ফেরিঘাটে জনস্রোত, পারাপারের অপেক্ষায় হাজারো যান

ফেরিঘাটে জনস্রোত, পারাপারের অপেক্ষায় হাজারো যান

বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক ফয়সাল আহমেদ জানান, ঘাট এলাকায় পারাপারের জন্য যাত্রী ও পণ্যবাহী মিলিয়ে আট শর বেশি যানবাহন রয়েছে। তবে সকাল থেকে যাত্রী এবং মোটরসাইকেলের চাপই বেশি। বেশ কয়েকটি ফেরি ছাড়তে হয়েছে শুধু যাত্রী ও মোটরসাইকেল নিয়ে।

ঈদযাত্রার চাপ মহাসড়কের পাশাপাশি ঘাটেও। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে গত কয়েক দিন ধরেই সকালের দিকে চাপ থাকছে যাত্রীর। ঈদের আগের দিন হওয়ায় মঙ্গলবার রীতিমতো ঢল তৈরি হয়েছে সেখানে।

সকালের দিকে ছিল বৃষ্টি। এর মধ্যেও দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার যাত্রীরা শিমুলিয়ার লঞ্চ ও ফেরিঘাটে এসেছেন। শৃঙ্খলা ও স্বাস্থবিধি রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন থাকলেও যাত্রীর চাপে তারা ছিলেন বেসামাল। গাদাগাদি করে যে যেভাবে পারছেন, চড়ছেন ফেরি ও লঞ্চে।

ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, পদ্মায় তীব্র স্রোত থাকায় ফেরি ও লঞ্চ চলছে ধীরগতিতে। তাই যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে সময় লাগছে বেশি। এ কারণে ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় আটকে আছে শত শত ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী ট্রাক। ঘাট অভিমুখে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও কয়েক কিলোমিটারজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

কেরানীগঞ্জের একটি গার্মেন্টসের সুপারভাইজার সিদ্দিকুর রহমান জানান, সপরিবারে ঈদ করতে যাচ্ছেন খুলনার বাগেরহাটে, নিজ বাড়িতে।

ঘাটে এসে বৃষ্টির জন্য বিপাকে পড়েছেন। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দোকানের ছাউনিতে বসে ফেরির জন্য অপেক্ষায় আছেন।

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী আশিক রহমান। ফেরিঘাটে কথা হয় তার সঙ্গে। পরিবারের দুই সদস্য নিয়ে তিনি মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গায়। সেখানে তার বাবার বাড়ি। তার মতো মোটরসাইকেলে করে প্রচুর যাত্রী ভিড়েছেন ফেরিঘাটে।

ফেরিঘাটে জনস্রোত, পারাপারের অপেক্ষায় হাজারো যান

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) শিমুলিয়া নদী বন্দর কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, বরাবরই ঈদের আগের দুদিনে যাত্রীর চাপ বাড়ে। ৮৪টি লঞ্চ দিয়ে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও শিমুলিয়া-মাজিরকান্দি নৌপথে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক ফয়সাল আহমেদ জানান, এই নৌপথে এখন ১৫টি ফেরি সচল রয়েছে। ঘাট এলাকায় পারাপারের জন্য যাত্রী ও পণ্যবাহী মিলিয়ে আট শর বেশি যানবাহন রয়েছে। তবে সকাল থেকে যাত্রী এবং মোটরসাইকেলে চাপই বেশি। বেশ কয়েকটি ফেরি ছাড়তে হয়েছে শুধু যাত্রী ও মোটরসাইকেল নিয়ে।

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসাইন বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ও লঞ্চে নির্ধারিত যাত্রী ধারণ নিশ্চিত করতে চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে ৷ পুরো ঘাটজুড়ে বিভিন্ন স্তরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিন শর বেশি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।’

যাত্রীর চাপ সকাল থেকে দেখা গেছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথেও। নদী পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন তারা।

ফেরিঘাটে জনস্রোত, পারাপারের অপেক্ষায় হাজারো যান

বিআইডব্লিউটিসির মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নৌপথে এখন চলছে ১৭টি ফেরি। মঙ্গলবার সকালে এ ঘাটে দুই শরও বেশি যাত্রীবাহী বাস ও দেড় শর বেশি ব্যক্তিগত গাড়ি পারের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব যানের চাপ থাকায় জরুরি পণ্যবাহী ও সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখা হয়েছে।

এই ঘাটে চাপ সোমবার সন্ধ্যা থেকে। ফেরির অপেক্ষায় থাকা মাগুরার শেখ হালিম বলেন, ‘ভাই কালকে ঈদ। পরিবারের সবাই অপেক্ষা করতেছে। বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় ফেরিঘাটে অপেক্ষা করছি। তার পরেও দেখি বৃষ্টি থামে না। তাই বাধ্য হয়ে ভিজেই রওনা দিলাম। বৃষ্টিতে ভিজে ঠাণ্ডা-জ্বর হলেও দুঃখ নাই। পরিবারের সাথে ঈদ করতে তো পারব।’

ফরিদপুরের আসাম মিয়া বলেন, ‘ভোরবেলায় পাটুরিয়া ঘাটের কাছে এসে পৌঁছাই। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা সময় বসে থেকে ফেরিঘাটে আসি। তার প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ফেরির দেখা পাই।’

ফেরিঘাটে জনস্রোত, পারাপারের অপেক্ষায় হাজারো যান

গোপালগঞ্জের আব্দুর রহিম বলেন, ‘দুরপাল্লার বাসের সিট না পাওয়ায় লোকাল বাসে করে আরিচা আসি। আরিচা থেকে আবার রিকশা করে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটে আসি। এসে দেখি লঞ্চঘাটেও যাত্রীর চাপ।’

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সকাল থেকেই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। যানবাহনের চেয়ে যাত্রীর চাপ বেশি। ঘাটে আসা যাত্রীরা বৃষ্টিতে ভিজে ফেরিতে পার হচ্ছেন। সব কটি ফেরি চলাচল করায় যাত্রীদের বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। আশা করছি যাত্রীরা বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে আনন্দে ঈদ করতে পারবেন।’

তিনি জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখা হয়েছে। ঈদের যাত্রীবাহী পরিবহন ও যাত্রীর চাপ কমলে সিরিয়াল অনুযায়ী ট্রাক পারাপার করা হবে।

তবে এই নৌপথের রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ঘাটে নেই যানবাহনের চাপ। পাটুরিয়া থেকে আসা যাত্রীরা এই ঘাটে নেমে বাড়ি যেতে খুঁজছেন গণপরিবহন।

ফেরিঘাটে জনস্রোত, পারাপারের অপেক্ষায় হাজারো যান

নবীনগর থেকে গোপালগঞ্জগামী মো. রাসেল বলেন, ‘ঈদ করার জন্যই বাড়িতে যাচ্ছি। লঞ্চে প্রচুর ভিড়। ভাড়াও নিচ্ছে বেশি।দৌলতদিয়া থেকে এতদিন ২০০ টাকা দিয়ে গোপালগঞ্জ গেলেও আজকে নিচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা।’

কুষ্টিয়াগামী আনোয়ার হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলিসহ যাচ্ছি ঈদ করতে বাড়িতে। সারা মাস তো ঢাকাতেই থাকি। ঈদ আনন্দটা সবার সঙ্গে উপভোগ করতেই বাড়িতে যাই। কিন্তু আজকে সকাল থেকেই বৃষ্টি থাকার কারণে সবাইকে নিয়ে যাইতে একটু কষ্ট হচ্ছে। গাড়িগুলোতে অনেক ভিড়। ভাড়াও দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ।’

দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের ম্যানেজার নুরুল আনোয়ার মিলন জানান, ‘এইবার যাত্রীর চাপ একটু বেশি। তবে পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকার কারণে ঘাটে এসে কোনো যাত্রীকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং আরিচা-কাজির হাট রুটে ৩৪টি লঞ্চ চলছে।’

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে মানুষের ঢল
একদিকে গাড়ির সারি, আরেক দিকে ফাঁকা
‘ঈদ মনে অয় রাস্তায় করতে অইব’
বছরে দুই বার ছুটি, যেতেই হবে বাড়ি
স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই লঞ্চে

শেয়ার করুন

মন্তব্য