সারা দেশে বসবে পশুর হাট

সারা দেশে বসবে পশুর হাট

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এর সঙ্গে মানুষের আবেগ-অনুভূতি জড়িত। তাই বিভিন্ন প্রতিকূলতা, দুর্যোগ-দুর্বিপাকেও এগুলোকে পরিহার করা সম্ভব হয় না।… সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চলমান শাটডাউন শিথিলের পর এবার সারা দেশে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে সরকার।

অনলাইনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে সারা দেশে পশুর হাট বসানো হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে মঙ্গলবার অনলাইনে আয়োজিত ঈদুল আজহায় পশুরহাট ব্যবস্থাপনা, নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি ও পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি পর্যালোচনাসংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এর সঙ্গে মানুষের আবেগ-অনুভূতি জড়িত। তাই বিভিন্ন প্রতিকূলতা, দুর্যোগ-দুর্বিপাকেও এগুলোকে পরিহার করা সম্ভব হয় না। গত বছর করোনা মহামারির মধ্যেও সরকার থেকে পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এ বছর করোনার প্রাদুর্ভাব বেশি থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের একমুখী চলাচল থাকতে হবে। অর্থাৎ প্রবেশপথ এবং বের হওয়ার পথ আলাদা করতে হবে। পাশাপাশি হাটে আগত সবাই যাতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে তা নিশ্চিত করতে হবে।

পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা প্রত্যেকের জন্য তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র এবং হাত ধোয়ায় পর্যাপ্ত বেসিন, পানি এবং জীবাণুনাশক সাবান রাখার নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।

এ ছাড়া পশু কোরবানির পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

অনলাইনে পশু কেনাবেচায় সবাইকে আহ্বান জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘অনলাইনের মাধ্যমে পশু কেনাবেচার জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অনলাইনের পাশাপাশি সশরীরে পশুর হাট যেন যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করা হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে- এমন স্থানে পশুর হাট বসানো যাবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ নির্দেশ অমান্যকরাীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পশু ক্রয়-বিক্রয়ের পদ্ধতি জানতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে জনগণকে সচেতন করার জন্য টিভিতে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘পশু ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবস্থাপনা, কোরবানি এবং বর্জ্য অপসারণের বিষয়েও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। গাইডলাইন যথাযথ অনুসরণ করে এই কাজগুলো নির্বিঘ্নে করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে সশরীরে পশুর হাটগুলোতে সার্বিক বিষয় তদারকির জন্য জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। কেননা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিবিড় সম্পর্ক এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকে।’

এসব কারণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরকারি নির্দেশনা সঠিকভাবে পালন করার আহ্বান জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

গত বছরও করোনা মহাসংকটে পশুর হাট বসানো হয়েছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ বছর করোনা সংক্রমণের হার অনেক বেশি। তা সত্ত্বেও কিন্তু পশুর হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয় হবে।

কোরবানি যতটা সম্ভব নির্বিঘ্নে করা যায়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগ, দপ্তর/সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে সভায় জানান তাজুল ইসলাম।

ভার্চুয়াল সভায় সব সিটি করপোরেশনের মেয়র, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ, দপ্তর/সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
কোরবানির ঈদ ২১ জুলাই
অনলাইনে পশু কেনাবেচায় সরকারের অনুরোধ
কীভাবে চিনবেন সুস্থ গরু
লকডাউনে ব্যাপারী আসে না, পশু নিয়ে চিন্তায় খামারিরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য