এবার লোকমান-শফিকুলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

এবার লোকমান-শফিকুলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া এবং কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ। ছবি: সংগৃহীত

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার তাদের দেশত্যাগে এই নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। লোকমান গত ১৯ মার্চ কাশিমপুর-১ এবং এর আগে ১ জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান কালা ফিরোজ হিসেবে পরিচিত শফিকুল আলম ফিরোজ।

ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া এবং কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি ও কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার তাদের দেশত্যাগে এই নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত।

দুদক পরিচালক (ক্যাসিনো সংক্রান্ত অনুসন্ধান টিমের প্রধান) সৈয়দ ইকবাল হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ক্যাসিনোর মাধ্যমে অবৈধ পথে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এর আগে সোমবার বর্তমান সংসদের তিন সদস্যসহ ছয়জনের বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত।

তারা হলেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান সাজ্জাদুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই এবং ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের কর্মচারী আবুল কালাম আজাদ।

হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক নির্দেশনার কারণে দেশত্যাগে বা বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার জন্য নিম্ন আদালতের অনুমতি নিতে হচ্ছে দুদককে। এমন পরিস্থিতিতে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ অভিযানের ধারাবাহিকতায় ক্যাসিনোর মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অন্তত ২৩টি মামলা হয়। ১২টির চার্জশিটও দাখিল হয়েছে। এসব মামলায় সম্পৃক্ত অবৈধ সম্পদও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন আসামিকে।

আরও পড়ুন: অবৈধ সম্পদ: ৩ এমপির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবালের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি টিম অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্ব পালন করছে। টিমের অপর সদস্যরা হলেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সালাহউদ্দিন, গুলশান আনোয়ার প্রধান, সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম, আতাউর রহমান ও মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী।

অভিযানে যুবলীগ ও কৃষক লীগ নেতা এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ গ্রেপ্তার ১২ জনের মধ্যে লোকমান-শফিকুলসহ তিনজন জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন।

লোকমান গত ১৯ মার্চ কাশিমপুর-১ এবং এর আগে ১ জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান কালা ফিরোজ হিসেবে পরিচিত শফিকুল আলম ফিরোজ। যুবলীগের বহিষ্কৃত দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান কারামুক্ত হন গত ৯ মার্চ।

২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তেজগাঁওয়ের মনিপুরীপাড়ার বাসা থেকে লোকমানকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর রাতে শফিকুলকে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় লোকমানকে দেয়া নিম্ন আদালতের জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করার সিদ্ধান্ত গত ১১ জুন জানায় দুদক। এর তিন দিন পর ১৪ জুন হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চে দুদকের পক্ষে আবেদনটি করা হয়।

শফিকুলের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়ে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

আরও পড়ুন:
ক্যাসিনোকাণ্ড: এনু-রূপনের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র
দুই মামলায় ‘ক্যাসিনো’ খালেদের বিচার শুরু
‘ক্যাসিনো খেলা কোনো অপরাধ না’
যুবলীগের কাজী আনিসের শত কোটি টাকার সম্পদ জব্দ
‘চায়না গেমস’ নিঃস্ব করছে মানুষকে

শেয়ার করুন

মন্তব্য