পাড়া-মহল্লায় খাবার দোকান খোলা থাকবে

পাড়া-মহল্লায় খাবার দোকান খোলা থাকবে

মুদি দোকান ও সুপারশপ ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। তবে শপিংমল, মার্কেট, অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে।

শাটডাউন চলাকালে পাড়া-মহল্লার অন্য সব দোকান বন্ধ থাকলেও খাবারের দোকান খোলা থাকবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কয়েকজন উপকমিশনারের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সব মার্কেট, দোকানপাট বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি খাদ্যপণ্য যেসব দোকানে বিক্রি হয়, সেগুলো নির্ধারিত সময় পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।’

প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাঁচাবাজার রাস্তার পাশে বসাতে হবে। খোলা থাকবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

একইভাবে মুদি দোকান ও সুপারশপ ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে বলে জানান ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘শপিংমল, মার্কেট বন্ধ থাকবে। সুপারশপ, খাবারের দোকান খোলা থাকবে। কিন্তু অন্যান্য দোকান সব বন্ধ রাখতে হবে।’

বুধবার দুপুরে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কেউ অকারণে বের হলে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব, প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা নেবেন। অকারণে বের হলেই আইনি ঝামেলায় পড়তে হবে। যানবাহন ব্যবহার করলে মোটরযান আইনে ব্যবস্থা নেব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারা অনুযায়ী কেউ বাইরে বের হলে জিজ্ঞাসাবাদ করব, তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হবে। যেটি আমরা এর আগে কখনো করিনি। এবার আমরা এ অবস্থান পর্যন্ত যাব। আপনারা এমনও শুনতে পারেন ডিএমপি প্রথম দিন ৫ হাজার লোক গ্রেপ্তার করেছে। এবার আমরা অত্যন্ত শক্ত অবস্থায় থাকব।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পরীমনির মামলায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে

পরীমনির মামলায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে

মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার পরীমনিকে আদালতে তোলা হয়। ছবি: সাইফুল ইসলাম

পরীমনির বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়, অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে পরীমনি কোনো বৈধ কাগজ ও সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরীমনি তার সহযোগীদের সাহায্যে বিভিন্ন ব্রান্ডের বিদেশি মদসহ জব্দ হওয়া মাদকদ্রব্য কিনে তার বাসায় রাখতেন।

চিত্র নায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয়েছে। পরীমনিসহ তিনজনকে এই মামলায় আসামি করেছে র‍্যাব।

অপর দুই আসামির মধ্যে আশরাফুল ইসলাম দিপু নামের একজনকে পরীমনির সঙ্গেই তার বাসা থেকে আটক করা হয়। পলাতক আসামির নাম কবির।

দিপু ও কবিরের সহায়তায় পরীমনি তার বাসায় আধুনিক পন্থায় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদসহ অন্য মাদক ও মাদক সেবনের উপকরণ কিনে মজুদ করেছেন। যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অপরাধ।

বৃহস্পতিবার রাতে বনানী থানায় র‍্যাব-১ সিপিও (সিম্যান) মজিবর রহমান মামলাটি করেন। এর আগে বুধবার বিকেলে বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখা। অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, আইস, এলএসডির মত ভয়ঙ্কর মাদক জব্দ করা হয়।

১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া অভিযানের ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বনানী এলাকার দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র‍্যাব। প্রথম অভিযানটি হয় পরীমনির ফ্ল্যাটে। দ্বিতীয়টি রাজ মাল্টিমিডিয়ার স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম রাজের ফ্ল্যাটে।

পরীমনির ফ্ল্যাট থেকে মাদকদ্রব্যসহ পরীমনি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দিপুকে আটক করে র‍্যাব।

পরীমনির বাসায় অভিযান শেষ করেই বনানীর ৭ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান শুরু হয়। রাজের এই অফিস থেকে ইয়াবা, বিদেশি মদ, বিকৃত যৌনাচারের সরঞ্জাম ও পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট জব্দ করা হয়। রাজের ফ্ল্যাট থেকে রাজ ও তার সহযোগী সবুজ আলীকে আটক করে র‍্যাব।

দুই অভিযান শেষে আটক চার জনকে র‍্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় র‍্যাব সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে দুই অভিযানের বিষয়ে বলেন সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। অভিযানে কী কী জব্দ হয়েছে তা বিস্তারিত জানায় র‍্যাব।

পরীমনির বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে আট বোতল প্লাটিনাম লেভেল, তিনটি ব্ল্যাক লেভেল, দুইটি চিভাস রিগাল, দুইটি ফক্স গ্রোভ, একটি ব্লু লেভেল, দুইটি গ্ল্যানলিভেট, এক বোতল গ্ল্যানফিডিচ।

আরও জব্দ হয়েছে চার গ্রাম আইস ও একটি স্লট এলএসডি। এ ছাড়া জব্দ তালিকায় একটি বং পাইপের কথাও বলা হয়েছে।

চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক রাজের অফিস থেকেও বিপুল পরিমাণে মদ জব্দ করার কথা জানিয়েছে র‍্যাব। তারা জানায়, রাজের বাসায় মিলেছে সাত বোতল গ্ল্যানলিভেট, দুইটি গ্ল্যানফিডিচ, চারটি ফক্স গ্রোভ, একটি প্লাটিনাম লেভেল।

এর বাইরে সিসায় ব্যবহৃত চারকোলের একটি প্যাকেট, দুই সেট সিসার সরঞ্জাম, দুই ধরনের সীমা তামাক, সিসা সেবনের জন্য ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের একটি রোল, ৯৭০ পিস ইয়াবা।

এ ছাড়া যৌনাচারে ব্যবহৃত ১৪টি বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম, একটি সাউন্ড বক্স ও দুইটি মোবাইল ফোন সেট এবং একটি মেমোরি কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে পরীমনি, রাজসহ চার আসামিকে আলামতসহ বনানী থানায় হস্তান্তর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দুইটি মাদক ও একটি পর্ণোগ্রাফি আইনে মামলা করে র‍্যাব-১।

পরীমনির বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়, গোপন তথ্যে ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পরীমনি ও তার সঙ্গে আটক দিপু বনানীতে পরীমনির বাসায় অবস্থান করছে। মাদকদ্রব্য জব্দ ও আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

অভিযানে উদ্ধার মাদকদ্রব্যের বিষয়ে পরীমনি কোনো বৈধ কাগজ ও সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি বলে এজাহারে দাবি করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, পরীমনি তার সহযোগীদের সাহায্যে বিভিন্ন ব্রান্ডের বিদেশি মদসহ জব্দ হওয়া মাদকদ্রব্য কিনে তার বাসায় রাখতেন।

পরীমনি রাজের কাছ থেকে প্রায়ই বিদেশি মদ সংগ্রহ করতেন, এমন তথ্য পেয়ে রাজের অফিসে পরবর্তী অভিযানটি পরিচালিত হয় বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

বনানী থানা পুলিশ মাদক মামলায় পরীমনি ও তার সহযোগী দিপুর সাত দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত চারদিন করে রিমান্ড দেন।

শেয়ার করুন

আদালতে পরীমনির ৪৭ মিনিট

আদালতে পরীমনির ৪৭ মিনিট

মাদক মামলায় আদালতে চিত্রনায়িকা পরীমনি। ছবি: নিউজবাংলা

চিত্রনায়িকা পরীমনি ও রাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ চারজনকে দুই মামলায় চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন বিচারক।

চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বনানী থানায় মাদক মামলা রেকর্ড হওয়ার পরই আদালত প্রাঙ্গণে শুরু হয় ব্যস্ততা। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পুলিশ ও সংবাদকর্মী।

রঙিন পর্দার মানুষ পরীমনি, তাকে ঘিরে উৎসুক জনতার ঢল নামতে পারে সেই চিন্তা থেকে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল পুলিশ।

আদালতের আশপাশে ভিড়তে দেয়া হয়নি জনসাধারণকে, এমনকি আশপাশের সড়কেও কাউকে থামতে দেয়া হয়নি। নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলা হয় পুরো আদালত চত্বর।

ফটকের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি আইনজীবী ও সাংবাদিক ছাড়া কাউকেই। ভিতরেও ছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সন্ধ্যা ৮টা ১৫ মিনিটে পরীমনিকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি আদালত চত্বরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সহযোগী দিপুসহ তাকে ৩৪ নম্বর আদালতে তোলা হয়।

প্রায় একই সময় কৌশলগত কারণে অন্য প্রবেশপথ ব্যবহার করে একই আদালতে হাজির করা হয় প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ ও তার সহযোগী সবুজকে।

শুনানি শেষে প্রায় ৫০ মিনিট পর তাদের আদালত থেকে নিচে নামানো হয়। আবারও কৌশল বদলে অ্যাম্বুলেন্সের পরিবর্তে একটি কালো মাইক্রোবাসে পরী ও তার সহযোগী এবং অন্য একটি সাদা মাইক্রোবাসে রাজ ও তার সহযোগীকে নিয়ে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে চলে যায় বনানী থানা পুলিশ।

পরীমনিকে আদালতে আনার খবরে আদালতের ফটকের বাইরে ও রায় সাহেব বাজার সড়কে ভিড় ছিল জনতার। কেউ কাছে যেতে না পারলেও বৃষ্টিতে ভিজে দূর থেকে দাঁড়িয়েই এক ঝলক দেখেছেন এই তারকাকে।

৪৭ মিনিটের শুনানি

চিত্রনায়িকা পরীমণি ও রাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ চারজনকে আলাদা দুই মামলায় চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন বিচারক।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ২২ মিনিটে ঢাকার মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদের আদালতে দুই মাদক মামলায় শুনানির জন্য পরীমনি ও রাজসহ চার আসামিকে হাজির করা হয়।

অপর দুই আসামি হলেন পরীর সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দিপু ও রাজের সহযোগী সবুজ আলী। মাদকের দুই মামলায় তাদের চারজনেরই সাত দিন করে রিমান্ড চায় বনানী থানা পুলিশ।

কাঠগড়ায় উঠেই পূর্বপরিচিত এক আইনজীবীকে জড়িয়ে ধরেন পরীমনি। বিচারক মামুনুর রশীদ রাত ৮টা ২৮ মিনিটে এজলাসে বসেন।

সব ঠিক থাকলেও পরীর ওকালতনামায় স্বাক্ষর নিয়ে পরীর পক্ষে লড়তে আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। আইনজীবী নিলাঞ্জনা রেফাত সুরভী ও গোলাম কিবরিয়া যোবায়েরের মধ্য চলে তর্ক। বিশৃঙ্খলা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ৮টা ৩৫ মিনিটে এজলাস ছাড়েন বিচারক। পরে অন্য আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে শান্ত হয় পরিবেশ।

আইনজীবী নিলাঞ্জনা রেফাত সুরভীর ওকালতনামায় সই করেন পরীমনি। আর তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দিপু স্বাক্ষর করেন গোলাম কিবরিয়া যোবায়েরের দেয়া ওকালতনামায়।

এ ছাড়া নজরুল ইসলাম রাজ ও তার সহযোগী সবুজ আলীর পক্ষে মামলা লড়ার জন্য ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রচি ও সাবেক সহকারী সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান হিমেলকে ওকালতনামায় ক্ষমতা দেয়া হয়।

এ সময় আদালতে উপস্থিত অনেক পুলিশ সদস্য মাস্ক খুলে পরীমনির দাঁড়ানো কাঠগড়ার কাছে সেলফি তোলেন। এ ছাড়া কয়েকজন আইনজীবীকে দেখা যায়, আদালতের মধ্যে সেলফি তুলতে। এক পর্যায়ে জেষ্ঠ্য কর্মকর্তার ধমকে তা বন্ধ হয়।

রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে মহানগর হাকিম মো. মামুনুর রশিদ ফের এজলাসে উঠে শুনানি শুরু করেন।

আদালত চলার সময় পরীমনি ও রাজসহ আসামিরা ছিলেন অনেকটা নিষ্প্রভ। বিশেষ করে পরীমনিকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি এক অজানা অচেনা রাজ্যে প্রবেশ করে পথ হারিয়েছেন।

রিমান্ড আদেশ শুনানির আগে বিচারক তাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনার কিছু বলার আছে কি না?

পরীমনি তখন বিচারককে জানান, তিনি নির্দোষ। তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

সাত দিনের আবেদনে চার দিনের রিমান্ডের আদেশ শুনে পরীমনির মুখে মাস্কের আড়ালে বিষাদের কালো ছায়া ফুটে ওঠে। ছলছল চোখে এজলাস থেকে তাকে পুলিশের নারী সদস্যরা নামিয়ে নেন।

রাত ৯টা ১৫ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শেষ হয়।

এরপর প্রথমে পরীমনি ও দিপুর মাদক মামলায় রিমান্ড শুনানি হয়।

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউট আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘পরীমনির বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। এই মাদকের পরিণতি সর্বনাশা। উঠতি বয়সীরা মাদকে আসক্ত হচ্ছে। আসামিদের মত মুখোশধারীদের অপকর্মে সমাজ কলুষিত হচ্ছে। তাদের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’

পরীমনির পক্ষে তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বলেন, ‘পরীমনি একজন স্বনামধন্য চিত্রনায়িকা। সবাই তাকে চেনে। তাকে যে সিস্টেমে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা দুঃখজনক। সাজানো ঘটনায় তাকে গেপ্তার করা হয়েছে। ক্যারিয়ার নষ্ট করতে এ মামলা। প্রতিহিংসার বশে মামলাটি করা হয়েছে। তার অপরাধ খুবই সামান্য। চক্রান্তের শিকার তিনি। তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন প্রার্থনা করছি।’

এরপর আদালত পরীমনি ও তার সহযোগীর চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

পর পরই রাজ ও সবুজ আলীর রিমান্ড শুনানি হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, ‘পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে রাজের নাম জানায় পরীমনি। পরে রাজের বাসায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ তাকে ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’

রাজের পক্ষে আইনজীবীরা বলেন, ‘রাজ এফবিসিসিআই সদস্য, একজন সিআইপি। তার যাতায়াত সরকারের নজরে পড়বে। তার মাদক সেবনের লাইসেন্স আছে। মদ তিনি রাখতেই পারেন। কোনো ইয়াবা তার বাসা থেকে পাওয়া যায়নি। যে সব মাদক উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে তাও পাওয়া যায়নি। রিমান্ড বাতিলের প্রার্থনা করছি।’

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রাজ ও সবুজের চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

শেয়ার করুন

এডিস নিধনে মাঠে ছাত্রলীগ

এডিস নিধনে মাঠে ছাত্রলীগ

রাজধানীতে কিছুদিন ধরে বেড়েছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ছবি: কবিরুল বাশার

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, আগামী এক মাস এডিস মশা নিধনে ছাত্রলীগের এ কর্মসূচি চলবে। প্রয়োজনে কর্মসূচির সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সারা দেশে মাসব্যাপী এডিস মশা নিধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ।

সংগঠনের প্রতিটি ইউনিটকে শুক্রবার থেকে ঘোষিত এ কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বৃহস্পতিবার এডিস মশা নিধনের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

কর্মসূচির উদ্বোধনকালে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘করোনা ও ডেঙ্গু সমান হারে মানুষকে আক্রান্ত করছে। আমরা সচেতন না হলে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে যাবে। আশপাশের অপরিচ্ছন্ন জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখতে পারলেই ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে পারব।’

ছাত্রলীগ সভাপতি আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগ আজকে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশেও দাঁড়াচ্ছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় আমরা যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছি, দেশের প্রতিটি ইউনিটের নেতা-কর্মীরা এই কর্মসূচি পালন করলে আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে পারব।’

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক বলেন, আগামী এক মাস এডিস মশা নিধনে ছাত্রলীগের এই কর্মসূচি চলবে। প্রয়োজনে কর্মসূচির সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে।

কর্মসূচি উদ্বোধনের পর নেতা-কর্মীদের নিয়ে টিএসসি এলাকায় ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধনের ওষুধ ছিটান ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

ছাত্রলীগের সমাজসেবাবিষয়ক উপসম্পাদক তানভীর হাসানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান তুষার, তিলোত্তমা শিকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাঁধন, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত ও ধর্মবিষয়ক সম্পাদক তুহিন রেজা।

শেয়ার করুন

ভারত থেকে দ্রুত কাঁচামাল পেতে বিজিএমইএর চিঠি

ভারত থেকে দ্রুত কাঁচামাল পেতে বিজিএমইএর চিঠি

বিপুল পরিমাণে কার্যাদেশ পেয়েছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাত। কিন্তু ভারত থেকে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিলম্ব তৈরি করছে বাড়তি চাপ। বিষয়টির দ্রুত সমাধান চেয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিজিএমইএ।

ভারত থেকে আমদানি করা রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের কাঁচামাল পেতে সময় বেশি লাগবে। এতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছানো যাচ্ছে না।

বিষয়টির দ্রুত সমাধান চেয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ।

সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান ভারতীয় হাইকমিশনারকে চিঠি দিয়ে এই সহায়তা চেয়েছেন।

চিঠি দেওয়ার বিষয়ে ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারত থেকে রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের কাঁচামাল দ্রুত সময়ের মধ্যে পেতে ভারতীয় হাইকমিশনারের সহযোগিতা চেয়ে বুধবার আমি তাকে একটি চিঠি দিয়েছি। চিঠিতে সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেছি। আশা করছি, তিনি তার সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।’

বাংলাদেশ ভারত থেকে বছরে ৭ বিলিয়ন ডলারের মতো বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে থাকে। এর মধ্যে অর্ধেকেরই বেশি তৈরি পোশাক শিল্প ও বস্ত্র শিল্পের জন্য ব্যবহৃত তুলা। দেশের মোট চাহিদার ৫৫ শতাংশের মতো তুলা ভারত থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ। এছাড়া পোশাক শিল্পের ওভেন পোশাকের জন্য কাপড়ও ভারত থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে।

বিজিএমইএ সভাপতি চিঠিতে লিখেছেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও লকডাউনের কারণে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা লিড টাইম (ক্রয়াদেশ প্রাপ্তি থেকে পণ্য জাহাজীকরণ পর্যন্ত সময়) মেনে পোশাক রপ্তানির চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছেন। বিদেশি ক্রেতারা লিড টাইম সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে পণ্য চাচ্ছেন। তবে সরবরাহকারী দেশ থেকে স্বল্প সময়ে কাঁচামাল পাওয়ার ওপরই সেটি অনেকাংশে নির্ভর করছে।

‘বাংলাদেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা তাদের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভারত থেকে আমদানি করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে কাঁচামাল আনতে সময় বেশি লাগছে। বেনাপোলে আমাদের ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্টদের কাছে শুনতে পাচ্ছি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যু ও প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে ভারতের বনগাঁ কাস্টমস পয়েন্টে আমদানি করা কাঁচামাল ছাড় করতে বেশি সময় লাগছে। সে কারণে পোশাকশিল্পের কাঁচামালবাহী প্রচুর পরিমাণ ট্রাক আটকে আছে। তাতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’

হাইকমিশনারকে ভারতীয় অংশের কাস্টমসে পোশাকশিল্পের কাঁচামাল দ্রুত ছাড় করানোর জন্য ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, আমদানি-রপ্তানি মসৃণ করা গেলে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে দ্রুততর সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে হাইকমিশনারকে বিশেষ অনুরোধ করেছেন ফারুক হাসান।

বিজিএমইএ সভাপতি নিউজবাংলাকে বলেন, করোনার চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আগামী গ্রীষ্ম ও বসন্ত মৌসুমের পোশাকের প্রচুর ক্রয়াদেশ আসতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই অনেক প্রতিষ্ঠান আগামী মার্চ পর্যন্ত তাদের কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী ক্রয়াদেশের বুকিং পেয়ে গেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্রয়াদেশ সক্ষমতার চেয়েও বেশি।

বিপুলসংখ্যক মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। ফলে ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী গ্রীষ্ম ও বসন্ত মৌসুমে ভালো বিক্রির প্রত্যাশা করছে। সে জন্যই প্রচুর ক্রয়াদেশ আসছে। তা ছাড়া মিয়ানমারে সেনা শাসন ও ভারতে করোনার ভয়াবহতার জন্য কিছু ক্রয়াদেশ স্থানান্তরিত হয়েছে এ দেশে। তার আগ থেকেই চীনের ক্রয়াদেশও বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে আসছিল। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালে যখন করোনা ছিল না, তার তুলনায় বর্তমানে ৫-১০ শতাংশ বেশি ক্রয়াদেশ আসছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘বিদেশি ক্রেতারা পণ্য উৎপাদনে আগের মতো আর বাড়তি সময় দিচ্ছে না। সে কারণে কাঁচামাল সময়মতো পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নানা জটিলতায় সেটি হচ্ছে না। আবার চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট ও দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন রপ্তানিকারকেরা।’

মহামারির মধ্যেও রপ্তানি আয়ে বড় উল্লম্ফন নিয়ে শেষ হয় ২০২০-২১ অর্থবছর। ৩০ জুন শেষ হওয়া ওই অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৮৭৫ কোটি ৮৩ লাখ (৩৮.৭৬ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে; যা ছিল আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

তবে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সার্বিক রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ০২ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে ফারুক হাসান বলেন, ‘কোরবানির ঈদের ছুটি এবং লকডাউনের কারণে ১০-১১ দিন পোশাক কারখানা বন্ধ থাকায় জুলাই মাসে রপ্তানি আয় কম এসেছে। ১ আগস্ট থেকে কারখানা খুলেছে। এখন যদি আর কোনো সমস্যা না হয় তাহলে আগামী দিনগুলোতে পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করছি।’

শেয়ার করুন

মোদির উপহারের ৩০ অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার পথে

মোদির উপহারের ৩০ অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার পথে

কোভিড সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স এখন ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ অংশে বেনাপোল স্থল বন্দরের শুল্ক চেকপোস্টে ছাড়পত্র পাওয়ার পর এগুলো শিগগিরই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে।

মুজিব জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা আসার আগে কোভিড সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে ১০৯টি অ্যাম্বুলেন্স উপহার হিসেবে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ভারত।

গত ১৭ মার্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেখা করে এ খবর জানান ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী।

এর ৫ দিন পর ২২ মার্চ ১০৯টি অ্যাম্বুলেন্সের প্রথমটি ভারতের পেট্রোপোল সীমান্ত দিয়ে বেনাপোলে পৌঁছায়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এক বিবৃতির মাধ্যমে জানায়, বাকি ১০৮টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ৩০টি আজ ভারত সীমান্তের পেট্রোপোলে এসে পৌঁছেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২০২১ সালের ২৬-২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে, তিনি স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য বিশেষ করে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলার যৌথ প্রচেষ্টার আওতায় বাংলাদেশ সরকারকে ১০৯টি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স এখন ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ অংশে বেনাপোল স্থল বন্দরের শুল্ক চেকপোস্টে ছাড়পত্র পাওয়ার পর এগুলো শিগগিরই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে।

বাকি অ্যাম্বুলেন্সগুলো সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে পর্যায়ক্রমে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো কোভিড মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের ব্যাপক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার উদ্দেশে দেয়া হয়েছে। এই উপহার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জনগণের জন্য ভারত সরকারের অব্যাহত এবং দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার প্রতিফলন বলে দাবি করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

করোনায় বিচারপতি ফজলুর রহমানের মৃত্যু

করোনায় বিচারপতি ফজলুর রহমানের মৃত্যু

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম ফজলুর রহমান। ফাইল ছবি

বৃহস্পতিবার রাত ১১ টা ৫৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা সাইফুর রহমান। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম ফজলুর রহমান মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১১ টা ৫৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা সাইফুর রহমান।

তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বিচারপতি এ কে এম ফজলুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

তিনি ফজলুর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছেন।

বিচারপতি ফজলুর রহমানের বাবা নাম সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, মা জাহানারা বেগম। ১৯৪৬ সালের ১৫ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

এলএলবি শেষ করে ১৯৬৯ সালে আইনীজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন ফজলুর রহমান।

১৯৭৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মুনসেফ হিসেবে যোগদেন। ১৯৮৯ সালের ১৫ জুন জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০২ সালের ২৯ জুলাই হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। পরে হাইকোর্ট থেকে অবসরে যান ফজলুর রহমান।

শেয়ার করুন

চীন থেকে সাড়ে ৭ কোটি টিকা কিনছে বাংলাদেশ

চীন থেকে সাড়ে ৭ কোটি টিকা কিনছে বাংলাদেশ

সিনোফার্মের টিকা বিবিআইবিপি-করভির সাত কোটি ডোজ কিনছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে দেড় কোটি ডোজের দাম পরিশোধ করা হয়েছে। ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চীন থেকে সিনোফার্মের ৭৫ মিলিয়ন (সাড়ে সাত কোটি) ডোজ টিকা আনার অর্ডার দিয়েছি। এরই মধ্যে ১৫ মিলিয়ন (দেড় কোটি) ডোজের মূল্য পরিশোধ করেছি। বাকিটার প্রসেস চলছে। এ ছাড়াও চলতি মাসে কোভ্যাক্সের আওতায় সিনোফার্মের ৩৪ লাখ ও অ্যাস্ট্রেজেনেকার ১০ লাখ ডোজ টিকা আসছে।’

চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা বিবিআইবিপি-করভির ৭৫ মিলিয়ন বা সাড়ে সাত কোটি ডোজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি ডোজ টিকার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চীন থেকে সিনোফার্মের ৭৫ মিলিয়ন ডোজ টিকা আনার অর্ডার দিয়েছি। এরই মধ্যে ১৫ মিলিয়ন ডোজের মূল্য পরিশোধ করেছি।

‘বাকিটার প্রসেস চলছে। এ ছাড়াও চলতি মাসে কোভ্যাক্সের আওতায় সিনোফার্মের ৩৪ লাখ ও অ্যাস্ট্রেজেনেকার ১০ লাখ ডোজ টিকা আসছে।’

মোমেন বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ফাইজারের ৬ মিলিয়ন বা ৬০ লাখ ডোজ টিকা আসছে। তারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিল, এত টিকা আমাদের রাখার ব্যবস্থা আছে কি না।

‘আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এটি নিয়ে কথা বলেছি। আজ আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি, আমাদের রাখার জায়গার সমস্যা নেই।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে এক কোটি টিকা দেয়ার যে প্রোগ্রাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দিয়েছিল তাতে কিছুটা পরিবর্তন তারা এনেছে। এটা হয়তো কিছুটা এদিক-সেদিক হবে। তবে সরকারের টিকাদান লক্ষ্যে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

‘আমরা দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা দিতে চাই। প্রতি সপ্তাহে এক কোটি মানুষকে টিকা দিলে দুই মাসে আট কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য ছিল সরকারের। তা হয়তো কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে।’

গণটিকাদান নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, আমরা আমাদের হাতে থাকা টিকা থেকে প্রথম ডোজ নেয়া নাগরিকদের জন্য দ্বিতীয় ডোজ হাতে রেখেই গণটিকা কার্যক্রম চালাতে চাই। টিকা আসবে ও সেটি দেয়া হতে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া ভারত জানিয়েছে, তাদের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাদের করোনা পরিস্থিতি আরেকটু উন্নতি হলে নয়াদিল্লি থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসবে।

‘তবে আমি দ্রুত যৌথ উৎপাদন শুরু করতে চাই। চীনের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত। যেকোনো সময় চুক্তি হবে। এরপরই ইনসেপটা উৎপাদনে যেতে পারবে। তবে চুক্তি সইয়ের পরও আট সপ্তাহ সময় লাগবে।’

রাশিয়ার টিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের তৃতীয় ঢেউয়ে অফিস-আদালত সব বন্ধ। আমরা আমাদের সব কাগজপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি। অচিরেই সাড়া পাওয়া যাবে।’

এদিকে বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে গড়ে তোলা প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে জাপান।

একই টিকার ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে কিনেছিল বাংলাদেশ। দুই দফায় ৭০ লাখ ডোজ টিকা দেয়ার পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাকি টিকা দিতে পারেনি সিরাম।

সরবরাহ সংকটের কারণে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যায়নি। জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসায় অপেক্ষমাণদের রোববার থেকে আবার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫টি দেশের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে জাপান। সেখান থেকে কয়েক দফায় ৩০ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বাংলাদেশকে দেবে পূর্ব এশিয়ার দেশটি।

কিছুদিন আগ পর্যন্ত দেশে টিকার সংকট থাকলেও এখন অনেকটাই কেটে গেছে তা। দফায় দফায় টিকা আসছে চীনের সিনোফার্ম থেকে। এ ছাড়া কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসছে মডার্না ও ফাইজারের টিকা।

শেয়ার করুন