হাশেম ফুডসে আগুন: ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে শ্রম মন্ত্রণালয়

হাশেম ফুডসে আগুন: ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে শ্রম মন্ত্রণালয়

আহত প্রত্যেককে দেয়া হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। আর নিহতদের পরিবারকে দেয়া হচ্ছে ২ লাখ টাকা। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে এ সহায়তা দেয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সজিব গ্রুপের কারখানা হাশেম ফুডসের ভবনে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। আহত প্রত্যেককে দেয়া হবে ৫০ হাজার টাকা। আর প্রত্যেক নিহতের স্বজনরা পাবেন ২ লাখ করে টাকা।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে এ সহায়তা দেয়া হবে বলে শনিবার বিকেলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আব্দুস সালাম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন শ্রমিক এবং রূপগঞ্জের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৯ জনের হাতে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১১ লাখ টাকা তুলে দেন।

আর নিহতদের মধ্যে যে তিন শ্রমিকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাদের প্রতিটি পরিবারের জন্য ২ লাখ করে মোট ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রোববার তাদের স্বজনদের হাতে এ টাকা পৌঁছে দেয়া হবে।

হাশেম ফুডসে শিশুশ্রমের অভিযোগ সম্পর্কে শ্রমসচিব কে এম আব্দুস সালাম বলেন, ‘কারখানা পরিদর্শনব্যবস্থায় আমাদের নিজস্ব একটি পদ্ধতি রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে শ্রম আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রূপগঞ্জের আগুনে আহত শ্রমিকদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক। তিনি বলেন, ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের বিনা মূল্যে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখানে চিকিৎসাধীন সব শ্রমিক ঝুঁকিমুক্ত এবং ভালো আছেন।

আহতদের মাঝে চেক প্রদানের সময় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গৌতম কুমারসহ শ্রম মন্ত্রণালয় এবং দুটি অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে কারখানাটিতে আগুন লাগার পর শুরুতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরের দিন উদ্ধার করা হয় ৪৯ জনের মরদেহ। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। বেশির ভাগের মরদেহই পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা চলছে।

এ ঘটনায় সজিব গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় আট কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে তোলা হলে প্রত্যেককে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়।

সজিব গ্রুপের গ্রেপ্তার আট কর্মকর্তা হলেন গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাশেম, তার ছেলে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হাসিব বিন হাসেম, অন্য তিন ছেলে তারেক ইব্রাহিম, তাওসিফ ইব্রাহিম, তানজিব ইব্রাহিম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহান শাহ আজাদ, ডিজিএম মামুনুর রশীদ ও অ্যাডমিন প্রধান মো. সালাউদ্দিন।

আরও পড়ুন:
সজিব গ্রুপের চেয়ারম্যান-এমডি ৪ দিনের রিমান্ডে
নিষ্ঠুর সমাজব্যবস্থার যূপকাষ্ঠে শ্রমিক বলি কতকাল!
রূপগঞ্জ দুর্ঘটনায় দায়ীদের ছাড় নয়: কাদের
এত লাশ থাকবে কোথায়
এত মৃত্যু তালার কারণে

শেয়ার করুন

মন্তব্য