এয়ার চিফ মার্শালের র‍্যাংক ব্যাজ পরলেন নতুন বিমান প্রধান

এয়ার চিফ মার্শালের র‍্যাংক ব্যাজ পরলেন নতুন বিমান প্রধান

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিমানবাহিনী প্রধান শেখ আব্দুল হান্নানকে এয়ার চিফ মার্শালের র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিচ্ছেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত নৌপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আবু আশরাফ। ছবি: ফোকাস বাংলা

র‌্যাংক ব্যাজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিমানবাহিনীর প্রধানকে দায়িত্ব পালনে তার সাফল্য কামনা করেন। বিমানবাহিনী প্রধান এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দোয়া চান।

বিমানবাহিনী প্রধান শেখ আব্দুল হান্নানকে এয়ার চিফ মার্শালের র‍্যাংক ব্যাজ পরানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনী প্রধানকে র‌্যাংক ব্যাজ পরানো হয়।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর সহকারি প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস রানা গণমাধ্যমকে জানান, সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত নৌপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আবু আশরাফ বিমানবাহিনী প্রধানকে এয়ার চিফ মার্শালের র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

ইমরুল কায়েস জানান, অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী বিমানবাহিনীর প্রধানকে দায়িত্ব পালনে তার সাফল্য কামনা করেন এবং বিমানবাহিনী প্রধান এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দোয়া চান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

গত ১২ জুন শেখ আব্দুল হান্নান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে পরানো হলো র‍্যাঙ্ক ব্যাজ
বিমানবাহিনীর প্রধান হলেন শেখ আব্দুল হান্নান
শিখা অনির্বাণে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধানের শ্রদ্ধা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফোনালাপে আড়ি পাতা নিয়ে আদেশ ২৯ সেপ্টেম্বর

ফোনালাপে আড়ি পাতা নিয়ে আদেশ ২৯ সেপ্টেম্বর

প্রতীকী ছবি

ফোনালাপে আড়ি পাতা বন্ধ চেয়ে গত ১০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী রিটটি করেন। এতে বিবাদী করা হয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানকে।

ফোনালাপে আড়ি পাতা বন্ধের নিশ্চয়তা ও ফাঁস হওয়া ঘটনাগুলোর তদন্ত চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি নিয়ে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য রেখেছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মুস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ঠিক করে দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

ফোনালাপে আড়ি পাতা বন্ধ চেয়ে গত ১০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী রিটটি করেন।

রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে গত ২২ জুন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কোনো জবাব না পাওয়ায় রিট করা হয়।

আড়ি পাতার ঘটনা বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে বহুল প্রচারিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অথচ সর্বজনীন মানবাধিকার সনদপত্র, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর সব আধুনিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার স্বীকৃত ও সংরক্ষিত।

এমনকি বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা সংরক্ষণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ অধিকার সংবিধানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট বিচারপতি মো. শওকত হোসাইন, বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এ এস এম আবদুল মবিনের বৃহত্তর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে একটি রায় দেয়।

ওই রায়ে বলা হয়, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও টেলিফোন সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব সর্বাধিক। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণ তাদের দায়িত্ব। তারা আইনের বিধান ব্যতিরেকে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য প্রদান করতে পারে না।

মঙ্গলবার রিটকারী ১০ আইনজীবী হলেন মুস্তাফিজুর রহমান, রেজওয়ানা ফেরদৌস, উত্তম কুমার বনিক, শাহ নাবিলা কাশফী, ফরহাদ আহমেদ সিদ্দীকী, মোহাম্মদ নওয়াব আলী, মোহাম্মদ ইবরাহিম খলিল, জি এম মুজাহিদুর রহমান (মুন্না), ইমরুল কায়েস ও একরামুল কবির।

আরও পড়ুন:
বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে পরানো হলো র‍্যাঙ্ক ব্যাজ
বিমানবাহিনীর প্রধান হলেন শেখ আব্দুল হান্নান
শিখা অনির্বাণে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধানের শ্রদ্ধা

শেয়ার করুন

জামিন নাকচ, কারাগারে ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ

জামিন নাকচ, কারাগারে ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ

২০১৯ সালের ২৮ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের পর রাজধানীর গ্রিন রোডে পার্থ গোপালের বাসায় অভিযান চালায় দুদক। ওই সময় ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। ফাইল ছবি

পার্থের পক্ষে জামিন শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহেসানুল হক সমাজী। দুদকের পক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পার্থের জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ঘুষ নেয়া ও অর্থপাচার আইনের মামলায় সিলেটের সাবেক ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিকের জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে রোববার আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন পার্থ গোপাল।

তার পক্ষে জামিন শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহেসানুল হক সমাজী। দুদকের পক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পার্থের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর পার্থ বণিকের জামিন বাতিল করে আদেশ দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। সেই আদেশ অনুযায়ী পার্থ গোপাল বণিক বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

গত ১৯ আগস্ট পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেয়ার ঘটনায় হাইকোর্টে ক্ষমা চান ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ইকবাল হোসেন। পরে মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে বদলি করে বিশেষ জজ আদালত-৪-এ পাঠানো হয়।

এর আগে ১৭ জুন সন্ধ্যায় পার্থ গোপালকে জামিন দেয় আদালত।

এরপর ২৩ জুন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই আদালত পার্থের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

২০১৯ সালের ২৮ জুলাই সকাল থেকে পার্থ গোপালকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিকেলে তার গ্রিন রোডের বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে পার্থের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।

গত বছরের ২৪ আগস্ট একই কর্মকর্তা ডিআইজি পার্থের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ওই বছরের ৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।

পার্থ গোপাল বণিক ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট চট্টগ্রামের ডিআইজি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে পরানো হলো র‍্যাঙ্ক ব্যাজ
বিমানবাহিনীর প্রধান হলেন শেখ আব্দুল হান্নান
শিখা অনির্বাণে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধানের শ্রদ্ধা

শেয়ার করুন

দেড় বছর পর সচল দর্শনা চেকপোস্ট

দেড় বছর পর সচল দর্শনা চেকপোস্ট

দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উপপরিদর্শক আব্দুল আলিম বলেন, ‘রোববার সকাল থেকে দর্শনা চেকপোস্টের সকল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে ভারত থেকে বাংলাদেশে ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে গমনের ক্ষেত্রে আর কোনো অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রয়োজন হবে না।’

করোনায় বন্ধ থাকার দেড় বছর পর সচল হয়েছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট।

রোববার সকাল থেকে এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে ফের শুরু হয়েছে। এই চেকপোস্ট দিয়ে রোববার থেকেই বৈধ পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে যাত্রীরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা-যাওয়া করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উপপরিদর্শক আব্দুল আলিম।

তিনি বলেন, ‘রোববার সকাল থেকে দর্শনা চেকপোস্টের সকল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ দেড় বছর পর আজ থেকে এই চেকপোস্ট দিয়ে দিয়ে পুনরায় যাত্রী আসা যাওয়া শুরু হলো। এক্ষেত্রে ভারত থেকে বাংলাদেশে ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে গমনের ক্ষেত্রে আর কোনো অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রয়োজন হবে না।’

তিনি আরও জানান, এই চেকপোস্ট ব্যবহারের সময় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করা করোনার আরটিপিসিআর পরীক্ষার সার্টিফিকেট সঙ্গে রাখতে হবে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে গত বছরের ১৪ মার্চ দর্শনা চেকপোস্টের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। চলতি বছর ভারতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে গত ১৭ মে সীমিত পরিসরে দর্শনা চেকপোস্টের কার্যক্রম শুরু করা হয়।

আরও পড়ুন:
বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে পরানো হলো র‍্যাঙ্ক ব্যাজ
বিমানবাহিনীর প্রধান হলেন শেখ আব্দুল হান্নান
শিখা অনির্বাণে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধানের শ্রদ্ধা

শেয়ার করুন

কোটা ছাড়া সরকারি নিয়োগ হচ্ছে যেভাবে

কোটা ছাড়া সরকারি নিয়োগ হচ্ছে যেভাবে

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নিয়োগে এখন কোনো কোটা নেই। ফাইল ছবি

২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়ার পর দেশের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরোটাই এখন হচ্ছে মেধার ভিত্তিতে। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে এখনও বহাল আছে কোটা পদ্ধতি। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আর শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণ করাটা জরুরি। না হলে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন।

দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করে কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য সুবিধা দিতে সারা বিশ্বে সংরক্ষণ করা হয় কোটা। কিন্তু কোটা পদ্ধতির সংস্কার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রথা বাতিল করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর থেকে দেশের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরোটাই হচ্ছে মেধার ভিত্তিতে। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে এখনও বহাল আছে কোটা পদ্ধতি।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আর শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণ করাটা জরুরি। না হলে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন। সুযোগ না পেলে অনগ্রসররা আরও পিছিয়ে যাবে বলেও মনে করেন তারা।

কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়ে নানা সময় দেশে আন্দোলন দেখা গেলেও ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এ দাবির পক্ষে বাড়তে থাকে জনমত। ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ’-এর ব্যানারে শুরু হওয়া আন্দোলনে যোগ দিতে থাকেন বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। শিক্ষাঙ্গনে শুরু হয় অচলাবস্থা। অবরুদ্ধ সড়কে শুরু হয় তীব্র যানজট। দুর্ভোগে পড়তে হয় নগরবাসীকে।

এমন বাস্তবতায় ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওই দিন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কার সংস্কার বলে...সংস্কার করতে গেলে আরেক দল এসে বলবে আবার সংস্কার চাই। কোটা থাকলেই সংস্কার। আর কোটা না থাকলে সংস্কারের কোনো ঝামেলাই নাই। কাজেই কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নাই।’

ওই বছরের ৪ অক্টোবর কোটা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘৯ম গ্রেড (পূর্বতন প্রথম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হইবে।

‘৯ম গ্রেড (পূর্বতন প্রথম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হইল।’

কোটা ছাড়া সরকারি নিয়োগ হচ্ছে যেভাবে
সরকারি চাকরিতে কোটার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে দেশজুড়ে গড়ে উঠেছিল কঠোর আন্দোলন। ছবি: সংগৃহীত

এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘কোটার যে বিষয়টি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার করেছেন। সেভাবেই কিন্তু আমরা কোটা পদ্ধতি বাস্তবায়ন করছি। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির চাকরি, সেটা নবম গ্রেড থেকে শুরু করে ত্রয়োদশ গ্রেড পর্যন্ত মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া করে থাকি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘বিসিএস ক্যাডার হয়ে যারা ঢুকছেন, তারা কিন্তু নবম গ্রেডে ঢোকেন। সেখান থেকে শুরু করে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণি চাকরির ক্ষেত্রে কোটার কোনো বিষয় নেই। এটা পুরোপুরি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ কাজ সম্পন্ন হয়।’

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দ্বিতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণি অর্থাৎ ১৪ থেকে ২০তম গ্রেডে কোটা পদ্ধতি বহাল আছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

১৩ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কোটা পদ্ধতির বিন্যাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এতিম এবং প্রতিবন্ধী যারা রয়েছেন তাদের জন্য ১০ শতাংশ রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা সেখানে ৩০ শতাংশ আছে। নারী কোটা ১৫ শতাংশ। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যদি কেউ থাকেন, সেটা ৫ শতাংশ এবং আনসার ভিডিপির জন্য ১০ শতাংশ। অবশিষ্ট যা আছে ৩০ শতাংশ।’

উদাহরণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো জেলায় যদি ২০ জন নিয়োগ হয়, একজন এতিম ও একজন প্রতিবন্ধী মিলিয়ে দুই জন। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হবে ছয় জন। তারপর নারী কোটায় তিন জন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যদি কেউ থাকে, সেখান থেকে এক জন। আনসার ভিডিপি থেকে থাকবে দুই জন এবং অন্যান্য সাধারণ যারা, যারা মেধার সঙ্গে আছেন তারা থাকবেন ছয় জন। ২০ জন এভাবেই বিভক্তি হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন বলেন, ‘সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের জন্য অবশ্যই কোটা থাকা উচিত। কারণ মূলধারার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ থাকতে হবে।’

তাদের মূল স্রোতের সঙ্গে মেশাতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মনে করেন এই শিক্ষাবিদ।

বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর নজরে আনা হলে তিনি বলেন, ‘আপাতত যেটা আছে, সেটা তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির ক্ষেত্রে আমরা রেখেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে যদি সে রকম কোনো নির্দেশনা আগামীতে পাওয়া যায়, আমরা অবশ্যই সেভাবে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করব।’

আরও পড়ুন:
বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে পরানো হলো র‍্যাঙ্ক ব্যাজ
বিমানবাহিনীর প্রধান হলেন শেখ আব্দুল হান্নান
শিখা অনির্বাণে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধানের শ্রদ্ধা

শেয়ার করুন

সমুদ্রসীমা নিয়ে জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তি

সমুদ্রসীমা নিয়ে জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তি

বঙ্গোপসাগর

মহীসোপান নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিতর্ক শুরু ২০০৯ সালে। সেবার ভারত তাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য যে বেইজ পয়েন্ট নির্ধারণ করে, তার দুটি নিয়ে আপত্তি ছিল বাংলাদেশের।

সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের দাবির বিরোধিতা করে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছে।

২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতের রায়ে বাংলাদেশ নতুন প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা পেয়েছে। কিন্তু গত এপ্রিলে বাংলাদেশের দাবির ওপরে আপত্তি এবং নিজেদের কিছু দাবিদাওয়া জানিয়ে চিঠি দেয় ভারত। চিঠিতে বলা হয়- বাংলাদেশ যে মহীসোপান নিজেদের বলে দাবি করছে, তা ভারতের মহীসোপানের অংশ।

সেই সময়ই বাংলাদেশ জানিয়ে দেয় যে ভারতের ওই আপত্তির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণ কমিশনের সামনে নিজেদের বক্তব্যও তুলে ধরে বাংলাদেশ।

এবার সরাসরি জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

মহীসোপান নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিতর্ক শুরু ২০০৯ সালে। সেবার ভারত তাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য যে ভিত্তিরেখা বা বেইজ পয়েন্ট নির্ধারণ করে, তার একটি ছিল বাংলাদেশের জলসীমার ভেতরে। আরেকটি ছিল সাড়ে ১০ নটিক্যাল মাইল সমুদ্রের ভেতরে।

ওই দুটি বেইজ পয়েন্টের ক্ষেত্রে ভারত কোনো নিয়ম মানেনি বলে দাবি করে বাংলাদেশ। তাই এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সংশোধনের অনুরোধ করা হয় এবং ২০১১ সালে জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণবিষয়ক কমিশনেও যাওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে বাংলাদেশের পক্ষে রায় আসে।

আদালতের রায় নিয়ে সেই সময় কোনো উচ্চবাচ্য না করলেও পরে দ্বিপক্ষীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে জল ঘোলা করতে থাকে ভারত। সাত বছর এমন চলার পর সর্বশেষ গত এপ্রিলে জাতিসংঘে নিজেদের দাবিদাওয়া উপস্থাপন করে তারা। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো ছাড় না দেওয়ার মনোভাব বাংলাদেশের।

আরও পড়ুন:
বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে পরানো হলো র‍্যাঙ্ক ব্যাজ
বিমানবাহিনীর প্রধান হলেন শেখ আব্দুল হান্নান
শিখা অনির্বাণে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধানের শ্রদ্ধা

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডিং জেনারেল, জেনারেল চার্লস এ ফ্লিনের সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। ছবি: আইএসপিআর

সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ।

সরকারি সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

শনিবার তিনি দেশে ফিরেছেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সফরে মার্কিন সেনাবাহিনী এবং পাপুয়া নিউ গিনি ডিফেন্স ফোর্সের যৌথ আয়োজন ‘ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মি চিফস কনফারেন্স’-এ অংশগ্রহণ করেন সেনাপ্রধান।

১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের এই কনফারেন্সের প্রথম দিন তিনি যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর ২৫তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের সক্ষমতা এবং দেশটির আর্মি প্যাসিফিক কমান্ড পরিচালিত একটি লাইভ ফায়ার মহড়া দেখেন।

দ্বিতীয় দিনে ‘দ্য চ্যাঞ্জিং ফিজিক্যাল এনভায়রনমেন্ট অফ ল্যান্ড অপারেশন্স’ এবং ‘দ্য ইভলভিং হিউম্যান এনভায়রনমেন্ট অফ ল্যান্ড অপারেশন্স’ শীর্ষক দুটি প্ল্যানারি সেশনে অংশ নেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। প্ল্যানারি সেশনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল জেমস মেকনভিল স্বাগত ভাষণ রাখেন।

কনফারেন্সের শেষ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডিং জেনারেল, জেনারেল চার্লস এ ফ্লিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন সেনাপ্রধান।

এ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আন্দিকা পেরকাসা, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল নাম ইয়ং শিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডার ইন চিফ অফ রয়্যাল থাই আর্মি জেনারেল পর্নসাক পুলসাওয়াদ, পাপুয়া নিউগিনি ডিফেন্স ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল গিলবার্ট টরোপো, কমান্ডার মঙ্গোলিয়ান ল্যান্ড ফোর্স কমান্ড মেজর জেনারেল বুজিনভ আমগালানবাটার, সিঙ্গাপুর আর্মির চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফ্রেডেরিক চো এবং মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের কমান্ড্যান্ট সার্ভিস কোরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদ শাফিকের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের সঙ্গে এসব দেশের সেনাবাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ।

যুক্তরাষ্ট্রে সেনাপ্রধানের এই সফরের মধ্য দিয়ে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে পরানো হলো র‍্যাঙ্ক ব্যাজ
বিমানবাহিনীর প্রধান হলেন শেখ আব্দুল হান্নান
শিখা অনির্বাণে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধানের শ্রদ্ধা

শেয়ার করুন

অভিযানের ২ বছরে ক্যাসিনো অনলাইনে

অভিযানের ২ বছরে ক্যাসিনো অনলাইনে

ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় চলে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান। ফাইল ছবি

সারা দেশে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে অনেকগুলো মামলা হলে র‍্যাব তদন্তের দায়িত্ব পায় ১০টি মামলায়। এর মধ্যে ৯টির তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেয়া হয়ে গেছে। একটির তদন্ত আটকে আছে আদালতের স্থগিতাদেশে।

দুই বছর আগের আলোচিত ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর থেকে রাজধানীর ক্লাবগুলোতে প্রকাশ্যে এই খেলা বন্ধ হয়েছে। তবে এই খেলা বন্ধ হয়ে গেছে, এমনটা বলার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আর অভিযানের কারণে এখন ঝোঁক তৈরি হয়েছে অনলাইন ক্যাসিনোতে।

২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে র‍্যাব। এই অভিযানে সরকার দলীয় বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বসহ ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করার কথা জানানো হয়।

অভিযানের সফলতা প্রসঙ্গে বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকার ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনোর জন্য খেলাধুলা বন্ধ ছিল। আমাদের অভিযানের পর আবার খেলা চালু হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ঢাকা শহরে দৃশ্যত এখন ক্যাসিনো নেই। কোনো ক্লাবেই এটা হচ্ছে না। গোয়েন্দারা নজরদারি করছে। কোথাও এমন কিছু পেলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে ক্যাসিনো বন্ধ হলেও অনলাইন ক্যাসিনোতে ঝুঁকছে মানুষ। তা বন্ধেও আমাদের নজরদারি রয়েছে।’

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে এসব সাইটের বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে বাংলায়। অনলাইন ক্যাসিনোর অ্যাপ ইনস্টলের জন্যও দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন অফার। এমনকি বিজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগোও ব্যবহার করা হচ্ছে।

এসব অ্যাপের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কারিগরি সক্ষমতার অভাব রয়েছে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের। তারা বলছে, বিদেশ থেকে অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালিত হওয়ায় এগুলো ঠেকানো সহজ নয়।

অভিযানের ২ বছরে ক্যাসিনো অনলাইনে
ঠিকাদার ও ক্যাসিনো কারবারি জি কে শামীম। ফাইল ছবি

ফেসবুকে বুস্ট করা বেশ কয়েকটি অনলাইন ক্যাসিনোর বিজ্ঞাপন পেয়েছে নিউজবাংলা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে এই অনলাইন ক্যাসিনো। তবে এসব ক্যাসিনোর মালিক কারা বা কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কোনো তথ্য নেই।

কয়েকটি ক্যাসিনোর ফেসবুক পেজে দেয়া রয়েছে ওয়াটসঅ্যাপ নম্বর। এগুলোতে যোগাযোগ করেও তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং টাকার বিনিময়ে গ্রুপের সদস্য হওয়ার শর্ত দেয়া হয়েছে। চাওয়া হয়েছে ভোটার আইডি কার্ড, নাম, বয়স, জন্মতারিখ, মোবাইল ফোন নম্বর। এসব তথ্য দিলেই মেলে গ্রুপের সদস্য হওয়ার অনুমতি।

অনলাইনে ক্যাসিনো চালাতে রীতিমতো অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এর নাম বাজি। অ্যাপটি স্মার্টফোনে নামিয়ে জিমেইল আইডি ও ফোন নম্বর দিয়ে আইডি খুললেই ঢোকা যায় অনলাইন ক্যাসিনো দুনিয়ায়। যে অ্যাকাউন্ট খোলা হলো, তাতে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে টাকা ঢুকিয়ে শুরু করা যায় বাজি খেলা বা জুয়া খেলা। বাজি ধরা যায় সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ‘যত ইচ্ছা’ তত টাকা।

অ্যাপটিতে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই চলে জুয়া খেলা। অংশগ্রহণকারীরা যে যার মতো বিভিন্ন দানের ঘর বা আইকন বাজি ধরার পর ঘুরতে শুরু করে ক্যাসিনোর চাকা বা হুইল। হুইলের কাঁটা যে ঘরে থামে, সেই ঘরে যারা বাজি ধরেছিলেন তারা জিতে যান দান। টাকা পান ১০ গুণ, ২০ গুণ, ৪০ গুণ, ৪০০ গুণ, এমনকি ৪০০০ গুণ পর্যন্ত।

সাইবার পুলিশ বলছে, অনলাইন ক্যাসিনোর সাইটগুলোর ডোমেইন দেশের বাইরে এবং নির্ধারিত সময় পর পর এসব সাইটের আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ঠিকানা পরিবর্তন করে নিয়ন্ত্রণকারীরা। যে কারণে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মাধ্যমে অনলাইন ক্যাসিনোর কিছু সাইট বন্ধ করা হলেও ফল মিলছে না। এমন শতাধিক সাইট ও অ্যাপস চিহ্নিত করেছে র‍্যাব।

অভিযানের ২ বছরে ক্যাসিনো অনলাইনে
র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ও ক্যাসিনো কারবারি সম্রাট। ফাইল ছবি

সারা দেশে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে অনেকগুলো মামলা হলে র‍্যাব তদন্তের দায়িত্ব পায় ১০টি মামলায়। এর মধ্যে ৯টির তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেয়া হয়ে গেছে। একটির তদন্ত আটকে আছে আদালতের স্থগিতাদেশে।

পাঁচটি ক্লাবে অভিযান দিয়ে শুরু

২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে চারটি ও গুলশানের একটি ক্যাসিনোতে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান শুরু করে। ২০১ জনকে আটক করে দেয়া নয় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড। বিদেশি মদ, বিদেশি সিগারেট, বিয়ার, হেরোইন, কষ্টি পাথরের মূর্তি এবং ক্যাসিনো সামগ্রী উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

পাঁচটি ক্লাব হলো- ফকিরাপুল ইয়াং ম্যান্স ক্লাব, ওয়ান্ডার্স ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা চিত্তবিনোদন ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া ও গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ।

খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেপ্তার

অভিযান শুরুর প্রথমদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান থেকে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফকিরাপুল ইয়াং ম্যান্স ক্লাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়।

তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় মাদক, অবৈধ অস্ত্র, ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫০ টাকা ও বিদেশি মুদ্রা। লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করায় তার দুটি অস্ত্রও জব্দ করা হয়।

অভিযানের ২ বছরে ক্যাসিনো অনলাইনে
ক্যাসিনো খালেদ নামে পরিচিত ছিলেন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

তার কমলাপুর অফিসে অভিযান চালিয়ে মাদক ও শক দেয়ার ইলেক্ট্রিক মেশিনও জব্দ করা হয়। গুলশান ও মতিঝিল থানায় চারটি মামলা করা হয়। গুলশান থানায় অস্ত্র আইনে মামলাটির অভিযোগপত্রও দিয়েছে র‌্যাব।

একই দিনে ঢাকার ওয়ান্ডার্স ক্লাবে অভিযান করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তারা হলেন- সাইফুল ইসলাম, তুহিন মুন্সি ও নবীর হোসেন সিকদার।

ওই ক্লাব থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ছাড়াও বিদেশি মদ পাওয়ার কথা জানানো হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মতিঝিল থানায় মামলা হয়।

জি কে শামীম গ্রেপ্তার

২০ সেপ্টেম্বর যুবলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা ও শীর্ষ ঠিকাদার জি কে শামীমের নিকেতনের বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। সাত দেহরক্ষীসহ জি কে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে গুলশান থানায় তিনটি মামলা হয়।

শফিকুল আলম ফিরোজ গ্রেপ্তার

২০ সেপ্টেম্বর অভিযান চালানো হয় কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে। অভিযানে ক্লাবটির সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে মাদক, অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ তাসসহ গ্রেপ্তার করা হয। তার বিরুদ্ধে ধানমন্ডি ও গুলশান থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়

এই মামলাতেও র‌্যাব অভিযোগপত্র দিয়েছে।

অভিযানের ২ বছরে ক্যাসিনো অনলাইনে
লোকমান ও শফিকুল আলম ফিরোজকেও ক্যাসিনো কারবারির জন্য গ্রেপ্তার করা হয়। ফাইল ছবি

ধানমন্ডি ক্লাবে অভিযান

একইদিন ধানমন্ডি ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ক্লাবটি সিলগালা করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্লাবে অভিযান

২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পাশাপাশি চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র, হালিশহরের আবাহনী লিমিটেড ও সদরঘাট এলাকায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জুয়া খেলার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

এনু-রুপনের বাসায় অভিযান

ওয়ান্ডার্স ক্লাবে ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় দুই ভাই এনামুল হক এনু, রুপন ভূঁইয়া ও তার দুই বিশ্বস্ত সহযোগীর বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৫ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ৭ দশমিক ২০ ভরি সোনা এবং ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি অবৈধ) উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর, ওয়ারী থানাতে সাতটি মামলা হয়। অস্ত্র, মানি লন্ডারিং ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাগুলো করা হয়।

এই মামলাতেও র‌্যাব অভিযোগপত্র দিয়েছে।

ফু-ওয়াং ক্লাবে অভিযান

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ফু-ওয়াং ক্লাবে অভিযান হয় ২৫ সেপ্টেম্বর। ব্যবস্থাপকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ক্লাব থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা, অবৈধ মদ ২ হাজার বোতল, বিয়ার ক্যান ১০ হাজার ও বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। তেজগাঁও থানায় মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়।

এই মামলায় র‌্যা অভিযোগপত্র দিয়েছে।

‘ক্যাসিনো সেলিম’ গ্রেপ্তার

দেশ ত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ৩০ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাই এয়ারওয়েজের বিমান থেকে অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসার হোতা সন্দেহে সেলিম প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার দেয়া তথ্যে সেলিমের বাসা ও অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক, পাসপোর্ট, চেক বই, দেশি ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া সেলিমের তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

অভিযানের ২ বছরে ক্যাসিনো অনলাইনে
দেশে অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান। ফাইল ছবি

সেলিম প্রধানকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। এ ছাড়া গুলশানে মাদক ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়।

এই মামলাতেও র‌্যাব অভিযোগপত্র দিয়েছে।

সম্রাট-আরমান গ্রেপ্তার

৬ অক্টোবর ভোরে র‌্যাবের অভিযানে যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট ও এনামুল হক আরমানকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন সাহেব নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মনির চৌধুরী নামে একজনের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন তারা।

গ্রেপ্তারের সময় এমরানুল হক আরমানকে মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক আইনে তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়।

গ্রেপ্তারের পর সম্রাট ও আরমানকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। সম্রাটের দেয়া তথ্যে ঢাকার কাকরাইল (সম্রাটের অফিস), মহাখালী ডিওএইচএস (বাসা), শান্তিনগরে (ভাইয়ের বাসা) অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সম্রাটের কাকরাইলের অফিস থেকে উদ্ধার করা মাদক, অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বন্যপ্রাণীর চামড়া ও শারীরিক নির্যাতনে ব্যবহার করা সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। সম্রাটকে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অফিসে বন্যপ্রাণী চামড়া রাখার দায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়।

সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা করা হয়। এ ছাড়া আরমানের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বাসায় অভিযান করে বিভিন্ন ব্যাংকের ১২টি চেক বই জব্দ করা হয়।

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম থানায় তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে এবং রমনা মডেল থানায় মাদক আইনে মামলা করা হয়। রমনা থানায় অস্ত্র আইনে মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছে র‌্যাব।

পাগলা মিজান গ্রেপ্তার

২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর র‌্যাবের অভিযানে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি ও সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানকে দেশত্যাগের সময় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর মিজানকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। মিজানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার লালমাটিয়া অফিস ও আওরঙ্গজেব রোডের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। মিজানের আওরঙ্গজেব সড়কের বাসা থেকে নগদ ২ লাখ টাকা, ৬ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার টাকার চেক, এক কোটি টাকার এফডিআরসহ অস্ত্র এবং গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় অস্ত্র আইনে ও মোহাম্মদপুরে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়।

কমিশনার রাজীব গ্রেপ্তার

১৯ অক্টোবর চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব, কিশোরগ্যাং নিয়ন্ত্রণ ও মাদক সেবন করার অভিযোগে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার দেয়া তথ্যে মোহাম্মদপুর বাসা ও অফিস অভিযান পরিচালনা করে বাসা থেকে নগদ ৩৩ হাজার টাকা, ৫ কোটি টাকার চেক, বিদেশি মদ, পাসপোর্টসহ অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

তার বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা হয়। অস্ত্র আইনে মামলাটির অভিযোপত্র দিয়েছে র‌্যাব।

কাউন্সিলর ময়নুল গ্রেপ্তার

চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, মাদক কারবার ও জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগে ৩১ অক্টোবর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে ময়নুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার অফিস থেকে অস্ত্র ও মাদক জব্দ করা হয়। পরে তার তথ্যে হাটখোলা রোডের ‘গ্লোব নিবাসে' অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়।

সম্রাটের সহযোগী জাকির গ্রেপ্তার

ইসমাইল হোসেন সম্রাটের ক্যাসিনো ব্যবসার সহযোগী হিসেবে নাম আসা জাকির হোসেন আত্মগোপন করে ভোলার চরনোয়াবাদ এলাকায় চলে যান। ২৯ অক্টোবর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র ও মাদক জব্দ করা হয়। ভোলা সদর থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়।

আরও পড়ুন:
বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে পরানো হলো র‍্যাঙ্ক ব্যাজ
বিমানবাহিনীর প্রধান হলেন শেখ আব্দুল হান্নান
শিখা অনির্বাণে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধানের শ্রদ্ধা

শেয়ার করুন