মা ছিলেন সবচেয়ে বড় গেরিলা: শেখ হাসিনা

মা ছিলেন সবচেয়ে বড় গেরিলা: শেখ হাসিনা

‘এই যে একটা গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন হয়েছি, আমি বলব যে আমার মা ছিলেন সবচেয়ে বড় গেরিলা। অসামান্য স্মরণশক্তি ছিল তার।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে জীবনের একটি বড় সময় কারাগারে কাটিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতির সময় বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা গোপনে বিভিন্ন বার্তা পৌঁছে দিতেন দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে। তার বড় কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মায়ের এই ভূমিকাকে তুলনা করেছেন গেরিলা কৌশল হিসেবে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোববার সকালে বঙ্গমাতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে গণভবন থেকে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মায়ের জন্মদিনে কন্যার স্মৃতিচারণা জীবন্ত করে তোলে 'বঙ্গমাতার রাজনৈতিক ভূমিকা'।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মা রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। দলীয় লোকজনের সঙ্গে গোপনে দেখা করা, যোগাযোগ রাখা, নির্দেশনা দেয়াসহ অনেক কাজ করতেন। তিনি বোরকা পরে যেতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়, বিশেষ করে পলাশী ও আজিমপুর কলোনিতে আমাদের আত্মীয়র বাসায়, সেখানে গিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করতেন। তাদের নির্দেশনা দিতেন।

‘এই যে একটা গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন হয়েছি, আমি বলব যে আমার মা ছিলেন সবচেয়ে বড় গেরিলা। অসামান্য স্মরণশক্তি ছিল তার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের নাম ইতিহাসে লেখা থাকবে, কিন্তু যারা পাশে থাকেন ,সেটা হয়তো সব সময় লেখা থাকে না। স্বামীহারা, ভাইহারা নারী যারা তাদের কথা কিন্তু লেখা থাকে না। বাংলাদেশে আমাদেরও অবস্থা একসময় এমনই ছিল।

‘কিন্তু এখন মানুষ সচেতন হয়েছে। সমাজে নারীদের অবস্থান স্বীকৃতি পেয়েছে। ধীরে ধীরে তাদের অবদানটাও সামনে চলে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ইতিহাস যদি আমরা পর্যালোচনা করি, সেখানে আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই বাঙালির স্বাধীনতাসংগ্রামের জন্য নিজের জীবনটা উৎসর্গ করেছিলেন। এ কারণে বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, উন্নত জীবনের ব্যবস্থা করাই ছিল তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।

‘যে পরিবারে তিনি জন্মেছেন, লেখাপড়া শিখে সমাজের অনেক বড় একটি অবস্থানে তিনি থাকতে পারতেন। নিজের ভাগ্য তৈরি করা বা নিজের জন্য কিছু করার থেকে দেশের মানুষের কল্যাণে তার জীবন উৎসর্গ করেছেন। কিন্তু তার পাশে থেকে সব সময় প্রেরণা জুগিয়েছেন আমার মা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার মা কখনো সামনে আসেননি। কখনো মিডিয়ার সামনে যাননি, কখনো নিজের নাম ফলাতেও যাননি। তিনি নীরবে পাশে থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমার বাবাকে সহযোগিতা করে গেছেন, সমর্থন দিয়ে গেছেন। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ত্যাগ, তিনি তা স্বীকার করে গেছেন।

‘আমি বড় মেয়ে। আমার সঙ্গে মায়ের বয়সের তফাত কিন্তু বেশি না, ১৮-এর মতো ব্যবধান হবে। আমি মায়ের সবচেয়ে কাছের, তার সুখ-দুঃখের সাথি। তার জীবনের কথা আমি যতটা শুনেছি, অন্য কারও সুযোগ হয়নি। তার যে ধৈর্য-সাহস, সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া, তা আমাদের দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামকে এগিয়ে নিতে বা বাস্তবায়ন করতে যথেষ্ট অবদান রেখেছে।’

বঙ্গমাতাকে খুব সাধারণ একজন নারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর পাঁচজন নারীর মতো আমার মা ছিলেন না। স্বামীর কাছে নারীর অনেক রকম আকাঙ্ক্ষা থাকে। কত মানুষ কত কিছুই তো চায়। শাড়ি চায়, বাড়ি চায়, গহনা চায়.. এটা চায়, সেটা চায়। আমার মা কিন্তু কোনও দিন সংসারের, ব্যক্তিগত জীবনের বা আমাদের জন্য চাহিদার কথা বাবার কাছে বলেননি।

‘বরং সব সময় তিনি এটা বলতেন, সংসার নিয়ে ভাবতে হবে না, চিন্তা করতে হবে না, আমাদের নিয়ে ভাবতে হবে না। তুমি দেশের কাজ করছো, দেশের কাজই করো, দেশের কথা চিন্তা করো। যখনই আমার বাবা কারাগারে গেছেন, আমার মা তাকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন। কারাগারে গিয়েও তাকে সব সময় যে কথাগুলো বলতেন…. একটা জিনিস যেমন প্রেরণা দেয়া, সেই প্রেরণাই তিনি দিয়ে গেছেন সারাটা জীবন।’

বঙ্গমাতার জন্মতারিখ মিলেছে যেভাবে

বঙ্গমাতার জন্মদিনের তারিখ পাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নানা তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘তার জন্মদিনটি আমরা যেভাবে পেলাম, তার পেছনেও ইতিহাস আছে।

‘ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটা কিন্তু খুব ধীরে ধীরে আস্তে আস্তে তৈরি করা হয়েছে, একবারে করা সম্ভব হয়নি। আব্বা আজকে জেলে, কালকে বাইরে। মা-ই উদ্যোগ নিয়ে বাড়ির কাজ শুরু করেন। সোহরাওয়ার্দী সাহেব ঢাকায় আমাদের বাড়ি দেখতে আসেন। তারপর উনি যখন ফিরে যান, তখন প্লেনের কয়েকটি সিঁড়ি উঠে আবার নেমে আসেন।

‘তিনি নেমে এসে আমার আব্বাকে বলেন, মুজিব তোমার বাড়িটা হেবা করে তোমার স্ত্রীর নামে লিখে দাও। তিনি পকেট থেকে কিছু টাকাও বের করে দেন। হেবা করতে গেলে রেজিস্ট্রি করতে টাকা লাগবে তাই। এটা সম্ভবত ৬২ সালের কথা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘হেবা করতে গেলে বিয়ের কাবিননামা দরকার, সেটা ছিল আমার দাদার কাছে। দাদা ওটা নিয়ে আসেন, আমরা খুব আগ্রহ নিয়ে দেখি সেখানে কী লেখা আছে। সেখান থেকেই মায়ের জন্মতারিখটা আমরা পাই।

‘সেই থেকে আমরা ছোটখাটো করে জন্মদিনটা উদযাপন করতাম। যদিও আমাদের বাসায় এ ধরনের উৎসব তেমন করা হতো না, শুধু রেহানার জন্মদিনে বন্ধুবান্ধবদের একটু ডাকত। আর আমরা খুবই ঘরোয়াভাবে জন্মদিন করতাম।’

বঙ্গমাতার যে সিদ্ধান্ত বদলে দেয় ইতিহাস

বেগম ফজিলাতুন নেছার কিছু কঠোর সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ইতিহাস পাল্টে যায় বলে মনে করছেন তার বড় মেয়ে শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত আমার মা সময়মতো নিতে পেরেছিলেন বলেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। যেমন ছয় দফা না আট দফা, এটা নিয়ে যখন চরম বিতর্ক, তখন আওয়ামী লীগেরও অনেক সিনিয়র নেতা চলে গেছেন আট দফার পক্ষে। পাকিস্তান থেকে নেতারা এসেছেন আট দফার পক্ষ নিয়ে।

‘কিন্তু আট দফা ছিল একটা শুভংকরের ফাঁকি, শিক্ষিত অনেকেই হয়তো সেটা ধরতে পারেননি। কিন্তু আমার মায়ের কাছে সেটা স্পষ্ট ছিল, তিনি বলেছিলেন- ছয় দফার একটা দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন পরিবর্তন হবে না। সেই সিদ্ধান্তটাই ওয়ার্কিং কমিটিতে দেয়া হয়েছিল।’

আরেকটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা যখন দেয়া হলো, তখন বাবাকে প্যারোলে যাওয়ার জন্য আমাদের নেতাদের প্রচণ্ড চাপ। আইয়ুব খান মিটিং ডেকেছে যেতেই হবে, এমন কথা বলছিলেন সবাই। মায়ের কাছে আব্বার প্যারোলে যাওয়াটা ছিল অত্যন্ত অসম্মানজনক। তখন রীতিমতো অভ্যুত্থান হয়েছে।

‘মা কিন্তু সেখানে দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এ সিদ্ধান্তটা যদি তিনি সেদিন না নিতেন, আর খবরটা বাবার কাছে না পৌঁছাতেন, তাহলে বাংলাদেশ কোনো দিনই স্বাধীন হতো না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরপর ৭ মার্চের ভাষণ। সেখানেও অনেকের অনেক কথা ছিল। কেউ কেউ অতি উত্তেজিত হয়ে বলছিলেন- এই মুহুর্তেই ঘোষণা দিতে হবে। তাহলে তো অন্য ঘটনা ঘটে যেত।

‘ওখান থেকে একটি মানুষও জীবিত ফিরে যেতে পারত না। কোনো দিন যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন সম্ভব হতো না। এসব ক্ষেত্রে আমার মায়ের যে কথা বা পরামর্শ সেটাই কিন্তু বাংলাদেশের ভাগ্যকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’

আরও পড়ুন:
‘ক্ষমতা ভোগ-বিলাসের বিষয় না’
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দেশ চালাচ্ছে ‘অদৃশ্য শক্তি’: ফখরুল

দেশ চালাচ্ছে ‘অদৃশ্য শক্তি’: ফখরুল

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অলি আহাদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সারভেইলেন্সটা এবং এই অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা এত গভীরে চলে গেছে যে তারা এ দেশের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ দেশের সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ রকম একটা অবস্থার মধ্যে আমরা গণতন্ত্রের লড়াইটা করছি।’

এক ‘অদৃশ্য শক্তি’ দেশ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, “প্রতি মুহূর্তে প্রতিক্ষণে আমাদের ওপর খবরদারি করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ আগে আমি নিচে জাতীয় প্রেস ক্লাবের লাউঞ্জে চা খাচ্ছিলাম। আজকে আওয়ামী ঘরানার সাংবাদিকদের একটা নির্বাচন হচ্ছে। আওয়ামী ঘরানার এক সাংবাদিক বললেন যে অদ্ভুত কাণ্ড, এই আমরা সবাই তো আওয়ামী ঘরানার। আমাদের কাছে মেসেজ আসতে শুরু করেছে ‘অদৃশ্য জায়গা’ থেকে যে অমুককে ভোট দিতে হবে, অমুককে ভোট দিতে হবে।”

ফখরুল বলেন, ‘সারভেইলেন্সটা এবং এই অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা এত গভীরে চলে গেছে যে তারা এ দেশের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ দেশের সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ রকম একটা অবস্থার মধ্যে আমরা গণতন্ত্রের লড়াইটা করছি।’

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রয়াত রাজনীতিক অলি আহাদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে অংশগ্রহণে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা (বিএনপি) তো লড়ছি। আমরা আপনাদের কাছে এইটুকু আশা করব, এই লড়াইয়ে একটা ইস্যুতে অর্থাৎ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই, সেই লড়াইয়ে আসুন আমরা একসঙ্গে আসি। লেট আস ফাইট টুগেদার। আমরা একসঙ্গে লড়াইটা করি এবং দেশকে এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে বের করে নিয়ে আসি। এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে একটা গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করি।’

তিনি বলেন, ‘এরপরে যার সেটা বোঝাপড়া তারা সেটা করে নেবেন। অন্তত একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমরা ফিরে আসি।’

প্রয়াত রাজনীতিক অলি আহাদের মেয়ে বিএনপিদলীয় সাংসদ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকি এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

আরও পড়ুন:
‘ক্ষমতা ভোগ-বিলাসের বিষয় না’
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’

শেয়ার করুন

‘সরকারের কাছে একটা বালিশের দাম ২২ হাজার টাকা’

‘সরকারের কাছে একটা বালিশের দাম ২২ হাজার টাকা’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বালিশকাণ্ডের বিষয়টি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করবে না কেন। ওরা একটা বালিশের দাম নেয় ২২ হাজার টাকা। এই দুর্নীতি এবং তাদের পকেট ভারী করার জন্যই দ্রব্য মূল্যের দাম বেড়েছে। সয়াবিন তেল, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, চাল…এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে চালের দাম সবচেয়ে বেশি। এটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভী। বলেছেন, সরকারের দুর্নীতির কারণেই বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম।

দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শনিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বালিশকাণ্ডের বিষয়টি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করবে না কেন। ওরা একটা বালিশের দাম নেয় ২২ হাজার টাকা। এই দুর্নীতি এবং তাদের পকেট ভারী করার জন্যই দ্রব্য মূল্যের দাম বেড়েছে। সয়াবিন তেল, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, চাল…এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে চালের দাম সবচেয়ে বেশি। এটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা নিয়েও মন্তব্য করেন বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা। তার দাবি, এ ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত।

রিজভী বলেন, ‘এটা পরিকল্পিত, এ কথা আগেও বলেছি। আমি যে কথাগুলো বলছি এটা বিএনপির কোনো বক্তব্য না। আজকে গণমাধ্যমগুলোতে সরকারের চাপের মুখেও সত্য কথা বেরিয়ে আসছে। সরকার নিজেদের স্বার্থের জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘কুমিল্লা, হাজীগঞ্জ, রংপুর, চট্টগ্রাম প্রতিটি জায়গায় আওয়ামী লীগ নিশ্চুপ ছিল। পত্রপত্রিকায় এসেছে যেদিন সকালে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে ওসি সাহেব গেলেন উনি পূজামণ্ডপ থেকে কোরআন শরীফ তুললেন, উনি কেন এতক্ষণ মিডিয়ার সামনে ধরে রাখলেন। প্রত্যেকটাতে প্রমাণিত হয় এটি পরিকল্পিত। এটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের বহির্বিশ্বে যে সুনাম রয়েছে তা এই সরকার বিনষ্ট করেছে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
‘ক্ষমতা ভোগ-বিলাসের বিষয় না’
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’

শেয়ার করুন

মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল

মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা কথা দিয়েছিল ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। এখন চাল খাওয়াচ্ছে ৭০ টাকায়। এক সপ্তাহের মধ্যে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। চিনির দাম বেড়েছে, লবণের দাম বেড়েছে, সবজির দাম বেড়েছে, ডালের দাম বেড়েছে। মানুষ কী খাবে সেদিকে সরকারের খেয়াল নাই। তারা খেতে পারলেই হলো।’

দেশ পরিচালনা করতে আওয়ামী লীগ সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, এই সরকার মানুষের খাওয়া-পরার দাম কমাতে পারে না; জনগণ কী খেয়ে বাঁচবে তাতেও খেয়াল নেই।

দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শনিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা কথা দিয়েছিল ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। এখন চাল খাওয়াচ্ছে ৭০ টাকায়। এক সপ্তাহের মধ্যে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। চিনির দাম বেড়েছে, লবণের দাম বেড়েছে, সবজির দাম বেড়েছে, ডালের দাম বেড়েছে। মানুষ কী খাবে সেদিকে সরকারের খেয়াল নাই।

‘তারা খেতে পারলেই হলো। আওয়ামী লীগ খাবে পেট মোটা করবে, শরীর মোটা করবে আর দুর্নীতি করে বিদেশে টাকা পাচার করে বিদেশে বাড়িঘর তৈরি করবে। অর্থাৎ এই সরকার দেশ পরিচালনা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিবের মতে, এই সরকার একদিকে যেমন নিত্য পণ্যের দাম কমাতে ব্যর্থ হয়েছে, গরীব মানুষকে অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান দিতে ব্যর্থ হয়েছে অন্যদিকে দেশে সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে পুলিশ প্রশাসন দিয়ে পুজামণ্ডপে কোনো প্রকার নিরাপত্তা দেয়া হয় না এবং সরকারের মদদেই এই সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এর একটাই কারণ, সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা। এই সরকার মানুষের অধিকারগুলোকে হরণ করছে; ধ্বংস করে দিচ্ছে।

মানুষ আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মানুষ এখন তাদের অধিকার চায়, ভোটের অধিকার চায়, দেশনেত্রীকে মুক্ত দেখতে চায়, আমাদের ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে যে মামলা তা প্রত্যাহার চায়, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা তা প্রত্যাহার চায়।

‘আমাদের মনে রাখতে হবে কেন আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম, একটা স্বাধীন গণতান্ত্রিক মুক্ত বাংলাদেশের জন্য। সেই বাংলাদেশকে এই সরকার ধ্বংস করেছে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে। তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল গঠন করতে চায়। আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, অবিলম্বে গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। তার বিরুদ্ধে থাকা সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। চাল, ডাল ও তেলের দাম কমাতে হবে।’

সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকারকে বলব, দয়া করে মানুষের ওপর অত্যাচার বন্ধ করে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে দায়িত্ব দিন, যারা একটি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
‘ক্ষমতা ভোগ-বিলাসের বিষয় না’
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’

শেয়ার করুন

মেয়র জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ১৯ নভেম্বর

মেয়র জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ১৯ নভেম্বর

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ফাইল ছবি

কাদের বলেন, ‘গাজীপুরের মেয়র ও গাজীপুর সিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ অন্যান্য আরও কিছু সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী অভিযোগ আগামী ১৯ নভেম্বর শুক্রবার বিকাল ৪টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় উত্থাপিত হবে।’  

ঘরোয়া আলোচনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ‘কটূক্তি’ এবং শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও গাজীপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম পদে থাকবেন কি না, তা জানা যাবে ১৯ নভেম্বর।

ওই দিন বিকেল ৪টায় আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় মেয়র জাহাঙ্গীরসহ আরও কয়েকজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নিজ বাসভবনে শনিবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

কাদের বলেন, ‘গাজীপুরের মেয়র ও গাজীপুর সিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ অন্যান্য আরও কিছু সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী অভিযোগ আগামী ১৯ নভেম্বর শুক্রবার বিকাল ৪টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় উত্থাপিত হবে।

‘সভায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক আলোচনার পাশাপাশি দলীয় আদর্শ এবং শৃঙ্খলাবিরোধী বক্তব্যের জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে প্রদত্ত শোকজ নোটিশের ওপর আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।’

সম্প্রতি নিজ বাসায় বসে একজনের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও ফেসবুকে ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধিকার আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন গাজীপুর আওয়ামী লীগের অন্যতম এ নেতা।

গাজীপুর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানকে নিয়েও আপত্তিকর বক্তব্য আছে সে ভিডিওতে।

বিষয়টি পছন্দ হয়নি স্থানীয় আওয়ামী লীগের বড় অংশের। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নানাভাবে ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তারা। ভিডিওর বক্তব্যের বিষয়ে এরই মধ্যে জাহাঙ্গীরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় সংসদ। সেই নোটিশের জবাবও দিয়েছেন জাহাঙ্গীর।

শুরু থেকেই ভিডিওকে বানোয়াট বলে আসছেন জাহাঙ্গীর। তিনি তার অনুসারীদের নিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর একটি সমাবেশও করেন। পাশে তার বিরোধীদেরও অবস্থান ছিল। পুলিশ বিরোধীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার পর জাহাঙ্গীর নির্বিঘ্নে সমাবেশ করেন।

শনিবারের ব্রিফিংয়ে কুমিল্লায় মণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় গ্রেপ্তার ইকবালকে নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘আপনিই (মির্জা ফখরুল) তথ্যপ্রমাণ দিয়ে বলুন, এ কয়দিন ইকবাল কোথায় ছিল?

‘ভিডিও ফুটেজে চিহ্নিত হওয়া কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখা ইকবাল হোসেনের গ্রেপ্তারে যখন সবাই স্বস্তি প্রকাশ করছে তখন বিএনপি মহাসচিব প্রশ্ন তুলেছেন গ্রেপ্তার হওয়া যুবক এতদিন কোথায় ছিল? আসলে যেকোনো অর্জন বা সাফল্যকে বিতর্কিত করা বিএনপির স্বভাব। প্রতিটি বিষয়ে সন্দেহ করার বিরল প্রজাতির ভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি।’

আরও পড়ুন:
‘ক্ষমতা ভোগ-বিলাসের বিষয় না’
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’

শেয়ার করুন

যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া

যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা ঘিরে শহরের বিভিন্ন স্থানে পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার, ফেস্টুন-তোরণে ভরে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের যুবলীগের নেতা-কর্মীদের নামে শুভেচ্ছাবার্তার ফেস্টুন ও তোরণ দেয়া হয়েছে। বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাজুড়ে, বিশেষ করে শহরে যেদিকেই তাকানো হোক শুধু ব্যানার-পোস্টার আর ফেস্টুন। সে সঙ্গে জেলার মহাসড়ক থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, তৈরি করা হয়েছে বড় বড় তোরণ।

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। সে সভাকে ঘিরেই এমন সাজ সাজ অবস্থা।

১৭ বছর পর যুবলীগের কমিটি গঠনের যে গুঞ্জন সেটি এই বর্ধিত সভায় আলোচনা হবে। এ জন্য সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে শহর ছেয়ে ফেলেছেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম।
জেলা শহর ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রবেশপথ আশুগঞ্জ থেকে শুরু শহরের কাউতলী, টিএ রোড, কালীবাড়ির মোড়, কুমাড়শীল মোড়, কোর্ট রোড, সাবরেজিস্ট্রার অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি স্কুল-কলেজের ভবনে লাগানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন।

একইভাবে সার্কিট হাউস এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও লাগানো হয়েছে ব্যানার ও তোরণ।

এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের যুবলীগের নেতা-কর্মীদের নামে শুভেচ্ছাবার্তার ফেস্টুন ও তোরণ দেয়া হয়েছে। বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর এলাকায় তোরণ লাগিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সভাপতি ভিপি হাসান সারোয়ার। তিনি যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী।

শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর পর বর্ধিত সভা হচ্ছে। তা নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। তা ছাড়া কমিটি নিয়েও জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন কেন্দ্রীয় নেতারা। নেতাদের আগমনকে কেন্দ্র করে আশুগঞ্জ থেকে শুরু করে জেলা শহরের প্রধান সড়ক পর্যন্ত ২৬টি তোরণ বসিয়েছি। তা ছাড়া শহরজুড়েই টাঙিয়েছি ব্যানার ফেস্টুন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন বছরের জন্য ২০০৪ সালের ২৮ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটি গঠন হয়েছিল। ১৭ বছর পার হলেও নতুন কমিটি হয়নি। এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ৪ বার হয়েছে। তাতে সাবেক ছাত্রলীগের নেতারাও পদহীন আছেন দীর্ঘদিন।

২০০৪ সালে অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌসকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সে কমিটি ঘোষণার প্রায় এক বছর পর ২০০৫ সালের ১৮ জুন কেন্দ্রীয় যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম তিন বছর মেয়াদে এই কমিটির অনুমোদন দেন।

তবে সে কমিটি তিন বছরের জন্য অনুমোদন দেয়া হলেও ১২ বছর পার হয়। পরে জেলা যুবলীগের কমিটির সভাপতি মাহবুবুল আলম খোকন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চলে যান।

এরপর সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শাহনুর ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়।
এদিকে যুবলীগের কমিটির অপেক্ষায় বসে ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীরা। এবার নতুন কমিটিতে তারা পদ পাবেন বলে প্রত্যাশার কথা জানান।

সে জন্য বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন ১৪ জন প্রার্থী।

নতুন কমিটিতে সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস, সৈয়দ এহতেশামুল বারী তানজিল, হাজি মাহমুদুল হক ভূইয়া,হাসান সারোয়ার, জাহাঙ্গীর আলম, আলী আজম, শাহসুদ আলম, হাবিবুর রহমান পারভেজ, মাসুম বিল্লাহসহ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে বিভিন্ন প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস বলেন, ‘নানা কারণে ২০১৪ সালের পর আর সম্মেলন হয়নি। আমরা যেসব কমিটি দিয়েছিলাম সবগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, আখাউড়া ও আশুগঞ্জ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হয়েছিল তিন মাসের জন্য। তারও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।’

তিনি জানান, জেলায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় কমিটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন:
‘ক্ষমতা ভোগ-বিলাসের বিষয় না’
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’

শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুরের সেই তাহের বাদ, নৌকা পেলেন মাসুম

লক্ষ্মীপুরের সেই তাহের বাদ, নৌকা পেলেন মাসুম

আবু তাহের (বাঁয়ে), মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু জানান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করাই হলো এখন মূল কাজ। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন না দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আলোচনায় আসা লক্ষ্মীপুরের সেই আবু তাহেরকে এবার পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ পদে দল এবার আস্থা রেখেছে জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়ার ওপর।

শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলটির স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়।

আগামী ২৮ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ভোট।

দলের নেতা-কর্মীরা জানান, আবু তাহের লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। দলীয় মনোনয়নে লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় টানা দুবার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।

দলীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবু তাহের লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী নুরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় তিনি সারা দেশে আলোচনায় আসেন।

গত ১০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য আবু তাহেরের নাম বাদ দিয়ে ১০ নেতার নাম কেন্দ্রে জমা দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। তাহেরকে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন না দেয়ার অনুরোধ করে দলের সভাপতির কাছে চিঠি দেন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

সাবেক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দীন চৌধুরীসহ চার নেতা চিঠিতে সই করেন।

এ বিষয়ে একাধিকবার আবু তাহেরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় মনোনয়ন চেয়ে তিনি পাননি। সেটা দলের সিদ্ধান্ত। এর বাইরে কোনাে কথা বলতে রাজি হননি কেউ।

মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া জানান, দল এবার তাকে মূল্যায়ন করেছে। দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন। এ ছাড়া আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থেকে সব কর্মসূচি পালন করেছেন। যখন যেভাবে সুযোগ পেয়েছেন এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন।

নির্বাচনে বিজয়ী হলে লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন তিনি।

মাসুম জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি প্রয়াত আ ন ম ফজলুল করিমের ভাগনে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু জানান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করাই হলো এখন মূল কাজ। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন না দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

আরও পড়ুন:
‘ক্ষমতা ভোগ-বিলাসের বিষয় না’
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’

শেয়ার করুন

শনিবার উপজেলা দিবস পালন করবে জাতীয় পার্টি 

শনিবার উপজেলা দিবস পালন করবে জাতীয় পার্টি 

বরিশালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ। ফাইল ছবি

জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম জানান, এরশাদ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তার পূর্ণ বাস্তবায়ন চাওয়া হবে তাদের নানা আয়োজনে।

দলীয় প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে যে উপজেলা পরিষদের প্রতিষ্ঠা হয়, সেই দিনটি দিবস হিসেবে পালন করতে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি।

১৯৮৪ সালের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি থাকাকালে এরশাদ উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন।

দিবসটিকে কেন্দ্র করে আলোচনা সভাসহ সারা দেশে দলীয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলটি।

জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম জানান, এরশাদ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তার পূর্ণ বাস্তবায়ন চাওয়া হবে তাদের নানা আয়োজনে।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বেলা সাড়ে ৩টায় ইনস্টিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আলোচনা সভা হবে। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। বক্তব্য রাখবেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ দলের শীর্ষ নেতারা।

আরও পড়ুন:
‘ক্ষমতা ভোগ-বিলাসের বিষয় না’
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’

শেয়ার করুন