‘ক্ষমতা ভোগ-বিলাসের বিষয় না’

‘ক্ষমতা ভোগ-বিলাসের বিষয় না’

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠন করা বা ক্ষমতায় আসা এটা শুধু ভোগ-বিলাসের বিষয় না। আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েছি বলে যে মহা কিছু হয়ে গেছি, তা না। এটা একটা বিরাট দায়িত্ব।’

সরকার গঠন করা বা ক্ষমতায় আসা ভোগ-বিলাসের বিষয় নয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটা বিরাট দায়িত্ব।

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে অবদান রাখায় ২০২০ ও ২০২১ সালের জনপ্রশাসন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ২০২০ সালে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে অবদান রাখায় ৯ এবং ২০২১ সালে ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জনপ্রশাসন পদক দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পদক তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠন করা বা ক্ষমতায় আসা এটা শুধু ভোগ-বিলাসের বিষয় না। আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েছি বলে যে মহা কিছু হয়ে গেছি, তা না। এটা একটা বিরাট দায়িত্ব।

‘সেই সাথে আমার যারা সহকর্মী, বিশেষ করে সরকারি কর্মচারী, তাদেরও দায়িত্ব। কারণ, বাংলাদেশের জনগণ তারাই তো আপনাদের ভরণপোষণ, খাবার জোগান তারাই তো করেন; আমাদের সকলের জন্যই করেন। তাদের জন্য আমরা কতটুকু কী করতে পারলাম, সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিষয়। তাদের সার্বিক উন্নয়নটাই হলো আমাদের সকলের দায়িত্ব, যে যখনই সরকারে আসুক। এটা যদি না হয় তাহলে কিন্তু একটা দেশ এগোতে পারে না।’

সরকারের কর্মকাণ্ড মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করায় জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘আজকে এত অল্প সময়ের মধ্যে আমরা যে এত উন্নয়ন করলাম, আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের সরকারি অফিসার ও কর্মচারীদের। প্রত্যেকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছেন। আমরা যে পরিকল্পনাগুলি নিয়েছি, সেগুলি বাস্তবায়ন করেছেন।

‘মানুষ তার শুভফলটা পেয়েছে বলেই এ দেশের উন্নয়নটা হয়েছে। এটা যদি না হতো এত তাড়াতাড়ি আমরা কখনোই উন্নতি করতে পারতাম না। আমি মনে করি জনপ্রশাসনে যারা আছেন, জনগণের সেবা করা, জাতির পিতাও আমাদের সেই নির্দেশই দিয়েছেন। জনগণের সেবা করা হলো সবচেয়ে বড় কাজ।’

তিনি বলেন, ‘যাদের নিয়ে আমরা কাজ করব তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং কাজগুলি যেন তারা সঠিকভাবে করতে পারে তার ব্যবস্থা করা। সেই সাথে কাজের একটা মুল্যায়ন করা বা স্বীকৃতি দেয়া। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কতগুলি পদক্ষেপ নিই।

‘আপনারা জানেন যে ২০০৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ২৩ জুন বিশ্বব্যাপী পাবলিক সার্ভিস দিবস পালিত হবে। আমরা সেই দিবসের কথা স্মরণ করেই ২৭ জুলাইকে পাবলিক সার্ভিস দিবস ঘোষণা করি। এ উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আমরা তাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে একটি পুরস্কারেরও পদক্ষেপ আমরা নিই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে আমরা যারা ভালো কাজ করবে, যাদের ভেতরে নতুন নতুন প্রণোদনা আছে, ইনোভেটিভ আইডিয়া আছে বা দেশের কল্যাণের জন্য যারা কাজ করবেন, তারা পুরস্কৃত হবেন। এই জনপ্রশাসন পদক এই ভালো কাজের স্বীকৃতি এবং প্রণোদনা দিতে আমরা করেছি।

‘করোনাভাইরাসের কারণে অনেক কাজই আমরা সঠিক সময়ে করতে পারছি না। ২৩ জুলাইয়ের পরিবর্তে আজ আমরা এটা করছি।’

আরও পড়ুন:
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’
আগে ছিলাম ছোট জেলখানায়, এখন বড় জেলখানায়
সৎ নির্মোহ ও জনবান্ধব সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির নির্দেশ
বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এক টন আম যাচ্ছে নেপালে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পার্বত্য অঞ্চল বোঝা হবে না: বীর বাহাদুর

পার্বত্য অঞ্চল বোঝা হবে না: বীর বাহাদুর

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির পাহাড়ঘেরা কাপ্তাই লেক। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চল দেশের জন্য বোঝা হবে না; পার্বত্য অঞ্চল হবে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদশালী। সকল ভেদাভেদ ভুলে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে সমৃদ্ধশালী দেশের স্বপ্ন দেখেন, সেটি বাস্তবায়নের জন্য পার্বত্য অঞ্চলের সন্তানরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাত শক্তিশালী করবে।’

পার্বত্য অঞ্চল দেশের জন্য বোঝা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং।

তিনি বলেছেন, এ অঞ্চল দেশের সম্পদ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চল দেশের জন্য বোঝা হবে না; পার্বত্য অঞ্চল হবে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদশালী। সকল ভেদাভেদ ভুলে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে সমৃদ্ধশালী দেশের স্বপ্ন দেখেন, সেটি বাস্তবায়নের জন্য পার্বত্য অঞ্চলের সন্তানরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাত শক্তিশালী করবে।’

ওই সময় বীর বাহাদুর উশৈসিং জানান, পার্বত্য অঞ্চলে বর্তমানে শিক্ষার হার ৫০ ভাগের কাছাকাছি।

তিনি বলেন, ‘আগে শিক্ষার হার অনেক কম ছিল। এখন ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। আমরা শিক্ষা খাতে এগিয়ে যাচ্ছি। সেখানে স্কুল-কলেজ ছিল না। সেখানে প্রধানমন্ত্রী অনেক স্কুল-কলেজ করেছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ করা হয়েছে, মেডিক্যাল কলেজও করা হয়েছে।

‘প্রায় উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ করা হয়েছে। এ ধরনের অনেক প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। আগের শিক্ষার হারে সরকারগুলো গুরুত্ব দেয়নি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন। শিক্ষার হার বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমাদের গ্রামগুলো অনেক দূরে পাহাড়ে পাহাড়ে। আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠা হলে তাদের কষ্ট কম হবে। এতে শিক্ষার হারও বাড়বে।’

ওই সময় পার্বত্য চট্টগ্রামকে ‘কারাগারে পরিণত করা হয়েছে’ বলে সন্তু লারমার এক বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘উনি উনার দৃষ্টিকোণ থেকে বলতেই পারেন। সারা বিশ্বে এমন কোন জায়গা আছে যেখানে সমস্যা থাকে না?

‘সেখানে কোনো কারণে যদি কোনো ঘটনা ঘটেই যায়, সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সেটি চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে সে এলাকার সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সবসময় তৎপর থাকে। কোনো ঘটনা ঘটলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার তৎপর।’

মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তির আগে এবং আজকের পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ পরিস্থিতি আকাশ-পাতাল তফাৎ। আজকে সেখানে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। যত দ্রুত আমরা সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারি, তত আমাদের জন্য কল্যাণকর। সবাইকে আহ্বান করব যারা শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনে ছিলেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

‘সংঘর্ষ, সংঘাত বাদ দিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে হাতে হাত মিলিয়ে সুন্দর পরিবেশ তৈরির যে আস্থা তৈরি করেছিলাম, সেটি আরও দৃঢ়ভাবে টিকিয়ে রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই।’

আরও পড়ুন:
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’
আগে ছিলাম ছোট জেলখানায়, এখন বড় জেলখানায়
সৎ নির্মোহ ও জনবান্ধব সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির নির্দেশ
বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এক টন আম যাচ্ছে নেপালে

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্সের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা। আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা টাকা বানাতে আসতে পারে। আমাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারে।’

বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের উত্তম জায়গা বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। এ দেশে বিনিয়োগ করতে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বৃহস্পতিবার আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্সের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এ বছর আমরা আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পালন করছি। আর আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ২৫ বছর পালন করছে। এটা আমাদের বন্ধুত্বের শক্ত অবস্থান প্রমাণ করে।

‘বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা। আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা টাকা বানাতে আসতে পারে। আমাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রকে তুলা ও তুলাজাতীয় পণ্যের ওপর থেকে মাত্রাতিরিক্ত কর তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমেরিকা থেকে তুলা আমদানি করি। সেই আমদানিতে অনেক ট্যাক্স। ফলে সেই তুলার উৎপাদিত পণ্য আমেরিকান বাজারেও যায়, কিন্তু তাতেও অনেক ট্যাক্স। আমেরিকা এই ট্যাক্সটা তুলে নিতে পারে।’

জলবায়ু ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আর বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রধান। আমাদের নর্দান জোনের নদীভাঙন এই সমস্যার অন্যতম কারণ। এই সমস্যার সমাধান আছে আমাদের ডেল্টা প্ল্যানে।

‘যুক্তরাষ্ট্র নদীভাঙন রোধে নদী খনন ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে বিনিয়োগ করতে পারে। ফলে উদ্ধার করা জমি শিল্পাঞ্চল, নগর ও পুনর্ব্যবহার করা শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এ কাজে বিনিয়োগ করলে দুই দেশই লাভবান হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ নিশ্চিত হওয়া ১০টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ বন্ধ করেছে। এতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র এখন এ ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে পারে। এটা এখন একটি সুযোগ হিসেবে এসেছে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের প্রশংসা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ১.১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা পিপলের বোঝা বহন করে চলছে। এটা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই এই কঠিন দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। জোর গলায় রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি তুলেছে। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করেছে।

‘কোভিড-১৯-এর কঠিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার বন্ধুত্বের হাত বাংলাদেশের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা সত্যিই খুব জটিল ও কঠিন সময় ছিল। যখন আমরা ভ্যাকসিনের জন্য হন্যে হয়ে দেশে দেশে হাত পাতছিলাম, তখন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মিলিয়ন মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে।’

আরও পড়ুন:
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’
আগে ছিলাম ছোট জেলখানায়, এখন বড় জেলখানায়
সৎ নির্মোহ ও জনবান্ধব সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির নির্দেশ
বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এক টন আম যাচ্ছে নেপালে

শেয়ার করুন

পাঠ্যপুস্তকে স্বাধীনতার ঘোষণা-ঘোষণাপত্র অন্তর্ভুক্তি চেয়ে রিট

পাঠ্যপুস্তকে স্বাধীনতার ঘোষণা-ঘোষণাপত্র অন্তর্ভুক্তি চেয়ে রিট

রিটকারী আইনজীবী উত্তম লাহেড়ি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা ও ঘোষণাপত্র পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুক্তের ইতিহাস জানাতে এই ঘোষণা ও ঘোষণাপত্র পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা দরকার। এর আগে এ বিষয়ে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছিল।’

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যপুস্তকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও ঘোষণাপত্রের অন্তর্ভুক্তি চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

আইনজীবী উত্তম লাহেড়ি বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতে রিটটি করেন।

তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন নাহিদ সুলতানা যুথী ও এবিএম শাহজাহান আকন্দ মাসুম।

রিটকারী আইনজীবী উত্তম লাহেড়ি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা ও ঘোষণাপত্র পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুক্তের ইতিহাস জানাতে এই ঘোষণা ও ঘোষণাপত্র পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা দরকার। এর আগে এ বিষয়ে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছিল।’

রিটে স্বাধীনতার ঘোষণা ও ঘোষণাপত্র যারা অস্বীকার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ১০ জনকে বিবাদী করা হয়।

আইনজীবী এবিএম শাহজাহান আকন্দ মাসুম বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন স্বাধীনতার ঘোষণা ও ঘোষণাপত্র সম্পর্কে জানতে পারে, সে কারণেই এ রিট করা হয়েছে।’

রিট আবেদনটি বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হবে বলেও জানিয়েছেন রিটকারীর আইনজীবী।

আরও পড়ুন:
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’
আগে ছিলাম ছোট জেলখানায়, এখন বড় জেলখানায়
সৎ নির্মোহ ও জনবান্ধব সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির নির্দেশ
বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এক টন আম যাচ্ছে নেপালে

শেয়ার করুন

‘হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করুন’

‘হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করুন’

বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

ওবায়দুল কাদের মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কথা দিয়ে কথা রাখুন। আপনাদের সিদ্ধান্ত আপনারাই কেন লঙ্ঘন করছেন?’

রাজধানীর বেশ কিছু পরিবহনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের শিক্ষার্থীদের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের অনুরোধ করেছেন।

নিজ সরকারি বাসভবনে বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে কাদের এ অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করুন।’

ওই সময় কাদের মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কথা দিয়ে কথা রাখুন। আপনাদের সিদ্ধান্ত আপনারাই কেন লঙ্ঘন করছেন?’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে হাফ ভাড়ার দাবি মেনে নিয়েছে বাস মালিক সমিতি। তারা বলেছে, এ সিদ্ধান্ত কেবল কার্যকর হবে ঢাকা মহানগর এলাকায়।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ৩০ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

ওই সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১ ডিসেম্বর থেকে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে। হাফ ভাড়া দেয়ার সময় আইডি কার্ড দেখাতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, ছুটির দিনে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না। হাফ ভাড়া ঢাকার বাইরে অন্য জেলার জন্য নয়।

মালিক সমিতি আরও জানায়, সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাফ ভাড়া দিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। ওই সময়ের পর বাসে উঠলে পুরো ভাড়া দিতে হবে।

আরও পড়ুন:
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’
আগে ছিলাম ছোট জেলখানায়, এখন বড় জেলখানায়
সৎ নির্মোহ ও জনবান্ধব সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির নির্দেশ
বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এক টন আম যাচ্ছে নেপালে

শেয়ার করুন

রাজারবাগ পিরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন

রাজারবাগ পিরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন

পির মো. দিল্লুর রহমান থাকেন রাজারবাগের এ দরবার শরিফে। ছবি: নিউজবাংলা

৪৯ গায়েবি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ব্যবসায়ী একরামুল আহসান কাঞ্চন রিট করেন। ওই রিটের সঙ্গে সম্পৃক্ত আবেদন করা হয়।

রাজারবাগ দরবার শরিফের পির দিল্লুর রহমানসহ মামলার সিন্ডিকেটের তিন সদস্যকে বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

দিল্লুর ছাড়া অন্যরা হলেন শাকিরুল কবির, ফারুকুর রহমান ও মফিজুল ইসলাম।

আবেদনের বিষয়টি নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী এমাদুল হক বশির।

৪৯ গায়েবি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ব্যবসায়ী একরামুল আহসান কাঞ্চন রিট করেন। ওই রিটের সঙ্গে সম্পৃক্ত আবেদন করা হয়।

আইনজীবী এমাদুল হক বশির বলেন, আবেদনটি সকালে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে জমা হয়েছে।

খুব শিগগিরই হাইকোর্টে আবেদনটির শুনানি হবে বলে তিনি জানান।

বশির আরও বলেন, ‘তারা (বাকি তিনজন) সবাই পিরকে মামলায় সহযোগিতা করেছেন। গত ৩১ আগস্ট দেয়া সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।

ব্যবসায়ী একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪৯টি ভুয়া মামলার নেপথ্যে রাজারবাগের পির দিল্লুর রহমানের নাম উঠে আসে তদন্তে।

সিআইডি হাইকোর্টে ওই তদন্ত প্রতিবেদন গত ১২ সেপ্টেম্বর জমা দেয়। প্রতিবেদন জমা দেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রতন কৃঞ্চ নাথ।

প্রতিবেদন জমার পর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির নেপথ্যে পিরের ‘কারসাজির’ তথ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন:
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’
আগে ছিলাম ছোট জেলখানায়, এখন বড় জেলখানায়
সৎ নির্মোহ ও জনবান্ধব সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির নির্দেশ
বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এক টন আম যাচ্ছে নেপালে

শেয়ার করুন

বাসের ওয়ে বিল বন্ধে আইনি নোটিশ

বাসের ওয়ে বিল বন্ধে আইনি নোটিশ

আইনি নোটিশে ওয়ে বিল বন্ধসহ সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে। ফাইল ছবি

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যানের উদ্দেশে নোটিশটি পাঠানো হয়।

গণপরিবহনে প্রচলিত ওয়ে বিলকে মানুষ ঠকানোর হাতিয়ার উল্লেখ করে এটি বাতিলসহ সাত দফা দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবু তালেব রেজিস্ট্রি ডাকযোগে বৃহস্পতিবার এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশটি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় রিট করা হবে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন নোটিশকারী আইনজীবী আবু তালেব।

৭ দফা দাবি

নোটিশে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটি নিরসনে ৭ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

১. ঢাকাসহ সারা দেশে যেসব গণপরিবহন পেট্রল, ডিজেল ও গ্যাসে চলে, তা নির্ধারণ করে প্রতিটি গণপরিবহনে বিআরটিএর লোগোসহ পরিবহনের সামনে ও পেছনে নেমপ্লেট আকারে সাঁটাতে হবে, যাতে যাত্রীরা বুঝতে পারে।

২. ঢাকা শহরসহ দেশের সব রুটের স্টপেজ টু স্টপেজের কোথাকার ভাড়া কত, তা নির্ধারণ করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সব পরিবহনের মালিক-শ্রমিকদের ভাড়ার চার্ট টানানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট স্টপেজে সাইনবোর্ড কিংবা ইলেকট্রনিকস বিলবোর্ডে সেগুলো লিখে ডিসপ্লে করতে হবে।

৩. ভাড়া নির্ধারণের আইনগত ভিত্তি কী? মালিকদের দাবির মুখেই ভাড়া বাড়ানোর অনুমোদন দেয়া হয়। কিলোমিটারপ্রতি বাস ও লঞ্চের ভাড়া নির্ধারণে সংসদ প্রণীত আইনের অধীনে কখন ও কত বছর পরে ভাড়া বৃদ্ধি করা হবে, এ মর্মে কোন বিধি রয়েছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।

৪. শিক্ষার্থীদের বাস ও লঞ্চ ভাড়া অর্ধেক নেয়ার সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে হবে।

৫. সারা দেশে কতগুলো বাস ও লঞ্চ তথা গণপরিবহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট আছে এবং কতগুলোর নেই, তা জানাতে হবে এবং কতসংখ্যক ড্রাইভারের লাইসেন্স আছে, সেটিও জানাতে হবে।

৬. ওয়ে বিল মানুষ ঠকানোর একটি হাতিয়ার। এটার কথিত প্রয়োগ শিগগিরই বন্ধ ও বাতিল করতে হবে।

৭. আনুষঙ্গিক অন্যান্য সব কাজ যা যাত্রীকল্যাণে করা দরকার, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

আরও পড়ুন:
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’
আগে ছিলাম ছোট জেলখানায়, এখন বড় জেলখানায়
সৎ নির্মোহ ও জনবান্ধব সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির নির্দেশ
বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এক টন আম যাচ্ছে নেপালে

শেয়ার করুন

উন্নত দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীকে অগ্রসেনা হিসেবে চান প্রধানমন্ত্রী

উন্নত দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীকে অগ্রসেনা হিসেবে চান প্রধানমন্ত্রী

ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২১ এবং আর্মড ফোর্সের ওয়ার কোর্স-২০২১-এর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: টিভি ফুটেজ থেকে নেয়া

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এটুকু বলব, ২০৪১-এর যে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, তারই অগ্রসেনা হিসেবে আপনারা কাজ করে যাবেন। এটা আমি আশা করি।’

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়া বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অগ্রসেনানীর ভূমিকায় দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এটুকু বলব, ২০৪১-এর যে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, তারই অগ্রসেনা হিসেবে আপনারা কাজ করে যাবেন। এটা আমি আশা করি।’

ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসে বৃহস্পতিবার সকালে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২১ এবং আর্মড ফোর্সের ওয়ার কোর্স-২০২১-এর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার শতবর্ষপূর্তি হবে, সেটাও আমাদের মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ আর পিছিয়ে যাবে না, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে- জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা গড়ে তুলব।’

সম্প্রতি জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশ ঘোষণা করার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেলাম। কাজেই আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। এখানে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত।’

এ পর্যন্ত ২৪টি বন্ধুপ্রতিম দেশের ৩৮৩ জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্সে উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এবার এনডিসিতে ২৭ জন বিদেশি সামরিক সদস্যসহ মোট ৮৮ জন এবং এএফডব্লিউসিতে মোট ৫৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এনডিসিতে সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করেছেন, যা নিঃসন্দেহে আপনাদের কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্ব অর্জনে সহায়ক হবে।

‘আমি আশা করি, এই কোর্স দুটিতে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সামরিক সদস্যদের সঙ্গে আমাদের সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা সর্বোপরি আমাদের প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে যে নিবিড় মিথষ্ক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে তা ভবিষ্যতে অটুট থাকবে।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ সালে আমি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং এবং আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করি। প্রথম ২০০০ সালে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে নারী অফিসার নিয়োগ করি।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৮ থেকে পর পর তিনবার নির্বাচনে জয় পেয়ে দেশের সেবায় সময়-সুযোগ পেয়ে উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত ও যুগোপযোগী সামরিক বাহিনী গঠনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে বাংলাদেশ পিস বিল্ডিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছি। জাতির পিতা প্রণীত প্রতিরক্ষানীতিকে যুগোপযোগী করে জাতীয় প্রতিরক্ষানীতি, ২০১৮ প্রণয়ন করেছি। আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।’

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামরিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের সরকার সেনাবাহিনীতে অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র, বিমান ও হেলিকপ্টারসহ মডার্ন ইনফ্যান্ট্রি গেজেট, বিভিন্ন আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং সরঞ্জামাদি, আকাশে বিধ্বংসী স্বয়ংক্রিয় শোরাড, ভিশোরাড, সর্বাধুনিক অয়েরলিকন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইত্যাদি সংযোজন করেছি।

“নৌবাহিনীতে অত্যাধুনিক করভেট, ফ্রিগেট, সাবমেরিন ও মেরিটাইম হেলিকপ্টার সংযোজন এবং বিশেষায়িত ফোর্স হিসেবে ‘সোয়াডস’ গঠন করেছি। নতুন নতুন নৌ এবং সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণ করছি।”

বিমান বাহিনীতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করা হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘এভিয়েশন ও এরোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি এবং ফরোয়ার্ড এভিয়েশন বেজ ও এয়ার ডিফেন্স নোটিফিকেশন সেন্টার নির্মাণ করেছি। আমরা দেশব্যাপী সিএমএইচগুলোকে অত্যাধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরিত করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগে সদা প্রস্তুত থাকে। তারা বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

‘কোয়ারেন্টিন সেন্টার ও হাসপাতাল স্থাপন, আটকে পড়া দেশি-বিদেশি লোকজনকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা, গুরুতর রোগী এবং চিকিৎসা-স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রশংসা অর্জন করেছে।’

দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের অবকাঠামো এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি নিশ্চিতকরণে দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে, পাশাপাশি জাতিসংঘের ভূমিকাকেও প্রশংসিত করেছে। আমরা আবারও সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে গৌরবের স্থানটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’

অর্থনৈতিক অগ্রগতির মানদণ্ডে বিশ্বের প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ স্থান করে নিয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমরা দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনেছি এবং মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছি। আর্থ-সামাজিক সব সূচকে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করতে সক্ষম হয়েছি।’

করোনা মহামারির মধ্যেও সব মেগা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক করেছি, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। মুজিব শতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছি।’

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্দেশ্য ছিল দেশ-বিদেশের উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাদের জন্য একটি শীর্ষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার যে লক্ষ্য সেটা পূরণ হয়েছে বলেও মনে করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘দেশ-বিদেশের উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাদারি ও দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত করে তোলার পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কিছু না’
আগে ছিলাম ছোট জেলখানায়, এখন বড় জেলখানায়
সৎ নির্মোহ ও জনবান্ধব সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির নির্দেশ
বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এক টন আম যাচ্ছে নেপালে

শেয়ার করুন