মগবাজার বিস্ফোরণে যা ঘটেছিল

মগবাজার বিস্ফোরণে যা ঘটেছিল

সিসিটিভি ফুটেজে বিস্ফোরণের পর পর ‍দুবার আগুনের বড় ধরনের ঝলকানি দেখা যায়, যা থেকে মনে হয়, এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।

রোববার সন্ধ্যায় মগবাজার এলাকায় মূল সড়কঘেঁষা একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আকস্মিক বিস্ফোরণ ও তা থেকে সৃষ্ট বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের কয়েকশ মিটার এলাকা। বেশ কিছু ভবনের কাচ ভেঙ্গে যায় শব্দের প্রচণ্ডতায়।

বিস্ফোরণের কারণ এখনও নিশ্চিত হতে পারেন নি তদন্তকারীরা।

সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিউজবাংলা জানার চেষ্টা করেছে ঘটনার পরম্পরা।

সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা যায়

আশপাশের বিভিন্ন ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে নিউজবাংলা। এগুলো থেকে বিস্ফোরণ মুহূর্তের আংশিক চিত্র পাওয়া যায়।

প্রথম সিসিটিভি ক্যামেরাটির অবস্থান ঘটনাস্থল থেকে ১০০ মিটার দূরের দ্য গ্রান্ড প্লাজা শপিং মলে। সেখানে দেখা যায়, ৭টা ২২ মিনিটে হঠাৎ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। ঘটনাস্থল থেকে দূরে হওয়া সত্ত্বেও সিসি ক্যামেরার কম্পনে অনুমান করা যায় বিস্ফোরণের ভয়াবহতা।

ওই সিসিটিভি ফুটেজে বিস্ফোরণের পর পর ‍দুবার আগুনের বড় ধরনের ঝলকানি দেখা যায়, যা থেকে মনে হয়, এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।

বিস্ফোরণের আগুনের ঝলকানি ভবনের ভিতর থেকে বের হয়ে পাশের রাস্তায় জ্যামে আটকে থাকা দুটি বাসকে ছুঁয়ে রাস্তার অন্য পাশে ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে আরেকটি বাসে স্পর্শ করে নিমিষেই মিলিয়ে যায়। কিন্তু এরপর আর আগুনের অস্তিত্ব দেখা যায়নি।

পরের ফুটেজটি মগবাজার প্লাজার ঠিক বিপরীতে ফ্লাইওভারের ওপারে থাকা আড়ং শপিং সেন্টারের প্রবেশপথের মুখে থাকা ক্যামেরার। সেখানে দেখা যায়, বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে দুই শিশুসহ দুজন নারী ছিটকে পড়ে যান। সেখানে উপস্থিত আড়ংয়ের অন্যান্য কর্মচারীদেরও একই অবস্থা হয়। বিস্ফোরণের সময় মুহূর্তের জন্য আড়ংয়ের ভিতরে সব অন্ধকার হয় যায়।

আরেকটি ফুটেজ মগবাজার প্লাজার বিপরীতে থাকা রাশমনো স্পেশালাইজড হাসপাতালের বাইরের ও ভিতরের ক্যামেরার। বাইরের ক্যামেরার দৃশ্যে দেখা যায় বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুনের ফুলকি আর কম্পন এসে ক্যামেরায় আঘাত করে। সাথে সাথে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ওই এলাকা।

শেষ ফুটেজ একই হাসপাতালের পার্কিং এলাকার। সেখানে দেখা যায়, প্রবল বিস্ফোরণের কম্পনে এই ক্যামেরাও কেঁপে উঠেছে। এরপরই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ক্যামেরার সংযোগ।

বিস্ফোরণের ভয়াবহতা

সিসিটিভি ফুটেজের সময় অনুযায়ী রোববার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে মগবাজার প্লাজায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিনতলা ভবনটির নিচতলায় পাশাপাশি থাকা দুটি দোকানের ভিতরের সব কিছু গুড়িয়ে যায়। এ দুটি দোকান হলো: শর্মা হাউস নামে একটি রেস্টুরেন্ট ও বেঙ্গল মিট নামে একটি প্রক্রিয়াজাতকৃত মাংসের আউটলেট।

বিস্ফোরণে ভেঙ্গে যায় ওই ভবনের নিচতলার কয়েকটি স্তম্ভ। এতে ভবনটির দোতলায় থাকা ইলেক্ট্রনিক সিঙ্গারের গোডাউনের একটি অংশ হেলে পড়ে। ভেঙ্গে যায় ভবনের পিছনের সীমানা প্রাচীরের অংশবিশেষ।

মগবাজার বিস্ফোরণে যা ঘটেছিল

বিস্ফোরণে তীব্র হল্কা ছুটে যায় রাস্তায় জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকা মগবাজার মোড়মুখি দুটি বাসসহ অন্যান্য বাহনে। ওই ধাক্কায় বাস দুটি রাস্তার মাঝের বিভাজকে আছড়ে পড়ে। বাস দুটির সকল কাঁচ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। সেই কাঁচের আঘাতে আহত হন অনেকে।

বিস্ফোরণের ধাক্কা শুধু রাস্তার এ পারের গাড়িগুলোতেই আঘাত করেনি, সড়ক বিভাজক পেরিয়ে অপর পাশে মৌচাকমুখী ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখের একটি বাসেও আঘাত করে। ওই বাসের পরিণতিও একই।

বিস্ফোরণের ধাক্কা রাস্তা, ফ্লাইওভার ছাড়িয়ে অন্তত ৫০ মিটার দূরে ঠিক বিপরীতে অবস্থান করা চারটি ভবনকেও স্পর্শ করে। এগুলো হলো: রাশমনো স্পেশালাইজড হাসপাতাল, নজরুল শিক্ষালয় স্কুল, আড়ং ও বিশাল সেন্টার শপিং সেন্টার।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ওই চারটি ভবনের পাঁচ তলা উচ্চতা পর্যন্ত যত কাচের আবরণ ও জানালা আছে, সব গুড়ো গুড়ে হয়ে ভেঙ্গে পড়েছে। কিন্তু সেসব ভবনের দিকে কোনো ধরনের ধ্বংসাবশেষ ও ভারি পদার্থ বা স্প্লিন্টার ছুটে আসার আলামত পাওয়া যায়নি।

বিকট শব্দের ধাক্কায় ক্ষয়ক্ষতি?

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা যায়, বিস্ফোরণের পর সেটির শকওয়েভ ও উ্চ্চ শব্দের কারণে ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে ভবনের ভিতর থেকে পরপর দুবার আগুনের স্ফূলিঙ্গ দেখা যায়, যা রাস্তার উপর থাকা বাসগুলোকে ছুয়ে আবার নিমিষেই মিলিয়ে যায়। এছাড়া বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্তত ৩০০ মিটার এলাকা জুড়ে কম্পন অনুভব করতে পেরেছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। এসব কারণে মগবাজার প্লাজার পাশের ও পিছনের আরো তিনটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মগবাজার বিস্ফোরণে যা ঘটেছিল

আচমকা বিস্ফোরণের পর শুরু হয় সাধারণদের ছুটাছুটি। ভবনের ভিতরে, বাসের ভিতরে, রাস্তায় শুধু আহত মানুষের আর্তনাদ।

আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থাসহ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয় স্থানীয়রা। এই ঘটনায় প্রাণ হারায় শিশুসহ ছয় জন। আহত অর্ধ শতাধিক।

আরও পড়ুন:
মগবাজার বিস্ফোরণের কেন্দ্র বেঙ্গল মিট
মগবাজারের বিস্ফোরণ তদন্তে পুলিশের কমিটি
মিলল নোমানের নিথর দেহ
মগবাজার বিস্ফোরণ: বিপুর কাছে বিবৃতি দাবি
ভেঙে ফেলতে হবে মগবাজারের সেই ভবন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নতুন কারা মহাপরিদর্শক আনিসুল হক

নতুন কারা মহাপরিদর্শক আনিসুল হক

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বৃহস্পতিবারের প্রজ্ঞাপনে আনিসুল হককে আইজি প্রিজন্স হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বৃহস্পতিবারের প্রজ্ঞাপনে আনিসুল হককে আইজি প্রিজন্স হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি এর আগে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কারা মহাপরিদর্শক (আইজি-প্রিজন্স) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম আনিসুল হক।

বর্তমান আইজি-প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুনের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে তাকে। মামুনকে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বৃহস্পতিবারের প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

আনিসুল হক এর আগে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ডিএনসিসির তৎকালীন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুনকে কারা মহাপরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
মগবাজার বিস্ফোরণের কেন্দ্র বেঙ্গল মিট
মগবাজারের বিস্ফোরণ তদন্তে পুলিশের কমিটি
মিলল নোমানের নিথর দেহ
মগবাজার বিস্ফোরণ: বিপুর কাছে বিবৃতি দাবি
ভেঙে ফেলতে হবে মগবাজারের সেই ভবন

শেয়ার করুন

নজরুল ইসলাম খান অসুস্থ, সিসিইউতে ভর্তি

নজরুল ইসলাম খান অসুস্থ, সিসিইউতে ভর্তি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ফাইল ছবি

নজরুল ইসলাম খানের অসুস্থতা নিয়ে শায়রুল কবির বলেন, ‘হঠাৎ করে গতকাল রাতে প্রচণ্ডভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। তিনি এখন ইউনাইটেড হসপিটালে সিসিইউতে ভর্তি আছেন।’

অসুস্থতা বেড়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের। তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার সদস্য শায়রুল কবির নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘গত দুই দিন যাবৎ উনি ডায়রিয়ায় ভুগছিলেন। হঠাৎ করে গতকাল রাতে প্রচণ্ডভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। তিনি এখন ইউনাইটেড হসপিটালে সিসিইউতে ভর্তি আছেন।’

আরও পড়ুন:
মগবাজার বিস্ফোরণের কেন্দ্র বেঙ্গল মিট
মগবাজারের বিস্ফোরণ তদন্তে পুলিশের কমিটি
মিলল নোমানের নিথর দেহ
মগবাজার বিস্ফোরণ: বিপুর কাছে বিবৃতি দাবি
ভেঙে ফেলতে হবে মগবাজারের সেই ভবন

শেয়ার করুন

কিশোর অপরাধ দমনে র‍্যাবের ক্যাম্পেইন শুরু

কিশোর অপরাধ দমনে র‍্যাবের ক্যাম্পেইন শুরু

বৃহস্পতিবার বিজ্ঞাপনের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

টিভি বিজ্ঞাপন উদ্বোধন করার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, কোথায়, কী করছে, তাদের খবর রাখার ব্যাপারে বাবা-মায়ের ওপর জোর দেন।

‘সবার হোক একটাই পণ কিশোর অপরাধ করব দমন’ স্লোগানকে সামনে রেখে কিশোর অপরাধ দমনে মাঠে নেমেছে র‌্যাব।

অভিযান চালানোর পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেছেন র‌্যাব সদস্যরা।

মগবাজারের মধুবাগে বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কমপ্লেক্সে বৃহস্পতিবার ওই বিজ্ঞাপনের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

এর মধ্য দিয়েই কিশোর অপরাধ দমনে র‌্যাবের ক্যাম্পেইন শুরু হয়।

জানা যায়, ২০১৭ সালে উত্তরায় আদনান হত্যার পর থেকেই কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর থেকে কিশোর অপরাধ দমনে কাজ করছে র‌্যাব।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মার্চ থেকে এ বিষয়ে আরও কঠোর হয়েছে তারা। মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ২৩৪ জনকে আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে সূত্রটি।

শুধু মামলা বা গ্রেপ্তার নয়, পরিবারের সদস্যদের ডেকে বুঝিয়ে সঠিক পথে ফেরানোর চেষ্টাও করছেন তারা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশপ্রধান আইজিপি বেনজীর আহমেদ আইনের নানা জটিলতার বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘অপরাধ দমনে আমাদের কিছু গ্যাপ আছে। এগুলো সমাধান করতে হবে।’

এ সময় সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে পারিবারিক বন্ধন বাড়ানোর তাগিদ দেন আইজিপি।

কিশোরদের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন।

তিনি বলেন, ‘কিশোর অপরাধীদের যারা নিয়ন্ত্রণ করছে ও পেছন থেকে সাপোর্ট দিচ্ছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম বলেন, সন্তানদের বাবা-মায়ের অতি আদর, প্রশ্রয় দেয়া, সময় না দেয়ার বিষয়গুলো তাদের বিপথে ঠেলে দেয়।

সন্তানের বন্ধু হওয়া ও নৈতিকতার শিক্ষা দিতে বাবা-মায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে র‌্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি র‌্যাবের অভিযানও অব্যাহত থাকবে।

আইজিপির পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও কিশোরের বয়সসীমা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর সমাধান খোঁজার কথা বলেন। সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, কোথায়, কী করছে, তার খবর রাখার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
মগবাজার বিস্ফোরণের কেন্দ্র বেঙ্গল মিট
মগবাজারের বিস্ফোরণ তদন্তে পুলিশের কমিটি
মিলল নোমানের নিথর দেহ
মগবাজার বিস্ফোরণ: বিপুর কাছে বিবৃতি দাবি
ভেঙে ফেলতে হবে মগবাজারের সেই ভবন

শেয়ার করুন

ফরিদপুরের আশিকের ঠিকাদারি লাইসেন্স থাকলে জমার নির্দেশ

ফরিদপুরের আশিকের ঠিকাদারি লাইসেন্স থাকলে জমার নির্দেশ

প্রতীকী ছবি

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাইকোর্টে তিনি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত আশিকুর রহমানের ঠিকাদারি লাইসেন্স আছে কি না, থাকলে তা আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।’

ফরিদপুরের বহুল আলোচিত শহর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইমতিয়াজ হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার অর্থপাচার মামলার আরেক আসামি আশিকুর রহমানের ঠিকাদারি লাইসেন্স থাকলে সেটি আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলি ও সাইফুর রহমান সিদ্দিকী সাইফ।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১০ আসামির মধ্যে ৪ নম্বর আসামি আশিকুর রহমান ফারহান ওরফে মো. আশিক। অর্থ পাচারের বিষয়ে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রয়েছে।

‘হাইকোর্টে তিনি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত আশিকুর রহমানের ঠিকাদারি লাইসেন্স আছে কি না, থাকলে তা আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।’

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা করে সিআইডি। সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে গত বছরের ২৬ জুন ঢাকার কাফরুল থানায় মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনে এ মামলাটি করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, মন্ত্রীর এপিএস এএইচএম ফুয়াদ, খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী, ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ওরফে ফাহিম, কামরুল হাসান ডেভিড, মোহাম্মদ আলী দিদার ও তারিকুল ইসলাম নাসিম।

আরও পড়ুন:
মগবাজার বিস্ফোরণের কেন্দ্র বেঙ্গল মিট
মগবাজারের বিস্ফোরণ তদন্তে পুলিশের কমিটি
মিলল নোমানের নিথর দেহ
মগবাজার বিস্ফোরণ: বিপুর কাছে বিবৃতি দাবি
ভেঙে ফেলতে হবে মগবাজারের সেই ভবন

শেয়ার করুন

বাতিলের তালিকায় ২১০ পত্রিকা

বাতিলের তালিকায় ২১০ পত্রিকা

প্রতীকী ছবি

সংবাদপত্র বাতিলের তালিকা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই পত্রিকাগুলা মাঝে মাঝে ছাপে। কোথা থেকে ছাপে কেউ জানে না। এগুলো থাকার দরকার নেই।’

২১০টি সংবাদপত্র বাতিলের তালিকা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

জাতীয় প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ২১০টি বাক্সবন্দি পত্রিকার যেগুলো আসলে ছাপা হয় না। এগুলোকে চোরাগুপ্ত ছাপানো বলে। এ পত্রিকাগুলো বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছি। এগুলোর ডিক্লারেশন বাতিল করতে জেলা প্রশাসকদের বলা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

তিনি বলেন, কেউ কেউ গণমাধ্যমকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। আবার এমনও আছে, পত্রিকার মালিক যিনি, সম্পাদকও তিনি আবার রিপোর্টারও তিনি।

আরও বলেন, ভালো গণমাধ্যমগুলো এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। সেগুলো ব্যবসায়িক স্বার্থে নয়, রাষ্ট্র ও জনগনের স্বার্থে পরিচালিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, পত্রিকার মালিকরা ব্রিফকেস নিয়ে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরে বেড়ান। বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করেন। তাদের জন্য ভালো গণমাধ্যম বিজ্ঞাপন পায় না। এতে তাদের উপার্জন কমে যায়। তখন কর্মী ছাটায় হয়।

সাংবাদিকদের বীমা

তিনি বলেন, ‘যেকোন প্রতিষ্ঠান বিমা করতে পারবে। গণমাধ্যম মালিকদের অনুরোধ করবো আপনারা আইন অনুযায়ী বিমা করবেন।’

করোনাকালে অনেক গণমাধ্যমের চলতে অসুবিধা হয়েছে। এ চাপ শুধু সাংবাদিকদের ওপর দেয়া হলে অন্যায় হবে। এখন করোনা কেটে গেছে। যাদের ছাটাই করা হয়েছিল তাদের আবার ফিরিয়ে নেয়া হোক।’

ফখরুল সাহেব বোঝেন না

মন্ত্রী বলেন, ভারতে গেলে দিল্লী প্রেসক্লাবে বাংলা ভাষাভাষীর সাংবাদিকরা জানিয়েছিল ‘আপনাদের মাথাপিছু আয় ভারতকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় আমরা খুশি।’ তবে এবিষয়টি দেশে অনেকেই বুঝে না।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনিও বুঝে না।’

সাধারণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপুসহ অনেকে।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দেশে প্রায় ৪০০টি পত্রিকা অনিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, এগুলো ভূতুড়ে পত্রিকা।

ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেছিলেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেছিলেন, ‘প্রায় ৪০০ পত্রিকা চরম অনিয়মিত, যারা প্রায় দুই বছর চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে পত্রিকা জমা দেয়নি। এগুলো ভূতুড়ে পত্রিকা। যেদিন বিজ্ঞাপন পায় সেদিন কয়েক কপি ছাপে। আর অনেকে অল্প কয়েক কপি ছেপে শুধু তথ্য মন্ত্রণালয় আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দেয়।

‘ভূতুড়ে পত্রিকার কী প্রয়োজন, সেটিই প্রশ্ন এবং এগুলো বন্ধের দাবি সাংবাদিকদেরই।’

আরও পড়ুন:
মগবাজার বিস্ফোরণের কেন্দ্র বেঙ্গল মিট
মগবাজারের বিস্ফোরণ তদন্তে পুলিশের কমিটি
মিলল নোমানের নিথর দেহ
মগবাজার বিস্ফোরণ: বিপুর কাছে বিবৃতি দাবি
ভেঙে ফেলতে হবে মগবাজারের সেই ভবন

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের

সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের

ঝুমন দাশ। ফাইল ছবি

আদালত রায়ে বলে, ‘সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে তাকে এক বছরের জামিন দেয়া হলো। তবে শর্ত হলো আদালতের অনুমতি ছাড়া (ঝুমন) সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে পারবে না।’

হেফাজতে ইসলামের সাবেক নেতা মামুনুল হকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার সুনামগঞ্জের শাল্লার বাসিন্দা ঝুমন দাসকে এক বছরের জন্য জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

জামিনের শর্ত অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ জেলার বাইরে যেতে বিচারিক আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।

আদালত আদেশে বলে, ‘আমাদের সবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং ৩৯ অনুচ্ছেদ একই সঙ্গে প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা, বিবেক এবং বাক্‌স্বাধীনতা দিয়েছে। চিন্তা, বিবেক এবং বাক্‌স্বাধীনতা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হলেও এসব ক্ষেত্রে কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

‘সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে তাকে এক বছরের জামিন দেয়া হলো। তবে শর্ত হলো আদালতের অনুমতি ছাড়া (ঝুমন) সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে পারবে না।’

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে শুনানি শেষে আদেশের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করে দেয় আদালত।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সুব্রত চৌধুরী, নাহিদ সুলতানা যুথি ও মো. আশরাফ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শানে রিসালাত নামে সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম। সেখানে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঝুমন দাস নামে এক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ ওঠে। তা হেফাজতের দৃষ্টিতে আপত্তিকর মনে হয়। তারা পরদিন এর প্রতিবাদে সমাবেশও করে।

ওই ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

গত ১৬ মার্চ রাতে ঝুমন দাসকে আটক করা হয়। পরে শাল্লা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার বাদী হন শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল করিম।

এ মামলায় ৩ আগস্ট বিচারিক আদালতে জামিন খারিজ হয় ঝুমনের। পরে ২২ আগস্ট হাইকোর্টে তার জামিনের আবেদন করা হয়।

আরও পড়ুন:
মগবাজার বিস্ফোরণের কেন্দ্র বেঙ্গল মিট
মগবাজারের বিস্ফোরণ তদন্তে পুলিশের কমিটি
মিলল নোমানের নিথর দেহ
মগবাজার বিস্ফোরণ: বিপুর কাছে বিবৃতি দাবি
ভেঙে ফেলতে হবে মগবাজারের সেই ভবন

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সবাইকে দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সবাইকে দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পর্কীত উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মানবিক সংকট সমাধানে সম্মিলিত দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ এর প্রভাব গোটা বিশ্বে পড়ছে। এ সংকট সমাধানে দেরি করা মানে, সম্মিলিত নিরাপত্তাকে বিপন্ন করা।’

মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে সবাইকে দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তা না হলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে মঙ্গলবার ‘ফোর্সিবলি ডিসপ্লেসড মিয়ানমার ন্যাশনালস (রোহিঙ্গা) ক্রাইসিস: ইমপেরেটিভস ফর আ সাসটিইনেবল সল্যুশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে ‘প্রকৃত তৎপরতা’ চালাতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মানবিক সংকট সমাধানে সম্মিলিত দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ এর প্রভাব গোটা বিশ্বে পড়ছে। এ সংকট সমাধানে দেরি করা মানে, সম্মিলিত নিরাপত্তাকে বিপন্ন করা।

‘প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি না থাকার হতাশা রোহিঙ্গাদের অনেককে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে প্ররোচিত করে। এমনকি তারা চরমপন্থি মতাদর্শেরও সহজ শিকার হতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তাই, আমাদেরকে এখনও বিষয়টি নিয়ে প্রকৃত তৎপরতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’

এসময় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে ৫টি প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

০১. আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

০২. মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও সংকট সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিত।

০৩. এক্ষেত্রে আমরা বিশ্বাস করি, আসিয়ানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। আসিয়ানের বিশেষ দূত নিয়োগকে স্বাগত জানাই। আমরা আশা করি, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের দ্রুততার সঙ্গে টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধানকে আসিয়ান তার উচ্চ পর্যায়ের এজেন্ডা হিসেবে গ্রহণ করবে।

০৪. আমাদের মনে রাখতে হবে, মানবিক সহায়তা অপরিহার্য, কিন্তু কোনোভাবেই স্থায়ী সমাধান নয়। জাতিসংঘ এবং অংশীদারদেরকে রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারে বাস্তব পদক্ষেপ এবং প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু এখনও আমরা এরকম কোনো অগ্রগতি দেখিনি।

০৫. রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরিতে তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নির্যাতনের জবাবদিহিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের দায়মুক্তি দেয়া উচিত নয়। এই ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ আইসিজেসহ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য চলমান আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং মানবাধিকার কাউন্সিলের সহযোগী ও সমমনা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোরও এ প্রক্রিয়াকে সমর্থন করা উচিত।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সবাইকে দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পর্কীত উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের উদ্বেগ সবাই ভাগ করে নেবেন বলে আশা রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই গুরুতর সমস্যা সমাধানের জন্য জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। এই কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে পৌঁছানোর জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে, যা রোহিঙ্গাদের আকাঙ্ক্ষা। এই সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সবার সঙ্গে কাজ করে যাবে।’

তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, “জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন বিশ্ব নেতারা। যেখানে মূল প্রতিপাদ্য ‘আশা’ পুনরুদ্ধারের আশা; টেকসই পুনর্গঠনের আশা। আমার প্রতিনিধি দলও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ‘আশা’ নিয়ে অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। যার একটি হলো, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত চারটি বছর ধরে, আমরা আশায় ছিলাম যে বাস্তুচ্যুত এই মানুষেরা নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবে। আমরা তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্ব সভা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আস্থা রেখেছি। যাই হোক, আমাদের আহ্বান, আশা দুটোই অপূর্ণ রয়ে গেছে। এখন আমরা সংকটের পঞ্চম বছরে আছি। তারপরও, এখনও এই সংকটের একটি টেকসই সমাধানে আমরা আশা রাখি।’

২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে টেকসই সমাধানে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়ে আসছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমার সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। আঞ্চলিক ক্ষেত্রে, আমরা চীন এবং ভারতসহ বড় শক্তিগুলো পাশে পাওয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা সব সময় আসিয়ানের আরও সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে চেয়েছি।

‘বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে, আমরা গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে যুক্ত করে জাতিসংঘের রেজুলেশনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানে আলোচনা করেছি। দুঃখের বিষয়, দুর্ভাগা, ছিন্নমূল মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে আমাদের প্রচেষ্টা এখনও কোনো বাস্তব ফলাফল তৈরি করতে পারেনি। আজ পর্যন্ত, একজন রোহিঙ্গাও তার নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেনি।’

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় বাংলাদেশের সংকটের কথাটাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পদ এবং ভূমির সীমাবদ্ধতা থাকার পরও বাংলাদেশে তাদের অস্থায়ীভাবে বসবাসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি। ছোট্ট জায়গায় একটা বিশাল জনগোষ্ঠীর অবস্থান আশেপাশের পরিবেশ-প্রতিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। আশ্রয় নিশ্চিত করতে কাটতে হয়েছে পাহাড় ও বনভূমি।’

সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও করোনা মহামারি চ্যালেঞ্জের মুখেও রোহিঙ্গাদের কথা ভোলেননি বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকে নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নয়, এই কথা আমরা বিশ্বাস করি। আর তাই রোহিঙ্গাদেরকেও আমরা জাতীয় টিকা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছি।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতিবছর ৩০ হাজারেরও বেশি শিশু জন্ম নিচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘কক্সবাজারের জনাকীর্ণ ক্যাম্পগুলোকে উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে, দেশের দক্ষিণে ১৩ হাজার একর এলাকা নিয়ে ভাসানচর নামে একটি দ্বীপ তৈরি করেছি। আর সেখানে বসতি গড়ে তুলতে আমাদের নিজস্ব বাজেট থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থ খরচ করেছি।’

এক লাখ মানুষকে সেখানে সাময়িকভাবে স্থানান্তরে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত, আমরা ১৮ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করেছি। স্বেচ্ছাসেবী নীতির ভিত্তিতে তাদের স্থানান্তর করা হয়েছে। আমাদের আশা, খুব তাড়াতাড়ি ভাসানচরে জাতিসংঘ তার কার্যক্রম শুরু করবে।’

বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, বাংলাদেশে যা করছে তার পুরোটাই অস্থায়ীভাবে করছে। আমি বারবার বলে আসছি, তারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে। আমাদের সবাইকে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে।’

সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে বন্ধু রাষ্ট্র এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা নিজেরাও তার মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে চায়।’

আরও পড়ুন:
মগবাজার বিস্ফোরণের কেন্দ্র বেঙ্গল মিট
মগবাজারের বিস্ফোরণ তদন্তে পুলিশের কমিটি
মিলল নোমানের নিথর দেহ
মগবাজার বিস্ফোরণ: বিপুর কাছে বিবৃতি দাবি
ভেঙে ফেলতে হবে মগবাজারের সেই ভবন

শেয়ার করুন