শাটডাউনে কোনটি শিথিল, কিসে নিষেধ

শাটডাউনে কোনটি শিথিল, কিসে নিষেধ

কাঁচাবাজার থাকবে রাস্তার পাশে। যান্ত্রিক যান ব্যবহার করা যাবে না। ব্যক্তিগত গাড়িও বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে রিকশা ব্যবহার করা যাবে। তবে অপ্রয়োজনে রিকশা নিয়ে বের হওয়া যাবে না।

শাটডাউনে কী করা যাবে, কী করা যাবে না, তা জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নগরীতে চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়েছে। অকারণে কেউ বের হলে গ্রেপ্তার করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। তবে কিছু ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে বের হওয়া যাবে ঘরের বাইরে।

যেতে হবে বাসার পাশের কাঁচাবাজারে

শাটডাউনে সব বন্ধ থাকলেও খোলা থাকবে কাঁচাবাজার। তবে নির্ধারিত বাজারের জায়গা থেকে সরিয়ে বসানো হবে সড়কের পাশে। পাড়া-মহল্লার সব দোকান বন্ধ থাকবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশনা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় যেসব বাজার কাঁচাবাজার রয়েছে, সেগুলোকে রাস্তার পাশে নিয়ে আসা হবে; যাতে মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাজার করতে পারেন। হোটেলগুলো শুধু খাবার কেনার জন্য খোলা থাকবে। কেউ বসে খেতে পারবেন না। এ ছাড়া আমরা অলিগলির কোনো দোকান খোলা রাখতে দেব না।’

ডিএমপির ক্রাইম বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিগত সময়গুলোতে দেখা গেছে, বাজারের কথা বলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে চেয়েছেন অনেকে। তাদের এবার ঠেকানো হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য বাসার সবচেয়ে কাছের বাজারে যেতে হবে।’

কার বাসা কোথায় সেটা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের জানার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ সন্তুষ্ট না হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে ‘না’

ঢাকায় সব ধরনের ব্যক্তিগত বাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি সেবা হিসেবে ঘোষিত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শুধু প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং নিজ নিজ অফিসের ব্যস্থাপনায় তাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সড়কে কোনো ধরনের যান্ত্রিক বাহন আমরা চলতে দেব না।

তবে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জরুরি সেবায় নিয়োজিতরা ব্যক্তিগত বাহন ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।

সাধারণের বাহন হবে রিকশা

টিকা নেয়া, চিকিৎসা, বাজারের জন্য বের হতে হলে রিকশা ব্যবহার করা যাবে। তবে অপ্রয়োজনে রিকশা ব্যবহার করা হলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘সড়কে কোনো ধরনের যান্ত্রিক বাহন আমরা চলতে দেব না। তবে সংগত কারণ থাকলে বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে যেতে হলে আমরা তাদের রিকশা ব্যবহারের অনুরোধ করব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছিল, সেখানে আইইডিসিআরের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রিকশা খোলা থাকে বলে সংক্রমণের আশঙ্কা কম। তাই রিকশা ব্যবহার করা যাবে। তবে শুধু জরুরি কাজে রিকশা ব্যবহার করা যাবে।

‘আমরা যদি মনে করি বউ-বাচ্চা নিয়ে ঘুরতে পার্কে যাওয়ার জন্য রিকশা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি হতে দেব না।’

আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার থেকে ঘরের বাইরে গেলে কঠোর শাস্তি

শেয়ার করুন

মন্তব্য