আজহারীর আস্থা এখন টিকায়

আজহারীর আস্থা এখন টিকায়

আলোচিত ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। ফাইল ছবি

করোনাকে ‘আল্লাহর সৈনিক’ আখ্যা দিয়ে দেশে হাস্যরসের জন্ম দেন নানা উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা মুফতি কাজী ইব্রাহীম। ওই বছরের মার্চে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের একটি মাহফিলে যোগ দিয়ে একই কথা বলেন আজহারীও। তিনি সে সময় করোনা থেকে বাঁচতে একটি নির্দিষ্ট দোয়া করতে নিজের ফেসবুকে পরামর্শ দেন। এবার করোনার দ্বিতীয় টিকা নিয়ে সেই তিনিই সবাইকে টিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘টিকার কোনো বিকল্প নেই।’

করোনাভাইরাসকে ‘আল্লাহর সৈনিক’ আখ্যা ও করোনা থেকে বাঁচতে একটি দোয়া করার পরামর্শ দেয়ার সোয়া এক বছরের মাথায় এই ভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিলেন আলোচিত ধর্মীয় বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী।

বর্তমানে মালয়েশিয়ার অবস্থানকারী ব্যাপক আলোচিত এই বক্তা দ্বিতীয় টিকা নেয়ার বিষয়টি তার নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজে শেয়ার করে সবাইকে টিকা নিতেও বলেছেন।

২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনে এবং পরে পশ্চিমা দুনিয়ায় করোনার বিস্তার হলে বাংলাদেশের ধর্মীয় বক্তারা ব্যাপকভাবে বলতে থাকেন, এই ভাইরাস পৃথিবীতে আল্লাহ পাঠিয়েছেন অমুসলিমদেরকে শায়েস্তা করতে।

করোনাকে আল্লাহর সৈনিক আখ্যা দিয়ে দেশে হাস্যরসের জন্ম দেন নানা উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা মুফতি কাজী ইব্রাহীম।

ওই বছরের মার্চে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের একটি মাহফিলে যোগ দিয়ে একই কথা বলেন আহজারীও। তিনি সে সময় করোনা থেকে বাঁচতে একটি নির্দিষ্ট দোয়া করতে নিজের ফেসবুকে পরামর্শ দেন।

তবে এক বছর পর সেই মালয়েশিয়া যখন করোনায় জর্জরিত, হাসপাতালগুলোতে রোগীর ঠাঁই হচ্ছে না, অক্সিজেনের অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে, তখন সোমবার বাংলাদেশ সময় রাতে টিকা নেয়ার বিষয়ে স্ট্যাটাস দেন আজহারী।

তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আজ মালয়েশিয়াতে করোনা ভ্যাকসিন— ফাইজারের দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করলাম। আল্লাহ তা’আলা টিকার সব ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে আমাদের মুক্ত রাখুন। এর পুরোপুরি উপকার আমাদের নসিব করুন।’

তিনি অন্যদেরকেও টিকা নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা যারা এখনও ভ্যাকসিন নেননি, সম্ভব হলে দ্রুত নিয়ে নিন। যতো দ্রুত ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শেষ হবে, তত দ্রুত সংক্রমণ কমে আসবে এবং আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব ইনশাআল্লাহ।’

আজহারীর আস্থা এখন টিকায়
আজহারীর ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজে টিকা নেয়ার পর দেয়া পোস্ট

আজহারীকে ফাইজারের টিকা দেয়া হলেও তিনি তার সমর্থকদেরকে যে টিকা পাওয়া যায়, সেটিই নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিনগুলোর কার্যকারিতা ভিন্ন ভিন্ন হলেও, সব ভ্যাকসিন একটা কাজ করতে প্রায় শতভাগ সক্ষম। আর সেটা হচ্ছে—শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা আপনাকে অতি মাত্রায় অসুস্থ হওয়া এবং সংকটাপন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করবে। সুতরাং যে ভ্যাকসিনই আগে পাবেন, আল্লাহর উপর ভরসা করে সেটাই নিয়ে নিন।’

টিকার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি এও লেখেন, ‘ভ্যাকসিনের কাজ হলো শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি করা। ভ্যাকসিন নেয়া থাকলে, আপনি আক্রান্ত হলেও হয়তো ক্রিটিকাল সিচুয়েশনে পড়তে হবে না। অথবা আপনি করোনা ভাইরাস বহনকারী হলেও, ভ্যাকসিন নেয়ার কারণে হয়ত নিজে আক্রান্ত হবেন না, কিন্তু ভ্যাকসিন নেয়নি এমন লোকদের সংস্পর্শে গেলে, আপনার মাধ্যমে তারা আক্রান্ত হতে পারে।

‘তাই, কোনো দেশের বেশিরভাগ মানুষের টিকা দেয়া সম্পন্ন হয়ে গেলে, শুধুমাত্র তখনই কেবল মাস্কের বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে নেয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করা যেতে পারে। তা না হলে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমেও খুব বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব নয়। তাই, এই মুহূর্তে প্রতিটি দেশে গণ টিকার বিকল্প নেই।’

গত বছর যা বলেছিলেন আজহারী

গত বছরের মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় দেয়া আহজারীর একটি বক্তব্য ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।

তিনি সেদিন বলেন, ‘এই করোনা হচ্ছে আল্লাহর সৈনিক। আল্লাহ সব সময় ধরে না। ধরলে আবার ছাড়ে না। জলে-স্থলে ভূমিকম্প, ভূমিধস, মহামারি– এগুলো যা হচ্ছে সব আমাদের হাতের কামাই।

‘মাঝেমধ্যে আল্লাহ ভাইরাস পাঠান। কিছু দিন আগে সার্সভাইরাস পাঠিয়েছিলেন। সার্স যেতে না যেতেই এখন পাঠিয়েছে করোনা। কিছু দিন আগে বাংলাদেশে ছিল ডেঙ্গু। হঠাৎ করে দেখবেন আবার ঘূর্ণিঝড়, টাইফুন। আল্লাহ এগুলো দিয়ে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন, ভালো হওয়ার জন্য। নাফরমানি ছেড়ে দেয়ার জন্য। এক আল্লাহর দাসত্ব ও ইবাদত করার জন্য।’

আজহারী আরও বলেন, ‘এটি হলো মুসলিম জাতির জন্য রিমাইন্ডার। এটি হার্ড রিমাইন্ডার। এই রিমাইন্ডার আল্লাহ পাঠান, যাতে আমাদের টনক নড়ে। যাতে আমাদের ঘুমন্ত বিবেক জেগে ওঠে।’

করোনা ঠেকাতে তখন দোয়ার পরামর্শও ছিল

এখন টিকা নেয়ার পরামর্শ দেয়া আহজারী মার্চের প্রথম সপ্তাহে তার ভ্যারিফাইড পেজে একটি দোয়া শেয়ার করে সেটি বেশি বেশি পড়ার পরামর্শও দেন।

দোয়াটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘করোনাভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে, প্রয়োজনীয় সতর্কতার পাশাপাশি এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করুন। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে এই ভয়াবহ ভাইরাস থেকে হেফাজত করুক।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১৯ মার্চের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, আর কমল শনাক্তের হার

১৯ মার্চের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, আর কমল শনাক্তের হার

গত একদিনে শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই নিয়ে টানা ছয় দিন করোনা শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে ধরা পড়ল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে বিবেচনা করা হয়।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কম। এই সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৯৮০ জনের দেহে। কমেছে শনাক্তের হারও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে রোববার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা ধরা পড়েছে ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩৫১ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৪১৪ জনের।

একদিনে এর আগে সবচেয়ে কম মৃত্যু হয়েছিল গত ১৮ মার্চ। সেদিন ১৮ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয় ২২ হাজার ২২১টি। শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই নিয়ে টানা ছয় দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে ধরা পড়ল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে বিবেচনা করা হয়।

গত মঙ্গলবার শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ, আর বুধবার ছিল ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। বৃহস্পতিবার ছিল ৪ দশমিক ৬১ এবং শক্রবার ছিল ৪ দশমিক ৫৬।

করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। সেই বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর মার্চে দেখা দেয় দ্বিতীয় ঢেউ। পরে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। মাস পাঁচেক পর পরিস্থিতি আবার নিয়ন্ত্রণের পথে। গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা।

চলতি বছরের এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে তা ৩০ শতাংশও হয়ে যায়। এ অবস্থায় এপ্রিলে লকডাউন ও পরে জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ। ১১ আগস্ট বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর থেকে করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে আসছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ৭ জন, নারী ১৪ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। এছাড়া ত্রিশোর্ধ্ব ১, চল্লিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৭, ষাটোর্ধ্ব ৭ ও সত্তরোর্ধ্ব ৩ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৪, খুলনায় ১, রাজশাহী ২, সিলেটে ৩ ও ময়মনসিংহে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৩১২ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ১১ হাজার ৪৭৯ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ২৩।

শেয়ার করুন

মঙ্গলবার ৮০ লাখ মানুষকে টিকা

মঙ্গলবার ৮০ লাখ মানুষকে টিকা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে। এই ক্যাম্পেইন দেশের ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে হবে। এক দিনে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ এই টিকা ক্যাম্পেইনে কাজ করবেন। একই সঙ্গে ৮০ লাখ মানুষ টিকা পাবেন।’

আরও বেশি মানুষকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনতে ফের বড় পরিসরে টিকা ক্যাম্পেইনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই ক্যাম্পেইনে এক দিনে ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হবে।

এই টিকা ক্যাম্পেইন আগামী মঙ্গলবার হবে বলে রোববার বিকেলে দেশের করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে। এই ক্যাম্পেইন দেশের ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে হবে। এক দিনে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ এই টিকা ক্যাম্পেইনে কাজ করবেন। একই সঙ্গে ৮০ লাখ মানুষ টিকা পাবেন।’

এর আগে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রথম টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। ওই সময় যারা করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শেষ হয়। আগের ক্যাম্পেইনে অগ্রাধিকার দেয়া হয় নারী ও বয়স্কদের। সে ক্যাম্পেইনে ৪৫ লাখ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, গতবারের মতো আবার আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে চলমান টিকাদান কর্মসূচি বজায় থাকবে। এখন প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হচ্ছে। তার পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে যেতে চায় সরকার। বিশেষ করে যেখানে দারিদ্র জনগোষ্ঠী রয়েছেন, যারা সব সময়ে টিকা নিতে আসতে পারেন না এবং বয়স্ক তাদের টিকা দেয়ার উদ্দেশ নিয়ে টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৮ তারিখ আমাদের লক্ষ্য ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া। গতবার টিকা ক্যাম্পেইনে ৪৫ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে। আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য ৮০ লাখ টিকা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আমাদের সক্ষমতা আমরা বৃদ্ধি করতে চাই। আশা করি আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারব। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর। সেই কারণে আমার এই দিন ফের টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করছি।

ক্যাম্পেইনে নিবন্ধনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই ক্যাম্পেইনে নিবন্ধন করে যারা টিকা পাননি তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ২৫ বছরের ওপরে সবাইকে টিকা দেয়া হবে। ক্যাম্পেইনের শুরুতে প্রথম দুই ঘণ্টা ৫০ বছরের অধিক বয়স্ক নারী, দুর্গম এলাকার জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তবে টিকা নেয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসলেও টিকা দেয়া হবে। এবারের ক্যাম্পেইনে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের টিকা দেয়া হবে না। ক্যাম্পেইনে শুধু প্রথম ডোজ দেয়া হবে।

এক মাস পর ফের ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সারাদেশে একযোগ এই টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হবে। যে পর্যন্ত আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে না সেই পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। প্রয়োজন হলে দুই শিফটে টিকা দেয়া হবে। টিকা দেয়া শেষ হলেও গেলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওই কেন্দ্রে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।

যেসব কেন্দ্রে টিকার ক্যাম্পেইন

সারা দেশে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে এবং এক হাজার ৫৪টি পৌরসভা ৪৪৩টি ওয়ার্ডে এই টিকা দেয়া হবে। এবং ৩২ হাজার ৭০৬ জন টিকাদানকর্মী এই ক্যাম্পেইনে কাজ করবেন। এর মধ্যে সেচ্ছাসেবক ৪৮ হাজার ৪৫৯ জন। তারা সবাই মিলে এই বিরাট কর্মকণ্ড পরিচালনা করবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার লোক এই কাজ করবেন। প্রতিটি ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনে ৩টি করে বুথ এবং পৌরসভায় ১টি বুথ রাখা হবে।

শেয়ার করুন

ফাইজারের ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

ফাইজারের ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

গত ৩১ মে দেশে পৌঁছায় ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে ন্যাশনাল এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে ২৫ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা আসছে। এই চালান সোমবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী যুক্তরাষ্ট্র উদ্ভাবিত ফাইজারের টিকার অন্তত ২৫ লাখ ডোজের একটি চালান দেশে আসছে সোমবার।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে ন্যাশনাল এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে ২৫ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা আসছে। এই চালান সোমবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছাবে।

টিকার এই চালান গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে প্রথম দফায় ১ লাখ ৬২০ ডোজ এবং দ্বিতীয় দফায় ১০ লাখ ৩ হাজার ৮৬০ ডোজ ফাইজারের টিকা দেশে আসে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, মডার্নার ভ্যাকসিনসহ ক্রয়কৃত ও কোভ্যাক্স ফাসিলিটিজের আওতায় দেশে মোট টিকা এসেছে ৪ কোটি ৯৪ লাখ ২৯ হাজার ৯৪০ ডোজ। এর মধ্যে প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে মোট ২ কোটি ৪১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৯৮ জনকে; দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭১ জনকে।

চীনের সিনোফার্মের কাছ থেকে ৬ কোটি ডোজ টিকা কিনতে চুক্তি করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চলতি মাস থেকে প্রতি মাসে ২ কোটি ডোজ করে ভ্যাকসিন দেশে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে আরও সাড়ে ১০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনসহ মোট ২৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয়ের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে শুরু টিকাদান ক্যাম্পেইন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে শুরু টিকাদান ক্যাম্পেইন

গত টিকাদান ক্যাম্পেইনের সময় একটি কেন্দ্রের সামনে টিকাপ্রত্যাশীদের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি বলেন, ‘এটি আসলে গণটিকা নয়। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বরে টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল বাশার খুরশীদ আলম।

নিউজবাংলাকে রোববার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। ওই সময় যারা করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শেষ হয়।

আগের ক্যাম্পেইনে অগ্রাধিকার দেয়া হয় নারী ও বয়স্কদের। সে ক্যাম্পেইনে ৪৬ লাখ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়।

আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি বলেন, ‘এটি আসলে গণটিকা নয়। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন।’

এর আগে গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অধিদপ্তরের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে এ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন আবুল বাশার খুরশীদ আলম।

তিনি বলেছিলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মাসে ২ কোটি ডোজ টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যের ডিজি বলেছিলেন, ‘টিকা সরবরাহ এখন বেশ ভালো। আমাদের হাতে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে। আমরা সামনের দিনগুলোতে টিকা পাওয়ার উৎসও নিশ্চিত করেছি।

‘এরই ধারবাহিকতায় মাসে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ১ কোটি থেকে ২ কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। সে লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচিকে আরও কী করে বাড়ানো যায় বা সম্প্রসারণ করা যায়, এ বিষয়ে আমরা সচেষ্ট আছি।’

শেয়ার করুন

বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর টেস্ট শুরু মঙ্গলবার

বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর টেস্ট শুরু মঙ্গলবার

ফাইল ছবি

বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর মেশিনে করোনার পরীক্ষামূলক টেস্ট এরই মধ্যে শুরু হয়েছে জানিয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা যদি সাকসেসফুল হয়, আশা করি সাকসেসফুল হবে, তারপর আমরা এয়ারলাইনসগুলোতে অবহিত করব। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রবাসীরা সেখানে পরীক্ষা করাতে পারবেন। কারণ যাত্রার কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে প্রথম টেস্ট করাতে হবে।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগামী মঙ্গলবার থেকে আরটি-পিসিআর মেশিনে করোনাভাইরাস টেস্ট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রোববার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে যাত্রার ৪৮ ঘণ্টা ও ৬ ঘণ্টা পূর্বে বিমানবন্দরে করোনা টেস্ট করা বাধ্যতামূলক রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরীক্ষামূলক টেস্ট (টেস্ট রান) কাজ করছে।

‘এটা যদি সাকসেসফুল হয়, আশা করি সাকসেসফুল হবে, তারপর আমরা এয়ারলাইনসগুলোকে অবহিত করব। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রবাসীরা সেখানে পরীক্ষা করাতে পারবেন। কারণ যাত্রার কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে প্রথম টেস্ট করাতে হবে।’

ট্যুরিজম, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মিলে এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করছে বলে জানান মফিদুর রহমান। বলেন, ‘এয়ারলাইনসগুলোকেও সময় দিতে হবে, টিকিট কাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যখনই জানাবে তারা টেস্টের জন্য রেডি, দিনে কতজন যাত্রী টেস্ট তারা হ্যান্ডেল করতে পারবে, তখনই আমরা এয়ারলাইনসগুলোকে জানিয়ে দেব।’

এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই আমরা এয়ারপোর্টগুলোতে সামাজিক দূরত্বসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি এসব ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন ছিলাম। এ জন্য করোনা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা গেছে। আমাদের এয়ারপোর্ট বিশ্বের অন্যান্য যেকোনো এয়ারপোর্টের চেয়ে তুলনামূলক বেশি প্রস্তুত ছিল।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা পরীক্ষায় বিমানবন্দরে ১২টি আরটি-পিসিআর মেশিন বসবে। সবকিছুই প্রস্তুত। এই ল্যাব বসলে ২৪ ঘণ্টায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা যাবে।

বিমানবন্দরে দ্রুত করোনা টেস্ট করানোর সুযোগ না থাকায় কয়েকটি দেশের শর্ত ছিল আরটি-পিসিআর বসানোর। এ শর্ত দ্রুত কার্যকরের দাবিতে আন্দোলন-বিক্ষোভও করেন প্রবাসীরা। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের প্রায় তিন সপ্তাহ পর বিমানবন্দরে বসছে আরটি-পিসিআর ল্যাব।

এর আগে প্রথমে গত বৃহস্পতিবার ও পরে শনিবার থেকে বিমানবন্দরে আর্টিফিশিয়াল টেস্ট শুরুর কথা থাকলেও তা হয়নি।

শেয়ার করুন

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে করোনায় আরও ৮ জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে করোনায় আরও ৮ জনের মৃত্যু

হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সামনে। ছবি: নিউজবাংলা।

ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম বলেন, গত এক দিনে আরও ৩১৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত জেলায় ২১ হাজার ৮৮৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এক দিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টার মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।

মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন করোনায় ও বাকি ৭ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৪ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ।

হাসপাতালের করোনা ইউনিটের (ফোকাল পার্সন) মহিউদ্দিন খান মুন রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তি আছেন ১১২ জন । এর মধ্যে আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১১ জন। ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগী ১০ জন। এই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২০ জন।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ওয়ান স্টপ ফ্লু কর্নারে সেবা নিয়েছেন ১৫৩ জন ও ৩ জন টেলিমেডিসিন সেবা নিয়েছেন।

ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম বলেন, এক দিনে আরও ৩১৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এ পর্যন্ত জেলায় ২১ হাজার ৮৮৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

শেয়ার করুন

করোনা পরীক্ষার ফল জানতে লাগছে ১৪ দিন

করোনা পরীক্ষার ফল জানতে লাগছে ১৪ দিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষার কিটের অভাব দেখা দিয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণ কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রীর অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গেলে জানতে পারেন কিট নেই। তাই নমুনা দিয়ে আসেন পিসিআর ল্যাবের জন্য। সেই পরীক্ষার ফল আসে ১৭ সেপ্টেম্বর।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে কিট সংকটে প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা। এতে তাৎক্ষণিক করোনা পরীক্ষার ফল জানতে পারছে না রোগীরা।

র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বন্ধ থাকায় এখন হাসপাতালটিতে শুধু রাজধানীর আরটি-পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য নমুনা নেয়া হচ্ছে। সেই পরীক্ষার ফল পেতেই লেগে যাচ্ছে ১৪ দিনের বেশি। অথচ করোনা আক্রান্তের দ্বিতীয় পরীক্ষা করা হয় সাধারণত ১৪ দিন পর।

হাসপাতালের বেশ কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন জানান, র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে কেউ করোনায় আক্রান্ত কি না, সেটি দ্রুত জানতে পারতেন। তবে ঢাকায় পিসিআর ল্যাবের পাঠানো নমুনার ফল জেলায় আসতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগছে। কখনও কখনও ১৭ দিনও সময় লেগে যায়।

তারা আরও জানান, উপসর্গ থাকা কেউ করোনায় আক্রান্ত কি না, তা জানতে দীর্ঘ সময় লাগায় করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ ফল না জানায় অনেকেই সতর্ক থাকছেন না। হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ থেকে জানা যায়, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য প্রথম দফায় ৫০০ কিট, দ্বিতীয় দফায় ৬ হাজার, তৃতীয় দফায় ৪ হাজার এবং চতুর্থ দফায় ২ হাজার কিট পাঠানো হয়।

গত বছরের ৫ ডিসেম্বর হাসপাতালটিতে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু হয়। চলতি বছরের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত হাসপাতালে ১১ হাজার ৬৮টি অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রতিদিন এখানে ১৫০ থেকে ২০০ রোগীর অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হতো। এক দিনে সর্বোচ্চ ২০৭ জনের অ্যান্টিজেন পরীক্ষাও হয়েছে।

জেলা শহরের দক্ষিণ কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, ‘১২ আগস্ট আমার স্ত্রীর অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য নমুনা দিলে তার করোনা পজিটিভ আসে। একই দিন ঢাকার পিসিআর ল্যাবের জন্য নমুনা দিই। গত ২৩ আগস্ট নমুনার ফল পাই। সেটিতেও তার পজিটিভ আসে।

‘তবে গত ২ সেপ্টেম্বর অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করাতে গেলে জানতে পারি কিট নেই। তাই নমুনা দিয়ে আসি পিসিআর ল্যাবের জন্য। সেই পরীক্ষার ফল এসেছে ১৭ সেপ্টেম্বর।’

লিজা নামের এক নারী বলেন, ‘আগে আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করাতে পারতাম। এখন সেটি বন্ধ রয়েছে। যদি পিসিআর ল্যাবে পাঠানো নমুনা পরীক্ষার ফল দ্রুত পাওয়া যায়, তাহলে এটি নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

‘কিন্তু বিপত্তিটা হলো পিসিআর ল্যাবের ফল পেতে এখন ১০-১৫ দিন সময় লেগে যায়। এতে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য কিট সরবরাহের জন্য সরকারসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে অনুরোধ রইল।’


ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. এনামুল হাসান জানান, কিট সংকটের কারণে বর্তমানে হাসপাতালে করোনার অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। তবে পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।


হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে হাসপাতালে কিট সরবরাহ করা হয়। তবে কিটের বিষয়টি সিভিল সার্জন দেখেন।

সিভিল সার্জন মো. একরামুল্লাহ বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রয়োজন অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক নিজেই কিট নিয়ে আসেন। তা ছাড়া অনেক সময় আমিও নিয়ে আসি। কিছুদিনের মধ্যেই কিট চট্টগ্রাম থেকে আনা হবে। কিট পেলে অ্যান্টিজেন কার্যক্রম আবার শুরু হবে।’

শেয়ার করুন