বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়ার এখতিয়ার হারায়নি দুদক

বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়ার এখতিয়ার হারায়নি দুদক

আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞার অনুমতি নিতে গিয়ে সেটা দেরি হয়ে যাচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নে দুদক সচিব বলেন, ‘দেরি হচ্ছে না। আদালতে নির্দেশ অনুযায়ী দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা বা দুদক যদি মনে করে তাকে এখনই নিষেধাজ্ঞা দেয়া দরকার, এখনই পারা যাবে। পরে আদালত থেকে অনুমাদন নেয়া যাবে। এতে দুদকের কাজে কোনো অসুবিধা হবে না।’

আদালতের বিধিনিষেধ থাকলেও দুর্নীতি অনুসন্ধানে যে কাউকে বিদেশ যাত্রায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। বলছেন, দুদকের এ ক্ষমতা রয়েছে।

মঙ্গলবার দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আনোয়ার হোসেন।

সম্প্রতি উচ্চ আদালতের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আদালতের অনুমতি ছাড়া দুদক কাউকে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে না। বিষয়টি ব্যাখ্যা দিয়ে দুদক সচিব বলেন, ‘কমিশন চাইলেই কাউকে আর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে না। কারণ এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রায় আছে।

‘তবে আমাদের আরও একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তদন্তের যেকোনো পর্যায়ে যদি কারো বিদেশযাত্রা রহিত করা প্রয়োজন হয় দুদকের কার্যক্রমের স্বার্থে, তাহলে দুদক সেটা করতে পারবে। তবে এটা করার পরে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে আদালত থেকে ভূতাপেক্ষিক অনুমোদন নিতে হবে।’

আদালতের রায় ছাড়া দুদক কীভাবে কাউকে বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেবে, এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, নিষেধাজ্ঞা দিতে হলে কী কারণে, কেন, বিদেশযাত্রা রহিত করা হলো, কেন তার পাসপোর্ট জব্দ করা হলো কিংবা তাকে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলো সেই কারণ উল্লেখ করে আদালতকে জানালে আদালত তিনটি বিষয়ে ভূতাপেক্ষিক অনুমোদন দেবেন।

‘একটি হলো তার বিদেশযাত্রা, একটি তার পাসপোর্ট রহিত করা, আরেকটি পাসপোর্ট নিয়ে আসা বা জব্দ করা। এটা নিয়ে আর কোনো জটিলতা নেই।’

এর আগে বিভিন্ন সময়ে দুই শতাধিক মানুষের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুদক। আদালতের রায়ে সেসব নিষেধাজ্ঞা তো আর থাকছে না, এমন প্রশ্নে দুদক সচিব বলেন, ‘সেগুলো বহাল আছে, আমরা শুধু আদালত থেকে অনুমোদন করে নিয়ে আসব। তবে আদালত যদি এটা গ্রহণ না করে বা রিজেক্ট করে দেয় তখন সেটা আর ভেলিড থাকবে না। যদি অনুমোদন করে সেটা ভেলিড থাকবে।’

আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞার অনুমতি নিতে গিয়ে সেটা দেরি হয়ে যাচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দেরি হচ্ছে না। আদালতে নির্দেশ অনুযায়ী দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা বা দুদক যদি মনে করে তাকে এখনই নিষেধাজ্ঞা দেয়া দরকার, এখনই পারা যাবে। পরে আদালত থেকে অনুমাদন নেয়া যাবে। এতে দুদকের কাজে কোনো অসুবিধা হবে না।’

কমিশনে মঙ্গলবারের মিটিংয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো জানানোর মতো না। কারণ, কমিশন মনে করে একটি সিদ্ধান্ত নিলে সেটা যখন বাস্তবায়ন হয় তখন জানানো যায়। ধরেন আজকে একটি মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, মামলা করার পর আমরা জানিয়ে দেব।’

আদালতের অনুমতি নিয়ে বিমান বাংলাদেশের সাবেক এমডি মোসাদ্দিক, মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ও কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি শফিকুল আলমের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুদক।

আরও পড়ুন:
অবৈধ সম্পদ: ৩ এমপির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা
‘বেগমপাড়ার’ বাড়িওয়ালাদের তালিকা প্রকাশে দুদকে স্মারকলিপি
রোহিঙ্গা দম্পতিকে ভোটার, সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা
এনা পরিবহনের মালিক এনায়েতের সম্পদের হিসাব চায় দুদক
স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য