেশে আমরা এখনও পৌঁছাতে পারিনি। সে জন্য আমাদের আরও দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হবে। বঙ্গবন্ধু পরবর্তী বাংলাদেশে গত ৪৬ বছরে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ অনেক পরিবর্তন ঘটেছে।

‘রাষ্ট্রধর্ম যে ইসলাম করা হলো, সেটি এখনও বাতিল করা হয়নি। সংবিধানের ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদে শর্ত ছিল, কোনো ধর্মীয় সংগঠন বা সমিতি করা যাবে না। পরে সেটি পরিবর্তন করা হয়, যার ফলে জামায়াতে ইসলামী দাপিয়ে রাজনীতি করছে।’

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কী বলেছেন, আমি তা নিজেই শুনেছি বঙ্গবন্ধুর মুখ থেকে। বর্তমানে বাংলাদেশ রিলিফ নেয় না, বরং পাশের দুই দেশকে রিলিফ দিয়েছে।’

ওই সময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘কারা আমাদের শত্রু আর কারা মিত্র তা এত বছরেও প্রজন্মকে শেখাতে পারিনি।’

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ কলকাতার পরিচালক অরিন্দম মুখোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতির পিতা শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের মানুষের মনেও গভীরভাবে রেখাপাত করেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, ধর্ম নিরপেক্ষতা বাঁচিয়ে রাখা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করতে হবে। শত্রুর বিরুদ্ধে, অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে; সোশ্যাল মিডিয়াতে অ্যাকটিভ হতে হবে।’

ওয়েবিনারে আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এস এম আনোয়ারা বেগম।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে এ বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তার ত্যাগ, জুলুম-অত্যাচার, নিপীড়ন (সহ্য করে), নেতৃত্ব সব কিছুর বিনিময়ে এ বাংলাদেশ দিয়ে গেছেন। একাত্তর সালে আমরা যারা যুদ্ধ করেছি, তাদের কাছে বঙ্গবন্ধুই ছিল একমাত্র অনুপ্রেরণা।

‘যুদ্ধকালীন সময়ে আমাদের একটাই ব্রত ছিল, যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে হবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নীলদলের সভাপতি অধ্যাপক মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নীলদলের সহসভাপতি ও ওয়েবিনারের আহ্বায়ক ড. মো. ছিদ্দিকুর রহমান।

ওয়েবিনার সঞ্চালনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল কাদের ও সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বুশরা জামান।

আলোচনায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিপ্রা সরকার।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শান্তি প্রতিষ্ঠার দায় সবার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শান্তি প্রতিষ্ঠার দায় সবার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শান্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দেশে ও বিদেশে শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছেন। এই যে শান্তির প্রতি তারও অগাধ বিশ্বাস, এটি আমরা বিশ্বে ছড়িতে দিতে চাই।’

শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হয়। শান্তি সরকারের একার পক্ষে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

শনিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘বিশ্ব শান্তি সম্মেলন’ প্যানেল আলোচনা শুরুর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এর উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। সম্মেলনে ৫০টি দেশের ১০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেবেন।

এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ৬০ জন প্রতিনিধি ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন। আর বাকি ৪০ জন সশরীরে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রোববার বিকেলে এ সম্মেলন শেষ হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শান্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দেশে ও বিদেশে শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছেন। এই যে শান্তির প্রতি তারও অগাধ বিশ্বাস, এটি আমরা বিশ্বে ছড়িতে দিতে চাই।

‘জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী যে শান্তির সংস্কৃতির ধারণা দিয়েছেন, সম্মেলন থেকে আমরা পৃথিবীতে শান্তির বার্তা দিতে চাই। আমরা চাই, এই বার্তা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ুক। পৃথিবীতে টেকসই শান্তির জন্য প্রয়োজন একে-অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, সহনশীলতা, এগুলো আমরা তুলে ধরব।’

শেয়ার করুন

রামপুরার শিক্ষার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক উসকানি: কাদের

রামপুরার শিক্ষার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক উসকানি: কাদের

মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সড়ক নিরাপত্তামূলক রোড শোতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘তারপরেও এই আন্দোলনটা একটি বিশেষ এলাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। এটা রামপুরা এলাকাতেই শুধু হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা যখন আন্দোলন শেষে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করছে তখনি রাজনৈতিক উসকানি দিচ্ছে একটি মহল।’

নিরাপদ সড়কসহ বিভিন্ন দাবিতে কিছুদিন ধরে রাজধানীর রামপুরায় আন্দোলন করতে থাকা শিক্ষার্থীদের পেছনে একটি রাজনৈতিক দলের ইন্ধন আছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে শনিবার সকালে সড়ক নিরাপত্তা ও গণসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সড়ক নিরাপত্তামূলক রোড শোতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাদের বলেন, ‘রাজনৈতিক দল থেকে শিক্ষার্থীদের উসকানি দেয়া হয়। সেটার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। এর ভিডিও ফুটেজ আছে। এটা একটা রাজনৈতিক দলের মহানগরের মহিলা নেত্রী রামপুরায় রাস্তায় নেমে ছাত্রছাত্রীদের উসকানি দিচ্ছেন, স্কুলের ড্রেস পরে।

‘তারপরেও এই আন্দোলনটা একটি বিশেষ এলাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। এটা রামপুরা এলাকাতেই শুধু হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা যখন আন্দোলন শেষে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করছে তখনি রাজনৈতিক উসকানি দিচ্ছে একটি মহল।’

বাস ভাড়া অর্ধেক করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাঝে ২৯ নভেম্বর রাতে রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষা দেয়া এক ছাত্রের প্রাণ যায়।

এর আগে ২৪ নভেম্বর রাজধানীর গুলিস্তানে সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন নটর ডেম কলেজের এক ছাত্র।

এসব ঘটনার পর নানা দাবিতে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পেছনে যারা জড়িত, তাদের বিচারের পাশাপাশি অন্যতম দাবি ছিল বাস ভাড়া অর্ধেক করা।

এমন অবস্থায় ৩০ নভেম্বর ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়েছেন তারা। পরের দিন থেকেই ঢাকা শহরে ছাত্রদের জন্য কার্যকর করা হয় হাফ পাস।

হাফ পাসের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে মালিক সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে হাফ পাস কার্যকর হবে শুধু রাজধানীতে, হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই ছবিসংবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড দেখাতে হবে। সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোয় কোনো হাফ পাস থাকবে না।

তবে রাস্তা ছাড়ছেন না রামপুরার শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিনই দুপুর ১২টা থেকে দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য নিয়ম করে রামপুরার ব্রিজে অবস্থান নেন তারা। এতে বাড্ডা-এয়ারপোর্ট রোডে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

রাস্তা ছেড়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দিলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘প্যান্ডামিকের কারণে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। অনেক ক্ষতি হয়েছে তাদের। তারা এখন পড়াশোনায় মননিবেশ করুক এটাই আমাদের চাওয়া।’

শেয়ার করুন

আশ্বাসে টঙ্গীতে মহাসড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

আশ্বাসে টঙ্গীতে মহাসড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ঢাকার শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস, অথচ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা পূর্ণ ভাড়া দেবে, এটা হতে পারে না। এক দেশে দুই নীতি কেন? ঢাকার মতো সারা দেশেও গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকর করতে হবে।’

সারা দেশে গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিশ্চিতের দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে সড়ক ছাড়েন তারা।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজ গেইট এলাকায় সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরমুখী সড়ক অবরোধ করেন।

এসময় ওই সড়কে যানচলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বেলা ১১টার দিকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন। তবে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের পাশেই অবস্থান নিয়ে হাফ ভাড়ার দাবিতে বিক্ষোভ করে। দুপুর ১২টার দিকে সেখান থেকেও সরে যায় শিক্ষার্থীরা।

টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সারা দেশের গণপরিবহনে হাফ ভাড়া নিশ্চিত করার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। আমরা তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছি বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সমাধান করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার পর যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ঢাকার শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস, অথচ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা পূর্ণ ভাড়া দেবে, এটা হতে পারে না। এক দেশে দুই নীতি কেন? ঢাকার মতো সারা দেশেও গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকর করতে হবে।’

রাজধানী ঢাকায় নিরাপদ সড়ক, গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার দাবিতে দীর্ঘদিন থেকেই বিক্ষোভ চলছে। দাবির মুখে সরকার বিটিআরসির সব বাসে হাফ ভাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা জানায়।

পরে বাস মালিক সমিতিও রাজধানীতে বাসে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখানোসহ কয়েকটি শর্তে হাফ ভাড়া কার্যকর করে। তবে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যই হাফ ভাড়া দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে তারপর থেকেই বিক্ষোভ চলছে।

শেয়ার করুন

‘জাওয়াদ’ আঘাত হানবে অন্ধ্রপ্রদেশে, বাংলাদেশে হবে বৃষ্টি

‘জাওয়াদ’ আঘাত হানবে অন্ধ্রপ্রদেশে, বাংলাদেশে হবে বৃষ্টি

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফাইল ছবি

ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ তার দিক সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন না ঘটালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত ছাড়া তেমন কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই বলে শনিবার জানান আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ।

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাত হানবে। এরপর কিছুটা দিক পরিবর্তন করে পশ্চিমবঙ্গের দিকে অগ্রসর হবে। যার প্রভাবে বাংলাদেশের ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ তার দিক সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন না ঘটালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত ছাড়া তেমন কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই বলে শনিবার নিউজবাংলাকে জানান আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে ৮০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানতে পারে। এরপর কিছুটা দিক পরিবর্তন করে পশ্চিমবঙ্গের দিকে যেতে পারে। তারপর আরও কিছুটা দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে বৃষ্টি হবে।’

তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি এখন যে অবস্থায় আছে, তাতে ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ থাকবে। বাংলাদেশে এর প্রভাবে বাতাসের গতিবেগ কমে বৃষ্টি হবে। তারপরও আমরা দেখছি, যদি দিক পরিবর্তন করে তাহলে বাংলাদেশের দিকে আসতে পারে। সেটি আমরা খেয়াল রাখছি।’

ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে ৯৯৫ কিলোমিটার এবং মোংলা থেকে ৮৮৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে। আর মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সে সঙ্গে গভীর সমুদ্রে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ৬ ঘণ্টায়, ৬ কিলোমিটার বেগে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’। ঘূর্ণিঝড়টি বিশাখাপত্তম থেকে ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, পুরী থেকে ৪৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে।

৫ ডিসেম্বর তা পুরী উপকূলে পৌঁছাতে পারে। এর পর তা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। তার পরই তা ক্রমে এগিয়ে আসতে পারে বাংলার উপকূলবর্তী এলাকায়। কিন্তু বাংলায় যখন আসবে, তখন তার শক্তি কতটা থাকবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানায় আলিপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোনসংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থার (ইএসসিএপি) তালিকা অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেয়া হয়েছে ‘জাওয়াদ’। নামটি প্রস্তাব করেছিল সৌদি আরব।

শেয়ার করুন

দ্বিতীয় টেস্টেও পাকিস্তানি জার্সি-পতাকা প্রতিরোধের ঘোষণা

দ্বিতীয় টেস্টেও পাকিস্তানি জার্সি-পতাকা প্রতিরোধের ঘোষণা

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজে গ্যালারিতে পাকিস্তানি পতাকার বাড়াবাড়ি রকম উপস্থাপনা ক্ষোভ ছড়িয়েছে দেশে।

হামজা রহমান অন্তর বলেন, ‘পৃথিবীর বহু দেশে পতাকাবিষয়ক রাষ্ট্রদ্রোহী আইনের মতো আমাদের দেশেও আইন থাকতে হবে, বাংলাদেশি কোনো নাগরিক স্বদেশে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহিতার অভিযোগে ব্যবস্থা গৃহীত হবে।’

প্রথম টেস্টের পর বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচেও বাংলাদেশের কেউ পাকিস্তানি পতাকা নিয়ে এলে বা জার্সি পরলে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে ‘পাকিস্তানি দালাল রুখবে তারুণ্য’ নামের একটি সংগঠন।

এর আগেও তারা ঢাকায় টি-২০ ম্যাচ ও চট্টগ্রামে অবস্থান নিয়েছিল।

সংগঠনটির আহ্বায়ক হামজা রহমান অন্তর জানান, শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তারা মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানি জার্সি ও পতাকাবাহীদের প্রতিহত করবেন।

অন্তর বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানের কোনো নাগরিকের তার নিজ দেশের সমর্থনের বিরোধিতা কখনোই করি না। বাংলাদেশে এসে অবশ্যই তারা তাদের নিজ পতাকা, জার্সি পরতে পারে। আমরা শুধু বাংলাদেশের নাগরিকদের পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধের বিপক্ষে।’

সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের খেলায় বাংলাদেশি কোনো নাগরিকের পাকিস্তানের পতাকা ও জার্সি নিয়ে স্লোগান দেয়ার অর্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আইন ভঙ্গ করা।

হামজা রহমান অন্তর আরও বলেন, ‘পৃথিবীর বহু দেশে পতাকাবিষয়ক রাষ্ট্রদ্রোহী আইনের মতো আমাদের দেশেও আইন থাকতে হবে, বাংলাদেশি কোনো নাগরিক স্বদেশে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহিতার অভিযোগে ব্যবস্থা গৃহীত হবে।’

শেয়ার করুন

শিক্ষানীতি বদলালেও মৌলিক বিষয় ঠিক রাখতে হবে

শিক্ষানীতি বদলালেও মৌলিক বিষয় ঠিক রাখতে হবে

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ড. কাজী খলীকুজ্জমান। ছবি: নিউজবাংলা

সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী ও অ্যালামনাই সবাই মিলে আমাদের প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উজ্জ্বল করব- শতবর্ষের আজকের আয়োজন থেকে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

জাতীয় শিক্ষানীতিতে পরিবর্তন আনলে মৌলিক বিষয় যাতে অক্ষুণ্ন থাকে সেদিকে খেয়াল রাখার তাগিদ দিয়েছেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার তৃতীয় দিন শুক্রবার এক আলোচনা সভায় তিনি এই তাগিদ দিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত এই আলোচনায় ড. খলীকুজ্জমান বলেন, ‘আমাদের একটি শিক্ষানীতি আছে। তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। নতুন করে আবার নাকি শিক্ষানীতি করা হবে।

‘আমরা ‍যদি এ রকম দুই বছর বা পাঁচ বছর পর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাই তাহলে শিক্ষার্থীদের কী অবস্থা হবে। তারা এক ব্যবস্থা থেকে অন্য ব্যবস্থায় যাচ্ছে। আমার মনে হয় একটি মৌলিক বিষয় ঠিক রেখে অন্যান্য বিষয় পরিবর্তন করা যায়। মৌলিক বিষয় ঠিক রেখে পরিবর্তনের কথা ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতেও বলা আছে।’

ড. খলীকুজ্জমান বলেন, ‘শিক্ষার মান এবং মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয়। মূল্যবোধের দিকে আমাদের বিশেষভাবে নজর দেয়া দরকার। তবে দক্ষতা ছাড়া শুধু মূল্যবোধ থাকলে হবে না। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই পারে দক্ষ ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করতে। তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক থেকে মূল্যবোধ ও দক্ষতার ওপর জোর দেয়া না হলে তা সম্ভব হবে না।’

শুক্রবার বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অনারারি অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান সভাপতিত্ব করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মুজাম্মেল হক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি না হলে পাকিস্তানও সৃষ্টি হতো না। বাঙালিরাই পাকিস্তান সৃষ্টি করেছিল। আজ যারা পাকিস্তানি তারা ১৯৪৭ সালে অবিভক্ত ভারতের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁর গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে পাকিস্তান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছিলেন।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের গবেষণা বাড়াতে হবে। আমাদের জীবনমান ও চাহিদা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শিক্ষার যে বিষয়গুলো পরিবর্তন হচ্ছে সে ক্ষেত্রেও দৃষ্টি দিতে হবে। চিন্তা-চেতনায়ও পরিবর্তন আনতে হবে।’

সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘দেশের প্রতিটি আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল অগ্রণী ভূমিকায়। ছাত্র-ছাত্রীরা যেরকম অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে শিক্ষকরাও তাদের পাশে থেকেছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই সম্পর্ক ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় বৈশিষ্ট্য। আজ আমরা ছাত্র-শিক্ষকের যে সম্পর্ক দেখি তা কাম্য নয়।’

ডাকসুর সাবেক এই সহসভাপতি বলেন, ‘আমরা উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছি। আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। নতুন এই চ্যালেঞ্জ কিভাবে মোকাবেলা করব, সেটা যদি নির্ধারণ করতে না পারি তাহলে উন্নয়নশীল দেশের তালিকা থেকে আবার আমরা ছিটকে পড়ব। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়কেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী, অ্যালামনাইসহ সবাই মিলে আমাদের প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উজ্জ্বল করব- শতবর্ষের আজকের আয়োজন থেকে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে বিশ্বমানের জনসম্পদ গড়তে উন্নতমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছি। তবে এ জন্য আমাদের বাড়তি মনোযোগ ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। সেই সক্ষমতা নিশ্চয়ই আমাদের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের রয়েছে।’

সাবেক এই গভর্নর বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চয়ই বিশ্বমানের বিদ্যাপীঠ। এখনো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যেসব প্রকাশনা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হচ্ছে আমরা হয়তো সেভাবে সেগুলো রেকর্ড করতে পারছি না। আমরা এগুলো রেকর্ড করতে পারলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং নিশ্চয়ই আরো অনেক ওপরে উঠে যাবে।’

আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে একটি বিতর্ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘এই সংসদ মনে করে, শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবলই ঐতিহ্যনির্ভর’ শীর্ষক এই বিতর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

বিতর্ক শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন নাহিদ আফরোজ সুমি। এই পর্বে নাটক পরিবেশন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সংগীত পরিবেশন করে। ফাহিম হোসেন চৌধুরী, সুজিত মোস্তফা, রফিকুল আলম এবং শুভ্র দেব একক সংগীত পরিবেশন করবেন। ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করেন দলছুটের বাপ্পা মজুমদার। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হয়।

শেয়ার করুন

ঢাকায় শান্তি সম্মেলন শুরু আজ

ঢাকায় শান্তি সম্মেলন শুরু আজ

ঢাকায় নতুন রূপে উদ্বোধন হওয়া হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। এখানে শনিবার শান্তি সম্মেলন উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী শান্তি ও মানবিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদানের কথা ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যেই দুদিনব্যাপী এই বিশ্ব শান্তি সম্মেলন।’

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ- এমন অভিপ্রায় সামনে রেখে আজ শনিবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে দুই দিনের শান্তি সম্মেলন।

বাংলাদেশ যে বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে, এই সম্মেলনে সেই বার্তা সবার কাছে পৌঁছাতে চায় ঢাকা।

বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে সম্মেলনের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘শান্তি ও সম্প্রীতির দেশে স্বাগতম’।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী শান্তি ও মানবিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদানের কথা ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যেই ৪ ডিসেম্বর (শনিবার) ঢাকায় শুরু হচ্ছে বিশ্ব শান্তি সম্মেলন।’

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আজ শনিবার বেলা আড়াইটায় দু'দিনব্যাপী এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ‘অ্যাডভান্সিং পিস থ্রু সোশ্যাল ইনক্লুশন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। আগামীকাল রোববার সমাপনী অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, সোনারগাঁও হোটেল ও ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে হবে শান্তি সম্মেলনের বিভিন্ন আয়োজন। উদ্বোধন ও সমাপনী অনুষ্ঠান হবে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। প্যানেল আলোচনা হবে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবারের সম্মেলন সশরীরে ও ভার্চুয়াল- দুই মাধ্যমের অধিবেশনই থাকছে। সম্মেলনে ‘ঢাকা শান্তি ঘোষণা’ গৃহীত হবে।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর নামে সম্মাননা দেয়া হবে। বৈশ্বিকভাবে যেসব মানুষ শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখছেন, বিশেষ করে কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিক, বিজ্ঞানীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মেলনে সম্মানিত করা হবে।

ঢাকায় বিশ্ব শান্তি সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে ‘সিনেমা ফর পিস’ নামের দুই দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসবের। জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আজ ও আগামীকাল রোববার এই উৎসবে চারটি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। সেগুলো হলো- ব্যালাড অফ আ সোলজার, দ্য ক্রেনস আর ফ্লাইং, ওয়ার অ্যান্ড পিস ও অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী। এ জন্য কোনো টিকিট লাগবে না।

বিশ্ব শান্তি নিয়ে কাজ করা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কবি, সাহিত্যিক, নোবেল বিজয়ী, শিক্ষাবিদ, মানবাধিকারকর্মী, চলচ্চিত্রকার, থিংক ট্যাংক ও সাবেক রাজনীতিকরা সম্মেলনে অংশ নেবেন।

ধর্মীয় ইস্যুতে ভ্যাটিকান সিটি থেকে প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। ওয়ার্ল্ড পিস কাউন্সিল থেকেও কিছু ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

আমন্ত্রিত শতাধিক অতিথির জন্য চারটি প্যানেল ডিসকাশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সম্মেলনের শুরুর দিন আজ দুটি এবং সমাপনী দিন আগামীকাল দুটি প্যানেল ডিসকাশন হবে। এসব প্যানেল ডিসকাশনে যোগ দিয়ে অতিথিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন।

সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন ৩৪ জনের মতো ব্যক্তিত্ব। তাদের মধ্যে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন, সিঙ্গাপুরের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গোহ চক তং, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ভারতের কৈলাশ সত্যার্থীসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রয়েছেন।

আর ৬০ থেকে ৬৫ জনের মতো অতিথি সশরীরে সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীলঙ্কান ইউনিভার্সিটি অফ কলম্বোর উপাচার্য অধ্যাপক চান্দ্রিকা এন ওয়াজেয়ারতে, ভারতের চলচ্চিত্রকার গৌতম ঘোষ, ভারতের সাবেক মন্ত্রী সুরেশ প্রভুসহ অনেকে।

সম্মেলনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শান্তির অগ্রদূত। উপমহাদেশসহ সারা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু আজীবন কাজ করে গেছেন এবং সে জন্যই তিনি আমাদের বৈদেশিক নীতি করেছেন- সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়।’

ড. মোমেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেছেন- পিস ইজ ইম্পারেটিভ ফর ডেভেলপমেন্ট। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাও বাবার পথ ধরে এই পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছেন। তিনিও সব সময় শান্তির অগ্রদূত হিসেবে বিবেচিত।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথিবীতে সংঘাত, যুদ্ধবিগ্রহ কমানোর জন্য একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটি হচ্ছে শান্তির সংস্কৃতি। প্রস্তাবটি পৃথিবীর সব দেশ গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী যে শান্তি-সংস্কৃতির ধারণা দিয়েছেন, সেটিও আমরা তুলে ধরব।

‘পৃথিবীতে টেকসই শান্তির জন্য প্রয়োজন একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, সহনশীলতা। এগুলো আমরা তুলে ধরব। এই সম্মেলন বিশ্বে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে সহযোগিতা করবে। এ জন্যই আমাদের এ আয়োজন।’

‘বিশ্ব শান্তি সম্মেলন’ উপলক্ষে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে একটি প্রীতি টি-১০ ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করে। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহায়তায় আয়োজিত এই ম্যাচে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটাররা ‘টিম হারমনি’ ও ‘টিম ইউনিটি’ নামে ভাগ হয়ে অংশ নেন।

সম্মেলন উপলক্ষে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর শান্তি দর্শনের আলোকে শান্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোচনা হবে। আর ‘ঢাকা শান্তি ঘোষণা’ শীর্ষক সর্বসম্মত ঘোষণার মাধ্যমে শেষ হবে সম্মেলন।

সম্মেলন উপলক্ষে আজ সোনারগাঁও হোটেলে ডিনার ও সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং আগামীকাল ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পিঠা উৎসব হবে।

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব শান্তি সম্মেলন আয়োজনের অনুমোদন দেন গত মার্চে। এরপর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে সভাপতি ও সায়মা ওয়াজেদকে সদস্য সচিব করে ৪৬ সদস্যের আয়োজক কমিটি গঠন করা হয়।

শেয়ার করুন