ফেরিঘাটে জনস্রোত, পারাপারের অপেক্ষায় হাজারো যান

ফেরিঘাটে জনস্রোত, পারাপারের অপেক্ষায় হাজারো যান

বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক ফয়সাল আহমেদ জানান, ঘাট এলাকায় পারাপারের জন্য যাত্রী ও পণ্যবাহী মিলিয়ে আট শর বেশি যানবাহন রয়েছে। তবে সকাল থেকে যাত্রী এবং মোটরসাইকেলের চাপই বেশি। বেশ কয়েকটি ফেরি ছাড়তে হয়েছে শুধু যাত্রী ও মোটরসাইকেল নিয়ে।

ঈদযাত্রার চাপ মহাসড়কের পাশাপাশি ঘাটেও। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে গত কয়েক দিন ধরেই সকালের দিকে চাপ থাকছে যাত্রীর। ঈদের আগের দিন হওয়ায় মঙ্গলবার রীতিমতো ঢল তৈরি হয়েছে সেখানে।

সকালের দিকে ছিল বৃষ্টি। এর মধ্যেও দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার যাত্রীরা শিমুলিয়ার লঞ্চ ও ফেরিঘাটে এসেছেন। শৃঙ্খলা ও স্বাস্থবিধি রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন থাকলেও যাত্রীর চাপে তারা ছিলেন বেসামাল। গাদাগাদি করে যে যেভাবে পারছেন, চড়ছেন ফেরি ও লঞ্চে।

ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, পদ্মায় তীব্র স্রোত থাকায় ফেরি ও লঞ্চ চলছে ধীরগতিতে। তাই যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে সময় লাগছে বেশি। এ কারণে ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় আটকে আছে শত শত ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী ট্রাক। ঘাট অভিমুখে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও কয়েক কিলোমিটারজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

কেরানীগঞ্জের একটি গার্মেন্টসের সুপারভাইজার সিদ্দিকুর রহমান জানান, সপরিবারে ঈদ করতে যাচ্ছেন খুলনার বাগেরহাটে, নিজ বাড়িতে।

ঘাটে এসে বৃষ্টির জন্য বিপাকে পড়েছেন। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দোকানের ছাউনিতে বসে ফেরির জন্য অপেক্ষায় আছেন।

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী আশিক রহমান। ফেরিঘাটে কথা হয় তার সঙ্গে। পরিবারের দুই সদস্য নিয়ে তিনি মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গায়। সেখানে তার বাবার বাড়ি। তার মতো মোটরসাইকেলে করে প্রচুর যাত্রী ভিড়েছেন ফেরিঘাটে।

ফেরিঘাটে জনস্রোত, পারাপারের অপেক্ষায় হাজারো যান

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) শিমুলিয়া নদী বন্দর কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, বরাবরই ঈদের আগের দুদিনে যাত্রীর চাপ বাড়ে। ৮৪টি লঞ্চ দিয়ে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও শিমুলিয়া-মাজিরকান্দি নৌপথে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক ফয়সাল আহমেদ জানান, এই নৌপথে এখন ১৫টি ফেরি সচল রয়েছে। ঘাট এলাকায় পারাপারের জন্য যাত্রী ও পণ্যবাহী মিলিয়ে আট শর বেশি যানবাহন রয়েছে। তবে সকাল থেকে যাত্রী এবং মোটরসাইকেলে চাপই বেশি। বেশ কয়েকটি ফেরি ছাড়তে হয়েছে শুধু যাত্রী ও মোটরসাইকেল নিয়ে।

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসাইন বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ও লঞ্চে নির্ধারিত যাত্রী ধারণ নিশ্চিত করতে চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে ৷ পুরো ঘাটজুড়ে বিভিন্ন স্তরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিন শর বেশি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।’

যাত্রীর চাপ সকাল থেকে দেখা গেছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথেও। নদী পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন তারা।

ফেরিঘাটে জনস্রোত, পারাপারের অপেক্ষায় হাজারো যান

বিআইডব্লিউটিসির মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নৌপথে এখন চলছে ১৭টি ফেরি। মঙ্গলবার সকালে এ ঘাটে দুই শরও বেশি যাত্রীবাহী বাস ও দেড় শর বেশি ব্যক্তিগত গাড়ি পারের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব যানের চাপ থাকায় জরুরি পণ্যবাহী ও সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখা হয়েছে।

এই ঘাটে চাপ সোমবার সন্ধ্যা থেকে। ফেরির অপেক্ষায় থাকা মাগুরার শেখ হালিম বলেন, ‘ভাই কালকে ঈদ। পরিবারের সবাই অপেক্ষা করতেছে। বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় ফেরিঘাটে অপেক্ষা করছি। তার পরেও দেখি বৃষ্টি থামে না। তাই বাধ্য হয়ে ভিজেই রওনা দিলাম। বৃষ্টিতে ভিজে ঠাণ্ডা-জ্বর হলেও দুঃখ নাই। পরিবারের সাথে ঈদ করতে তো পারব।’

ফরিদপুরের আসাম মিয়া বলেন, ‘ভোরবেলায় পাটুরিয়া ঘাটের কাছে এসে পৌঁছাই। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা সময় বসে থেকে ফেরিঘাটে আসি। তার প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ফেরির দেখা পাই।’

ফেরিঘাটে জনস্রোত, পারাপারের অপেক্ষায় হাজারো যান

গোপালগঞ্জের আব্দুর রহিম বলেন, ‘দুরপাল্লার বাসের সিট না পাওয়ায় লোকাল বাসে করে আরিচা আসি। আরিচা থেকে আবার রিকশা করে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটে আসি। এসে দেখি লঞ্চঘাটেও যাত্রীর চাপ।’

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সকাল থেকেই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। যানবাহনের চেয়ে যাত্রীর চাপ বেশি। ঘাটে আসা যাত্রীরা বৃষ্টিতে ভিজে ফেরিতে পার হচ্ছেন। সব কটি ফেরি চলাচল করায় যাত্রীদের বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। আশা করছি যাত্রীরা বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে আনন্দে ঈদ করতে পারবেন।’

তিনি জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখা হয়েছে। ঈদের যাত্রীবাহী পরিবহন ও যাত্রীর চাপ কমলে সিরিয়াল অনুযায়ী ট্রাক পারাপার করা হবে।

তবে এই নৌপথের রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ঘাটে নেই যানবাহনের চাপ। পাটুরিয়া থেকে আসা যাত্রীরা এই ঘাটে নেমে বাড়ি যেতে খুঁজছেন গণপরিবহন।

ফেরিঘাটে জনস্রোত, পারাপারের অপেক্ষায় হাজারো যান

নবীনগর থেকে গোপালগঞ্জগামী মো. রাসেল বলেন, ‘ঈদ করার জন্যই বাড়িতে যাচ্ছি। লঞ্চে প্রচুর ভিড়। ভাড়াও নিচ্ছে বেশি।দৌলতদিয়া থেকে এতদিন ২০০ টাকা দিয়ে গোপালগঞ্জ গেলেও আজকে নিচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা।’

কুষ্টিয়াগামী আনোয়ার হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলিসহ যাচ্ছি ঈদ করতে বাড়িতে। সারা মাস তো ঢাকাতেই থাকি। ঈদ আনন্দটা সবার সঙ্গে উপভোগ করতেই বাড়িতে যাই। কিন্তু আজকে সকাল থেকেই বৃষ্টি থাকার কারণে সবাইকে নিয়ে যাইতে একটু কষ্ট হচ্ছে। গাড়িগুলোতে অনেক ভিড়। ভাড়াও দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ।’

দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের ম্যানেজার নুরুল আনোয়ার মিলন জানান, ‘এইবার যাত্রীর চাপ একটু বেশি। তবে পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকার কারণে ঘাটে এসে কোনো যাত্রীকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং আরিচা-কাজির হাট রুটে ৩৪টি লঞ্চ চলছে।’

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে মানুষের ঢল
একদিকে গাড়ির সারি, আরেক দিকে ফাঁকা
‘ঈদ মনে অয় রাস্তায় করতে অইব’
বছরে দুই বার ছুটি, যেতেই হবে বাড়ি
স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই লঞ্চে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও তৎপর: কৃষিমন্ত্রী

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও তৎপর: কৃষিমন্ত্রী

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। নতুন প্রজন্মের মেধাবী তরুণদের আওয়ামী লীগের পতাকাতলে নিয়ে আসতে হবে।

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও তৎপর উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, এই শক্তি নানা ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশকে পাকিস্তানের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা করছে।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় রোববার দুপুরে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অপশক্তিকে প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। নতুন প্রজন্মের মেধাবী তরুণদের আওয়ামী লীগের পতাকাতলে নিয়ে আসতে হবে। এই মেধাবীরা আগামী দিনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, ছানোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, তানভীর হাসান ছোট মনির, আহসানুল ইসলাম টিটু, আতাউর রহমান খানসহ জেলা আওয়ামী লীগের আরও অনেক-নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে মানুষের ঢল
একদিকে গাড়ির সারি, আরেক দিকে ফাঁকা
‘ঈদ মনে অয় রাস্তায় করতে অইব’
বছরে দুই বার ছুটি, যেতেই হবে বাড়ি
স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই লঞ্চে

শেয়ার করুন

সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু। প্রতীকী ছবি

চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, আকলিমা খাতুনের স্বামী পেশায় একজন কৃষক। গত রাতে সাপ কামড় দিলে সকালে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

মেহেরপুর গাংনী উপজেলায় সাপের কামড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রোববার সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ।

মৃত গৃহবধূ আকলিমা খাতুন উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের চরগোয়ালগ্রামের কৃষক কালু শেখের স্ত্রী। এই দম্পতির পাঁচ সন্তান রয়েছে।

প্রতিবেশিরা জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে গৃহবধূ আকলিমা তার নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। হঠাৎ মাঝরাতে চিৎকার শুনে পাশের ঘরে থাকা সন্তানরা ছুটে গিয়ে জানতে পারে তাদের মাকে সাপে কামড় দিয়েছে।

পরে স্থানীয় ওঝার মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়। সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মিরপুর নামক স্থানে তার মৃত্যু হয়।

চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, আকলিমা খাতুনের স্বামী পেশায় একজন কৃষক। গত রাতে সাপ কামড় দিলে সকালে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে মানুষের ঢল
একদিকে গাড়ির সারি, আরেক দিকে ফাঁকা
‘ঈদ মনে অয় রাস্তায় করতে অইব’
বছরে দুই বার ছুটি, যেতেই হবে বাড়ি
স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই লঞ্চে

শেয়ার করুন

হাইওয়ে থানায় ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা

হাইওয়ে থানায় ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা

দুই সাংবাদিককে মারধরের ঘটনার ভিডিও থেকে নেয়া ছবি। ছবি: নিউজবাংলা

নিউজবাংলার কাজল সরকার বলেন, ‘একটা সংবাদ সংগ্রহের জন্য আমি শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় যাই। সেখানে আমি ও আমির হামজা ছবির কাজ করতেছিলাম। সেই সময় হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে নিজেদের থানার লোক বলে পরিচয় দিয়ে আমাদের মারতে শুরু করে। শার্টের কলারে ধরে থানার ভিতরে নিয়ে যায়।’

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর জেলা প্রতিনিধি কাজল সরকার ও ডেইলি অবজারভার পত্রিকার প্রতিনিধি আমির হামজা।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার পাশে একটি গ্যারেজের ছবি তোলার সময় রোববার দুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকদের থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও নিউজবাংলার হাতে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে ওই সাংবাদিকদের দুইজন লোক টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, একজন লাঠি দিয়ে মারধর করছেন।

নিউজবাংলার কাজল সরকার বলেন, ‘একটা সংবাদ সংগ্রহের জন্য আমি শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় যাই। সেখানে আমি ও আমির হামজা ছবির কাজ করতেছিলাম। সেই সময় হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে নিজেদের থানার লোক বলে পরিচয় দিয়ে আমাদের মারতে শুরু করে। শার্টের কলারে ধরে থানার ভিতরে নিয়ে যায়।

‘থানার ভিতর নিয়ে যাওয়ার পরও তারা আমাদের মারার জন্য হামলা চালায়। তখন কয়েকজন কনস্টেবল এসে আমাদের উদ্ধার করেন।’

এ বিষয়ে জানতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম মুরাদ আলিকে এই প্রতিবেদক ফোন করলে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি যেহেতু হাইওয়ে থানায় ঘটেছে। আপনি হাইওয়ে থানার এসপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই।’

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলামকেও ফোন করা হয় মন্তব্যের জন্য। তিনি বলেন, ‘আগে বিষয়টা জানবেন তারপর মন্তব্য করবেন। গ্যারেজটি থানার না, সেটি পাবলিক গ্যারেজ। তাদের (সাংবাদিকদের) সমস্যা হয়েছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে, পুলিশের না। আমি মাত্র থানায় আসছি, আপনিও পারলে থানায় আসেন।’

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে মানুষের ঢল
একদিকে গাড়ির সারি, আরেক দিকে ফাঁকা
‘ঈদ মনে অয় রাস্তায় করতে অইব’
বছরে দুই বার ছুটি, যেতেই হবে বাড়ি
স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই লঞ্চে

শেয়ার করুন

কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে সমাবেশ

কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে সমাবেশ

কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

জামালের মা রুনু বেগম বলেন, ‘দেড় বছর ধরে বড় ছেলে জামাল কারাবন্দি। দিনের পর দিন অপেক্ষা করি ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে একটু কাঁদব। কিন্তু ছেলেকে কাছে পাইনি। করোনার জন্য কারাগারে গিয়ে দেখাও করতে পারিনি। আমি মনে হয় আমার ছেলেকে দেখে মরতে পারব না।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় দেড় বছর ধরে কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে বরগুনায়।

শহরের টাউনহল এলাকার অগ্নিঝরা একাত্তর চত্বরে রোববার বেলা ১১টায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

বন্দি সাংবাদিকের নাম জামাল মীর, তিনি বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম ও দৈনিক বর্তমানের বরগুনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

সমাবেশে তার পরিবার, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে জামালের মা রুনু বেগম বলেন, ‘দেড় বছর ধরে বড় ছেলে জামাল কারাবন্দি। দিনের পর দিন অপেক্ষা করি ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে একটু কাঁদব। কিন্তু ছেলেকে কাছে পাইনি। করোনার জন্য কারাগারে গিয়ে দেখাও করতে পারিনি। আমি মনে হয় আমার ছেলেকে দেখে মরতে পারব না।’

জামালের বাবা জালাল মীর বলেন, ‘ছেলের জামিন করাতে গিয়ে বিচারিক আদালত থেকে উচ্চ আদালতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। টাকা শেষ হওয়ার পরে জমি বিক্রি করেও ছেলের জামিনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমরা ব্যর্থ। এখন আমাদের তিন বেলা খাবার জোটেনা। জামালের মা অসুস্থ, একটা ওষুধ কিনে দেয়ার সামর্থ্য নেই আমার।’

কারাবন্দি সাংবাদিকের স্ত্রী লিমা বেগম বলেন, ‘মানসম্মত খাবারের অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে আমাদের মেয়ে তাহিয়া। বঞ্চিত হচ্ছে বাবার ভালোবাসা থেকে। মেয়ের পায়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না।’

বরগুনার প্রবীণ সাংবাদিক ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসান ঝন্টু বলেন, ‘জামাল বরগুনায় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচার করতেন। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস দপ্তরের অনিয়ম, দুর্নীতি প্রচার করে অসংখ্য প্রতিবেদন করেছেন। জামাল সব চোর-বাটপারদের চোখের শুল হয়েছিলেন। এসব চোরদের সঙ্গে কিছু সাংবাদিকদের যোগসাজশে জামালকে ফাঁসানো হয়েছে।’

বরগুনা সদরের পানামা রোড এলাকার এক নারী গত বছরের ২৪ এপ্রিল সম্মানহানি এবং তাদের বসতঘরে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ করেন জামালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। পরে তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে জামালসহ ৭ জনের নামে মামলা করেন।

একই বছরের ৬ মে লামিয়ার করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামাল ও নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের প্রতিনিধি সুমন সিকদারসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিছুদিন পরে সুমন সিকদারসহ ৫ জনের জামিন হলেও কারাগারেই আছেন জামাল।

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে মানুষের ঢল
একদিকে গাড়ির সারি, আরেক দিকে ফাঁকা
‘ঈদ মনে অয় রাস্তায় করতে অইব’
বছরে দুই বার ছুটি, যেতেই হবে বাড়ি
স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই লঞ্চে

শেয়ার করুন

দিনভর মাইকিং, বাড়ির পাশে মিলল শিশুর মরদেহ

দিনভর মাইকিং, বাড়ির পাশে মিলল শিশুর মরদেহ

পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি মহিদুল জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে নিখোঁজ হয় সিহাব। এর পর পরই পূবাইলের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর মাইকিং করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওইদিন সিহাবের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার ভোরে স্থানীয়রা বাড়ির পাশে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

গাজীপুরের পূবাইলে নিখোঁজের ১৫ ঘণ্টা পর ৬ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পূবাইল থানাধীন মাজুখান গ্রামের সালাম মুন্সীর বাড়ির সামনে থেকে রোববার ভোর ৫টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতের নাম মো. সিহাব। সিহাব পূবাইল থানার মাজুখান গ্রামের মো. জুয়েলের ছেলে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিদুল।

পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে নিখোঁজ হয় সিহাব। এর পর পরই পূবাইলের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর মাইকিং করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওইদিন সিহাবের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার ভোরে স্থানীয়রা বাড়ির পাশে সিহাবের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

সিহাবের বাবা জুয়েল জানান, নিখোঁজের পর অনেক খোঁজাখোঁজি করেও সিহাবের সন্ধান না পেয়ে রাতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম।

সিহাবকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ওসি বলেন, শিশুটির বাবা-মা সাত মাস ধরে আলাদা থাকেন। শিশুটি মাজুখান এলাকায় তার বাবার সঙ্গে থাকত। শনিবার দুপুরে নিখোঁজের পর রোববার ভোরে বাড়ির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যা। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে মানুষের ঢল
একদিকে গাড়ির সারি, আরেক দিকে ফাঁকা
‘ঈদ মনে অয় রাস্তায় করতে অইব’
বছরে দুই বার ছুটি, যেতেই হবে বাড়ি
স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই লঞ্চে

শেয়ার করুন

টেকনাফের পাহাড় থেকে উদ্ধার অপহরণ হওয়া ৩ যুবক

টেকনাফের পাহাড় থেকে উদ্ধার অপহরণ হওয়া ৩ যুবক

অপহরণের ২ দিন পর র‍্যাবের অভিযানে উদ্ধার হন এই তিনজন। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব জানায়, নির্মাণকাজ দেয়ার কথা বলে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় ডেকে নিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই তিনজনকে অপহরণ করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। স্বজনদের ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণও চাওয়া হয়। 

কক্সবাজারের টেকনাফের গহিন পাহাড় থেকে অপহরণ হওয়া তিন বাংলাদেশি যুবককে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। তবে সেখান থেকে কাউকে আটক করা যায়নি। র‍্যাব জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা তাদের অপহরণ করেছে।

উদ্ধার যুবকরা হলেন নোয়াখালীর হাতিয়ার আজিজুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের আল আমিন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের মুক্তার হোসেন মৃধা।

নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে শনিবার দুপুরে তাদের উদ্ধার করা হলেও বিষয়টি রোববার দুপুরে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-১৫-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে জানান, নির্মাণকাজ দেয়ার কথা বলে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় ডেকে নিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই তিনজনকে অপহরণ করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। স্বজনদের ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণও চাওয়া হয়।

অপহরণ হওয়া আজিজুল ইসলামের ভাই হাসান মো. সায়েম ঘটনাটি র‍্যাবকে জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নয়াপাড়ার ওই পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়।

র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় তিনজনকে।

র‍্যাব কর্মকর্তা শেখ সাদী আরও জানান, এ ঘটনায় আজিজুলের ভাই টেকনাফ থানায় মামলা করেছেন। অপহরণকারীদের ধরতে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে মানুষের ঢল
একদিকে গাড়ির সারি, আরেক দিকে ফাঁকা
‘ঈদ মনে অয় রাস্তায় করতে অইব’
বছরে দুই বার ছুটি, যেতেই হবে বাড়ি
স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই লঞ্চে

শেয়ার করুন

সৌদিতে ক্রেন থেকে পড়ে নোয়াখালীর যুবক নিহত

সৌদিতে ক্রেন থেকে পড়ে নোয়াখালীর যুবক নিহত

সৌদি আরবে ক্রেন থেকে ছিটকে পড়ে নোয়াখালীর এক যুবক নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

ইউপি সদস্য সবুজ বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো ক্রেনে উঠে কাজ করছিলেন আরজু। হঠাৎ সেফটি বেল্ট ছিঁড়ে ক্রেন থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আরজুকে মৃত ঘোষণা করেন।’

সৌদি আরবে ক্রেন থেকে ছিটকে পড়ে নোয়াখালীর এক যুবক নিহত হয়েছেন।

সৌদি আরবের রিয়াদের আল দোয়াদমি এলাকায় শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চরহাজারী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল খায়ের সবুজ রোববার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহত ২৫ বছর বয়সী মো. শেখ ফরিদ আরজুর বাড়ি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি সৌদিতে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতেন।

ইউপি সদস্য সবুজ বলেন, ‘এক বছর আগে জীবিকার তাগিদে আরজু সৌদিতে যান। প্রতিদিনের মতো ক্রেনে উঠে কাজ করার সময় হঠাৎ সেফটি বেল্ট ছিঁড়ে ক্রেন থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আরজুকে মৃত ঘোষণা করেন।’

এমন দুঃসংবাদে শোকে স্তব্ধ গোটা পরিবার ও এলাকাবাসী।

এর আগে সৌদি আরবের জিদান বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের এক যুবক নিহত হন। নিহত তামজিরুল ইসলাম তিনি জিদান বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন।

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে মানুষের ঢল
একদিকে গাড়ির সারি, আরেক দিকে ফাঁকা
‘ঈদ মনে অয় রাস্তায় করতে অইব’
বছরে দুই বার ছুটি, যেতেই হবে বাড়ি
স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই লঞ্চে

শেয়ার করুন