বিচারপতি সিনহার দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্য পেছাল

বিচারপতি সিনহার দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্য পেছাল

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার। ফাইল ছবি

ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ও আত্মসাতের অভিযোগে দেওয়া চার্জশিট গত ৫ জানুয়ারি গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের হাজির হতে নির্দেশনা দেয়া হয়।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এস কে সিনহা) ১১ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৫ জুলাই দিন ধার্য করেছে আদালত।

দুর্নীতি মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য রোববার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু কাশিমপুর কারাগারে থেকে আসামিদের আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। এজন্য রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ পেছানোর আবেদন করে। আবেদন বিবেচনায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম নতুন তারিখ ঠিক করেন।

দুর্নীতি মামলাটির অভিযোগপত্রে থাকা ২১ সাক্ষীর মধ্যে ইতিমধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। গত বছরের ১৩ আগস্ট বিশেষ জজ আদালতে মামলাটির চার্জগঠন করে বিচার শুরু হয়।

আলোচিত এ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ছাড়াও আসামি রয়েছেন— ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক এবং টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়। মামলার তদন্তের সময় এজাহারভুক্ত আসামি মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ মারা গেলে তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ও আত্মসাতের অভিযোগে দেওয়া চার্জশিট গত ৫ জানুয়ারি গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের হাজির হতে নির্দেশনা দেয়া হয়।

২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক পরিচালক বেনজীর আহমেদ চার্জশিট দেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে চার কোটি টাকা ভুয়া ঋণ তৈরি করে তা একই দিনে পে-অর্ডারের মাধ্যমে আসামি এসকে সিনহার ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করেন।

পরে এসকে সিনহা নগদ, চেক ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা সরিয়ে নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, যা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আরও পড়ুন:
দুর্নীতিকে আক্রমণের অস্ত্র ‘আপাতত নেই’
দুর্নীতি: বিমানের সাবেক এমডির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

শেয়ার করুন

মন্তব্য