ত্যাগের মহিমায় এলো খুশির ঈদ

ত্যাগের মহিমায় এলো খুশির ঈদ

করোনার অভিঘাত সয়েও পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে মনের পশুত্ব দূর করার ব্রত নিয়ে গোটা দেশে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের ঘেরাটোপে যখন গোটা দেশ, তখন ত্যাগের মহিমা নিয়ে এলো পবিত্র ঈদুল আজহা।

কোরবানির ঈদ নামে পরিচিতি আজকের দিনটিতে ইসলাম ধর্মানুসারীরা ত্যাগের মহিমায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় নামাজ শেষে পশু কোরবানি দেবেন। করোনার অভিঘাত সয়েও পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে মনের পশুত্ব দূর করার ব্রত নিয়ে গোটা দেশে দিনটি উদযাপিত হবে।

জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে যারা রাজধানী ঢাকায় থাকেন, বুধবার ঈদ উদযাপনে তাদের অনেকেই পথের ভোগান্তি সয়ে, শত ক্লান্তি গায়ে মেখে ছুটে গেছেন গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনের কাছে। যদিও করোনাভাইরাস আতঙ্কে এবারও কিছুটা ভাটার টান পড়েছে ঈদ আনন্দে।

এবার খোলা ময়দানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামায়াত উদযাপনের কথা থাকলেও আষাঢ়ের বৃষ্টি আর করোনা সংক্রমণের কথা ভেবে জাতীয় ঈদগাহে নেই কোনো আয়োজন। ঈদের জামাত হচ্ছে না ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানেও।

তবে নগরবাসীর কথা ভেবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।

বায়তুল মোকাররমে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়। এই নামাজে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।

দ্বিতীয় জামাত শুরু হবে সকাল ৮টায়। এতে ইমামতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভীকে।

সকাল ৯টায় শুরু হবে তৃতীয় জামাত। বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক এই নামাজে ইমামতি করবেন।

সকাল ১০টায় হবে চতুর্থ জামাত। যেখানে ইমামতি করবেন পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দীন কাসেম।

পঞ্চম ও সবশেষ জামাতটি অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। এই নামাজে ইমামের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ূর রহমান খানকে।

পাঁচটি জামাতে কোনো ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

এ ছাড়াও নগরীর প্রতিটি অলিগলিতে স্থানীয়ভাবে ঈদের নামাজের আয়োজন করা হয়েছে।

দিনটি ঘিরে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের আহ্বান রেখে আলাদা বাণী দিয়েছেন তারা।

কঠিন এ সময়ে দেশের জনগণকে কোরবানির মর্মার্থ অনুধাবন করে সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হয়ে মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত এক বছরের বেশি সময় ধরে আমরা করোনাভাইরাস মহামারি বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছি। আর এ লড়াইয়ে আমরা অনেক আপনজনদের হারিয়েছি।’

করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ লড়াইয়ে আমাদেরকে জিততেই হবে এবং আমরা জিতব ইনশাআল্লাহ।’

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদের খতিব-ইমাম, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

এ ছাড়া শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের ঈদের জামাতে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের মহাবিপদ থেকে রক্ষা পেতে বেশি বেশি তওবা, আস্তাগফিরুল্লাহ ও কোরআন তেলাওয়াত করার পাশাপাশি সবার অন্যায়-অপরাধের জন্য ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার নিবেদন জানিয়েছে সরকার।

কোরবানির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ ইব্রাহিম (আ.) ও তার ছেলে ইসমাইলের (আ.) সঙ্গে সম্পর্কিত। স্বপ্নে আদেশ পেয়ে ছেলে ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানি করতে গিয়েছিলেন ইব্রাহিম (আ.)।

যা ছিল একজন পিতার জন্য সৃষ্টিকর্তার পরীক্ষা। আদরের সন্তানকে আল্লাহর নির্দেশে জবাই করার প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ইব্রাহিম (আ.)।

বর্ণিত আছে, নিজের চোখ বেঁধে ছেলে ইসমাইলকে যখন জবাই করলেন, তখন চোখ খুলে দেখেন ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কোরবানি হয়েছে, যা এসেছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কোরবানির বিধান এসেছে ইসলামে। আর তাই প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। যার উদ্দেশ্য মনের পশুত্ব দূর করা।

আরও পড়ুন:
‘আল্লায় প্রধানমন্ত্রীরে বালা মসিবত থাইক্কা বাচাইয়া রাহুক’
‘ঈদ নাই হামার, আনন্দ নাই হামার’
বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় চাঁদ
ট্রাকে বাড়ি ফিরছেন নিম্ন আয়ের মানুষ
রাজশাহীতে ঈদের জামাত যেখানে

শেয়ার করুন

মন্তব্য